মেঘনা বিভাগের ঘোষণায় নোয়াখালীতে হতাশা

মেঘনা বিভাগের ঘোষণায় নোয়াখালীতে হতাশা

নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন আন্দোলন কমিটির মানববন্ধন। ফাইল ছবি

২০১৫ সাল থেকে নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে নিয়ে ‘নোয়াখালী বিভাগ’ গঠনের দাবিতে মানববন্ধন, সমাবেশসহ নানা আন্দোলন চালিয়ে আসছে নোয়াখালীর রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সাধারণ জনগণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন ঐক্য মঞ্চের নেতারা।

মেঘনা বিভাগ করার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় হতাশ নোয়াখালীবাসী। জেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

নোয়াখালীবাসীর বক্তব্য, বৃহত্তর কুমিল্লাকে যে নামেই বিভাগ করা হোক, তা খন্দকার মোশতাককে উৎসর্গ করা হবে। তাই বিভাগ হতে হবে নোয়াখালী জেলার নামে।

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের নবনির্মিত অফিস ভবনের উদ্বোধনী আয়োজনে বৃহস্পতিবার দুপুরে গণভবন প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, বৃহত্তর ফরিদপুর ও কুমিল্লাকে নিয়ে দেশে আরও দুটি বিভাগ হবে। তবে বিভাগ দুটি কোনো জেলার নামে হবে না; হবে দেশের প্রধান দুটি নদী পদ্মা-মেঘনার নামে।

যুক্তি দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতা যুদ্ধের ‘তোমার আমার ঠিকানা/পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’ স্লোগানের আদলে নদীর নামে হবে এই বিভাগ দুটির নাম। সে ক্ষেত্রে ফরিদপুর বিভাগের নাম হবে ‘পদ্মা’ আর ‘মেঘনা’ হবে কুমিল্লা বিভাগের নাম।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কুমিল্লা নামে বিভাগ দেব না। কারণ কুমিল্লা নামের সঙ্গে মোশতাকের নাম জড়িত। ওই কুমিল্লা নাম নিলেই তো মোশতাকের কথা মনে ওঠে।’

২০১৫ সাল থেকে নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে নিয়ে ‘নোয়াখালী বিভাগ’ গঠনের দাবিতে মানববন্ধন, সমাবেশসহ নানা আন্দোলন চালিয়ে আসছে নোয়াখালীর রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সাধারণ জনগণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন ঐক্য মঞ্চের নেতারা।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন আন্দোলনের নেতারা বলেন, নোয়াখালীর ভাষাগত বৈশিষ্ট্য বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চল ছাড়িয়ে কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। এ ছাড়া নোয়াখালী জেলার সঙ্গে ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সড়ক ও রেলপথে যোগাযোগ আছে। দেশের ঐতিহ্যবাহী জেলা হিসেবে নোয়াখালীই বিভাগ হওয়ার দাবি রাখে।

দৈনিক সচিত্র নোয়াখালীর সম্পাদক আমিরুল ইসলাম হারুন বলেন, ‘কুমিল্লাকে মেঘনা নামে বিভাগের প্রস্তাব মেনে নেয়া যায় না। ভাষাগত বৈশিষ্ট্য, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং যোগাযোগব্যবস্থার কারণে বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলকে ঘিরে নোয়াখালী বিভাগ ঘোষণা চাই।’

লেখক ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহত্তর কুমিল্লাকে যে নামেই বিভাগ করা হোক, তা হবে খন্দকার মোশতাককে উৎসর্গ করা। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নোয়াখালীই বিভাগ হওয়ার যোগ্য দাবিদার।’

মোহাম্মদ হাশেম ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও সাবেক জিপি কাজী মানসুরুল হক খসরু বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বৃহত্তর কুমিল্লাকে মেঘনা নামে বিভাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন। বলেছেন, যদি আশপাশের জেলাগুলো এতে সম্মতি দেয়, তাহলে মেঘনা নামে বিভাগ হবে। সে ক্ষেত্রে আমরা সম্মতি দেব না।’

নোয়াখালী নাগরিক কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া মো. শাহজাহান বলেন, ‘কুমিল্লা কিংবা অন্য কোনো জেলা বিভাগ হোক, এতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু দেশের পুরোনো জেলা নোয়াখালীকে বিভাগ করার প্রশ্নে আপস হবে না।’

নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন আন্দোলন কমিটির সদস্যসচিব শিহাব উদ্দিন শাহীন বলেন, ‘আমরা চাই বৃহত্তর নোয়াখালী ও চাঁদপুরকে নিয়ে নোয়াখালী বিভাগ করা হোক। নোয়াখালী বিভাগের দাবিতে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট নোয়াখালীর সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন কৈশোর বলেন, ‘আমি বিভাগ বাস্তবায়নের আন্দোলন থেকে সরে আসছি। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কোনো জেলার নামে বিভাগ না করে নদীর নামে বিভাগ করার যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তাতে আমি সমর্থন করি।

‘বিভাগের নেতৃত্বে জনগণের নির্বাচিত কোনো প্রতিনিধি না থাকায় আমি বিভাগে সমর্থন করি না। আমি চাই দেশকে ১০টি প্রদেশে বিভক্ত করা হোক এবং প্রাদেশিক সরকার হোক।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ডেমু-বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষ: বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা

ডেমু-বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষ: বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা

খুলশীতে শনিবার ডেমু,বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

রেলওয়ে থানার ওসি নাজিম উদ্দীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী বাসটি দ্রুতগতিতে এসে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশার পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে বাস ও অটোরিকশা রেললাইনের ওপর উঠে যায়। তাই মামলার একমাত্র আসামি বাসচালক। তবে তাকে এখনও চিহ্নিত করা যায়নি।’

চট্টগ্রাম নগরের খুলশীতে ডেমু ট্রেন, বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে তিনজন নিহতের ঘটনায় বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

শনিবার রাতে চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানায় উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলায় বাসচালককে আসামি করা হলেও তাকে এখনও চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিম উদ্দীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী বাসটি দ্রুতগতিতে এসে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশার পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে বাস ও অটোরিকশা রেললাইনের ওপর উঠে যায়। তাই মামলার একমাত্র আসামি বাসচালক। তবে তাকে এখনও চিহ্নিত করা যায়নি।’

এর আগে শনিবার দুপুরে রেলওয়ে পুলিশের চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল গফুরকে প্রধান করে এ সংঘর্ষের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

রেলওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (সদর) ও চট্টগ্রামের রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তাকেও তদন্ত কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় গেটম্যানের কোনো অবহেলা থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের ঝাউতলা এলাকায় ডেমু ট্রেন, বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবলসহ তিনজন নিহত হন। এতে আহত হন অন্তত ছয়জন।

নিহতরা হলেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ট্রাফিক উত্তর বিভাগের কনস্টেবল মনির হোসেন। তার বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে। বাকি দুজন নগরীর হামজারবাগ এলাকার সৈয়দ বাহাউদ্দিন আহমেদ ও পাহাড়তলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্র সাতরাজ উদ্দিন।

দুর্ঘটনার পরই স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি নাজিম উদ্দিন জানান, একটি ডেমু ট্রেন ষোলশহর থেকে চট্টগ্রাম স্টেশনে যাচ্ছিল। এ সময় জাকির হোসেন রোডের ওই লেভেল ক্রসিংয়ের দুই দিকের গেট আটকানো ছিল।

তবে এর মধ্যেও একটি অটোরিকশা উল্টোপথে লাইন অতিক্রম করার চেষ্টা করে। এর পেছনে একটি বাসও লাইনের ওপর উঠে যায়। এ সময় ট্রেনটি বাস ও অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সৈয়দ বাহাউদ্দিন আহমেদের মৃত্যু হয়।

শেয়ার করুন

বিদেশি সিগারেটসহ চীনা নাগরিক আটক

বিদেশি সিগারেটসহ চীনা নাগরিক আটক

কোস্টগার্ড পূর্বজোনের মিডিয়া কর্মকর্তা আব্দুর রউফ জানান, স্টেশন কামান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উর হকের নেতৃত্বে শাহপরীর দ্বীপের সমুদ্র এলাকায় একটি ট্রলারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ১০ হাজার ৮৪০ প্যাকেট ব্ল্যাক ব্র্যান্ডের সিগারেটগুলো উদ্ধার করা হয়। এ সময় চীনা নাগরিক ইয়াপেংকে আটক করা হয়।

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকা থেকে অনুমোদনহীন বিদেশি সিগারেটসহ এক চীনা নাগরিককে আটক করেছে কোস্ট গার্ড।

রোববার বেলা ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোস্টগার্ড পূর্বজোনের মিডিয়া কর্মকর্তা আব্দুর রউফ।

তিনি জানান, বিসিজি স্টেশন কামান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উর হকের নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহপরীর দ্বীপের সমুদ্র এলাকায় একটি ট্রলারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ১০ হাজার ৮৪০ প্যাকেট ব্ল্যাক ব্র্যান্ডের সিগারেটগুলো উদ্ধার করা হয়। এ সময় চীনা নাগরিক ইয়াপেংকে আটক করা হয়।

মিডিয়া কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, আটক চীনা নাগরিকের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা শেষে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হবে।

শেয়ার করুন

সাতরাজ নিহতের ঘটনায় বিচারের দাবি শিক্ষার্থীদের

সাতরাজ নিহতের ঘটনায় বিচারের দাবি শিক্ষার্থীদের

সাতরাজ নিহতের ঘটনায় বিচারের দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

খুলশী থানার ওসি শাহিনুজ্জামান শাহিন বলেন, ‘কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের কিছু দাবি নিয়ে সড়কের এক পাশে অবস্থান নিয়েছে ৷ যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’

চট্টগ্রামের খুলশীতে রেল দুর্ঘটনায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী সাতরাজ উদ্দিন নিহতের ঘটনায় বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।

নগরীর ওয়ারলেসে রোববার বেলা ১১টার দিকে মিছিলটি শুরু হয়ে দুর্ঘটনাস্থল ঝাউতলায় এসে সমাবেশ করেন তারা।

সমাবেশে সাতরাজকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে দোষীদের বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে তারা স্লোগান দেন।

এ সময় সাতরাজের সহপাঠী পার্থ সারথী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একটার পর একটা খুন হচ্ছে সড়কে। এর সর্বশেষ শিকার সাতরাজ উদ্দিন। এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটি হত্যা। বাসের চালক ও হেলপারদের অবহেলায় তাকে মরতে হয়েছে৷ আমরা দোষীদের বিচার ও নিরাপদ সড়ক চাই।’

মো. আফিফ নামে পাহাড়তলী কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, বাস দ্রুতগতিতে অটোরিকশাকে ধাক্কা দিয়ে সেটি সঙ্গে নিয়ে চলন্ত ট্রেনকে ধাক্কা দিয়েছে। এর দায় বাসচালকের। ওরা সড়কে যাচ্ছেতাই করে, কেউ দেখার নেই। সাতরাজসহ এখন পর্যন্ত সড়কে যারা খুন হয়েছে, আমরা সবার বিচার দাবি করছি।’

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শাহিনুজ্জামান শাহিন বলেন, ‘কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের কিছু দাবি নিয়ে সড়কের এক পাশে অবস্থান নিয়েছে৷ যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।’

শেয়ার করুন

ভোটে হেরে নৌকা মার্কার বিরুদ্ধে আ.লীগ প্রার্থী

ভোটে হেরে নৌকা মার্কার বিরুদ্ধে আ.লীগ প্রার্থী

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আড়িয়ল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দ্বীন ইসলাম শেখ।

আওয়ামী লীগ সভাপতি হাফিজ আল আসাদ বারেক বলেন, ‘অনেক নেতা-কর্মী আমার কাছে ভিডিওটি পাঠাচ্ছেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে এমন কথা বলা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তিনি আমাদের দলীয় প্রতীক নিয়ে কটূক্তি করেছেন। আমি আশা করি উনি এ বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইবেন।’

‘আগামীতে মনোনয়ন লাগব না। ভোটও চাওয়া লাগবে না। এমনি পাস করুম। যদি পিছা মার্কা থাকে তবে পিছা মার্কা আনুম, নৌকা মার্কা আনুম না। নৌকা মার্কা না আনলে আমরা পাস করব নিশ্চিত।’

নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক সভায় এই বক্তব্য দিয়েছেন মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আড়িয়ল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দ্বীন ইসলাম শেখ। তিনি আড়িয়ল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

অনুষ্ঠানে দেয়া তার বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এরই মধ্যে। এ নিয়ে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।

ভিডিওতে তাকে নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ সম্পর্কেও বলতে শোনা গেছে। তিনি বলেন, ‘ভোট যা হইছে বাদ, আজকা থেকে পেছনে কী হইছে সেটা দেখব না। আমি আশাবাদী মানুষ, আমি খালি সামনে দেখি। সামনে দেখব এগিয়ে যাব। আজকে আমরা চেয়ারম্যান হাইরা গিয়া মন খারাপ করছে অনেকে। ভাগ্য থাকলে তো আগামীবার উপজেলাও করতে পারি, কী বলেন?

‘চেয়ারম্যানি নিয়া চিন্তা করার কিছু নাই। চাইলে আল্লাহরেও পাওয়া যায়, এটা তো চেয়ারম্যানই। এবারও পারতাম, তয় দুই-চারটা মরতো হয়তো। এ জন্য করি নাই।’

এই বক্তব্য প্রসঙ্গে দ্বীন ইসলাম শেখ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়ন থেকে ১০ জন নৌকা চাইছিলাম। আমি নৌকা পাওয়ার পর বাকি ৯ জনই আমার বিপক্ষে কাজ করেছে। একজন বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল। সবাই মিলে আমাকে অনেকটা ঘরবন্দি করে রাখছিল। আমার ভাগনেকে মারধর করা হয়েছিল।

‘স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী কেউ আমাকে সহযোগিতা করেনি। প্রশাসন থেকেও অসহযোগিতা করা হয়েছে। নৌকার বিপক্ষে কাজ করা নেতা-কর্মীদের বিষয়ে জেলার নেতাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। মনের কষ্টে কথা তাই বলেছি।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবির হালদার নিউজবাংলাকে বলেন, নির্বাচনে পাস-ফেল থাকবে। তবে তার এ বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। দলকে অবমাননা করা হয়েছে। এ বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাফিজ আল আসাদ বারেক বলেন, ‘অনেক নেতা-কর্মী আমার কাছে ভিডিওটি পাঠাচ্ছেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে এমন কথা বলা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তিনি আমাদের দলীয় প্রতীক নিয়ে কটূক্তি করেছেন। আমি আশা করি উনি এ বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইবেন। এ বিষয়ে নেতাদের থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সে অনুযায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

গত ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আড়িয়ল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিজয়ী হন আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাদির হাওলাদার। পরাজিত হন দ্বীন ইসলাম শেখ।

শেয়ার করুন

তালা ভেঙে দোকানে চুরির অভিযোগ

তালা ভেঙে দোকানে চুরির অভিযোগ

কালকিনিতে দোকানের তালা ভেঙ্গে চুরির ঘটনার অভিযোগ উঠেছে।ছবি: নিউজবাংলা

কালকিনি থানার ওসি (তদন্ত) নাসির হোসেন বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। চুরির বিষয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। আইনগত উপায়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মাদারীপুরের কালকিনিতে ইলেকট্রনিকস পণ্যের একটি দোকানে তালা ভেঙে চুরির অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার কুন্ডুবাড়ি নামক স্থানে শনিবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় তারা ওই দোকান থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে জানা যায়।

খবর পেয়ে রোববার সকালে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

তালা ভেঙে দোকানে চুরির অভিযোগ

দোকান মালিকের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, পৌর এলাকার পূয়ালী মাদারীপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান মুন্সি অনেক দিন ধরেই ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে ‘মক্কা ট্রেডার্স’ নামের একটি দোকান দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। শনিবার মধ্যরাতে ৭ থেকে ৮ জনের একটি চক্র তার দোকান থেকে ১৯০টি এলপি গ্যাস, ১টি আইপিএস ব্যাটারি, ৩টি ক্যামেরা ও নগদ ৪৮ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।

দোকানের মালিক হাবিবুর রহমান মুন্সি বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে এই ব্যবসা গড়ে তুলেছিলাম। কিন্তু চোররা আমার সর্বনাশ করেছে। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে মালামাল উদ্ধার করতে পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

কালকিনি থানার ওসি (তদন্ত) নাসির হোসেন বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। চুরির বিষয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। আইনগত উপায়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শেয়ার করুন

এমপির সামনে ‘লাঞ্ছিত’ ব্যাংক কর্মকর্তা: প্রতিবাদে মানববন্ধন

এমপির সামনে ‘লাঞ্ছিত’ ব্যাংক কর্মকর্তা: প্রতিবাদে মানববন্ধন

সোনালী ব্যাংক পলাশবাড়ি শাখার অফিসার মকবুল হোসেন বলেন, ‘সোনালী ব্যাংক পলাশবাড়ি শাখার ম্যানেজার রওশন জামিলকে গালিগালাজ করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান মোকসেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় ইউএনও কামরুজ্জামান নয়নকেও অপদস্ত করা হয়। স্থানীয় এমপির উপস্থিতিতে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় চেয়ারম্যানের এমন কর্মকাণ্ড মেনে নেয়া যায় না।’

গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ও কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতির উপস্থিতিতে এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত এবং ইউএনওকে অপদস্ত করার অভিযোগ এনে মানববন্ধন করা হয়েছে।

পলাশবাড়ি উপজেলার সোনালী ব্যাংক লিমিটেড কার্যালয়ের সামনে রোববার সকালে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

এ সময় সোনালী ব্যাংক পলাশবাড়ি শাখার অফিসার মকবুল হোসেন বলেন, ‘সোনালী ব্যাংক পলাশবাড়ি শাখার ম্যানেজার রওশন জামিলকে গালিগালাজ করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান মোকসেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় ইউএনও কামরুজ্জামান নয়নকেও অপদস্ত করা হয়।

‘স্থানীয় এমপির উপস্থিতিতে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় চেয়ারম্যানের এমন কর্মকাণ্ড মেনে নেয়া যায় না। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় যদি উপজেলা চেয়ারম্যানকে শাস্তির আওতায় না আনা হয়, তাহলে আগামীতে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেয়া হবে।’

ব্যাংক কর্মকর্তা মকবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পলাশবাড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শহীদুল ইসলাম বাদশা, সোনালী ব্যাংক গাইবান্ধা শাখার ম্যানেজার ছাবিনা ইয়াসমিন ছন্দা, সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা শান্তনা ও আইটি অফিসার এ টি এম আরিফুজ্জামান মণ্ডলসহ অনেকে।

এ সময় গ্রাহকদের মধ্যে হযরত আলী, খয়রাজ্জামান, ইব্রাহিম মিয়া, সেলিম মিয়া, রহিমা বেগম, রাবেয়া বেগম, মমতা বেগমসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাহক অংশ নেন।

শেয়ার করুন

যুবলীগ নেতা টিটু হত্যা মামলা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

যুবলীগ নেতা টিটু হত্যা মামলা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার রাতে রাজধানীর দারুস সালাম থানা এলাকা থেকে জামাল উদ্দিন চকেটকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

ভোলার মেঘনায় যুবলীগ নেতা খোরশেদ আলম টিটু হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ নিয়ে হত্যা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

রোববার সকালে নিজ দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, শুক্রবার রাতে রাজধানীর দারুস সালাম থানা এলাকা থেকে জামাল উদ্দিন চকেটকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

গত ২৬ নভেম্বর বিকেলে দৌলতখানের মদনপুর ইউনিয়ন থেকে খেয়া ট্রলারে ভোলা সদরে ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলম টিটু।

এ ঘটনায় টিটুর ভাই হানিফ ভুট্টো বাদী হয়ে সদর থানায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

শেয়ার করুন