ব্রাশফায়ারের পর কুপিয়ে হত্যা: আটক ৮

ব্রাশফায়ারের পর কুপিয়ে হত্যা: আটক ৮

উখিয়ার ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা মসজিদ

এপিবিএন-৮-এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার বলেন, শুক্রবার রাত থেকে ভোর পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে এখন তাদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। অস্ত্রসহ আটক মুজিবুর রহমান বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে।

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় ৮ জনকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-৮-এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার।

তিনি বলেন, শুক্রবার রাত থেকে ভোর পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে এখন তাদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।

শুক্রবার অস্ত্রসহ আটক মুজিবুর রহমান বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজার শহর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে উখিয়ার থাইনখালীর ক্যাম্প-১৮-তে বৃহস্পতিবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসায় হামলা চালায় ৪০ থেকে ৫০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসীদের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ৬ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন।

৬ জন নিহত হওয়ার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো সময়ে এসব ক্যাম্পে সহিংসতা ঘটতে পারে বলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনেকে আশঙ্কা করছেন। তারা বলছেন, ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে লাখ লাখ রোহিঙ্গার স্রোত নামার পর গত চার বছরে এ রকম আতঙ্কজনক পরিস্থিতি আর কখনও তৈরি হয়নি। হামলার ভয়ে রোহিঙ্গাদের অনেক নেতা ভয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন।

এই হামলায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন হামলার প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে পুলিশ বলছে, মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা নামে কোনো সংগঠনের তৎপরতা নেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। কিন্তু আরসার নাম ব্যবহার করে অপতৎরতা চালাচ্ছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।

যে মাদ্রাসায় হামলা চালানো হয়েছে, সেটি পরিচালনা করে ইসলামি মাহাস নামের রোহিঙ্গাদের একটি সংগঠন। ওই সংগঠনটির সঙ্গে আরসার দ্বন্দ্ব আছে বলে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন। তবে আরসার সশস্ত্র হামলার বিষয়ে ১৮ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দারা কথা বললেও তারা নাম প্রকাশ করতে চাননি।

গুলিতে নিহত নুর আলম ওরফে হালিমের স্বজন ও ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতি রাতে ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক-ছাত্র ও স্থানীয় রোহিঙ্গারা মিলে তাহাজ্জুতের নামাজ আদায় করেন। আমিও নিয়মিত তাহাজ্জুতে শরিক হই। তবে বৃহস্পতিবার আমার ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় মসজিদে দেরিতে যাই।

‘কিন্তু আমি গিয়ে দেখি মাদ্রাসার ভেতরে সবাই ছোটাছুটি করছে। অনেকে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করছে। তাদের দেখে আমি দূরে সরে যাই। প্রায় আধা ঘণ্টা গোলাগুলি চলে। এরপর সন্ত্রাসীরা চলে যায়।’

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উখিয়ার লাম্বাশিয়া আশ্রয়শিবিরের ডি ব্লকে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) কার্যালয়ে ওই সংগঠনের চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহ বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন।

আরসা নেতা আবদুর রহিমের নেতৃত্ব ২০ থেকে ২৫ জন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ওই হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ পর্যন্ত মুহিবুল্লাহ হত্যার সঙ্গে জড়িত আরসার ৫ জন সদস্য ও ৪০ জনের বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে। আরসার সদস্যদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে ইসলামি মাহাসের সদস্যরা সহযোগিতা করেছেন—এই ধারণা থেকে ওই মাদ্রাসায় হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করছে রোহিঙ্গারা।

১৮ নম্বর ক্যাম্পের মাঝি আবুল কালাম বলেন, ‘প্রত্যাবাসন নিয়ে ইসলামি মাহাসের সঙ্গে আরসার বিরোধ আছে। সম্প্রতি রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে হত্যার পর মাহাসের সঙ্গে দ্বন্দ্ব আরও বেড়ে গেছে।

‘আরসা মনে করছে, তাদের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে সরকারি বাহিনীকে সহযোগিতা করছে মাহাস। তা ছাড়া মাহাসের মাদ্রাসাটি আরসা এর আগেও দখল করতে চেয়েছিল। হুকুমতের (সরকারি) বাহিনী মাদ্রাসাটি রক্ষা করতেছে। সব মিলিয়ে এই হামলাটি হয়েছে।’

তবে পুলিশ বলছে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে আরসার অস্তিত্ব নেই। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-৮ (এপিবিএন)-এর অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার খান বলেন, ‘মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা নামে কোনো সংগঠনের তৎপরতা নেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। কিন্তু আরসার নাম ব্যবহার করে অপতৎরতা চালাচ্ছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।’

গুলি করে হত্যায় নিহতরা হলেন দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ও বালুখালী ২ নম্বর শিবিরের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইদ্রিস, বালুখালী-৯ নম্বর শিবিরের ব্লক-২৯–এর বাসিন্দা ইব্রাহীম হোসেন, বালুখালী ১৮ নম্বর ক্যাম্পের এইচ ব্লকের বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবক আজিজুল হক ও মোহাম্মদ আমিন, একই মাদ্রাসার শিক্ষক ও বালুখালী-১৮ নম্বর শিবিরের ব্লক-এফ-২২-এর নুর আলম ওরফে হালিম এবং মাদ্রাসার শিক্ষক ও ২৪ নম্বর শিবিরের হামিদুল্লাহ। এর মধ্যে প্রথম চারজন ঘটনাস্থলেই এবং অপর দুজনকে উখিয়ার এমএসএফ হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের ক্যাম্পে দাফন করা হয়েছে।

শরণার্থী বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাহমান নাসির উদ্দিন বলেন, ‘রোহিঙ্গারা নানান অপরাধ ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন রোহিঙ্গারা নিজেরাই নিজেদের হত্যা করছে? এ প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর কাঠামো, আধিপত্য বিস্তার, আবাস-বিন্যাস, ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পরিবৃদ্ধি এবং নানান জাতের অবৈধ কারবারের বিস্তারে।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সক্রিয় সাতটি দল। সেগুলোর মধ্যকার ক্ষমতার দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ ছাড়া ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারের জন্য দ্বন্দ্বরত বিভিন্ন ছোট দল ও উপদলের মধ্যকার সংঘাত নিয়মিত চলছে। দলগুলোর মধ্যে কোনো একটি দল এ হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে লাভবান হয়েছে। এ জন্য তারা হামলা চালিয়েছে।’

আরও পড়ুন:
এই হামলার পেছনে কারা?
সংঘর্ষ নয়, ব্রাশফায়ারের পর কুপিয়ে হত্যা
প্রত্যাবাসন ঠেকাতেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিকল্পিত অঘটন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিতে নিহত বেড়ে ৭
অপহরণের ৪ দিন পর রোহিঙ্গা যুবক উদ্ধার  

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পাহাড় কাটতে মাটিচাপায় শ্রমিক নিহত

পাহাড় কাটতে মাটিচাপায় শ্রমিক নিহত

ফাইল ছবি

পুলিশ জানায়, সড়কের নির্মাণ কাজে বিকেলে দুই গাড়িতে চার শ্রমিক পাহাড় থেকে মাটি আনতে যান। গাড়িতে তোলার সময় পাহাড়ের মাটি ধসে দুইজন চাপা পড়েন। স্থানীয়রা শাহিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাঙামাটির লংগদুতে পাহাড় কাটতে গিয়ে মাটিচাপা পড়ে শাহিন আলম নামের এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন একজন।

রোববার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার লংগদু ইউনিয়নের বড়াদম বান্দরতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আমিন নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

১৮ বছর বয়সী শাহিন উপজেলার ভাইট্টাপাড়া গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, লংগদুর মুসলিম ব্লক থেকে মাইনী পর্যন্ত সড়কের নির্মাণ কাজে বিকেলে দুই গাড়িতে চার শ্রমিক পাহাড় থেকে মাটি আনতে যান। গাড়িতে তোলার সময় পাহাড়ের মাটি ধসে শাহিন ও নাছির চাপা পড়েন। মাটির নিচ থেকে নাছিরকে উদ্ধার করা গেলেও শাহিন চাপা পড়ে থাকেন।

স্থানীয়রা এসে শাহিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক আরিফুল ইসলাম তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আরিফুল বলেন, শাহিনের মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য সকালে মর্গে পাঠানো হবে।

পরিবার চাইলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
এই হামলার পেছনে কারা?
সংঘর্ষ নয়, ব্রাশফায়ারের পর কুপিয়ে হত্যা
প্রত্যাবাসন ঠেকাতেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিকল্পিত অঘটন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিতে নিহত বেড়ে ৭
অপহরণের ৪ দিন পর রোহিঙ্গা যুবক উদ্ধার  

শেয়ার করুন

‘সরকারি গাছ’ বেচে দিলেন চেয়ারম্যান

‘সরকারি গাছ’ বেচে দিলেন চেয়ারম্যান

রাজাপুরের বড়ইয়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

উপজেলার বন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন খান বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে দুটি কাটা গাছ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

ঝালকাঠির রাজাপুরের বড়ইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন সুরু মিয়া সরকারি বনায়নের গাছ বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তবে চেয়ারম্যান সুরু মিয়া গাছগুলো নিজের বলে দাবি করেছেন।

উপজেলার নিজামিয়া এলাকার গাছ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ছয়-সাত মাস আগে সুরু চেয়ারম্যানের কাছ থেকে আমি বেড়িবাঁধের ১০টি গাছ কিনি। ২টি কেটে নেয়ার পর আমি অসুস্থ থাকায় বাকিগুলো কাটা বন্ধ রাখি।

‘শুক্রবার আবার গাছ কাটা শুরু করি। শনিবার সকালে স্থানীয়রা জানান, এগুলো সরকারি গাছ। তারপর আমি কাটা গাছ ফেলে রেখে চেয়ারম্যানকে জানাই।’

বড়ইয়া এলাকার আশ্রব আলী, আব্দুল মন্নান খান, সুলতান মিয়া বলেন, ‘সুরু চেয়ারম্যান কয়েক মাস আগে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের কাছে চল্লিশকাহনিয়া বেড়িবাঁধ এলাকার বেশ কিছু গাছ বিক্রি করেন। স্থানীয়দের বাধায় গাছ কাটা বন্ধ করে চলে যান জাহাঙ্গীর।’

সামাজিক বনায়নের সুবিধাভোগীদের সভাপতি মহারাজ হোসেন বলেন, ‘কেটে ফেলা আকাশমণি গাছ চল্লিশকাহনিয়া সরকারি বনায়নের। গাছ কাটা বা বিক্রি করার এখতিয়ার নেই চেয়ারম্যানের। বিষয়টি আমি বন বিভাগকে জানিয়েছি।’

রাজাপুর উপজেলা বন বিভাগ নিউজবাংলাকে সরকারি গাছ বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

উপজেলার বন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন খান বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে দুটি কাটা গাছ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন সুরু মিয়া গাছের মালিক দাবি করে বলেন, ‘জায়গাও আমার, গাছও আমার। কেটে ফেলা আকাশমণি গাছ আমি রোপণ করেছিলাম। গত ছয়-সাত মাস আগে গাছগুলো বিক্রি করেছি।’

আরও পড়ুন:
এই হামলার পেছনে কারা?
সংঘর্ষ নয়, ব্রাশফায়ারের পর কুপিয়ে হত্যা
প্রত্যাবাসন ঠেকাতেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিকল্পিত অঘটন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিতে নিহত বেড়ে ৭
অপহরণের ৪ দিন পর রোহিঙ্গা যুবক উদ্ধার  

শেয়ার করুন

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৪

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৪

কিশোরগঞ্জে ভোটের পর সহিংসতায় আহত হয়েছেন সদর থানার এক কনস্টেবল। ছবি: নিউজবাংলা

ইসি সচিব জানান, আগের দুই ধাপের তুলনায় এবার সহিংসতা কম হয়েছে। এ কারণে তৃতীয় ধাপের এই নির্বাচন মডেল হতে পারে। এর পরপরই লক্ষ্মীপুর থেকে আসে প্রাণহানির প্রথম খবরটি। এরপর ভোটের পরে সংঘর্ষে মুন্সিগঞ্জে একজন ও নরসিংদীতে দুজন নিহতের খবর পাওয়া যায়। এ ছাড়া ভোট শেষে হট্টগোল হয় মেহেরপুর, কিশোরগঞ্জ ও গাইবান্ধায়।

নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিতে ভোট হয়েছে শান্তিপূর্ণ। তবে এই ভোটেও প্রাণ হারিয়েছেন চারজন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। এমনকি আওয়ামী লীগেরও এক প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন ভয়ভীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে।

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট চলাকালে সংঘর্ষ হয় অন্তত ১০ জেলায়। তবে বিকেল পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

ভোট শেষে রাজধানীতে নিজ কার্যালয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, সহিংসতাহীন নির্বাচন হয়েছে।

আগের দুই ধাপের তুলনায় এবার সহিংসতা কম হয়েছে জানিয়ে তৃতীয় ধাপের এই নির্বাচন মডেল হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর পরপরই লক্ষ্মীপুর থেকে আসে প্রাণহানির প্রথম খবরটি। এরপর নরসিংদী ও মুন্সিগঞ্জে ভোটের পরে সংঘর্ষে তিনজন নিহতের খবর পাওয়া যায়।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়নের এক কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সংঘর্ষ হয়।

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৪

আওয়ামী লীগ ও এর বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের এই সংঘর্ষে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সজিব হোসেন নিহত হয়েছেন।

ভোট শেষ হওয়া আগমূহুর্তে ইউনিয়নের নয়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে এই সংঘর্ষ হয়।

নিহত সজিব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহনাজ আক্তারের সমর্থক ছিলেন।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, ওই কেন্দ্রের সামনে বিকেল পৌনে চারটার দিকে নৌকা ও এর বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আমির হোসেন খানের সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে এটি সংঘর্ষ পর্যন্ত গড়ায়। সে সময় মাথায় আঘাত পান সজিব হোসেন। তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে চাঁদপুরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

নরসিংদীর রায়পুরার ভোটের পর সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন।

উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ফল ঘোষণার জেরে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। তবে এ ব্যাপারে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিহত মো. আরিফের বাড়ি শিবপুর যোশর জাঙ্গারটেক গ্রামে। তিনি ছিলেন অটোরিকশার চালক।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, দাইরের পার সরকারি বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনার পর ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদে আব্দুল ওহাবকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়। এই ফল মেনে নেননি ওহাবের সমর্থকরা। ওহাব উত্তেজিত হয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যান।

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৪

কিছুক্ষণ পর অর্ধশতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ১৬ রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও এলোপাতাড়ি গুলিতে পুলিশের ভাড়া করা সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. আরিফ নিহত হন। গ্রামবাসীসহ আহত হন অন্তত ১০ জন।

রায়পুরায় উত্তর বাহার নগর এলাকার একটি কেন্দ্রে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে রাজধানীর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

নিহতের নাম ফরিদ মিয়া বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক আব্দুল খান।

তিনি জানান, ওই ব্যক্তির সঙ্গে আসা লোকজন জানিয়েছেন যে নির্বাচনি সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হন ফরিদ।

নিহতের শ্যালক শাহ আলম বলেন, ‘আমার দুলাভাই ফরিদ মিয়া একজন রিকশাচালক। রায়পুরা উত্তর বাখর নগর এলাকায় দুই মেম্বারের মধ্যে প্রাইমারি স্কুলের বাইরে গোলাগুলি শুরু হয়। ওই গোলাগুলির মধ্যে সে পড়ে যায়। এতে তার মাথায় গুলি লাগে।’

মুন্সিগঞ্জে সদর ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় ভোটের পর গণনা চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সদরের বাংলাবাজার ইউনিয়নে সংঘর্ষে নিহত হন একজন।

ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বানিয়াল উত্তর ভূকৈলাশ সরকারি কাজিয়ারচর বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই সংঘর্ষ হয় বলে জানান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব।

তিনি জানান, বাংলাবাজারে কেন্দ্রের ফল ঘোষণায় দেরি হওয়ায় সংরক্ষিত নারী আসদের দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এ ঘটনা ঘটে।

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৪

নিহত ব্যক্তির নাম শাকিল মোল্লা। তার স্বজনরা জানান, বাড়ি শরীয়তপুর হলেও বাংলাবাজারে নানার বাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন শাকিল। সেখানে ভোটের সময় নারী সদস্য প্রার্থী রাবেয়া বেগমের সমর্থক হিসেবে কাজ করছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, ভোট শেষে উত্তর ভূকৈলাশ সরকারি কাজিয়ারচর বিদ্যালয়ে রাবেয়ার সমর্থকদের সঙ্গে আরেক প্রার্থী আরফা বেগমের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। সে সময় শাকিলকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষ। তাকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক শৈবাল বসাক জানান, শাকিলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার দেহে একাধিক জখম ছিল।

শৈবাল আরও জানান, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বেতকা ও দিঘিরপাড় ইউনিয়ন থেকে আহত অবস্থায় পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের সঙ্গে থাকা লোকজন জানিয়েছেন, ভোটের পর সহিংসতায় তারা আহত হয়েছেন।

ভোট শেষে হট্টগোল হয়েছে মেহেরপুর, কিশোরগঞ্জ ও গাইবান্ধায়।

মেহেরপুরের গাংনীর কাজিপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ‍্যালয় কেন্দ্রে ফল ঘোষণা দেয়ার আগমুহূর্তে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। কেন্দ্রের ভেতর আটকা পড়েন পোলিং অফিসারসহ অন্য কর্মকর্তারা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপু সরোয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৪

তিনি জানান, সদস্য প্রার্থী মো. আলেহীম ও রাকিব হোসেনের সমর্থকরা ফল ঘোষণার আগে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। তারা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। তাদের হটিয়ে দিতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালায় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আটক করা হয় আলেহীম ও রাকিবকে।

কিশোরগঞ্জ সদরের বৌলাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে ফল নিয়ে বের হওয়ার সময় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

এতে আহত হন সদর থানার কনস্টেবল মো. মহসীন ও গণপূর্তের হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। তাদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কনস্টেবল মহসীনকে নেয়া হয় শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

তবে কারা হামলা চালিয়েছে তা নিশ্চিত করা যায়নি।

নিউজবাংলার প্রতিবেদক হাসপাতালে উপস্থিত সদর থানার পুলিশের কাছ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ফল ঘোষণার পর কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন কয়েকজন চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা। এক ঘণ্টা পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৪

বটতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু রায়হান দোলন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ওই কেন্দ্রের ভোট আবার গণনা করা হবে। তাতেও সমাধান না আসলে আবার ভোট হবে ওই কেন্দ্রে।

রাজবাড়ির বালিয়াকান্দির সদর ইউনিয়নে ফল ঘোষণার পর পরাজিত সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।

সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাইককান্দি কেন্দ্রে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেকুজ্জামান ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, কেন্দ্রের পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় বিক্ষুব্ধরা একটি মাইক্রোবাস ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি আরও জানান, ওই ওয়ার্ডের সদস্যপদে আকরাম হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এরপর পরাজিত প্রার্থী মো. খোকনের সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে ব্যালট বাক্স কেড়ে নেয়। তাতেই সংঘর্ষ বাধে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন আহমেদ জানান, ব্যালটবাক্স পরে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা গেছে।

এ ছাড়া ভোট চলাকালে দিনভর বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন জেলায়। জাল ভোট ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের খবরও এসেছে কিছু জেলা থেকে।

আগের দুই ধাপের তুলনায় এবার সহিংসতা কম হয়েছে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘এবার সহিংসতা যাতে না হয়, তার জন্য আগে থেকেই বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগের চেয়ে বেশি তৎপর ছিল। প্রতিদ্ধন্দ্বী প্রার্থীরাও সহনশীল আচরণ করেছেন। এতে আগের চেয়ে বিচ্ছিন্ন ঘটনাও কম হয়েছে।

’বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও নির্বাচন কমিশন একটি সহিংসতার ঘটনা ঘটবে বলেও আশা করে না। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ এবং প্রার্থীদের সহনশীল এমন আচরণ অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে সহিংসতা আরও কমবে।’

এর আগে দ্বিতীয় ধাপের ভোটের আগে-পরে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু নরসিংদীতেই মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। এ ছাড়া মাগুরায় ৪, মেহেরপুরে ২ এবং কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে নিহত হয়েছেন ১ জন করে।

আরও পড়ুন:
এই হামলার পেছনে কারা?
সংঘর্ষ নয়, ব্রাশফায়ারের পর কুপিয়ে হত্যা
প্রত্যাবাসন ঠেকাতেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিকল্পিত অঘটন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিতে নিহত বেড়ে ৭
অপহরণের ৪ দিন পর রোহিঙ্গা যুবক উদ্ধার  

শেয়ার করুন

গৃহবধূকে অ্যাসিড নিক্ষেপ, দেবর-ননদের কারাদণ্ড

গৃহবধূকে অ্যাসিড নিক্ষেপ, দেবর-ননদের কারাদণ্ড

পিপি নির্ম্মল কান্তি ভদ্র জানান, শিখার দেবর শাকিলকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। আর ননদ সাবিনাকে ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

জামালপুরে আনোয়ারা বেগম শিখা নামের এক গৃহবধূকে অ্যাসিড নিক্ষেপের দায়ে তার দেবরকে ১০ বছর ও ননদকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের জ্যেষ্ঠ দায়রা জজ মো. জুলফিকার আলী খান রোববার দুপুরে এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ২৭ বছর বয়সী শাকিল আহম্মেদ বাবু ও ৩২ বছরের সাবিনা ইয়াসমিন শিলা জামালপুর সদরের বিনন্দেরপাড়া এলাকার সামসুল হকের সন্তান।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন জেলা দায়রা জজ আদালতের পিপি নির্ম্মল কান্তি ভদ্র এবং আসামিপক্ষে ছিলেন মো. ফজলুল হক।

নির্ম্মল কান্তি ভদ্র জানান, শিখার দেবর শাকিলকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। আর ননদ সাবিনাকে ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা বেগম শিখা বিনন্দেরপাড়া এলাকার আলাল উদ্দিনের মেয়ে। শ্বশুরবাড়িতে শিখাকে তার দেবর শাকিল আহম্মেদ বাবু ও ননদ সাবিনা ইয়াসমিন শিলা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।

২০১৪ সালের ১ অক্টোবর রাতে নিজ ঘরে টিভি দেখার সময় শাকিল ও সাবিনা ভাবি শিখাকে অ্যাসিড নিক্ষেপ করেন। এতে তার শরীরের পেছন ভাগ ও দুই পায়ের হাঁটু পর্যন্ত দগ্ধ হয়। দীর্ঘদিন তিনি রাজধানীর অ্যাসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এ ঘটনায় শিখার বাবা আলাল উদ্দিন জামালপুর সদর থানায় মামলা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
এই হামলার পেছনে কারা?
সংঘর্ষ নয়, ব্রাশফায়ারের পর কুপিয়ে হত্যা
প্রত্যাবাসন ঠেকাতেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিকল্পিত অঘটন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিতে নিহত বেড়ে ৭
অপহরণের ৪ দিন পর রোহিঙ্গা যুবক উদ্ধার  

শেয়ার করুন

পীরগঞ্জ থাকছে মেয়র শামীমের হাতেই

পীরগঞ্জ থাকছে মেয়র শামীমের হাতেই

রংপুরের পীরগঞ্জ পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আবু সালেহ মো. তাজিমুল ইসলাম শামীম। ছবি: নিউজবাংলা

নির্বাচনে শামীমের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সুলতান মিয়া পেয়েছেন ২ হাজার ৬৬০ ভোট। আর লাঙ্গল প্রতীকে জাহেদুল ইসলাম পেয়েছেন ১ হাজার ১৪২ ভোট। 

রংপুরের পীরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র হয়েছেন আবু সালেহ মো. তাজিমুল ইসলাম শামীম। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার বড় ভাইয়ের ছেলে।

রোববার এ পৌরসভায় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ৭ হাজার ৭০৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন শামীম। রাত ৮টার দিকে রংপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বেসরকারি এ ফল ঘোষণা করেন।

নির্বাচনে শামীমের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সুলতান মিয়া পেয়েছেন ২ হাজার ৬৬০ ভোট। আর লাঙ্গল প্রতীকে জাহেদুল ইসলাম পেয়েছেন ১ হাজার ১৪২ ভোট।

শামীম ২০১৬ সালে প্রথম পীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন:
এই হামলার পেছনে কারা?
সংঘর্ষ নয়, ব্রাশফায়ারের পর কুপিয়ে হত্যা
প্রত্যাবাসন ঠেকাতেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিকল্পিত অঘটন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিতে নিহত বেড়ে ৭
অপহরণের ৪ দিন পর রোহিঙ্গা যুবক উদ্ধার  

শেয়ার করুন

মুন্সিগঞ্জে ভোট শেষে সংঘর্ষ, নিহত ১

মুন্সিগঞ্জে ভোট শেষে সংঘর্ষ, নিহত ১

মুন্সিগঞ্জের বাংলাবাজারে ভোটের পর সংঘর্ষে নিহত হন এই যুবক। ছবি: নিউজবাংলা

মুন্সিগঞ্জের বাংলাবাজারে ভোটের পর সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে।

বাংলাবাজার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বানিয়াল উত্তর ভূকৈলাশ সরকারি কাজিয়ারচর বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনার পর সন্ধ্যায় এই সংঘর্ষ হয়।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বাংলাবাজারে কেন্দ্রের ফল ঘোষণায় দেরি হওয়ায় সংরক্ষিত নারী আসদের দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম শাকিল মোল্লা। তার স্বজনরা জানান, বাড়ি শরীয়তপুর হলেও বাংলাবাজারে নানার বাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন শাকিল। সেখানে ভোটের সময় নারী সদস্য প্রার্থী রাবেয়া বেগমের সমর্থক হিসেবে কাজ করছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, ভোট শেষে উত্তর ভূকৈলাশ সরকারি কাজিয়ারচর বিদ্যালয়ে রাবেয়ার সমর্থকদের সঙ্গে আরেক প্রার্থী আরফা বেগমের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। সে সময় শাকিলকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষ। তাকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক শৈবাল বসাক জানান, শাকিলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার দেহে একাধিক জখম ছিল।

ইউপির তৃতীয় ধাপের ভোটের দিন এ নিয়ে দুজনের প্রাণহানি হলো। এর আগে ভোট শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও এর বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সজিব হোসেন নিহত হন।

এ ছাড়া ভোট চলাকালে দিনভর বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন জেলায়। জাল ভোট ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের খবরও এসেছে কিছু জেলা থেকে।

তবে নির্বাচন কমিশন সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার ভোট শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তৃতীয় ধাপের এই নির্বাচন সহিংসতা নিরসনের মডেল হতে পারে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এবারের ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে এবং ভোটাররাও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছেন।’

এর আগে দ্বিতীয় ধাপের ভোটের আগে-পরে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু নরসিংদীতেই মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। এ ছাড়া মাগুরায় ৪, মেহেরপুরে ২ এবং কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে নিহত হয়েছেন ১ জন করে।

আরও পড়ুন:
এই হামলার পেছনে কারা?
সংঘর্ষ নয়, ব্রাশফায়ারের পর কুপিয়ে হত্যা
প্রত্যাবাসন ঠেকাতেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিকল্পিত অঘটন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিতে নিহত বেড়ে ৭
অপহরণের ৪ দিন পর রোহিঙ্গা যুবক উদ্ধার  

শেয়ার করুন

হাতি হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু হাতির আক্রমণে

হাতি হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু হাতির আক্রমণে

বন্য হাতি। ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শফিকুল বলেন, ‘জানে আলম হাতি হত্যা মামলার আসামি। শনিবার তিনি হাতির আক্রমণে মারা গেছেন। তার মরদেহ বন বিভাগ শনাক্ত করেছে। এরই মধ্যে তার দাফন শেষ হয়েছে।’

চট্টগ্রামে বৈদ্যুতিক ফাঁদ ব্যবহার করে হাতি হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে ওই প্রাণীর আক্রমণেই।

চকরিয়া উপজেলার জঙ্গল হারবাং এলাকার জানে আলম নামে ওই ব্যক্তি শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাতির আক্রমণে মারা যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।

রোববার রাত ১০টার দিকে তিনি বলেন, ‘জানে আলম হাতি হত্যা মামলার আসামি। শনিবার তিনি হাতির আক্রমণে মারা গেছেন। তার মরদেহ বন বিভাগ শনাক্ত করেছে। এরই মধ্যে তার দাফন শেষ হয়েছে।’

বন কর্মকর্তা শফিকুল জানান, গত ১৩ নভেম্বর জঙ্গল হারবাং এলাকায় বৈদ্যুতিক ফাঁদ ব্যবহার করে ১৫ বছরের একটি পুরুষ হাতিকে হত্যা করা হয়। ময়নাতদন্তেও বৈদ্যুতিক ফাঁদ দিয়ে হাতিটি হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় হওয়া মামলায় জানে আলম ২ নম্বর আসামি ছিলেন।

হাতির অভয়ারণ্য ও বনাঞ্চলে বন্য প্রাণীর প্রাকৃতিক খাদ্যশৃঙ্খল নষ্ট হওয়ায় সম্প্রতি চট্টগ্রাম অঞ্চলে মানুষের সঙ্গে স্থলের সর্ববৃহৎ প্রাণীটির সংঘাত বেড়েছে।

খাবারের খোঁজে হাতিরা লোকালয়ে এসে যেমন তাণ্ডব চালাচ্ছে, আবার মানুষও সুযোগ পেলে তাদের হত্যা করছে।

বন বিভাগের তথ্যে, ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দেশে মৃত্যু হয়েছে ৭৬টি বন্য হাতির। তবে প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, গত দুই বছরেই মৃত্যু হয়েছে ৪০টি বন্য হাতির। এর মধ্যে ২০২০ সালে ২২টি ও ২০২১ সালের সাড়ে ১০ মাসে ১৮টি হাতির মৃত্যুর হয়েছে। চলতি নভেম্বরেই মারা গেছে ৭টি।

এমন পরিস্থিতিতে গত ২২ নভেম্বর হাতির নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিতে বৃহত্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ সারা দেশে বন বিভাগ থেকে হাতি চলাচলের জন্য চিহ্নিত ১২টি করিডর সংরক্ষণে নির্দেশনা দিয়েছে উচ্চ আদালত।

আরও পড়ুন:
এই হামলার পেছনে কারা?
সংঘর্ষ নয়, ব্রাশফায়ারের পর কুপিয়ে হত্যা
প্রত্যাবাসন ঠেকাতেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিকল্পিত অঘটন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিতে নিহত বেড়ে ৭
অপহরণের ৪ দিন পর রোহিঙ্গা যুবক উদ্ধার  

শেয়ার করুন