জোট নয়, এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চায় জাপা

জোট নয়, এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চায় জাপা

জাতীয় পার্টির আলোচনা সভা। ছবি: সংগৃহীত

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘জাতীয় পার্টি ৩১ বছর ধরে বিরোধী দলে। পার্টির জন্য এতদিন ধরে যারা কাজ করছেন তারা পরীক্ষিত ও ত্যাগী কর্মী। তাদের নিয়ে দলের চেয়ারম্যান আগামীতে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারেন। ২০২৩ সালের নির্বাচনে ৩০০ আসনে আমরা প্রার্থী দেব। আমরা এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চাই।'

জাতীয় সংসদের আগামী নির্বাচনে জোটগতভাবে ভোটে যেতে চায় না জাতীয় পার্টি। এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী পার্টির নতুন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

রাজধানীতে শনিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

দলীয়ভাবে ‘উপজেলা দিবস’ পালন করতে জাতীয় পার্টি রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে শনিবার আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সভায় মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘জাতীয় পার্টি ৩১ বছর ধরে বিরোধী দলে। পার্টির জন্য এতদিন ধরে যারা কাজ করছেন তারা পরীক্ষিত ও ত্যাগী কর্মী। তাদের নিয়ে দলের চেয়ারম্যান আগামীতে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারেন।

‘জাতীয় পার্টি এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চায়, এ জন্য রূপরেখা তৈরি করতে হবে। আগামী নির্বাচনে যেকোনো মূল্যে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে হবে।’

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ ভালো নেই। সবখানে দুর্নীতি, নির্যাতন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের লোকেরা জোর করছেন। অনেকে টাকা দিয়ে নৌকা প্রতীক নিচ্ছেন। কারণ তারা জানেন, নৌকা পেলেই বিজয়ী।’

চুন্নু আরও বলেন, ‘দেশে প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ নতুন চাকরিপ্রত্যাশী। কয়েক কোটি বেকার নিয়েও সরকারের মাথাব্যথা নেই। এসব বেকারের জন্য রূপরেখা তৈরি করলে আমাদের আর জোটগতভাবে নির্বাচনে যেতে হবে না। ২০২৩ সালের নির্বাচনে ৩০০ আসনে আমরা প্রার্থী দেব। আমরা এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চাই।’

পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, ‘প্রশাসনিক বাধার কারণে উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। তারা মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করতে পারছে না। যেভাবে উপজেলা পদ্ধতি করা হয়েছিল, এখন আর সেভাবে চলছে না উপজেলা পরিষদ।’

জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের দলকে ঐক্যবদ্ধ করে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের নতুন কর্মী তৈরি করতে হবে।’

জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টি বর্তমানে বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকলেও বিগত কয়েকটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে অংশ নেয় তারা। এমনকি আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিপরিষদেও ছিলেন জাতীয় পার্টির কয়েকজন।

আরও পড়ুন:
জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব চুন্নু
আ.লীগের রাজনীতি হারিয়ে যাচ্ছে: জিএম কাদের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খালেদাকে বিদেশে পাঠানোর সুযোগ আছে কি না দেখছে সরকার

খালেদাকে বিদেশে পাঠানোর সুযোগ আছে কি না দেখছে সরকার

হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

খালেদা জিয়ার বিদেশের চিকিৎসা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘এর আগের দুই বার প্রত্যাখান হয়েছিল এবং আইনিভাবেই করা হয়েছিল। এখন অনেক পক্ষ থেকেই আবেদন এসেছে। আইনের কোনো ফাঁক, উপায় আছে কি না, সার্বিক দিক বিবেচনা করার পরেই এটার বিষয়ে মনে হয় সিদ্ধান্ত আসা উচিত।’

দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে আইনের কোনো সুযোগ আছে কি না, সেটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

রোববার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউশনে বিচারকদের এক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রথম কথা আমি যেটা বলব, সেটা হচ্ছে আপনারা বলছেন যে পড়ে (খালেদা জিয়ার আবেদন) রয়েছে। আসলে এটা পড়ে থাকে নাই। কথাটা হচ্ছে এর আগের দুই বার প্রত্যাখান হয়েছিল এবং আইনিভাবেই করা হয়েছিল। এখন অনেক পক্ষ থেকেই আবেদন এসেছে। আইনের কোনো ফাঁক, উপায় আছে কি না, সার্বিক দিক বিবেচনা করার পরেই এটার বিষয়ে মনে হয় সিদ্ধান্ত আসা উচিত।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সবসময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানবিক দিক দেখেছেন। আমাদের কথা হচ্ছে আইনের যেন কোনো ব্যত্যয় না হয়। আইন যেন সঠিকভাবে আগে যে রকম করা হয়েছিল, সেই ভাবে, সেটাই সঠিক কিন্তু এবার যখন অনেক আবেদন এসেছে আইনজীবীদের থেকেও আবেদন এসেছে। সে জন্যেই কোনোকিছু ভেবেই কিছু করা যায় কি না, সবদিক দেখেই এটার একটা সুচিন্তিত সিদ্ধান্তে আসাটা আমার মনে হয়, সমীচীন। সে জন্যে আমরা একটু সময় নিয়েছি।’

এর আগে বিচারকদের প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার বাংলাদেশে একটি সুদক্ষ ও বিশ্বমানের বিচার বিভাগ গড়ে তুলতে চায়। এরই অংশ হিসেবে বিচার বিভাগের জন্য অত্যাধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে।

বিচারকদের দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে মাত্র সাড়ে তিন বছরে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, চীন ও জাপানে ৮৫৫ বিচারককে উন্নতমানের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। করোনার প্রার্দুভাব না হলে এ সংখ্যা এতদিনে হয়তো দেড় হাজার ছাড়িয়ে যেত। দেশে প্রশিক্ষণ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

দেশেই বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে মাদারীপুর জেলার শিবচরে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল একাডেমি গড়ে তোলা হবে বলেও জানান মন্ত্রী। বলেন, এখানে দেশিও বিচারকদের পাশাপাশি সারা দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিচারকদের প্রশিক্ষণ প্রদানের উপযোগী একাডেমি গড়ে তোলা হবে। এর কাজ আগামী বছর শুরু করা হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এই আইনে যেসব অপরাধ আনা হয়েছে, তা পেনাল কোডেও আছে। প্রশ্ন আসতে পারে, তাহলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রয়োজনীয়তা কী ছিল? উত্তর হচ্ছে পেনাল কোডে যেটা আছে, সেটা ডিজিটালি করলে আইনের দিক থেকে তা অপরাধ নয়। সেজন্যই ডিজিটাল অপরাধ প্রতিরোধ করার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে।’

আনিসুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধানের পাতায় পাতায় গণতন্ত্রকে জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাক-স্বাধীনতা বা সংবাদ ক্ষেত্রের স্বাধীনতা বন্ধ করার জন্য করা হয়নি।’

বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক গোলাম কিবরিয়াও বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব চুন্নু
আ.লীগের রাজনীতি হারিয়ে যাচ্ছে: জিএম কাদের

শেয়ার করুন

নৌকার সেই প্রার্থী বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুরের মামলা থেকে খালাস পাওয়া

নৌকার সেই প্রার্থী বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুরের মামলা থেকে খালাস পাওয়া

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রিপন জমাদ্দার। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৬ সালে হওয়া মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই বছরের ১৯ নভেম্বর টিকিকাটা ইউনিয়নের বাইশকুড়া বাজারের একটি ক্লাবে স্থানীয় কলেজ ছাত্রলীগ নেতা রুবেল আকনকে মারধর ও ক্লাবে ভাঙচুর চালানো হয়। ওই সময় বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করা হয়। সে ঘটনায় আহত ছাত্রলীগ নেতা আকনের বাবার করা মামলায় প্রধান আসামি করা হয় রিপনকে।

পিরোজপুর মঠবাড়িয়া উপজেলার টিকিকাটা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নৌকা পাওয়া প্রার্থী বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর মামলার প্রধান আসামি বলে তথ্য মিলেছিল। তবে পরে জানা গেছে, আসামি হলেও তাকে পরে সেই মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রিপন জমাদ্দারকে নৌকা দেয়া হয়। এরপরই অভিযোগ ওঠে, তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর মামলার প্রধান আসামি।

তবে রিপন জানিয়েছেন, তিনি সেই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। নিউজবাংলার কাছে সেই অব্যাহতির আদেশের কপিও এসেছে।

এতে দেখা যায়, পিরোজপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. ফয়সাল ২০২০ সালের ০৬ এপ্রিল তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন। অভিযোগ গঠনের মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকার কথা জানানো হয় সেই আদেশে।

২০১৬ সালে হওয়া মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই বছরের ১৯ নভেম্বর টিকিকাটা ইউনিয়নের বাইশকুড়া বাজারের একটি ক্লাবে স্থানীয় কলেজ ছাত্রলীগ নেতা রুবেল আকনকে মারধর ও ক্লাবে ভাঙচুর চালানো হয়। ওই সময় বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করা হয়।

সেই ঘটনায় আহত ছাত্রলীগ নেতা আকনের বাবার করা মামলায় প্রধান আসামি করা হয় রিপনকে।

মামলায় রিপনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্রও দেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে তাতে নৌকা পাওয়া রিপনের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ না থাকার কথা জানানো হয়। এরপর বিচারক তা মেনে নেন।

রিপন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মঠবাড়িয়ার কিছু রাজনৈতিক নেতার ইন্ধনে তখন আমার নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়। আমি বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসি। মামলার অভিযোগ মিথ্যা হওয়ায় আদালত আমাকে প্রথম হাজিরাতেই জামিন দিয়ে দেয়। মামলা থেকে আমার নাম বাদও দেয়া হয়েছে।’

ঘটনার সময় তিনি বরিশাল ছিলেন-এমন দাবি করে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় রাজনীতির কারণে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আশরাফুর রহমানের প্রতিহিংসার শিকার হয়ে ওই মামলার আসামি হয়।’

তবে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌকার মনোনয়ন পাওয়া রিপন জমাদ্দারের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। লোকমুখে শুনেছি।’

আরও পড়ুন:
জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব চুন্নু
আ.লীগের রাজনীতি হারিয়ে যাচ্ছে: জিএম কাদের

শেয়ার করুন

আ.লীগ কর্মী হত্যা মামলার আসামির হাতে নৌকা

আ.লীগ কর্মী হত্যা মামলার আসামির হাতে নৌকা

হত্যা মামলার আসামি হয়েও চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন পারভেজ দেওয়ান। ছবি: নিউজবাংলা

পাথালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইউসুফ হাওলাদার বলেন, ‘উনি মার্ডার কেসের প্রধান আসামি। তারে কীভাবে নমিনেশন দিছে সেটা উপরেই জানে। আমরা পরিবর্তন চেয়েছিলাম। কারণ একটা পরিবর্তন আসলে আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী হতো। এতে আমাদের তৃণমূলের যে ভরসা সেটা প্রতিফলিত হয়নি। আমরা হতাশ।’

ঢাকার সাভারে আওয়ামী লীগ কর্মীকে হত্যা মামলার আসামি ইউপির চেয়ারম্যান পদে নৌকার মনোনয়ন পাওয়ায় ক্ষুব্ধ তৃণমুলের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, নৌকার মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে তাদের মতামতের মূল্যায়ন করা হয়নি।

নৌকা পাওয়া পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী পারভেজ দেওয়ানের দাবি, ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা মামলায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

মামলার এজাহারে আছে, ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ তৎকালীন চেয়ারম্যান পারভেজ দেওয়ানের নির্দেশে আশুলিয়ার নয়ারহাট বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী আব্দুর রহিমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে নিহতের ভাই যুবলীগ নেতা সুমন পন্ডি ২৭ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ইউপি নির্বাচনে দ্বন্দের জেরে আব্দুর রহিমকে হত্যার নির্দেশ দেন পারভেজ। পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি পারভেজসহ ছয় আসামিকে বাদ দেয়া হয়। সবশেষ সিআইডির তদন্তে পারভেজসহ ১৩ আসামিকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়।

মামলার বাদী সুমন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার ভাই পাথালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। নির্বাচনে তৎকালীন চেয়ারম্যান পারভেজ চেয়ারম্যানের প্রতিপক্ষকে সমর্থন করতেন তিনি। নির্বাচনে জেতার চার-পাঁচ মাস পর চেয়ারম্যানের লোকজন দিনেদুপুরে আমার ভাইকে গুলি করে হত্যা করে।

‘তার (পারভেজের) হুকুমেই আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করলেও হাজতবাসের পর জামিনে মুক্ত হয়। এরপর রহস্যজনকভাবে পুলিশ আমার স্বাক্ষর ছাড়াই গোপনে প্রধান আসামি চেয়ারম্যানসহ ৬ আসামিকে বাদ দিয়ে চার্জশিট দেয়। পরে আদালতে আপত্তি জানালে সিআইডি দেড় মাস তদন্ত করে চেয়ারম্যানসহ ১৩ আসামিকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয়।’

পারভেজ একটি হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও নৌকার মনোনয়ন পাওয়ায় ক্ষুব্ধ পাথালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ হাওলাদার।

তিনি বলেন, ‘উনি মার্ডার কেসের প্রধান আসামি। তারে কীভাবে নমিনেশন দিছে সেটা উপরেই জানে। আমরা পরিবর্তন চেয়েছিলাম। কারণ একটা পরিবর্তন আসলে আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী হতো। এতে আমাদের তৃণমূলের যে ভরসা সেটা প্রতিফলিত হয়নি। আমরা হতাশ।’

৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘যাকে মেরে ফেলা হয়েছে উনি আওয়ামী লীগের সবচেয়ে সক্রিয় সদস্য ছিল। আবারও উনি (পারভেজ দেওয়ান) ওইরকম পায়তারা করতেছে। হুমকি-ধামকি দিতেছে। আবারও কর্মীদের উপর আক্রমণ করার চেষ্টা করতেছে। উনি নৌকা পাওয়াতে আমরা আতঙ্কিত।

‘আওয়ামী লীগের মতো এতো সুসংগঠিত দলের উপর কেন জানি এখন ঘৃণা চলে আসছে। তিনি তিনবারের চেয়ারম্যান হয়েও একটা নিজস্ব ইউনিয়ন পরিষদ ভবন করতে পারেননি। এখনও ভাড়া ভবনে চলছে সব কার্যক্রম। উনি নির্বাচনে আসলে বিপুল ভোটে পরাজিত হবে।’

নৌকা পাওয়ার বিষয়ে পারভেজ দেওয়ান বলেন, ‘মিথ্যা মার্ডার মামলায় থানা থেকে আমারে অব্যাহতি দিছে। তারপর তারা (বাদীপক্ষ) নারাজি দিলে মামলা ডিবিতে দিছে। ওখান থাইকাও আমারে অব্যাহতি দিছে। বরং তারা সিআইডির সঙ্গে আঁতাত করে একমাসের মধ্যে তদন্ত না করে আমার বিরুদ্ধে চার্জশিট করাইছে।

‘আমার মনে হয়, পুলিশ ডিপার্টমেন্টের আইজি ও প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পাথালিয়া ইউনিয়নের পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট চলে গেছে। নির্বাচনে যাতে আমার উপর প্রভাব পড়ে এজন্য মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়েছে। যেটা সবাই জানে।’

মনোনয়ন প্রক্রিয়ার বিষয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য বেনজির আহমেদ বলেন, ‘আমার যেটা ধারণা, মনোনয়ন বোর্ডের নজরে এটা হয়ত আসে নাই। উনারা হয়ত জানেন না। কারণ এটা সাধারণত ইউনিয়ন থেকে উপজেলা তারপর জেলা। ইউনিয়ন থেকে যেভাবে আসছে তাতে এরকম কোনো কিছু আমরা পাই নাই। এটা আমাদের নলেজে দেয়া হয়নি। যদি কেউ জানাইতো তাহলে হয়তো আমরা কেন্দ্রে জানাইতে পারতাম।’

দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান বলেন, ‘এটাতো কাজ করছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ। সেখানে অনুমোদন দিছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। এখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংসদ সদস্যদের কোনো ভূমিকা নাই। এটা পার্লামেন্টারি বোর্ডের সিদ্ধান্ত। এখানে আমার কোনো কমেন্ট না করাই ভালো। সর্বোচ্চ জায়গা থেকে সিদ্ধান্ত হইছে। ওনারা যাচাইবাছাই করেই সিদ্ধান্ত দিছেন।’

আরও পড়ুন:
জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব চুন্নু
আ.লীগের রাজনীতি হারিয়ে যাচ্ছে: জিএম কাদের

শেয়ার করুন

প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যে সমালোচনার ঝড়, গায়ে মাখছেন না মুরাদ

প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যে সমালোচনার ঝড়, গায়ে মাখছেন না মুরাদ

ফেসবুকে এই লাইভে প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের বিভিন্ন মন্তব্য ঘিরে চলছে সমালোচনা। ছবি: সংগৃহীত

তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ক্ষোভ জানিয়েছেন জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা। তবে মুরাদ হাসান বলছেন, একজন রাজনৈতিক কর্মীর সব বক্তব্য সবাই ভালোভাবে নেবে, এমন কোনো কথা নেই। তিনি এসব গায়ে মাখছেন না।

নারীর প্রতি ‘অবমাননাকর’ মন্তব্য করার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। তার বিরুদ্ধে বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।

প্রতিমন্ত্রীর এসব মন্তব্যকে ‘কুরুচিপূর্ণ’, ‘অশালীন’ ও ‘মর্যাদাহানিকর’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা। তবে এসব সমালোচনা পাত্তা দিচ্ছেন না প্রতিমন্ত্রী মুরাদ। আলোচিত ভিডিওটি নিজের ফেসবুক টাইমলাইন থেকে সরিয়ে নিলেও মুরাদ হাসান বলছেন, তিনি আগের অবস্থানেই আছেন।

গত ১ ডিসেম্বর রাতে ‘অসুস্থ খালেদা, বিকৃত বিএনপির নেতাকর্মী’ শিরোনামে এক ফেসবুক লাইভে যুক্ত হন মুরাদ হাসান। লাইভটির সঞ্চালক ছিলেন নাহিদ রেইনস নামে এক ইউটিউবার ও ফেসবুকার।

লাইভে বিএনপির রাজনীতি সমালোচনার এক পর্যায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ও দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে তিনি বিভিন্ন মন্তব্য করেন। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্ম ও পরিবার নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রীর এসব বক্তব্য ‘প্রচণ্ড আপত্তিকর’ উল্লেখ করে তীব্র সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আলোচিত লাইভটি শনিবার রাত পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রীর ভেরিফায়েড পেজের টাইমলাইনে দেখা গেলেও সোমবার আর দেখা যাচ্ছে না। তবে টাইমলাইন থেকে সরিয়ে নিলেও প্রতিমন্ত্রীর ফেসবুক পেজের ভিডিও অংশে এটি দেখা গেছে।

বিষয়টি নিয়ে রোববার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যেহেতু আমি রাজনীতি করি, তাই আমি রাজনৈতিক কর্মী। সবকিছু সবাই ভালোভাবে নেবে, এ রকম তো কথা নেই। সমালোচনা করতেই পারে।’

সমালোচকদের অবশ্য বিরোধীপক্ষের সারিতে ফেলছেন মুরাদ হাসান। তিনি বলেন, ‘যারা সমালোচনা করেন, তারা আমাদের শত্রুপক্ষ বা বিরোধীপক্ষ বা বিরোধী দল বা ’৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি। এরা তো সমালোচনা করবেই। এগুলো দেখার সময় আসলে আমার নেই।’

নারীর প্রতি অবমাননাকর শব্দ ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নারীর প্রতি অবমাননা বুঝলাম না! কোন নারীর প্রতি?’

নিজের কথায় কোনো নারীর প্রতি অবমাননা হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ‘প্রশ্নই ওঠে না। আমার মা আছে। আমি একজন মায়ের পেট থেকে জন্মগ্রহণ করেছি। আমার বোন আছে, স্ত্রী আছে, আমার সন্তান আছে, কন্যা আছে। আমি কাউকে অবমাননা করে কোনো কথা বলার মানসিকতা পোষণ করি না।

‘এটা সমালোচকদের, নিন্দুকদের… ওই যে বলে ‘‘পাছে লোকে কিছু বলে” ওই রকম হইছে আরকি। এসব নিয়ে মাথা ব্যথা দেখানোর মতো সময় আমার নেই।’

‘মক্ষীরানি’র মতো শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা জানতে চাইলে সরাসরি জবাব দেননি মুরাদ হাসান। তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান সাহেব কোথায় জন্মগ্রহণ করেছেন, বেগম জিয়া কোথায় জন্মগ্রহণ করেছেন, তারা কেউ কিন্তু বাংলার মাটিতে জন্মগ্রহণ করেননি। তাদের পরিবারের ইতিহাস আসলে খুব পজিটিভ না। এগুলো পজিটিভ কোনো বিষয় না।

‘এগুলো সবাই আমরা জানি। বাংলাদেশে কেউ জন্ম নেয়নি এরা। বাংলাদেশকে কেউ ধারণ করেন না। বাংলাদেশকে লালন করেন না। বাংলাদেশকে বহন করেন না। বাংলার মানুষকেও তারা ভালোবাসেন না। যার ফলে তারা হত্যার রাজনীতি করেছেন। ক্যু-এর রাজনীতি করেছেন। জিয়াউর রহমান হাজার হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈনিককে হত্যা করেছেন। এসব তো আপনারা জানেন সবই। খালেদা জিয়াও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তাই করেছেন।’

আলোচিত মূল ভিডিওটি ফেসবুক টাইমলাইন থেকে সরানোর কারণ জানতে চাইলে ব্যস্ততার কথা বলে তিনি ফোন রেখে দেন।

প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা জানিয়েছেন জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ও নারী অধিকারকর্মীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক বলেন, ‘বক্তব্য প্রদানের সময় শব্দ চয়নে সবারই সচেতন থাকা উচিত। নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই অবমাননাকর মন্তব্য করা ঠিক নয়।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর আরও দায়িত্ব নিয়ে কথা বলা উচিত বলে মনে করেন দেশের প্রথম নারী হিসেবে প্রধান তথ্য কমিশনারের দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক সাদেকা হালিম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন সাদেকা হালিম বলেন, ‘তথ্য প্রতিমন্ত্রী ফেসবুক লাইভে অংশগ্রহণ করে যে ধরনের মন্তব্য করেছেন, সেটি বাংলাদেশের একজন সুস্থ নাগরিক হিসেবে আমার কাছে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ মনে হয়েছে।

‘নারীকে হেয় করে কথা বলা ঠিক না। ভুলে গেলে চলবে না, আমাদের দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৫০ শতাংশই নারী, তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন। কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা কখনই কাম্য নয়।’

প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি মনে করি এ বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি তার নিজের চিন্তা, অবস্থান, নৈতিকতা ও স্ট্যাটাস সবার কাছে পরিষ্কার করেছেন। প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে গোটা নারী জাতিকে অপমান আর অবমাননা করেছেন।’

খুশী কবির নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উনি (মুরাদ হাসান) সবচেয়ে বেশি অপমান করেছেন ওনার নেত্রী, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সব জায়গায় নারীর অধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য রাখছেন।’

খুশী কবির বলেন, “তিনি (মুরাদ হাসান) নিজে যখন বলেন যে ‘আমার মুখ ভীষণ খারাপ’, তখন তিনি একজন মন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রিপরিষদে থাকেন কীভাবে সেটিই আমার বড় প্রশ্ন।”

প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের বক্তব্যে ভীষণ ক্ষুব্ধ আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উনি (প্রতিমন্ত্রী) একটি শব্দ ব্যবহার করেছেন, জাইমা কৃষ্ণাঙ্গদের সঙ্গে থাকেন, এটার মানে কী? কৃষ্ণাঙ্গদের সঙ্গে থাকাটা কী অপরাধ? কৃষ্ণাঙ্গ বলতে উনি কী বুঝিয়েছেন? কৃষ্ণাঙ্গরা খুবই খারাপ? কৃষ্ণাঙ্গরা খুবই সেক্সিস্ট? ওদের সঙ্গে খারাপ মেয়েরা থাকে?

‘আমরা কিন্তু এখন কৃষ্ণাঙ্গ শব্দটাই ব্যবহার করি না। আমরা বলি আফ্রিকান-আমেরিকান। আমরা নিগ্রো বলি না। আমরা ব্ল্যাক বলার সময় চিন্তা করি, বলব কি না। কিন্তু উনি অবলীলায় বলে ফেললেন। এটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক, হতাশাজনক।

জিনাত আরা হক হতাশা জানিয়ে বলেন, ‘পার্লামেন্টে লেখাপড়া জানা মানুষ গেলে আমরা খুবই খুশি হই। কিন্তু এই যদি হয় লেখাপড়ার হাল, তাহলে আমাদের চিন্তা করতে হবে যে, আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া দিয়ে আমরা আসলে কী শিখছি।’

‘আমার কাছে মনে হয়েছে- ব্যক্তি, বিশেষ করে নারীদের উনি প্রচণ্ডভাবে হেয় করেছেন। তার কথাগুলো শুনতেই আমার কষ্ট হচ্ছিল।’

জিনাত আরা হক বলেন, “উনি (প্রতিমন্ত্রী) ‘মক্ষীরানির’ মতো শব্দ বলেছেন। এ ধরনের কথা বলার মধ্য দিয়ে যে নারীরা প্রান্তিক, যে নারীরা অনেক বেশি বিপর্যস্ত, তাদের আরও বিপর্যস্ত করছেন। এই শব্দগুলো আসলে কারা বলে? যারা লেম্যান, যাদের জানাশোনা কম, সমাজে যারা প্রথাগত আচরণ করে তারা বলে।’

আরও পড়ুন:
জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব চুন্নু
আ.লীগের রাজনীতি হারিয়ে যাচ্ছে: জিএম কাদের

শেয়ার করুন

‘আমরা কি জমিদার, মানুষ কি আমাদের ভোট দিতে বাধ্য?’

‘আমরা কি জমিদার, মানুষ কি আমাদের ভোট দিতে বাধ্য?’

রোববার রাজধানীর গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিট সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনি প্রভাবশালী নেতা। জনপ্রতিনিধি। জনগণের সামনে আপনি বলছেন, নৌকায় ভোট না দিলে নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে আসবেন না। নৌকায় ভোট না দিলে এই এলাকা ছেড়ে চলে যান। বলুন, এই লোকটি আমাদের শত্রু না বন্ধু? এরা যদি আওয়ামী লীগের বন্ধু হয়, তাহলে আমাদের আর শত্রুর দরকার নেই। আজকে এ ধরনের কাজ অনেক জায়গায় হচ্ছে।’

জাতীয় নির্বাচনের আগে নেতা-কর্মীদেরকে দেশবাসীর সঙ্গে আচরণে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটারদেরকে বিভিন্ন হুমকি দেয়ায় ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন তিনি। বলেছেন, যারা এসব হুমকি ধমকি দেয়, তারা আওয়ামী লীগের বন্ধু নয়, শত্রু।

ক্ষমতাসীন দলের নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের আর দুই বছরও নেই। জাতীয় নির্বাচনের আগে আমাদের খুব সতর্কভাবে চলতে হবে। আমাদের উন্নয়ন ও আচরণ- দুটো মিলিয়েই ব্যাটে বলে সংযোগ হলে তবেই আমরা আবার নির্বাচনে জিতব।‘

রোববার রাজধানীর গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিট সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদেরকে হুমকি ধমকি দেয়ার সমালোচনা করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা। বলেন, নৌকায় ভোট না দিলে মানুষকে হুমকি দিয়েছেন তাদের আওয়ামী লীগের শক্র।

কাদের বলেন, ‘আপনি প্রভাবশালী নেতা। জনপ্রতিনিধি। জনগণের সামনে আপনি বলছেন, নৌকায় ভোট না দিলে নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে আসবেন না। নৌকায় ভোট না দিলে এই এলাকা ছেড়ে চলে যান। বলুন, এই লোকটি আমাদের শত্রু না বন্ধু?‘

এ সময় উপস্থিত শ্রোতারা সমস্বরে বলেন, ‘শত্রু।’

কাদের বলেন, ‘এরা যদি আওয়ামী লীগের বন্ধু হয়, তাহলে আমাদের আর শত্রুর দরকার নেই। আজকে এ ধরনের কাজ অনেক জায়গায় হচ্ছে।’

দলীয় নেতা-কর্মীদের তিনি বলেন, ‘এত উন্নয়ন, অর্জন জনগণ ভোট না দিয়ে যাবে কোথায়? এ মানসিকতা যাদের, তারা আওয়ামী লীগের ক্ষতি করছে। শেখ হাসিনা উন্নয়ন করবেন আর আপনি ক্ষমতার দাপট দেখাবেন। খারাপ ব্যবহারের পরও মানুষ আপনাকে ভোট দেবে?

নেতা কর্মীদের প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, 'আমরা কি জমিদার? জনগণ কি আমাদের কর্মচারী? মানুষ কি আমাদের ভোট দিতে বাধ্য?’

ইউনিয়ন পরিষদে মনোনয়নের জন্য তৃণমূল থেকে অনেকে টাকা খেয়ে নাম পাঠাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন কাদের। বলেন, ‘আজকে অনেকে দলের সঙ্গে শত্রুতা করছে। আজকে খারাপ লোকদের নাম পাঠাচ্ছে।’

মনোনয়নে ভুল এদের জন্যই হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগ নেতা। বলেন, ‘অনেক সময় ভুল মনোনয়ন হচ্ছে। আমরা পরে সংশোধন করছি। বিতর্কিত লোকদের নাম পাঠাচ্ছে। অনেক জায়গায় অনেকে টাকা পয়সা খেয়েও এই সব নাম পাঠাচ্ছে, এদের ব্যাপারে আপনাদের সাবধান থাকতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে।’

দলীয় নেতা-কর্মীদের ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি বলতে চাই, উপরে উপরে এত সুন্দর সুন্দর ছবি, এত পোস্টার, মিছিল, স্লোগান, বিশেষণ। ভেতরে ভেতরে কি চোরা স্রোত আমাদেরকে কেটে দিচ্ছে কি না সেটা আমাদের আবার চিন্তা করতে হবে। আমাদের চিন্তা করতে হবে, এত অর্জন, উন্নয়ন তলে তলে ঘুণপোকা এগুলোকে খেয়ে ফেলছে কি না?’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শত্রু যদি আওয়ামী লীগ হয়, তাহলে দলের ক্ষতি করার জন্য আর বাইরের শত্রুর দরকার নেই।’

সম্মেলনের পর পকেট থেকে বের করে কমিটি দিলে সেটি আওয়ামী লীগের কোনো কাজে আসবে না জানিয়ে কাদের বলেন, ‘এ কি আওয়ামী লীগের স্বার্থের রাজনীতি। এ ধরনের কাজ যারা করবে তারা আওয়ামী লীগের শত্রু। দলের অভ্যন্তরে থেকে তারা আওয়ামী লীগের ক্ষতি করছে।’

বুয়েটের আবরার হত্যার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘যাদের কারণে বুয়েটের আবরারের মতো মেধাবী ছাত্রের হত্যা হয়, আর তারা যদি আমাদের পরিচয়ের হয়, তাহলে কি তারা আওয়ামী লীগের বন্ধু হতে পারে? যাদের কারণে খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায় তারা কি আমাদের বন্ধু?

‘আজকে খারাপকে খারাপ বলতে হবে। কোনো চাঁদাবাজ আমাদের প্রভু নয়। মনে রাখবেন, যারা আওয়ামী লীগের নামে চাঁদাবাজি, ভূমিদখল, পানি দখল করে, সন্ত্রাস করে, মানুষকে অশান্তিতে রাখে, জনগণের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মী আমাদের কোন প্রয়োজন নেই’- বলেন ওবায়দুল কাদের।

ফখরুল উম্মাদ, আবোল-তাবোল বকছেন

বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রসঙ্গও টানেন কাদের। বলেন, ‘লোকটার মনে হয় মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তিনি উম্মাদ হয়ে আবোল-তাবোল বকছেন। জনসমর্থন নেই, পাবলিক আসে না। আজকে প্রেস বিফ্রিং করে, আর প্রতিদিন আবোল-তাবোল কথা বলেন।

‘ফখরুল সাহেব বলেন, বেগম জিয়া না থাকলে আওয়ামী লীগ থাকবে না। কি অদ্ভুত তার উক্তি! আজকে ফখরুলের এ বক্তব্য সারা দেশে হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিবকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে চেনেন? আওয়ামী লীগ কারও দয়ার টিকে নাই। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার উৎস বিএনপির মতো বন্দুকের নল নয়। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার উৎসব জনগণ। আওয়ামী লীগের শেকড় এ দেশের মাটির অনেক গভীরে।’

আরও পড়ুন:
জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব চুন্নু
আ.লীগের রাজনীতি হারিয়ে যাচ্ছে: জিএম কাদের

শেয়ার করুন

কল্যাণ পার্টির আয়োজনে এক মঞ্চে বিএনপি-জামায়াত

কল্যাণ পার্টির আয়োজনে এক মঞ্চে বিএনপি-জামায়াত

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় সভাপতির বক্তব্য দেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম। একই মঞ্চে ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল হালিম। ছবি: নিউজবাংলা

গত ৩০ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আয়োজনে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মধ্যে বিবাদের পর দুই পক্ষকে আর একসঙ্গে দেখা যায়নি। ২০ দলীয় জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে যোগ দেন দল দুটির দুজন শীর্ষ নেতা। দুজনই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার দাবি করলেন।

এক মাসেরও বেশি সময় পর একই আয়োজনে বিএনপি ও তার জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের এক মঞ্চে দেখা গেল।
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় একই মঞ্চে ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল হালিম।

১৯৯৯ সালে দুই দল জোটবদ্ধ হয়ে প্রায় এক যুগ পার করে ফেলার পর সম্প্রতি তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। জোট ভেঙে দেয়ার আলোচনাও তৈরি হয়েছে। দুই দলের নেতাদের একসঙ্গে এখন আর সেভাবে দেখা যায় না।

এর মধ্যে গত ৩০ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনায় পরস্পরের প্রতি দুই দলের যে অবিশ্বাস, সেটি প্রকাশ পেয়ে যায়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাইফুর রহমান সেদিন ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পুরানা পল্টনে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজনের প্রাণহানির জন্য বিএনপির নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেন।

এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তেতে ওঠেন বিএনপি নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন। বলেন, ‘এই জামায়াত বাংলাদেশকে আজ এই জায়গায় এনেছে। এসবই জামায়াতের ফাইজলামি।’

সেই আলোচনায় ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ। পরে দুই পক্ষে উচ্চস্বরে ঝগড়াঝাটি হয় আর বিএনপি নেতা মোশাররফ বেরিয়ে আসেন।

তবে কল্যাণ পার্টির আয়োজনে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মধ্যে সেই দিনের বিবাদের কোনো রেশ দেখা যায়নি।

বিএনপি নেতা রিজভী কথা বলেন তাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে পাঠানোর ইস্যুতে। আর জামায়াত নেতা হালিম কথা বলেন, জাতীয় ঐক্য নিয়ে। তিনিও খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার অনুরোধ করেন।

রিজভী বলেন, ‘আইনমন্ত্রী প্রায়ই আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলেন। কিন্তু কোন আইনি প্রক্রিয়ায় জাস্টিস সিনহাকে দেশ থেকে বের করে দিয়েছিলেন এবং জজকোর্টের জজ সাহেবকে প্রাণেরভয়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে? এটার কোনো উত্তর দিতে পারেননি আইনমন্ত্রী।’

তিনি বলেন, ‘আজকে আইন, জজ, বিচারক, প্রশাসন সব কিছু শেখ হাসিনার আঁচলে বন্দি। কোনো নিরপেক্ষ বিচার নেই। আপনি (আইনমন্ত্রী) বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়া হয়েছে। যে মামলার কোনো সাক্ষ্য নেই, কোনো প্রমাণ নেই, অন্যায়ভাবে সেই মামলায় সাজা দিয়েছেন। এই অন্যায় সাজার কাছে বেগম খালেদা জিয়া মাথা নত করবেন না।’

জামায়াত নেতা হালিম বলেন, ‘আমরা সব সময় সম্প্রীতির রাজনীতিতে বিশ্বাসী। বর্তমানে বাংলাদেশে বিভক্তি এবং বিভাজনের রাজনীতি চলছে। প্রতিহিংসার রাজনীতি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। আজ দেশে জালিম সরকার রয়েছে। এর থেকে বাঁচতে হলে দল-মত নির্বিশেষে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে উল্লেখ করে জামায়াত নেতা বলেন, ‘তার চিকিৎসা বিদেশে ছাড়া সম্ভব নয়। আমরা বেগম জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করার আহ্বান জানাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কোরআন তিলাওয়াতের পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আব্দুল আউয়াল মামুন। পরে ভিডিওবার্তায় শুভেচ্ছা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বাসদের খালেকুজ্জামান, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

সভাপতির বক্তব্যে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম বলেন, ‘ভোটাধিকার হরণ করে ক্ষমতায় থাকা সরকারের স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ড থেকে মুক্তির তাড়নায় দেশবাসী ছটফট করছে।

‘জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন পাগলা ঘোড়া জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে দিচ্ছে। বিজয়ের আনন্দ আজ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। কোথায় সেই প্রাণচাঞ্চল্য? মানুষ এখন দুবেলা খাবার জোগাড়ের সংগ্রামে লিপ্ত।‘

সভা শেষে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া করা হয়।

আরও পড়ুন:
জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব চুন্নু
আ.লীগের রাজনীতি হারিয়ে যাচ্ছে: জিএম কাদের

শেয়ার করুন

দেশে নিরপেক্ষ বিচার নেই: রিজভী

দেশে নিরপেক্ষ বিচার নেই: রিজভী

জোটের শরিক দল বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বক্তব্য রাখছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।ছবি: নিউজবাংলা

রিজভী প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনার বিরুদ্ধে মামলা করার কিছু নেই। কারণ প্রশাসন, পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তৃত্ব আপনার হাতে। আইন-আদালত সব আপনার কবজায় করে নিয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই দেশের বিচার বিভাগ ও প্রশাসন চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপি জোটের শরিক দল বাংলাদেশ কল‌্যাণ পার্টির ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় রোববার এ অভিযোগ করেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘যখন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিরোধ ছিল না, তখন তার বিরুদ্ধে মামলা হয়নি। যখনই সিনহাকে দেশ থেকে বের করে দিল, তখন তার বিরুদ্ধে মামলা ও সাজা হলো। এ থেকে বোঝা যায় শেখ হাসিনার আঁচলে বন্দি দেশের আইন, জজ, বিচারক ও প্রশাসন। এখানে কোনো নিরপেক্ষ বিচার নেই।

‘আইনমন্ত্রী প্রায়ই আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলেন। কিন্তু জাস্টিস সিনহাকে কোন প্রক্রিয়ায় দেশ থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল, তা তিনি বলেন না। জজ মুতাহার সাহেবকে প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছাড়তে হয়েছে।'

খালেদা জিয়াকে সাক্ষ্য-প্রমাণ ছাড়া সাজা দেয়া হয়েছে অভিযোগ তুলে রিজভী আরও বলেন, ‘অন্যায় সাজার কাছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মাথানত করবেন না।’

বিভিন্ন খাতের দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘মেডিক্যালের পাঁচ হাজার টাকা দামের বই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কিনছে ৮৫ হাজার টাকায়, একটা বালিশের দাম আট হাজার টাকা, ১ হাজার টাকার পর্দার দাম ধরছে ৭ লাখ টাকা।’

মন্ত্রীরা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়ে বলছেন, সহনীয় মাত্রায় দুর্নীতি করতে। আবার অর্থমন্ত্রী বলছেন, ৪ হাজার কোটি টাকা কোনো টাকা না। এসবে প্রধানমন্ত্রীর লজ্জা নেই, সমালোচনা নেই।’

রিজভী প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনার বিরুদ্ধে মামলা করার কিছু নেই। কারণ প্রশাসন, পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তৃত্ব আপনার হাতে। আইন-আদালত সব আপনার কবজায় করে নিয়েছেন।’

কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের (বীরপ্রতীক) সভাপতিত্বে সভায় এনডিপির চেয়ারম্যান ক্বারী মো. আবু তাহের, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এলডিপির মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিম, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, মাওলানা কামাল উদ্দিন জাফরি, মেজর জেনারেল (অব.) আমসা আমিন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. হাসান নাসির, সৈয়দা ফোরকান ইবরাহিম, ড. শাহেদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদসহ ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কল‌্যাণ পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনটি সঞ্চালনা করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব (সমন্বয়) আব্দুল্লাহ আল হাসান সাকিব।

আরও পড়ুন:
জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব চুন্নু
আ.লীগের রাজনীতি হারিয়ে যাচ্ছে: জিএম কাদের

শেয়ার করুন