অটোরিকশার চালক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৬

player
অটোরিকশার চালক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৬

ঝিনাইদহে অটোরিকশার চালক হত্যা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

এসপি মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, তদন্ত করে অভিযান চালিয়ে পুলিশ হত্যার সঙ্গে জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাকু ও ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।

ঝিনাইদহে চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাদের জেলা আদালতে তোলা হয়।

কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও কালীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে শুক্রবার ভোররাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মুনতাসিরুল ইসলাম শুক্রবার সকালে তার সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন কালীগঞ্জের পীরগোপাল গ্রামের তানভীরুল ইসলাম নাইম, কাশিপুর গ্রামের জাকির হোসেন, সদর উপজেলার চান্দেরপোল গ্রামের শামিম হোসেন, একই গ্রামের রাশেদ আলী, মাগুরা শালিখা উপজেলার ছান্দাড়া গ্রামের বাপ্পি হোসেন, কাতলী গ্রামের সাগর মোল্লা ওরফে সৈকত।

এসপি মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, গত ১২ অক্টোবর ঝিনাইদহ সদরে তেতুলবাড়িয়া গ্রামের ইকরামুল ইসলামের অটোরিকশা ভাড়া নেন আসামিরা। পরে তাকে কালীগঞ্জ উপজেলার রাকড়া গ্রামের মাঠের ধানক্ষেতের মধ্যে জবাই করে হত্যা করেন। হত্যার পর তারা অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যান।

হত্যার আট দিন পর ২০ অক্টোবর ইকরামুলের পচা-গলা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই রবিউল ইসলাম কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

এসপি আরও জানান, তদন্ত করে অভিযান চালিয়ে পুলিশ হত্যার সঙ্গে জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাকু ও ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দুপুরের দিকে ঝিনাইদহ আদালতে তোলা হয়েছে বলেও জানান এসপি।

আরও পড়ুন:
অনন্ত বিজয় হত্যা: ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের সাক্ষ্য
সুমন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১
স্বামী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শুভ্র হত্যা মামলা: তিনজন কারাগারে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

উপাচার্যের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ চায় শাবি শিক্ষক সমিতি

উপাচার্যের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ চায় শাবি শিক্ষক সমিতি

শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহিত

শিক্ষক সমিতির সভাপতি তুলসী কুমার দাস বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছে তার নিন্দা জানিয়েছি। সেই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছি আমরা।’

উপাচার্যের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে শাবি শিক্ষক সমিতি।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো ধরনের সহিংসতার শিকার না হয়ে সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সমিতির সভাপতি তুলসী কুমার দাস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে রোববার বেলা ৩টার দিকে বৈঠকে বসেন শিক্ষক সমিতির নেতারা।

টানা পাঁচ ঘণ্টা বৈঠক শেষে রাত ৮টার পরে তুলসী কুমার দাস বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছে তার নিন্দা জানিয়েছি। সেই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছি আমরা।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে প্রশাসনকে নজর রাখার আহ্বান জানিয়ে তুলসি কুমার দাস বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙানোর ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। উপচার্যের পদত্যাগের বিষয়টি যেহেতু সরকারের এখতিয়ার, আমরা এক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করছি।’

শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে সংবাদ মাধ্যমে একটি বিবৃতিও পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষক সমিতির এই অবস্থানে উল্লাস প্রকাশ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘এটা আমাদের আন্দোলনের প্রাথমিক বিজয়। আমরা চূড়ান্ত বিজয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের চড়াও হওয়ার ঘটনাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিও।

রাজধানীর হেয়ার রোডে মন্ত্রীর বাসায় শাবি শিক্ষকদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘শাবিতে পুলিশি আচরণ (অ্যাকশন) দুঃখজনক। কিন্তু শিক্ষকদেরও লাঞ্ছিত করা হয়েছে। দুটোই অনভিপ্রেত।

মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়া শিক্ষকদের প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি তুলসী কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মুহিবুল আলম, ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন মো. রাশেদ তালুকদার, অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস অনুষদের ডিন আরিফুল ইসলাম ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন খায়রুল ইসলাম।

পরে শিক্ষামন্ত্রী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন। তবে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই ওই বৈঠক শেষ হয়।

বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিনিধি দলের সদস্য আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অনশন নিয়ে চিন্তিত শিক্ষামন্ত্রী। তাই তিনি অনুরোধ করেছেন এই কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীরা যেন সরে আসেন। একই সঙ্গে কোনো শিক্ষার্থী অ্যাকাডেমিক বা আইনি হয়রানির শিকার যেন না হয় সেই বিষয়টি দেখা হবে।’

এর আগে হামলার ঘটনায় প্রশাসন দায় এড়াতে পারে না বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদের’ নেতারা।

আরও পড়ুন:
অনন্ত বিজয় হত্যা: ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের সাক্ষ্য
সুমন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১
স্বামী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শুভ্র হত্যা মামলা: তিনজন কারাগারে

শেয়ার করুন

১৭ ইটভাটাকে ৪৩ লাখ টাকা জরিমানা

১৭ ইটভাটাকে ৪৩ লাখ টাকা জরিমানা

ভেড়ামারায় রোববার সকাল থেকে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালায় পরিবেশ অধিদপ্তর। ছবি: নিউজবাংলা

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাঈদা পারভীন জানান, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন অনুযায়ী এসব ভাটাকে জরিমানা করা হয়েছে। ভাটাগুলো অবৈধ জায়গায় স্থাপিত এবং জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ১৭টি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ৪৩ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

রোববার সকাল থেকে সারা দিন অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাঈদা পারভীন।

তিনি জানান, অভিযানে এমএইচটি ইটভাটাকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, আরএমবিকে ২ লাখ ৫০ হাজার, এমআরআই ইটভাটাকে ২ লাখ ৫০ হাজার, মানিক ব্রিকসকে ২ লাখ, এমএইচ ব্রিকসকে ১ লাখ, মা ব্রিকসকে ১ লাখ, এএমবি ব্রিকসকে ৪ লাখ, বিবিএফ ব্রিকসকে ২ লাখ, এমবিএফ ব্রিকসকে ৪ লাখ, বিবিএফ ব্রিকসকে ৪ লাখ, ফোর স্টারকে দেড় লাখ, এএমবি ব্রিকসকে ২ লাখ, কেঅ্যান্ডবিকে ৩ লাখ, এমআরএম ব্রিকসকে ৩ লাখ, এমএসএস ব্রিকসকে ৩ লাখ টাকা, এসআরবিকে ২ লাখ ৬০ হাজার এবং একতারা ইটভাটাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এ সময় বিবিএফ নামের ইটভাটার চুলার আংশিক ভেঙে ফেলা হয়েছে।

অভিযানের সময় সরেজমিন দেখা যায়, অধিকাংশ ভাটা মালিক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। কিছু ইটভাটায় জ্বালানি কাঠের স্তূপ এক দিন আগে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। অনেক ভাটায় অভিযান পরিচালনাকারীদের জন্য বসার চেয়ার এনে পরিষ্কার করে রাখা হয়। আর অধিকাংশ জরিমানার টাকা প্রস্তুত ছিল, কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা টাকা বের করে দেন।

অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া অফিসের কর্মকর্তা, পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা অংশ নেন।

কুষ্টিয়ার পরিবেশবাদী খলিলুর রহমান মজু জানান, এভাবে অভিযান চালিয়ে প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হবে না। অভিযান শেষে ভাটাগুলো আবার কাঠ পুড়িয়ে পরিবেশ দূষণ করতে থাকবে। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে সঠিকভাবে অভিযান চালিয়ে ভাটাগুলোকে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আনা সম্ভব।

কুষ্টিয়া নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি বঙ্গবন্ধু পরিষদের জেলা সভাপতি মতিউর রহমান লালটু জানান, সরকারি প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় অ্যাসোসিয়েশন করে ইটভাটা পরিবেশবান্ধব উপায়ে ইট পোড়ানোর ব্যবস্থা করতে পারে। এতে কৃষিজমি রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণমুক্ত থাকবে। ভাটা মালিকরাও লাভ করতে পারবেন।

কুষ্টিয়া পরিবেশ ক্লাবের সভাপতি রাশিদুল ইসলাম বিপ্লব জানান, প্রশাসনকে ম্যানেজ করতে প্রত্যেকটি ভাটা থেকে অ্যাসোসিয়েশনের নামে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা করে তোলা হয়েছে। যেসব ভাটা এসব টাকা দেয়নি সেখানেই পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালায়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাঈদা পারভীন জানান, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন অনুযায়ী এসব ভাটাকে জরিমানা করা হয়েছে। ভাটাগুলো অবৈধ জায়গায় স্থাপিত এবং জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ‘এভাবে অভিযান চালিয়ে একসময় ভাটাগুলোকে আমরা নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আনতে পারব বলে আশা করি। অধিকাংশ ভাটা মালিকেরই উচ্চ আদালতে রিট করা আছে। সে কারণে আদালতের নির্দেশনার বাইরে আমরা যেতে পারছি না।’

কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতাউর রহমান জানান, কুষ্টিয়া জেলায় ১৬১টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি ভাটার পরিবেশের ছাড়পত্র রয়েছে। অন্য সব ইটভাটা মালিক দীর্ঘদিন ধরে আইন লঙ্ঘন করে দিনের পর দিন ভাটা পরিচালনা করে আসছেন। অনেকে আবার হাইকোর্টে রিট করে স্থগিতাদেশ এনে ইটভাটা পরিচালনা করছেন।

অবৈধ এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, একটি অভিযান পরিচালনা করতে গেলে প্রশাসনের অনেকগুলো উইং সংযুক্ত করতে হয়। এ কারণে যেকোনো জায়গা থেকে ভাটা মালিকদের কাছে আগে তথ্য ফাঁস হয়ে থাকতে পারে।

ভাটা মালিকদের পক্ষ থেকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
অনন্ত বিজয় হত্যা: ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের সাক্ষ্য
সুমন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১
স্বামী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শুভ্র হত্যা মামলা: তিনজন কারাগারে

শেয়ার করুন

করোনায় কাবু আদালত, আক্রান্ত ১০ বিচারক

করোনায় কাবু আদালত, আক্রান্ত ১০ বিচারক

সংক্রমণ ব্যাপক হারে ছড়ালেও হবিগঞ্জের আদালত পাড়ায় নেই স্বাস্থ্যবিধি। ছবি: নিউজবাংলা

শুধু বিচারকই নন, অনেক আইনজীবী, আইনজীবীর সহকারীসহ আদালতের কাজে নিয়োজিত আরও অনেকেই করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

হবিগঞ্জ আদালতের ১০ বিচারক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

রোববার বিকেলে হবিগঞ্জ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হবিগঞ্জ জেলার বিচার বিভাগে মোট ২৮ জন বিচারক দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ১০ জনই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। গত কয়েকদিনে তাদের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়।

আক্রান্ত বিচারকদের মধ্যে রয়েছেন, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক সিরাজাম মুনীরা, সিনিয়র সহকারী জজ তানিয়া ইসলাম, সহকারী জজ অভিজিৎ চৌধুরী, সাজিদ-উল-হাসান চৌধুরী, মো. আব্দুল হামিদ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সুলতান উদ্দিন প্রধান ও মো. জাকির হোসাইন, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফখরুল ইসলাম, রাহেলা পারভীন ও তাহমিনা হক।

আক্রান্ত বিচারকরা বর্তমানে নিজ নিজ বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন।

এদিকে, প্রায় অর্ধেক বিচারক করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় বিঘ্নিত হচ্ছে জেলার বিচারকাজ।

শুধু বিচারকই নন, অনেক আইনজীবী আইনজীবীর সহকারীসহ আদালতের কাজে নিয়োজিত আরও অনেকেই করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে, ১০ বিচারকসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হলেও হবিগঞ্জ আদালত পাড়ায় মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি।

রোববার হবিগঞ্জ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ বিচারপ্রার্থীর মুখে নেই মাস্ক। বহুতল ভবনের প্রতিটি ফ্লোরের বারান্দায় বিচারপ্রার্থীদের ভিড়। একে অপরের শরীর ঘেঁষে জটলা পাকিয়ে আছেন তারা।

এ অবস্থায় ওই আদালত পাড়া থেকেই করোনা সংক্রমণ ব্যপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হবিগঞ্জ আদালতের পরিদর্শক মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘১০ জন বিচারক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন জানতে পেরেছি। তাই আদালত পাড়ায় স্বাস্থ্যবিধি মানাতে কোর্ট পুলিশ কাজ করছে।’

আরও পড়ুন:
অনন্ত বিজয় হত্যা: ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের সাক্ষ্য
সুমন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১
স্বামী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শুভ্র হত্যা মামলা: তিনজন কারাগারে

শেয়ার করুন

অন্তঃসত্ত্বাকে ‘হত্যা’, স্বামী-শাশুড়ি কারাগারে

অন্তঃসত্ত্বাকে ‘হত্যা’, স্বামী-শাশুড়ি কারাগারে

এজাহারে বলা হয়েছে, মাদক কেনার টাকা জোগাড়ে চুলা বিক্রি করতে চান সজিব। এতে বাধা দেয়ায় তিনি স্ত্রী প্রিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

বগুড়ার ধুনটে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ধুনট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন উপজেলার শিমুলবাড়ি গ্রামের সজিব হোসেন ও তার মা সাজেদা বেগম।

এজাহারের বরাতে থানা পুলিশ জানায়, প্রায় ৫ বছর আগে জোড়খালি গ্রামের পিয়ারা খাতুন প্রিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় সজিবের। প্রিয়া বিয়ের পর জানতে পারেন সজিব মাদকাসক্ত। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ হয়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গত শনিবার সকালে মাদক কেনার জন্য গ্যাসের চুলা বিক্রি করতে চান সজিব হোসেন। এতে বাধা দেয়ায় প্রিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য মরদেহ ঘরে ঝুলিয়ে রাখেন সজিব। পরে পরিবারসমেত পালিয়া যান তিনি।

প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে মরদেহ শনিবার বিকালে উদ্ধার করে পুলিশ। সে রাতেই প্রিয়ার বাবা হোসেন আলী মামলা করেন।

ধুনট থানার পরিদর্শক জাহিদুল হক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে সজিব হোসেন।

আরও পড়ুন:
অনন্ত বিজয় হত্যা: ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের সাক্ষ্য
সুমন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১
স্বামী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শুভ্র হত্যা মামলা: তিনজন কারাগারে

শেয়ার করুন

১০০ গ্রাম হেরোইনের মামলায় ১০ বছর পর যাবজ্জীবন

১০০ গ্রাম হেরোইনের মামলায় ১০ বছর পর যাবজ্জীবন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ফাইল ছবি

যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ছাড়াও শরিফুলকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারক।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক মামলায় শরিফুল ইসলাম (৪৩) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

১০ বছর আগে ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ আটক ও মামলার পর রোববার এর রায় হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত শরিফুল চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর পশ্চিম পাঠানপাড়া এলাকার মোস্তাবের হোসেনের ছেলে।

রোববার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রবিউল ইসলাম আসামির উপস্থিতিতে ওই রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ছাড়াও শরীফুলকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারক।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আঞ্জুমান আরা রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ২০১১ সালের ১৬ মার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর অক্ট্রয় মোড়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ আটক করা হয় শরিফুলকে। পরে ওই দিনই তার নামে সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম মামলা করেন।

সাইফুল ইসলাম মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে ২০১১ সালের ১৬ এপ্রিল শরিফুলকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ, প্রমাণ ও শুনানি শেষে শরিফুলকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছর পর দণ্ড দেয় আদালত।

আরও পড়ুন:
অনন্ত বিজয় হত্যা: ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের সাক্ষ্য
সুমন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১
স্বামী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শুভ্র হত্যা মামলা: তিনজন কারাগারে

শেয়ার করুন

‘তারা পাসপোর্ট তৈরির নামে অতিরিক্ত ফি হাতিয়ে নিতেন’

‘তারা পাসপোর্ট তৈরির নামে অতিরিক্ত ফি হাতিয়ে নিতেন’

কুমিল্লায় বিপুল পরিমাণ পাসপোর্ট ও টাকাসহ দালাল চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব কমান্ডার সাকিব জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই পাসপোর্ট দালাল চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে পাসপোর্ট তৈরি করে দেয়ার নামে লোকজনের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফি থেকে বেশি টাকা হাতিয়ে নিতেন বলে স্বীকার করেন।

কুমিল্লায় বিপুল পরিমাণ পাসপোর্ট ও টাকাসহ দালাল চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

সদর উপজেলার নোয়াপাড়ায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস প্রাঙ্গণে রোববার দুপুরে অভিযানে যায় র‍্যাব।

সন্ধ্যায় অভিযান শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব-১১ এর কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মদ সাকিব হোসেন।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৪৪টি পাসপোর্ট, ১ লাখ ৫৭ হাজার টাকা, ৭২৮টি পাসপোর্টের ব্যক্তিগত ডেলিভারি স্লিপ এবং মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন দাউদকান্দির মিজানুর রহমান, বুড়িচংয়ের আবিদপুর গ্রামের মো. আলাউদ্দিন, আদর্শ সদর উপজেলার ছোটরা গ্রামের জহিরুল হক, শাসনগাছার মোশারফ হোসেন শফিক, ছোটরা এলাকার জামাল মিয়া, গুনানন্দি গ্রামের মো. নাছির, সদর দক্ষিণ উপজেলার দয়াপুর গ্রামের মো. আলাউদ্দিন, রাজাপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম ও দেবিদ্বারের ছোটরা গ্রামের মো. রনি।

র‌্যাব কমান্ডার সাকিব জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই পাসপোর্ট দালাল চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে পাসপোর্ট তৈরি করে দেয়ার নামে লোকজনের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফি থেকে বেশি টাকা হাতিয়ে নিতেন বলে স্বীকার করেন।

রোববার সন্ধ্যায় মামলা করে আসামিদের কোতোয়ালি ও সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি সহিদুর রহমান ও সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি দেবাশীষ চৌধুরী জানান, সোমবার সকালে আসামিদের আদালতে নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
অনন্ত বিজয় হত্যা: ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের সাক্ষ্য
সুমন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১
স্বামী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শুভ্র হত্যা মামলা: তিনজন কারাগারে

শেয়ার করুন

শাবি উপাচার্য ভবন পানি-বিদ্যুৎহীন

শাবি উপাচার্য ভবন পানি-বিদ্যুৎহীন

ভিসির বাসভবনের পানি-বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয় আন্দোলনকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা প্রায় ১০০ ঘণ্টা ধরে অনশন করছেন। অথচ এখন পর্যন্ত উপাচার্যের পদত্যাগের কোনো লক্ষণ নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমরা উপাচার্যকে পূর্ণ অবরুদ্ধ করতে বাধ্য হব।’

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বাসভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে এই জরুরি পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করে দেন শিক্ষার্থীরা।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আন্দোলকারী শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন।

অনশনের পরও উপাচার্য (ভিসি) পদত্যাগ না করলে তাকে পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে রোববার সন্ধ্যায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার রাজ।

এর আগে শিক্ষার্থীরা তাদের মঞ্চ থেকে ঘোষণা দেন, রোববারের পর থেকে উপাচার্যের বাসভবনে পুলিশ ছাড়া আর কেউ ঢুকতে পারবেন না। তার বাসায় পানি, বিদ্যুৎসহ সব পরিষেবা বন্ধ করে দেয়া হবে।


সংবাদ সম্মেলনে এসে শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা প্রায় ১০০ ঘণ্টা ধরে অনশন করছেন। অথচ এখন পর্যন্ত উপাচার্যের পদত্যাগের কোনো লক্ষণ নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমরা উপাচার্যকে পূর্ণ অবরুদ্ধ করতে বাধ্য হব।

‘তখন তার বাসার জরুরি পরিষেবাও (পানি, বিদ্যুৎ) বন্ধ করে দেব আমরা। আর আজ থেকে পুলিশ ছাড়া কেউ তার বাসায় প্রবেশ করতে পারবেন না।’

উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তার পদত্যাগ দাবিতে গত ১৭ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার থেকে একই স্থানে অনশন শুরু করেন ২৪ শিক্ষার্থী।

বাসভবনের সামনে অবস্থানের কারণে গত ১৭ জানুয়ারি থেকেই অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থী ইয়াছির সরকার বলেন, ‘এই উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। মৃত্যুবরণ করার আগ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। অনশনের চেয়ে বড় কোনো অহিংস আন্দোলন হতে পারে না। আমরা এটিই চালিয়ে যাব।’

আরও পড়ুন:
অনন্ত বিজয় হত্যা: ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের সাক্ষ্য
সুমন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১
স্বামী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শুভ্র হত্যা মামলা: তিনজন কারাগারে

শেয়ার করুন