সাংবাদিকদের উপাচার্য

ঢাবির ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী টিকার আওতায়

ঢাবির ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী টিকার আওতায়

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ ভবনে ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাবি উপাচার্য। ছবি: নিউজবাংলা

উপাচার্য বলেন, ‘সাত-আট দিন আগের হিসাব অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার আওতায় এসেছে। এখন এ হার ৯৫ থেকে ৯৬ শতাংশ হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৯৫ থেকে ৯৬ শতাংশ শিক্ষার্থী করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার আওতায় এসেছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ ভবনে ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

উপাচার্য বলেন, ‘সাত-আট দিন আগের হিসাব অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার আওতায় এসেছে। এখন এ হার ৯৫ থেকে ৯৬ শতাংশ হবে।’

ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘বিগত সময়ের ধারাবাহিকতায় খুব সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ জন্য আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’

সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান জানিয়ে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মানা সবার জন্য খুবই জরুরি। কয়েকটি জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে আরও সতর্ক ও তৎপর হতে হবে।

‘শুধু করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা ঢাকার বাইরে পরীক্ষা নিইনি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘব করা।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হয় শুক্রবার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সাত বিভাগের আরও সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বেলা ১১টা থেকে একযোগে শুরু হয় পরীক্ষা। চলে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিস জানায়, ‘গ’ ইউনিটে ১ হাজার ২৫০ আসনের বিপরীতে ২৭ হাজার ৩৭৪ জন আবেদন করেছেন। এই হিসাবে ইউনিটটিতে আসনপ্রতি লড়েছেন ২২ শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ২২ জন
সালাম না দেয়ায় ঢাবির হলে শিক্ষার্থীদের চড়-থাপ্পড়
ঢাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে ভুল বানানে তুলকালাম
২৭০ টাকায় ঢাবিতে ৫০ হাজার টাকার স্বাস্থ্যবিমা
ফুল-চকলেটে হলে বরণ ঢাবি শিক্ষার্থীদের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনায় দেশে আরও ৬ মৃত্যু

করোনায় দেশে আরও ৬ মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ছয়জনের মৃত্যু ছাড়াও এ সময়ের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ১৭৬ জনের শরীরে।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত ২৪ ঘণ্টার এ তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ছয়জনের মৃত্যু ছাড়াও এ সময়ের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ১৭৬ জনের শরীরে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ২৬৪ জনের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৯৯৫ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৪৮টি ল্যাবে ১৬ হাজার ৪২৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৬২ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৪২ হাজার ৪৮ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই মাসের বেশি সময় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সে দেশের করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বলে গণ্য করা হয়। সরকারের লক্ষ্য এই হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা।

তবে করোনাভাইরাসের দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এ ভাইরাসটি আগে শনাক্ত হওয়া ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে অধিক সংক্রামক বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর বিস্তার রোধে সামাজিক, রাজনৈতিকসহ সব ধরনের জনসমাগমকে নিরুৎসাহিত করতে সরকার ১৫ দফা নির্দেশনা দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ২২ জন
সালাম না দেয়ায় ঢাবির হলে শিক্ষার্থীদের চড়-থাপ্পড়
ঢাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে ভুল বানানে তুলকালাম
২৭০ টাকায় ঢাবিতে ৫০ হাজার টাকার স্বাস্থ্যবিমা
ফুল-চকলেটে হলে বরণ ঢাবি শিক্ষার্থীদের

শেয়ার করুন

বগুড়ায় হার্টে রিং পরানো শুরু

বগুড়ায় হার্টে রিং পরানো শুরু

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক মীর জামাল উদ্দিন শনিবার শজিমেক হাসপাতালে রোগীর হার্টে রিং পরানো কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ছবি: নিউজবাংলা

হাসপাতালের উপপরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘শজিমেক হাসপাতালে স্টেনটিং বা হার্টে রিং পরানো শুরু হলো। প্রফেসর মীর জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের টিম আজ ১৩ রোগীর এনজিওগ্রাম এবং দুই রোগীকে রিং পরিয়েছে।’

উত্তরের জেলা বগুড়ায় রোগীর হার্টে রিং পরানো শুরু হয়েছে।

দুই রোগীর হার্টে রিং পরানোর মধ্য দিয়ে শনিবার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে এই কার্যক্রম চালু হলো।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক মীর জামাল উদ্দিন সেখানে এ চিকিৎসা উদ্বোধন করেন। পরে তার নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের টিম হার্টে রিং পরানো শুরু করে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শজিমেকের অধ্যক্ষ রেজাউল আলম জুয়েল, হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ মহসীন, উপপরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ, কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক শেখ মো. শহিদুল হক।

হাসপাতালের উপপরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, ‘শজিমেক হাসপাতালে স্টেনটিং বা হার্টে রিং পরানো শুরু হলো। প্রফেসর মীর জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের টিম আজ ১৩ রোগীর এনজিওগ্রাম এবং দুই রোগীকে রিং পরিয়েছে।’

হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ মহসীন জানান, শনিবার থেকে শুরু হওয়া রিং পরানো কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এখন থেকে বগুড়াসহ আশপাশের জেলার রোগীরা অল্প খরচে শজিমেক হাসপাতালে স্টেনটিং চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ২২ জন
সালাম না দেয়ায় ঢাবির হলে শিক্ষার্থীদের চড়-থাপ্পড়
ঢাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে ভুল বানানে তুলকালাম
২৭০ টাকায় ঢাবিতে ৫০ হাজার টাকার স্বাস্থ্যবিমা
ফুল-চকলেটে হলে বরণ ঢাবি শিক্ষার্থীদের

শেয়ার করুন

করোনায় আরও ৩ মৃত্যু, শনাক্ত ২৪৩

করোনায় আরও ৩ মৃত্যু, শনাক্ত ২৪৩

দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ৭০ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৯৮৯ জনের।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে ২৪৩ জনের দেহে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে শুক্রবার বিকেলে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৭৭ হাজার ৭০ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৯৮৯ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৪৮টি ল্যাবে ১৭ হাজার ৩৮৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১ দশমিক ৪০ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন পুরুষ, একজন নারী। মৃতদের মধ্যে পঞ্চাশোর্ধ্ব দুজন, ষাটোর্ধ্ব একজন।

তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে দুজনের মৃত্যু হয়েছে, খুলনা বিভাগে মৃত্যু হয়েছে একজনের।

গত এক দিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২২৫ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৪১ হাজার ৮৮৬ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহ নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সে দেশের করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে ধরা হয়।

সে অনুযায়ী বাংলাদেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ইতিমধ্যে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সরকারের লক্ষ্য এই হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা।

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ২২ জন
সালাম না দেয়ায় ঢাবির হলে শিক্ষার্থীদের চড়-থাপ্পড়
ঢাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে ভুল বানানে তুলকালাম
২৭০ টাকায় ঢাবিতে ৫০ হাজার টাকার স্বাস্থ্যবিমা
ফুল-চকলেটে হলে বরণ ঢাবি শিক্ষার্থীদের

শেয়ার করুন

আগে শনাক্ত হলে লিভার সিরোসিসের চিকিৎসা সম্ভব

আগে শনাক্ত হলে লিভার সিরোসিসের চিকিৎসা সম্ভব

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. রোকসানা বেগম জানান, লিভার সিরোসিসের প্রধান কারণ ক্রনিক হেপাটাইটিস বি ভাইরাস। এ ভাইরাস কারও কারও শরীরে ১০-১৫ বছর অবস্থান করে। এই দীর্ঘদিন অবস্থানের কারণে লিভার সিরোসিস দেখা দেয়। ফ্যাটি লিভারের কারণেও এই লিভার সিরোসিস হয়।

লিভার সিরোসিস লিভার বা যকৃতের ক্রনিক রোগ। এতে লিভারের সেলে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত দেখা দেয়। ‘হেপাটাইটিস সি’ ভাইরাস শরীরে দীর্ঘদিন অবস্থানের কারণে যকৃতের কোষগুলোর কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে রোগীর মৃত্যু ঘটাতে পারে।

প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসা সম্ভব। তাই অবহেলা না করে যথাযথ চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের হেপাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রোকসানা বেগম। সম্প্রতি নিউজবাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. রোকসানা বেগম বলেন, লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগী দীর্ঘদিন কোনো উপসর্গ ছাড়া স্বাভাবিক চলাফেলা করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে কম্পেনসেটেড সিরোসিসে আক্রান্ত ব্যক্তির তেমন কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। তবে কিছু অভিন্ন লক্ষণ থাকে; যেমন- শারীরিক দুর্বলতা, মাড়ি বা নাক থেকে রক্ত পড়া, ওজন কমে যাওয়া, চামড়া ত্বক ও চোখ হলুদ হওয়া, বমি বমি ভাব। এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করাতে হবে।

প্রশ্ন: লিভার সিরোসিস বলতে আমরা কী বুঝি?

ডা. রোকসানা বেগম: শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে আসা রোগীদের একটি বড় অংশ লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। রোগের ক্ষেত্রে এর পরেই লিভার ক্যান্সারের অবস্থান। লিভার বা যকৃতের যে কোনো ক্রনিক রোগের কারণে লিভারের সেলগুলো নষ্ট হয়ে যায়, লিভারের সেলগুলো ঠিকমতো কাজ করে না। তখন যে অবস্থা তৈরি হয়, তাকে মূলত লিভার সিরোসিস বলা হয়।

প্রশ্ন: লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার কারণ কী?

ডা. রোকসানা বেগম: প্রধান কারণ ক্রনিক হেপাটাইটিস বি ভাইরাস। এ ভাইরাস কারও কারও শরীরে ১০-১৫ বছর অবস্থান করে। এই দীর্ঘদিন অবস্থানের কারণে লিভার সিরোসিস দেখা দেয়। ফ্যাটি লিভারের কারণেও এই লিভার সিরোসিস দেখা দেয়। এখন এটি অনেক কমন হয়ে দেখা দিয়েছে। আল্ট্রাসনোগ্রাফি করলেই একটা বড় অংশের ফ্যাটি লিভার ধরে পড়ে। ‘হেপাটাইটিস সি’ ভাইরাসের কারণে লিভার সিরোসিস দেখা দেয়। এ ছাড়া জেনেটিক কারণও লিভার সিরোসিসের জন্য দায়ী। অ্যালকোহলও অনেক ক্ষেত্রে লিভার সিরোসিসের জন্য দায়ী।

আগে শনাক্ত হলে লিভার সিরোসিসের চিকিৎসা সম্ভব
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের হেপাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রোকসানা বেগম

মানুষের শরীরে দীর্ঘদিন হেপাটাইটিস সি, হেপাটাইটিস বি’র অবস্থান, অ্যালকোহলিজম, ফ্যাটি লিভার, জেনেটিক ডিজিজ এগুলোর কারণে লিভারের কোষগুলোয় এক ধরনের উপদাহ সৃষ্টি হয়। উপদাহ হতে হতে একসময় কোষগুলো কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তখন লিভার ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে লিভার প্রতিস্থাপন ছাড়া আর কিছু করার থাকে না।

প্রশ্ন: কীভাবে বুঝবেন আপনি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত?

ডা. রোকসানা বেগম: লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না দুইভাবে জানা যাবে। লিভার সিরোসিসের দুটি পর্যায় থাকে। একটি হচ্ছে কম্পেনসেটেড সিরোসিস। আর একটি হচ্ছে ডি-কম্পেনসেটেড সিরোসিস। কম্পেনসেটেডকে প্রাথমিক পর্যায় বলা হয়। এ সময় কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। সাধারণত এ সময় রোগীর শরীরিক দুর্বলতা দেখা যায়। এ ছাড়া লিভার যেখানে থাকে, পেটের ডান পাশে ওপরের দিকে, সেখানে ব্যথা থাকে। অন্য কোনো রোগ শনাক্ত করতে যে পরীক্ষা দেওয়া হয়, তাতে অনেক সময় বি ভাইরাস, সি ভাইরাস বা লিভারের কোনো সেল নষ্ট পাওয়া যায়। এ সময় সাধারণত সঠিক চিকিৎসা নিলে এটি নিরাময় সম্ভব। তবে তখন এই লিভার সিরোসিসের কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না।

প্রশ্ন: রোগীরা হাসপাতালে কোন ধরনের জটিলতা নিয়ে আসেন?

ডা. রোকসানা বেগম: যেহেতু লিভার নিয়ে কাজ করি, তাই আমরা সব ধরনের রোগী পেয়ে থাকি। অবস্থা যখন বেশি গুরুতর, তখন রোগীরা আমাদের কাছে আসেন। পেটে বা পায়ে পানি দেখা দিলে, জন্ডিস, হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি এসব সমস্যা নিয়ে আমাদের কাছে বেশি আসেন। তখন আমরা তাদের লিভার সিরোসিস পরীক্ষা করি। অন্যান্য পরীক্ষার মধ্যেই লিভার সিরোসিস আছে কি না পরীক্ষা করি।

প্রশ্ন: লিভার সিরোসিসের চিকিৎসা কী?

ডা. রোকসানা বেগম: লিভার সিরোসিস চিকিৎসার বিষয়ে কিছু কিছু জিনিস আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রথমে দেখতে হবে রোগীর লিভার সিরোসিস কোন পর্যায়ে আছে। পূর্ণাঙ্গ লিভার সিরোসিস নিরাময় সম্ভব নয়। তাই যে রোগের কারণে লিভার সিরোসিস হয়েছে, আমরা সেই রোগ নিরাময় করার চেষ্টা করি। একজন যদি সম্পূর্ণভাবে এই রোগে আক্রান্ত হন, তা হলে লিভার প্রতিস্থাপন করা ছাড়া নিরাময় করা সম্ভব নয়। এটি শুধু বাংলাদেশে নয়, সব দেশেই এই অবস্থা। যখন কোনো রোগী লিভার প্রতিস্থাপন করতে পারেন না, তখন আমরা সাইড সিম্পটমগুলোর চিকিৎসা করার চেষ্টা করি। যেমন লিভার সিরোসিসের সঙ্গে যাদের জন্ডিস রয়েছে, তাদের জন্ডিসের চিকিৎসা দিই। যার পেটে পানি দেখা দেয়, তার পেটের পানি কমানোর চিকিৎসা দিই। রোগীদের রক্তবমি ও কালো পায়খানা হয়। এটি নিয়ন্ত্রণে আমরা চিকিৎসা দিই। আমরা সেটি কমানোর চেষ্টা করি। রোগী যাতে অজ্ঞান না হয়ে যান, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। শরীরের লবণের মাত্রা কমে যাচ্ছে কি না, নতুন করে কোনো ইনফেকশন দেখা দিচ্ছে কি না- এগুলো লক্ষ্য রাখা হয়।

লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার প্রধান কারণ হেপাটাইটিস সি এবং বি ভাইরাস। এ দুটি ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে মুখের খাওয়ার ওষুধ পাওয়া যায়। এ ওষুধ বাংলাদেশে কম মূল্যে পাওয়া যায়। তাই আমরা যখন কোনো রোগীর শরীরে হেপাটাইটিস সি ও বি ভাইরাস দেখি, তা প্রতিরোধে ওষুধ দিয়ে থাকি। আগে থেকে এই দুই ভাইরাসের চিকিৎসা দিলে লিভার সিরোসিসের পর্যায়ে যাওয়ার আশঙ্কা খুবই কম থাকে। ফ্যাটি লিভার থাকলে সেটির চিকিৎসা দিয়ে থাকি।

গুরুতর রোগীকে প্রতিনিয়ত ফলোআপে রাখা হয়। নতুন কোনো সাইড সিম্পটম দেখা দিচ্ছে কি না, সেটি আমরা লক্ষ্য রাখি। সেখান থেকে ক্যান্সারের দিকে ধাবিত হচ্ছে কি না, সেদিকে লক্ষ্য রাখা হয়। এ ধরনের রোগীকে নির্দিষ্ট সময় পরপর ফলোআপে রাখা হয়। এটিও আসলে চিকিৎসার অংশ।

প্রশ্ন: লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগীর কি সার্জারির প্রয়োজন হয়?

ডা. রোকসানা বেগম: লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত ব্যক্তির সম্পূর্ণ চিকিৎসা লিভার প্রতিস্থাপন। তবে লিভার প্রতিস্থাপন দেশের সব হাসপাতালে এখনও সব জায়গায় শুরু হয়নি। শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে লিভার প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও সিঙ্গাপুর থেকে বেশ কয়েকটি দেশে লিভার প্রতিস্থাপনে চিকিৎসা দেয়া হয়। সবচেয়ে কম খরচের কথা যদি বলতে চান, তা হলে অবশ্যই ভারতে চিকিৎসার কথা বলতে হবে। দেশে থেকে চিকিৎসা নিলে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা খরচ হয়ে থাকে। এটি মূলত লিভার প্রতিস্থাপনের খরচ।

আগে শনাক্ত হলে লিভার সিরোসিসের চিকিৎসা সম্ভব

লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হলে অনেক সময় রক্তবমি হয়ে থাকে। এটি বন্ধে ব্যান্ড পরানো হয়। এর পেছনে খরচ হয়ে থাকে। এই চিকিৎসার জন্য খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।

এ ছাড়া স্টেম সেল থেরাপি নামে একটি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আছে। যারা লিভার প্রতিস্থাপন করতে পারে না, তাদের জন্য স্টেম সেল থেরাপির একটি ট্রিটমেন্ট ব্যবস্থাপনা রয়েছে। স্টেম সেল থেরাপির মাধ্যমে রোগীকে অনেক দিন বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব। অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশে এ চিকিৎসা হচ্ছে। দেশে অল্প খরচে এটি সম্ভব হচ্ছে। মাত্র দেড় থেকে ২ লাখ টাকার মধ্যে এই চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। অন্যান্য দেশে ১৫-২০ লাখ টাকা খরচ হয়। এই চিকিৎসা আমরা লিভার সিরোসিস রোগীদের ক্ষেত্রে নিতে পারি। তবে এটি লিভার প্রতিস্থাপনের বিকল্প নয়। সুযোগ থাকলে লিভার প্রতিস্থাপন করতে হবে।

লিভার সিরোসিসে আক্রান্তদের একটি বড় অংশের পেটে পানি জমে। সেই পানি বের করার জন্য আমরা এক ধরনের ইনজেকশন ব্যবহার করি। এই ইনজেকশনের মাধ্যমে পেট থেকে পানি বের করা হয়। এই চিকিৎসা আমরা সরকারিভাবেও দিয়ে থাকি, বিভিন্ন হাসপাতালের বহির্বিভাগে এ সেবা দেয়া হচ্ছে।

প্রশ্ন: কোন ধরনের জীবনাভ্যাস লিভার সিরোসিসের জন্য দায়ী?

ডা. রোকসানা বেগম: লিভার সিরোসিসের মূল কারণ হেপাটাইটিস বি ভাইরাস ও হেপাটাইটিস সি ভাইরাস। তবে অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণের কারণেও এ রোগে কেউ আক্রান্ত হতে পারেন। এ ছাড়া জেনেটিক কারণ ও লিভারে চর্বির কারণে লিভার সিরোসিস হয়। আমরা যদি একটু সচেতন হই, তা হলে অবশ্যই এটি প্রতিরোধ করতে পারি। কোনো ব্যক্তি হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ হলে তারা সহজে পরীক্ষা করতে পারেন। মাত্র দুটি টেস্ট করলেই হেপাটাইটিস বি ও হেপাটাইটিস সি ভাইরাস আছে কি না তা জানা সম্ভব। এই হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের যদি ট্রিটমেন্ট করা যায়, তা হলে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশে কমে যাবে।

প্রশ্ন: লিভার সিরোসিস রুখতে করণীয় কী?

ডা. রোকসানা বেগম: ফ্যাটি লিভারের কারণেও যেহেতু লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে, সে জন্য আমরা যদি নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করতে পারি, তা হলে ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্ত থাকা যায়। জীবনযাপনের বিষয়টি সম্পূর্ণ আমাদের হাতে। আমরা চাইলেই ফাস্টফুড ত্যাগ করতে পারি, গরুর মাংস, খাসির মাংস, চর্বিযুক্ত খাবার নিয়মতান্ত্রিকভাবে খেতে পারি। নিয়মিত শরীরচর্চা করা উচিত। লিভারে চর্বি জমা না হলে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে। আমরা সুরক্ষিত থাকব। নিয়মতান্ত্রিকভাবে অ্যালকোহল গ্রহণ করতে হবে। হেপাটাইটিস ভাইরাস প্রতিরোধে অবশ্যই আমরা টিকা গ্রহণ করব। অনেক সময় দেখা যায় হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে গর্ভবতী মা। তখন সন্তান প্রসব করলে শিশু হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করতে হবে। একই সঙ্গে গর্ভবতী মা যদি হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তা হলে সন্তান প্রসবের সঙ্গে সঙ্গে সেই সন্তানকে দুটি টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ২২ জন
সালাম না দেয়ায় ঢাবির হলে শিক্ষার্থীদের চড়-থাপ্পড়
ঢাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে ভুল বানানে তুলকালাম
২৭০ টাকায় ঢাবিতে ৫০ হাজার টাকার স্বাস্থ্যবিমা
ফুল-চকলেটে হলে বরণ ঢাবি শিক্ষার্থীদের

শেয়ার করুন

খালেদার চিকিৎসা দেশে সেভাবে নেই: ফখরুল

খালেদার চিকিৎসা দেশে সেভাবে নেই: ফখরুল

হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসনের রক্তক্ষরণ হচ্ছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‌‘এটা যদি বেশি দিন চলে তাহলে তিনি বাঁচবেন না। তার যে রোগ হয়েছে, আপনারা শুনেছেন লিভার সিরোসিস; মারাত্মক রোগ। দেশে এই রোগের চিকিৎসা সেভাবে নাই।’

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা দেশে সেভাবে নেই বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শুক্রবার সকালে কৃষক দলের মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

বিএনপি চেয়ারপারসনের রক্তক্ষরণ হচ্ছে উল্লেখ করে মির্ফা ফখরুল বলেন, ‌‘এটা যদি বেশিদিন চলে তাহলে তিনি বাঁচবেন না। তার যে রোগ হয়েছে, আপনারা শুনেছেন লিভার সিরোসিস; মারাত্মক রোগ। দেশে এই রোগের চিকিৎসা সেভাবে নেই।

‘একমাত্র আমেরিকা, ইংল্যান্ড ও জার্মানিতে এই রোগের চিকিৎসা ভালো হয়।’

তিনি বলেন, ‌‘আমরা চাচ্ছি নেত্রীকে বিদেশে পাঠানো হোক। বিদেশে পাঠানোর সেই সুযোগটা চাচ্ছি। এটা দয়ামায়া বা মহানুভবতা নয়, একজন নাগরিকের অধিকার।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আসুন। আজ জুম্মা বার, পবিত্র দিন। আমাদের নেত্রীর সুস্থতার জন্য দোয়া করি। এর আগের জুম্মার দিন আমরা দোয়া করেছি। বায়তুল মোকাররমে লক্ষ মানুষ দোয়া করেছে। প্রতিদিন প্রতি ওয়াক্তের নামাজে আমাদের মা-বোনেরা দোয়া করছেন। আল্লাহ, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সুস্থ করে আমাদের মধ্যে ফিরিয়ে নিয়ে আসো।’

কৃষক দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা ছড়িয়ে পড়েন গোটা বাংলাদেশে। বাংলাদেশের সব কৃষক, কৃষানীদের বের করে নিয়ে আসেন ঘর থেকে। তারা তাদের নেত্রীর জন্য, বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য, বাংলাদেশের আত্মার জন্য রাজপথে দাঁড়াক।’

কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিএনপির ভাইস চেয়ারপারসন শামসুজ্জামান দুদু, যুবদলের সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ বক্তব্য দেন।

গত ১৩ নভেম্বর বিকেলে খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে এভারকেয়ারে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হওয়ায় পরের দিন ভোরে তাকে সিসিইউতে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে বলে শুক্রবার সকালে জানিয়েছেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের এক সদস্য।

তিনি জানান, কিছুদিন আগেও তরল খাবার ছাড়া অন্য কোনো খাবার খেতে পারতেন না খালেদা জিয়া, তবে এখন তরল খাবারের সঙ্গে বাসায় তৈরি করা অন্য খাবারও খেতে পারছেন।

মেডিক্যাল বোর্ডের ওই সদস্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সিসিইউতে (ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট) যে যাচ্ছেন তার সঙ্গে হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলছেন খালেদা জিয়া। কেউ সালাম দিলে উত্তর দিচ্ছেন।’

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ২২ জন
সালাম না দেয়ায় ঢাবির হলে শিক্ষার্থীদের চড়-থাপ্পড়
ঢাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে ভুল বানানে তুলকালাম
২৭০ টাকায় ঢাবিতে ৫০ হাজার টাকার স্বাস্থ্যবিমা
ফুল-চকলেটে হলে বরণ ঢাবি শিক্ষার্থীদের

শেয়ার করুন

বাসার খাবার খেতে পারছেন খালেদা: চিকিৎসক

বাসার খাবার খেতে পারছেন খালেদা: চিকিৎসক

হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

চিকিৎসক জানিয়েছেন, কিছুদিন আগেও তরল খাবার ছাড়া অন্য কোনো খাবার খেতে পারতেন না খালেদা জিয়া, তবে এখন তরল খাবারের সঙ্গে সঙ্গে বাসায় তৈরি করা অন্য খাবারও খেতে পারছেন।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের এক সদস্য।

তিনি জানিয়েছেন, কিছুদিন আগেও তরল খাবার ছাড়া অন্য কোনো খাবার খেতে পারতেন না খালেদা জিয়া, তবে এখন তরল খাবারের সঙ্গে বাসায় তৈরি করা অন্য খাবারও খেতে পারছেন।

মেডিক্যাল বোর্ডের ওই সদস্য শুক্রবার সকালে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সিসিইউতে (ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট) যে যাচ্ছেন তার সঙ্গে হাত নেড়ে নেড়ে কথা বলছেন খালেদা জিয়া। কেউ সালাম দিলে উত্তর দিচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক দিন পর গতকাল তিনি গোসল করেছেন।’

মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে সিসিইউতে এসে বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়ে গেছেন, তবে আজ শুক্রবার হওয়ায় মেডিক্যাল বোর্ডের মিটিং হচ্ছে না। শনিবার বিকেলে মেডিক্যাল বোর্ডের মিটিং রয়েছে। ওই মিটিংয়ে তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিসের কারণে রক্তক্ষরণ হচ্ছে জানিয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসকরা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানির বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসার সুপারিশ করেছেন।

গত রোববার সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, বিএনপি নেত্রীর লিভারে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। একবার এই রক্তক্ষরণ সামাল দেয়া গেছে, তবে এখন তার যে অবস্থা, সেটি আবার সামাল দেয়া কঠিন হবে।

বাংলাদেশে দুই থেকে তিনবার রক্তক্ষরণ সামাল দেয়ার কারিগরি সুযোগ নেই দাবি করে যত দ্রুত সম্ভব তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন তারা।

১৩ নভেম্বর বিকেলে খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে এভারকেয়ারে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হওয়ায় পরের দিন ভোরে তাকে সিসিইউতে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার।

খালেদার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে তার পরিবার ও দল থেকে সরকারের প্রতি বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাতে সাড়া মেলেনি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের নেত্রীর অবস্থা ‘ভেরি ক্রিটিক্যাল’। তাকে অবিলম্বে বিদেশে নেয়া দরকার।

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার অনুমতি আদায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি।

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ২২ জন
সালাম না দেয়ায় ঢাবির হলে শিক্ষার্থীদের চড়-থাপ্পড়
ঢাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে ভুল বানানে তুলকালাম
২৭০ টাকায় ঢাবিতে ৫০ হাজার টাকার স্বাস্থ্যবিমা
ফুল-চকলেটে হলে বরণ ঢাবি শিক্ষার্থীদের

শেয়ার করুন

অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় রক্ত জমাট বাঁধার প্রমাণ

অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় রক্ত জমাট বাঁধার প্রমাণ

গবেষণার পেছনের দলটি বলছে, তারা বিশ্বাস করে যে অক্সফোর্ড- অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনে ব্যবহৃত শিম্পাঞ্জি থেকে প্রাপ্ত ভাইরাসটির একটি নির্দিষ্ট মিথস্ক্রিয়া রয়েছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নিজের বিরুদ্ধে কাজ করতে প্ররোচিত করতে পারে। যদিও এ ধরনের ঘটনা খুব কমসংখ্যক মানুষের ক্ষেত্রেই ঘটে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনের পর অনেক দেশেই করোনাভাইরাস মোকাবিলায় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। শরীরে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের ক্ষেত্রে অ্যাস্ট্রাজেনেকার কার্যকারিতা গবেষণায় প্রমাণিত। তবে এ টিকা মানবদেহে প্রয়োগের ফলে রক্ত জমাট বাঁধার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এবার কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়ে রক্ত জমাট বাঁধার কারণ খুঁজে পেয়েছেন।

যেসব ভাইরাসের কারণে স্তন্যপায়ীদের ঠান্ডা-কাশি দেখা দেয়, সে রকম এডিনোভাইরাসের সঙ্গে করোনার জিনগত উপাদান মিশিয়ে এ টিকা তৈরি হয়। মাংসপেশিতে টিকা প্রয়োগের ফলে অনেক সময় রক্ত প্রবাহের সঙ্গে মিশে যায়।

ফলে এর উপাদান রক্তের প্রোটিন কনা প্লাটিলেট ফ্যাক্টর-৪-কে আকর্ষণ করে। তখন অ্যান্টিবডি ও প্লাটিলেট ফ্যাক্টর-৪ মিলিত হওয়ার কারণে রক্ত জমাট বাঁধার মতো ঘটনা ঘটে থাকে।

এডিনোভাইরাস এক ধরনের ভাইরাল ভ্যাক্টর। সাধারণত আণবিক জীববিজ্ঞানীরা কোষগুলোতে জিনগত উপাদান সরবরাহ করতে এটি ব্যবহার করেন। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় পাওয়া এডিনোভাইরাসটি শিম্পাঞ্জির মধ্যে দেখা যায়।

গবেষণার পেছনের দলটি বলছে, তারা বিশ্বাস করে যে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনে ব্যবহৃত শিম্পাঞ্জি থেকে প্রাপ্ত ভাইরাসটির একটি নির্দিষ্ট মিথস্ক্রিয়া রয়েছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নিজের বিরুদ্ধে কাজ করতে প্ররোচিত করতে পারে। যদিও এ ধরনের ঘটনা খুব কমসংখ্যক মানুষের ক্ষেত্রেই ঘটে।

কার্ডিফের গবেষকদের সঙ্গে অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিজ্ঞানীরাও যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, টিকা নিয়ে রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনার চেয়ে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বেশি।

অ্যাস্ট্রাজেনেকার পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য দেয়ার পর অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি ও কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা তাদের গবেষণার বিস্তারিত প্রকাশ করেন। যদিও গবেষণার সঙ্গে জড়িত বিজ্ঞানীরা জোর দিয়েছিলেন যে, ঘটনাটি খুব কমসংখ্যক মানুষের মধ্যে ঘটে।

জনসন অ্যান্ড জনসনের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনটিও করোনাভাইরাস থেকে মানব কোষে স্পাইক প্রোটিন বহন করার জন্য এডিনোভাইরাস ব্যবহার করে থাকে। ফলে জনসনের টিকাতেও বিরল রক্ত জমাট বাঁধার মতো ঘটনা ঘটতে পারে।

সিএনবিসির প্রতিবেদনের বরাতে, চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা শরীরে ঝুঁকির চেয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই বেশি তৈরি করে।

আরও পড়ুন:
ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ২২ জন
সালাম না দেয়ায় ঢাবির হলে শিক্ষার্থীদের চড়-থাপ্পড়
ঢাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে ভুল বানানে তুলকালাম
২৭০ টাকায় ঢাবিতে ৫০ হাজার টাকার স্বাস্থ্যবিমা
ফুল-চকলেটে হলে বরণ ঢাবি শিক্ষার্থীদের

শেয়ার করুন