কঠিন চীবর দানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কামনা

কঠিন চীবর দানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কামনা

আশুলিয়ার উদযাপিত কঠিন চীবর দান। ছবি: নিউজবাংলা

ধর্মীয় গুরু নন্দপাল মহাস্থবির ভান্তে বলেন, ‘যারা দুঃখী ব্যক্তি তারা যেন মুক্তিলাভ করেন। যারা সুখী আছেন তারা যেন আরও সুখী হন। ইহলোকে যেমন সুখী হয়, পরলোকেও যেন জন্ম-জন্মান্তরে তারা সুখী হতে পারে। পুরো বিশ্বে যেন সম্প্রীতি বজায় থাকে।’

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান উদযাপন চলছে ঢাকার সাভারে। আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায় বন বিহার বৌদ্ধমন্দিরে শুক্রবার ভোর থেকে গৌতম বুদ্ধের উপাসনায় মগ্ন হয়েছেন পুণ্যার্থীরা।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দলে দলে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা মন্দিরে জড়ো হতে থাকেন। উৎসবমুখর পরিবেশে নানা ধর্মীয় আচার পালন করেন তারা।

সেখানে ধর্মীয় গুরু পরম পূজ্য নন্দপাল মহাস্থবির ভান্তে ত্রিপিঠক পাঠ করেন। পুণ্যার্থিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই দানের মাধ্যমে প্রার্থনা করা হয় নিজের পরে যেন মানবজাতি সুখে থাকে। এরপর যে সমস্ত প্রাণী বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে আছে তারাও যেন সুখী থাকে।

‘সেই প্রাণীদের জন্যও আমরা এই পুণ্য বিতরণ করি। যারা দুঃখী ব্যক্তি তারা যেন মুক্তিলাভ করেন। যারা সুখী আছেন তারা যেন আরও সুখী হন। ইহলোকে যেমন সুখী হয়, পরলোকেও যেন জন্ম-জন্মান্তরে তারা সুখী হতে পারে। পুরো বিশ্বে যেন সম্প্রীতি বজায় থাকে।’

কঠিন চীবর দানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কামনা

হিলি চাকমা নামে এক পুণ্যার্থী বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানের জন্য সবাই অনেক দিনের একটা প্রতীক্ষায় থাকি। এই অনুষ্ঠানটা আমাদের বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। আমরা বলি দানোত্তম কঠিন চীবর দান। শাস্ত্রে বলা হয় যে, আজকে আমরা যে দান করব, এই দানের ফলটা শতবর্ষে আমরা অন্যান্য কোনো দান করলে যে ফলটা হবে, সেটা এটার ষোল ভাগের এক ভাগও হবে না... অনেক দূর থেকে সবাই এখানে এসেছেন।’

সাভার বন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি অজয় প্রকাশ চাকমা বলেন, ‘এই অনুষ্ঠান আমাদের সর্বজনীন একটা গুরুত্ব লাভ করুক। দেশবাসীর কাছে আমাদের এই শান্তির বাণী পৌঁছে যাক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে একটি অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মান্ধহীন দেশে পরিণত হোক বাংলাদেশ এই কামনা করছি।’

আরও পড়ুন:
‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’
পূজামণ্ডপে হামলা: বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ-মানববন্ধন
সারা দেশে ‘সম্প্রীতি রক্ষা দিবস’ করবে সাংস্কৃতিক জোট
পূজার নিরাপত্তাকর্মীর খাবার দিচ্ছে মাদ্রাসা
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘সরকারি গাছ’ বেচে দিলেন চেয়ারম্যান

‘সরকারি গাছ’ বেচে দিলেন চেয়ারম্যান

রাজাপুরের বড়ইয়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

উপজেলার বন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন খান বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে দুটি কাটা গাছ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

ঝালকাঠির রাজাপুরের বড়ইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন সুরু মিয়া সরকারি বনায়নের গাছ বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তবে চেয়ারম্যান সুরু মিয়া গাছগুলো নিজের বলে দাবি করেছেন।

উপজেলার নিজামিয়া এলাকার গাছ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ছয়-সাত মাস আগে সুরু চেয়ারম্যানের কাছ থেকে আমি বেড়িবাঁধের ১০টি গাছ কিনি। ২টি কেটে নেয়ার পর আমি অসুস্থ থাকায় বাকিগুলো কাটা বন্ধ রাখি।

‘শুক্রবার আবার গাছ কাটা শুরু করি। শনিবার সকালে স্থানীয়রা জানান, এগুলো সরকারি গাছ। তারপর আমি কাটা গাছ ফেলে রেখে চেয়ারম্যানকে জানাই।’

বড়ইয়া এলাকার আশ্রব আলী, আব্দুল মন্নান খান, সুলতান মিয়া বলেন, ‘সুরু চেয়ারম্যান কয়েক মাস আগে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের কাছে চল্লিশকাহনিয়া বেড়িবাঁধ এলাকার বেশ কিছু গাছ বিক্রি করেন। স্থানীয়দের বাধায় গাছ কাটা বন্ধ করে চলে যান জাহাঙ্গীর।’

সামাজিক বনায়নের সুবিধাভোগীদের সভাপতি মহারাজ হোসেন বলেন, ‘কেটে ফেলা আকাশমণি গাছ চল্লিশকাহনিয়া সরকারি বনায়নের। গাছ কাটা বা বিক্রি করার এখতিয়ার নেই চেয়ারম্যানের। বিষয়টি আমি বন বিভাগকে জানিয়েছি।’

রাজাপুর উপজেলা বন বিভাগ নিউজবাংলাকে সরকারি গাছ বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

উপজেলার বন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন খান বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে দুটি কাটা গাছ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন সুরু মিয়া গাছের মালিক দাবি করে বলেন, ‘জায়গাও আমার, গাছও আমার। কেটে ফেলা আকাশমণি গাছ আমি রোপণ করেছিলাম। গত ছয়-সাত মাস আগে গাছগুলো বিক্রি করেছি।’

আরও পড়ুন:
‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’
পূজামণ্ডপে হামলা: বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ-মানববন্ধন
সারা দেশে ‘সম্প্রীতি রক্ষা দিবস’ করবে সাংস্কৃতিক জোট
পূজার নিরাপত্তাকর্মীর খাবার দিচ্ছে মাদ্রাসা
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৪

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৪

কিশোরগঞ্জে ভোটের পর সহিংসতায় আহত হয়েছেন সদর থানার এক কনস্টেবল। ছবি: নিউজবাংলা

ইসি সচিব জানান, আগের দুই ধাপের তুলনায় এবার সহিংসতা কম হয়েছে। এ কারণে তৃতীয় ধাপের এই নির্বাচন মডেল হতে পারে। এর পরপরই লক্ষ্মীপুর থেকে আসে প্রাণহানির প্রথম খবরটি। এরপর ভোটের পরে সংঘর্ষে মুন্সিগঞ্জে একজন ও নরসিংদীতে দুজন নিহতের খবর পাওয়া যায়। এ ছাড়া ভোট শেষে হট্টগোল হয় মেহেরপুর, কিশোরগঞ্জ ও গাইবান্ধায়।

নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিতে ভোট হয়েছে শান্তিপূর্ণ। তবে এই ভোটেও প্রাণ হারিয়েছেন চারজন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। এমনকি আওয়ামী লীগেরও এক প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন ভয়ভীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে।

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট চলাকালে সংঘর্ষ হয় অন্তত ১০ জেলায়। তবে বিকেল পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

ভোট শেষে রাজধানীতে নিজ কার্যালয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, সহিংসতাহীন নির্বাচন হয়েছে।

আগের দুই ধাপের তুলনায় এবার সহিংসতা কম হয়েছে জানিয়ে তৃতীয় ধাপের এই নির্বাচন মডেল হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এর পরপরই লক্ষ্মীপুর থেকে আসে প্রাণহানির প্রথম খবরটি। এরপর নরসিংদী ও মুন্সিগঞ্জে ভোটের পরে সংঘর্ষে তিনজন নিহতের খবর পাওয়া যায়।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়নের এক কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সংঘর্ষ হয়।

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৪

আওয়ামী লীগ ও এর বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের এই সংঘর্ষে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সজিব হোসেন নিহত হয়েছেন।

ভোট শেষ হওয়া আগমূহুর্তে ইউনিয়নের নয়নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে এই সংঘর্ষ হয়।

নিহত সজিব ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহনাজ আক্তারের সমর্থক ছিলেন।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, ওই কেন্দ্রের সামনে বিকেল পৌনে চারটার দিকে নৌকা ও এর বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আমির হোসেন খানের সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে এটি সংঘর্ষ পর্যন্ত গড়ায়। সে সময় মাথায় আঘাত পান সজিব হোসেন। তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে চাঁদপুরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

নরসিংদীর রায়পুরার ভোটের পর সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন।

উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ফল ঘোষণার জেরে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। তবে এ ব্যাপারে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিহত মো. আরিফের বাড়ি শিবপুর যোশর জাঙ্গারটেক গ্রামে। তিনি ছিলেন অটোরিকশার চালক।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, দাইরের পার সরকারি বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনার পর ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদে আব্দুল ওহাবকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়। এই ফল মেনে নেননি ওহাবের সমর্থকরা। ওহাব উত্তেজিত হয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যান।

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৪

কিছুক্ষণ পর অর্ধশতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ ১৬ রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও এলোপাতাড়ি গুলিতে পুলিশের ভাড়া করা সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. আরিফ নিহত হন। গ্রামবাসীসহ আহত হন অন্তত ১০ জন।

রায়পুরায় উত্তর বাহার নগর এলাকার একটি কেন্দ্রে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে রাজধানীর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

নিহতের নাম ফরিদ মিয়া বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক আব্দুল খান।

তিনি জানান, ওই ব্যক্তির সঙ্গে আসা লোকজন জানিয়েছেন যে নির্বাচনি সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হন ফরিদ।

নিহতের শ্যালক শাহ আলম বলেন, ‘আমার দুলাভাই ফরিদ মিয়া একজন রিকশাচালক। রায়পুরা উত্তর বাখর নগর এলাকায় দুই মেম্বারের মধ্যে প্রাইমারি স্কুলের বাইরে গোলাগুলি শুরু হয়। ওই গোলাগুলির মধ্যে সে পড়ে যায়। এতে তার মাথায় গুলি লাগে।’

মুন্সিগঞ্জে সদর ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় ভোটের পর গণনা চলাকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সদরের বাংলাবাজার ইউনিয়নে সংঘর্ষে নিহত হন একজন।

ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বানিয়াল উত্তর ভূকৈলাশ সরকারি কাজিয়ারচর বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই সংঘর্ষ হয় বলে জানান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব।

তিনি জানান, বাংলাবাজারে কেন্দ্রের ফল ঘোষণায় দেরি হওয়ায় সংরক্ষিত নারী আসদের দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এ ঘটনা ঘটে।

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৪

নিহত ব্যক্তির নাম শাকিল মোল্লা। তার স্বজনরা জানান, বাড়ি শরীয়তপুর হলেও বাংলাবাজারে নানার বাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন শাকিল। সেখানে ভোটের সময় নারী সদস্য প্রার্থী রাবেয়া বেগমের সমর্থক হিসেবে কাজ করছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, ভোট শেষে উত্তর ভূকৈলাশ সরকারি কাজিয়ারচর বিদ্যালয়ে রাবেয়ার সমর্থকদের সঙ্গে আরেক প্রার্থী আরফা বেগমের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। সে সময় শাকিলকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষ। তাকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক শৈবাল বসাক জানান, শাকিলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার দেহে একাধিক জখম ছিল।

শৈবাল আরও জানান, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বেতকা ও দিঘিরপাড় ইউনিয়ন থেকে আহত অবস্থায় পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের সঙ্গে থাকা লোকজন জানিয়েছেন, ভোটের পর সহিংসতায় তারা আহত হয়েছেন।

ভোট শেষে হট্টগোল হয়েছে মেহেরপুর, কিশোরগঞ্জ ও গাইবান্ধায়।

মেহেরপুরের গাংনীর কাজিপুর ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ‍্যালয় কেন্দ্রে ফল ঘোষণা দেয়ার আগমুহূর্তে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। কেন্দ্রের ভেতর আটকা পড়েন পোলিং অফিসারসহ অন্য কর্মকর্তারা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপু সরোয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৪

তিনি জানান, সদস্য প্রার্থী মো. আলেহীম ও রাকিব হোসেনের সমর্থকরা ফল ঘোষণার আগে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। তারা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। তাদের হটিয়ে দিতে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালায় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আটক করা হয় আলেহীম ও রাকিবকে।

কিশোরগঞ্জ সদরের বৌলাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে ফল নিয়ে বের হওয়ার সময় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

এতে আহত হন সদর থানার কনস্টেবল মো. মহসীন ও গণপূর্তের হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম। তাদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কনস্টেবল মহসীনকে নেয়া হয় শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

তবে কারা হামলা চালিয়েছে তা নিশ্চিত করা যায়নি।

নিউজবাংলার প্রতিবেদক হাসপাতালে উপস্থিত সদর থানার পুলিশের কাছ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ফল ঘোষণার পর কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন কয়েকজন চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীর সমর্থকরা। এক ঘণ্টা পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

ইসির দৃষ্টিতে সহিংসতাহীন ভোটে নিহত ৪

বটতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু রায়হান দোলন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ওই কেন্দ্রের ভোট আবার গণনা করা হবে। তাতেও সমাধান না আসলে আবার ভোট হবে ওই কেন্দ্রে।

এ ছাড়া ভোট চলাকালে দিনভর বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন জেলায়। জাল ভোট ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের খবরও এসেছে কিছু জেলা থেকে।

আগের দুই ধাপের তুলনায় এবার সহিংসতা কম হয়েছে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘এবার সহিংসতা যাতে না হয়, তার জন্য আগে থেকেই বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগের চেয়ে বেশি তৎপর ছিল। প্রতিদ্ধন্দ্বী প্রার্থীরাও সহনশীল আচরণ করেছেন। এতে আগের চেয়ে বিচ্ছিন্ন ঘটনাও কম হয়েছে।

’বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও নির্বাচন কমিশন একটি সহিংসতার ঘটনা ঘটবে বলেও আশা করে না। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ এবং প্রার্থীদের সহনশীল এমন আচরণ অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে সহিংসতা আরও কমবে।’

এর আগে দ্বিতীয় ধাপের ভোটের আগে-পরে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু নরসিংদীতেই মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। এ ছাড়া মাগুরায় ৪, মেহেরপুরে ২ এবং কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে নিহত হয়েছেন ১ জন করে।

আরও পড়ুন:
‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’
পূজামণ্ডপে হামলা: বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ-মানববন্ধন
সারা দেশে ‘সম্প্রীতি রক্ষা দিবস’ করবে সাংস্কৃতিক জোট
পূজার নিরাপত্তাকর্মীর খাবার দিচ্ছে মাদ্রাসা
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

গৃহবধূকে অ্যাসিড নিক্ষেপ, দেবর-ননদের কারাদণ্ড

গৃহবধূকে অ্যাসিড নিক্ষেপ, দেবর-ননদের কারাদণ্ড

পিপি নির্ম্মল কান্তি ভদ্র জানান, শিখার দেবর শাকিলকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। আর ননদ সাবিনাকে ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

জামালপুরে আনোয়ারা বেগম শিখা নামের এক গৃহবধূকে অ্যাসিড নিক্ষেপের দায়ে তার দেবরকে ১০ বছর ও ননদকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের জ্যেষ্ঠ দায়রা জজ মো. জুলফিকার আলী খান রোববার দুপুরে এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ২৭ বছর বয়সী শাকিল আহম্মেদ বাবু ও ৩২ বছরের সাবিনা ইয়াসমিন শিলা জামালপুর সদরের বিনন্দেরপাড়া এলাকার সামসুল হকের সন্তান।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন জেলা দায়রা জজ আদালতের পিপি নির্ম্মল কান্তি ভদ্র এবং আসামিপক্ষে ছিলেন মো. ফজলুল হক।

নির্ম্মল কান্তি ভদ্র জানান, শিখার দেবর শাকিলকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। আর ননদ সাবিনাকে ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা বেগম শিখা বিনন্দেরপাড়া এলাকার আলাল উদ্দিনের মেয়ে। শ্বশুরবাড়িতে শিখাকে তার দেবর শাকিল আহম্মেদ বাবু ও ননদ সাবিনা ইয়াসমিন শিলা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।

২০১৪ সালের ১ অক্টোবর রাতে নিজ ঘরে টিভি দেখার সময় শাকিল ও সাবিনা ভাবি শিখাকে অ্যাসিড নিক্ষেপ করেন। এতে তার শরীরের পেছন ভাগ ও দুই পায়ের হাঁটু পর্যন্ত দগ্ধ হয়। দীর্ঘদিন তিনি রাজধানীর অ্যাসিড সারভাইভার্স ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এ ঘটনায় শিখার বাবা আলাল উদ্দিন জামালপুর সদর থানায় মামলা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’
পূজামণ্ডপে হামলা: বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ-মানববন্ধন
সারা দেশে ‘সম্প্রীতি রক্ষা দিবস’ করবে সাংস্কৃতিক জোট
পূজার নিরাপত্তাকর্মীর খাবার দিচ্ছে মাদ্রাসা
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

পীরগঞ্জ থাকছে মেয়র শামীমের হাতেই

পীরগঞ্জ থাকছে মেয়র শামীমের হাতেই

রংপুরের পীরগঞ্জ পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আবু সালেহ মো. তাজিমুল ইসলাম শামীম। ছবি: নিউজবাংলা

নির্বাচনে শামীমের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সুলতান মিয়া পেয়েছেন ২ হাজার ৬৬০ ভোট। আর লাঙ্গল প্রতীকে জাহেদুল ইসলাম পেয়েছেন ১ হাজার ১৪২ ভোট। 

রংপুরের পীরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র হয়েছেন আবু সালেহ মো. তাজিমুল ইসলাম শামীম। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার বড় ভাইয়ের ছেলে।

রোববার এ পৌরসভায় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ৭ হাজার ৭০৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন শামীম। রাত ৮টার দিকে রংপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বেসরকারি এ ফল ঘোষণা করেন।

নির্বাচনে শামীমের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সুলতান মিয়া পেয়েছেন ২ হাজার ৬৬০ ভোট। আর লাঙ্গল প্রতীকে জাহেদুল ইসলাম পেয়েছেন ১ হাজার ১৪২ ভোট।

শামীম ২০১৬ সালে প্রথম পীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন:
‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’
পূজামণ্ডপে হামলা: বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ-মানববন্ধন
সারা দেশে ‘সম্প্রীতি রক্ষা দিবস’ করবে সাংস্কৃতিক জোট
পূজার নিরাপত্তাকর্মীর খাবার দিচ্ছে মাদ্রাসা
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মুন্সিগঞ্জে ভোট শেষে সংঘর্ষ, নিহত ১

মুন্সিগঞ্জে ভোট শেষে সংঘর্ষ, নিহত ১

মুন্সিগঞ্জের বাংলাবাজারে ভোটের পর সংঘর্ষে নিহত হন এই যুবক। ছবি: নিউজবাংলা

মুন্সিগঞ্জের বাংলাবাজারে ভোটের পর সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে।

বাংলাবাজার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বানিয়াল উত্তর ভূকৈলাশ সরকারি কাজিয়ারচর বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনার পর সন্ধ্যায় এই সংঘর্ষ হয়।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বাংলাবাজারে কেন্দ্রের ফল ঘোষণায় দেরি হওয়ায় সংরক্ষিত নারী আসদের দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম শাকিল মোল্লা। তার স্বজনরা জানান, বাড়ি শরীয়তপুর হলেও বাংলাবাজারে নানার বাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন শাকিল। সেখানে ভোটের সময় নারী সদস্য প্রার্থী রাবেয়া বেগমের সমর্থক হিসেবে কাজ করছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, ভোট শেষে উত্তর ভূকৈলাশ সরকারি কাজিয়ারচর বিদ্যালয়ে রাবেয়ার সমর্থকদের সঙ্গে আরেক প্রার্থী আরফা বেগমের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। সে সময় শাকিলকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষ। তাকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক শৈবাল বসাক জানান, শাকিলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার দেহে একাধিক জখম ছিল।

ইউপির তৃতীয় ধাপের ভোটের দিন এ নিয়ে দুজনের প্রাণহানি হলো। এর আগে ভোট শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও এর বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা সজিব হোসেন নিহত হন।

এ ছাড়া ভোট চলাকালে দিনভর বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন জেলায়। জাল ভোট ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের খবরও এসেছে কিছু জেলা থেকে।

তবে নির্বাচন কমিশন সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার ভোট শেষে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তৃতীয় ধাপের এই নির্বাচন সহিংসতা নিরসনের মডেল হতে পারে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এবারের ভোট গ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে এবং ভোটাররাও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছেন।’

এর আগে দ্বিতীয় ধাপের ভোটের আগে-পরে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু নরসিংদীতেই মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। এ ছাড়া মাগুরায় ৪, মেহেরপুরে ২ এবং কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে নিহত হয়েছেন ১ জন করে।

আরও পড়ুন:
‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’
পূজামণ্ডপে হামলা: বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ-মানববন্ধন
সারা দেশে ‘সম্প্রীতি রক্ষা দিবস’ করবে সাংস্কৃতিক জোট
পূজার নিরাপত্তাকর্মীর খাবার দিচ্ছে মাদ্রাসা
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

হাতি হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু হাতির আক্রমণে

হাতি হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু হাতির আক্রমণে

বন্য হাতি। ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শফিকুল বলেন, ‘জানে আলম হাতি হত্যা মামলার আসামি। শনিবার তিনি হাতির আক্রমণে মারা গেছেন। তার মরদেহ বন বিভাগ শনাক্ত করেছে। এরই মধ্যে তার দাফন শেষ হয়েছে।’

চট্টগ্রামে বৈদ্যুতিক ফাঁদ ব্যবহার করে হাতি হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে ওই প্রাণীর আক্রমণেই।

চকরিয়া উপজেলার জঙ্গল হারবাং এলাকার জানে আলম নামে ওই ব্যক্তি শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাতির আক্রমণে মারা যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।

রোববার রাত ১০টার দিকে তিনি বলেন, ‘জানে আলম হাতি হত্যা মামলার আসামি। শনিবার তিনি হাতির আক্রমণে মারা গেছেন। তার মরদেহ বন বিভাগ শনাক্ত করেছে। এরই মধ্যে তার দাফন শেষ হয়েছে।’

বন কর্মকর্তা শফিকুল জানান, গত ১৩ নভেম্বর জঙ্গল হারবাং এলাকায় বৈদ্যুতিক ফাঁদ ব্যবহার করে ১৫ বছরের একটি পুরুষ হাতিকে হত্যা করা হয়। ময়নাতদন্তেও বৈদ্যুতিক ফাঁদ দিয়ে হাতিটি হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় হওয়া মামলায় জানে আলম ২ নম্বর আসামি ছিলেন।

হাতির অভয়ারণ্য ও বনাঞ্চলে বন্য প্রাণীর প্রাকৃতিক খাদ্যশৃঙ্খল নষ্ট হওয়ায় সম্প্রতি চট্টগ্রাম অঞ্চলে মানুষের সঙ্গে স্থলের সর্ববৃহৎ প্রাণীটির সংঘাত বেড়েছে।

খাবারের খোঁজে হাতিরা লোকালয়ে এসে যেমন তাণ্ডব চালাচ্ছে, আবার মানুষও সুযোগ পেলে তাদের হত্যা করছে।

বন বিভাগের তথ্যে, ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দেশে মৃত্যু হয়েছে ৭৬টি বন্য হাতির। তবে প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, গত দুই বছরেই মৃত্যু হয়েছে ৪০টি বন্য হাতির। এর মধ্যে ২০২০ সালে ২২টি ও ২০২১ সালের সাড়ে ১০ মাসে ১৮টি হাতির মৃত্যুর হয়েছে। চলতি নভেম্বরেই মারা গেছে ৭টি।

এমন পরিস্থিতিতে গত ২২ নভেম্বর হাতির নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিতে বৃহত্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ সারা দেশে বন বিভাগ থেকে হাতি চলাচলের জন্য চিহ্নিত ১২টি করিডর সংরক্ষণে নির্দেশনা দিয়েছে উচ্চ আদালত।

আরও পড়ুন:
‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’
পূজামণ্ডপে হামলা: বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ-মানববন্ধন
সারা দেশে ‘সম্প্রীতি রক্ষা দিবস’ করবে সাংস্কৃতিক জোট
পূজার নিরাপত্তাকর্মীর খাবার দিচ্ছে মাদ্রাসা
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন

নৌকাকে হারিয়ে শ্রীমঙ্গলের মেয়র বিএনপি নেতা মহসিন

নৌকাকে হারিয়ে শ্রীমঙ্গলের মেয়র বিএনপি নেতা মহসিন

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র বিএনপি নেতা মহসিন মিয়া মধু। ছবি: নিউজবাংলা 

শ্রীমঙ্গল পৌরসভায় সবশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১১ সালে। মেয়াদ শেষ হলেও নানা আইনি জটিলতায় ভোট আরও হয়নি। প্রায় ১১ বছর পর রোববার এ পৌরসভায় ভোট হয়।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল পৌরসভা নির্বাচনে ফের মেয়র হয়েছেন বিএনপি নেতা মহসিন মিয়া মধু।

রোববারের ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সৈয়দ মনসুরুল হককে ৫৫৯ ভোটে পরাজিত করেন বর্তমান মেয়র মহসিন।

নারিকেল প্রতীকে মহসিন পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার প্রার্থী পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৩০ ভোট।

বেসরকারিভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়।

দলীয় সিদ্ধান্তে দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্জন করেছে বিএনপি। এ কারণে দলের নেতারা ভোটে প্রার্থী হননি। তবে কিছু স্থানে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন কেউ কেউ। তাদের মধ্যে বর্তমানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সংখ্যাই বেশি।

শ্রীমঙ্গল পৌরসভায় সবশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১১ সালে। মেয়াদ শেষ হলেও নানা আইনি জটিলতায় ভোট আরও হয়নি। প্রায় ১১ বছর পর রোববার এ পৌরসভায় ভোট হয়।

রোববার সকাল ৮টায় শ্রীমঙ্গল পৌরসভায় প্রথমবারের মতো ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট শুরু হয়। নির্বাচনে মেয়র পদে তিনজন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩১ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

আরও পড়ুন:
‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’
পূজামণ্ডপে হামলা: বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ-মানববন্ধন
সারা দেশে ‘সম্প্রীতি রক্ষা দিবস’ করবে সাংস্কৃতিক জোট
পূজার নিরাপত্তাকর্মীর খাবার দিচ্ছে মাদ্রাসা
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চলছে: তথ্যমন্ত্রী

শেয়ার করুন