‘ইয়াবা সেবন নিয়ে তর্কের জেরে বন্ধুকে কুপিয়ে হত্যা’

‘ইয়াবা সেবন নিয়ে তর্কের জেরে বন্ধুকে কুপিয়ে হত্যা’

নিহত সাজ্জাদ হোসেন তাপস। ছবি: নিউজবাংলা

গাজীপুর নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য ছায়াবীথি এলাকায় শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে একে অপরকে কুপিয়ে জখম করেন দুই বন্ধু। পরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে মারা যান তাপস। আর পুলিশ প্রহরায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন শেখর।

গাজীপুরে ইয়াবা সেবনকে কেন্দ্র করে তর্কের জেরে বন্ধুর হাতে একজন খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন অভিযুক্তও।

নিহত ব্যক্তির নাম সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন তাপস। তার বয়স ৫০ বছর। আর অভিযুক্ত ৪৭ বছরের শেখর দাস। তারা দীর্ঘদিনের বন্ধু।

গাজীপুর নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য ছায়াবীথি এলাকায় শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে একে অপরকে কুপিয়ে জখম করেন তারা। পরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে মারা যান তাপস।

আর পুলিশ প্রহরায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন শেখর।

নিউজবাংলাকে শুক্রবার সন্ধ্যায় এসব নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম।

নিহতের স্বজনদের বরাতে তিনি বলেন, ‘তাপস ও শেখর দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবায় আসক্ত। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাপসের বাসায় আসেন শেখর। রাতভর তারা ইয়াবা সেবন করেন।

‘ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ইয়াবা সেবন নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে তর্ক বাধে। একপর্যায়ে তাপস তার ঘরে থাকা চাপাতি দিয়ে শেখরকে আঘাত করেন। জবাবে শেখর সেই অস্ত্র কেড়ে নিয়ে তাপসকে এলোপাতাড়ি কোপান।’

ওসি আরও বলেন, ‘চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাপসের অবস্থার অবনতি হলে উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শেখরকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’

তাপসের মরদেহ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় তাপসের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান ওসি রফিকুল ইসলাম।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শিক্ষার্থীদের চুল কর্তন: ৩ বছর ক্লাস নিতে পারবেন না ফারহানা

শিক্ষার্থীদের চুল কর্তন: ৩ বছর ক্লাস নিতে পারবেন না ফারহানা

শিক্ষার্থীদের চুল কাটায় অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, রবীদ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষা কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রভাষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন শিক্ষার্থীদের পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণ সহ যাবতীয় অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন।

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেয়ায় শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে স্বপদে বহাল রাখলেও তিন বছর শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবনের নোটিশ বোর্ডে রোববার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে অফিস আদেশ দেখা যায়। রেজিস্ট্রার মো. সোহরাব আলী সই করা অফিস আদেশ সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, রবীদ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষা কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রভাষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন শিক্ষার্থীদের পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণ সহ যাবতীয় অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন।

অফিস আদেশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সই করেছেন ২১ নভেম্বরের তারিখে।

গত ২৬ সেপ্টম্বর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় কাচি দিয় ১৪জন শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেয়ার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে অভিযোগ উঠলে ওই বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে বরখাস্তের দাবি জানিয়ে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রায় ১ মাস অচলাবস্থা চলে বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ১৬তম বিশেষ সভায় শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও উত্তেজনা কমেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানায় প্রশাসন।

এ বিষয়ে রবির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যায়ন বিভাগের শিক্ষক ইয়াসমিন বাতেন মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেয়ার ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট।

সেই সঙ্গে ১৪ শিক্ষার্থীকে ২০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তাও জানতে চায় আদালত।

এ সংক্রান্ত এক আবেদনের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি মো. মুজিবর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

একই সঙ্গে সারা দেশে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে একটি গাইড লাইন তৈরিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবেনা তাও জানতে চায় হাইকোর্ট। অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা ৩০ দিনের মধ্যে তা জানাতে বলা হয়।

এছাড়াও মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম সই করা এক আদেশে ২৯ নভেম্বরের মধ্যে ইউজিসিকে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্তের পর অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অফিস আদেশ জারি করেছে।

তবে এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরাও শাস্তির বিষয় নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি সম্মানজনক সমাধান বলে ধরা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে যে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল, তা আশা করা যায় নিরসন সম্ভব হবে।’

শেয়ার করুন

পাহাড় কাটতে মাটিচাপায় শ্রমিক নিহত

পাহাড় কাটতে মাটিচাপায় শ্রমিক নিহত

ফাইল ছবি

পুলিশ জানায়, সড়কের নির্মাণ কাজে বিকেলে দুই গাড়িতে চার শ্রমিক পাহাড় থেকে মাটি আনতে যান। গাড়িতে তোলার সময় পাহাড়ের মাটি ধসে দুইজন চাপা পড়েন। স্থানীয়রা শাহিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রাঙামাটির লংগদুতে পাহাড় কাটতে গিয়ে মাটিচাপা পড়ে শাহিন আলম নামের এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন একজন।

রোববার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার লংগদু ইউনিয়নের বড়াদম বান্দরতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আমিন নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

১৮ বছর বয়সী শাহিন উপজেলার ভাইট্টাপাড়া গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, লংগদুর মুসলিম ব্লক থেকে মাইনী পর্যন্ত সড়কের নির্মাণ কাজে বিকেলে দুই গাড়িতে চার শ্রমিক পাহাড় থেকে মাটি আনতে যান। গাড়িতে তোলার সময় পাহাড়ের মাটি ধসে শাহিন ও নাছির চাপা পড়েন। মাটির নিচ থেকে নাছিরকে উদ্ধার করা গেলেও শাহিন চাপা পড়ে থাকেন।

স্থানীয়রা এসে শাহিনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক আরিফুল ইসলাম তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আরিফুল বলেন, শাহিনের মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য সকালে মর্গে পাঠানো হবে।

পরিবার চাইলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

‘সরকারি গাছ’ বেচে দিলেন চেয়ারম্যান

‘সরকারি গাছ’ বেচে দিলেন চেয়ারম্যান

রাজাপুরের বড়ইয়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

উপজেলার বন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন খান বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে দুটি কাটা গাছ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

ঝালকাঠির রাজাপুরের বড়ইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন সুরু মিয়া সরকারি বনায়নের গাছ বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তবে চেয়ারম্যান সুরু মিয়া গাছগুলো নিজের বলে দাবি করেছেন।

উপজেলার নিজামিয়া এলাকার গাছ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ছয়-সাত মাস আগে সুরু চেয়ারম্যানের কাছ থেকে আমি বেড়িবাঁধের ১০টি গাছ কিনি। ২টি কেটে নেয়ার পর আমি অসুস্থ থাকায় বাকিগুলো কাটা বন্ধ রাখি।

‘শুক্রবার আবার গাছ কাটা শুরু করি। শনিবার সকালে স্থানীয়রা জানান, এগুলো সরকারি গাছ। তারপর আমি কাটা গাছ ফেলে রেখে চেয়ারম্যানকে জানাই।’

বড়ইয়া এলাকার আশ্রব আলী, আব্দুল মন্নান খান, সুলতান মিয়া বলেন, ‘সুরু চেয়ারম্যান কয়েক মাস আগে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের কাছে চল্লিশকাহনিয়া বেড়িবাঁধ এলাকার বেশ কিছু গাছ বিক্রি করেন। স্থানীয়দের বাধায় গাছ কাটা বন্ধ করে চলে যান জাহাঙ্গীর।’

সামাজিক বনায়নের সুবিধাভোগীদের সভাপতি মহারাজ হোসেন বলেন, ‘কেটে ফেলা আকাশমণি গাছ চল্লিশকাহনিয়া সরকারি বনায়নের। গাছ কাটা বা বিক্রি করার এখতিয়ার নেই চেয়ারম্যানের। বিষয়টি আমি বন বিভাগকে জানিয়েছি।’

রাজাপুর উপজেলা বন বিভাগ নিউজবাংলাকে সরকারি গাছ বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

উপজেলার বন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন খান বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে দুটি কাটা গাছ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন সুরু মিয়া গাছের মালিক দাবি করে বলেন, ‘জায়গাও আমার, গাছও আমার। কেটে ফেলা আকাশমণি গাছ আমি রোপণ করেছিলাম। গত ছয়-সাত মাস আগে গাছগুলো বিক্রি করেছি।’

শেয়ার করুন

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৪

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৪

কিশোরগঞ্জে ভোটের পর সহিংসতায় আহত হয়েছেন সদর থানার এক কনস্টেবল। ছবি: নিউজবাংলা

ইসি সচিব জানান, আগের দুই ধাপের তুলনায় এবার সহিংসতা কম হয়েছে। এ কারণে তৃতীয় ধাপের এই নির্বাচন মডেল হতে পারে। এর পরপরই লক্ষ্মীপুর থেকে আসে প্রাণহানির প্রথম খবরটি। এরপর ভোটের পরে সংঘর্ষে মুন্সিগঞ্জে একজন ও নরসিংদীতে দুজন নিহতের খবর পাওয়া যায়। এ ছাড়া ভোট শেষে হট্টগোল হয় মেহেরপুর, কিশোরগঞ্জ ও গাইবান্ধায়।

নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিতে ভোট হয়েছে শান্তিপূর্ণ। তবে এই ভোটেও প্রাণ হারিয়েছেন চারজন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। এমনকি আওয়ামী লীগেরও এক প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন ভয়ভীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে।

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট চলাকালে সংঘর্ষ হয় অন্তত ১০ জেলায়। তবে বিকেল পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

ভোট শেষে রাজধানীতে নিজ কার্যালয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, সহিংসতাহীন নির্বাচন হয়েছে।

আগের দুই ধাপের তুলনায় এবার সহিংসতা কম হয়েছে জানিয়ে তৃতীয় ধাপের এই নির্বাচন মডেল হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর পরপরই লক্ষ্মীপুর থেকে আসে প্রাণহানির প্রথম খবরটি। এরপর নরসিংদী ও মুন্সিগঞ্জে ভোটের পরে সংঘর্ষে তিনজন নিহতের খবর পাওয়া যায়।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়নের এক কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সংঘর্ষ হয়।

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৪

আওয়ামী লীগ ও এর বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের এই সংঘর্ষে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সজিব হোসেন নিহত হয়েছেন।

ভোট শেষ হওয়া আগমূহুর্তে ইউনিয়নের নয়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে এই সংঘর্ষ হয়।

নিহত সজিব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহনাজ আক্তারের সমর্থক ছিলেন।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, ওই কেন্দ্রের সামনে বিকেল পৌনে চারটার দিকে নৌকা ও এর বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আমির হোসেন খানের সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে এটি সংঘর্ষ পর্যন্ত গড়ায়। সে সময় মাথায় আঘাত পান সজিব হোসেন। তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে চাঁদপুরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

নরসিংদীর রায়পুরার ভোটের পর সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন।

উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ফল ঘোষণার জেরে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। তবে এ ব্যাপারে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিহত মো. আরিফের বাড়ি শিবপুর যোশর জাঙ্গারটেক গ্রামে। তিনি ছিলেন অটোরিকশার চালক।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, দাইরের পার সরকারি বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনার পর ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদে আব্দুল ওহাবকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়। এই ফল মেনে নেননি ওহাবের সমর্থকরা। ওহাব উত্তেজিত হয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যান।

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৪

কিছুক্ষণ পর অর্ধশতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ১৬ রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও এলোপাতাড়ি গুলিতে পুলিশের ভাড়া করা সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. আরিফ নিহত হন। গ্রামবাসীসহ আহত হন অন্তত ১০ জন।

রায়পুরায় উত্তর বাহার নগর এলাকার একটি কেন্দ্রে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে রাজধানীর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

নিহতের নাম ফরিদ মিয়া বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক আব্দুল খান।

তিনি জানান, ওই ব্যক্তির সঙ্গে আসা লোকজন জানিয়েছেন যে নির্বাচনি সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হন ফরিদ।

নিহতের শ্যালক শাহ আলম বলেন, ‘আমার দুলাভাই ফরিদ মিয়া একজন রিকশাচালক। রায়পুরা উত্তর বাখর নগর এলাকায় দুই মেম্বারের মধ্যে প্রাইমারি স্কুলের বাইরে গোলাগুলি শুরু হয়। ওই গোলাগুলির মধ্যে সে পড়ে যায়। এতে তার মাথায় গুলি লাগে।’

মুন্সিগঞ্জে সদর ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় ভোটের পর গণনা চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সদরের বাংলাবাজার ইউনিয়নে সংঘর্ষে নিহত হন একজন।

ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বানিয়াল উত্তর ভূকৈলাশ সরকারি কাজিয়ারচর বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই সংঘর্ষ হয় বলে জানান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব।

তিনি জানান, বাংলাবাজারে কেন্দ্রের ফল ঘোষণায় দেরি হওয়ায় সংরক্ষিত নারী আসদের দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এ ঘটনা ঘটে।

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৪

নিহত ব্যক্তির নাম শাকিল মোল্লা। তার স্বজনরা জানান, বাড়ি শরীয়তপুর হলেও বাংলাবাজারে নানার বাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন শাকিল। সেখানে ভোটের সময় নারী সদস্য প্রার্থী রাবেয়া বেগমের সমর্থক হিসেবে কাজ করছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, ভোট শেষে উত্তর ভূকৈলাশ সরকারি কাজিয়ারচর বিদ্যালয়ে রাবেয়ার সমর্থকদের সঙ্গে আরেক প্রার্থী আরফা বেগমের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। সে সময় শাকিলকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষ। তাকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক শৈবাল বসাক জানান, শাকিলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার দেহে একাধিক জখম ছিল।

শৈবাল আরও জানান, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বেতকা ও দিঘিরপাড় ইউনিয়ন থেকে আহত অবস্থায় পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের সঙ্গে থাকা লোকজন জানিয়েছেন, ভোটের পর সহিংসতায় তারা আহত হয়েছেন।

ভোট শেষে হট্টগোল হয়েছে মেহেরপুর, কিশোরগঞ্জ ও গাইবান্ধায়।

মেহেরপুরের গাংনীর কাজিপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ‍্যালয় কেন্দ্রে ফল ঘোষণা দেয়ার আগমুহূর্তে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। কেন্দ্রের ভেতর আটকা পড়েন পোলিং অফিসারসহ অন্য কর্মকর্তারা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপু সরোয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৪

তিনি জানান, সদস্য প্রার্থী মো. আলেহীম ও রাকিব হোসেনের সমর্থকরা ফল ঘোষণার আগে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। তারা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। তাদের হটিয়ে দিতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালায় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আটক করা হয় আলেহীম ও রাকিবকে।

কিশোরগঞ্জ সদরের বৌলাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে ফল নিয়ে বের হওয়ার সময় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

এতে আহত হন সদর থানার কনস্টেবল মো. মহসীন ও গণপূর্তের হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। তাদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কনস্টেবল মহসীনকে নেয়া হয় শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

তবে কারা হামলা চালিয়েছে তা নিশ্চিত করা যায়নি।

নিউজবাংলার প্রতিবেদক হাসপাতালে উপস্থিত সদর থানার পুলিশের কাছ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ফল ঘোষণার পর কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন কয়েকজন চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা। এক ঘণ্টা পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৪

বটতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু রায়হান দোলন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ওই কেন্দ্রের ভোট আবার গণনা করা হবে। তাতেও সমাধান না আসলে আবার ভোট হবে ওই কেন্দ্রে।

রাজবাড়ির বালিয়াকান্দির সদর ইউনিয়নে ফল ঘোষণার পর পরাজিত সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়।

সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাইককান্দি কেন্দ্রে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেকুজ্জামান ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, কেন্দ্রের পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় বিক্ষুব্ধরা একটি মাইক্রোবাস ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি আরও জানান, ওই ওয়ার্ডের সদস্যপদে আকরাম হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এরপর পরাজিত প্রার্থী মো. খোকনের সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে ব্যালট বাক্স কেড়ে নেয়। তাতেই সংঘর্ষ বাধে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন আহমেদ জানান, ব্যালটবাক্স পরে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা গেছে।

এ ছাড়া ভোট চলাকালে দিনভর বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন জেলায়। জাল ভোট ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের খবরও এসেছে কিছু জেলা থেকে।

আগের দুই ধাপের তুলনায় এবার সহিংসতা কম হয়েছে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘এবার সহিংসতা যাতে না হয়, তার জন্য আগে থেকেই বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগের চেয়ে বেশি তৎপর ছিল। প্রতিদ্ধন্দ্বী প্রার্থীরাও সহনশীল আচরণ করেছেন। এতে আগের চেয়ে বিচ্ছিন্ন ঘটনাও কম হয়েছে।

’বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও নির্বাচন কমিশন একটি সহিংসতার ঘটনা ঘটবে বলেও আশা করে না। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ এবং প্রার্থীদের সহনশীল এমন আচরণ অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে সহিংসতা আরও কমবে।’

এর আগে দ্বিতীয় ধাপের ভোটের আগে-পরে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু নরসিংদীতেই মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। এ ছাড়া মাগুরায় ৪, মেহেরপুরে ২ এবং কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে নিহত হয়েছেন ১ জন করে।

শেয়ার করুন

গৃহবধূকে অ্যাসিড নিক্ষেপ, দেবর-ননদের কারাদণ্ড

গৃহবধূকে অ্যাসিড নিক্ষেপ, দেবর-ননদের কারাদণ্ড

পিপি নির্ম্মল কান্তি ভদ্র জানান, শিখার দেবর শাকিলকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। আর ননদ সাবিনাকে ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

জামালপুরে আনোয়ারা বেগম শিখা নামের এক গৃহবধূকে অ্যাসিড নিক্ষেপের দায়ে তার দেবরকে ১০ বছর ও ননদকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের জ্যেষ্ঠ দায়রা জজ মো. জুলফিকার আলী খান রোববার দুপুরে এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ২৭ বছর বয়সী শাকিল আহম্মেদ বাবু ও ৩২ বছরের সাবিনা ইয়াসমিন শিলা জামালপুর সদরের বিনন্দেরপাড়া এলাকার সামসুল হকের সন্তান।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন জেলা দায়রা জজ আদালতের পিপি নির্ম্মল কান্তি ভদ্র এবং আসামিপক্ষে ছিলেন মো. ফজলুল হক।

নির্ম্মল কান্তি ভদ্র জানান, শিখার দেবর শাকিলকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। আর ননদ সাবিনাকে ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা বেগম শিখা বিনন্দেরপাড়া এলাকার আলাল উদ্দিনের মেয়ে। শ্বশুরবাড়িতে শিখাকে তার দেবর শাকিল আহম্মেদ বাবু ও ননদ সাবিনা ইয়াসমিন শিলা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।

২০১৪ সালের ১ অক্টোবর রাতে নিজ ঘরে টিভি দেখার সময় শাকিল ও সাবিনা ভাবি শিখাকে অ্যাসিড নিক্ষেপ করেন। এতে তার শরীরের পেছন ভাগ ও দুই পায়ের হাঁটু পর্যন্ত দগ্ধ হয়। দীর্ঘদিন তিনি রাজধানীর অ্যাসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এ ঘটনায় শিখার বাবা আলাল উদ্দিন জামালপুর সদর থানায় মামলা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

পীরগঞ্জ থাকছে মেয়র শামীমের হাতেই

পীরগঞ্জ থাকছে মেয়র শামীমের হাতেই

রংপুরের পীরগঞ্জ পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আবু সালেহ মো. তাজিমুল ইসলাম শামীম। ছবি: নিউজবাংলা

নির্বাচনে শামীমের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সুলতান মিয়া পেয়েছেন ২ হাজার ৬৬০ ভোট। আর লাঙ্গল প্রতীকে জাহেদুল ইসলাম পেয়েছেন ১ হাজার ১৪২ ভোট। 

রংপুরের পীরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র হয়েছেন আবু সালেহ মো. তাজিমুল ইসলাম শামীম। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার বড় ভাইয়ের ছেলে।

রোববার এ পৌরসভায় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ৭ হাজার ৭০৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন শামীম। রাত ৮টার দিকে রংপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বেসরকারি এ ফল ঘোষণা করেন।

নির্বাচনে শামীমের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সুলতান মিয়া পেয়েছেন ২ হাজার ৬৬০ ভোট। আর লাঙ্গল প্রতীকে জাহেদুল ইসলাম পেয়েছেন ১ হাজার ১৪২ ভোট।

শামীম ২০১৬ সালে প্রথম পীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন।

শেয়ার করুন

মুন্সিগঞ্জে ভোট শেষে সংঘর্ষ, নিহত ১

মুন্সিগঞ্জে ভোট শেষে সংঘর্ষ, নিহত ১

মুন্সিগঞ্জের বাংলাবাজারে ভোটের পর সংঘর্ষে নিহত হন এই যুবক। ছবি: নিউজবাংলা

মুন্সিগঞ্জের বাংলাবাজারে ভোটের পর সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে।

বাংলাবাজার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বানিয়াল উত্তর ভূকৈলাশ সরকারি কাজিয়ারচর বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনার পর সন্ধ্যায় এই সংঘর্ষ হয়।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বাংলাবাজারে কেন্দ্রের ফল ঘোষণায় দেরি হওয়ায় সংরক্ষিত নারী আসদের দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম শাকিল মোল্লা। তার স্বজনরা জানান, বাড়ি শরীয়তপুর হলেও বাংলাবাজারে নানার বাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন শাকিল। সেখানে ভোটের সময় নারী সদস্য প্রার্থী রাবেয়া বেগমের সমর্থক হিসেবে কাজ করছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, ভোট শেষে উত্তর ভূকৈলাশ সরকারি কাজিয়ারচর বিদ্যালয়ে রাবেয়ার সমর্থকদের সঙ্গে আরেক প্রার্থী আরফা বেগমের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। সে সময় শাকিলকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষ। তাকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক শৈবাল বসাক জানান, শাকিলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার দেহে একাধিক জখম ছিল।

ইউপির তৃতীয় ধাপের ভোটের দিন এ নিয়ে দুজনের প্রাণহানি হলো। এর আগে ভোট শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও এর বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সজিব হোসেন নিহত হন।

এ ছাড়া ভোট চলাকালে দিনভর বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন জেলায়। জাল ভোট ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের খবরও এসেছে কিছু জেলা থেকে।

তবে নির্বাচন কমিশন সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার ভোট শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তৃতীয় ধাপের এই নির্বাচন সহিংসতা নিরসনের মডেল হতে পারে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এবারের ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে এবং ভোটাররাও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছেন।’

এর আগে দ্বিতীয় ধাপের ভোটের আগে-পরে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু নরসিংদীতেই মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। এ ছাড়া মাগুরায় ৪, মেহেরপুরে ২ এবং কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে নিহত হয়েছেন ১ জন করে।

শেয়ার করুন