‘সরকারের কাছে একটা বালিশের দাম ২২ হাজার টাকা’

‘সরকারের কাছে একটা বালিশের দাম ২২ হাজার টাকা’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপির সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রহুল কবির রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে বালিশকাণ্ডের বিষয়টি ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি করবে না কেন। ওরা একটা বালিশের দাম নেয় ২২ হাজার টাকা। এই দুর্নীতি এবং তাদের পকেট ভারী করার জন্যই দ্রব্য মূল্যের দাম বেড়েছে। সয়াবিন তেল, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, চাল…এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে চালের দাম সবচেয়ে বেশি। এটার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রহুল কবির রিজভী। বলেছেন, সরকারের দুর্নীতির কারণেই বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম।

দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শনিবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে বালিশকাণ্ডের বিষয়টি ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি করবে না কেন। ওরা একটা বালিশের দাম নেয় ২২ হাজার টাকা। এই দুর্নীতি এবং তাদের পকেট ভারী করার জন্যই দ্রব্য মূল্যের দাম বেড়েছে। সয়াবিন তেল, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, চাল…এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে চালের দাম সবচেয়ে বেশি। এটার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লার পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনা নিয়েও মন্তব্য করেন বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা। তার দাবি, এ ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত।

রিজভী বলেন, ‘এটা পরিকল্পিত, এ কথা আগেও বলেছি। আমি যে কথাগুলো বলছি এটা বিএনপির কোনো বক্তব্য না। আজকে গণমাধ্যমগুলোতে সরকারের চাপের মুখেও সত্য কথা বেরিয়ে আসছে। সরকার নিজেদের স্বার্থের জন্য এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’

রিজভী বলেন, ‘কুমিল্লা, হাজীগঞ্জ, রংপুর, চট্টগ্রাম প্রতিটি জায়গায় আওয়ামী লীগ নিশ্চুপ ছিল। পত্রপত্রিকায় এসেছে যেদিন সকালে কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে ওসি সাহেব গেলেন উনি পূজামণ্ডপ থেকে কোরআন শরীফ তুললেন, উনি কেন এতক্ষণ মিডিয়ার সামনে ধরে রাখলেন। প্রত্যেকটাতে প্রমাণিত হয় এটি পরিকল্পিত। এটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের বহির্বিশ্বে যে সুনাম রয়েছে তা এই সরকার বিনষ্ট করেছে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল
বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৬ নেতা কারাগারে
বিএনপি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের অসাম্প্রদায়িক দল : মির্জা আব্বাস
তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশে উত্তেজনা: রিজভী
বিলুপ্তির ২৭ মাস পর লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির কমিটি অনুমোদন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খালেদাকে মুক্ত করতে হাইকমান্ডের কাছে কর্মসূচি চান আমান

খালেদাকে মুক্ত করতে হাইকমান্ডের কাছে কর্মসূচি চান আমান

শহীদ ডা. মিলন দিবস উপলক্ষে তার স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানায় বিএনপি নেতা-কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘কর্মসূচি দিন, বেগম জিয়াকে মুক্তি দেয়া না হলে দেশ অচল করে দেয়া হবে; পুরো দেশকে ঢাকা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে।’

শারীরিক বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে দলের হাইকমান্ডের কাছে কর্মসূচি চেয়েছেন দলটির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান।

তিনি বলেন, ‘কর্মসূচি দিন, বেগম জিয়াকে মুক্তি দেয়া না হলে দেশ অচল করে দেয়া হবে; পুরো দেশকে ঢাকা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে।’

শনিবার শহীদ ডা. মিলন দিবস উপলক্ষে তার স্মৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দলের হাইকমান্ডের কাছে কর্মসূচি চান তিনি।

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে স্লো-পয়জন দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুরে কথা বলেন আমান।

এর আগে একই দাবি করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানো ও তার মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গত বৃহস্পতিবার এক সমাবেশে ফখরুল এ সন্দেহের কথা জানান।

আমান বলেন, ‘খাবারের মধ্যে স্লো-পয়জন দিয়ে ধীরে ধীরে বেগম জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। উন্নত চিকিৎসা না দিয়ে তাকে তিলে তিলে শেষ করার চক্রান্ত চলছে।’

তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়ার কিছু হলে সরকারপ্রধানসহ প্রত্যেককে হুকুমের আসামি করা হবে।’

এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন স্বপন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দীন আলম, মোস্তাফিজুল ইসলাম বাবুল, জাগপা একাংশের সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল
বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৬ নেতা কারাগারে
বিএনপি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের অসাম্প্রদায়িক দল : মির্জা আব্বাস
তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশে উত্তেজনা: রিজভী
বিলুপ্তির ২৭ মাস পর লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির কমিটি অনুমোদন

শেয়ার করুন

খালেদার অবস্থা অস্থিতিশীল: চিকিৎসক

খালেদার অবস্থা অস্থিতিশীল: চিকিৎসক

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের একজন চিকিৎসক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খালেদা জিয়া ধীরে ধীরে কথা বলার চেষ্টা করছেন। মাঝেমধ্যেই ওনার শরীর দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল। গতকাল থেকে এটা একটু কমে এসেছে। তবে শরীরের অবস্থা উন্নতির দিকে, এটা বলা যাবে না। গতকাল থেকে এ পর্যন্ত তার শরীরের অবস্থা অবনতি হয়নি। তবে অস্থিতিশীল।’

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য অস্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের একজন সদস্য।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে শনিবার সকালে ওই চিকিৎসক জানান, সকাল ৯টার মধ্যে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে আসেন মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার। তিনি প্রায় ১০ মিনিট খালেদার কেবিনে অবস্থান করেন।

তিনি বলেন, ‘এ সময় আমি স্যারের সঙ্গে গিয়েছিলাম। খালেদা জিয়া ধীরে ধীরে কথা বলার চেষ্টা করছেন। মাঝেমধ্যেই ওনার শরীর দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল। গতকাল থেকে এটা একটু কমে এসেছে। তবে শরীরের অবস্থা উন্নতির দিকে, এটা বলা যাবে না। গতকাল থেকে এ পর্যন্ত তার শরীরের অবস্থার অবনতি হয়নি। তবে অস্থিতিশীল।’

ওই চিকিৎসক জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী একাধিক জটিল রোগে ভুগছেন। স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যালোচনার জন্য একাধিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। শুক্রবারও নিউক্লিয়ার মেডিসিনে এনে তার স্বাস্থ্যের পরীক্ষা করোনা হয়। তবে এখন খালেদা জিয়ার লিভারের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়া মলে রক্ত আসাও বন্ধ হয়নি।

১৩ নভেম্বর বিকেলে খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে এভারকেয়ারে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হওয়ায় পরের দিন ভোরে তাকে সিসিইউতে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার।

খালেদার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য তার পরিবার ও দল থেকে সরকারের প্রতি বারবার আহ্বান জানানো হলেও তাতে সাড়া মিলছে না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের নেত্রীর অবস্থা ‘ভ্যারি ক্রিটিক্যাল’। তাকে অবিলম্বে বিদেশ নেয়া দরকার।

খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেয়ার অনুমতি আদায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি।

আরও পড়ুন:
মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল
বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৬ নেতা কারাগারে
বিএনপি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের অসাম্প্রদায়িক দল : মির্জা আব্বাস
তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশে উত্তেজনা: রিজভী
বিলুপ্তির ২৭ মাস পর লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির কমিটি অনুমোদন

শেয়ার করুন

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে মিরপুরে মশাল মিছিল

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে মিরপুরে মশাল মিছিল

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে মিরপুরে মশাল মিছিল। ছবি: নিউজবাংলা

শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে মিরপুর শেওড়াপাড়া থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ১০ নম্বর গোল চত্বরের কাছাকাছি গিয়ে শেষ হয়। এর আগে একই দাবিতে বৃহস্পতিবার রাতে নয়াপল্টন এলাকায় রিজভীর নেতৃত্বে মশাল মিছিল হয়।

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে মশাল মিছিল করেছে বিএনপি। মিছিলের নেতৃত্ব দেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে মিরপুর শেওড়াপাড়া থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ১০ নম্বর গোল চত্বরের কাছাকাছি গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে বিএনপির জনা বিশেক নেতাকর্মী অংশ নেন।

এর আগে একই দাবিতে বৃহস্পতিবার রাতে নয়াপল্টন এলাকায় রিজভীর নেতৃত্বে মশাল মিছিল হয়।

এছাড়া শুক্রবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় মসজিদে দোয়ার আয়োজন করা হয় বিএনপির উদ্যোগে। হিন্দুদের মন্দিরসহ অন্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়েও করা হয় বিশেষ প্রার্থনা।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নেতারা। ছিলেন জোটের শরিক দলের নেতারাও।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী এই মুহূর্তে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার রোগের বিস্তারিত না জানলেও বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের নেত্রী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন। তাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার দাবিও করা হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে।

তবে ২০১৮ সালে দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত নেত্রীকে দেশের বাইরে নিয়ে যেতে এখনও অনুমতি দেয়নি সরকার। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দণ্ডবিধির ৪০১ ধারা প্রয়োগ করে সাজা স্থগিত করিয়ে পৌনে দুই বছর আগে বিএনপি নেত্রীকে বাসায় ফেরার সুযোগ করে দিয়েছেন। এই ধারা দ্বিতীয়বার প্রয়োগের সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন:
মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল
বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৬ নেতা কারাগারে
বিএনপি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের অসাম্প্রদায়িক দল : মির্জা আব্বাস
তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশে উত্তেজনা: রিজভী
বিলুপ্তির ২৭ মাস পর লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির কমিটি অনুমোদন

শেয়ার করুন

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা বিদেশে যাওয়ার অজুহাত: তথ্যমন্ত্রী

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা বিদেশে যাওয়ার অজুহাত: তথ্যমন্ত্রী

কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ছবি: নিউজবাংলা

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকে একটি অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে বিদেশ পাঠিয়ে দিতে চায় বিএনপি। সেখানে গিয়ে বেগম জিয়া রাজনীতি করতে পারেন। যেটি এখন করছেন তারেক রহমান।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকে তার বিদেশে যাওয়ার অজুহাত বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করার সময় এ মন্তব্য করেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার অসুস্থতাকে একটি অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে বিদেশ পাঠিয়ে দিতে চায় বিএনপি। সেখানে গিয়ে বেগম জিয়া রাজনীতি করতে পারেন। যেটি এখন করছেন তারেক রহমান।’

খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত এবং তার সাজা মওকুফ হয়নি উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল যে ভাষায় কথা বলেছেন, তাতে মনে হয়েছে বেগম জিয়ার প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে মহানুভবতা দেখিয়েছেন তা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।’

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিমানে কক্সবাজার পৌঁছান আওয়ামী লীগের এ নেতা। সন্ধ্যায় কক্সবাজারের ইনানীর একটি অভিজাত হোটেলে জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন হাছান মাহমুদ।

আরও পড়ুন:
মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল
বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৬ নেতা কারাগারে
বিএনপি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের অসাম্প্রদায়িক দল : মির্জা আব্বাস
তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশে উত্তেজনা: রিজভী
বিলুপ্তির ২৭ মাস পর লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির কমিটি অনুমোদন

শেয়ার করুন

‘জাহাঙ্গীরের বাড়ির ভিড়’ এখন কিরণের বাড়িতে

‘জাহাঙ্গীরের বাড়ির ভিড়’ এখন কিরণের বাড়িতে

আসাদুর রহমান কিরণ ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে টঙ্গীতে তার বাড়িতে নেতা-কর্মীদের ভিড় বেড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

বৃহস্পতিবার বিকেলে যখন জাহাঙ্গীরকে মেয়র পদ থেকে বরখাস্তের আর কিরণকে এক নম্বরে রেখে প্যানেল মেয়র গঠনের সিদ্ধান্ত আসে, তখন কিরণ ঢাকার সচিবালয়ে। তিনি এলাকায় ফেরার আগে আগে তার নিজ এলাকা টঙ্গীতে শুরু হয়ে যায় আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ। টঙ্গীতে বাসভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন নেতা-কর্মীরা।

আওয়ামী লীগে দলীয় পদের পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ হারানোর পর জাহাঙ্গীর আলম এখন অনেকটাই একা। দীর্ঘ বছরের সঙ্গীরা এড়িয়ে চলছেন; বছরের পর বছর ধরে গমগম করা বাড়ি এখন খাঁ খাঁ।

অন্যদিকে জাহাঙ্গীরের পতনের পর ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পাওয়া প্যানেল মেয়র আসাদুর রহমান কিরণের বাড়ি এখন লোকে লোকারণ্য।

কাউন্সিলর কিরণ সিটি করপোরেশনের আগের মেয়াদেও আড়াই বছরের মতো মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১৩ সালে বিএনপির মেয়র এম এ মান্নান ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর তখনও দায়িত্বভার এসে পড়ে কিরণের হাতে। এবারও তাই হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে যখন জাহাঙ্গীরকে মেয়র পদ থেকে বরখাস্তের আর কিরণকে এক নম্বরে রেখে প্যানেল মেয়র গঠনের সিদ্ধান্ত আসে, তখন কিরণ ঢাকার সচিবালয়ে। তিনি এলাকায় ফেরার আগে আগে তার নিজ এলাকা টঙ্গীতে শুরু হয়ে যায় আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ। টঙ্গীতে বাসভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন নেতা-কর্মীরা।

ঢাকঢোল পিটিয়ে নেচে-গেয়ে, আতশবাজি ফুটিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন কিরণের সমর্থকরা। আর এর বৃহৎ একটি অংশ জাহাঙ্গীরবিরোধী।

পুরো বিপরীত চিত্র জাহাঙ্গীরের হারিক্যান ছয়দানা এলাকার বাড়িতে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যে বাড়িতে মানুষের ভিড় থাকত, সেই বাড়ি দেখা গেছে ফাঁকা।

গাজীপুরে বলাবলি হচ্ছে, জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ির ভিড় এখন কিরণের বাড়িতে।

‘জাহাঙ্গীরের বাড়ির ভিড়’ এখন কিরণের বাড়িতে
গাজীপুরের হারিক্যান ছয়দানা এলাকায় জাহাঙ্গীর আলমের বাসায় এখন চিরচেনা ভিড় নেই

রাত ১১টার দিকে বাসভবনে এসে পৌঁছান কিরণ। এ সময় মোটরসাইকেল বহর নিয়ে নেচে-গেয়ে ও আতশবাজি ফুটিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয় তাকে।

৪৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি পদপ্রার্থী খালেদুর রহমান রাসেল বলেন, ‘নগর পরিচালনায় অভিজ্ঞ আসাদুর রহমান কিরণকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র নির্বাচিত করায় গাজীপুরবাসী আনন্দিত। এর আগেও তিনি ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন, তাই তিনি জানেন কীভাবে নগর পরিচালনা করতে হয়।’

৫৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হোসেন বলেন, ‘টঙ্গী পৌরসভা থেকে অদ্যাবধি টানা পাঁচবার কাউন্সিলর হওয়ার গৌরব রয়েছে আসাদুর রহমান কিরণের৷ ২০১৩ সালের নির্বাচনের পর বিএনপির মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানের অবর্তমানে ২৭ মাস ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি নগরীর রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তাকে দায়িত্ব দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নকাজ আরও তরান্বিত হবে।’

‘জাহাঙ্গীরের বাড়ির ভিড়’ এখন কিরণের বাড়িতে
কিরণ গভীর রাতে এলাকায় যাওয়ার সময়ও শত শত কর্মী তার পক্ষে মিছিল করে

দ্বিতীয়বার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পেয়ে কিরণ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করছি। গত মেয়াদে প্রায় ২৭ মাস ১৩ দিন ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছি। আমার অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমি জানি কীভাবে দল ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার এক মাসের মধ্যে গাজীপুর সিটির যে বেহাল দশা রয়েছে, সেটি দলীয় নেতা-কর্মী ও কাউন্সিলরদের নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করব।’

রাস্তা প্রশস্তকরণে যারা জমি দিয়েছেন অথচ ক্ষতিপূরণ পাননি তাদের বিষয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার কথাও বলেন তিনি।

নেতা-কর্মীদের নিয়ে রাত ১২টার দিকে টঙ্গী বাজার এলাকায় মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানের বাসায় যান আসাদুর রহমান কিরণ। সেখানে তিনি আজমত উল্লাহ খানের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে কুশল বিনিময় করেন।

ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান নগর পরিচালনায় কিরণকে সহযোগিতার অশ্বাস দেন। পরে তারা একে অপরকে মিষ্টিমুখও করান।

আরও পড়ুন:
মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল
বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৬ নেতা কারাগারে
বিএনপি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের অসাম্প্রদায়িক দল : মির্জা আব্বাস
তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশে উত্তেজনা: রিজভী
বিলুপ্তির ২৭ মাস পর লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির কমিটি অনুমোদন

শেয়ার করুন

এবার ইউপি নির্বাচন বর্জনের হুমকি জাতীয় পার্টির

এবার ইউপি নির্বাচন বর্জনের হুমকি জাতীয় পার্টির

রংপুর পল্লী নিবাসে এরশাদের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। ছবি: নিউজবাংলা

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘আমি পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আপনার কর্মীদের বলেন, তাদের একটু নিয়ন্ত্রণ করেন। কারণ এভাবে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে বিএনপি নির্বাচনে আসে নাই, আগামীতে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাবে কি না তা নতুনভাবে চিন্তা করবে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধীনে ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। এবার নৌকার পক্ষে জোর করে ভোট নেয়ার অভিযোগ তুলে জাতীয় পার্টিও নির্বাচন বর্জন করতে পারে বলে হুমকি দিয়েছেন দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

রংপুর পল্লী নিবাসে এরশাদের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে এ কথা বলেন তিনি।

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘আমি পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি আপনার কর্মীদের বলেন, তাদের একটু নিয়ন্ত্রণ করেন। কারণ এভাবে যদি নির্বাচন হয়, তাহলে বিএনপি নির্বাচনে আসে নাই, আগামীতে জাতীয় পার্টি নির্বাচনে যাবে কি না তা নতুনভাবে চিন্তা করবে।

‘এই নির্বাচনে এমন অবস্থা হয়েছে যে, যারা সরকারি দলের নৌকা মার্কার প্রার্থী তারা জোর করে ভোট নিবেন, এই কষ্টটা করতে চান না। তারা চান, তাদের বিরুদ্ধে যে লাঙ্গলের প্রার্থী আছে তারা যেন উইথড্র করে, তাহলে তারা বিনা কনটেস্টে বিজয়ী হবে।’

বিএনপি নেতা খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। জাপা মহাসচিব বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে সরকার মেরে ফেলতে চাইছে কি না, সেটা বিএনপি জানে আর সরকার জানে। আমরা বলতে পারব না।

‘আমরা বলতে পারি, মানবিক কারণে সরকার তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে দিতে পারে, সেটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। বাট তাকে মেরে ফেলা বা ষড়যন্ত্র করা, এটা বলতে পারব না। এটা বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নিজস্ব বিষয়।’

কার্যকর বিরোধী দলের বিষয়ে চুন্নু বলেন, ‘মানুষের মধ্যে একটা পারসেপশন আছে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভালো, কারণ কয়েকটা নির্বাচন আমরা একসঙ্গে করেছিলাম।

‘তবে আমরা সংসদে সরকারের ভুলত্রুটি নিয়ে কথা বলছি। সমালোচনা করছি। সরকার যখন আমাদের কথা শুনবে না বা শুনছে না তখন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় আন্দোলনে নামা হবে।’

এ সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, এস এম ইয়াসিরসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল
বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৬ নেতা কারাগারে
বিএনপি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের অসাম্প্রদায়িক দল : মির্জা আব্বাস
তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশে উত্তেজনা: রিজভী
বিলুপ্তির ২৭ মাস পর লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির কমিটি অনুমোদন

শেয়ার করুন

এবার আ.লীগ থেকে মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি

এবার আ.লীগ থেকে মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী। ছবি: সংগৃহীত

জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী কমিটির সদস্যপদ থেকে মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি দিয়ে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার মেয়র আব্বাসকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলা রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে এবার জেলা আওয়ামী লীগের সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী কমিটির সদস্যপদ থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়ে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভা শেষে এ কথা জানান সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুুদ দারা।

এর আগে গত বুধবার মেয়র আব্বাসকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

আব্বাস আলী রাজশাহীর কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে তিনি প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন।

ঘরোয়া একটি আলোচনায় মেয়র আব্বাস বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের বিরোধিতা করে কথা বলেন। গত সোমবার এই আলোচনার অডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের বক্তব্য শোনা যাচ্ছে, তিনি একজনকে বলছেন, ‘সিটি গেট আমার অংশে। … ফ্রার্মকে দিয়েছে তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে; ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা। কিন্তু একটু থেমে গেছি, গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে… যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর সেটা ইসলামি শরিয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না (রাখব না), সব করব তবে শেষ মাথাতে যেটা… ওটা (ম্যুরাল)।’

মেয়র আব্বাস আলী বলছেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, ম্যুরালটা ঠিক হবে না দিলে। আমার পাপ হবে; তো কেন দিব, দিব না। আমি তো কানা না, যেভাবে বুঝাইছে তাতে আমার মনে হয়েছে, ম্যুরালটা হলে আমার ভুল করা হবে।

‘এ খবরটা যদি যায় তাহলে আমার রাজনীতির বারোটা বাজবে যে এই ম্যুরাল দিছে না। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে গিয়ে… আল্লাহকে নারাজ করব নাকি। এ জন্য কিছু করার নাই। মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা যাবে না।’

এই বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে শুক্রবার বিকালে ফেসবুক লাইভে মেয়র আব্বাস বলেন, ‘আমি তো মানুষ। আমি তো ভুল করতেই পারি। তার জন্য ক্ষমা চাই। তারপরও মনঃপূত না হলে বহিষ্কার করবেন, আমার নামে মামলা দিবেন যতটুকু ভুল করেছি, তার জন্য, কিন্তু একের পর এক অত্যাচার জুলুম। আমার অসুস্থ মা তিন-চার দিন না খেয়ে আছে...

‘... আমি কী এত বড় অন্যায় করেছি? অন্যায় করলে তো আইন আছে। এভাবে এতকিছু করা কী ঠিক?... আমাকে বলা হচ্ছে, আমি দলের অনুপ্রবেশকারী। আমি যদি আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য কোনো দল জীবনে থাকি তাহলে সব শাস্তি মাথা পেত নেব... কেউ প্রমাণ করতে পারলে সুইসাইড করব।’

আরও পড়ুন:
মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল
বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৬ নেতা কারাগারে
বিএনপি অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের অসাম্প্রদায়িক দল : মির্জা আব্বাস
তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশে উত্তেজনা: রিজভী
বিলুপ্তির ২৭ মাস পর লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির কমিটি অনুমোদন

শেয়ার করুন