স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দরপতন বেশি

স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দরপতন বেশি

পুঁজিবাজারে টানা সূচক পতনে হতাশ হয়ে পড়েছেন অনেক বিনিয়োগকারী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

গত সেপ্টেম্বর থেকে পুঁজিবাজারে যে দর সংশোধন শুরু হয়েছে, তাতে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে লোকসানি কোম্পানিগুলো। এই কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর আগের দুই থেকে তিন মাসে নানা গুঞ্জনে বাড়ছিল। একইভাবে বেশির ভাগ স্বল্পমূলধনি কোম্পানি ১৬ থেকে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত দর হারিয়েছে।

টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা দরপতনে পুঁজিবাজারে বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ার দরে খুব একটা প্রভাব পড়েনি। বিপরীতে স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে ব্যাপকভাবে। বিমা খাতেরও বেশ কিছু কোম্পানি উল্লেখযোগ্য হারে দর হারিয়েছে।

গত জুনের শেষ সপ্তাহ থেকে নানা গুজব ও গুঞ্জনে স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর অস্বাভাবিক হারে বাড়ছিল। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কয়েকটি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করার পর দু-একটি উৎপাদনে এসেছে, কয়েকটি উৎপাদন শুরুর কাছাকাছি অবস্থানে আছে।

কিন্তু এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে যাচাই-বাছাই ছাড়াই লোকসানি প্রায় সব কোম্পানির শেয়ার দর টানা বাড়তে থাকার মধ্যে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক এমনকি বিএসইসির কমিশনারদের কেউ কেউ সতর্ক করেছেন। কিন্তু কোনো কথাই যেন শুনতে চাইছিলেন না বিনিয়োগকারীরা।

লোকসানি কোম্পানির পাশাপাশি স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর পুরোনো একটি আলোচনা আবার সামনে আসার পর শুরু হয় আরেক হুলুস্থুল। এসব কোম্পানির মূলধন বাড়াতে হলে শেয়ার ইস্যু করতে হবে- এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর হুমড়ি খেয়ে পড়েন বিনিয়োগকারীদের একাংশ। কোম্পানির আয়, মুনাফা, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কী- এসব বিষয় যাচাই-বাছাইয়ের চেয়ে কেবল শেয়ার সংখ্যা কম- এই বিবেচনাতেই ক্রমাগতভাবে বেশি দামে শেয়ার কিনে গেছেন হাজার হাজার বিনিয়োগকারী।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বাজার সংশোধনে মূলত এই দুই ধরনের কোম্পানির বিনিয়োগকারীরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখন পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গ্রুপে হাহাকার করছেন মূলত তারাই।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ সপ্তাহে সূচকের পতন এমন কিছু হয়নি। বরং এবারই দর সংশোধনে সূচক বেড়ে গিয়ে বেশির ভাগ শেয়ারের দরপতনের প্রবণতা দেখা গেছে। এর কারণ, বড় মূলধনি কয়েকটি কোম্পানির উত্থান।

১২ সেপ্টেম্বর লেনদেন শুরুর দিন সূচক ছিল ৭ হাজার ২৫৮ পয়েন্ট। বর্তমানে তা অবস্থান করছে ৭ হাজার ৪৬ পয়েন্টে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবারের আগের ৭ দিনই সূচক পড়েছে ৩৪৭ পয়েন্ট।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক রকিবুর রহমান এই বিষয়টি থেকে শিক্ষা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যেসব কোম্পানি ভালো রিটার্ন দিচ্ছে, সেগুলোতে আগ্রহী হওয়া উচিত। তাহলে যখন পুঁজিবাজারে সূচকের পতন হবে বা মন্দা দেখা যাবে, তখন লোকসান না-ও হতে পারে। হলেও সেটি দ্রুত উঠে আসবে।’

তবে দরপতন নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ারও দরকার নেই বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘শেয়ারের দাম বাড়বে-কমবে, এটা স্বাভাবিক বিষয়। খারাপ বা স্বল্প মূলধনি কোম্পানি তো পুঁজিবাজারের বাইরের কোনো কোম্পানি না।’

স্বল্প মূলধনিতে দরপতন যে হারে

ওটিসি থেকে ফেরা পেপার প্রসেসিংয়ের দর টানা বেড়েই চলছিল। দর সংশোধন শুরুর আগের দিন কোম্পানিটির শেয়ার দর ২৩৫ টাকা ৩০ পয়সায় উঠে যায়। পাঁচ সপ্তাহে সেই শেয়ার দর এখন ১৩৪ টাকা ৮০ পয়সা। কমেছে ১০০ টাকা ৫০ পয়সা। ৪২.৭১ শতাংশ দর হারিয়েছে কোম্পানিটি।

ওটিসিফেরত আরেক কোম্পানি মনোস্পুল পেপারের দর এই সময়ে ২২৫ টাকা থেকে নেমে এসেছে ১৪৮ টাকা ৯০ পয়সায়। কোম্পানিটি দর হারিয়েছে ৩৩.৮২ শতাংশ।

দেশ গার্মেন্টসের দর ২৪২ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১৬১ টাকা ৮০ পয়সা। কমেছে ৩৩.১৪ শতাংশ।

এই সময়ে প্রকৌশল খাতের স্বল্প মূলধনি মুন্নু অ্যাগ্রোর শেয়ার দর ৮৬১ টাকা থেকে নেমেছে ৫৯৯ টাকা ৩০ পয়সায়। কমেছে ৩০.৩৯ শতাংশ।

একই গ্রুপের আরেক কোম্পানি মুন্নু সিরামিকের দর ১৭৭ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১২৩ টাকা ৭০ পয়সা। কমেছে ৩০.৪৬ শতাংশ।

খাদ্য খাতে অ্যাপেক্স ফুডের শেয়ার দর এই সময়ে ১৮৭ টাকা ৬০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৩২ টাকা ৬০ পয়সা। কমেছে ২৯.৩১ শতাংশ।

চামড়া খাতে লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের দর এই সময়ে ৭৯ টাকা ৬০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৫৭ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ২৮.১৪ শতাংশ।

২০১৯ সালের পর আর হিসাব না দেয়া লিব্রা ইনফিউশনের শেয়ার দর এই সময়ে ১ হাজার ৭৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৭৭৮ টাকা ২০ পয়সায় নেমে এসেছে। কমেছে ২৭.৫২ শতাংশ।

আনলিমা ইয়ার্নের শেয়ারদর গত এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বাড়তে থাকে। ৩১ টাকা থেকে শেয়ারদর গত ২২ আগস্ট উঠে যায় ৫২ টাকা ৯০ পয়সা। এরপর থেকে শুরু হয় পতন। এই কোম্পানিটির বর্তমান দর ৩৮ টাকা ৭০ পয়সা। সংশোধন শুরুর পর থেকে কমেছে ২৬.৮৪ শতাংশ। এর মধ্যে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কমেছে ১৬.০৫ শতাংশ।

প্রকৌশল খাতে রংপুর ফাউন্ড্রির শেয়ার দর এই সময়ে ১৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৪১ টাকা ৩০ পয়সা। কমেছে ২৫.৪৩ শতাংশ।

খাদ্য খাতে বঙ্গজের শেয়ার দর এই সময়ে ১৫৯ টাকা ৬০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১১৯ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ২৫.৩১ শতাংশ।

আমান কটনের শেয়ার দর এই সময়ে ৪৪ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৩৫ টাকা ১০ পয়সা। কমেছে ২১.৮২ শতাংশ।

প্রকৌশল খাতে কিউ অ্যান্ড কিউর শেয়ার দর এই সময়ে ৩৭০ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৯২ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ২১.১৭ শতাংশ।

ফুওয়াং ফুডের শেয়ার দর এই সময়ে ২২ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৭ টাকা ৫০ পয়সা। কমেছে ২১.১৭ শতাংশ।

চামড়া খাতের অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের শেয়ার দর এই সময়ে ৩৬৬ টাকা থেকে কমে হয়েছে ২৮৯ টাকা ৩০ পয়সা। কমেছে ২১.১২ শতাংশ।

অ্যাপেক্স স্পিনিংয়ের শেয়ার দর এই সময়ে ১৫৬ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১২৪ টাকা ৪০ পয়সা। কমেছে ২০.৪৬ শতাংশ।

রহিম টেক্সটাইলের দর ৩২৭ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৬০ টাকা ৯০ পয়সা। কমেছে ২০.৪০ শতাংশ।

এএমসিএল প্রাণের শেয়ার দর এই সময়ে ৩০৭ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৪৬ টাকা। কমেছে ১৯.৯৪ শতাংশ।

ফাইন ফুডের শেয়ার দর এই সময়ে ৫৯ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৪৭ টাকা ৭০ পয়সা। কমেছে ১৯.৬৯ শতাংশ।

রহিমা ফুডের শেয়ার দর এই সময়ে ৩৬৪ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৯৪ টাকা ৪০ পয়সা। কমেছে ১৯.১৬ শতাংশ।

পাট খাতের সোনালী আঁশের শেয়ার দর এই সময়ে ৫৩৬ টাকা ৬০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৪৪০ টাকা ৭০ পয়সা। কমেছে ১৭.৮৭ শতাংশ।

বস্ত্র খাতের তমিজউদ্দিন টেক্সটাইলের দর ১৮৫ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৫৩ টাকা ৬০ পয়সা। কমেছে ১৭.২৮ শতাংশ।

মুন্নু ফেব্রিক্সের দর ৩১ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৬ টাকা ৪০ পয়সা। কমেছে ১৬.১৯ শতাংশ।

স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দরপতন বেশি

বড় মূলধনি ছয়টিরও দরপতন

ফুওয়াং সিরামিকের দর ২৩ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৭ টাকা ৯০ পয়সা। কমেছে ২৫.১০ শতাংশ।

স্বল্প মূলধনি নয়, লোকসানেও নয়, এমন কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে এমএল ডায়িং। কোম্পানিটির দর এই সময়ে ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৬ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ২৪.০৫ শতাংশ।

বড় মূলধনির বসুন্ধরা পেপার মিলসও এই সময়ে বেশ ভালো দর হারিয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৫৩ টাকা ৬০ পয়সা থেকে নেমে এসেছে ৪৫ টাকা ১০ পয়সায়। কমেছে ১৫.৮৫ শতাংশ।

বহুজাতিক কোম্পানি হাইডেলবার্গ সিমেন্টও এই সময়ে বেশ ভালো দর হারিয়েছে। শেয়ার দর ৩৭৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে এসেছে ৩১৯ টাকা ৬০ পয়সায়। কমেছে ১৪.৩৩ শতাংশ।

সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দরের পতন হয়েছে অন্য ইস্যুতে। ২০১৯ সালের ঘোষণা করা নগদ লভ্যাংশ বিতরণ না করায় কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।

এমনিতে সংশোধনে থাকার মধ্যে এ ঘটনায় কোম্পানিটি দর হারিয়েছে ৩১.৩৯ শতাংশ। শেয়ার দর ২৫ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৭ টাকা ৭০ পয়সা।

এক বছর পর লভ্যাংশ ঘোষণার পর গত মে মাস থেকে কেয়া কসমেটিকসের শেয়ার দরে উল্লম্ফন দেখা দেয়। ৫ টাকা ১০ পয়সা থেকে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়ে ১১ টাকা ২০ পয়সা হয়ে যায় আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে। এরপর শুরু হয় দরপতন। এর মধ্যে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া সংশোধনে শেয়ার দর কমেছে ২২.৬৮ শতাংশ। শেয়ার দর ৯ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ৫০ পয়সা।

স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দরপতন বেশি

লোকসানি কোম্পানির দরপতন আরও বেশি

প্রকৌশল খাত

মালিকানা বদলের গুঞ্জনে গত এপ্রিলে ৫ টাকা ১০ পয়সা থেকে অ্যাপোলো ইস্পাতের শেয়ার দর আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে ১৪ টাকা ৮০ পয়সায় পৌঁছে যায়। কিন্তু সেই গুঞ্জন সত্য নয় বলে একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর থেকে শুরু হয় দরপতন। সেই কোম্পানিটির শেয়ার দর এখন কমতে কমতে নেমেছে ৯ টাকা ৮০ পয়সায়। কমেছে ৩৩.৭৮ শতাংশ।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে ২২.২২ শতাংশ।

বন্ধ থাকা কোম্পানির উৎপাদন চালু হবে, এমন ঘোষণায় উচ্চমূল্যে শেয়ার কিনে বিপাকে পড়েছেন আজিজ পাইপের শেয়ারধারীরা।

গত ২৯ জুলাই শেয়ার দর ছিল ১০০ টাকা ১০ পয়সা। গত ১৯ সেপ্টেম্বর উঠে যায় ১৬৯ টাকায়। সেখান থেকে পড়তে পড়তে এখন দাম দাঁড়িয়েছে ১১৩ টাকা ৮০ পয়সা। কমেছে ৩২.৬৬ শতাংশ।

একই চিত্র আরএসআরএম স্টিলের ক্ষেত্রে। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর উৎপাদন চালুর প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে কোম্পানিটির শেয়ার দর গত ২৭ জুলাই ২১ টাকা থেকে বেড়ে ৩৬ টাকা ৮০ পয়সা হয়ে যায় সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। ১২ সেপ্টেম্বর দর সংশোধন শুরুর আগের দিন দাম ছিল ৩৫ টাকা। এর মধ্যে উৎপাদন চালুর ঘোষণা আসে। কিন্তু এরপর দাম টানা পড়তে থাকে। এই কয়দিনে শেয়ারপ্রতি ১০ টাকা ২০ পয়সা বা ২৯.১৪ শতাংশ কমেছে দাম। গত বৃহস্পতিবার দাম দাঁড়িয়েছে ২৪ টাকা ৮০ পয়সা।

করোনার কারণে ব্যবসা প্রায় হারিয়ে ফেলা ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের শেয়ারদর গত মে মাসের শুরু থেকে টানা বাড়ছিল। সে সময় শেয়ারদর ছিল ৮ টাকা ৭০ পয়সা। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে তা গিয়ে ঠেকে ১৭ টাকা ৫০ পয়সায়। এরপর থেকে শুরু হয় সংশোধন। শেয়ারদর কমতে কমতে এখন নেমেছে ১২ টাকা ৬০ পয়সায়।

সংশোধন শুরু হওয়ার পর থেকে কমেছে ৪ টাকা ৯০ পয়সা বা ২৮ শতাংশ। এর মধ্যে গত ১২ সেপ্টেম্বরের দাম থেকে কমেছে ২০.৭৫ শতাংশ।

রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি রেনউইক যগেশ্বরের শেয়ার দর ১২ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে নেমে এসেছে ৯৯৮ টাকা ৯০ পয়সায়। কমেছে ২৫.৫২ শতাংশ।

আরেক রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ন্যাশনাল টিউবের দর এই সময়ে ১২৭ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৯৬ টাকা। কমেছে ২৪.৮৮ শতাংশ।

আরেক রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি ইস্টার্ন কেব্‌লসের শেয়ার দর এই সময়ে ১৭০ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১২৮ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ২৪.৭৬ শতাংশ।

লোকসানি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি এটলাস বাংলাদেশের শেয়ার দর এই সময়ে ১৩৫ টাকা ৮০ পয়সা থেকে হয়েছে ১০৯ টাকা। কমেছে ১৯.৭৩ শতাংশ।

স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দরপতন বেশি

খাদ্য খাত

এই খাতের মধ্যে সরকারি দুই চিনিকলের শেয়ারেও ব্যাপক দরপতন হয়েছে। এর মধ্যে বেশি কমেছে শ্যামপুর সুগারের শেয়ার দর, যেটির দাম সংশোধন শুরুর আগে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল।

শ্যামপুর সুগারের শেয়ার দর গত ৫ আগস্টও ছিল ৬২ টাকা ২০ পয়সা। আকাশচুম্বী লোকসানে জর্জর কোম্পানিটির এই দরই ছিল অস্বাভাবিক। তারপরেও সেখান থেকে এক লাফে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে উঠে যায় ১৪১ টাকা ২০ পয়সায়। এই কোম্পানির দর সংশোধন পুঁজিবাজারে দর সংশোধন শুরুর এক সপ্তাহ আগেই শুরু হয়। এই কয়দিনে শেয়ার দর কমেছে ৪০.৭২ শতাংশ। শেয়ার দর ১৪১ টাকা ২০ পয়সা থেকে নেমে এসেছে ৮৩ টাকা ৭০ পয়সায়।

এর মধ্যে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে পাঁচ সপ্তাহে কমেছে ৩১.৯৫ শতাংশ।

একই চিত্র জিলবাংলা সুগারের ক্ষেত্রে। গত ১৭ জুন কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ৮৬ টাকা ১০ পয়সা। এই দরই অস্বাভাবিক হিসেবে ধরা হতো। কিন্তু আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে দর বেড়ে হয়ে যায় ২০৯ টাকা। সর্বোচ্চ এই অবস্থান থেকে কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত দর হারিয়েছে ৩৮.২৭ শতাংশ।

এর মধ্যে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কোম্পানিটির শেয়ার দর হারিয়েছে ২১.৫৮ শতাংশ।

বিচ হ্যাচারির দর গত ১২ সেপ্টেম্বর থেমে কমেছে ২৭.৩০ শতাংশ। এক বছরের বেশি উৎপাদন বন্ধ রাখার পর সম্প্রতি আবার চালু হওয়াকে কেন্দ্র করে এই কোম্পানির শেয়ার দরে উত্থান হয়েছিল। এই সময়ে দাম কমেছে ৭ টাকা ৪০ পয়সা বা ২৭.৩০ শতাংশ। বর্তমান দাম ১৯ টাকা ৭০ পয়সা।

বছরের পর বছর লভ্যাংশ না দিলেও প্রায় প্রতিবছর উত্থান হওয়া মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ও মেঘনা পেটও দর হারিয়েছে এই সময়ে।

এর মধ্যে মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের শেয়ার দর ২৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে নেমে এসেছে ১৬ টাকা ৭০ পয়সায়। কমেছে ২৭.৭০ শতাংশ।

মেঘনা পেটের দর ২৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৩ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ২১.৩৫ শতাংশ।

জেমিনি সি ফুডের শেয়ার দর এই সময়ে ২৩৩ টাকা ৭০ পয়সা থেমে নেমে এসেছে ১৮৬ টাকায়। কমেছে ২০.৪১ শতাংশ।

গোল্ডেন হারভেস্ট অ্যাগ্রোর শেয়ার দর এই সমেয় ২১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৭ টাকা ৮০ পয়সা। কমেছে ১৭.৯৭ শতাংশ।

স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দরপতন বেশি

চামড়া ও সিরামিক

লোকসানি স্বল্প মূলধনি কোম্পানি সমতা লেদার ফ্লোর প্রাইস উঠে যাওয়ার পর ১০৬ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ২৭ জুন নেমে আসে ৬৯ টাকা ৭০ পয়সা। কিন্তু এরপর থেকে টানা উত্থান শুরু হয়। দর সংশোধন শুরুর আগে ৯ সেপ্টেম্বর দর উঠে যায় ১২৮ টাকায়। দাম কমতে কমতে এখন নেমে এসেছে ৭৭ টাকা ২০ পয়সায়। কমেছে ৩৯.৬৮ শতাংশ।

স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকের শেয়ার দর এই সময়ে ২৬২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে হয়েছে ১৮১ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ৩০.৯৭ শতাংশ।

বিবিধ খাত

এই খাতের তিন লোকসানি কোম্পানি ব্যাপকভাবে দর হারিয়েছে। এর মধ্যে সাভার রিফ্র্যাকটরিজের শেয়ার দর এই সময়ে ২৯৯ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২০৭ টাকা ৭০ পয়সা। কমেছে ৩০.৭৪ শতাংশ।

মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার দর এই সময়ে ৪২ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৩১ টাকা ৮০ পয়সা। কমেছে ২৪.৬৪ শতাংশ।

জি কিউ বলপেনের শেয়ার দর এই সময়ে ১৪১ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা। কমেছে ২৩.৩২ শতাংশ।

স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দরপতন বেশি

আর্থিক খাত

এই খাতের লোকসানি যেসব কোম্পানির শেয়ার দর ক্রমাগত বেড়ে চলেছিল নানা গুঞ্জনে, তার সবগুলোর ব্যাপক দরপতন হয়েছে এই সময়ে।

ফারইস্ট ফাইন্যান্সের শেয়ার দর এই সময়ে ৯ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৬ টাকা ১০ পয়সা। কমেছে ৩৭.৭৫ শতাংশ।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ফাইন্যান্সের শেয়ার দর এই সময়ে ১০ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ৫০ পয়সা। কমেছে ২৭.১৮ শতাংশ।

ফাস ফাইন্যান্সের শেয়ার দর এই সময়ে ১০ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ৯০ পয়সা। কমেছে ২৬.৮৫ শতাংশ।

বিআইএফসির শেয়ার দর এই সময়ে ৮ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৬ টাকা ৩০ পয়সা। কমেছে ২৫ শতাংশ।

ফার্স্ট ফাইন্যান্সের শেয়ার দর এই সময়ে ৮ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ১০ পয়সা। কমেছে ২০.২২ শতাংশ।

বস্ত্র খাত

এই খাতের বন্ধ ও লোকসানি কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর গত মে মাস থেকেই অস্বাভাবিক হারে বেড়ে চলছিল। সেপ্টেম্বর থেকে টানা সংশোধনে ক্ষতির মুখে পড়েছেন এই খাতের অন্তত ১২টি কোম্পানির শেয়ারধারীরা।

মিথুন নিটিংয়ের শেয়ার দর এই সময়ে ২২ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১৪ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ৩৫.৪৫ শতাংশ।

রিজেন্ট টেক্সটাইলের শেয়ার দর এই সময়ে ১৬ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১১ টাকা ৩০ পয়সা। কমেছে ২৯.৩৭ শতাংশ।

বন্ধ থাকা তুংহাই স্পিনিংয়ের শেয়ার দর গত এপ্রিলের শেষেও ছিল ৩ টাকার নিচে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে তা উঠে যায় ৯ টাকায়। ১৬ আগস্ট থেকেই এর দরপতন শুরু। এই সময়ে কমেছে ২৬.৬৬ শতাংশ। বর্তমান দাম ৬ টাকা ৬০ পয়সা।

বন্ধ থাকা স্টাইলক্রাফটে উৎপাদন চালু হবে, এমন ঘোষণায় লাফ দেয়ার পর উচ্চমূল্যে শেয়ার কিনে লোকসানে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। বাজার সংশোধনের এই সময়ে শেয়ার মূল্য ১৯৭ টাকা থেকে নেমে এসেছে ১৪৬ টাকা ৬০ পয়সায়। কমেছে ২৫.৫৮ শতাংশ।

নুরানী টেক্সটাইলের শেয়ার দর এই সময়ে ১০ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ৯০ পয়সা। কমেছে ২৩.৩০ শতাংশ।

জাহিন টেক্সটাইলের শেয়ার দর এই সময়ে ১০ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭ টাকা ৮০ পয়সা। কমেছে ২২.৭৭ শতাংশ।

রিংসাইন টেক্সটাইল মিলসের শেয়ার দর এই সময়ে ১৪ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১১ টাকা পয়সা। কমেছে ২১.৯৮ শতাংশ।

আরএন স্পিনিংয়ের শেয়ার দর এই সময়ে ৭ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৬ টাকা ২০ পয়সা। কমেছে ২১.৫১ শতাংশ।

জাহিন স্পিনিংয়ের শেয়ার দর এই সময়ে ১১ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৮ টাকা ৯০ পয়সা। কমেছে ১৯.৮১ শতাংশ।

তাল্লু স্পিনিংয়ের শেয়ার দর এই সময়ে ১৪ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১১ টাকা ৪০ পয়সা। কমেছে ১৯.৭১ শতাংশ।

সোনারগাঁও টেক্সটাইলের শেয়ার দর এই সময়ে ২৬ টাকা ৩০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২১ টাকা ৩০ পয়সা। কমেছে ১৯.০১ শতাংশ।

স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি কোম্পানির দরপতন বেশি

পাট খাত

এই খাতের তিনটি কোম্পানিই ব্যাপকভাবে দর হারিয়েছে। এর মধ্যে লোকসানি দুটির মধ্যে নর্দার্ন জুটের শেয়ার দর ৪০৬ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৮৬ টাকা। কমেছে ২৯.৫৭ শতাংশ।

জুট স্পিনার্সের দর ১৮০ টাকা ৭০ পয়সা থেকে নেমে এসেছে ১২৮ টাকায়। কমেছে ২৯.১৬ শতাংশ।

কাগজ খাত

এই খাতের দুই লোকসানি কোম্পানি হাক্কানি পাল্পের শেয়ার দর ৯১ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৬৪ টাকা ৫০ পয়সা। কমেছে ২৯.৪৩ শতাংশ।

কেপিপিএলের দর ১৬ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৩ টাকা ৩০ পয়সা। কমেছে ১৭.৯০ শতাংশ।

বিমায় দরপতন কেমন

গত জুনের মাঝামাঝি থেকে সংশোধনে থাকা বিমা খাত সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে আরও দর হারিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, ১৯.২৪ শতাংশ। ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স দর হারিয়েছে ১৯.০৯ শতাংশ।

রূপালী লাইফ ১৭.৭৩ শতাংশ, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স ১৭.২৮, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ১৫.৯৯, এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের দর ১৫.৮৬, প্রোগ্রেসিভ লাইফের দর ১৫.৬৯, পদ্মা লাইফ ১৫.৮৪ শতাংশ দর হারিয়েছে।

এ ছাড়া পূরবী জেনারেল, সোনার বাংলা, প্রগতি লাইফ, সিটি জেনারেল, পাইওনিয়ার, নর্দার্ন, পিপলস, সানলাইফের দর কমেছে ১৪ শতাংশের বেশি।

ইসলামী, রিপাবলিক, ফিনিক্স, রিলায়েন্স ও সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর কমেছে ১৩ শতাংশের বেশি।

মেঘনা লাইফের দর এই সময়ে ২৪.৭১ শতাংশ কমলেও এটির লভ্যাংশের ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার সমন্বয় হয়েছে।

আরও পড়ুন:
আয় বাড়াল ইসলামী ব্যাংকও
উত্থানে ফিরল পুঁজিবাজার, নেতৃত্বে বেক্সিমকো গ্রুপ
পুঁজিবাজারে পতনে একটি হাউসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বৈঠক ডাকার খবরেও আরও পতনে আতঙ্ক
পতন ঠেকাতে বৈঠক ডেকেছে বিএসইসি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক

বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক

আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

‘ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ এ পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের বিষয়ে বিদ্যমান কতিপয় আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়েও বিএসইসি প্রতিনিধি দলকে স্পষ্টীকরণ করা হয়। তবে এসব বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসির বৈঠকের পর সংস্থাটির পক্ষ থেকে দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পুঁজিবাজারে উত্থান হওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেয়া একটি বক্তব্যে আবার তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মঙ্গলবারের বৈঠকে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। অবশ্য সেই বৈঠকের পর বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদও বলেননি সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি নীতিগতভাবে একমত হওয়ার কথা বলেছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক জিএম আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘সভায় পুঁজিবাজারে তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

‘ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ এ পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের বিষয়ে বিদ্যমান কতিপয় আইনি সীমাবদ্ধতার বিষয়েও বিএসইসি প্রতিনিধি দলকে স্পষ্টীকরণ করা হয়। তবে এসব বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।’

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির এই বৈঠকের প্রতি বিনিয়োগকারীরা অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন দুই ইস্যুতে। প্রথমত ব্যাংকের শেয়ার কেনার বিনিয়োগসীমা ক্রয়মূল্যে নাকি বাজারমূল্যে বিবেচনা করা হবে; দ্বিতীয়ত, বন্ডের বিনিয়োগ ব্যাংকের এই বিনিয়োগসীমার বাইরে থাকবে কি না।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কেউ কথা বলেননি। তবে বিএসইসির পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেয়া কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এক্সপোজার লিমিট নিয়ে আমরা নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পেরেছি। আমরা এটা রিভিউ করব। গ্লোবালি এক্সপোজার লিমিট কস্ট প্রাইজের ভিত্তিতে করা হয়। এটি টেকনিক্যাল বিষয়, আরও গভীরভাবে আলোচনা করতে হবে।’

বন্ডে ব্যাংকের বিনিয়োগ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের বুঝিয়ে বলেছি, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বন্ডে ব্যাংকের বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার মধ্যে না রাখতে। এতে বাংলাদেশের বন্ড বাজার বড় হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি।’

বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকের পর মঙ্গলবার গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো বক্তব্য দেয়নি

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সভা শেষে বিএসইসি কমিশনের প্রতিনিধির বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উক্ত সভায় কতিপয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের যে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে তা সঠিক নয়।’

অবশ্য শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেননি কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে। তার বক্তব্য ছিল এমন: ‘আমরা নীতিগতভাবে একমত হয়েছি। এগুলোর দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ করে বিস্তারিত জানানো হবে।’

সেই বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলামও সাংবাদিকদের বলেন, ‘খুবই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। যে বিষয়গুলোয় আলোচনা হয়েছে, সামনে এসব বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্রের এই ধরনের বক্তব্যের পরদিন এর বিপরীতমুখী বক্তব্য দেয়ার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকা মোবাইল ফোন নম্বরে কল করা হলে রিসিভ করলেও প্রশ্ন শুনে তা কেটে দেয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আর যেসব বিষয় উঠে এসেছে

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবারের বৈঠকের বিষয়ে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর একেএম সাজেদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে ৩০ নভেম্বর বিএসইসির একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সভা বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বিএসইসির উদ্যোগে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড গঠনের ফলে তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন এবং পুঞ্জীভূত লোকসান বিদ্যমান থাকলেও সংশ্লিষ্ট বছরের মুনাফায় নগদ লভ্যাংশ বিতরণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: বাংলাদেশ ব্যাংক
বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকের দিন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বললেও পর দিন এই বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে

‘সভায় ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৩৫(১)(গ) ধারা ও ২২ ধারা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩-এর ১০ ধারার বিষয়গুলো ব্যাখ্যাপূর্বক ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের অদাবীকৃত তহবিল স্থানান্তরের এবং পুস্তি লোকসান বিদ্যমান থাকলেও সংশ্লিষ্ট বছরের মুনাফা হতে নগদ লভ্যাংশ বিতরণের বিষয়টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আইনসম্মত নয় বলে বিএসইসি প্রতিনিধি দলকে অবহিত করা হয় এবং এতদবিষয়ে বিএসইসির নোটিফিকেশনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনয়নের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।’

আরও পড়ুন:
আয় বাড়াল ইসলামী ব্যাংকও
উত্থানে ফিরল পুঁজিবাজার, নেতৃত্বে বেক্সিমকো গ্রুপ
পুঁজিবাজারে পতনে একটি হাউসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বৈঠক ডাকার খবরেও আরও পতনে আতঙ্ক
পতন ঠেকাতে বৈঠক ডেকেছে বিএসইসি

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুপার’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান বললেন ‘সুপার’

ক্যাপিটাল মার্কেট নিয়ে নিউইয়র্কে রোডশোর আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

সরকারপ্রধানের সঙ্গে আলোচনার ফলাফল কী- এমন প্রশ্নে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার একান্তে বৈঠক হয়েছে। সিদ্ধান্ত কী হয়েছে, সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আগে আমার বলা উচিত হবে না।’ বৈঠকের বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের জন্য কী বার্তা থাকবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সুপার হয়েছে। এক্সিলেন্টও।’ যে আলোচনা হয়েছে, তা পুঁজিবাজারে কেমন প্রভাব ফেলবে- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অনেক ভালো হবে। সব আলোচনায় হয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ে।’

পুঁজিবাজার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকের পরদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সরকারপ্রধান কী জানিয়েছেন, সে বিষয়ে কিছু জানালেন না বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। তবে জানিয়েছেন, আলোচনায় তৃপ্ত তিনি। এক বাক্যে বললেন, ‘সুপার হয়েছে’ যার মাধ্যমে তার উচ্ছ্বাসটা স্পষ্ট হয়েছে।

বুধবার বেলা ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান বিএসইসি চেয়ারম্যান। বেলা পৌনে ১টার দিকে নিউজবাংলার সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

সরকারপ্রধানের সঙ্গে আলোচনার ফলাফল কী- এমন প্রশ্নে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার একান্তে বৈঠক হয়েছে। সিদ্ধান্ত কী হয়েছে, সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আগে আমার বলা উচিত হবে না।’

কিন্তু বৈঠকের বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের জন্য কী বার্তা থাকবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সুপার হয়েছে। এক্সিলেন্টও।’

যে আলোচনা হয়েছে, তা পুঁজিবাজারে কেমন প্রভাব ফেলবে- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অনেক ভালো হবে। সব আলোচনা হয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ে।’

বিস্তারিত না জানালেও বিএসইসি চেয়ারম্যান জানিয়ছেন, পুঁজিবাজারের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। কোন কোন বাধার কারণে পুঁজিবাজার তার নিজস্ব গতিতে যেতে পারছে না, সে বিষয়গুলোও তুলে ধরেছেন তিনি।

গত বছরের মে মাসে করোনা পরিস্থিতিতে শিবলী রুবাইয়াতকে প্রধান করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি পুনর্গঠনের পর থেকে পুঁজিবাজারে দারুণ দিন ফিরতে শুরু করে। প্রায় এক যুগ আগের মহাধসে হারানো শেয়ারদর কিছুটা হলেও ফিরে পেতে শুরু করে।

প্রথম দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও পুঁজিবাজারে তারল্য বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নেয়। ব্যাংকগুলো তার বিনিয়োগসীমার বাইরে গিয়ে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেয় আলাদা তহবিল করে।

এই পরিস্থিতিতে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে সূচক মহাধসের পর প্রথমবারের মতো ৭ হাজার পয়েন্টের সীমা অতিক্রম করে। কিন্তু এ পর্যায়ে এসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ কিছু পদক্ষেপ পুঁজিবাজারে তারল্য কমিয়ে দেয়।

ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ তার সীমার মধ্যে আছে কি না, সে বিষয়টিতে কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি প্রতিদিনের লেনদেনের তথ্য চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাজারমূল্যে বিনিয়োগসীমা নির্ধারণ করায় শেয়ার মূল্য বেড়ে গিয়ে ব্যাংকের সেই নির্ধারিত অঙ্কের বেশি শেয়ার ধারণ করলেই জরিমানার মুখে পড়তে হয় ব্যাংকগুলোকে।

পাশাপাশি ব্যাংকগুলো বন্ডে যে বিনিয়োগ করেছে, সেটিও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার মধ্যেই ধরার কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনা করা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির কাছেও প্রতিদিনের লেনদেনের তথ্য চায় তারা।

এসব ঘটনায় বাজারে অযাচিত বিক্রয় চাপ তৈরি হয়, নতুন বিনিয়োগও আটকে যায়। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বড় বিনিয়োগকারীরাও হাত গুটিয়ে বসে থাকে।

ফলে শুরু হয় ধসের মতো পরিস্থিতি। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠকের আগের আট কর্মদিবসে একদিন বাড়ে প্রতিদিনই সূচক পড়েছে। এই কয়দিনেই বাজার থেকে সূচক কমে যায় প্রায় ৪০০ পয়েন্ট।

বহুল প্রতীক্ষিত সেই বৈঠক শেষে বিএসইসির পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেয়া কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ জানান, তারা যেসব দাবি তুলেছিলেন, তা মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বন্ডে বিনিয়োগ ব্যাংকের বিনিয়োগসীমার বাইরে থাকবে। আবার সারা পৃথিবীর মতো ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট শেয়ারের ক্রয়মূল্যে বিবেচনার বিষয়য়েও কেন্দ্রীয় ব্যাংক একমত হয়েছে নীতিগতভাবে।

পরের দিন সরকারপ্রধানের সঙ্গে আলোচনাতেও ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট ও বন্ডে বিনিয়োগ ইস্যু তুলে ধরেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক।’

আরও পড়ুন:
আয় বাড়াল ইসলামী ব্যাংকও
উত্থানে ফিরল পুঁজিবাজার, নেতৃত্বে বেক্সিমকো গ্রুপ
পুঁজিবাজারে পতনে একটি হাউসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বৈঠক ডাকার খবরেও আরও পতনে আতঙ্ক
পতন ঠেকাতে বৈঠক ডেকেছে বিএসইসি

শেয়ার করুন

‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ

‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ

পুঁজিবাজারে লেনদেনে ব্যস্ত বিনিয়োগকারীরা। ফাইল ছবি

ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে বিবেচনা, বন্ডে বিনিয়োগ- পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখার বিষয়ে রাজি হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে আদেশ জারি করা হবে। এই খবরে দরপতনের মধ্যে থাকা পুঁজিবাজারে দারুণ দিন দেখল বিনিয়োগকারীরা।

ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা ক্রয়মূল্যে বিবেচনা, পাশাপাশি বন্ডে বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানানোর পর পড়তে থাকা শেয়ারমূল্য দিয়েছে লাফ। এক দিনে ৩০০ কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ার প্রভাবে সূচক বেড়েছে ১০০ পয়েন্টের বেশি।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সঙ্গে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের মতভিন্নতার ইস্যুতে টানা দরপতনের কারণে যে হতাশা দেখা গিয়েছিল পুঁজিবাজারে, দুই পক্ষের বৈঠকের পর তার আপাত অবসান দেখা গেছে।

মঙ্গলবার বহুল প্রতীক্ষিত এই বৈঠক শেষে কোনো সার্কুলার জারি হয়নি। তবে বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাদের পক্ষ থেকে যেসব বিষয় তোলা হয়েছিল, তার প্রতিটির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে বিবেচনা, বন্ডে বিনিয়োগ- পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখার বিষয়ে রাজি হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে এ বিষয়ে আদেশ জারি করা হবে।

সেই বৈঠকের পরদিন বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যাওয়ার কথা সেই রাতেই চাওর হয়ে যায়। বৈঠক শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান কোনো সিদ্ধান্ত না জানালেও বলেছেন, যে কথাবার্তা হয়েছে, তা পুঁজিবাজারের জন্য দারুণ হবে।

এসব ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের মনের চাপ দূর হওয়ার পর বুধবার সকালে লেনদেন শুরুই হয় ১২৮ পয়েন্ট দিয়ে। লেনদেনের সাড়ে ৪ ঘণ্টায় একটিবারের জন্যও তা সেখান থেকে খুব বেশি কমে দেখা যায়নি। বরং শেষ বেলায় আরও বাড়ে।

‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ
বুধবার পুঁজিবাজারে লেনদেন পয়েন্ট বেড়েছে।

বেলা ১১টা ২৮ মিনিটে সূচক আগের দিনের চেয়ে ১৫৪ পয়েন্ট বেড়ে লেনদেন হতে থাকে। তখন সূচক ছিল ৬ হাজার ৮৫৭ পয়েন্ট। এরপর সেখান থেকে অল্প কিছু কমলেও শেষ সময়ে আবার শেয়ারদর বেড়ে সূচকের অবস্থান দাঁড়ায় ৬ হাজার ৮৪৭ পয়েন্ট, যা দিনের সর্বোচ্চ অবস্থান।

এক দিনেই সূচক বেড়েছে ১৪৩ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট।

তবে সূচকের ঊর্ধ্বগতিতেও লেনদেন সেভাবে গতি পায়নি। বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ এখনও বাজারকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে। আবার যারা বেশি দামে শেয়ার কিনে ধরে রেখেছেন, তাদের কেনা দামের কাছাকাছিও আসেনি শেয়ার। এ কারণে বিক্রয় চাপ কম ছিল। এ কারণে লেনদেন আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কম হয়েছে।

দিন শেষে বেড়েছে ২৯৩টি শেয়ারের দর, কমেছে ৪৫টির, অপরিবর্তিত ছিল ৩৫টির দর।

সূচক বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকায় ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। টানা পাঁচ কর্মদিবস দর হারানো কোম্পানিটির শেয়ারদর এক দিনেই বাড়ল ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। এর প্রভাবে সূচকে যোগ হয়েছে ২১ দশমিক ৮২ পয়েন্ট।

গ্রামীণফোন, বেক্সিমকো ফার্মা, স্কয়ার ফার্মা, ওয়ালটন, রবি, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি, ইউনাইটেড পাওয়ার, পাওয়ারগ্রিড, ডেল্টা লাইফের দর বৃদ্ধিতে সূচকে যোগ হয়েছে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানিই সূচক বাড়িয়েছে ৮৬ দশমিক ৪১ পয়েন্ট।

‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ
পুঁজিবাজারে সূচক সবচেয়ে বেশি বাড়িয়েছে যে ১০টি কোম্পানি

অন্যদিকে পুঁজিবাজারে দারুণ দিনে এতদিন ক্রমাগতভাবে বাড়তে থাকা ওয়ান ব্যাংক দর হারানোয় সূচক থেকে কমেছে ১ দশমিক ০৯ পয়েন্ট।

ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনিট হোটেল, সামিট পাওয়ার, আরামিট সিমেন্ট, তুংহাই নিটিং, ইস্টার্ন ক্যাবলস, নিউলাইন ক্লথিং, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স ও এমারেল্ড অয়েলের দরপতনের কারণে সূচক থেকে কিছু পয়েন্ট কমেছে।

তবে দরপতনের হার খুব একটা বেশি না হওয়ায় এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে কেবল ৩ দশমিক ১৩ পয়েন্ট।

দর বৃদ্ধিতে ১০ কোম্পানি

গত ২৮ নভেম্বর থেকে দর কমতে থাকা বিবিধ খাতের ইনডেক্স এগ্রোর শেয়ার দরে চমক লেগেছে। কোম্পানিটির দর বেড়েছে দিনের সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

তবে এই দর বৃদ্ধি নতুন বিনিয়োগকারীদের মুনাফা দিলেও রেকর্ড ডেট ২৮ নভেম্বর যারা শেয়ার কিনে ধরে রেখেছিলেন তাদের জন্য খুব একটা ভালো সংবাদ দেয়নি। কারণ সেদিনও কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি দর ছিল ১২২ টাকা। বুধবারও লেনদেন শেষে শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকায়। এই সময়ে কোম্পানিটির সর্বনিম্ম দর ছিল ১১০ টাকা।

দর বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় স্থানে থাকা নতুন তালিকাভুক্ত সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ। দিন শেষে দর দাঁড়িয়েছে ৫৯ টাকা ৬০ পয়সা। তবে এই দামেও শেয়ার বিক্রি করতে রাজি নন বিনিয়োগকারীরা। দিন শেষে হাতবদল হয়েছে কেবল ৮৪ হাজার ৯৫৩টি শেয়ার।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮০ শতাংশ। কোম্পানিটির শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৭৫ লাখ ২৩৪টি। শেয়ার দর ১৫২ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৬৬ টাকা ৯০ পয়সা।

বেক্সিমকোর শেয়ার দর গত ১৭ নভেম্বর থেকে টানা পতনে ছিল। ১৭২ টাকা থেকে এই সময়ে দর নেমে আসে ১৫২ টাকায়। সেখান থেকে বুধবারই প্রথম বড় উত্থান হলো কোম্পানিটির।

‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ
যেসব কোম্পানির দর বেড়েছে, কমেছে

বস্ত্র খাতের এনভয় টেক্সটাইলের দরও বেড়েছে ৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আগের দিন দাম ছিল ৪৫ টাকা। দিন শেষে দাঁড়িয়েছে ৪৯ টাকা ৪০ পয়সায়।

ব্যাংক খাতের ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ দর বৃদ্ধির মাধ্যমে পৌঁছেছে ১৫ টাকা ৩০ পয়সায়। ১৮ নভেম্বরের এটির ব্যাংকটির সর্বোচ্চ দর।

বুধবার ৮ শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে এমন কোম্পানির সংখ্যা ছিল তিনটি। এর মধ্যে পাট খাতের কোম্পানি জুট স্পিনার্সের দর ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ, খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের শ্যামপুর সুগারের দর ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ আর বিমা খাতের ডেল্টা লাইফের শেয়ার দর বেড়েছে ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ।

দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশের নয় ও দশ নম্বরে ছিল জিবিবি পাওয়ার, যার শেয়ার বেড়েছে ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ আর সোনালী পেপারের শেয়ার দর বেড়েছে ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

এই ১০টি ছাড়া ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে আরও ৭টি কোম্পানির দর। ৬ শতাংশের বেশি আরও ৩টির, ৫ শতাংশের বেশি ৭টির, ৪ শতাংশের বেশি ৬টির, ৩ শতাংশের বেশি ২৩টির, ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে আরও ৬০টি কোম্পানির দর।

দর পতনের ১০ কোম্পানি

গত ৫ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা করে লোকসান থাকায় কোনো বছরের জন্যই লভ্যাংশ ঘোষণা না করা তুংহাই নিটিংয়ের রেকর্ড ডেটের পর প্রথম লেনদেন ছিল বুধবার। ফলে এদিন কোম্পানিটির শেয়ার দরে উত্থান পতনে কোনো সীমা ছিল না। লভ্যাংশ না দেয়ায় কোম্পানিটির শেয়ার দর স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে বেশি দর পতন হয়েছে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। শেয়ার দর ৬ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৬ টাকা।

এরপরই ছিল আরামিট সিমেন্ট। কোম্পানিটির দর কমেছে ৮. দশমিক ৩০ শতাংশ। ২ কোটি ২৭ লাখ টাকা লেনদেন হওয়া কোম্পানিটির ৭৪ লাখ ৩১ হাজার ২৯টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

‘ফলপ্রসূ’ বৈঠকের পর পুঁজিবাজারে লাফ
বুধবারের লেনদেনে যেসব কোম্পানির দাম বেড়েছে-কমেছে।

ওয়ান ব্যাংকের শেয়ার দর এদিন কমেছে ৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ। গত ১৭ নভেম্বর থেকে শেয়ার দরে উত্থানে থাকা এই ব্যাংকটির য়েশার দর ৩০ নভেম্বর থেকে কমছে। বুধবার লেনদেন শেষে ব্যাংকটির দর ছিল ১৯ টাকা ৪০ পয়সা।

এদিন দর পতনের থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে বস্ত্র খাতের কোম্পানি ছিল সবচেয়ে বেশি। শীর্ষ দশ কোম্পানির মধ্যে ছয়টি ছিল বস্ত্র খাতের।

মিথুন নিটিংয়ের দর কমেছে ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। শেয়ার দর ১২ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১১ টাকা ৬০ পয়সা। ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা লেনদেন হওয়া কোম্পানিটির মোট ১৬ হাজার ৫৫৫টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

এমারেল্ড অয়েলের শেয়ার দর কমেছে ২ দশমিক ৫২ শতাংশ। এ ছাড়া আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের দর কমেছে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ।

সাভার রিফ্যাক্টরিজ, নিউ লাইন ক্লথিং, সোনারবাংলা টেক্সটাইল, ইস্টার্ন ক্যাবলস, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স ছিল দর পতন হওয়া শীর্ষ কোম্পানির তালিকায়।

লেনদেনে এগিয়ে ১০ কোম্পানি

বুধবার লেনদেনে এগিয়ে থাকা দশ কোম্পানির মধ্যে শীর্ষে বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানিটির মোট ১২২ কোটি ২৮ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। হাতবদল হয়েছে ৭৫ লাখ ২৩৪টি শেয়ার।

লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে মাত্র দুটি কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। এ তালিকায় দর পতন হওয়া কোম্পানি দুটি ছিল ওয়ান ব্যাংক ও একমি পেস্ট্রিসাইডস। নতুন তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এই প্রথম দাম কমল শেয়ারটির।

এদিন ওয়ান ব্যাংকের মোট লেনদেন হয়েছে ১৩২ কোট ১১ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৫ কোটি ৭৫ লাখ ৩৭ হাজার ৯১২টি।

ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের মোট লেনদেন হয়েছে ৭৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ৫ কোটি ১৮ লাখ ৯৯ হাজার ৯৪৬টি।

ডেল্টা লাইফের লেনদেন হয়েছে ৪৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ২২ লাখ ৫ হাজার ১৯টি।

আইএফআইসি ব্যাংকের লেনদেন হয়েছে ২৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা। শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১৩ লাখ ৯০ হাজার ৬৪৪টি। এর আগে ছিল একমি পেস্টিসাইডস। যার শেয়ার হাতবদল হয়েছ ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৭২টি। লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

জেনেক্স ইফফোসিসের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

শীর্ষ দশের এই তালিকায় আরও ছিল ওরিয়ান ফার্মা, প্যারামাউন্ড টেক্সটাইল, ফরচুন সুজ।

আরও পড়ুন:
আয় বাড়াল ইসলামী ব্যাংকও
উত্থানে ফিরল পুঁজিবাজার, নেতৃত্বে বেক্সিমকো গ্রুপ
পুঁজিবাজারে পতনে একটি হাউসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বৈঠক ডাকার খবরেও আরও পতনে আতঙ্ক
পতন ঠেকাতে বৈঠক ডেকেছে বিএসইসি

শেয়ার করুন

বৈঠকের পর ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস পুঁজিবাজারে

বৈঠকের পর ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস পুঁজিবাজারে

বুধবারের লেনদেনের শুরুতেই উল্লম্ফন দেখেছে পুঁজিবাজার। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

বুধবার লেনদেনের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের বাজারমুখী হওয়ার যে প্রভাব দেখা গেছে, সেটি শেষ সময় পর্যন্ত থাকবে কি না তা নির্ভর করছে আস্থার ওপর।

বুধবার লেনদেনের শুরুতে আগের দিনের যে হতাশার চাপ ছিল পুঁজিবাজারে তা কেটে যাওয়ার আভাস দেখা গেছে। লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান হয় ১১৫ পয়েন্ট। লেনদেন শুরুর ১০ মিনিটে সূচকের এমন উত্থান পুঁজিবাজারকে মন্দা থেকে ফেরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার যে উদ্যোগ তাতে আস্থার প্রতিফলন দেখা গেছে।

এদিন লেনদেনের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের বাজারমুখী হওয়ার যে প্রভাব দেখা গেছে, সেটি শেষ সময় পর্যন্ত থাকবে কি না তা নির্ভর করছে আস্থার ওপর।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি মঙ্গলবার বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে। আলোচনা শেষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেয়া বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ জানান, ক্রয়মূল্যে এক্সপোজার লিমিট গণনার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একমত হয়েছেন। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হলে পুঁজিবাজারের উত্থান বা শেয়ারের দর বেড়ে গেলে নিয়মের মধ্যে থাকতে হঠাৎ শেয়ার বিক্রির চাপে পড়বে না আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। বর্তমানে শেয়ারের ধারণকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হয় বাজারমূল্যের ভিত্তিতে। আর এখানেই বিপত্তি।

ব্যাংক তার বিনিয়োগ সীমার মধ্যেই শেয়ার কিনলেও তার দাম বেড়ে গেলে বাজারমূল্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগ গণনার কারণে বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে। ফলে ব্যাংকগুলো তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিতে হয় আগেভাগেই। এতে পুঁজিবাজারে বিক্রয় চাপ তৈরি হচ্ছে। বাজারে হচ্ছে দরপতন।

মঙ্গলবারের বৈঠকের পর দ্রুত এ সমাধান হলে ব্যাংকের ওপর থেকে শেয়ারের দর বাড়লেও বিক্রির চাপ বাড়বে না।

বুধবার লেনদেনের ৪০ মিনিটে সূচকের অবস্থান ছিল ৬ হাজার ৮০৬ পয়েন্টে। আগের দিনের তুলনায় সূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৩ দশমিক ১৩ পয়েন্ট। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এর পাশাপাশি বাকি দুই সূচকেরও ছিল উত্থান। লেনদেন হয়েছে ১৯০ কোটি টাকা। দর বৃদ্ধির খাতায় নাম লিখিয়েছে ৩১৫টি কোম্পানি। দর হারিয়েছে ১৪টির।

টানা ছয় দিন দরপতনের পর এক দিন সূচক বাড়লেও মঙ্গলবার আবার সেই হতাশার বৃত্তে ডুব দেয় পুঁজিবাজার। ফলে আট কর্মদিবসের মধ্যে সাত দিনই সূচকের পতন হয়েছে।

বুধবার পুঁজিবাজারের লেনদেন উত্থান শেষ হলে ৯ কার্যদিবসের মধ্যে উত্থানে হিসেবে যোগ হবে দুই দিন।

অন্যদিকে বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে যাচ্ছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। তবে কী কারণে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে যাচ্ছেন, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএসইসির চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ বিনিয়োগকারীদের নতুন আস্থার প্রতিফলন দেখা গেছে।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুঁজিবাজারভিত্তিক গ্রুপগুলোতে নানা আলোচনা উঠে আসে। বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর আবার প্রাণ ফিরে পাবে পুঁজিবাজার।

বুধবার লেনদেনের প্রথম পৌনে এক ঘণ্টায় সূচক উত্থানে বড় ভূমিকা ছিল গ্রামীণফোনের। কোম্পানিটির শেয়ারদর ২.১৫ শতাংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে সূচকের উত্থানে অবদান রেখেছে ১৫.৩১ শতাংশ।

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটিবিসি) অবদান ছিল ৬.৫৩ শতাংশ। এই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১.২৯ শতাংশ।

এ ছাড়া স্কয়ার ফার্মা, ওয়ালটন, বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা, রবির শেয়ারদর বৃদ্ধি সূচকের উত্থানে অবদান রেখেছে।

পাশাপাশি দর পতনের কারণে সূচককে পতনের দিকে নিতে ত্বরান্বিত করেছে ইউনিলিভার, ব্র্যাক ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

এ সময়ে ব্যাংক খাতের শেয়ারের বেশ উত্থান দেখা গেছে। ব্যাংক খাতের তালিকাভুক্ত ৮১ শতাংশ বা ২৬টি ব্যাংকের শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে তিনটি ব্যাংকের। এ ছাড়া বস্ত্র খাতের ৯০ শতাংশ শেয়ারের দর বৃদ্ধি হয়েছে।

ট্যানারি খাত, বিমা, তথ্য-প্রযুক্তি, ভ্রমণ ও অবকাশ, সিমেন্ট, টেলিকম, পাট খাতের তালিকাভুক্ত সব কটি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে লেনদেনের এই সময়ে।

আরও পড়ুন:
আয় বাড়াল ইসলামী ব্যাংকও
উত্থানে ফিরল পুঁজিবাজার, নেতৃত্বে বেক্সিমকো গ্রুপ
পুঁজিবাজারে পতনে একটি হাউসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বৈঠক ডাকার খবরেও আরও পতনে আতঙ্ক
পতন ঠেকাতে বৈঠক ডেকেছে বিএসইসি

শেয়ার করুন

এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান

এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠকে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট শেয়ারের ক্রয়মূল্যে বিবেচনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে আলোচনার পরদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএসইসির চেয়ারম্যানের বৈঠকের সময় নির্ধারণের খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির আলোচনার পর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম এবার সরকারপ্রধানের কাছে যাচ্ছেন।

বুধবার এই বৈঠক হবে বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির প্রধান। তবে কী নিয়ে আলোচনা হবে, সে বিষয়ে তিনি আগাম কিছু বলতে চাইছেন না। বলেছেন, ‘বুধবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক আছে। তবে বৈঠকের আগে কিছু বলতে পারব না। আলোচনা শেষ করে এসে বলব।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিএসইসির চেয়ারম্যানের এই বৈঠকের বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পুঁজিবাজারের নানা বিষয়ে মতভিন্নতা নিয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে বেশ কিছু অমীমাংসিত বিষয়ে ঐকমত্যে আসার কথা জানিয়েছেন বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ।

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনার পদ্ধতি ক্রয়মূল্যে নাকি বাজারমূল্যে হবে- এ নিয়ে বিতর্ক গত এক দশক ধরেই চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী এটি বাজারমূল্যে নির্ধারণ হয়। কিন্তু বিএসইসি চায় ক্রয়মূল্যে।

আইন অনুযায়ী, একটি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তার মোট মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবে না। সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ এটা হবে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ।

শেয়ারের ধারণকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হয় বাজারমূল্যের ভিত্তিতে। আর এখানেই বিপত্তি। ব্যাংক তার বিনিয়োগসীমার মধ্যেই শেয়ার কিনলেও তার দাম বেড়ে গেলে বাজারমূল্যের ভিত্তিকে বিনিয়োগ গণনার কারণে বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে আগেভাগেই। এতে পুঁজিবাজারে বিক্রয় চাপ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বাজারে হচ্ছে দরপতন।

গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে পুঁজিবাজারে উত্থানে সূচক বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। এতে বিনিয়োগকারীরা হাতের হারিয়ে ফেলা টাকা ফিরে পেতে শুরু করেন।

তবে এক দশক পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মূল্যসূচক ৭ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে মূলত ব্যাংকের শেয়ারের বিক্রয় চাপে সূচকের নিম্নগতি দেখা দেয়।

এই সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোকে হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য করেছে। এর ফলে দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হতেই পারছে না পুঁজিবাজার। শেয়ার দর কমে আসায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

বন্ডে বিনিয়োগও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই বিনিয়োগসীমার মধ্যে ধরছে। অথচ বিএসইসি এই বিনিয়োগকে ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখার পক্ষে। তারা বলছে, সারা বিশ্বেই এই বন্ডে বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বাইরে থাকে।

এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান
পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনার পদ্ধতিসহ নানা বিষয়ে বিকেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে বিএসইসি

সরকার পুঁজিবাজারে বন্ড মার্কেটকে জনপ্রিয় করতে চাইছে। এর অংশ হিসেবে সুকুক বন্ড ছেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা তুলতে অনুমতি দিয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডকে। আকর্ষণীয় মুনাফার এই বন্ডে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করেছে। আর বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করে যায় বলে ব্যাংকগুলো হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছে। যারা করেনি, তাদের জরিমানার শিকার হতে হয়েছে।

এদিক টানা পতনের মুখে অস্থির পুঁজিবাজার নিয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএসইসি। বৈঠকে বহুল আলোচিত এক্সপোজার লিমিট বা ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা ক্রয়মূল্যে বিবেচনার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এক্সপোজার লিমিট নিয়ে আমরা নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছি। আমরা এটা রিভিউ করব। গ্লোবালি এক্সপোজার লিমিট কস্ট প্রাইজের ভিত্তিতে করা হয়। এটি টেকনিক্যাল বিষয়, আরও গভীরভাবে আলোচনা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এটি নিয়ে একটি ব্যাখ্যা দিয়ে স্পষ্ট করা হবে। দাপ্তরিক কিছু কাজ শেষে চূড়ান্ত করে তা জানানো হবে।’

দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিএসইসির চেয়ারম্যানের এই বৈঠকের সময় নির্ধারণের খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

পুঁজিবাজারে বিশ্লেষক ও ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা দেবব্রত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যে বৈঠক হয়েছে, সেটি এই মুহূর্তে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক। আর বিএসইসি পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক। মনে হচ্ছে, দুটির সংস্থার মধ্যে যথেষ্ট সমন্বয়ের অভাব আছে।

‘পুঁজিবাজারে লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ সুরক্ষা দেয়ার জন্য এক্সপোজার লিমিট নিয়ে বিএসইসিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। বিএসইসির একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু পুঁজিবাজার চাঙা করতে হলে বিনিয়োগ সুরক্ষা দিতে হবে, বিএসইসিকেও বাজারবান্ধব সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার দেয়া খুবই জরুরি।’

আরও পড়ুন:
আয় বাড়াল ইসলামী ব্যাংকও
উত্থানে ফিরল পুঁজিবাজার, নেতৃত্বে বেক্সিমকো গ্রুপ
পুঁজিবাজারে পতনে একটি হাউসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বৈঠক ডাকার খবরেও আরও পতনে আতঙ্ক
পতন ঠেকাতে বৈঠক ডেকেছে বিএসইসি

শেয়ার করুন

ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে: বৈঠকে সিদ্ধান্ত

ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে: বৈঠকে সিদ্ধান্ত

কেন্দ্র্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

এক্সপোজার লিমিট নিয়ে আমরা নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছি। আমরা এটা রিভিউ করব। গ্লোবালি এক্সপোজার লিমিট কস্ট প্রাইজের ভিত্তিতে করা হয়। এটি টেকনিক্যাল বিষয়, আরও গভীরভাবে আলোচনা করতে হবে: বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির আলোচনায় ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনার পদ্ধতি দিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান হতে যাচ্ছে।

আলোচনায় নেতৃত্ব দেয়া পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন, ক্রয়মূল্যে এক্সপোজার লিমিট গণনার বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

মঙ্গলবার বেলা তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যালয়ে বহুল প্রতীক্ষিত এই বৈঠকটি হয়।

এতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে যোগ দেন কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। সঙ্গে ছিলেন নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর এ কে এম সাজেদুর রহমান খান, অফ সাইট সুপারভিশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল ইসলাম।

বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আজকের আলোচনা খুব ফলপ্রসূ হয়েছে। আমাদের দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে আরও সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে। আমরা নতুন করে আরও কীভাবে সংযোগ বাড়ানো যায় সেই চেষ্টা করছি।’

আজকের আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আলোচনার সবগুলো সব বিষয় নিয়ে পজিটিভ সিদ্ধান্তে আসতে পেরেছি। এর ফলাফল আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আপনারা দেখতে পাবেন।

‘পুঁজিবাজারে এক্সপোজার লিমিট যেন শেয়ারের ক্রয়মূল্যর ভিত্তিতে করা হয় এসব বিষয়সহ শেয়ারবাজাররের স্থিতিশীলতা তহবিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা একমত হয়েছি। এগুলোর দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ করে বিস্তারিত জানানো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এক্সপোজার লিমিট নিয়ে আমরা নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছি। আমরা এটা রিভিউ করব। গ্লোবালি এক্সপোজার লিমিট কস্ট প্রাইজের ভিত্তিতে করা হয়। এটি টেকনিক্যাল বিষয়, আরও গভীরভাবে আলোচনা করতে হবে।’

পুজিবাজারে সাম্প্রতিক পতনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকার বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা একেবারে অপ্রয়োজনীয় একটি বিষয়। কোনো প্রতিষ্ঠানই অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য দায়ী নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানই অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার জন্য আগ্রহী নয়। সরকারের সবগুলো প্রতিষ্ঠানই সমান।

‘প্রতিষ্ঠানগুলো পরস্পরকে সহযোগিতা করবে এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। কোনো কোনো পক্ষ হয়তো এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে থাকে, এটি সঠিক নয়।’

পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক যে দরপতন তার সঙ্গে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ির একটি সম্পর্ক রয়েছে।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমা নিয়ে উভয়সংকটে পড়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। একদিকে বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ তহবিলের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে বিশেষ পদ্ধতিতে গণনার কারণে শেয়ার দর বেড়ে গিয়ে বিনিয়োগসীমা পেরিয়ে যাওয়ার কারণে গুনতে হচ্ছে জরিমানা।

আইন অনুযায়ী, একটি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তার মোট মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবে না। সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ এটা হবে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ।

শেয়ারের ধারণকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হয় বাজারমূল্যের ভিত্তিতে। আর এখানেই বিপত্তি। ব্যাংক তার বিনিয়োগসীমার মধ্যেই শেয়ার কিনলেও তার দাম বেড়ে গেলে বাজারমূল্যের ভিত্তিকে বিনিয়োগ গণনার কারণে বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে আগেভাগেই। এতে পুঁজিবাজারে বিক্রয় চাপ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বাজারে হচ্ছে দরপতন।

এমনিতেই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের অভাবে ভুগতে থাকা পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলো নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় গেছে, সেটি বাজারে দরপতনকে ত্বরান্বিত করতে পারে, যেটি দেখা যাচ্ছে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে।

গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে পুঁজিবাজারে উত্থানে সূচক বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। এতে বিনিয়োগকারীরা হাতের হারিয়ে ফেলা টাকা ফিরে পেতে শুরু করে।

তবে এক দশক পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মূল্যসূচক ৭ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে মূলত ব্যাংকের শেয়ারের বিক্রয় চাপে সূচকের নিম্নগতি দেখা দেয়।

এই সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোকে হাতের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য করেছে। এর ফলে দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হতেই পারছে না পুঁজিবাজার। শেয়ার দর কমে আসায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

বন্ডে বিনিয়োগও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই বিনিয়োগসীমার মধ্যে ধরছে। অথচ বিএসইসি এই বিনিয়োগকে ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখার পক্ষে। তারা বলছে, সারা বিশ্বেই এই বন্ডে বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বাইরে থাকে।

সরকার পুঁজিবাজারে বন্ড মার্কেটকে জনপ্রিয় করতে চাইছে। এর অংশ হিসেবে সুকুক বন্ড ছেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা তুলতে অনুমতি দিয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডকে। আকর্ষণীয় মুনাফার এই বন্ডে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করেছে। আর বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করে যায় বলে ব্যাংকগুলো হাতের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছে। যারা করেনি, তাদের জরিমানার শিকার হতে হয়েছে।

বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিএসইসি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। পুজিবাজারের উন্নয়নে দুই প্রতিষ্ঠান একযোগে কাজ করবে। আজকের আলোচনার প্রেক্ষিতে সামনে আরো৷ আলোচনা হবে।’

আরও পড়ুন:
আয় বাড়াল ইসলামী ব্যাংকও
উত্থানে ফিরল পুঁজিবাজার, নেতৃত্বে বেক্সিমকো গ্রুপ
পুঁজিবাজারে পতনে একটি হাউসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বৈঠক ডাকার খবরেও আরও পতনে আতঙ্ক
পতন ঠেকাতে বৈঠক ডেকেছে বিএসইসি

শেয়ার করুন

এক্সপোজার লিমিট নিয়ে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা, বাস্তবায়ন ধাপে ধাপে

এক্সপোজার লিমিট নিয়ে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা, বাস্তবায়ন ধাপে ধাপে

ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বরছেন বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা, বন্ডে বিনিয়োগ ক্রয়মূল্যে বিবেচনা করা, স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড গতিশীল করাসহ পুঁজিবাজার উন্নয়নে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এই দুই নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের সমন্বতি প্রচেষ্টার সুফল পাবেন ভবিষ্যতে: বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনার সূত্র, বন্ডে বিনিয়োগ পুঁজিবাজারের বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখাসহ সব বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

আলোচনায় বিএসইসির পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেয়া কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বাজারমূল্যের বদলে ক্রয়মূল্যে বিবেচনা, বন্ডে বিনিয়োগ এই বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এর বাস্তবায়ন হবে ধাপে ধাপে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, পুঁজিবাজার উন্নয়নে তারাও বিএসইসিকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে।

পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের মধ্যে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বহুল প্রতীক্ষিত এই বৈঠক শেষে সরাসরি কোনো ঘোষণা অবশ্য আসেনি। জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসির মধ্যে সংযোগ আরও বাড়ানো হবে। দুই পক্ষ পুঁজিবাজারকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে টেলিফোন, ই-মেইল ও সরাসরি আলোচনা করবে।

বেলা তিনটার দিকে এই বৈঠক শুরু হয়। এতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে যোগ দেন কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। সঙ্গে ছিলেন নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর এ কে এম সাজেদুর রহমান খান, অফ সাইট সুপারভিশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল ইসলাম।

প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন শামসুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা, বন্ডে বিনিয়োগ ক্রয়মূল্যে বিবেচনা করা, স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড গতিশীল করাসহ পুঁজিবাজার উন্নয়নে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এ দুই নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানে সমন্বতি প্রচেষ্টার সুফল পাবেন ভবিষ্যতে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিএসইসি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। পুঁজিবাজারের উন্নয়নে দুই প্রতিষ্ঠান একযোগে কাজ করবে। আজকের আলোচনার প্রেক্ষিতে সামনে আরও আলোচনা হবে।’

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাজার সংশোধনের সময় দরপতন মোটেও অস্বাভাবিক ঠেকেনি। এর কারণ, এক বছরে মূল্য সূচক বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার পর কিছুটা সংশোধন স্বাভাবিক হিসেবেই ধরে নিয়েছিলেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

আশা করা হয়েছিল, সংশোধন শেষে বাজার আবার উত্থানে ফিরবে এবং বিনিয়োগকারীরা তাদের হারানো টাকা ফিরে পাবে। কিন্তু সেটি হয়নি, উল্টো ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির মধ্যে মতভিন্নতার খবর প্রকাশ্যে চলে আসার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়। দিনের পর দিন হতাশা এক পর্যায়ে তৈরি করে আতঙ্ক।

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনা, এই বিনিয়োগসীমায় বন্ডে বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্তি নিয়ে মতভিন্নতা ছাড়াও অবণ্টিত মুনাফায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা আসবে কি না, এ নিয়ে আগে থেকেই টানপড়েনের মধ্যে সম্প্রতি যোগ হয়েছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনাকারী অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির লেনদেনের তথ্য চাওয়া।

সবশেষ এই নির্দেশ আসার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দিয়ে বিএসইসি বলেছে, তারা এভাবে সরাসরি তথ্য চাইতে পারে না। কোনো তথ্য দরকার পড়লে যেন বিএসইসির মাধ্যমে চাওয়া হয়।

এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে তথ্য আসে যে, মতভিন্নতা নিয়ে বৈঠকে বসবে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই সিদ্ধান্ত আসার পর সাপ্তাহিক কর্মদিবস শুক্র ও শনিবার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা আলোচনা-ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের জন্ম নেয়।

কিন্তু কোনো কিছু্ বাজারে চিড় ধরা মনোবল ফেরাতে পারেনি। উল্টো শেয়ার কেনা বন্ধ রেখে কম দামে হলেও শেয়ার বিক্রি করে দিতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। এই বিষয়টি দরপতনকে আরও তরান্বিত করে। যারা লোকসানে শেয়ার বিক্রি করতে রাজি ছিলেন না, তাদের পোর্টফোলিওর আকার দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে।

এর মধ্যে যারা মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ার কিনেছেন, তাদের অবস্থান আরও খারাপ। পুনর্বিনিয়োগ করতে না পারলে শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য হতে থাকেন হাজার হাজার বিনিয়োগকারী।

আরও পড়ুন:
আয় বাড়াল ইসলামী ব্যাংকও
উত্থানে ফিরল পুঁজিবাজার, নেতৃত্বে বেক্সিমকো গ্রুপ
পুঁজিবাজারে পতনে একটি হাউসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বৈঠক ডাকার খবরেও আরও পতনে আতঙ্ক
পতন ঠেকাতে বৈঠক ডেকেছে বিএসইসি

শেয়ার করুন