যুবলীগের চিঠি সংকলন ‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ প্রকাশ

যুবলীগের চিঠি সংকলন ‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ প্রকাশ

‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ বইয়ের প্রচ্ছদ।

‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ চিঠি সংকলন গ্রন্থের সম্পাদক ও প্রকাশক যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও নির্বাহী সম্পাদক যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল। গ্রন্থটির মুখবন্ধ লিখেছেন জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম ও প্রচ্ছদ করেছেন ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায়।

বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশে লেখা প্রতীকী চিঠি নিয়ে গ্রন্থ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সম্পাদনায় রচিত গ্রন্থটির নাম রাখা হয়েছে ‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’।

১৭ অক্টোবর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। তারই অংশ ছিল এই চিঠি লেখা কর্মসূচি। সারাদেশ থেকে আসা শতাধিক চিঠি থেকে বাছাইকৃত চিঠি নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে গ্রন্থটি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে ১৭ অক্টোবর আইইবি মিলনায়তনে যুবলীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আশ্রয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের মাননীয় চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন এমপি, সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি, বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান এমপি, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারা ‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।

‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ চিঠি সংকলন গ্রন্থের সম্পাদক ও প্রকাশক যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও নির্বাহী সম্পাদক যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল। গ্রন্থটির মুখবন্ধ লিখেছেন জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম ও প্রচ্ছদ করেছেন ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায়।

সম্পাদনা সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম মিল্টন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিপ্লব মোস্তাফিজ, উপ গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ নবীরুজ্জামান বাবু এবং উপ প্রচার সম্পাদক আদিত্য নন্দী।

গ্রন্থটির সম্পাদক শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে প্রজন্মের ভাবনা, আবেগ, ভালোবাসা প্রকাশিত হোক- এমন ইতিবাচক উদ্দেশে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ আয়োজন করে বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রতীকী চিঠি লেখা কর্মসূচি। সারাদেশ থেকে প্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুকে লেখা চিঠিগুলো থেকে বাছাইকৃত চিঠি নিয়ে প্রকাশিত হলো চিঠি সংকলন গ্রন্থ ‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’।’

প্রিয় বঙ্গবন্ধু গ্রন্থটি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও শাহাবাগের পাঠক সমাবেশে পাওয়া যাবেও বলে জানান তিনি। এর শুভেচ্ছা মূল্য ধরা হয়েছে ৩২০ টাকা।

আরও পড়ুন:
যুবলীগ চেয়ারম্যানের ফোন নম্বর স্পুফকারী গ্রেপ্তার
যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশের নম্বর স্পুফ করে প্রতারণা
পদ হারালেন জামালপুর যুবলীগের সভাপতি-সম্পাদক
পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার যুবলীগের
মানবিক যুবলীগের প্রশংসায় ব্যারিস্টার সুমন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি ট্রাইব্যুনাল

জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি ট্রাইব্যুনাল

সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম

‘আদালত অভিযোগ শুনে বলেছেন, এটা আমলযোগ্য অপরাধ। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মামলা নিতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে না এসে থানায় মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়।’

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বহিষ্কৃত মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা নেয়নি ট্রাইব্যুনাল। এ বিষয়ে থানায় মামলা দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিচারক।

ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেন রোববার মামলার আবেদন শুনানির পর এ পরামর্শ দেন।

বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মামলা করতে চেয়েছিলেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ওমর ফারুক আসিফ। তিনি আদালতে এ বিষয়ে আবেদন করেন।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম শামীম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বহিষ্কৃত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে মামলার একটি আবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন এক আইনজীবী।

‘আদালত অভিযোগ শুনে বলেছেন, এটা আমলযোগ্য অপরাধ। তাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মামলা নিতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে না এসে থানায় মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলমকে আওয়ামী লীগ থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়। পরে মেয়র পদ থেকেও তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।

কটূক্তির সে ঘটনা নিয়েই মামলা করতে চান আইনজীবী ওমর ফারুক আসিফ। আদালত মামলা না নিলে তিনি বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আরও পড়ুন:
যুবলীগ চেয়ারম্যানের ফোন নম্বর স্পুফকারী গ্রেপ্তার
যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশের নম্বর স্পুফ করে প্রতারণা
পদ হারালেন জামালপুর যুবলীগের সভাপতি-সম্পাদক
পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার যুবলীগের
মানবিক যুবলীগের প্রশংসায় ব্যারিস্টার সুমন

শেয়ার করুন

ছাত্রদের অর্ধেক ভাড়া আগে পারলে এখন কেন নয়: তথ্যমন্ত্রী

ছাত্রদের অর্ধেক ভাড়া আগে পারলে এখন কেন নয়: তথ্যমন্ত্রী

রোববার ৯ দফা দাবিতে ধানমন্ডির ৭ নম্বরে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: নিউজবাংলা

‘আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখন আমি নিজেও বাসে হাফ ভাড়া দিয়ে চলেছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় শহর থেকে বাসে যেতাম হাফ ভাড়া দিয়ে। তখন সরকার বাস মালিকদের কোনো প্রণোদনা দিত না। বাস মালিকরাও প্রণোদনা দাবি করে নাই। তারা বিনা প্রণোদনাতেই ছাত্রদেরকে হাফ ভাড়া দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আজকে কেন প্রণোদনা লাগবে সেটি আমার ব্যক্তিগত জিজ্ঞাসা?’

নিজের ছাত্র জীবনের কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ প্রশ্ন রেখেছেন, সে সময় বাস মালিকরা সরকারি প্রণোদনা ছাড়াই ছাত্রদের অর্ধেক ভাড়া দিতে পারলে এখন কেন পারবেন না।

বাসে অর্ধেক ভাড়ার দাবিতে রাজধানীতে ছাত্রদের আন্দোলনের মধ্যে বাস মালিকরা এই দাবি মেনে নিতে প্রণোদনার শর্ত তোলার মধ্যে এই প্রশ্ন রাখলেন ক্ষমতাসীন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

রোববার রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে ঢাকা উত্তর মহানগর আওয়ামী লীগের দারুস সালাম থানার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ১০ ইউনিটের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ডিজেলের দাম বাড়ানোর পর বাস ভাড়া বেড়ে গেলে ঢাকায় ছাত্ররা অর্ধেক ভাড়া নেয়ার দাবিতে আন্দোলনে নামে। তাদের আন্দোলনের মধ্যেই নটর ডেম কলেজের এক ছাত্র ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় মারা যান।

ছাত্রদের আন্দোলনের মধ্যে এই ঘটনাটিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। এখন নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে একটি শর্ত হিসেবে বাসে অর্ধেক ভাড়ার দাবিও যুক্ত হয়েছে।

প্রায় প্রতি কর্মদিবসেই ছাত্ররা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়কে নেমে যান চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে। এই অবস্থায় অর্ধেক বাস ভাড়ার দাবি নিয়ে বাস মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে সরকার। তবে মালিকরা জানিয়ে দেয়, সরকারি প্রণোদনা ছাড়া এই দাবি পূরণ সম্ভব নয়।

তবে সরকারি পরিবহন সংস্থা বিআরটিসের বাসে অর্ধেক ভাড়া নেয়া হবে বলে ঘোষণা এসেছে। কেবল রাজধানী নয়, সারা দেশেই ১ ডিসেম্বর থেকে ভাড়ার এই কার কার্যকর হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখন আমি নিজেও বাসে হাফ ভাড়া দিয়ে চলেছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় শহর থেকে বাসে যেতাম হাফ ভাড়া দিয়ে।’

মালিকদের প্রণোদনার দাবি নিয়ে এক প্রশ্নে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তখন সরকার বাস মালিকদের কোনো প্রণোদনা দিত না। বাস মালিকরাও প্রণোদনা দাবি করে নাই। তারা বিনা প্রণোদনাতেই ছাত্রদেরকে হাফ ভাড়া দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আজকে কেন প্রণোদনা লাগবে সেটি আমার ব্যক্তিগত জিজ্ঞাসা?’

একটি বাসে ৪০ থেকে ৫০জন যাত্রী থাকলে দুই থেকে তিন বা পাঁচজন ছাত্র থাকে বলে মনে করেন মন্ত্রী। বলেন, ‘এতে বাস মালিকদের কী অসুবিধা হবে, সেটি আমার ব্যক্তিগত প্রশ্ন।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ছাত্রদের প্রতি সহানুভূতিশীল, সরকার সহানুভূতিশীল এবং সেই কারণে প্রধানমন্ত্রী সরকারি সংস্থা বিআরটিসির ভাড়া হাফ করে দিয়েছেন। যারা ছাত্র তারা আমাদের সন্তান, তাদেরও সন্তান। আমি আশা করব, পরিবহনের মালিকরাও তাদের সন্তানদের কথা চিন্তা করে বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’

আরও পড়ুন:
যুবলীগ চেয়ারম্যানের ফোন নম্বর স্পুফকারী গ্রেপ্তার
যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশের নম্বর স্পুফ করে প্রতারণা
পদ হারালেন জামালপুর যুবলীগের সভাপতি-সম্পাদক
পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার যুবলীগের
মানবিক যুবলীগের প্রশংসায় ব্যারিস্টার সুমন

শেয়ার করুন

নগর পরিবহন চালুর উদ্যোগ শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে

নগর পরিবহন চালুর উদ্যোগ শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে রোববার বাস রুট র‍্যাশনালাইজেশনের বৈঠক হয়। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আমরা ১ ডিসেম্বর থেকে ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে পাইলটিং কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু নির্ধারিত তারিখে ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন খাতে অসহযোগিতার কারণে আমরা হোঁচট খেয়েছি। গণপরিবহনে দীর্ঘদিনের যে বিশৃঙ্খলা তাতে অনেক অংশীজন রয়েছে। সবাইকে শৃঙ্খলার আওতায় আনাটা দুরূহ কাজ।’

ঢাকায় পরিকল্পিত নগর পরিবহন চালুর উদ্যোগ শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে। কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে কাঙ্ক্ষিত নগর পরিবহন সেবা চালুর উদ্যোগ ঝুলে গেছে। ডিসেম্বরের প্রথম দিন থেকে এই রুটে বাস চলার কথা থাকলেও বাস মালিকদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ২৬ ডিসেম্বর থেকে এই রুটে একশ’ বাস নিয়মিত চলাচল করবে-এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঢাকার দুই মেয়র।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনে রোববার বাস রুট র‍্যাশনালাইজেশনের ১৯তম বৈঠক শেষে দুই মেয়র সংবাদ সম্মেলন করে এমন তথ্য জানান। ঢাকা শহরের পরিবহনে শৃঙ্খলা আনার জন্য বাস রুট র‌্যাশনালাইজেশন কমিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

বৈঠকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস সভাপতিত্ব করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাস মালিকদের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ আনেন ঢাকার দুই সিটি মেয়র। তবে বাংলাদেশে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘সহযোগিতা ছিল, আছে এবং থাকবে। এটা ভুল বোঝাবুঝি মাত্র।’

মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আমরা ১ ডিসেম্বর থেকে ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে পাইলটিং কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয়, নির্ধারিত তারিখে ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন খাতে অসহযোগিতার কারণে আমরা হোঁচট খেয়েছি। কিন্তু তাতে আমরা পিছপা হইনি। গণপরিবহনে দীর্ঘদিনের যে বিশৃঙ্খলা তাতে অনেক অংশীজন রয়েছে। সবাইকে শৃঙ্খলার আওতায় আনাটা দুরূহ কাজ।’

ডিএসসিসি মেয়র বলেন, ‘আমরা দৃঢ়তার সঙ্গেই কাজটা হাতে নিয়েছি। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আমরা সংকল্পবদ্ধ। ১ ডিসেম্বর না করা গেলেও ওই মাসেই তা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এর আগের মিটিংয়ে বলা হয়েছিল যে ৪২০টি রুট পারমিট দিলেই ১২০টি নতুন গাড়ি তারা নামাবেন। বাস মালিকরা গত মিটিংয়ে এমন প্রতিশ্রিুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা ৪২০টি রুটে পারমিশন দিতে চাইনি। তারপর দক্ষিণের মেয়র মহোদয়ের কাছে তারা অনুরোধ করলেন। কিন্তু শর্ত ছিল এটাই। সেই শর্তের ভিত্তিতে আমরা চুক্তিতে সই করেছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ওনারা যে কথা দিয়েছিলেন সে অনুযায়ী আমরা বাস পাইনি। এখানে কথার বড়খেলাপ হচ্ছে। রুটটিতে নির্ধারিত দিনে বাস সার্ভিস চালু না হওয়ার এটাই আসল কারণ।

‘এ অবস্থায় ঘাটার চর থেকে কাঁচপুরের সাইনবোর্ড পর্যন্ত বিআরটিসির সহায়তায় ২৬ ডিসেম্বর থেকে একশ’ বাস নামানোর উদ্যোগ নিতে আমরা বাধ্য হয়েছি। বিআরটিসি বাস দেয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে। এ ছাড়া ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে কেউ এই রুটে বাস চালানোর আবেদন করলে সুযোগ দেয়া হবে। আমরা এখন উন্মুক্ত করে দিয়েছি। আমাদের কিছুটা কঠোর হতে হয়েছে।’

আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন রুটে গাড়ি চালাচলে কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না। আজকের মিটিংয়ে আরো সিদ্ধান্ত হয়েছে, ‘নির্দিষ্ট রুট ছাড়া অন্য রুটে কেউ বাস চালাতে পারবে না। ঢাকা শহরে রুট পারমিটবিহীন অনেক গাড়ি চলছে, সেগুলো আর চলতে দেয়া হবে না। ১ ডিসেম্বর থেকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, বিআরটিএ, ডিএমপিসহ আমরা অভিযানে নামবো। যারা এক রুটে পারমিট নিয়ে অন্য রুটে গাড়ি চালাচ্ছে তাদেরও ধরা হবে। আমরা সবকিছুকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে চাচ্ছি। নতুন রুট পারমিটও আর দেয়া হবে না।’

উত্তর সিটির মেয়র বলেন, ‘ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর নতুন রুটে পিক আওয়ারে যাত্রী দাঁড়াবে (অপেক্ষার সময়) ৫ মিনিট আর অফ পিক আওয়ারে ১০ মিনিট। এ ছাড়া নতুন রুটে ই-টিকিটিং সিস্টেমে বাসগুলো চলবে।

রুট পারমিট ছাড়া চলা নিষিদ্ধ ও নতুন রুট পারমিট না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি কমিটির আছে কীনা জানতে চাইলে ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘গণপরিবহনকে শৃঙ্খলায় আনার জন্য যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেটির পূর্ণাঙ্গ কার্যপরিধির আওতায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মূল কথা হলো ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনা।’

মেয়র তাপস বলেন, ‘এই রুটে একশ’ বাসের মধ্যে বিআরটিসি দিচ্ছে ৩০টি। বাকিগুলোর ক্ষেত্রে আমরা গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে নতুন বিনিয়োগকারী নেব। আমরা ৭০টি বাসকে রুট পারমিট দেব। সেটা একটি প্রতিষ্ঠান হতে পারে, আবার দশটিও হতে পারে। এরপর প্রয়োজন বুঝে বাসের সংখ্যা কমানো বা বাড়ানো হতে পারে। বাস মালিক সমিতিকে সুযোগ দেয়া হয়েছি। তারা ব্যর্থ হওয়ায় আমরা এটি উন্মুক্ত করে দিচ্ছি। এখন অন্যরাও আসতে পারবে।

ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে বর্তমানে চলাচল করা বাসগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে কীনা জানতে চাইলে মেয়র তাপস বলেন, ‘বিদ্যমান বাসগুলো চলতে পারবে। তবে শর্ত হলো, ২০১৯ সালের আগের কোন বাস চলতে পারবে না। রুট পারমিট ও বিআরটিএ’র রেজিস্ট্রেশন থাকতে হবে। এসব বাসের মালিক ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন করলে বিবেচনা করা হবে।

‘আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে চিহ্নিত এক হাজার ৬৪৬টি রুট পারমিটবিহীন বাসের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। রুট পারমিটবিহীন অবৈধ বাসগুলো জব্দ করে ধ্বংস করা হবে।’

আরও পড়ুন:
যুবলীগ চেয়ারম্যানের ফোন নম্বর স্পুফকারী গ্রেপ্তার
যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশের নম্বর স্পুফ করে প্রতারণা
পদ হারালেন জামালপুর যুবলীগের সভাপতি-সম্পাদক
পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার যুবলীগের
মানবিক যুবলীগের প্রশংসায় ব্যারিস্টার সুমন

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের মামলা খেল পুলিশ, সাংবাদিক ও সরকারি চালক

শিক্ষার্থীদের মামলা খেল পুলিশ, সাংবাদিক ও সরকারি চালক

ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই করছেন আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী। ছবি: সাইফুল ইসলাম

ট্রাফিক সার্জেন্ট হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রী নিজেরাই বিভিন্ন গাড়ির কাগজ চেক করছিল। বিশেষ করে সরকারি গাড়ি, পুলিশের গাড়ি ও সাংবাদিকদের গাড়ি পেলে তারা বেশি চেক করছিল।’

৯ দফা দাবি বাস্তবায়নে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

এ সময় তারা তাদের দাবি নিয়ে স্লোগান দেয়ার পাশাপাশি ধানমন্ডি-মিরপুর সড়কে চলচলকারী বিভিন্ন যানবাহন ও চালকের কাগজপত্র যাচাই করেন। যাচাইয়ে কারও অসংগতি পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে মামলা দিতে উপস্থিত ট্রাফিক সার্জেন্টকে উদ্বুদ্ধ করেন তারা। এভাবে দুই ঘণ্টার আন্দোলনে প্রায় ৫০টির মতো মামলা দেয়া হয়েছে।

ব্যক্তিগত ও গণপরিবহন থেকে শুরু করে মামলার তালিকা থেকে বাদ যায়নি পুলিশ, সাংবাদিক ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের গাড়িচালকও।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গাড়িচালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স যাচাই করে শিক্ষার্থীরা দেখতে পান, ওই চালকের লাইসেন্স থাকলেও তার মেয়াদ নেই। ২০১৩ সালে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর গত ৮ বছর তিনি লাইসেন্স নবায়ন করেননি। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে ওই চালককে ২ হাজার টাকার মামলা দেন ট্রাফিক সার্জেন্ট।

মোটরসাইকেলচালক দুই পুলিশ সদস্যের কাগজও যাচাই করেন তারা। হেলমেট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় তাদের বিরুদ্ধেও মামলা দিতে বাধ্য করেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের মামলা খেল পুলিশ, সাংবাদিক ও সরকারি চালক
পুলিশ, সাংবাদিক, সরকারি গাড়ি ছাড়াও ব্যক্তিগত ও গণপরিবহনের কাগজপত্রও যাচাই করেন শিক্ষার্থীরা

এভাবে দুই ঘণ্টার আন্দোলন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের চাপে ৫০টির বেশি মামলা করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক সার্জেন্ট হাবিবুর রহমান হাবিব। তিনি বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রী নিজেরাই বিভিন্ন গাড়ির কাগজ চেক করছিল। বিশেষ করে সরকারি গাড়ি, পুলিশের গাড়ি ও সাংবাদিকদের গাড়ি পেলে তারা বেশি চেক করছিল। যাদের কাগজে অসংগতি পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ জরিমানা করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
যুবলীগ চেয়ারম্যানের ফোন নম্বর স্পুফকারী গ্রেপ্তার
যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশের নম্বর স্পুফ করে প্রতারণা
পদ হারালেন জামালপুর যুবলীগের সভাপতি-সম্পাদক
পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার যুবলীগের
মানবিক যুবলীগের প্রশংসায় ব্যারিস্টার সুমন

শেয়ার করুন

দারুস সালামে ফারুক হত্যা: রিমান্ডে শাশুড়ি-শ্যালিকা

দারুস সালামে ফারুক হত্যা: রিমান্ডে শাশুড়ি-শ্যালিকা

২১ নভেম্বর এ দুই আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দারুস সালাম থানা পুলিশের উপপরিদর্শক আছিবুর রহমান তুষার। আদালত ২৩ নভেম্বর আসামিদের রিমান্ড শুনানির দিন ঠিক করে। ওই দিন সেটি পিছিয়ে ২৮ নভেম্বর ঠিক করা হয়।

রাজধানীর দারুস সালামে ফারুক হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা মামলায় শাশুড়ি জাহানারা বেগম ও শ্যালিকা জয়া হাসান মীমকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে এক দিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ।

রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তোফাজ্জল হোসেনের আদালত শুনানি শেষে রিমান্ডের আদেশ দেয়।

২১ নভেম্বর এ দুই আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দারুস সালাম থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) আছিবুর রহমান তুষার।

আদালত ২৩ নভেম্বর আসামিদের রিমান্ড শুনানির দিন ঠিক করে। ওই দিন সেটি পিছিয়ে ২৮ নভেম্বর ঠিক করা হয়।

এদিন রিমান্ড শুনানির সময় আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবী আবু তৈয়ব রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে রিমান্ড অনুমোদনের প্রার্থনা করা হয়।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই আসামির এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন বলে নিউজবাংলাকে জানান দারুস সালাম থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান।

এ মামলায় ২১ নভেম্বর ফারুক হোসেনের শ্যালক জাসফিকুর রহমান অশ্রু আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় করা অস্ত্র মামলায় এক দিনের রিমান্ডে রয়েছেন অশ্রু।

অভিযোগ রয়েছে, ২০ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাসফিকুর রহমান অশ্রু তার বোনের স্বামী ফারুক হোসেনকে গুলি করেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ফারুক হোসেনের মা আজমেরী বেগম ৮ জনকে আসামি করে দারুস সালাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দারুস সালাম থানার এসআই রিয়াজুল ইসলাম অশ্রুকে একমাত্র আসামি করে অস্ত্র মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
যুবলীগ চেয়ারম্যানের ফোন নম্বর স্পুফকারী গ্রেপ্তার
যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশের নম্বর স্পুফ করে প্রতারণা
পদ হারালেন জামালপুর যুবলীগের সভাপতি-সম্পাদক
পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার যুবলীগের
মানবিক যুবলীগের প্রশংসায় ব্যারিস্টার সুমন

শেয়ার করুন

২ ঘণ্টা বিক্ষোভের পর ধানমন্ডির সড়ক ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

২ ঘণ্টা বিক্ষোভের পর ধানমন্ডির সড়ক ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

ধানমন্ডির ৭ নম্বরে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: নিউজবাংলা

ডিএমপির ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার ইহসানুল ফিরদাউস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই ঘণ্টা তাদের আন্দোলনের পর রাস্তা ছেড়েছে। পুরো সময় আমরা তাদের বুঝিয়েছি যেন সাধারণদের ভোগান্তি সৃষ্টি না হয়। তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে ফিরে গেছে। এখন রাস্তায় যানবাহনের কিছুটা চাপ রয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে আশা করি, যানজট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’

৯ দফা দাবিতে টানা দুই ঘণ্টা আন্দোলনের পর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের রাস্তা ছেড়েছেন শিক্ষার্থীরা। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রূপে ফিরেছে।

বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন ধানমন্ডি গভ. বয়েজ স্কুল, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল, রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল ও সেন্ট জোসেফ স্কুলের কয়েক শ শিক্ষার্থী। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম বাসে হাফ পাস কার্যকর, নটর ডেমের নাঈম হাসানের নিহতের ঘটনায় বিচার।

শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ে স্লোগান দিতে থাকেন, আবার কেউ কেউ বিভিন্ন গাড়ির চালকদের লাইসেন্স যাচাই করেন। ফলে ধানমন্ডি মিরপুর সড়কে প্রচণ্ড যানজট সৃষ্টি হয়। আড়াইটার দিকে দিনের কর্মসূচি শেষে ছাত্ররা রাস্তা থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ডিএমপির ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার ইহসানুল ফিরদাউস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই ঘণ্টা তাদের আন্দোলনের পর রাস্তা ছেড়েছে। পুরো সময় আমরা তাদের বুঝিয়েছি যেন সাধারণদের ভোগান্তি সৃষ্টি না হয়। তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে ফিরে গেছে। এখন রাস্তায় যানবাহনের কিছুটা চাপ রয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে আশা করি, যানজট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’

দুপুরে ৯ দফা দাবিতে শান্তিনগরেও বিক্ষোভ করে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। ঘণ্টা খানেক পর রাস্তা ছাড়েন তারা। রামপুরা ব্রিজের ওপর ৪৫ মিনিটের মতো অবস্থান নেয় ইমপিরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা। ডিএমপি পুলিশ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীরা এখন রাস্তায় নেই। যান চলাচল স্বাভাবিক।

গত বুধবার বেলা ১১টার দিকে গুলিস্তান বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের দক্ষিণ পাশে নটর ডেম কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানকে ধাক্কা দেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি ময়লাবাহী ট্রাক। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার বিচার, বাসে হাফ পাস কার্যকর এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে ৯ দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো:

০১. দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে শিক্ষার্থীসহ সকল সড়ক হত্যার বিচার করতে হবে ও পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

০২. ঢাকাসহ সারা দেশে সকল গণপরিবহনে (সড়ক, নৌ, রেল ও মেট্রোরেল) শিক্ষার্থীদের হাফ পাস নিশ্চিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।

০৩. গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং জনসাধারণের চলাচলের জন্য যথাস্থানে ফুটপাত, ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুততর সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।

০৪. সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সকল যাত্রী এবং পরিবহন শ্রমিকের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পূনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।

০৫. পরিকল্পিত বাস স্টপেজ ও পার্কিং স্পেস নির্মাণ ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে (এক্ষেত্রে প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে)।

০৬. দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ও যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের দায়ভার সংশিষ্ট ব্যক্তি বা মহলকে নিতে হবে।

০৭. বৈধ ও অবৈধ যানবাহন চালকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বৈধতার আওতায় আনতে হবে এবং বিআরটিএর সকল কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

০৮. আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ঢাকাসহ সারা দেশে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা অবিলম্বে স্বয়ংক্রিয় ও আধুনিকায়ন এবং পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

০৯. ট্রাফিক আইনের প্রতি জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য একে পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে হবে।

দাবিগুলো আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
যুবলীগ চেয়ারম্যানের ফোন নম্বর স্পুফকারী গ্রেপ্তার
যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশের নম্বর স্পুফ করে প্রতারণা
পদ হারালেন জামালপুর যুবলীগের সভাপতি-সম্পাদক
পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার যুবলীগের
মানবিক যুবলীগের প্রশংসায় ব্যারিস্টার সুমন

শেয়ার করুন

ডিএনসিসির গাড়িচাপায় মৃত্যু: চালক রিমান্ডে

ডিএনসিসির গাড়িচাপায় মৃত্যু: চালক রিমান্ডে

উত্তর সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায় সাবেক সংবাদকর্মী আহসান কবির খান নিহতের ঘটনায় গাড়িচালক মো. আবু হানিফকে দুই দিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ। ফাইল ছবি

তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার এসআই আরিফ হোসেন আসামিকে আদালতে হাজির করে সড়ক পরিবহন আইনে করা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন। আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

রাজধানীর পান্থপথে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ময়লার গাড়ির ধাক্কায় সাবেক সংবাদকর্মী আহসান কবির খান নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার গাড়িচালক মো. আবু হানিফ ওরফে ফটিককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দুই দিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ।

রোববার ঢাকার মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালত এ আদেশ দেয়।

কলাবাগান থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শরীফ সাফায়েত হোসেন রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এরআগে তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার এসআই আরিফ হোসেন আসামিকে আদালতে হাজির করে সড়ক পরিবহন আইনে করা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন। আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত আছে। তার নাম-ঠিকানা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির ধাক্কায় সাবেক সংবাদকর্মীর নিহতের ঘটনাটি দেশব্যাপী সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোড়ন সৃষ্টি করে। আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মামলার ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা যাচাই ও জড়িত থাকলে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। এজন্য আসামির ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

তবে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

এর আগে ২৬ নভেম্বর রাতে চাঁদপুরের হাইমচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ময়লাবাহী ডাম্প ট্রাকের চালক মো. হানিফ ওরফে ফটিককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

সিটি করপোরেশনের ময়লা বহনকারী ওই ট্রাকের চাপায় আহসান কবীর খানের নিহতের ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার রাতে কলাবাগান থানায় মামলা করেন স্ত্রী নাদিরা পারভীন।

পরিবহন আইন ২০১৮ এর ১০৫ সড়ক ধারায় করা মামলায় ময়লার গাড়িটির চালককে আসামি করা হয়।

এই ঘটনার একদিন আগে, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় নিহত হন নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসান। তার মৃত্যুর প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী ডাম্প ট্রাকের (পরীক্ষাধীন নম্বরঃ ৫১২৮) চাপায় মারা যান আহসান কবির খান। পান্থপথ বসুন্ধরা সিটির বিপরীত পাশের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি দৈনিক সংবাদ ও প্রথম আলোর সাবেক কর্মী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে কলাবাগান থানা পুলিশ জানায়, সিগন্যাল ছাড়ার পর ময়লা বহনকারী উত্তর সিটির ট্রাকটির সামনে থাকা মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে পেছনে থাকা আহসান কবির ছিটকে রাস্তায় পড়ে গেলে তার ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যান চালক। এসময় তার মাথার ওপর দিয়ে ট্রাকের চাকা চলে যায়। চাপা দেয়ার পর গাড়িটি নিয়ে পান্থপথ সিগন্যালের দিকে পালিয়ে যান চালক। সিগন্যালের আগে সড়কের পাশে গাড়ি রেখে তিনি পালিয়ে যান।

ঘটনা তদন্তে ডিএনসিসি তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে। মেয়র আতিকুল ইসলামের নির্দেশে গঠিত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
যুবলীগ চেয়ারম্যানের ফোন নম্বর স্পুফকারী গ্রেপ্তার
যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশের নম্বর স্পুফ করে প্রতারণা
পদ হারালেন জামালপুর যুবলীগের সভাপতি-সম্পাদক
পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার যুবলীগের
মানবিক যুবলীগের প্রশংসায় ব্যারিস্টার সুমন

শেয়ার করুন