৬ দিন পর পুষ্প রানীর চুলায় হাঁড়ি চড়ালেন মন্ত্রী

৬ দিন পর পুষ্প রানীর চুলায় হাঁড়ি চড়ালেন মন্ত্রী

পীরগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত পুষ্প রানী নামে একজনের বাড়িতে গিয়ে তার চুলায় রান্নার হাড়ি তুলে দেন ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। ছবি: নিউজবাংলা

পুষ্প রানী বলেন, ‘এত দিন তো মন্দিরের ওটে (ওখানে) পাকশাক (রান্না) হইছে, ওটে খাইচি। কাল আইতোত (রাতে) ওটে খাইচি। আইজ সবাই বাড়ি বাড়ি রান্না করোচি।’ 

সাম্প্রদায়িক হামলায় ৬ দিন পর চুলায় রান্না চড়িয়েছেন রংপুরের পীরগঞ্জের করিমপুরে হিন্দুপল্লির মানুষ।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পীরগঞ্জে হিন্দুপল্লি পরিদর্শনে যান ত্রাণ ও দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। সেখানে ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন তিনি। পরে পুষ্প রানী নামের একজনের বাড়িতে গিয়ে তার চুলায় রান্নার হাঁড়ি তুলে দেন।

পুষ্প রানী বলেন, ‘এত দিন তো মন্দিরের ওটে (ওখানে) পাকশাক (রান্না) হইছে, ওটে খাইচি। কাল আইতোত (রাতে) ওটে খাইচি। আইজ সবাই বাড়ি বাড়ি রান্না করোচি।’

ভট্টু চন্দ্র বলেন, ‘শুকুরবার সন্ধের আগে মাইকিন (মাইকিং) করে বলচে, বাড়ি বাড়ি পাক করতে। আজ আমরা পাক করছি।’

মহাদেব চন্দ্র বলেন, ‘সংসার করি খাইতে যা কিছু নাগে সমস্ত কিচু দিচে। পাক করতে সমস্যা কী। টিওনও (ইউএনও) স্যার কইচে সোগ (সব) তো দিচি, পাক করি খাও। এলা সমস্যা নাই, তাই আইজ পাক করতে কইচি বাড়ি ওয়ালাক (স্ত্রী)।’

আরেক ক্ষতিগ্রস্ত কুসুম বালা বলেন, ‘আইজ একনা শান্তি নাগচে। বাড়িত চুলা জ্বালাইচি। সবাই মিলি খামো। এত দিন তো ওত্তি খাচি, ভয় নাগটিল এলা ভয়টয় নাগে না।’

মন্ত্রীর সঙ্গে জেলা প্রশাসক আসিব আহসানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ৬১ পরিবারকে ১০১ বান্ডেল ঢেউটিন দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া নগদ অর্থের পাশাপাশি দেয়া হয়েছে খাবার, দুটি কম্বল ও শাড়ি-লুঙ্গি।

ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

কীভাবে হামলা হলো হিন্দুপল্লিতে

স্থানীয়রা জানান, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রামনাথপুরের করিমপুর দক্ষিণপাড়ায় (হাজিপাড়া) পরিতোষের বাড়িতে ছিল প্রশাসনের লোকজন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করে তাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তারা। এ সময় হঠাৎ উত্তরপাড়ার হিন্দুপল্লির দিকে আগুন দেখা যায়।

তারা জানান, বটতলা মসজিদের পাশে ব্রিজের কাছেই রুহিনী চন্দ্র দাসের বাড়িতে গিয়ে প্রথমে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে ভাঙচুর করা হয়। এরপর ভাঙচুর করা হয় ভবেশ চন্দ্র দাসের বাড়িতে। অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরে অংশ নেয় শত শত হামলাকারী।

পীরগঞ্জ হামলার মাস্টারমাইন্ড কে?

স্থানীয়রা জানান, প্রথমে ব্রিজের কাছে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ শুরু হলেও পরে একে একে সব বাড়িতে তাণ্ডব চলে। তবে কার নেতৃত্বে এই তাণ্ডব শুরু হয়, সেটি বোঝা যায়নি।

রুহিনী চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমার বাড়িতে যখন ভাঙচুর করে তখন পালায়ে যাই। রাস্তাত দেখি শোঠা পীরের ওই দিক থেকেও লোক আসতেছে।’

করিমপুর দক্ষিণপাড়ায় (হাজিপাড়া) যেখানে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবস্থান নিয়েছিল, সেখান থেকে ঘটনাস্থল উত্তরপাড়ার মধ্যে রয়েছে বিশাল ধানক্ষেত। এর দূরত্ব ২৫০ মিটার। পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থলে আসতে সময় লাগবে অন্তত ৫ মিনিট।

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি জানান, হিন্দুপল্লিতে আগুন দেয়ার পর দূর থেকেই রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিকেল থেকেই আসতে থাকে মোটরসাইকেল

রামনাথপুরে ঢোকার মুখে পীরগঞ্জের খেজমতপুরের ঘেগার তলে মুদি ব্যবসা করেন ফিরোজ কবির।

তিনি বলেন, ‘রোববার বিকেল হতে না হতে অনেক মোটরসাইকেল যাওয়া শুরু করে। আমরা বলি এত গাড়ি যায় কই। সন্ধ্যার পর আরও বেশি যাওয়া শুরু করে। আমি তো এই মোড়ে ব্যবসা করি। তিন গ্রামের মানষোক চিনি। তবে যারা গেছে তাদের চিনি নাই। যারা গেছে তারা আমাদের গ্রামের লোক নয়।’

বড় মজিদপুর দক্ষিণপাড়ার মুদি দোকানি মাহবুব রহমান বলেন, ‘এত মোটরসাইকেল সেই দিন কুটি থাকি আইচচে বলতে পারি না। লোকগুলোক আগে দেকিও নাই। কেম্বা অপরিচিত লাগছিল।’

বটতলা বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী মোস্তফা বলেন, ওই দিন হাটের দিন হওয়ায় শত শত মানুষ ব্রিজের কাছে বটতলা বাজারে অবস্থান নেন।

তারা মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় এসেছিলেন। অনেকেই দোকানের সামনে মোটরসাইকেল রাখছিল।

হামলা ঠেকাতে পারেননি ইউপি চেয়ারম্যানও

রামনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি অসহায় ভাই। অনেক চেষ্টা করেছি যেন কোনো সমস্যা না হয়। তবে শেষ পর্যন্ত পারিনি।’

রিমান্ডে ৩৭ জন

পীরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক হামলার তিন মামলায় এখন পর্যন্ত ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলায় ৩৭ আসামিকে বৃহস্পতিবার তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

বাহিনীটির একটি সূত্র জানিয়েছে, রিমান্ডে থাকা অনেকেই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

আরও পড়ুন:
মণ্ডপে কোরআন: ইকবালসহ চারজন আদালতে
সাম্প্রদায়িক সংঘাত: লক্ষ্মীপুরে গণঅনশন
হবিগঞ্জে কালী মন্দিরে ভাঙচুর
ঢাবির কনসার্টে সহিংসতা প্রতিহতের ডাক
পীরগঞ্জ হামলার অন্যতম হোতা গ্রেপ্তার: র‍্যাব

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পৌর আ.লীগ সভাপতির বাসায় ‘ককটেল’ হামলা

পৌর আ.লীগ সভাপতির বাসায় ‘ককটেল’ হামলা

ককটেল। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগ নেতা মকবুল জানান, রাতে দুর্বৃত্তরা তার বাসা লক্ষ্য করে পরপর বেশ কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে একটি বাসার ফটক সংলগ্ন কক্ষের সামনে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এ সময় পরিবারের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনি পুলিশকে জানান।

বগুড়ার শেরপুর পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি মকবুল হোসেনের বাসায় ককটেল হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে কেউ হতাহত না হলেও বাসায় থাকা আওয়ামী লীগ নেতার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

পৌর শহরের বারো দুয়ারীপাড়ায় মাদ্রাসা গেট সংলগ্ন বাসাটিতে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে এ হামলা চালানো হয়।

মকবুল জানান, রাতে দুর্বৃত্তরা তার বাসা লক্ষ্য করে পরপর বেশ কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে একটি বাসার ফটক সংলগ্ন কক্ষের সামনে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এ সময় পরিবারের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনি পুলিশকে জানান।

এ ঘটনায় থানায় মামলা করবেন বলেও জানান আওয়ামী লীগের এ নেতা।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মকবুল থানায় গেলে ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

টাউন ফাঁড়ির পুলিশ কর্মকর্তা সাম্মাক হোসেন বলেন, ‘আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য সম্ভবত পটকা জাতীয় কিছু ফাটানো হয়েছে। বিস্ফোরিত কিছু আলামত দেখে সেটিও মনে হয়েছে। এ ছাড়া তেমন কিছু নয়। লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
মণ্ডপে কোরআন: ইকবালসহ চারজন আদালতে
সাম্প্রদায়িক সংঘাত: লক্ষ্মীপুরে গণঅনশন
হবিগঞ্জে কালী মন্দিরে ভাঙচুর
ঢাবির কনসার্টে সহিংসতা প্রতিহতের ডাক
পীরগঞ্জ হামলার অন্যতম হোতা গ্রেপ্তার: র‍্যাব

শেয়ার করুন

ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ: ৪ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ: ৪ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

চার আসামি হলেন নগরীর স্যার ইকবাল রোডে সোনালী ব্যাংকের তৎকালীন এজিএম (বর্তমানে জিএম অফিসে সংযুক্ত) সুজিত কুমার মন্ডল, গোডাউন কিপার ব্যাংক কর্মকর্তা নূরুল আমিন, সৌরভ ট্রেডাসের মিতা ভট্টাচার্ষ ও তার স্বামী সুজিত কুমার ভট্টাচার্ষ।

খুলনা সোনালী ব্যাংকের পাচঁ কোটি ২৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ মামলায় ব্যাংকের এজিএমসহ চার জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। তাদের না পাওয়া গেলে মালামাল ক্রোকের আদেশ দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের বিচারক মো: শহিদুল ইসলাম এই আদেশ দেন।

দুদক আইনজীবী খন্দকার মুজিবর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চার আসামি হলেন নগরীর স্যার ইকবাল রোডে সোনালী ব্যাংকের তৎকালীন এজিএম (বর্তমানে জিএম অফিসে সংযুক্ত) সুজিত কুমার মন্ডল, গোডাউন কিপার ব্যাংক কর্মকর্তা নূরুল আমিন, সৌরভ ট্রেডাসের মিতা ভট্টাচার্ষ ও তার স্বামী সুজিত কুমার ভট্টাচার্ষ।

মিতা ভট্টাচার্ষ দৌলতপুর থানা মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ সৈয়দ আলী।

তিনি জানান, সোনালী ব্যাংক সুজিত কুমার মন্ডল স্যার ইকবাল রোড শাখার এজিএম থাকাকালে সৌরভ ট্রেডার্স নামে এক পাট রপ্তানিকারককে এই টাকা ঋণ দেয়। পাটের বিপরীতে এই টাকা দেয়া হলেও দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মোশারেফ হোসেন তদন্তকালে গোডাউনে কোনো পাট পাননি।

এ ব্যাপারে তদন্ত শেষে সম্প্রতি দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। পর পর তিন দফা তারিখ পার হলেও কেউ আদালতে জামিনের আবেদন করেননি।

দুদকের আইনজীবীর শুনানির পর বিচারক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং না পাওয়া গেলে তাদের মালামাল ক্রেকের আদেশ দেন।

এ বিষয়ে মিতা ভাট্টাচার্ষ জানান, আইনজীবীকে তিনি সময়ের আবেদন করতে বলেছেন। তিনি মামলা ও অভিযোগপত্রের কথা স্বীকার করেছেন।

সোনালী ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম জানান, এজিএম সুজিত কুমার মন্ডল জেনারেল ম্যানেজার কার্যালয়ে সংযুক্ত আছেন। চার্জশিট জমার বিষয়টি তারা জানেন না। সুজিত কুমার মন্ডল দীর্ঘদিন ছুটিতে রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
মণ্ডপে কোরআন: ইকবালসহ চারজন আদালতে
সাম্প্রদায়িক সংঘাত: লক্ষ্মীপুরে গণঅনশন
হবিগঞ্জে কালী মন্দিরে ভাঙচুর
ঢাবির কনসার্টে সহিংসতা প্রতিহতের ডাক
পীরগঞ্জ হামলার অন্যতম হোতা গ্রেপ্তার: র‍্যাব

শেয়ার করুন

জামাইয়ের পর শ্বশুরের জয়

জামাইয়ের পর শ্বশুরের জয়

নাসির উদ্দিন (বাঁয়ে) ও মনসুর আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

মনসুর আহমেদ বলেন, ‘জামাই পাস করার পর পরিবারের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছিল। রোববারের নির্বাচনে আমার বিজয়ে পরিবারে আনন্দটা দ্বিগুণ হয়ে গেছে।’

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে শ্বশুর এবং নাসরিনগরে জামাই চেয়ারম্যান হলেন।

রোববার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নে মনসুর আহমেদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর আগে ১১ নভেম্বর তার মেয়ের জামাই নাসির উদ্দিন নাসিরনগরের কুন্ডা ইউপি নির্বাচনে জয়ী হন।

জামাই-শ্বশুরের পর পর বিজয়ে দুই পরিবারে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

গত রোববার ইউপি নির্বাচনে সরাইলের ৯ ইউনিয়নের দুটিতে আওয়ামী লীগ, ছয়টিতে স্বতন্ত্র ও দুটিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী চেয়ারম্যান হন। এর মধ্যে নোয়াগাঁও ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয় পান বিএনপি নেতা মনসুর আহমেদ। তিনি চশমা প্রতীকে ৪ হাজার ২৭৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

অন্যদিকে নাসিরনগরের কুন্ডা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জয়ী হন নাসির উদ্দিন। তিনি আনারস প্রতীকে ৫ হাজার ৯৪১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

মনসুর আহমেদ বলেন, ‘জামাই পাস করার পর পরিবারের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছিল। রোববারের নির্বাচনে আমার বিজয়ে পরিবারে আনন্দটা দ্বিগুণ হয়ে গেছে।’

জামাই নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমার শ্বশুরের জয়ে আনন্দ অনেকটাই বেড়ে গেছে। চেষ্টা করব জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করার।’

আরও পড়ুন:
মণ্ডপে কোরআন: ইকবালসহ চারজন আদালতে
সাম্প্রদায়িক সংঘাত: লক্ষ্মীপুরে গণঅনশন
হবিগঞ্জে কালী মন্দিরে ভাঙচুর
ঢাবির কনসার্টে সহিংসতা প্রতিহতের ডাক
পীরগঞ্জ হামলার অন্যতম হোতা গ্রেপ্তার: র‍্যাব

শেয়ার করুন

পুলিশের ওপর হামলা মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

পুলিশের ওপর হামলা মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাওন শিকদার। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয়রা জানান, রোববার বিপ্রবগদিয়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে তিন পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৬০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে। মামলা হওয়ার পর বিকেলেই শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পুলিশে ওপর হামলার মামলায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাওন শিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঝিনাইদহ শহরের ডিসি কোর্ট এলাকা থেকে মঙ্গলবার বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তিনি গত রোববার উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের বিপ্রবগদিয়া গ্রামের পুলিশের ওপর হামলা মামলার অন্যতম আসামি। তার বাড়ি উপজেলার নলখোলা গ্রামে।

স্থানীয়রা জানান, রোববার বিপ্রবগদিয়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে তিন পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৬০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে। মামলা হওয়ার পর বিকেলেই শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয়রা আরও জানান, ছাত্রলীগ নেতা শাওনের বিরুদ্ধে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মারধর ছাড়াও আওয়ামী লীগ কর্মীকে গালিগালাজ করার ভিডিও ও অডিও ভাইরাল হয়েছে। বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক শাওনকে কয়েকবার ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হলেও ফের পদ ফিরে পান।

আরও পড়ুন:
মণ্ডপে কোরআন: ইকবালসহ চারজন আদালতে
সাম্প্রদায়িক সংঘাত: লক্ষ্মীপুরে গণঅনশন
হবিগঞ্জে কালী মন্দিরে ভাঙচুর
ঢাবির কনসার্টে সহিংসতা প্রতিহতের ডাক
পীরগঞ্জ হামলার অন্যতম হোতা গ্রেপ্তার: র‍্যাব

শেয়ার করুন

ঈশ্বরদীতে নির্বাচনি সংঘাত, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০

ঈশ্বরদীতে নির্বাচনি সংঘাত, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০

পুলিশ জানায়, লক্ষ্মীকুন্ডা ইউপি নির্বাচনে নৌকার বিজয়ী প্রার্থী আনিস শরীফ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আনিছুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

পাবনার ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।

ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়াতে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ২৮ নভেম্বর লক্ষ্মীকুন্ডা ইউপি নির্বাচনে নৌকার বিজয়ী প্রার্থী আনিস শরীফ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আনিছুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ তিন জনকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে মোট কতজন আহত হয়েছেন তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

স্থানীয়রা জানায়, নির্বাচনের কয়েকদিন আগে থেকেই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তারই জেরে রাতে এই ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

চেয়ারম্যান আনিস শরীফ জানান, লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পরাজিত সদস্য প্রার্থী হৃদয় ও বিজয়ী আসাদুলের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় দুই মেম্বর প্রার্থীর কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন:
মণ্ডপে কোরআন: ইকবালসহ চারজন আদালতে
সাম্প্রদায়িক সংঘাত: লক্ষ্মীপুরে গণঅনশন
হবিগঞ্জে কালী মন্দিরে ভাঙচুর
ঢাবির কনসার্টে সহিংসতা প্রতিহতের ডাক
পীরগঞ্জ হামলার অন্যতম হোতা গ্রেপ্তার: র‍্যাব

শেয়ার করুন

ধর্ষণের পর হত্যা: যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত বাবা-ছেলের আত্মসমর্পণ

ধর্ষণের পর হত্যা: যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত বাবা-ছেলের আত্মসমর্পণ

আদালতের পিপি অনুপ কুমার নন্দী জানান, মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় গত বুধবার চার আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেয় আদালত। সেদিন আদালতে দুই আসামি উপস্থিত ছিলেন। অন্য দুই আসামি মোস্তান ও রোকন মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় নারীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন পাওয়া দুই আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। তারা সম্পর্কে বাবা-ছেলে।

কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক মো. তাজুল ইসলাম তাদের কারাগারে পাঠান।

আত্মসমর্পণকারী দুজন হলেন ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম এলাকার মোস্তান ও তার ছেলে গোলাম রেজা রোকন।

আদালতের পিপি অনুপ কুমার নন্দী জানান, মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় গত বুধবার চার আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেয় আদালত। সেদিন আদালতে দুই আসামি উপস্থিত ছিলেন। অন্য দুই আসামি মোস্তান ও রোকন মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

আদালত থেকে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার শালিমপুর গ্রামের বাসিন্দা ওই নারী ভেড়ামারায় একটি ডালের মিলে কাজ করতেন। ২০০১ সালের ১২ আগস্ট বিকেলের দিকে বাসা থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর তিনি আর ফেরেননি।

পরদিন উপজেলার বামনপাড়া এলাকার একটি বাঁশঝাড়ে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ওই ঘটনার পর নিহতের মা সাতজনকে আসামি করে থানার ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে ২০০৯ সালে জামিনে গিয়ে পলাতক ছিলেন তারা।

আরও পড়ুন:
মণ্ডপে কোরআন: ইকবালসহ চারজন আদালতে
সাম্প্রদায়িক সংঘাত: লক্ষ্মীপুরে গণঅনশন
হবিগঞ্জে কালী মন্দিরে ভাঙচুর
ঢাবির কনসার্টে সহিংসতা প্রতিহতের ডাক
পীরগঞ্জ হামলার অন্যতম হোতা গ্রেপ্তার: র‍্যাব

শেয়ার করুন

ভোট নিয়ে বিবাদে বাড়িঘরে আগুন গুলি

ভোট নিয়ে বিবাদে বাড়িঘরে আগুন গুলি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কায়েতপাড়ায় মঙ্গলবার রাতে পাঁচটি ঘরে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ছবি: নিউজবাংলা

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, কায়েতপাড়া ইউনিয়নে বিজয়ী ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন এবং পরাজিত প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ ২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

এ সময় আওয়ামী লীগের এক নেতার বাড়িসহ পাঁচটি ঘরে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাউরা এলাকায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন মো. ইউসুফ ও রেনু বেগম। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এসপি জানান, কায়েতপাড়া ইউনিয়নে বিজয়ী ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন এবং পরাজিত প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের খবর দিয়ে আগুনও নেভানো হয়েছে।

ভোট নিয়ে বিবাদে বাড়িঘরে আগুন গুলি
রূপগঞ্জে নির্বাচনি সহিংসতায় আহত একজন

তিনি আরও জানান, পুলিশ এরই মধ্যে অভিযান শুরু করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউপি নির্বাচনে জয়-পরাজয় নিয়ে মোশাররফের লোকজনের সঙ্গে জসিমের লোকজন দুদিন ধরেই ছোটখাট বিবাদে জড়াচ্ছিলেন। এর জেরে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই সময় মোশাররফসহ তার পাঁচ সমর্থকের বাড়িঘরে আগুন দেয়া হয়।

ভোট নিয়ে বিবাদে বাড়িঘরে আগুন গুলি

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নুর জাহান আরা খান জানান, রাত ১০টার দিকে গুলিবিদ্ধ একজনকে হাসপাতালে আনা হলে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ছাড়া আহত অবস্থায় হাসপাতালে এসেছেন অন্তত ১০ জন। তাদেরকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
মণ্ডপে কোরআন: ইকবালসহ চারজন আদালতে
সাম্প্রদায়িক সংঘাত: লক্ষ্মীপুরে গণঅনশন
হবিগঞ্জে কালী মন্দিরে ভাঙচুর
ঢাবির কনসার্টে সহিংসতা প্রতিহতের ডাক
পীরগঞ্জ হামলার অন্যতম হোতা গ্রেপ্তার: র‍্যাব

শেয়ার করুন