সাম্প্রদায়িক হামলা: বেগমগঞ্জ থানার ওসি বদলি

সাম্প্রদায়িক হামলা: বেগমগঞ্জ থানার ওসি বদলি

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ কামরুজ্জামান সিকদার। ছবি: নিউজবাংলা

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম বদলির তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বেগমগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ কামরুজ্জামান শিকদারকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশে বদলি করা হয়েছে। তার স্থানে মীর জাহেদুল হক রনিকে বেগমগঞ্জ থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলার পর বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ কামরুজ্জামান সিকদারকে বদলি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিয়ে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ আদেশ দেয়া হয়। বেগমগঞ্জের একাধিক পূজামণ্ডপ, মন্দির এবং বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার পর তাকে বদলির দাবি জানিয়েছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।

এই দাবি ওঠার পর কামরুজ্জামান সিকদারকে বদলির অনুমতি চেয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। বর্তমানে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কারণে বেগমগঞ্জ থানা নির্বাচন কমিশনের অধীনে রয়েছে।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম বদলির তথ্য নিশ্চিত করে জানান, বেগমগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ কামরুজ্জামান শিকদারকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশে বদলি করা হয়েছে। তার স্থানে মীর জাহেদুল হক রনিকে বেগমগঞ্জ থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

কুমিল্লা, চাঁদপুরের পর দেশে বড় ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল নোয়াখালীতে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এবং শুক্রবার দুপুরে একই উপজেলার চৌমুহনী পৌর এলাকায় ১১টি পূজামণ্ডপে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।

হামলায় প্রাণ হারান প্রান্ত চন্দ্র দাশ নামে এক যুবক, আতঙ্কে হৃদরোগে যতন সাহা নামে আরেকজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে যতনের পরিবারের অভিযোগ, তিনিও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। ওই সময় লুটপাট করা হয় মন্দিরের আসবাব, স্বর্ণালংকার, ভাঙচুর করা হয় প্রতিমা।

আরও পড়ুন:
চাঁদপুরে সহিংসতা: আদালতে জামায়াত নেতার স্বীকারোক্তি
মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কক্সবাজারে গ্রেপ্তার
কোরআন রাখতে আরেকটি মন্দিরেও গিয়েছিলেন ইকবাল
চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা: গ্রেপ্তার আরও ৯
উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে ধর্মীয় বক্তা গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রাঙ্গামাটিতে গুলিতে নিহত জেএসএস কমান্ডার

রাঙ্গামাটিতে গুলিতে নিহত জেএসএস কমান্ডার

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তাপস রঞ্জন ঘোষ জানান, নিহত আবিষ্কার চাকমার বাড়ি বাঘাইছড়ি উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের শিজক এলাকায়। কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে তার বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি।

রাঙ্গামাটি সদর উপজেলায় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) এক কমান্ডারকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

উপজেলার বন্দুকভাঙা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কিচিং আদাম এলাকায় মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আবিষ্কার চাকমার বাড়ি বাঘাইছড়ি উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের শিজক এলাকায়।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তাপস রঞ্জন ঘোষ নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে তার বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে রওনা দিয়েছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’

আরও পড়ুন:
চাঁদপুরে সহিংসতা: আদালতে জামায়াত নেতার স্বীকারোক্তি
মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কক্সবাজারে গ্রেপ্তার
কোরআন রাখতে আরেকটি মন্দিরেও গিয়েছিলেন ইকবাল
চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা: গ্রেপ্তার আরও ৯
উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে ধর্মীয় বক্তা গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

‘যারা আমাকে বিধবা করল আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন’

‘যারা আমাকে বিধবা করল আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন’

নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বিজিবি সদস্য রুবেল হোসেন মণ্ডল। ছবি: নিউজবাংলা

রুবেলের ভায়রা ভাই আবদুর রশিদ বলেন, ‘পিটিয়ে মারছে কি না তা বলতে পারব না। তবে বিজিবি যে ভাষ্য এখানে দিছে তা হলো, গলায় গুলি লাগছে। পোস্টমর্টেম বা কাটাকাটি যে করছে আমরা তার প্রমাণ পাইছি। লাশের গলায় কাফনের কাপড় প্যাঁচায়ে রাখা ছিল।’

বাবা, মা, স্ত্রী আর দুই সন্তান নিয়ে ছিল রুবেল হোসেন মণ্ডলের সংসার। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষে সহিংসতায় রুবেলের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে বাকি সদস্যরা এখন দিশেহারা।

২০০৩ সালের ডিসেম্বরে বিজিবিতে যোগ দেন রুবেল। নীলফামারী-৫৬ বিজিবির ল্যান্স নায়েক রুবেলের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শালমারা ইউনিয়নের বেইগুনি গ্রামে।

গ্রামের বাড়িতেই থাকেন কৃষক বাবা নজরুল ইসলাম, মা রুলি বেগম, স্ত্রী জেসমিন বেগম এবং দুই সন্তান রাফিহুর রহমান ও রাফিয়া আকতার রিয়া।

২৮ নভেম্বর নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের গাড়াগ্রাম ইউপি নির্বাচনের ফল ঘোষণা শেষে পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাতীয় পার্টির পরাজিত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিকের সমর্থকরা হামলা চালায়। হামলায় রুবেল নিহত হন বলে অভিযোগ ওঠে।

মোবাইলে কথা হয় রুবেলের স্ত্রী জেসমিন বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কীভাবে সে মারা গেল এখনও জানতে পারি নাই। কেউ বলে গুলিতে মরছে। কেউ বলে ডাংগে (পিটিয়ে) মারছে।

‘বিজিবির সদস্যরা বাড়িত লাশ আনছে। সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে মাটি হইছে। এখন আমার ছেলেমেয়েকে দেখবে কে? আমরা চলব কীভাবে?’

এতটুকু বলার পর কিছুক্ষণ থেমে জেসমিন আবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার চাই। যারা আমাকে বিধবা করল আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন।’

রুবেলের ১২ বছরের ছেলে রাফিহুর স্থানীয় একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে আর ১০ বছরের মেয়ে রিয়া পড়ে পঞ্চম শ্রেণিতে।

বাবার মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে দুই সন্তানই কেঁদে যাচ্ছে।

রুবেলের বাবা নজরুল ইসলামের প্রশ্ন, ‘ছেলেটাক ওমরা (তারা) কীসক (কেন) মারল? ওর কী দোষ?’

মায়ের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে রুলি বেগম কিছুই বলতে পারেননি। শুধু কাঁদছিলেন।

রুবেলের হত্যার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা হবে না বলে জানানো হয়েছে। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় মৃত্যু হওয়ায় বিজিবির পক্ষ থেকে মামলা হবে বলে জানানোয় তাদের এই সিদ্ধান্ত।

মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে রুবেলের ভায়রা ভাই আবদুর রশিদ বলেন, ‘পিটিয়ে মারছে কি না তা বলতে পারব না। তবে বিজিবি যে ভাষ্য এখানে দিছে তা হলো, গলায় গুলি লাগছে। পোস্টমর্টেম বা কাটাকাটি যে করছে আমরা তার প্রমাণ পাইছি। লাশের গলায় কাফনের কাপড় প্যাঁচায়ে রাখা ছিল।’

তবে কার গুলিতে মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিত নন রশিদ। তিনি বলেন, ‘পুলিশের গুলিতেও হতে পারে, বিজিবির গুলিতেও হতে পারে। আবার আর কেউও গুলি করতে পারে। তবে গুলিতেই যে মারা গেছেন এটা সত্যি।

‘ডিফেন্সের যে পলিসি আছে সে মোতাবেক কিছু টাকা, দাফনের অর্থ আর চাল-ডাল পেয়েছি। বিজিবিই মামলা করবে বলেছে। তাই পরিবার কোনো মামলা করবে না।’

শালমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমির হোসেন শামীম জানান, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রুবেলের দাফন হয়েছে। জানাজায় পরিবার, প্রতিবেশী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেয়।

চেয়ারম্যান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রুবেলের পরিবার একেবারে অসহায় হয়ে গেল। তার অর্থেই পুরো পরিবার চলত। পরিবারটাকে এখন কে দেখবে?’

নির্বাচনি সহিংসতায় বিজিবি সদস্য নিহতের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নীলফামারী পুলিশ।

আরও পড়ুন:
চাঁদপুরে সহিংসতা: আদালতে জামায়াত নেতার স্বীকারোক্তি
মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কক্সবাজারে গ্রেপ্তার
কোরআন রাখতে আরেকটি মন্দিরেও গিয়েছিলেন ইকবাল
চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা: গ্রেপ্তার আরও ৯
উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে ধর্মীয় বক্তা গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: তিনজন গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা: তিনজন গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০

পুলিশ জানায়, ২৮ নভেম্বর কেন্দুয়া ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মো. রায়হান জয়ী হন। পরাজয়ের পর সোমবার সন্ধ্যায় প্রতিন্দ্বন্দ্বী প্রার্থী সাগর মিয়ার সমর্থকরা রায়হানের সমর্থকদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট চালান ও আগুন দেন। এরপর দুই পক্ষের লোকজনের সংঘর্ষ শুরু হলে তিনজন গুলিবিদ্ধসহ ২০ জন আহত হন।

মাদারীপুর সদরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় তিনজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের তালতলা গ্রামে সোমবার সন্ধ্যা থে‌কে রাত ৯টা পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধরা হলেন দত্ত কেন্দুয়া গ্রা‌মের বাবুল মজুমদার, মো. কুদ্দুস ও মো. কায়সার।

পুলিশ জানায়, ২৮ নভেম্বর কেন্দুয়া ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মো. রায়হান জয়ী হন। পরাজয়ের পর সোমবার সন্ধ্যায় প্রতিন্দ্বন্দ্বী প্রার্থী সাগর মিয়ার সমর্থকরা রায়হানের সমর্থকদের বাড়িতে হামলা, লুটপাট চালান ও আগুন দেন।

এরপর দুই পক্ষের লোকজনের সংঘর্ষ শুরু হলে তিনজন গুলিবিদ্ধসহ ২০ জন আহত হন।

আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সেখান থেকে গুলিবিদ্ধদের ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মু‌জিবুর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় এখনও কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’

এর আগে সোমবার বিকেলে মস্তফাপুর ইউনিয়নের চাপাতলী গ্রামের করিম বাজার এলাকায় সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে জয়ী হাসিয়া বেগমের এক সমর্থকের বাড়িতে পরাজিত সুফিয়া বেগমের লোকজনের হামলার অভিযোগ ওঠে।

হাসিয়ার সমর্থক আনোয়ার মাতুব্বরের অভিযোগ, সুফিয়ার সমর্থকরা তার বাড়িঘর ভাঙচুর করে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছেন। হামলায় আহত হয়েছেন তার স্ত্রীসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য।

মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) গোলাম মোস্তফা রাসেল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থান নিয়েছি। কোথাও সংঘর্ষের খবর পেলে দ্রুত সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। কোনোভাবেই কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’

আরও পড়ুন:
চাঁদপুরে সহিংসতা: আদালতে জামায়াত নেতার স্বীকারোক্তি
মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কক্সবাজারে গ্রেপ্তার
কোরআন রাখতে আরেকটি মন্দিরেও গিয়েছিলেন ইকবাল
চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা: গ্রেপ্তার আরও ৯
উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে ধর্মীয় বক্তা গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

১২টি স্বর্ণের বারসহ আটক ১

১২টি স্বর্ণের বারসহ আটক ১

১২টি স্বর্ণের বারসহ একজনকে আটক করেছে বিজিবি। ছবি: নিউজবাংলা

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোনা চোরাচালানের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে জীবননগর উপজেলার মেদিনীপুর গ্রামের খালপাড়া ব্রিজে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দুইজন পালিয়ে গেলেও শাহাবুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি কৌশলে মোটরসাইকেলে করে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে চোরাচালানের সময় অভিযান চালিয়ে ১২টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ- বিজিবি। এ সময় আটক করা হয় এক চোরাকারবারিকে।

ঝিনাইদহ মহেশপুর-৫৮ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বর্ণ চোরাচালানের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে জীবননগর উপজেলার মেদিনীপুর গ্রামের খালপাড়া ব্রিজে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দুইজন পালিয়ে গেলেও শাহাবুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি কৌশলে মোটরসাইকেলে করে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়।

পরে তাকে তল্লাশি করে শার্টের পকেট ও প্যান্টের দুই পকেটে অভিনব কায়দায় স্কচস্টেপ দিয়ে আটকানো ৩টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়।

প্যাকেটের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ১২টি স্বর্ণের বার। উদ্ধার হওয়া বারের ওজন ১ কেজি ৩৯৭ গ্রাম। যার আনুমানিক মূল্য ৮৬ লাখ টাকা।

নজরুল ইসলাম খান জানান, আটক শাহাবুল ইসলাম জীবননগর উপজেলার মেদিনীপুর গ্রামের বাসিন্দা। জব্দকৃত স্বর্ণসহ আটক শাহাবুল ইসলামসহ পলাতক ওয়াসিম মিয়া ও রাশেদ আলীর বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় মামলা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চাঁদপুরে সহিংসতা: আদালতে জামায়াত নেতার স্বীকারোক্তি
মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কক্সবাজারে গ্রেপ্তার
কোরআন রাখতে আরেকটি মন্দিরেও গিয়েছিলেন ইকবাল
চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা: গ্রেপ্তার আরও ৯
উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে ধর্মীয় বক্তা গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

দাম বাড়ায় গ্যাস ছেড়ে কাঠে রান্না

দাম বাড়ায় গ্যাস ছেড়ে কাঠে রান্না

এলপিজির দাম বেড়ে যাওয়ায় মাগুরায় রান্না-বান্নায় বেড়েছে লাকড়ির চাহিদা। ছবি: নিউজবাংলা

একজন গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা বলেন, ‘১০০ জনের মধ্যে এখন গ্যাস নিচ্ছেন ৪০ থেকে ৫০ জন। চার মাস আগেও আমরা ১২ কেজির একটি গ্যাস সিলিন্ডার ৮৩০ টাকায় বিক্রি করেছি। তখন ভ্যানওয়ালা থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের মানুষ রান্না করতেন গ্যাসে। এখন তারা তো নেয়ই না, মধ্যবিত্তরাও গ্যাস নিচ্ছে না।’

মাহফুজা শান্তা আক্ষেপ করে বললেন, ‘গত চার মাসে এলপিজি গ্যাস ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম ৮৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৩৫০ টাকা। মাসে দুটি সিলিন্ডারে বাড়তি খরচ যোগ হয়েছে ১ হাজার টাকা। সঙ্গে খাবারের দাম তো বেড়েই চলেছে। হাজার বিশেক টাকার বেতনে পোষায় না। তাই জ্বালানি গ্যাস বাদ দিয়ে সিমেন্টের রেডিমেড চুলা বসিয়ে খড়ি দিয়ে রান্না শুরু করেছি।’

মাগুরায় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন শান্তা। ছয়জনের পরিবার তার আয়ের ওপরই মূলত নির্ভরশীল। স্বামীর স্বল্প আয়ে পরিবারের খরচ মেটে না।

মাগুরায় একটি বেসরকারি সংস্থায় (এনজিও) চাকরি করেন বিল্লাল মুন্সি। তিনি বলেন, ‘আমার যে বেতন, তা দিয়ে সাতজনের পরিবারে হেসেখেলে চলে যেত। ছয় মাস আগেও আজকের মতো পরিস্থিতি হয়নি। মাস শেষ না হতেই বাকি আর ধার করে সংসার চলছে। বাজারে আগুন লেগেছে চাল, ডাল, তেলসহ প্রতিটি জিনিসের। রান্না করব সেই গ্যাসের দামও অনেক বেশি। তাই খরচ সীমিত করে বাড়িতে চুলায় রান্না শুরু হয়েছে। খড়ি কিনেছি ৫ মণ। হয়তো অনেকটা পোষাতে পারব।’

কলেজশিক্ষক আফজাল হোসেনও গ্যাসের চুলা সরিয়ে রেখেছেন। তিন মাস ধরে মাটির চুলাতেই রান্নাবান্না চলছে তার বাসায়। ধোঁয়ার যন্ত্রণা হলেও খরচ কিছুটা কমেছে।

গত চার মাস ধরে দফায় দফায় বেড়েছে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম। বাড়িতে ব্যবহৃত ১২ কেজি একটি সিলিন্ডারের দাম সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩১৩ টাকা থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২৯০ থেকে ১ হাজার ৩৪০ টাকায়। গ্যাস বিক্রেতারা বলছেন, কমে গেছে সিলিন্ডারের চাহিদা।

মাগুরা গ্যাস হাউস নামে এক গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির দোকানের মালিক মাহমুদুল হক স্বাক্ষর বলেন, ‘১০০ জনের মধ্যে এখন গ্যাস নিচ্ছেন ৪০ থেকে ৫০ জন। চার মাস আগেও আমরা ১২ কেজির একটি গ্যাস সিলিন্ডার ৮৩০ টাকায় বিক্রি করেছি। তখন ভ্যানওয়ালা থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের মানুষ রান্না করতেন গ্যাসে। এখন তারা তো নেয়ই না, মধ্যবিত্তরাও গ্যাস নিচ্ছে না।’

নতুন বাজার এলাকার জ্বালানি কাঠ ব্যবসায়ী নির্মল কুমার জানান, গত কয়েক মাসে কাঠের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে। প্রতি মণ জ্বালানি কাঠ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১৬০ টাকায়। এখন দিনরাত কাঠ জোগাড় করতে হচ্ছে তাকে।

তিনি বলেন, ‘মাস চারেক আগেও বিক্রি হতো না কাঠ। বেকার বসে থাকতাম দোকানে। এখন অবস্থাপন্ন মানুষও দেখছি খড়ি কিনতে আসছেন।’

নতুন বাজারের এলপিজি গ্যাসের পরিবেশক উত্তম কুমার বলেন, ‘গ্যাস কয়েক মাস আগেও নিম্ন আয়ের মানুষের বাড়িতে ব্যবহার হয়েছে। এখন দাম বাড়ায় তারা নিতে চাইছেন না। দাম কমলে লোকে আবার নিয়মিত গ্যাস নেবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।’

আরও পড়ুন:
চাঁদপুরে সহিংসতা: আদালতে জামায়াত নেতার স্বীকারোক্তি
মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কক্সবাজারে গ্রেপ্তার
কোরআন রাখতে আরেকটি মন্দিরেও গিয়েছিলেন ইকবাল
চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা: গ্রেপ্তার আরও ৯
উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে ধর্মীয় বক্তা গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

কাউন্সিলর সোহেল হত্যা: পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

নিহত মো. সাজন (বাঁয়ে) ও মো. সাব্বির হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

নিহতরা হলেন মামলার ৩ নম্বর আসামি মো. সাব্বির হোসেন ও ৫ নম্বর আসামি মো. সাজেন। 

কুমিল্লায় কাউন্সিলর সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।

নগরীর সংরাইশ এলাকায় সোমবার রাত একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন মামলার ৩ নম্বর আসামি মো. সাব্বির হোসেন ও ৫ নম্বর আসামি মো. সাজেন।

কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক পরিমল দাশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘কাউন্সিলর সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ হত্যা মামলার দুই আসামি সংরাইশ ও নবগ্রামে অবস্থান করছে, এমন তথ্যে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এতে অংশ নেয় কোতয়ালি মডেল থানা ও ডিবি পুলিশের একাধিক টিম।

‘বালুমহলের কাছে সংরাইশ গোমতী নদীর বেড়িবাঁধের কাছে ডিবি ও থানা পুলিশের টিম পৌঁছালে আসামিরা এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করেন। পাল্টা গুলি চালায় পুলিশও। পরিস্থিতি শান্ত হলে ঘটনাস্থল থেকে দুই জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তাদেরকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

উপপরিদর্শক পরিমল বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের গুলিতে পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

‘ঘটনাস্থল থেকে একটি ৭.৬৫ পিস্তল, একটি পাইপ গান, তাজা গুলি ও গুলির খোসা জব্দ হয়েছে। স্থানীয়রা তাদেরকে কাউন্সিলর সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ হত্যার আসামি বলে শনাক্ত করেন।’

সরকারি কাজে বাধা, হত্যা ও অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

সুজানগরে নিজ কার্যালয়ে ২২ নভেম্বর বিকেলে কাউন্সিলর সোহেলসহ গুলিবিদ্ধ হন অন্তত ৬ জন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহেল ও তার সঙ্গী হরিপদ সাহার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় করা মামলায় ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলমকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয় ১০-১২ জনকে।

মামলায় এ পর্যন্ত ছয় জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, মো. মাসুম, মো. সুমন, আশিকুর রহমান রকি, আলম মিয়া ও জিসান মিয়া। এজাহারের বাইরের মোহাম্মদ রাব্বি ইসলাম অন্তু নামের একজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চাঁদপুরে সহিংসতা: আদালতে জামায়াত নেতার স্বীকারোক্তি
মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কক্সবাজারে গ্রেপ্তার
কোরআন রাখতে আরেকটি মন্দিরেও গিয়েছিলেন ইকবাল
চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা: গ্রেপ্তার আরও ৯
উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে ধর্মীয় বক্তা গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

হাজিরা শেষে ফের মাদকসহ গ্রেপ্তার

হাজিরা শেষে ফের মাদকসহ গ্রেপ্তার

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে জামে মসজিদের সামনে থেকে সোমবার সকাল ১০টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে জব্দ হয় ১০টি বুপ্রেনাফিন ইনজেকশন।

মাদক মামলায় আদালতে হাজিরা শেষে ফেরার পথে আবারও মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন দুই ব্যক্তি।

চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে জামে মসজিদের সামনে থেকে সোমবার সকাল ১০টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে জব্দ হয় ১০টি বুপ্রেনাফিন ইনজেকশন।

গ্রেপ্তারদের একজন ৬০ বছরের মাজেদ শেখ, অন্যজন ৫৫ বছয় বয়সী সাইফুল ইসলাম।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মাজেদের বিরুদ্ধে ৩টি এবং সাইফুলের বিরুদ্ধে মাদকের দুইটি মামলা রয়েছে। সকালে তারা একটি মামলায় হাজিরা দিতে জয়পুরহাটে যান। সেখান থেকে ফিরেই তারা আবার মাদক বিক্রি শুরু করেন। এ সময় হাতেনাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের সঙ্গে থাকা দুইজন পালিয়ে গেছে।

বিকেলে মাদক আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে চুয়াডাঙ্গার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে তোলা হলে বিচারক মানিক দাস তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন:
চাঁদপুরে সহিংসতা: আদালতে জামায়াত নেতার স্বীকারোক্তি
মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল কক্সবাজারে গ্রেপ্তার
কোরআন রাখতে আরেকটি মন্দিরেও গিয়েছিলেন ইকবাল
চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা: গ্রেপ্তার আরও ৯
উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে ধর্মীয় বক্তা গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন