কুমিল্লার সহিংসতায় আহত দিলীপের মৃত্যু

কুমিল্লার সহিংসতায় আহত দিলীপের মৃত্যু

নিহত দিলীপ দাস। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘কুমিল্লার সহিংসতায় আহত দিলীপ দাসকে ১৩ তারিখ রাত দেড়টার দিকে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ১৫ তারিখে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়।’

কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার জেরে ঘটে যাওয়া সহিংসতায় আহত দিলীপ দাসের মৃত্যু হয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া।

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার সহিংসতায় আহত দিলীপ দাসকে ১৩ তারিখ রাত দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। ১০৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন তিনি।

‘পরে অবস্থার অবনতি হলে ১৫ তারিখে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।’

দিলীপের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে রাখা রয়েছে বলেও জানান বাচ্চু মিয়া।

নিহতের ভাই অর্জুন কুমার দাশ জানান, ১৩ তারিখ মনোহরপুর রাজেশ্বরী মন্দিরে পূজার জন্য যান দিলীপ। তখনই সেখানে হামলা হয়। মণ্ডপ লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। ইটের টুকরা গিয়ে লাগে দিলীপের মাথায়।

স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়।

কুমিল্লা মহানগর পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অচিন্ত দাস টিটু বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। তার মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি। এ সহিংসতায় কুমিল্লার ১৭ পূজামণ্ডপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন।’

কুমিল্লা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এম তানভীর হোসেন বলেন, ‘আহত দিলীপ দাসের মারা যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। খোঁজখবর নিয়ে বিস্তারিত বলা হবে।’

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় নেয়া হচ্ছে ইকবালকে
রংপুরে হামলার প্রতিবাদে জেলে সমিতির মানববন্ধন
সাম্প্রদায়িক হামলা: বেগমগঞ্জ থানার ওসি বদলি
চাঁদপুরে সহিংসতা: আদালতে জামায়াত নেতার স্বীকারোক্তি
মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কক্সবাজারে গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিজিবি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা: এজাহারে অভিযোগ

বিজিবি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা: এজাহারে অভিযোগ

নিহত বিজিবি নায়েক রুবেল মণ্ডল। ছবি: নিউজবাংলা

এজাহারে বলা হয়, নির্বাচনি যানবাহন, ভাড়া করা গাড়ি, মোটরসাইকেল এবং স্কুলঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। এরই মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে কেন্দ্রে উপস্থিত হয় বিজিবির টিম। তখন মারুফ হোসেন অন্তিকের নেতৃত্বে হত্যা করা হয় বিজিবি সদস্য রুবেল মণ্ডলকে।

অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে বিজিবি সদস্য রুবেল মণ্ডলকে হত্যা করা হয়েছে। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন পরাজিত জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মারুফ হোসেন অন্তিক।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে নির্বাচনি সহিংসতায় বিজিবি সদস্যের হত্যার ঘটনায় করা মামলায় এই অভিযোগ এনেছেন বাদী।

এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভোটকেন্দ্রে ঢুকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পোলিং অফিসার, পুলিশ, আনসার ও বিজিবি সদস্যদের হত্যাচেষ্টা করেন।

কিশোরগঞ্জ থানায় সোমবার রাত সোয়া ১২টার দিকে মামলাটি করা হয়। গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ললিত চন্দ্র রায় মামলাটি করেন।

মামলায় মারুফ হোসেন অন্তিককে প্রধান করে ৯৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে এরই মধ্যে আটজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তারা হলেন পশ্চিম দলিরাম গ্রামের আনোয়ার হোসেন, ইসমাইল হোসেন, যাদু মিয়া, মজনু মিয়া, শরিফুল ইসলাম, ফরহাদ হোসেন, মো. নিশাদ ও মো. নিরব।

এজাহারে বলা হয়েছে, ২৮ নভেম্বর ভোট শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে সরকারি কাজে বাধা দিয়ে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের মারপিট করে পরাজিত প্রার্থী অন্তিকের সমর্থকরা।

এ সময় ব্যালট বাক্স, নির্বাচনি কর্মকর্তাদের সম্মানী ভাতার ৫৬ হাজার ৬৫০ টাকা চুরি করে পালানোর চেষ্টা হলে পুলিশকে গুলি করার নির্দেশ দেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা।

এ সময় নির্বাচনি যানবাহন, ভাড়া করা গাড়ি, মোটরসাইকেল এবং স্কুলঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। এরই মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে কেন্দ্রে উপস্থিত হয় বিজিবির টিম। তখন মারুফ হোসেন অন্তিকের নেতৃত্বে হত্যা করা হয় বিজিবি সদস্য রুবেল মণ্ডলকে।


বিজিবি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা: এজাহারে অভিযোগ


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৪৬ রাউন্ড এবং বিজিবি ১৩৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

অভিযোগের বিষয়ে জানাতে বাদী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ললিত রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

ঘটনা তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টিম মঙ্গলবার দুপুরে সার্কিট হাউসে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।

মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে টিমে ছিলেন বিজিবি রংপুর রিজিওনাল কমান্ডার মাহবুবার রহমান খান, পুলিশের রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত উপপুলিশ মহাপরিদর্শক ওয়ালিদ হোসেন এবং নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা মুরাদ হাসান বেগ।

টিমের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেন কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নবীরুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়ালসহ আরও কয়েকজন।

জেলা জজ আদালতের কোর্ট পরিদর্শক মোমিনুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আটজনকে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিকেলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আউয়াল নিউজবাংলাকে জানান, জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদের রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হবে।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় নেয়া হচ্ছে ইকবালকে
রংপুরে হামলার প্রতিবাদে জেলে সমিতির মানববন্ধন
সাম্প্রদায়িক হামলা: বেগমগঞ্জ থানার ওসি বদলি
চাঁদপুরে সহিংসতা: আদালতে জামায়াত নেতার স্বীকারোক্তি
মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কক্সবাজারে গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

ভোটের পর সহিংসতায় ঠাকুরগাঁওয়ে মামলা

ভোটের পর সহিংসতায় ঠাকুরগাঁওয়ে মামলা

এইচএসসি পরীক্ষার্থী আদিত্যর মরদেহের পাশে অশ্রুসজল স্বজনরা। ছবি: নিউজবাংলা

মামলায় গ্রেপ্তার-আতঙ্ক ওই গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। বাড়ির পুরুষরা আত্মগোপনে যাচ্ছেন। গ্রামের সেতু বালা বলেন, ‘হামার গ্রামখান শান্তির গ্রাম। হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে থাকি। কোনো ঝগড়া, মারামারি কিছু নাই, কিন্তু এইবার ভোটত হামার অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। তিনজন গুলি খায় মারা গেইছে। মোর স্বামী বাড়িত থাকিবা পারে না। পালায় বেড়াছে।’

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে গত রোববার ভোটের পর সংঘর্ষের মামলা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ৫০০ জনকে। এই সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে বিজিবির গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন নিউজবাংলাকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু হানিফ মণ্ডল মঙ্গলবার দুপুরে এই মামলা করেন। তবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মরদেহগুলো মঙ্গলবার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

নিহতদের সবারই বাড়ি পীরগঞ্জের সনগাঁও ইউনিয়নের ঘিডোব গ্রামে। সেখানকার ঘিডোব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেই ভোট শেষে রাত ৮টার দিকে সংঘর্ষ হয়।

নিহতদের মধ্যে আছে পীরগঞ্জের লোহাগাড়া ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী আদিত্য রায়। ১৭ বছরের টগবগে ছেলের নিথর দেহ দেখে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন কমলিকা রায়।

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে ভোটে মারামারি করতে যায়নি। সে দেখতে গেছিল। অনেক কষ্ট করে তাকে পড়াশোনা করাইছি। ওর বাবা, আমি দুইজনই মানুষের বাসা কাজ করি। আমার ছেলেকে মরতে হইল। শুনছি হামারা সবারে নামে মামলা করতেছে পুলিশ। কেউ বাড়িত থাকিবা পারে না। হামরা কি হবে এলা।’

মামলায় গ্রেপ্তার-আতঙ্ক ওই গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। বাড়ির পুরুষরা আত্মগোপনে যাচ্ছেন।

গ্রামের সেতু বালা বলেন, ‘হামার গ্রামখান শান্তির গ্রাম। হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে থাকি। কোনো ঝগড়া, মারামারি কিছু নাই, কিন্তু এইবার ভোটত হামার অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। তিনজন গুলি খায় মারা গেইছে। মোর স্বামী বাড়িত থাকিবা পারে না। পালায় বেড়াছে।’

সাবিদা নামে আরেকজন বলেন, ‘পুলিশ আর বিজিবি যখন গুলি চালায় অর্ধেকের বেশি পুরুষ গ্রাম ছাড়ে পালাইছে। এলা শুনছি মামলা করিছে। দুই দিন ধরে একটা পুরুষও নাই হামার গ্রামত। হামরা গরিব মানুষ এক দিন কাম না করিলে পরে দিন না খায় থাকিবা হবে। কী করিম ভাবে পাই না।’

যেভাবে সংঘর্ষ শুরু

ওসি জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেদিন ভোট শেষ হওয়ার পর ফল ঘোষণা করতে দেরি করছিলেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুজ্জামানের সমর্থকদের বিতর্ক হয়। পরে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নৌকার প্রার্থী শহীদ হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

‘ফল ঘোষণার পর নাখোশ কিছু এলাকাবাসী ভোটকেন্দ্র অবরুদ্ধ করেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সেখান থেকে পালাতে পারলেও একটি রুমে অবরুদ্ধ করা হয় তিন পুলিশ ও ১৫-১৬ জন আনসার সদস্যকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও দুই প্লাটুন বিজিবি সেখানে যায়। এলাকাবাসী তাদের ওপর হামলা চালান। বিজিবি পরে গুলি চালালে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন।’

তিনি জানান, গুলিবিদ্ধদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর চিকিৎসক শাহপলি নামে একজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুল জব্বার বলেন, ‘রাত ১২টার দিকে হাসপাতালে পাঁচজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আনা হয়। এর মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় পাই। বাকি চারজনকে সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।’

ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নাদিরুল আজিজ চয়ন বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে চারজনকে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। সারা রাত সেই দুজনকে আইসিইউতে রাখি এবং সকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করি। রাস্তায় সেই দুজন মারা যান।’

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় নেয়া হচ্ছে ইকবালকে
রংপুরে হামলার প্রতিবাদে জেলে সমিতির মানববন্ধন
সাম্প্রদায়িক হামলা: বেগমগঞ্জ থানার ওসি বদলি
চাঁদপুরে সহিংসতা: আদালতে জামায়াত নেতার স্বীকারোক্তি
মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কক্সবাজারে গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

কিশোরীর ‘আত্মহত্যা’: স্কুল কমিটির সদস্য গ্রেপ্তার

কিশোরীর ‘আত্মহত্যা’: স্কুল কমিটির সদস্য গ্রেপ্তার

কিশোরীকে যৌন নির্যাতন ও আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার এই ব্যক্তি। ছবি: নিউজবাংলা

মামলার বরাত দিয়ে ওসি জানান, স্কুলের পরিত্যক্ত ভবনের ছাদে নিয়ে ওই কিশোরীর ওপর যৌন নির্যাতন চালায় রফিকুল ও সহযোগী শাহিনুর- এমন অভিযোগে তাদের আসামি করে গত ৮ নভেম্বর ক্ষেতলাল থানায় মামলা করেন কিশোরীর বাবা। এরপর গত ১৮ নভেম্বর দুপুরে ওই কিশোরীকে রফিকুল, শাহিনুর ও অন্য আসামিরা অপমান করেন। ওইদিন বিকেলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে ওই স্কুলছাত্রী।

জয়পুরের ক্ষেতলালে এক স্কুলছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে বড়তারা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য রফিকুুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নীরেন্দ্র নাথ মণ্ডল জানান, রফিকুলকে সোমবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার নামে স্কুলছাত্রীকে যৌন নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে মামলা আছে।

ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী গত ১৮ নভেম্বর নিজ ঘরে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বরাত দিয়ে ওসি জানান, স্কুলের পরিত্যক্ত ভবনের ছাদে নিয়ে ওই কিশোরীর ওপর যৌন নির্যাতন চালায় রফিকুল ও সহযোগী শাহিনুর- এমন অভিযোগে তাদের আসামি করে গত ৮ নভেম্বর ক্ষেতলাল থানায় মামলা করেন কিশোরীর বাবা। মামলার পর থেকে মেয়েটির পরিবারকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন আসামিরা।

এরপর গত ১৮ নভেম্বর দুপুরে নিজ বাড়ির সামনে ওই কিশোরীকে রফিকুল, শাহিনুর ও অন্য আসামিরা অপমান করেন। যৌন নির্যাতনের জন্য তাকেই দায়ী করে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দেন। মামলা প্রত্যাহার না করলে রফিকুল তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করারও হুমকি দেন তাকে। এ কারণে ওইদিন বিকেলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে ওই স্কুলছাত্রী।

আত্মহত্যার পর ওই কিশোরীর সুইসাইড নোট পাওয়ার দাবি করে তার পরিবার। মামলার এজাহারেও সুইসাইড নোটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর পর থেকেই রফিকুল পলাতক ছিলেন।

ওসি আরও জানান, রফিকুলের এক ছেলে ও এক মেয়ে ওই স্কুলেই পড়ে। যে স্কুলছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে, সে ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। সে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বলে মামলায় উল্লেখ করা আছে। তার মৃত্যুর পরদিন রফিকুল ও শাহিনুরসহ পাঁচজনের নামে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন কিশোরীর বাবা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহারুল আলম বলেন, ‘আসামি রফিকুল ওই কিশোরীকে এক বছর থেকে বিভিন্নভাবে যৌন নির্যাতন চালানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাকে মঙ্গলবার আদালতে তোলার কথা রয়েছে।’

ক্ষেতলাল থানার ওসি নীরেন্দ্র নাথ জানান, দুই মামলায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে আরেকজন হলেন রফিকুলের মামা আব্দুর রাজ্জাক। অন্য তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় নেয়া হচ্ছে ইকবালকে
রংপুরে হামলার প্রতিবাদে জেলে সমিতির মানববন্ধন
সাম্প্রদায়িক হামলা: বেগমগঞ্জ থানার ওসি বদলি
চাঁদপুরে সহিংসতা: আদালতে জামায়াত নেতার স্বীকারোক্তি
মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কক্সবাজারে গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

নির্বাচনি সহিংসতা: ছাত্রলীগ নেতা হত্যায় মামলা

নির্বাচনি সহিংসতা: ছাত্রলীগ নেতা হত্যায় মামলা

ইউপি নির্বাচনে সহিংসতায় নিহত লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সজিব হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

রামগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, ইছাপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হিসেবে সদ্য জয়ী আমিরকে প্রধান আসামি করে সজিবের বোন ২১ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও এর বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে।

নিহত সজিব হোসেনের বোন মঙ্গলবার সকালে বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থীকে প্রধান আসামি করে রামগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ২৮ তারিখের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আমির হোসেন খাঁন। তিনি এই নির্বাচনে জয় পান।

আমিরকে প্রধান আসামি করে সজিবের বোন ২১ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এর আগে রোববার ওসি জানান, রোববার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে নৌকা ও এর বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে এটি সংঘর্ষ পর্যন্ত গড়ায়। সে সময় মাথায় আঘাত পান সজিব হোসেন।

তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে চাঁদপুরের হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় নেয়া হচ্ছে ইকবালকে
রংপুরে হামলার প্রতিবাদে জেলে সমিতির মানববন্ধন
সাম্প্রদায়িক হামলা: বেগমগঞ্জ থানার ওসি বদলি
চাঁদপুরে সহিংসতা: আদালতে জামায়াত নেতার স্বীকারোক্তি
মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কক্সবাজারে গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

বিজিবি সদস্য হত্যা: চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি করে মামলা

বিজিবি সদস্য হত্যা: চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি করে মামলা

নিহত বিজিবি নায়েক রুবেল মণ্ডল। ছবি: নিউজবাংলা

কিশোরগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক গুলনাহার বেগম জানান, মামলায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদেরকে আদালতে নেয়া হয়েছে। সব আসামিকে ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে নির্বাচনি সহিংসতায় বিজিবি সদস্য হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী মারুফ হোসেন অন্তিককে। এজাহারে নাম আছে আরও ৯৫ জনের।

কিশোরগঞ্জ থানায় সোমবার রাত সোয়া ১২টার দিকে মামলাটি করা হয়।

গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ললিত চন্দ্র রায় মামলাটি করেন।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, মামলায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদেরকে আদালতে নেয়া হয়েছে।

যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা হলেন পশ্চিম দলিরাম গ্রামের আনোয়ার হোসেন, ইসমাইল হোসেন, যাদু মিয়া, মজনু মিয়া, শরিফুল ইসলাম, ফরহাদ হোসেন, মো. নিশাদ ও মো. নিরব।

কিশোরগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক গুলনাহার বেগম জানান, মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় অনেককে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামিসহ জড়িত সবাইকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

এর আগে ২৮ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনে ফল ঘোষণার পর গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া ভোট কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

যা ঘটেছিল

স্থানীয়রা জানান, গাড়াগ্রাম ইউপিতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী জোনাব আলীকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। সেই ফল প্রত্যাখান করেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিকের সমর্থকরা। কেন্দ্র থেকে ব্যালটসহ নির্বাচনি সরঞ্জাম নিয়ে উপজেলা সদরে রির্টানিং কর্মকর্তার দপ্তরে যাওয়ার সময় কর্মকর্তাদের ওপর লাটিসোটা নিয়ে হামলা চালান তারা।

তারা আরও জানান, ওই সময় আত্মরক্ষায় বিজিবি সদস্য রুবেল কেন্দ্রের একটি কক্ষে আশ্রয় নিলে বিক্ষুব্ধরা সেখানে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান। পুলিশের গাড়ি ও ভোট কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের চেষ্টাও চলান তারা। আত্মরক্ষায় তখন কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ললিত চন্দ্র রায় বলেন, ‘ফল ঘোষণার পর লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মারুফ হোসেন অন্তিক লোকজন নিয়ে এসে ওই কেন্দ্রে তাকে জয়ী ঘোষণার দাবি জানিয়ে নির্বাচনি সরঞ্জাম নিতে বাধা দেন।

‘ওই সময় আমাদের ওপর আক্রমণ চালাতে শুরু করলে আমি নিজে, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, কয়েকজন পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্য আহত হই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরে আত্মরক্ষার্থে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন।’

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় নেয়া হচ্ছে ইকবালকে
রংপুরে হামলার প্রতিবাদে জেলে সমিতির মানববন্ধন
সাম্প্রদায়িক হামলা: বেগমগঞ্জ থানার ওসি বদলি
চাঁদপুরে সহিংসতা: আদালতে জামায়াত নেতার স্বীকারোক্তি
মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কক্সবাজারে গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

প্রিসাইডিং অফিসার ও এসআইয়ের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা

প্রিসাইডিং অফিসার ও এসআইয়ের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা

হামলায় আহত হন প্রিসাইডিং অফিসার গোলাম সারোয়ার ভূঁইয়া। ছবি: নিউজবাংলা

বরুড়া থানার ওসি ইকবাল বাহার জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত আছে। তদন্তের স্বার্থে কতজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে এবং কে মামলা করেছেন তা বলা যাচ্ছে না।

কুমিল্লার বরুড়ায় প্রিসাইডিং অফিসার ও পুলিশকে আহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে বরুড়া থানায় মামলাটি করেন ওই কেন্দ্রের এক সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরুড়া থানার ওসি ইকবাল বাহার। তবে এ ঘটনায় এ পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।

তিনি জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত আছে। তদন্তের স্বার্থে কতজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে এবং কে মামলা করেছেন তা বলা যাচ্ছে না।

হামলায় আহত হন প্রিসাইডিং অফিসার গোলাম সারোয়ার ভূঁইয়া ও এসআই আবু হানিফ।

এদিকে প্রিসাইডিং অফিসারের পকেট থেকে ৪৪ হাজার টাকা ছিনতাইকারীরা নিয়ে যায়। এতে ভাতা বঞ্চিত হন কেন্দ্রে দায়িত্ব থাকা ১৯ কর্মকর্তা-কর্মচারী। স্থানীয়রা জানান, তালা প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী মোখলেছুর রহমানের নেতৃত্বে এই হামলা হয়।

স্থানীয় পোলিং অফিসার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বরুড়ার ঝলম ইউনিয়নের ডেউয়াতলী কেন্দ্রে নির্বাচনের আগের দিন শনিবার রাতে ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করা হয়।

নির্বাচনের দিন রোববার সকাল ৮টা থেকে ৬টি বুথে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। সকাল ৯টার দিকে তালা প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী মোখলেছুর রহমান প্রিসাইডিং অফিসার গোলাম সারোয়ার ভূঁইয়ার কাছে ব্যালট বই নেয়ার দাবি করেন।

প্রিসাইডিং অফিসার তাকে ব্যালট বই দিতে রাজি না হলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর ভোট কেন্দ্রের বাইরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মোখলেছুরের নেতৃত্বে হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাতে ঘটাতে কেন্দ্রে ঢুকে পড়ে। আত্মরক্ষার্থে প্রিসাইডিং অফিসার কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন।

এ সময় হামলাকারীরা দরজা ভেঙে ফেলে। হামলাকারীরা প্রিসাইডিং অফিসারকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করলে বাধা দেন আবু হানিফ।

এতে লাঠি ও রামদা দিয়ে আঘাত করে তাকে মাটিতে ফেলে দেয় ছয়-সাতজনের একটি দল। মাটিতে ফেলে তার কোমরে ছুরি ও রামদা দিয়ে কোপানো হয়। তার পিস্তল ছিনতাই করা হয়। পরে সেটি উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রার্থী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘আমি একজন প্রতিবন্ধী ও নিরীহ প্রকৃতির মানুষ। প্রতিপক্ষের লোকজন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপপ্রচার করছে। আমি এ ঘটনার সময় ভয়ে পালিয়ে যাই। হামলা করতে যাব কেন?’

এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, ‘এটা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। হামলাকরীরা কেউ রেহাই পাবে না।’

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় নেয়া হচ্ছে ইকবালকে
রংপুরে হামলার প্রতিবাদে জেলে সমিতির মানববন্ধন
সাম্প্রদায়িক হামলা: বেগমগঞ্জ থানার ওসি বদলি
চাঁদপুরে সহিংসতা: আদালতে জামায়াত নেতার স্বীকারোক্তি
মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কক্সবাজারে গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

কলেজছাত্রী নাহিদার মৃত্যুর পর সেই সড়কের গর্ত ভরাট

কলেজছাত্রী নাহিদার মৃত্যুর পর সেই সড়কের গর্ত ভরাট

চট্টগ্রামের ডিটি রোডের গর্তে পড়ে কলেজছাত্রী নিহত হওয়ার পর সেই সড়কের গর্ত ভরাট করছে সিটি করপোরেশন। ছবি: নিউজবাংলা

এলাকাবাসীর দাবি, অনেক দিন থেকেই এই সড়কের গর্তের জন্য যান চলাচলে অসুবিধা হচ্ছিল। তবে সিটি করপোরেশন বলছে, ওয়াসার পাইপের লিকেজ থেকে বের হওয়া পানিতেই সড়কের এই গর্তের সৃষ্টি।

চট্টগ্রামের ডিটি রোডের গর্তে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে কলেজছাত্রী নিহত হওয়ার পর সেই সড়কের গর্ত ভরাট করছে সিটি করপোরেশন।

ওই সড়কে শুক্রবার বিকেল থেকে গর্ত ভরাট শুরু করেন সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। সোমবার বিকেলে সরেজমিনে ওই রাস্তায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কে থাকা আগের গর্তগুলো ভাঙা ইট, পাথর ও বিটুমিন ঢালাই দিয়ে ভরাট করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে (২৫ নভেম্বর) এই সড়কের গর্তে ঝাঁকি খেয়ে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হন কলেজছাত্রী নাহিদা আফরোজ আনিকা।

এলাকাবাসীর দাবি, অনেক দিন থেকেই এই সড়কের গর্তের জন্য যান চলাচলে অসুবিধা হচ্ছিল। তবে সিটি করপোরেশন বলছে, ওয়াসার পাইপের লিকেজ থেকে বের হওয়া পানিতেই সড়কের এই গর্তের সৃষ্টি।

দেওয়ানহাট এলাকার ব্যবসায়ী আকবর হোসেন বলেন, ‘আমিও বাইক নিয়ে এই সড়কে চলাচল করি। এই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় প্রাণ হাতে নিয়ে চলি রীতিমতো। এখানে অধিকাংশ সময়ই এ রকম গর্ত থাকে। সিটি করপোরেশন মাঝে মাঝে ভাঙা ইট দেয়, কিন্তু সেসব তো বেশি দিন থাকে না।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী বিপ্লব দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভারী যানের কারণে সড়কে গর্ত হয়। আমরা কিছুদিন আগেও সড়কটি সংস্কার করেছি। কিন্তু ওয়াসার পাইপের লিকেজ থেকে বের হওয়া পানিতে সড়ক বারবার নষ্ট হয়। তাছাড়া ওয়াসার পানির পাইপের কাজ করতে গিয়েও গর্তের সৃষ্টি হয়।’

সিটি করপোরেশনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী (মড-১) আব্দুর রউফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পাইপের লিকেজ এটা রানিং, পৃথিবীর সব দেশে এটা হয়। এটা আমরা চাইলেই শূন্যে আনতে পারব না। তবে আমরা কমানোর চেষ্টা করতেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুরোনো পাইপগুলো চেঞ্জ করে নতুন পাইপ বসাচ্ছি। আর পাইপের কাজ করানোর ফলে ওরা যে গর্ত হয়েছে দাবি করছে, আমরা তো সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়েই সড়কে পাইপের কাজ করি। আর কাজ করার পর টেম্পোরারি ঢালাই দিয়ে দিই।

‘এটা স্থায়ী সংস্কারের দায়িত্ব করপোরেশনের। কারণ যারাই সড়কে কাজ করুক, সড়ক কাটার জন্য অনুমতির প্রয়োজন হয়। আর টাকাও দিতে হয় ওদের।’

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় নেয়া হচ্ছে ইকবালকে
রংপুরে হামলার প্রতিবাদে জেলে সমিতির মানববন্ধন
সাম্প্রদায়িক হামলা: বেগমগঞ্জ থানার ওসি বদলি
চাঁদপুরে সহিংসতা: আদালতে জামায়াত নেতার স্বীকারোক্তি
মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কক্সবাজারে গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন