পঞ্চগড়ের মোটা বালু, অব্যবস্থাপনায় রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

পঞ্চগড়ের মোটা বালু, অব্যবস্থাপনায় রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

পঞ্চগড়ের নদ-নদীতে উজান থেকে আসা নুড়ি পাথর, সিলিকা ও মোটা দানার বালুর চাহিদা রয়েছে সারা দেশে। ছবি: নিউজবাংলা

পঞ্চগড় জেলার প্রায় ২০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রয়েছে প্রাকৃতিক এই সম্পদের ক্ষেত্র। করতোয়া, মহানন্দা, ডাহুক, চাওয়াই, করুম, ভেরসাসহ অন্যান্য নদীর বিশাল এলাকা থেকে তোলা হচ্ছে মোটা ও সিলিকা বালু। এসব বালু বিভিন্ন স্থাপনা, সড়ক, বহুতল ভবনসহ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ের ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে ছোট-বড় অর্ধশতাধিক নদ-নদী। এসব নদ-নদীতে উজান থেকে আসে মূল্যবান নুড়ি পাথর, সিলিকা ও মোটা দানার বালু।

গুণগত মানের কারণে পঞ্চগড়ের সিলিকা ও মোটা দানার বালুর চাহিদা এখন দেশজুড়ে। তবে সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। পাশাপাশি বালু সংরক্ষণ ও বিপণনে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে।

পঞ্চগড় জেলার প্রায় ২০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রয়েছে প্রাকৃতিক এই সম্পদের ক্ষেত্র। করতোয়া, মহানন্দা, ডাহুক, চাওয়াই, করুম, ভেরসাসহ অন্যান্য নদীর বিশাল এলাকা থেকে তোলা হচ্ছে মোটা ও সিলিকা বালু। এসব বালু বিভিন্ন স্থাপনা, সড়ক, বহুতল ভবনসহ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা থেকে ভজনপুর-তেঁতুলিয়া বাংলাবান্ধা এলাকা পর্যন্ত করতোয়াসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পাড়ে প্রায় হাজারখানেক স্থান থেকে বালু তোলা হয়। সারা বছর এসব স্থান থেকে দিন-রাত চলে বালু উত্তোলনের কর্মযজ্ঞ।

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন এসব বালু শত শত ট্রাকে ঢাকা, বগুড়া, রাজশাহী, চাঁপাই, পাবনা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, খুলনাসহ পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন জেলায়।

পঞ্চগড়ের মোটা বালু, অব্যবস্থাপনায় রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

নদী থেকে বালু উত্তোলন, পরিবহন ও বালু ব্যবসায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত দুই লাখের বেশি মানুষ। একজন বালুশ্রমিক সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আয় করেন ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত।

পরিবেশ ও প্রকৃতি নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, জেলার ভূগর্ভস্থ নুড়ি পাথর এবং বিভিন্ন নদ-নদীর সিলিকা ও মোটা দানার বালু উত্তোলন, বিপণন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে সরকারি কোনো নীতিমালা নেই। এতে কিছু মানুষ বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে ইজারা দিয়ে লাভবান হচ্ছে।

এতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। আর পরিবেশ বিপর্যয় করে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এসব সম্পদ আহরণ করায় জেলার জীববৈচিত্র্যে নানা প্রভাব পড়ছে।

পঞ্চগড় জেলা আইনজীবী সমিতির জ্যেষ্ঠ সদস্য আবু বক্কর সিদ্দীক বলেন, ‘পঞ্চগড় জেলায় ভূগর্ভস্থ সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণে সরকারের সুষ্ঠু কোনো পরিকল্পনা নেই। বর্তমানে জমি যার, খনি তার এই নীতিতেই চলছে। পরিকল্পিতভাবে এসব সম্পদের ব্যবহার করতে না পারলে ভবিষ্যতে পরিণতি খারাপ হবে।’

অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের বলেন, ‘নদীকেন্দ্রিক এই জনপদের বালু, পাথরসহ অন্যান্য সম্পদ সংরক্ষণ, বিপণন যেভাবে চলছে, তাতে সম্ভাবনার জায়গাগুলো অতি দ্রুতই বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।

পঞ্চগড়ের মোটা বালু, অব্যবস্থাপনায় রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

প্রতিদিন শত শত ট্রাকে করে অতিরিক্ত লোড নিয়ে বালু-পাথর পরিবহন করায় গ্রামীণ জনপদের রাস্তাঘাট ভেঙে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। আর লাভবান হচ্ছে একটি মহল। জাতীয় স্বার্থে সরকারের এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।’

তবে বালু ব্যবসায়ীদের দাবি, সব খরচ বাদ দিয়ে তাদের খুব বেশি লাভ থাকে না।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার বটতলীর বালু ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বাবলু জানান, ১০ চাকার একটি ট্রাকে মান অনুযায়ী ৮ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকার বালু বিক্রি হয়। এ ক্ষেত্রে ইজারাদারকে দিতে হয় ৮০০ টাকা।

নিজের নৌকার খরচসহ শ্রমিকদের আনুষাঙ্গিক উপকরণ সরবরাহ করতে হয়। ট্রাকপ্রতি বালু শ্রমিকদের দিতে হয় পাঁচ হাজার টাকা। সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ট্যাক্স।

ইজারাদার আব্দুর রহমান জানান, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিবছর বালুমহালের ডাক বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ব্যবসায় তেমন লাভ আর হয় না। তবে এলাকার শ্রমিকরা খেয়ে-পরে জীবন চালাতে পারছেন।

জেলা পাথর-বালু ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আবু সালেক বলেন, ‘জেলার ১৫টি বালুমহাল থেকে চলতি বছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৩১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া স্থানীয় অর্থ বাণিজ্যে এই শিল্প ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। সঠিক নীতিমালা অনুসরণ করে এই সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করতে পারলে অর্থ বাণিজ্যে এই জেলা স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।’

পঞ্চগড় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট জানান, এখানকার বালুর গুণগত মান উন্নত। দেশে চাহিদা রয়েছে প্রচুর। সঠিক ব্যবস্থাপনায় সুষ্ঠু বিপণনে সরকার কাজ করছে। দেশের কংক্রিট শিল্পে বড় ধরনের অবকাঠামো উন্নয়নে এই বালুর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

পঞ্চগড় সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এই জেলার মোটা দানার বালু দেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে চলে যাচ্ছে। সরবরাহ ও বন্দোবস্তের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল হতে পারলে সরকার লাভবান হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মৎস্য ঘেরে পড়েছিল কৃষকের নিথর দেহ

মৎস্য ঘেরে পড়েছিল কৃষকের নিথর দেহ

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করছে পুলিশ।

বাগেরহাটের কচুয়া থেকে নিখোঁজের একদিন পর কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বারুইখালী গ্রামের একটি মাছের ঘের থেকে শনিবার দুপুরে মিঠু শেখের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মিঠুর বাড়ি এই গ্রামে। ২৫ নভেম্বর রাত ১১ টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তিনি। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যার মাছের ঘের থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে তার নাম মো. মিঠু।

কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করছে পুলিশ।

নিহতের বড় ছেলে তানভীর শেখ বলেন, ‘আমার বাবা স্থানীয় একটি মাছের ঘেরের কাছে সবজি চাষ করতেন। যে ব্যক্তি মাছ চাষ করতেন তার সঙ্গে কিছুদিন আগে ঝগড়া হয়েছিল। এ ছাড়া চাচাদের সঙ্গেও জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এর জের ধরে হত্যার ঘটনা ঘটতে পারে।

শেয়ার করুন

দুই ভাইয়ের কাকে দেবেন ভোট, দ্বিধায় ভোটাররা

দুই ভাইয়ের কাকে দেবেন ভোট, দ্বিধায় ভোটাররা

মমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকে লড়ছেন ফজলার রহমান। ছবি: নিউজবাংলা

ফজলার রহমান বলেন, ‘ভোটে ভাই ভাই বলতে কিছু নাই। সে তার ভোট করছে, আমি আমার ভোট করছি। তবে এই এলাকা লাঙ্গলের। গতবার লাঙ্গলের কাছে নৌকা হেরেছে। এবার প্রশাসন কোনো ডিস্টার্ব না করলে লাঙ্গলের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।’

মমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদে টানা ১৪ বছর ধরে চেয়ারম্যান ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জমির উদ্দিন। তার মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টি থেকে ভোটের লড়াইয়ে জয়ী হন পুত্রবধূ সুলতানা আক্তার কল্পনা।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে রংপুর সদর উপজেলার ১ নম্বর মমিনপুর ইউনিয়নে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জমিরের দুই ছেলে।

কল্পনার স্বামী ফজলার রহমান পেয়েছেন জাতীয় পার্টির দলীয় প্রতীক লাঙ্গল ও তার ছোট ভাই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কামরুল ইসলাম প্রামাণিক লড়ছেন ঢোল প্রতীকে।

দুই ভাইয়ের চেয়ারম্যান পদে লড়াই নিয়ে এলাকায় চলছে বেশ আলোচনা। রোববারের ভোটে দুই ভাইয়ের কে জয়ী হবেন বা আদৌ কেউ জয় পাবেন কি না তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা।

মমিনপুর বাজারের মোস্তাকিম হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভাই-ভাই ভোট করছে। শুক্রবার পর্যন্ত সকালে আইছে এক ভাইয়ের লোক, বিকালে আইছে আরেক ভাইয়ের লোক। কাকে ভোট দেমো সেটা সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। আবার আওয়ামী লীগের প্রার্থীও আছে। আমরা পড়ছি বিপদে, কাকে ছাড়ি কাকে ভোট দেই!’

দুই ভাইয়ের কাকে দেবেন ভোট, দ্বিধায় ভোটাররা

দক্ষিণ মমিনপুর মিলের বাজার এলাকার আব্দুল লতিফ বলেন, ‘কয়েক বছর থাকি তো ওরা চেয়ারম্যানি করোচে (করছে)। এবার দুই ভাই দাঁড়াইচে। আরও পাঁচজন আছে। মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে পারোচে (পারছে) না। শোনোচি (শুনছি) খালি টাকার খেলা হওচে (হচ্ছে)।’

সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ফজলার ও কামরুল বাদে বাকি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত রেজাউল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফজলুল হক, আওয়ামী লীগ থেকে সদ্য বহিষ্কৃত আনারস প্রতীকের মিনহাজুল ইসলাম, মোটরসাইকেল প্রতীকের জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী রেজাউল করিম ও ঘোড়া প্রতীকের ফরহাদ হোসেন চৌধুরী।

নির্বাচনের বিষয়ে ফজলার রহমান বলেন, ‘ভোটে ভাই ভাই বলতে কিছু নাই। সে তার ভোট করছে, আমি আমার ভোট করছি। তবে এই এলাকা লাঙ্গলের। গতবার লাঙ্গলের কাছে নৌকা হেরেছে। এবার প্রশাসন কোনো ডিস্টার্ব না করলে লাঙ্গলের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।’

কামরুল বলেন, ‘বাবা চেয়ারম্যান ছিলেন। এলাকায় তিনি অনেক সম্মানি ছিলেন। আমি ভোট করতে চাইনি, সাধারণ মানুষের কারণে দাঁড়াতে হয়েছে। যেহেতু ভোটাররাই আমাকে দিয়ে ভোট করাচ্ছে তাই তারা আমার সম্মান রাখবে। মানুষের কাছ থেকে বেশ সাড়া পাচ্ছি।’

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, নির্বাচন নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। ভোটের সুন্দর পরিবেশ আছে। কোনো প্রার্থীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সব প্রার্থী সহযোগিতা করলে সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট সম্ভব।

শেয়ার করুন

পিলারে বাইকের ধাক্কা: সেনা সদস্য নিহত

পিলারে বাইকের ধাক্কা: সেনা সদস্য নিহত

ওসি জিয়াউল হক বলেন, শুক্রবার সিলেট থেকে সেনা সদস্য দেলোয়ার হোসেন নোয়াখালীতে আসেন। সদরে বোনের বাড়ি থেকে শনিবার সকালে ভগ্নিপতি শরীফকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে স্বর্ণদ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। তাদের বাইকটি আবদুল্যাহ মিয়ার হাট এলাকায় পৌঁছলে পিলারের সঙ্গে ধাক্কা খায়। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় দেলোয়ারের।

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল আরোহী সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে তার সঙ্গী।

উপজেলার আবদুল্যাহ মিয়ার হাট বাজার এলাকায় শনিবার বেলা ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দেলোয়ার হোসেন চাটখিল উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের হুমায়ুন কবিরের ছেলে এবং সিলেট সেনা ক্যাম্পে সৈনিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আহত মো. শরীফ সদর উপজেলার পূর্ব এওজবালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই সেনা সদস্যের ভগ্নিপতি।

চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পরিবারের বরাতে তিনি বলেন, শুক্রবার সিলেট থেকে তিনি নোয়াখালীতে আসেন। সদরে বোনের বাড়ি থেকে শনিবার সকালে ভগ্নিপতি শরীফকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে স্বর্ণদ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা করেন দেলোয়ার। তাদের মোটরসাইকেলটি আবদুল্যাহ মিয়ার হাট এলাকায় পৌঁছলে একটি ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে সড়কের পাশের একটি পিলারের সঙ্গে ধাক্কা খায়।

মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দেলোয়ারের। গুরুতর আহত হন শরীফ। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সৈয়দ মহি উদ্দিন আবদুল আজিম বলেন, দেলোয়ারকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। আহত শরীফকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ওসি জিয়াউল হক বলেন, ময়নাতদন্তের পর নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

শেয়ার করুন

পোড়া ঘরে পড়ে আছে ‘সুইটির বই’

পোড়া ঘরে পড়ে আছে ‘সুইটির বই’

টঙ্গীর মাজার বস্তিতে ধ্বংসস্তুপে নিজের বই দেখে সুইটি নামে এক শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে জানিয়েছে তার স্বজনরা। ছবি:

শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্ডেন স্কুলে পড়ে আমার মেয়ে সোনালি। আগুন নিভে যাওয়ার পর ধ্বংসস্তুপে নিজের বই-খাতা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছে মেয়েটি।’

তিন রুমের ঘরে অঙ্গার খাট, ড্রেসিং, টেবিল। পুড়ে যাওয়া আসবাবের পাশে পড়ে আছে কিছু বই। বইয়ের পাতায় লেখা সোনালি আফরোজা সুইটি। নামটি দেখে একজনকে জিজ্ঞেস করতেই কেঁদে ফেললেন তিনি।

শহিদুল ইসলাম নামে ওই ব্যক্তি জানান, স্বজন নিয়ে দৌড়ে পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে এলেও তার শেষ সম্বলটুকু পুড়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্ডেন স্কুলে পড়ে আমার মেয়ে সোনালি। আগুন নিভে যাওয়ার পর ধ্বংসস্তুপে নিজের বই-খাতা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছে মেয়েটি।’

শনিবার রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে তখন আগুন ছড়িয়ে পড়ে টঙ্গী মাজার বস্তিতে। পুড়ে যায় পাঁচ শতাধিক ঘর। দুইঘণ্টা ধরে জ্বলতে থাকা আগুনে কেউ নিহত না হলেও বেশ কয়েকজন আহত হন। সব হারিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষজন এখন খোলা আকাশের নিচে। সহায়তার হাত বাড়িয়ে পাশে দাঁড়ানোর আকুতি বস্তিবাসীর।

ফায়ার সার্ভিস কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাতের কথা জানালেও বস্তিবাসী মনে করছে বৈদ্যুতিক লাইন থেকে অগ্নিকাণ্ড হয়েছে।

স্থানীয় ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন সরকার জানান, পানির সংকট থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সাত দিনের খাদ্য কর্মসূচি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজীপুর সিটির ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ। তিনি বলেন, তাদের তিন বেলা খাবার দেয়া হবে। পরে স্থানীয় প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এবং সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তাদের পুনর্বাসন করা হবে।

একই বস্তিতে ২০০৫ সালেও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

শেয়ার করুন

সাবেক ডিসির দণ্ড মওকুফ: হতাশ সাংবাদিক আরিফুল

সাবেক ডিসির দণ্ড মওকুফ: হতাশ সাংবাদিক আরিফুল

বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগান। ছবি: সংগৃহীত

আরিফুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি হতাশ। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবক। তিনি আমার বিষয়টিও দেখতে পারতেন। আইন সবার জন্য। সরকারি চাকরিজীবীর আইনটি বাতিল করা প্রয়োজন।’

নির্যাতনের ঘটনায় আলোচিত কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনের দণ্ড মওকুফে হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগান।

মধ্যরাতে আরিফুলকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় সুলতানার ‘লঘুদণ্ড’ মওকুফ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

সাবেক ডিসির আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে দেয়া ‘দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা’র দণ্ডাদেশ বাতিল করে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ২৩ নভেম্বরের প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর রয়েছে সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজমের।

এ নিয়ে শনিবার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আরিফুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি হতাশ। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবক। তিনি আমার বিষয়টিও দেখতে পারতেন। আইন সবার জন্য।

‘সরকারি চাকরিজীবীর আইনটি বাতিল করা প্রয়োজন। জনগণ রাষ্ট্রের মালিক হলেও এই আইনের সাথে সাংঘর্ষিক। যেহেতু আমার মামলাটি হাইকোর্টে আছে, সেখানে আমি ন্যায়বিচার পাব বলে আশাবাদী।’

কী হয়েছিল আরিফুলের সঙ্গে

২০২০ সালের ১৩ মার্চ মধ্যরাতে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের বাসায় হানা দিয়ে তাকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে ক্রসফায়ারের হুমকিসহ ডিসি অফিসে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।

এরপর অধূমপায়ী আরিফের বিরুদ্ধে আধা বোতল মদ ও দেড় শ গ্রাম গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ এনে ওই রাতেই এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ১৫ মার্চ আরিফ জামিনে মুক্তি পান।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে কুড়িগ্রামের তখনকার ডিসি সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দীন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। একই সঙ্গে এ ঘটনায় বিভাগীয় অভিযোগ করা হয়। ঘটনা তদন্তে কমিটি করে মন্ত্রণালয়।

শেয়ার করুন

মারধরে চালক নিহতের অভিযোগে বাস বন্ধ

মারধরে চালক নিহতের অভিযোগে বাস বন্ধ

মিনিবাস চালক আব্দুর রহিম নিহতের অভিযোগে দুই রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে পরিবহন শ্রমিকরা। ছবি: নিউজবাংলা

চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘সন্ধ্যায় রাস্তায় সাইড দেয়া নিয়ে একটি নোহা গাড়ির যাত্রীরা রহিমকে প্রচণ্ড মারধর করে। হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা এখন চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে।’

চট্টগ্রামে মারধরের জেরে মিনিবাসচালক নিহতের অভিযোগে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

মিনিবাসচালক আব্দুর রহিম নিহতের অভিযোগে শনিবার সকালে পরিবহন শ্রমিকরা হাটহাজারীতে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক অবরোধ করেন।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মৃত্যু হয় ৩ নম্বর সিটি সার্ভিসের চালক আব্দুর রহিমের। রহিমের বাড়ি রাউজানের গহিরা এলাকায়।

রহিমের ভাতিজা মো. শাকিল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যায় ফতেয়াবাদ থেকে বাস নিয়ে চট্টগ্রাম নিউ মার্কেটে যাওয়ার সময় বায়েজিদ থানা এলাকায় আতুরার ডিপোতে আমার চাচাকে কারা নাকি মারধর করছে। পরে রাত ১০টার দিকে চাচা চট্টগ্রাম মেডিক্যালে মারা গেছেন।

‘যারা মারছে তারা নাকি একটি নোহা গাড়ির যাত্রী ছিল বলে শুনছি। আমি আর কিছু জানি না।’

চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘সন্ধ্যায় রাস্তায় সাইড দেয়া নিয়ে একটি নোহা গাড়ির যাত্রীরা রহিমকে প্রচণ্ড মারধর করে। হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে। এর প্রতিবাদে সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।

‘পরে সার্কেল এসপি, ওসি ও আমরা গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে অবরোধ উঠিয়ে দিই। তবে শ্রমিকরা এখন চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে।’

বাসচালক মৃত্যুর বিষয়ে বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘মারধরে বাসচালক মৃত্যুর বিষয়ে আমরা জানতে পারিনি। সাধারণত হাসপাতালে কেউ অস্বাভাবিক কারণে মারা গেলে আমাদের ইনফর্ম করা হয়। তবে এখন যেহেতু জেনেছি, দ্রুত খোঁজ নিচ্ছি।’

অবরোধের বিষয়ে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব শর্মা জানান, সকালে শ্রমিকরা হাটহাজারী স্টেশনে জড়ো হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর তাদের বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

রাজিব বলেন, ‘শ্রমিকরা কেন সড়ক অবরোধ করেছে, সেই বিষয়টি আসলে ক্লিয়ার না। শ্রমিক নেতারা ভালো বলতে পারবেন।’

শেয়ার করুন

ঝোপঝাড়ে নান্দনিক বাগান কুমিল্লার ডিসির

ঝোপঝাড়ে নান্দনিক বাগান কুমিল্লার ডিসির

ডিসি বলেন, ‘আমি ছোট বেলা থেকেই সবজি বাগান করতাম। যখন সহকারী কমিশনার ভূমি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করি তখন সবজি বাগান করা আমার নেশা হয়ে দাঁড়ায়। ওই সময় আমি ছাদ বাগান গড়ি।’

কুমিল্লা বোটানিক্যাল গার্ডেনের প্রবেশপথের দুপাশে কয়েক মাস আগেও ছিল ঝোপঝাড় ও খানাখন্দ। জঙ্গল পরিষ্কারের পর ভূমি সমতল করে সেখানে লাগানো হয়েছে সবজি ও ফলের গাছ।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান প্রায় একশ শতক পতিত জমিতে এই বাগান গড়ে তুলেছেন।

তার বাগানে আছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ধনেপাতা, মরিচ, শিমসহ হরেক রকম শীতকালীন সবজি। আছে আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, জামরুল, আনারস ও সফেদার গাছ। এ ছাড়া ভেষজ উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে হরিতকি, বাসক, বহেরা ও অর্জুন।

বেশ কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান নিজেও সবজি ও ফলবাগান পরিচর্যা করেন নিয়মিত।

ঝোপঝাড়ে নান্দনিক বাগান কুমিল্লার ডিসির
পতিত জমিতে কাজ করছেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান

ডিসি বলেন, ‘আমি ছোট বেলা থেকেই সবজি বাগান করতাম। যখন সহকারী কমিশনার ভূমি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করি তখন সবজি বাগান করা আমার নেশা হয়ে দাঁড়ায়। ওই সময় আমি ছাদ বাগান গড়ি।’

‘বিশেষ করে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আমি প্রচুর সবজি বাগান করি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে আমি আমার বাগানে উৎপাদিত সবজি বিতরণ করে থাকি।’

তিনি আরও বলেন, আমার বাগানে সূর্যমুখী, গাঁদা, গোলাপসহ নানা প্রজাতির ফুলের গাছ রয়েছে। কিছুদিন পর বাগান থেকে সবজি ও বিভিন্ন ফল পাওয়া যাবে। পরিকল্পনা আছে বাগানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসব। তাদের মাঝে সবজি ও ফল বিতরণ করব। যেন শিক্ষার্থীরা বাগান করতে উদ্বুদ্ধ হয়।

বাগান করার ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুপ্রেরণা রয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, ‘আমার স্ত্রী উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। বাগান করার ক্ষেত্রে তার অনুপ্রেরণা আমাকে উৎসাহিত করে।’

বাগানের বড় গাছগুলোতে পাখিদের জন্য গাছে টানিয়েছেন মাটির কলস। যেখানে পাখি এসে আবাস গড়েছে।

শেয়ার করুন