লক্ষ্মীপুরের সেই তাহের বাদ, নৌকা পেলেন মাসুম

লক্ষ্মীপুরের সেই তাহের বাদ, নৌকা পেলেন মাসুম

আবু তাহের (বাঁয়ে), মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া। ছবি: সংগৃহীত

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু জানান, লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করাই হলো এখন মূল কাজ। বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন না দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আলোচনায় আসা লক্ষ্মীপুরের সেই আবু তাহেরকে এবার পৌরসভার মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। এ পদে দল এবার আস্থা রেখেছে জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়ার ওপর।

শুক্রবার বিকেলে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলটির স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়।

আগামী ২৮ নভেম্বর লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ভোট।

দলের নেতা-কর্মীরা জানান, আবু তাহের লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। দলীয় মনোনয়নে লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় টানা দুবার মেয়র নির্বাচিত হন তিনি।

দলীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবু তাহের লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আইনজীবী নুরুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় তিনি সারা দেশে আলোচনায় আসেন।

গত ১০ ডিসেম্বর পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য আবু তাহেরের নাম বাদ দিয়ে ১০ নেতার নাম কেন্দ্রে জমা দেয় জেলা আওয়ামী লীগ। তাহেরকে পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন না দেয়ার অনুরোধ করে দলের সভাপতির কাছে চিঠি দেন জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

সাবেক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সাংসদ এ কে এম শাহজাহান কামাল ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক নুরউদ্দীন চৌধুরীসহ চার নেতা চিঠিতে সই করেন।

এ বিষয়ে একাধিকবার আবু তাহেরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলীয় মনোনয়ন চেয়ে তিনি পাননি। সেটা দলের সিদ্ধান্ত। এর বাইরে কোনাে কথা বলতে রাজি হননি কেউ।

মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া জানান, দল এবার তাকে মূল্যায়ন করেছে। দলের দুঃসময়ে নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলেন। এ ছাড়া আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থেকে সব কর্মসূচি পালন করেছেন। যখন যেভাবে সুযোগ পেয়েছেন এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছেন।

নির্বাচনে বিজয়ী হলে লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবেন তিনি।

মাসুম জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি প্রয়াত আ ন ম ফজলুল করিমের ভাগনে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু জানান, লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করাই হলো এখন মূল কাজ। বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন না দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চার স্কুলছাত্রকে অপহরণ, ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

চার স্কুলছাত্রকে অপহরণ, ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

নিখোঁজ কায়সারের চাচা মোহাম্মদ তাহের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জাহাঙ্গীর ও ইব্রাহীম চারজনকে সেন্টমার্টিন বেড়াতে নেয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে নিয়ে যান। পরে তাদের মুঠোফোন ব্যবহার করে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে।’ 

কক্সবাজার রামুর খুনিয়াপালংয়ে চার স্কুলছাত্র অপহরণের শিকার হয়েছে। সেন্টমার্টিন বেড়াতে নেয়ার কথা বলে তাদের অপহরণের পর ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনে কল দিয়ে দফায় দফায় টাকা দাবি করছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।

অপহৃতরা হলো, রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পেচারদ্বীপের মংলা পাড়া এলাকার মোহাম্মদ কায়সার, মিজানুর রহমান নয়ন, জাহেদুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান। তাদের মধ্যে জাহেদুল সোনারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়ে। বাকিরা অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।

রামু থানায় করা অভিযোগে বলা হয়েছে, পেচারদ্বীপের বাতিঘর নামে একটি কটেজের কর্মচারী জাহাঙ্গীর আলম ও মো. ইব্রাহীমের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় চার স্কুলছাত্রের। সে সুবাদে গত ৭ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে চারজনকে সেন্টমার্টিন বেড়াতে নেয়ার কথা বলে টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকায় নিয়ে যান জাহাঙ্গীর ও ইব্রাহীম।

বেড়াতে যাওয়ার পর থেকে ওই চারজনের খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজের ২৪ ঘন্টা পর ৮ ডিসেম্বর বুধবার দুপুরে স্বজনদের কাছে বিভিন্ন অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে তাদের মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। আর তা না পেলে মরদেহ ফেরত পাঠানোর হুমকি দেয়া হচ্ছে।

অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর ও ইব্রাহীম টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ২৬ নং ব্লকের বাসিন্দা। তারা দুইজনই বাতিঘর কটেজের কর্মচারী বলে স্থানীয়রা জানান।

নিখোঁজ জাহেদুলের বাবা আব্দুস সালাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ছেলেদের নিয়ে গেছে ওই দুইজন। খোঁজখবর নিতে ফোন দিলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। জাহাঙ্গীর ও ইব্রাহীমের মোবাইল ফোনও বন্ধ। বুধবার দুপুরে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী পরিচয়ে মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।’

নিখোঁজ কায়সারের চাচা মোহাম্মদ তাহের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জাহাঙ্গীর ও ইব্রাহীম চারজনকে সেন্টমার্টিন বেড়াতে নেয়ার কথা বলে নিয়ে যান। পরে তাদের মুঠোফোন ব্যবহার করে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে।’

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরুপ কুমার চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যেহেতু বিষয়টি টেকনাফে ঘটেছে, তাই তাদের সেখানে অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছি। আমরা তাদের সহযোগীতায় বিষয়টি তদন্ত করব।’

শেয়ার করুন

প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ নিজ ঘরে

প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ নিজ ঘরে

প্রতীকী ছবি।

মৃতের নাম মারুফা বেগম। তার বাড়ি পিরোজপুর জেলায়। স্বামী আল আমিন কুয়েত প্রবাসী। চার বছরের সন্তান নিয়ে সাভার নরসিংহপুরের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তিনি। কাজ করতেন একটি পোশাক কারখানায়।

ঢাকার সাভারে ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার হয়েছে এক গৃহবধূর মরদেহ। আশুলিয়া নরসিংহপুরের বাড়িটি থেকে বুধবার রাত ১০টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার হয়।

মৃতের নাম মারুফা বেগম। তার বাড়ি পিরোজপুর জেলায়। স্বামী আল আমিন কুয়েত প্রবাসী। চার বছরের সন্তান নিয়ে তিনি নরসিংহপুরের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। কাজ করতেন একটি পোশাক কারখানায়।

মৃতের ছেলের বরাতে তার মামী আসমা বেগম বলেন, ‘মারুফার চাচাতো দেবর প্রতিদিন দুপুরে তার বাসায় খেতে আসতেন। বুধবার দুপুরে তার সঙ্গে মারুফার ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে গলা টিপে তাকে হত্যা করে দেবর। তারপর বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে চলে যায়। ছেলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন দরজা খুলে মারুফাকে মৃত অবস্থায় পায়।‘

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাচিব সিকদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্থানীয়দের খবরে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। মনে হচ্ছে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

শেয়ার করুন

চবিতে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগে ইমামকে পিটুনি

চবিতে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগে ইমামকে পিটুনি

বলাৎকার চেষ্টার অভিযোগে ইমামকে গণপিটুনি দেয় শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রত্যক্ষদর্শী ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের ছাত্র জুবায়ের নূর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ক্যান্টিনের এক ছেলেকে পেছনের বাগানে বলাৎকারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যান শহিদুল। কিছুক্ষণ পর ছেলেটি চিৎকার করলে তার ভাই ও কয়েকজন ছাত্র হাতেনাতে শহিদুলকে আটক করে। পরে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে পেটায়।’ 

ক্যান্টিনে কর্মরত এক কিশোরকে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স মসজিদের পেশ ইমামকে পিটুনি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইন্সটিটিউট প্রাঙ্গণে বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ইমামের নাম শহিদুল ইসলাম। তার বাড়ি হাটহাজারী উপজেলায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের ছাত্র জুবায়ের নূর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ক্যান্টিনের এক ছেলেকে পেছনের বাগানে বলাৎকারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যান শহিদুল। কিছুক্ষণ পর ছেলেটি চিৎকার করলে তার ভাই ও কয়েকজন ছাত্র হাতেনাতে শহিদুলকে আটক করে। পরে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে পেটায়।

‘ছেলেটির বয়স ১৩ থেকে ১৪ বছর হবে। তার বড় ভাইও ক্যান্টিনে কাজ করে। এর আগে তাকেও (বড় ভাইকে) যৌন হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ আছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভুঁইয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা ওই ইমামকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে তার পরিবারের লোকজন এসে চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নিয়ে যান।’

তদন্ত কমিটি করে ওই ইমামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভুঁইয়া।

শেয়ার করুন

নারীকে লাঞ্ছনাকর সাজা, ইউপি সদস্য বললেন ‘কম শাস্তি’

নারীকে লাঞ্ছনাকর সাজা, ইউপি সদস্য বললেন ‘কম শাস্তি’

নারীকে লাঞ্ছনার ভাইরাল ভিডিও থেকে নেয়া ছবি। নিউজবাংলা

ওই নারীকে লাঞ্ছনা করার কথা স্বীকার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য কাওসার চৌধুরী জানিয়েছেন, স্বামী বিদেশ থাকার সুযোগে তিনি যে অপরাধ করেছেন, তার জন্য এটি ‘কম শাস্তি’।

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে বিয়েবহির্ভূত সর্ম্পকের অভিযোগ তুলে এক গৃহবধূকে প্রকাশ্যে জুতার মালা পরিয়ে লাঠিপেটা করা হয়েছে। এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে ফেসবুকে।

ওই নারীকে লাঞ্ছনা করার কথা স্বীকার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য কাওসার চৌধুরী বলেন, স্বামী বিদেশ থাকার সুযোগে তিনি যে অপরাধ করেছেন, তার জন্য এটি ‘কম শাস্তি’।

লাঞ্ছিত ওই নারী নিউজবাংলাকে জানান, মারধরের পর তার টাকা ও গয়না ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। সামাজিকভাবে তিনি হেয় হয়েছেন।

এ ঘটনা উপজেলার চুনখোলা ইউনিয়নের সিংগাতী গ্রামের।

ইউপি সদস্য কাওসার চৌধুরীসহ গ্রামের কয়েকজন লোক অভিযোগ করেন, বিভিন্ন লোকের সঙ্গে ওই নারীর বিয়েবর্হিভূত সম্পর্ক ছিল।

ইউপি সদস্য বলেন, ‘এগুলো আমাদের কাছে খারাপ লাগে। সোমবার রাতে নিজের মেয়ের শ্বশুরের সঙ্গে ওই নারীকে এক ঘরে পেয়ে তাদেরকে ধরা হয়। এরপর তার বিচার করা হয়।

‘কেবল জুতার মালা গলায় দিয়ে ও কঞ্চির লাঠি দিয়ে বাড়িয়ে লাঞ্ছিত করছি, তার বিচার আরও কঠিন হওয়া উচিত ছিল।’

ওই নারী বলেন, ‘আমার বাড়ির আশপাশের লোকজন আমাকে ধরে আমার সিঁড়ির কাছে নিয়ে আমার গলায় চেইন ছিল এক ভরি ওজনের, আট আনা ওজনের কানের দুল ও ৯৫ হাজার টাকা দামের একটি মোবাইল নিয়ে গেছে। কাওসার মেম্বার ও জানিক ছিল, এরা আমারে জুতার মালা দেছে ও কঞ্চি দিয়ে বাইড়াইছে।

‘আমি এর বিচার প্রশাসনের কাছে চাই। আর এই যে ভিডিও সব জায়গা ছড়াইছে, আমার মানসম্মান যা যাবার তা তো গেইছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এ খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিন্দ্য মন্ডল ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রুনীয়া আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

অনিন্দ্য মন্ডল নিউজবাংলাকে বলেন, 'ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে পাওয়া যায়নি। শোনা গেছে তিনি ওই ঘটনার পর গ্রাম ছেড়েছেন।'

রুনীয়া আক্তার বলেন, ‘ওই নারীকে এলাকায় পাওয়া যায়‌নি। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পা‌রি‌নি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে‌ছি। বিষয়‌টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখ‌ছি।’

মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোমেন দাশ বলেন, ‘থানায় অভিযোগ পাইনি, পেলে ব্যবস্থা নেব।’

শেয়ার করুন

ছাত্রদল নেতার মৃত্যু: ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৮ জনের নামে মামলা

ছাত্রদল নেতার মৃত্যু: ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৮ জনের নামে মামলা

পাঁচবিবি পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি নেতা ডালিম নিউজবাংলাকে জানান, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হঠাৎ এসে তার মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মামলা করতে পাঁচবিবি থানায় যান। সেখান থেকে ফোনে ছাত্রদল নেতা ফারুককে পৌর পার্কে ডেকে নিয়ে মারধর করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা-কর্মীরা।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের আট নেতা-কর্মীর নামে মামলা করেছেন নিহতের মা।

পাঁচবিবি থানায় বুধবার সন্ধ্যায় করা এই মামলায় আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় আরও আটজনকে।

এর আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতা-কর্মীকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

তারা হলেন মহীপুর হাজী মহাসীন সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, কুসুম্বা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা আরিফুল ইসলাম, যুবলীগ সদস্য আনিছুর রহমান ও মুজাহিদুল ইসলাম।

পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পলাশ চন্দ্র দেব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মৃত ফারুক হোসেনের মা বিলকিস বেগম এজাহারে লিখেছেন, ফোন করে ডেকে নিয়ে তার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মঙ্গলবার মধ্যরাতে মারা যান পাঁচবিবি পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন। তার বাড়ি পৌর শহরের দানেজপুর এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ওসি পলাশ জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলা যুবলীগের সদস্য আনিছুর রহমান শিপনের সঙ্গে বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ডালিমের তর্ক হয়। এর জেরে শিপন ডালিমের মোটরসাইকেলে পুড়িয়ে দেন।

বিএনপি নেতা ডালিম নিউজবাংলাকে জানান, দলীয় কার্যালয়ে বসে তারা সন্ধ্যায় আলোচনা করছিলেন। সে সময় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হঠাৎ এসে তার মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মামলা করতে পাঁচবিবি থানায় যান। সেখান থেকে ফোনে ছাত্রদল নেতা ফারুককে পৌর পার্কে ডেকে নিয়ে মারধর করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা-কর্মীরা।

ডালিম আরও জানান, ফারুককে তারা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে পাঁচবিবি উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক মিন্নুর বলেন, ‘ফারুক হত্যার সঙ্গে যুবলীগ নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য নয়।’

পাঁচবিবি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ধীমান চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘ছাত্রলীগের কোনো নেতা-কর্মী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকবে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রাফসান জানি বলেন, ‘হাসপাতালে আনার আগেই ফারুকের মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার পকেটে নাইট্রো গ্লিসারিনের একটি প্যাকেট পাওয়া গেছে। হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হতে পারে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’

পাঁচবিবি থানার ওসি পলাশ জানান, বিএনপি নেতার মোটরসাইকেল পোড়ানোর ঘটনায় মামলা হয়েছে।

শেয়ার করুন

ইয়াবা পাচারের দায়ে রোহিঙ্গা মা-ছেলের কারাদণ্ড

ইয়াবা পাচারের দায়ে রোহিঙ্গা মা-ছেলের কারাদণ্ড

২০১৬ সালের ২৮ জুলাই দুপুরে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়ায় অভিযান চালায় বিজিবির একটি দল। সেখান থেকে ৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকা মূল্যের ৩ হাজার ৩৩০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয় রোহিঙ্গা মা-ছেলেকে।

কক্সবাজারে ইয়াবা পাচারের দায়ে এক রোহিঙ্গা নারী ও তার ছেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক মাহমুদুল হাসান বুধবার দুপুরে এ রায় দেন।

আসামিদের মধ্যে মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার মংডুর দলিয়াপাড়ার নুনু বেগমকে ছয় বছরের এবং তার ছেলে মোহাম্মদ ইউনুসকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আবদুর রউফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ২০১৬ সালের ২৮ জুলাই দুপুরে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়ায় অভিযান চালায় বিজিবির একটি দল। সেখান থেকে ৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকা মূল্যের ৩ হাজার ৩৩০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয় আসামিদের।

তাদের নামে টেকনাফ থানায় মাদকের মামলা করেন ২ নম্বর বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের নায়েক সুবেদার গুরুপদ বিশ্বাস।

শেয়ার করুন

হামলায় ভাঙল ইউপি সদস্যের দুই পা

হামলায় ভাঙল ইউপি সদস্যের দুই পা

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন শেখ। ছবি: নিউজবাংলা

সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রুহুল জানান, গত ১১ নভেম্বরের ইউপি নির্বাচনে তিনি সদস্য হিসেবে বিজয়ী হন। এ নির্বাচনে তিনি নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় প্রতিপক্ষের লোকজন।

পিরোজপুর সদরে পুর্ব বিরোধের জেরে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যেকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। হামলা ভেঙে গেছে ওই ইউপি সদস্যের দুই পা।

সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়নে বুধবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। আহত রুহুল আমিন শেখ শিকদারমল্লিক ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. জা. মো. মাসুদুজ্জামান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রুহুল জানান, গত ১১ নভেম্বরের ইউপি নির্বাচনে তিনি সদস্য হিসেবে বিজয়ী হন। এ নির্বাচনে তিনি নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় প্রতিপক্ষের লোকজন।

আমিন অভিযোগ করেন, বুধবার তিনি শিকদারমল্লিক ইউনিয়নের চালিতাখালী গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে সদরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে কদমতলা ইউনিয়নের ঝনঝনিয়াতলা এলাকায় মো. ফারুকসহ ২০ থেকে ২৫ জন লোক তার পথরোধ করে। পরে তাকে তুলে কিছুদূর নিয়ে জিআই পাইপ ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। পিটিয়ে তার দুই পা ভেঙে দেয়া হয়।

সদর হাসপাতালের চিকিৎসক তন্ময় মজুমদার জানান, হাসপাতালে আহত অবস্থায় রুহুলকে আনা হয়। তার দুই পা শক্ত কোনো বস্তুর আঘাতে ভেঙে গেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও আছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সদর থানার ওসি মাসুদুজ্জামান জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে কদমতলা এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন