বৈশ্বিক মন্দা উত্তরণে বাধা মূল্যস্ফীতি: বিশ্বব্যাংক

বৈশ্বিক মন্দা উত্তরণে বাধা মূল্যস্ফীতি: বিশ্বব্যাংক

বিশ্বব্যাংকের প্রসপেক্টস গ্রুপের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও পরিচালক আয়হান কোস বলেন, ‘জ্বালানির দাম বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির জন্য নিকট ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করেছে। এটি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলবে। দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি বৈশ্বিক মন্দা থেকে পুনরুদ্ধারকেও জটিল করে তুলতে পারে।’

২০০৭-২০০৮ সালের বৈশ্বিক মন্দার পর প্রায় এক যুগ অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক মূল্যস্ফীতি কমই ছিল। তবে সেই দিন বোধ হয় শেষ হতে চলেছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চড়ছে মূল্যস্ফীতির পারদ। লাগাম টানতে পারছে না সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রও। ১৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে কানাডায়। বাংলাদেশসহ অন্য দেশগুলোতেও বাড়ছে মূল্যস্ফীতি।

এরই মধ্যে উদ্বেগের খবর দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

সংস্থাটি বলছে, জ্বালানির উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতিতে ঝুঁকি তৈরি করেছে। সার্বিকভাবে উচ্চ পণ্যমূল্য কিছু দেশে খাদ্য নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্যের এই অস্থিতিশীলতা বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনাভাইরাসের ধাক্কায় সৃষ্ট বৈশ্বিক মন্দা থেকে পুনরুদ্ধারকেও জটিল করে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক নামের প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ২০২১ সাল শেষে জ্বালানির দাম গড়ে আগের বছরের চেয়ে কমপক্ষে ৮০ শতাংশ বাড়বে এবং এই উচ্চ মূল্য ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। জ্বালানির বাইরে খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের যে দাম বেড়েছে, সেটিও শিগগিরই কমবে না। ২০২২ সাল পর্যন্ত এই বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে।

সব মিলিয়ে এটি বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির চাপকে বাড়িয়ে তুলবে এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকেও বাধাগ্রস্ত করবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রসপেক্টস গ্রুপের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও পরিচালক আয়হান কোস বলেন, ‘জ্বালানির দাম বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির জন্য নিকট ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করেছে। এটি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলবে। দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি বৈশ্বিক মন্দা থেকে পুনরুদ্ধারকেও জটিল করে তুলতে পারে।’

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে কিছু দ্রব্যমূল্য এতটাই বেড়েছে যে, সেটি মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ২০১১ সালের পর এমনটা আর দেখা যায়নি।

বিশ্বব্যাংকের প্রসপেক্টস গ্রুপের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ জন বাফেস বলেন, ‘প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লার উচ্চ দাম অন্যান্য পণ্যের উৎপাদনকে প্রভাবিত করছে। প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লার উচ্চমূল্যের কারণে সারের উৎপাদন কমেছে। অন্যদিকে বেড়েছে দাম। সারের এই উচ্চমূল্য খাদ্যশস্যেরই উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। অ্যালুমিনিয়াম ও জিংকের মতো কিছু ধাতুর উৎপাদনও কম হয়েছে জ্বালানির মূল্য বাড়ার কারণে।’

বাংলাদেশেও চড়ছে মূল্যস্ফীতির পারদ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। চলতি অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি) দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫.৬ শতাংশ।

এর অর্থ হলো, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যে পণ্য বা সেবার জন্য ১০০ টাকা খরচ করতে হতো, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে সেই পণ্য বা সেবার জন্য ১০৫ টাকা ৬০ পয়সা খরচ করতে হয়েছে।

আগের মাস আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫.৫৪ শতাংশ। জুলাইয়ে হয়েছিল ৫.৩৬ শতাংশ।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫.৬৪ শতাংশ।

এর পর থেকে প্রতি মাসেই বাড়ছে মূল্যস্ফীতি।

সেপ্টেম্বরে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক বেড়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বৃহস্পতিবার মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতির হার ৫.৩ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছে সরকার। ২০২০-২১ অর্থবছরে এই লক্ষ্য ধরা ছিল ৫.৪ শতাংশ। কিন্তু অর্থবছর শেষ হয় ৫.৫৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি নিয়ে।

অর্থাৎ বাজেটের লক্ষ্যের চেয়ে খানিকটা বেশি ছিল গড় মূল্যস্ফীতি।

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করার পর থেকেই বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বাড়ছে। তার প্রভাব পড়েছে ছোট-বড় সব দেশে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলেছে, খাদ্যশস্য ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে খাদ্যের মূল্য এখন ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এফএওর খাদ্যমূল্য সূচক দাঁড়িয়েছে ১৩০। অথচ গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ৯৭.৯ শতাংশ। খাদ্যে ব্যয় বৃদ্ধি অবস্থাপন্ন মানুষের জন্য বড় সমস্যা না হলেও দরিদ্র মানুষের জন্য তা বড় সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়। কারণ আনুপাতিক হারে দরিদ্র মানুষের খাদ্যব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি।

মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র

স্বস্তিতে নেই মার্কিন ভোক্তারা। বেড়েই চলেছে মূল্যস্ফীতির হার। মার্কিন শ্রম বিভাগের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরেও দেশটিতে ভোক্তা মূলকসূচক বেড়েছে ০.৪ শতাংশ। আবারও উঠে এসেছে ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে সেপ্টেম্বরে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ অর্থনীতির ভোক্তারা খাদ্য ও সেবার জন্য ৫.৪ শতাংশ বেশি দিচ্ছে।

সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। এ মাসে পেট্রলের দাম বেড়েছে ১.২ শতাংশ ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ৩.৯ শতাংশ। খাদ্যের দাম গত মাসের তুলনায় বেড়েছে ০.৯ শতাংশ ও বাসাভাড়া বেড়েছে ০.৫ শতাংশ।

১৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে কানাডায়

১৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে কানাডায়। সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যসূচক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে বেড়েছে ৪.৪ শতাংশ। আগস্টের তুলনায় বেড়েছে ৪.১ শতাংশ।

২০০৩ সালের পর এই প্রথম এতটা মূল্যস্ফীতি বাড়ে কানাডায়। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, পরিবহন, আবাসন ও খাদ্যের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। বৈশ্বিক সরবরাহ ঘাটতির প্রভাব পড়েছে দেশটির ওপরে।

কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসারও কথা রয়েছে তাদের।

মূল্যস্ফীতির প্রভাব

অর্থনীতিবিদরা বলেন, কিছুটা মূল্যস্ফীতি থাকা খারাপ নয়। এর অর্থ হলো অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য আছে। মূল্যস্ফীতির সম্পর্ক নিরূপণে বহুল ব্যবহৃত ফিলিপস (নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতিবিদ এ ডব্লিউ ফিলিপস) কার্ভের সারকথা হলো, বেকারত্ব কম থাকলে এবং মজুরি ঊর্ধ্বমুখী হলে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পায়। কিন্তু মূল্যস্ফীতির হার বেশি হলে সমস্যা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তখন সুদহার বৃদ্ধি করে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ গ্রহণ কমে যায়। বিনিয়োগে প্রভাব পড়ে। ফলে এটা এক ধরনের উভয়সংকট।

দেশে সরকার সুদহার যতই নিয়ন্ত্রণ করুক না কেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবেন। তারা যদি না জানেন, বিনিয়োগ থেকে কতটা লভ্যাংশ পাওয়া যাবে, তাহলে তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন না, এটাই স্বাভাবিক। এতে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে।

বৈশ্বিক পরিসরে মূল্যস্ফীতি বাড়লে বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘করোনা স্বাভাবিক হয়ে আসায় বিশ্ববাজারে সব ধরনের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। চাহিদা বাড়লে দাম বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। এ ছাড়া জাহাজ ভাড়াসহ অন্য পরিবহন খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে সব দেশেই মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে।’

আগামী দিনগুলোতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করে দেন এই অর্থনীতিবিদ।

আরও পড়ুন:
দক্ষতা উন্নয়ন-কর্মসংস্থান বাড়াতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ
বিশ্বব্যাংকের কান ধরে ওঠবস করা উচিত: মতিয়া চৌধুরী
ঢাকাকে নান্দনিক করতে বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান অর্থমন্ত্রীর
ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি: বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংকের প্রচ্ছদ গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়ন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আম রপ্তানির দুয়ার খুলছে

আম রপ্তানির দুয়ার খুলছে

বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন আশা জাগাচ্ছে আম। ছবি: নিউজবাংলা

আম উৎপাদনে বিশ্বে সপ্তম হলেও এ ফল রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। ২০১৯ মৌসুমে মাত্র ১০০ টন আম রপ্তানি হয়েছিল, যার পরিমাণ ছিল সাড়ে ৪ কোটি ১১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। পরের বছর ২০২০ মৌসুমে সেই রপ্তানি এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০০ হাজার টন। দেশে আসে ৭০ কোটি ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা।

আম উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে সপ্তম। এবার দেশে প্রায় ১৫ লাখ টন আম উৎপাদিত হয়েছে। অথচ আম রপ্তানিতে অনেক পিছিয়ে আছে দেশ।

দীর্ঘদিন ধরে আম রপ্তানির কথা বলা হলেও কার্যকর কোনো ফল আসেনি। নামমাত্র কিছু আম রপ্তানি হয়ে আসছিল। সেগুলোও প্রবাসী বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য রপ্তানি করছিলেন হাতে গোনা কয়েকজন রপ্তানিকারক।

কিন্তু সেই চিত্র এবার বদলে যেতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন আশা জাগাচ্ছে আম। ইতোমধ্যে রপ্তানিতে চমক দেখাতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। ২০১৯ মৌসুমে মাত্র ১০০ টন আম রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। প্রতি টন ৪ হাজার ৮০০ ডলার হিসাবে টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ছিল সাড়ে ৪ কোটি ১১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। পরের বছর ২০২০ মৌসুমে সেই রপ্তানি এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭০০ হাজার টন। দেশে আসে ৭০ কোটি ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা।

চলতি ২০২১ মৌসুমে ৫ হাজার টন আম রপ্তানির লক্ষ্য ধরেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ টন ইতোমধ্যে রপ্তানি করেছেন ব্যবসায়ীরা। দেশে এনেছেন ৫০ কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রা।

দেশে প্রতিবছর মে থেকে শুরু হয় আমের মৌসুম। অক্টোবর পর্যন্ত ভরা মৌসুম থাকে। এর পরেও প্রক্রিয়াজাতকৃত আম রপ্তানি করে থাকেন রপ্তানিকারকরা। এই মৌসুমের পুরো হিসাব পাওয়া গেলে আম রপ্তানি থেকে এবার ২০০ কোটি টাকার বেশি বিদেশি মুদ্রা দেশে আসবে বলে আশা করছেন রপ্তানিকারকরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘আম কূটনীতির’ সুফল পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। রপ্তানিতে উল্লম্ফন ঘটছে। আগামী দিনগুলোতে এই বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশার কথা শুনিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী, কৃষি অর্থনীতিবিদ ও রপ্তানিকারকরা।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে সিঙ্গাপুরে ১০ হাজার ডলারের আম রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। চলতি অর্থবছরে একই সময়ে সিঙ্গাপুর ছাড়াও এশিয়া এবং ইউরোপের আরও ১৪টির বেশি দেশে আম রপ্তানি হয়েছে।

বাংলাদেশ আম উৎপাদনে বিশ্বে সপ্তম হলেও পণ্যটি রপ্তানি আয়ের দিক থেকে একদমই তলানিতে ছিল। বাংলাদেশের চেয়েও কম পরিমাণ আম উৎপাদন করে অনেক দেশ এ ফল রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা আয় করছে।

আম রপ্তানির দুয়ার খুলছে

ফলের মধ্যে দেশে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় আম। বছর বছর এই উৎপাদন বাড়ছে। তাই দেশের মানুষের পুষ্টির অন্যতম উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে আম।

দেশে আমের উৎপাদন

শুধু পরিমাণের দিক থেকে আম বাংলাদেশের প্রধান ফল হয়েছে, তা নয়। দেশের অন্তত ছয়টি জেলার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কৃষিপণ্য হয়ে উঠেছে আম। বছর বছর নতুন নতুন আমবাগান হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে আম উৎপাদিত হয়েছে ১২ লাখ ২২ হাজার টন। দেশে ২ লাখ ৩৫ হাজার একর জমিতে আমবাগান রয়েছে। প্রতিটি গাছে গড়ে ৭৭ কেজি করে আম উৎপাদিত হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে আমের উৎপাদন ২৪ লাখ টনের মতো। প্রতিবছর প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার আমের বাণিজ্য হয়। আম উৎপাদন থেকে শুরু করে বিপণন, মোড়কীকরণ ও পরিবহন মিলিয়ে এক বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে। প্রতিবছর এপ্রিলে কাঁচা আম বাজারে আসা থেকে শুরু হয়। চলে সেপ্টেম্বরে আশ্বিনা আম বিপণন শেষ হওয়া পর্যন্ত।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, কৃষিপণ্যের মধ্যে দেশে প্রতিবছর সবচেয়ে বেশি হারে বাড়ছে আমের উৎপাদন। ফলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে আম রপ্তানির সুযোগও তৈরি হয়েছে।

বিশ্বে সপ্তম বাংলাদেশ

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি আম উৎপাদিত হয় ভারতে। বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ফল উৎপাদনের একটি হিসাব দেয়া আছে। ২০১৯ সালের এই হিসাবে আম ও পেয়ারার উৎপাদন একসঙ্গে দেখানো হয়েছে। সে হিসাব অনুযায়ী, ভারতে ওই বছর উৎপাদন ছিল প্রায় ২৬ কোটি টন।

আম-পেয়ারা উৎপাদনে শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় ভারত ও বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, চীন, মেক্সিকো, পাকিস্তান, মালাবি, ব্রাজিল, থাইল্যান্ড ও মিসর। ওই তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশে আম-পেয়ারার উৎপাদন প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টন।

কেন ফলের রাজা আম

দেশে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হওয়া ফল আম। বিবিএসের হিসাবে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হওয়া ১০টি ফল হলো আম, কলা, কাঁঠাল, তরমুজ, পেয়ারা, আনারস, বরই, জাম্বুরা, লিচু ও আমড়া।

উৎপাদনে আম শুধু এগিয়ে নয়, ব্যবধানও অনেক বেশি। আমের উৎপাদন ১২ লাখ টন, পেছনে থাকা কাঁঠালের উৎপাদন ১০ লাখ টনের মতো। এ ছাড়া কলা ৮ লাখ টন, তরমুজ আড়াই লাখ টন, পেয়ারা সোয়া ২ লাখ টন ও আনারস ২ লাখ টনের কিছু বেশি উৎপাদিত হয়।

আম কূটনীতির সুফল

আম রপ্তানির ক্ষেত্রে অন্যতম সমস্যা হচ্ছে রপ্তানিযোগ্য উন্নত জাতের আমের অভাব। স্থানীয় আমের জাতগুলোর ‘শেলফ লাইফ’ কম, অর্থাৎ তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া মানসম্মত কৃষি পদ্ধতির চর্চা, আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিংয়ের অভাব এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি আমের ব্র্যান্ডিং-সংকটের কারণে এতদিন আম রপ্তানিতে সুফল আসেনি।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, গত মৌসুমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে উপহার হিসেবে আম পাঠানোর খবর বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের আমের ব্র্যান্ডিং সৃষ্টিতে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে। তারপর থেকেই বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশি আমের রপ্তানি অর্ডার বাড়তে থাকে। এতেই রপ্তানির তলানি থেকে গা ঝাড়া দিয়ে ওঠার ইঙ্গিত মিলছে।

আম রপ্তানির দুয়ার খুলছে

বাংলাদেশ ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবল এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম জাহঙ্গীর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সত্যিই বিশ্ববাজারে আমের চাহিদা বেড়েছে। দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক। তার বিচক্ষণতার কারণেই আম রপ্তানির একটি ভালো সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আশা করছি, এই সুযোগ আমরা কাজে লাগাতে পারব।

‘তবে আম রপ্তানির ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রতিবন্ধকতা আছে। সমুদ্রপথে জাহাজে আম রপ্তানি করা যায় না। সব আমই আকাশপথে (বিমান) পাঠাতে হয়। কিন্তু বিমান ভাড়া অনেক বেশি। পাশের দেশ ভারত ও থাইল্যান্ডের চেয়ে দ্বিগুণের মতো। এত বেশি বিমান ভাড়া দিয়ে আম রপ্তানি করে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যায় না।

‘এ ছাড়া বিমানবন্দরে স্ক্যানিং মেশিন প্রায় নষ্ট থাকে। তাতে রপ্তানিও বন্ধ থাকে। এর আগে টানা কয়েক মাস স্ক্যানিং মেশিন নষ্ট ছিল। মাঝে চালু হলেও গত তিন দিন ধরে আবার নষ্ট। বন্ধ আছে শাকসবজি, ফলমূলসহ সব ধরনের রপ্তানি।’

সত্যিকার অর্থে আম রপ্তানি বাড়াতে হলে সরকারের শীর্ষ মহলকে এসব বিষয়ে নজর দেয়ার পরামর্শ দেন জাহঙ্গীর হোসেন।

এই অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা কৃষিবিদ মনজুরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আম রপ্তানিতে যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, তা মূলত প্রধানমন্ত্রীর আম কূটনীতির কারণেই হয়েছে।’

তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের আম অত্যন্ত সুস্বাদু হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে এর কোনো পরিচিতি ছিল না। ফলে রপ্তানি অর্ডারও আগে মিলত না। এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত ও পাকিস্তানের সরকারপ্রধানকে আম উপহার দেয়ার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রচার পেয়েছে। এতে বাংলাদেশের আমের ব্র্যান্ডিং হওয়ায় এ বছর রপ্তানি অনেক বেড়েছে।’

আগামী তিন বছরে সরকার ১ লাখ টন আম রপ্তানির লক্ষমাত্রা ঠিক করেছে জানিয়ে মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমের দিকে সুনজর দিলে ভবিষ্যতে এ খাত থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা অর্জন সম্ভব।’

মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী মৌসুম সামনে রেখে অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে সাতক্ষীরা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও দিনাজপুরের প্রায় ১০০ বাগানকে ক্লাস্টার করে গ্রুপ গ্রুপ করে আলাদা করে গিয়ে আম চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এসব বাগানে যে আম উৎপাদিত হবে, তা শুধু রপ্তানি করা হবে।’

আম রপ্তানির দুয়ার খুলছে

এ ব্যবস্থা বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়াতে সহায়তা করবে বলে জানান তিনি।

আম রপ্তানিকারক লি এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার আবুল হোসেন বলেন, ‘গত মৌসুমে বাংলাদেশের আমের ব্যাপক চাহিদা ছিল ইউরোপের দেশগুলোতে। কিন্তু আমাদের রপ্তানি সক্ষমতা থাকলেও এয়ারলাইনসের সমস্যার কারণে আমরা খুব বেশি রপ্তানি করতে পারিনি। পাকিস্তান প্রতিবছর ১ লাখ টনের বেশি আম রপ্তানি করে। এয়ারলাইনসের সমস্যা দূর হলে আমরাও ১ লাখ টন আম রপ্তানি করতে পারব।'

২০২০ মৌসুমে সবচেয়ে বেশি আম রপ্তানি হয়েছে ইতালি ও যুক্তরাজ্যে। ইতালিতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ৮৯২ ডলার এবং যুক্তরাজ্যে ১২ হাজার ১০৫ ডলার। এ ছাড়া নেদারল্যান্ডসে ৫ হাজার ৬১৫ ডলার, অস্ট্রিয়ায় ৫ হাজার ৩৯৮ ডলারের আম রপ্তানি করে বাংলাদেশ।

চলতি ২০২১ মৌসুমের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে সবচেয়ে বেশি আম রপ্তানি হয়েছে যুক্তরাজ্যে, ৫ লাখ ৬ হাজার ৪৮৭ ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭১ হাজার ৮৭৪ ডলারের আম রপ্তানি হয়েছে কুয়েতে।

এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, জার্মানি, ইতালি, সৌদি আরব, সুইডেন, ভারত, সোয়াজিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, নেপাল, সুইডেন ও সিঙ্গাপুরেও রপ্তানি হয়েছে বাংলাদেশের আম।

গত জুলাই মাসে কৃষি মন্ত্রণালয়ে ‘আম রপ্তানি বৃদ্ধিতে করণীয়’ বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আমচাষিসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় দেশে নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম চাষ এবং আমের আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধানের ওপর জোর দেয়া হয়।

ওই সভায় জানানো হয়, ২০২০ সালে থাইল্যান্ড বিশ্বের সর্বোচ্চ ৭৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারের আম রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারত ১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার ও পাকিস্তান ১০ কোটি ১০ লাখ ডলারের আম রপ্তানি করেছে। সেখানে বাংলাদেশ মাত্র ৫০ হাজার ডলারের (৪২ লাখ টাকা) আম রপ্তানি করেছে, যার বড় অংশ মূলত প্রবাসী বাংলাদেশি ক্রেতাদের জন্য রপ্তানি করা।

আম রপ্তানির দুয়ার খুলছে

আম রপ্তানি বাড়াতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘দেশের আমকে আমরা ব্যাপকভাবে বিশ্ববাজারে নিয়ে যেতে চাই। সে জন্য রপ্তানি বাধাগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসনে কাজ চলছে। ইতিমধ্যে নিরাপদ আমের নিশ্চয়তা দিতে তিনটি ভ্যাকুয়াম হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। উৎপাদন থেকে শিপমেন্ট পর্যন্ত আম নিরাপদ রাখতে উত্তম কৃষিচর্চা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেট দেয়ার কাজ চলছে।’

ফলে আগামী দিনগুলোতে আম রপ্তানির পরিমাণ অনেক বাড়বে বলে আশার কথা শোনান মন্ত্রী।

কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাদু আম উপহারের বিষয়টি এবার বেশ আলোড়ন তুলেছিল। শুধু প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত নয়, বিভিন্ন দেশের রাজা-বাদশাহ, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর জন্য উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছে ফলের রাজা আম।

এই আম উপহারের ফলে বাংলাদেশের সুস্বাদু আম নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেও এসেছে বিষয়টি।

আরও পড়ুন:
দক্ষতা উন্নয়ন-কর্মসংস্থান বাড়াতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ
বিশ্বব্যাংকের কান ধরে ওঠবস করা উচিত: মতিয়া চৌধুরী
ঢাকাকে নান্দনিক করতে বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান অর্থমন্ত্রীর
ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি: বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংকের প্রচ্ছদ গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়ন

শেয়ার করুন

করোনার নতুন ধরনের খবরে ভারতের পুঁজিবাজারে ধস

করোনার নতুন ধরনের খবরে ভারতের পুঁজিবাজারে ধস

ফাইল ছবি

পুঁজিবাজারে পতনে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, এইচডিএফসি ব্যাংক, কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাংক, ইনফোসিস ও স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার শেয়ারের দরপতন হয়েছে। অটো, মেটাল, কনজিউমার ডিউরেবলস, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, শিল্পকারখানা, তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সূচকও ২ থেকে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ পড়েছে।

ভারতে করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের উপস্থিতি নিশ্চিত না হলেও এর খবরেই ধস নেমেছে পুঁজিবাজারে। সাউথ আফ্রিকায় শনাক্ত বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইন ভ্যারিয়েন্টটির বিষয়ে সতর্ক করে বৃহস্পতিবার সব রাজ্যকে চিঠি দেয় ভারত সরকার।

এরপর শুক্রবার সকালে কর্মদিবসের শুরুতেই সেনসেক্সের সূচকে প্রায় ১২০০ পয়েন্ট পতন হয়। নিফটির সূচকও ১৭ হাজার পয়েন্টে নেমে যায়। দিল্লির স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সেনসেক্স সূচক ছিল ৫৭ হাজার ৫৫৪ পয়েন্টে এবং নিফটি সূচক ছিল ১৭ হাজার ১৬৬ পয়েন্টে।

শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্টের খবরে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। নতুন ভ্যারিয়েন্ট প্রতিরোধে বিদ্যমান টিকা কার্যকর নয়- এমন আতঙ্কে নতুন করে বিনিয়োগে রাজি নন বিনিয়োগকারীরা।

এদিনের পুঁজিবাজারে পতনে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, এইচডিএফসি ব্যাংক, কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাংক, ইনফোসিস ও স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার শেয়ারের দরপতন হয়েছে। অটো, মেটাল, কনজিউমার ডিউরেবলস, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, শিল্পকারখানা, তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সূচকও ২ থেকে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ পড়েছে।

নতুন ভ্যারিয়েন্টের প্রভাবে এশিয়ার অন্যান্য দেশের পুঁজিবাজারেও ব্যাপক দরপতন হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা নতুন বিনিয়োগের বদলে ডলার, ইয়েন বাঁচাতেই উদ্যোগী।

জাপান বাদে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পুঁজিবাজারে সূচক ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। হংকংয়ে ক্যাসিনো, পানীয় পণ্যের শেয়ারের মূল্য যেমন কমেছে, সিডনিতেও পর্যটন খাতে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে।

জাপানের নিক্কেইয়ে আড়াই শতাংশ পতন হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের বাজারেও প্রায় ২ শতাংশ দরপতন হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দক্ষতা উন্নয়ন-কর্মসংস্থান বাড়াতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ
বিশ্বব্যাংকের কান ধরে ওঠবস করা উচিত: মতিয়া চৌধুরী
ঢাকাকে নান্দনিক করতে বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান অর্থমন্ত্রীর
ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি: বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংকের প্রচ্ছদ গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়ন

শেয়ার করুন

পণ্যমূল্য সমন্বয়ে আলাদা বিভাগ খোলার চিন্তা

পণ্যমূল্য সমন্বয়ে আলাদা বিভাগ খোলার চিন্তা

দেশে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে একক কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগ নেই। ছবি: সংগৃহীত

দেশে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে একক কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগ নেই, যদিও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব মূলত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওপরেই বর্তায়। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ ধরনের কার্যক্রমের সমন্বয় প্রতিষ্ঠায় পৃথক কোনো বিভাগ নেই।

দেশে পেঁয়াজ বা ভোজ্যতেলের দাম বাড়লে নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চালের দাম বাড়লে এর সরবরাহ বৃদ্ধি এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। একইভাবে আলুর দাম বাড়লে দায় কৃষি মন্ত্রণালয় এবং লবণের ক্ষেত্রে শিল্প মন্ত্রণালয়।

পণ্যমূল্যে স্থিতিশীলতা অর্জন অথবা ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতারণা প্রতিরোধের গুরুদায়িত্ব পালন একক কোনো মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়।

এ কারণে বাজারে পণ্যের দামে স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাণিজ্য, কৃষি, খাদ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় ছাড়াও মৎস্য ও পশুসম্পদ, যোগাযোগ, রেল, নৌপরিবহন ও অর্থ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক, মাঠ-প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীরও বিশেষ ভূমিকা থাকে।

দেশে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে একক কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগ নেই, যদিও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব মূলত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওপরেই বর্তায়। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ ধরনের কার্যক্রমের সমন্বয় প্রতিষ্ঠায় পৃথক কোনো বিভাগ নেই।

অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সার্বিক মূল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সার্বক্ষণিক সব ধরনের কার্যক্রমের সমন্বয় এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে আগাম করণীয় নির্ধারণ ছাড়া কোনো বিকল্পও নেই। স্বাধীনতা-উত্তরকালেই দেশ পুনর্গঠনের সময় এটি উপলব্ধি করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ কারণে তিনি অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য মন্ত্রণালয়ে বিজনেস অ্যাফেয়ার্স এবং কনজ্যুমারস অ্যাফেয়ার্স নামে পৃথক দুটি ডিভিশন সৃষ্টি করেছিলেন।

প্রতিবেশী দেশ ভারতও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সন্তোষজনক এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে ‘কনজ্যুমার অ্যাফেয়ার্স, ফুড অ্যান্ড পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন’ নামে পৃথক একটি মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করেছে।

দেশেও কনজ্যুমারস অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন খোলার প্রস্তাব

এমন প্রেক্ষাপটে পণ্যমূল্যের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকারকে স্বাধীনতা-উত্তরকালীন বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দেশের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণকারী বেসরকারি সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব)।

সম্প্রতি সংগঠনের সভাপতি গোলাম রহমান এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিকে চিঠি পাঠিয়েছেন।

চিঠিতে তিনি কনজ্যুমারস অ্যাফেয়ার্স ও বিজনেস অ্যাফেয়ার্স নামে মন্ত্রণালয়ে পৃথক দুটি ডিভিশন সৃষ্টি করার প্রস্তাব রেখেছেন। দাবি করেছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য কনজ্যুমারস অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন নামে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি ডিভিশন সৃষ্টি করা হলেই কেবল মন্ত্রণালয়ের পক্ষে এসব দায়িত্ব সমন্বয়ের মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হতে পারে।

প্রস্তাবের যৌক্তিকতা উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রথাগতভাবে পণ্যমূল্যের স্থিতিশীলতা ও ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

গত কয়েক বছরে ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯, প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২, নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এবং ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৫ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এসব আইন বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন বিভাগ, কমিশন ও কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।

কিন্তু এসব উদ্যোগের পরও ভোক্তাদের অধিকার, বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্যের স্থিতিশীলতা রক্ষা হয়নি, ব্যবসায়িক প্রতারণা রোধ করা যায়নি। উল্টো নিয়ন্ত্রণ দিনদিন দুরূহ হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা বাড়ানো দরকার।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বল্প আয় ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত ভোক্তারা যাতে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য ১৫ থেকে ২০টি অতি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা সময়ের দাবি। মুক্তবাজার পরিবেশে ভোক্তাদের কল্যাণ ও জীবনমানের উন্নয়নের বিষয়টি বহুলাংশে পণ্যমূল্যের স্থিতিশীলতা ও ব্যবসায়িক নৈতিকতার ওপর নির্ভরশীল। আবার মন্ত্রিপরিষদে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সাথেও অনেক ক্ষেত্রে ভোক্তা স্বার্থ জড়িত থাকে। নেপথ্যে থেকে এসব কাজ সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু এ মন্ত্রণালয়ে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য পৃথক ডিভিশন না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে কনজ্যুমারস অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন ও বিজনেস অ্যাফেয়ার্স নামে মন্ত্রণালয়ে পৃথক ডিভিশন সৃষ্টি করা হলে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা জনস্বার্থমূলক হবে।’

সরকার কী ভাবছে

বর্তমানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনায় রপ্তানি শাখা, এফটিএ, আইআইটি, ডিটিও, প্রশাসন এবং ডব্লিউটিও সেলসহ ছয়টি উইং রয়েছে।

মূলত দ্রব্যমূল্য নিয়ে কাজ করে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও আমদানি অনুবিভাগ (আইআইটি)। এর অধীনে আরও একটি সেল (দ্রব্যমূল্য পর্যালোচনা ও পূর্বাভাস) রয়েছে, যারা দেশে তেল, চিনি, পেঁয়াজ, চালসহ অত্যাবশ্যকীয় ১৭ পণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদা, উৎপাদন, আমদানি, মজুত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং এসব পণ্যের সংকটের পূর্ভাবাস দেয়।

এ ছাড়া ট্যারিফ কমিশনও পণ্যভিত্তিক মাসিক গবেষণা প্রতিবেদন দেয়। এভাবে বর্তমানে মন্ত্রণালয় দেশে দ্রব্যমূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে কাজ করে।

কনজ্যুমারস অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন খোলার প্রস্তাব সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভোক্তা ও ব্যবসায়িক উভয় স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষার মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে মন্ত্রণালয়ও চায় যেকোনো ভালো উদ্যোগের সঙ্গে থাকতে। সেই লক্ষ্য অর্জনের কার্যক্রমকে গতিশীল করে তুলতে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

‘বর্তমানে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও আমদানি অনুবিভাগের (আইআইটি) কার্যক্রম একই সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। এটি আরও গতিশীল ও সম্প্রসারিত করার উদ্দেশ্যে মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও আমদানি এই দুই কার্যক্রমকে পৃথক করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। এখন ক্যাবের কনজ্যুমারস অ্যাফেয়ার্স নামে পৃথক ডিভিশন খোলার প্রস্তাবটিও অনেকটা একই রকম। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব। তবে পুরো মন্ত্রণালয়কে দুই ভাগে বিভক্ত করার প্রক্রিয়াটি অনেক উচ্চতর প্রক্রিয়ার বিষয়। আমরা সেখানেও আলোচনা তুলে ধরব।’

আরও পড়ুন:
দক্ষতা উন্নয়ন-কর্মসংস্থান বাড়াতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ
বিশ্বব্যাংকের কান ধরে ওঠবস করা উচিত: মতিয়া চৌধুরী
ঢাকাকে নান্দনিক করতে বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান অর্থমন্ত্রীর
ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি: বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংকের প্রচ্ছদ গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়ন

শেয়ার করুন

গ্রামীণফোন এবারও সেরা করদাতা

গ্রামীণফোন এবারও সেরা করদাতা

সেরা করদাতার পুরস্কার নিচ্ছেন গ্রামীণফোনের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) ইয়েন্স বেকার। ছবি: সংগৃহীত

অনুষ্ঠানে ২০২০-২১ অর্থবছরে জাতীয় কোষাগারে সর্বোচ্চ পরিমাণ কর দিয়েছে এমন ৭৫ জন ব্যক্তি ও ৬৬ প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সর্বোচ্চ করদাতার স্বীকৃতি দেয়। সেখানেই গ্রামীণফোনের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) ইয়েন্স বেকারকে ট্যাক্স কার্ড, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট দেয়া হয়।

দেশে এবারও সেরা করদাতার পুরস্কার পেয়েছে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন। ২০১৫-১৬ কর বছর থেকে টানা ষষ্ঠবারের মতো এ স্বীকৃতি পেল প্রতিষ্ঠানটি।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, ২০২০-২১ কর বছরে টেলিযোগাযোগ বিভাগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বোচ্চ করদাতার পুরস্কার পেয়েছে গ্রামীণফোন। তবে কী পরিমাণ কর তারা দিয়েছে তা জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।

সর্বোচ্চ করদাতাদের কার্ড এবং ক্রেস্টের মাধ্যমে স্বীকৃতি দিতে বুধবার রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এনবিআর। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআইর সভাপতি জসিম উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

অনুষ্ঠানে ২০২০-২১ অর্থবছরে জাতীয় কোষাগারে সর্বোচ্চ পরিমাণ কর দিয়েছে এমন ৭৫ জন ব্যক্তি ও ৬৬ প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সর্বোচ্চ করদাতার স্বীকৃতি দেয়। সেখানেই গ্রামীণফোনের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) ইয়েন্স বেকারকে ট্যাক্স কার্ড, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট দেয়া হয়।
এর আগে ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯ এবং ২০১৯-২০ কর বছরের জন্য গ্রামীণফোন টেলিযোগাযোগ বিভাগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সর্বোচ্চ করদাতার স্বীকৃতি পায়।

টেলিনর গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন ৮ কোটির বেশি গ্রাহক নিয়ে শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গ্রামীণফোন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান।

আরও পড়ুন:
দক্ষতা উন্নয়ন-কর্মসংস্থান বাড়াতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ
বিশ্বব্যাংকের কান ধরে ওঠবস করা উচিত: মতিয়া চৌধুরী
ঢাকাকে নান্দনিক করতে বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান অর্থমন্ত্রীর
ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি: বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংকের প্রচ্ছদ গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়ন

শেয়ার করুন

পদত্যাগ করলেন ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি

পদত্যাগ করলেন ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি

শাহ্ সৈয়দ আব্দুল বারী। ফাইল ছবি

গত ১০ ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদার মারা যান। তার মৃত্যুর পর নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার। তাদের দুই ছেলে রিক হক সিকদার ও রন হক সিকদার ব্যাংকটির পরিচালক হিসেবে আছেন। দুই ভাই ব্যাংক পরিচালনায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ চাইলেও বোন সংসদ সদস্য (এমপি) পারভীন হক সিকদারসহ অন্য পরিচালকরা চাইছেন নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকটি পরিচালনা করতে।

বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহ্ সৈয়দ আব্দুল বারী পদত্যাগ করেছেন।

বৃহস্পতিবার ব্যাংকে গিয়ে তিনি পদত্যাগপত্র দেন বলে ব্যাংকটির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এরপর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ব্যাংকটির ডিএমডি সৈয়দ রইস উদ্দিনকে।

জানা গেছে, পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে আবদুল বারী এমডি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এর আগেও ব্যাংকটির কয়েকজন এমডি বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হয়ে পদত্যাগে বাধ্য হন।

পদত্যাগের কারণ জানতে আবদুল বারীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ব্যাংকটির অন্য কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিরতা চলছে ন্যাশনাল ব্যাংক পরিচালনায়। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর তৎকালীন ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি এ কে এম শফিকুর রহমান হঠাৎ পদত্যাগ করেন। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কাছে অপমান-অপদস্থ হয়ে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন বলে আলোচনা ছিল।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদার মারা যান। তার মৃত্যুর পর নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন স্ত্রী মনোয়ারা সিকদার। তাদের দুই ছেলে রিক হক সিকদার ও রন হক সিকদার ব্যাংকটির পরিচালক হিসেবে আছেন। দুই ভাই ব্যাংক পরিচালনায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ চাইলেও বোন সংসদ সদস্য (এমপি) পারভীন হক সিকদারসহ অন্য পরিচালকরা চাইছেন নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকটি পরিচালনা করতে।

২০১৬ সালে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে যোগ দেয়া শাহ্ সৈয়দ আব্দুল বারী এমডি হন চলতি বছরের এপ্রিলে। ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনোয়ারা সিকদার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শর্ত পূরণ করতে গিয়ে তাকে তিন মাসের জন্য এ পদে বসান। কিন্তু কয়েকজন পরিচালক শুরু থেকেই তাকে পছন্দ করছিলেন না।

অনিয়ম করে ঋণ বিতরণসহ বিভিন্ন কারণে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে ব্যাংকটির পরিচালকদের মধ্যে দুটি পক্ষ হওয়ায় পর্ষদে বিবাদ শুরু হয়েছে অনেক আগে। এমডির পদত্যাগ সেসব ঘটনার ধারাবাহিকতা বলে মনে করছেন ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন:
দক্ষতা উন্নয়ন-কর্মসংস্থান বাড়াতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ
বিশ্বব্যাংকের কান ধরে ওঠবস করা উচিত: মতিয়া চৌধুরী
ঢাকাকে নান্দনিক করতে বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান অর্থমন্ত্রীর
ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি: বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংকের প্রচ্ছদ গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়ন

শেয়ার করুন

বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনে পণ্য ইয়ার্ডের উদ্বোধন

বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনে পণ্য ইয়ার্ডের উদ্বোধন

বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনে উদ্বোধন হয়েছে পণ্য ইয়ার্ড। ছবি: নিউজবাংলা

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষকে বন্দরের অবকাঠামো পরিবর্তনের কথা বলা হলেও তারা উন্নয়নমূলক তেমন কোনো কাজ করছে না। কিছু জমি অধিগ্রহণ করলেও সেখানে কোনো শেড বা ইয়ার্ড তৈরি করছে না। বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনে পণ্য ইয়ার্ড উদ্বোধনের ফলে ভারত থেকে রেলপথে আমদানি বাণিজ্য আরও বাড়বে।’

বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনে ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকায় নির্মিত পণ্য ইয়ার্ডের উদ্বোধন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে বাণিজ্য গতিশীল হবে বলে জানান রেলওয়ের কর্মকর্তারা।

রেলওয়ে স্টেশনে বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশী ডিভিশনাল ম্যানেজার (ডিআরএম) শাহীদুল ইসলাম পণ্য ইয়ার্ডের উদ্বোধন করেন।

এ সময় ইন্দো-বাংলা চেম্বার অফ কমার্স সাবকমিটির পরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, ‘বেনাপোল বন্দরে জায়গাসংকট ও অবকাঠামোগত নানা সমস্যা রয়েছে। ভারত থেকে প্রতিদিন ৪০০ পণ্যবাহী ট্রাক বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করলে বন্দরের শেডগুলোতে পণ্য আনলোড করতে পারে না। এতে ভারতীয় ট্রাক দিনের পর দিন বেনাপোল বন্দর এলাকায় আটকে থেকে পণ্যজটের সৃষ্টি হয়।

‘তা ছাড়া বেনাপোল বন্দরের বিপরীতে পেট্রাপোল বন্দরের কালীতলা সিন্ডিকেটের কারণে ভারত থেকে একটি পণ্যবাহী ট্রাক বেনাপোল বন্দরেও প্রবেশ করতে এক মাসের বেশি সময় লাগছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমাদের দেশের আমদানিকারকরা। এসব কারণে আমদানিকারকরা এ বন্দর দিয়ে সড়কপথে আমদানি না করে রেলপথে আমদানি করছেন।’

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষকে বন্দরের অবকাঠামো পরিবর্তনের কথা বলা হলেও তারা উন্নয়নমূলক তেমন কোনো কাজ করছে না। কিছু জমি অধিগ্রহণ করলেও সেখানে কোনো শেড বা ইয়ার্ড তৈরি করছে না।

‘এসব কারণে অনেক আমদানিকারক রেলপথে আমদানি করতে অগ্রহী হচ্ছেন। বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনের নবনির্মিত পণ্য ইয়ার্ড উদ্বোধনের ফলে ভারত থেকে রেলপথে আমদানি বাণিজ্য আরও বাড়বে।’

রেলওয়ের পাকশীর ডিআরএম শাহীদুল ইসলাম জানান, এই বন্দর দিয়ে রেলপথে আমদানি বাড়াতে ও পণ্য খালাস গতিশীল করতে এই ইয়ার্ড নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া রেলে আমদানি বাড়াতে আরও কিছু উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দক্ষতা উন্নয়ন-কর্মসংস্থান বাড়াতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ
বিশ্বব্যাংকের কান ধরে ওঠবস করা উচিত: মতিয়া চৌধুরী
ঢাকাকে নান্দনিক করতে বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান অর্থমন্ত্রীর
ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি: বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংকের প্রচ্ছদ গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়ন

শেয়ার করুন

দেশে তৈরি নোকিয়ার জি-সিরিজের স্মার্টফোন বাজারে

দেশে তৈরি নোকিয়ার জি-সিরিজের স্মার্টফোন বাজারে

বনানীস্থ শেরাটন হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে নোকিয়া জি-১০ ও জি-২০ ফোন দুটি বাজারজাত কারার ঘোষণা দেয়া হয়।

ইউনিয়ন গ্রুপের পরিচালক আলভী রানা বলেন, ‘মোবাইল ফোন যুগের শুরুতে সম্ভবত দেশে এমন কোনো পরিবার ছিল না যেখানে অন্তত একটি নোকিয়া ফোন ছিল না। সেই হারানো দিন ফিরে আসবে মেইড ইন বাংলাদেশ নোকিয়া ফোনের হাত ধরে।’

প্রথম বারের মতো দেশে তৈরি বিশ্বখ্যাত নোকিয়া মোবাইলের জি সিরিজের দুটি স্মাটফোন বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে এইচএমডি গ্লোবাল বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীস্থ শেরাটন হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে নোকিয়া জি-১০ ও জি-২০ ফোন দুটি বাজারজাত কারার ঘোষণা দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে এইচএমডি গ্লোবাল বাংলাদেশের হেড অব বিজনেস ফারহান রশিদ, ইউনিয়ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিবুল কবির, পরিচালক আলভী রানাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে অবস্থিত নোকিয়া কারখানায় স্মার্টফোন দুটি তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানি ভাইব্রেন্ট সফটওয়্যার ও ইউনিয়ন গ্রুপ বাংলাদেশ-এর সমন্বয়ে গঠিত ‘ভাইব্রেন্ট সফটওয়্যার (বাংলাদেশ) লিমিটেড’ কারখানাটি স্থাপন করেছে।

নতুন স্মার্টফোন বাজারে আনা প্রসঙ্গে এইচএমডি গ্লোবাল-এর জেনারেল ম্যানেজার (প্যান এশিয়া) রাভি কুনওয়ার বলেন, ‘আজ আমাদের জন্য স্মরনীয় একটি দিন। নিঃসন্দেহে বিগত বছরটি আমাদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে এ সময়টি আমাদের পরবর্তী বড় পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে। বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন ও এখানে সংযোজিত হ্যান্ডসেটের উন্মোচন আমাদের যাত্রার একটি মাইলফলক।’

এইচএমডি গ্লোবাল বাংলাদেশের হেড অব বিজনেস ফারহান রশিদ বলেন, ‘আগের আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা থেকে আবারও মোবাইল শিল্পে নিজের জায়গা করে নিতে চায় নোকিয়া। আগামী দুই বছরের মধ্যেই স্মার্টফোন ব্যবহারের দিক থেকে নোকিয়া দেশের প্রথম তিনটি কোম্পানির একটি হতে চায়।’

ইউনিয়ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিবুল কবির বলেন, ‘এখন আমাদের প্রথম লক্ষ্য স্থানীয় বাজার ধরে সুনাম অক্ষুন্ন রাখা। শিগগিরই আমরা মেড ইন বাংলাদেশ ফোন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানির আশা করছি।’

নোকিয়া জি-সিরিজের ফোন দুটি তিন দিনের ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। আঙ্গুলের ছাপ ও ব্যবহারকারীর ফেইস রিকগনিশনের মাধ্যমে ফোন আনলক সুবিধা থাকবে এই এগুলোতে। থাকছে ৬.৫ ইঞ্চি টিয়ারড্রপ ডিসপ্লে ও ৫০৫০ এমএএইচ এর ব্যটারি।

জি-২০ সেটটি নোকিয়া স্মার্টফোনের সিগনেচার ‘অ্যান্ড্রয়েড প্রতিশ্রুতি’ দ্বারা সমর্থিত। এটি ব্যাবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য যতটা সম্ভব সুরক্ষিত রাখতে তিন বছর পর্যন্ত মাসিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দুই বছর পর্যন্ত অপারেটিং সিস্টেম হালনাগাদ করবে। এতে রয়েছে চারটি ব্যাক ক্যামেরা এবং ওজো সারাউন্ড অডিওসহ আকর্ষণীয় ৪৮ মেগাপিক্সেলের ওয়াইড এঙ্গেল ব্যাক ক্যামেরা। ৪ জিবি র‌্যাম ও ৬৪ জিবি স্টোরেজের সেটটির দাম ১৪ হাজার ৯৯৯ টাকা।

নোকিয়া জি-১০ মোবাইলে আছে ত্রিপল রিয়ার ক্যামেরা আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্বলিত শুটিং মোড; যার মাধ্যমে কম আলোতেও অত্যন্ত ভালো ছবি তোলা যাবে। এতে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা ও ১৩ মেগাপিক্সেলের ব্যাক ক্যামেরা। ৩ জিবি র‌্যাম ও ৩২ জিবি স্টোরেজের সেটটির দাম হবে ১৩ হাজার ৪৯৯ টাকা।

ইউনিয়ন গ্রুপের পরিচালক আলভী রানা বলেন, ‘মোবাইল ফোন যুগের শুরুতে সম্ভবত দেশে এমন কোনো পরিবার ছিল না যেখানে অন্তত একটি নোকিয়া ফোন ছিল না। সেই হারানো দিন ফিরে আসবে মেইড ইন বাংলাদেশ নোকিয়া ফোনের হাত ধরে। দেশে তৈরি হওয়ায় এসব হ্যান্ডসেট ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে পাবে।’

গাজীপুরের হাইটেক সিটি-র ব্লক ৫-এ নোকিয়া ফোনের কারখানায় শুরুতে প্রতিদিন ৩০০ ফোন সংযোজন করা হচ্ছে। ক্রমান্বয়ে তা দিনে ৩ হাজারে উন্নীত হবে। স্থানীয়ভাবে তৈরি এসব স্মার্টফোন আমদানিকৃত ফোনের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম দামে পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে মোবাইল সেট তৈরি শুরু হয় ২০১৭ সালে ওয়াল্টনের হাত ধরে। তখন থেকে ১০/১২টি ব্র্যান্ড স্থানীয়ভাবে মোবাইল তৈরি করছে। এর মধ্যে আছে স্যামসাং, সিম্ফনি, ওপ্পো, রিয়েলমি, শাওমির মতো বৈশ্বিক স্মার্টফোন কোম্পানিগুলোও। এসব প্রতিষ্ঠান স্থানীয় বাজারের স্মার্টফোন চাহিদার ৮৫ শতাংশ তৈরি করে এবং মোট ফোন (ফিচার ও স্মার্ট মিলিয়ে) চাহিদার ৫৫ শতাংশ পূরণ করে।

বিটিআরসির তথ্য মতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে আমদানিকৃত ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মোট মোবাইল সেটের সংখ্যা ২৯.৪৮ মিলিয়ন। যার মধ্যে ১৩.২৭ মিলিয়ন আমদানিকৃত এবং ১৬.২১ মিলিয়ন স্থানীয়ভাবে তৈরি করেছে ১০টি কোম্পানি।

আরও পড়ুন:
দক্ষতা উন্নয়ন-কর্মসংস্থান বাড়াতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ
বিশ্বব্যাংকের কান ধরে ওঠবস করা উচিত: মতিয়া চৌধুরী
ঢাকাকে নান্দনিক করতে বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান অর্থমন্ত্রীর
ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি: বিশ্বব্যাংক
বিশ্বব্যাংকের প্রচ্ছদ গল্পে বাংলাদেশের উন্নয়ন

শেয়ার করুন