ন্যাশনাল পলিমারে লভ্যাংশ কমল

ন্যাশনাল পলিমারে লভ্যাংশ কমল

২০১১ সাল থেকে টানা বোনাস শেয়ার দিয়ে আসা কোম্পানিটি গত বছরই কেবল ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। এবার তা ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

আগের বছরের তুলনায় শেয়ারপ্রতি আয় বাড়ার পর লভ্যাংশ কমিয়েছে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ন্যাশনাল পলিমার।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ৮২ পয়সা আয় করে ১ টাকা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি।

বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

কোম্পানির ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ নগদ লভ্যাংশ। ২০১১ সাল থেকে টানা বোনাস শেয়ার দিয়ে আসা কোম্পানিটি গত বছরই কেবল ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।

ওই বছর কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ৫০ পয়সা আয় করে ১ টাকা ৫০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল।

ওই বছর শেষে কোম্পানিটির মোট আয় শেয়ারপ্রতি ৪ টাকা ১২ পয়সা হয়েছিল। তবে পরে একটি শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইট শেয়ার যুক্ত হওয়ার পর আয় সমন্বিত হয়ে কমে যায়। আবার প্রতি শেয়ারে ৫ টাকা প্রিমিয়াম যুক্ত হয়।

১০০ শতাংশ রাইট শেয়ার যুক্ত হওয়ার পর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য কিছুটা কমেছে। গত ৩০ জুন এই সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকা ৪৯ পয়সা। আগের বছর তা ছিল ৩৫ টাকা ৮৭ পয়সা।

এই লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৪ নভেম্বর। অর্থাৎ সেদিন যাদের হাতে শেয়ার থাকবে, তারাই পাবে এই লভ্যাংশ।

এই লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে আগামী ২২ ডিসেম্বর।

কোম্পানিটির শেয়ার দর গত এক বছরে ৫২ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৭৭ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত ওঠানামা করেছে। তবে তৃতীয় প্রান্তিকের আয় সংশোধনকে কেন্দ্র করে শেয়ারমূল্য পরে কমে যায়।

লভ্যাংশ ঘোষণার দিন শেয়ার দর ছিল ৫৬ টাকা ৬০ পয়সা।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান

এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠকে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট শেয়ারের ক্রয়মূল্যে বিবেচনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে আলোচনার পরদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএসইসির চেয়ারম্যানের বৈঠকের সময় নির্ধারণের খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির আলোচনার পর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম এবার সরকারপ্রধানের কাছে যাচ্ছেন।

বুধবার এই বৈঠক হবে বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির প্রধান। তবে কী নিয়ে আলোচনা হবে, সে বিষয়ে তিনি আগাম কিছু বলতে চাইছেন না। বলেছেন, ‘বুধবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক আছে। তবে বৈঠকের আগে কিছু বলতে পারব না। আলোচনা শেষ করে এসে বলব।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিএসইসির চেয়ারম্যানের এই বৈঠকের বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পুঁজিবাজারের নানা বিষয়ে মতভিন্নতা নিয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে বেশ কিছু অমীমাংসিত বিষয়ে ঐকমত্যে আসার কথা জানিয়েছেন বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ।

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনার পদ্ধতি ক্রয়মূল্যে নাকি বাজারমূল্যে হবে- এ নিয়ে বিতর্ক গত এক দশক ধরেই চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী এটি বাজারমূল্যে নির্ধারণ হয়। কিন্তু বিএসইসি চায় ক্রয়মূল্যে।

আইন অনুযায়ী, একটি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তার মোট মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবে না। সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ এটা হবে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ।

শেয়ারের ধারণকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হয় বাজারমূল্যের ভিত্তিতে। আর এখানেই বিপত্তি। ব্যাংক তার বিনিয়োগসীমার মধ্যেই শেয়ার কিনলেও তার দাম বেড়ে গেলে বাজারমূল্যের ভিত্তিকে বিনিয়োগ গণনার কারণে বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে আগেভাগেই। এতে পুঁজিবাজারে বিক্রয় চাপ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বাজারে হচ্ছে দরপতন।

গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে পুঁজিবাজারে উত্থানে সূচক বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। এতে বিনিয়োগকারীরা হাতের হারিয়ে ফেলা টাকা ফিরে পেতে শুরু করেন।

তবে এক দশক পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মূল্যসূচক ৭ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে মূলত ব্যাংকের শেয়ারের বিক্রয় চাপে সূচকের নিম্নগতি দেখা দেয়।

এই সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোকে হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য করেছে। এর ফলে দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হতেই পারছে না পুঁজিবাজার। শেয়ার দর কমে আসায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

বন্ডে বিনিয়োগও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই বিনিয়োগসীমার মধ্যে ধরছে। অথচ বিএসইসি এই বিনিয়োগকে ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখার পক্ষে। তারা বলছে, সারা বিশ্বেই এই বন্ডে বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বাইরে থাকে।

এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাচ্ছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান
পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনার পদ্ধতিসহ নানা বিষয়ে বিকেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে বিএসইসি

সরকার পুঁজিবাজারে বন্ড মার্কেটকে জনপ্রিয় করতে চাইছে। এর অংশ হিসেবে সুকুক বন্ড ছেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা তুলতে অনুমতি দিয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডকে। আকর্ষণীয় মুনাফার এই বন্ডে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করেছে। আর বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করে যায় বলে ব্যাংকগুলো হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছে। যারা করেনি, তাদের জরিমানার শিকার হতে হয়েছে।

এদিক টানা পতনের মুখে অস্থির পুঁজিবাজার নিয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএসইসি। বৈঠকে বহুল আলোচিত এক্সপোজার লিমিট বা ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা ক্রয়মূল্যে বিবেচনার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এক্সপোজার লিমিট নিয়ে আমরা নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছি। আমরা এটা রিভিউ করব। গ্লোবালি এক্সপোজার লিমিট কস্ট প্রাইজের ভিত্তিতে করা হয়। এটি টেকনিক্যাল বিষয়, আরও গভীরভাবে আলোচনা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এটি নিয়ে একটি ব্যাখ্যা দিয়ে স্পষ্ট করা হবে। দাপ্তরিক কিছু কাজ শেষে চূড়ান্ত করে তা জানানো হবে।’

দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিএসইসির চেয়ারম্যানের এই বৈঠকের সময় নির্ধারণের খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

পুঁজিবাজারে বিশ্লেষক ও ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা দেবব্রত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যে বৈঠক হয়েছে, সেটি এই মুহূর্তে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক। আর বিএসইসি পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক। মনে হচ্ছে, দুটির সংস্থার মধ্যে যথেষ্ট সমন্বয়ের অভাব আছে।

‘পুঁজিবাজারে লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ সুরক্ষা দেয়ার জন্য এক্সপোজার লিমিট নিয়ে বিএসইসিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। বিএসইসির একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু পুঁজিবাজার চাঙা করতে হলে বিনিয়োগ সুরক্ষা দিতে হবে, বিএসইসিকেও বাজারবান্ধব সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার দেয়া খুবই জরুরি।’

শেয়ার করুন

ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে: বৈঠকে সিদ্ধান্ত

ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট ক্রয়মূল্যে: বৈঠকে সিদ্ধান্ত

কেন্দ্র্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

এক্সপোজার লিমিট নিয়ে আমরা নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছি। আমরা এটা রিভিউ করব। গ্লোবালি এক্সপোজার লিমিট কস্ট প্রাইজের ভিত্তিতে করা হয়। এটি টেকনিক্যাল বিষয়, আরও গভীরভাবে আলোচনা করতে হবে: বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির আলোচনায় ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনার পদ্ধতি দিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান হতে যাচ্ছে।

আলোচনায় নেতৃত্ব দেয়া পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন, ক্রয়মূল্যে এক্সপোজার লিমিট গণনার বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

মঙ্গলবার বেলা তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যালয়ে বহুল প্রতীক্ষিত এই বৈঠকটি হয়।

এতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে যোগ দেন কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। সঙ্গে ছিলেন নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর এ কে এম সাজেদুর রহমান খান, অফ সাইট সুপারভিশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল ইসলাম।

বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনের বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আজকের আলোচনা খুব ফলপ্রসূ হয়েছে। আমাদের দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে আরও সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে। আমরা নতুন করে আরও কীভাবে সংযোগ বাড়ানো যায় সেই চেষ্টা করছি।’

আজকের আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আলোচনার সবগুলো সব বিষয় নিয়ে পজিটিভ সিদ্ধান্তে আসতে পেরেছি। এর ফলাফল আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আপনারা দেখতে পাবেন।

‘পুঁজিবাজারে এক্সপোজার লিমিট যেন শেয়ারের ক্রয়মূল্যর ভিত্তিতে করা হয় এসব বিষয়সহ শেয়ারবাজাররের স্থিতিশীলতা তহবিল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা একমত হয়েছি। এগুলোর দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ করে বিস্তারিত জানানো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এক্সপোজার লিমিট নিয়ে আমরা নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছি। আমরা এটা রিভিউ করব। গ্লোবালি এক্সপোজার লিমিট কস্ট প্রাইজের ভিত্তিতে করা হয়। এটি টেকনিক্যাল বিষয়, আরও গভীরভাবে আলোচনা করতে হবে।’

পুজিবাজারে সাম্প্রতিক পতনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকার বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা একেবারে অপ্রয়োজনীয় একটি বিষয়। কোনো প্রতিষ্ঠানই অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য দায়ী নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানই অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করার জন্য আগ্রহী নয়। সরকারের সবগুলো প্রতিষ্ঠানই সমান।

‘প্রতিষ্ঠানগুলো পরস্পরকে সহযোগিতা করবে এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। কোনো কোনো পক্ষ হয়তো এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে থাকে, এটি সঠিক নয়।’

পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক যে দরপতন তার সঙ্গে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ির একটি সম্পর্ক রয়েছে।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমা নিয়ে উভয়সংকটে পড়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। একদিকে বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ তহবিলের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে বিশেষ পদ্ধতিতে গণনার কারণে শেয়ার দর বেড়ে গিয়ে বিনিয়োগসীমা পেরিয়ে যাওয়ার কারণে গুনতে হচ্ছে জরিমানা।

আইন অনুযায়ী, একটি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তার মোট মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবে না। সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ এটা হবে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ।

শেয়ারের ধারণকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হয় বাজারমূল্যের ভিত্তিতে। আর এখানেই বিপত্তি। ব্যাংক তার বিনিয়োগসীমার মধ্যেই শেয়ার কিনলেও তার দাম বেড়ে গেলে বাজারমূল্যের ভিত্তিকে বিনিয়োগ গণনার কারণে বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে আগেভাগেই। এতে পুঁজিবাজারে বিক্রয় চাপ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বাজারে হচ্ছে দরপতন।

এমনিতেই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের অভাবে ভুগতে থাকা পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলো নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় গেছে, সেটি বাজারে দরপতনকে ত্বরান্বিত করতে পারে, যেটি দেখা যাচ্ছে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে।

গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে পুঁজিবাজারে উত্থানে সূচক বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। এতে বিনিয়োগকারীরা হাতের হারিয়ে ফেলা টাকা ফিরে পেতে শুরু করে।

তবে এক দশক পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মূল্যসূচক ৭ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে মূলত ব্যাংকের শেয়ারের বিক্রয় চাপে সূচকের নিম্নগতি দেখা দেয়।

এই সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোকে হাতের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য করেছে। এর ফলে দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হতেই পারছে না পুঁজিবাজার। শেয়ার দর কমে আসায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

বন্ডে বিনিয়োগও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই বিনিয়োগসীমার মধ্যে ধরছে। অথচ বিএসইসি এই বিনিয়োগকে ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখার পক্ষে। তারা বলছে, সারা বিশ্বেই এই বন্ডে বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বাইরে থাকে।

সরকার পুঁজিবাজারে বন্ড মার্কেটকে জনপ্রিয় করতে চাইছে। এর অংশ হিসেবে সুকুক বন্ড ছেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা তুলতে অনুমতি দিয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডকে। আকর্ষণীয় মুনাফার এই বন্ডে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করেছে। আর বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করে যায় বলে ব্যাংকগুলো হাতের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছে। যারা করেনি, তাদের জরিমানার শিকার হতে হয়েছে।

বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিএসইসি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। পুজিবাজারের উন্নয়নে দুই প্রতিষ্ঠান একযোগে কাজ করবে। আজকের আলোচনার প্রেক্ষিতে সামনে আরো৷ আলোচনা হবে।’

শেয়ার করুন

এক্সপোজার লিমিট নিয়ে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা, বাস্তবায়ন ধাপে ধাপে

এক্সপোজার লিমিট নিয়ে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা, বাস্তবায়ন ধাপে ধাপে

ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বরছেন বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা, বন্ডে বিনিয়োগ ক্রয়মূল্যে বিবেচনা করা, স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড গতিশীল করাসহ পুঁজিবাজার উন্নয়নে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এই দুই নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের সমন্বতি প্রচেষ্টার সুফল পাবেন ভবিষ্যতে: বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনার সূত্র, বন্ডে বিনিয়োগ পুঁজিবাজারের বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখাসহ সব বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

আলোচনায় বিএসইসির পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেয়া কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বাজারমূল্যের বদলে ক্রয়মূল্যে বিবেচনা, বন্ডে বিনিয়োগ এই বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এর বাস্তবায়ন হবে ধাপে ধাপে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, পুঁজিবাজার উন্নয়নে তারাও বিএসইসিকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে।

পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের মধ্যে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বহুল প্রতীক্ষিত এই বৈঠক শেষে সরাসরি কোনো ঘোষণা অবশ্য আসেনি। জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসির মধ্যে সংযোগ আরও বাড়ানো হবে। দুই পক্ষ পুঁজিবাজারকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে টেলিফোন, ই-মেইল ও সরাসরি আলোচনা করবে।

বেলা তিনটার দিকে এই বৈঠক শুরু হয়। এতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে যোগ দেন কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ। সঙ্গে ছিলেন নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর এ কে এম সাজেদুর রহমান খান, অফ সাইট সুপারভিশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল ইসলাম।

প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন শামসুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা, বন্ডে বিনিয়োগ ক্রয়মূল্যে বিবেচনা করা, স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড গতিশীল করাসহ পুঁজিবাজার উন্নয়নে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এ দুই নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানে সমন্বতি প্রচেষ্টার সুফল পাবেন ভবিষ্যতে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিএসইসি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। পুঁজিবাজারের উন্নয়নে দুই প্রতিষ্ঠান একযোগে কাজ করবে। আজকের আলোচনার প্রেক্ষিতে সামনে আরও আলোচনা হবে।’

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাজার সংশোধনের সময় দরপতন মোটেও অস্বাভাবিক ঠেকেনি। এর কারণ, এক বছরে মূল্য সূচক বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার পর কিছুটা সংশোধন স্বাভাবিক হিসেবেই ধরে নিয়েছিলেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

আশা করা হয়েছিল, সংশোধন শেষে বাজার আবার উত্থানে ফিরবে এবং বিনিয়োগকারীরা তাদের হারানো টাকা ফিরে পাবে। কিন্তু সেটি হয়নি, উল্টো ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির মধ্যে মতভিন্নতার খবর প্রকাশ্যে চলে আসার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়। দিনের পর দিন হতাশা এক পর্যায়ে তৈরি করে আতঙ্ক।

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনা, এই বিনিয়োগসীমায় বন্ডে বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্তি নিয়ে মতভিন্নতা ছাড়াও অবণ্টিত মুনাফায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা আসবে কি না, এ নিয়ে আগে থেকেই টানপড়েনের মধ্যে সম্প্রতি যোগ হয়েছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনাকারী অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির লেনদেনের তথ্য চাওয়া।

সবশেষ এই নির্দেশ আসার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দিয়ে বিএসইসি বলেছে, তারা এভাবে সরাসরি তথ্য চাইতে পারে না। কোনো তথ্য দরকার পড়লে যেন বিএসইসির মাধ্যমে চাওয়া হয়।

এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে তথ্য আসে যে, মতভিন্নতা নিয়ে বৈঠকে বসবে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই সিদ্ধান্ত আসার পর সাপ্তাহিক কর্মদিবস শুক্র ও শনিবার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা আলোচনা-ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের জন্ম নেয়।

কিন্তু কোনো কিছু্ বাজারে চিড় ধরা মনোবল ফেরাতে পারেনি। উল্টো শেয়ার কেনা বন্ধ রেখে কম দামে হলেও শেয়ার বিক্রি করে দিতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। এই বিষয়টি দরপতনকে আরও তরান্বিত করে। যারা লোকসানে শেয়ার বিক্রি করতে রাজি ছিলেন না, তাদের পোর্টফোলিওর আকার দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে।

এর মধ্যে যারা মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ার কিনেছেন, তাদের অবস্থান আরও খারাপ। পুনর্বিনিয়োগ করতে না পারলে শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য হতে থাকেন হাজার হাজার বিনিয়োগকারী।

শেয়ার করুন

বৈঠকের দিন আরও বড় পতনে তীব্র হতাশা

বৈঠকের দিন আরও বড় পতনে তীব্র হতাশা

দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সাড়ে তিন মাস আগের অবস্থানে নেমে দিন শেষে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৭০৩ পয়েন্টে। এর চেয়ে কম সূচক ছিল ১২ আগস্ট। তখন অবস্থান ৬ হাজার ৬৯৯ পয়েন্ট থাকলেও পুঁজিবাজারে হতাশা ছিল না। বরং শেয়ারদর ও লেনদেন ক্রমেই বাড়তে থাকায় বিনিয়োগাকারীরা এক দশকের হতাশা কাটিয়ে আশান্বিত হয়ে উঠতে থাকে।

টানা ছয়দিন দরপতনের পর একদিন সূচক বাড়লেও পরের দিনই আবার সেই হতাশার বৃত্তে পুঁজিবাজার। টানা দরপতনের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠকের দিনও বড় দরপতন দেখল বিনিয়োগকারীরা। এ নিয়ে আট কর্মদিবসের মধ্যে সাত দিনই সূচকের পতন হলো।

বেলা তিনটায় দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী। গত বৃহস্পতিবার এই বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত জানানোর পর থেকেই এক ধরনের আশা নিরাশার দোলাচল তৈরি হয়।

তবে এর মধ্যেও রোববার বড় পতনে তৈরি হয় আতঙ্ক। সেদিন পতন গিয়ে ঠেকে টানা ৬ দিনে। সপ্তম দিন সোমবার বাজার ঘুরে দাঁড়িয়ে উত্থানের ইঙ্গিত দিয়েও ধরে রাখতে পারেনি। এক পর্যায়ে সূচক ৭১ পয়েন্ট বেড়ে শেয়ার কেনাবেচা হতে থাকলেও পরে দিন শেষে ২১ পয়েন্ট বেড়ে শেষ হয় লেনদেন।

মঙ্গলবার বৈঠকের দিন সকালে অল্প কিছু সময়ের জন্য সূচক বেড়ে লেনদেন হতে থাকলেও গত প্রায় আড়াই মাসের এক সাধারণ চিত্রের মতোই অর্ধেক বেলা শেষে পতন দিয়ে শেষ হয় লেনদেন।

দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সাড়ে তিন মাস আগের অবস্থানে নেমে দিন শেষে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৭০৩ পয়েন্টে। আগের দিনের চেয়ে ৯২ পয়েন্ট হারিয়ে গেছে সূচক থেকে।

এর চেয়ে কম সূচক ছিল ১২ আগস্ট। তখন অবস্থান ৬ হাজার ৬৯৯ পয়েন্ট থাকলেও পুঁজিবাজারে হতাশা ছিল না। বরং শেয়ারদর ও লেনদেন ক্রমেই বাড়তে থাকায় বিনিয়োগাকারীরা এক দশকের হতাশা কাটিয়ে আশান্বিত হয়ে উঠতে থাকে।

সূচক কমার দিন লেনদেন কিছুটা বেড়েছে। তিন কর্মদিবস পর আবার তা এক হাজার কোটি টাকার ঘর অতিক্রম করতে পেরেছে। তবে সেটি ক্রয় চাপে নয়, সেটি নিশ্চিত। বিক্রয় চাপ বেশি থাকায় শেয়ারদর পড়ার পর সে সুযোগটি কাজে লাগিয়েছেন ব্যক্তি শ্রেণির বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা।

বৈঠকের দিন আরও বড় পতনে তীব্র হতাশা
যেসব কোম্পানির দরপতনে সূচক কমেছে সবচেয়ে বেশি

আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭০৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা, যা ছিল ১৪৬ কর্মদিবসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

আড়াইর বেশি শেয়ারের দরপতনের দিন ৮০টির মতো কোম্পানির দর বৃদ্ধি হয়েছে। এমন দিনে এমন কোনো খাত ছিল না যার বিনিয়োগকারীরা হাসিমুখে ঘরে ফিরবে। তবে তুলনামূলক কিছুটা স্বস্তিতে ছিল ব্যাংক খাতের শেয়ারধারীরা। যেসব শেয়ার দর হারিয়েছে সেগুলো শতকরা হিসেবে দর হারিয়েছে কমই।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাজার সংশোধনের সময় দরপতন মোটেও অস্বাভাবিক ঠেকেনি। এর কারণ, এক বছরে মূল্য সূচক বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার পর কিছুটা সংশোধন স্বাভাবিক হিসেবেই ধরে নিয়েছিলেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

আশা করা হয়েছিল, সংশোধন শেষে বাজার আবার উত্থানে ফিরবে এবং বিনিয়োগকারীরা তাদের হারানো টাকা ফিরে পাবে। কিন্তু সেটি হয়নি, উল্টো ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির মধ্যে মতভিন্নতার খবর প্রকাশ্যে চলে আসার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়। দিনের পর দিন হতাশা এক পর্যায়ে তৈরি করে আতঙ্ক।

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনা, এই বিনিয়োগসীমায় বন্ডে বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্তি নিয়ে মতভিন্নতা ছাড়াও অবণ্টিত মুনাফায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা আসবে কি না, এ নিয়ে আগে থেকেই টানপড়েনের মধ্যে সম্প্রতি যোগ হয়েছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনাকারী অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির লেনদেনের তথ্য চাওয়া।

সবশেষ এই নির্দেশ আসার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দিয়ে বিএসইসি বলেছে, তারা এভাবে সরাসরি তথ্য চাইতে পারে না। কোনো তথ্য দরকার পড়লে যেন বিএসইসির মাধ্যমে চাওয়া হয়।

এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে তথ্য আসে যে, মতভিন্নতা নিয়ে বৈঠকে বসবে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই সিদ্ধান্ত আসার পর সাপ্তাহিক কর্মদিবস শুক্র ও শনিবার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নানা আলোচনা-ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের জন্ম নেয়।

বৈঠকের দিন আরও বড় পতনে তীব্র হতাশা
এই ১০টি কোম্পানি সূচকে কিছুটা হলেও পয়েন্ট যোগ করেছে

কিন্তু কোনো কিছু্ বাজারে চিড় ধরা মনোবল ফেরাতে পারেনি। উল্টো শেয়ার কেনা বন্ধ রেখে কম দামে হলেও শেয়ার বিক্রি করে দিতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। এই বিষয়টি দরপতনকে আরও তরান্বিত করে। যারা লোকসানে শেয়ার বিক্রি করতে রাজি ছিলেন না, তাদের পোর্টফোলিওর আকার দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। এর মধ্যে যারা মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ার কিনেছেন, তাদের অবস্থান আরও খারাপ। পুনর্বিনিয়োগ করতে না পারলে শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য হতে থাকেন হাজার হাজার বিনিয়োগকারী।

আজকের এই দরপতনে প্রধান ভূমিকা ছিল গ্রামীণ ফোনের। ৩.২২ শতাংশ শেয়ারদর কমায় সূচক থেকে হারিয়ে গেছে ২৩.০৬ পয়েন্ট। গত পাঁচ কর্মদিবসে শেয়ারদর ১০ শতাংশের বেশি পড়ে যাওয়া বহুল আলোচিত বেক্সিমকো লিমিটেডের দর কমায় সূচক কমেছে ৮.৭৭ পয়েন্ট।

৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ, প্রথম প্রান্তিকে অভাবনীয় আয়, মালিকপক্ষের তিন কোটি টাকার শেয়ার কেনার ঘোষণায় শেয়ারদর ১৮৫ টাকা ছাড়িয়ে ২০০ টাকার দিকে ছুটছিল। সেখান থেকে নেমে শেয়ারদর এখন ১৫০ টাকার আশেপাশে। গত ২১ অক্টোবর শেয়ারদর দেড়শ টাকা ছাড়নোর পর এতটা নিচে নামেনি কখনও।

শেয়ারদর দেড়শ টাকা ছাড়ানোর পর এমনও দিন গেছে যেদিন সাড়ে তিনশ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে একটি কোম্পানিরই। দুইশ বা আড়াইশ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে, এমন দিন গেছে অনেক। অর্থাৎ উচ্চমূল্যেই শেয়ার লেনদেন হয়েছে বেশি। এ কারণে এই কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা ভীষণ হতাশ।

একই গ্রুপের আগের কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার দর নেমে এসেছে ২০০ টাকার নিচে। গত ১ সেপ্টেম্বর শেয়ারদর ২০০ টাকার ঘর অতিক্রম করার পর এই প্রথমবার এই ঘটনা ঘটল।

স্কয়ার ফার্মা, রবি, ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানি, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, ইউনাইটেড পাওয়ার, ওয়ালটনের মতো শক্তিশালী মৌলভিত্তির কোম্পানির দরপতনের কারণে সূচক কমেছে সবচেয়ে বেশি। দর কমে ৩০ টাকার নিচে নেমে এসেছে এনআরবিসি।

বৈঠকের দিন আরও বড় পতনে তীব্র হতাশা



এর বিপরীতে যেসব কোম্পানি সূচক বাড়াতে পেরেছে, সেগুলোর সংখ্যা যেমন কম, তেমনি দর বৃদ্ধির হার কম থাকায় সেগুলো সূচকে পয়েন্ট যোগ করতে পেরেছে খুবই কম। সবচেয়ে বেশি সূচক বাড়ানো ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ৮.১৮ শতাংশ বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে কেবল ২.৫২ পয়েন্ট।

সবচেয়ে বেশি সূচক বাড়ানো ১০টি কোম্পানি কেবল গ্রামীণ ফোনের দরপতনজনিত কারণে সূচকের পতনই ঠেকাতে পারেনি।

দর দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানি একমি পেস্ট্রিসাইডস ও সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সকে পেছনে ঠেলে দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছ ওরিয়ন ইনফিউশন। কোম্পানিটির শেয়ারদর আগের দিন ছিল ৮২ টাকা ৫০ পয়সা। ৯.৯৩ শতাংশ বেড়ে উঠে এসেছে ৯০ টাকা ৭০ পয়সায়।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সেনাকল্যাণের শেয়ারদর সর্বোচ্চ পরিমাণ বাড়ল টাকা ১৮ কর্মদিবস। কোম্পানিটির লেনদেন শুরু হয় গত ৭ নভেম্বর। ১০ টাকায় তালিকাভুক্ত হয়ে দাম উঠেছে ৫৪ টাকা ২০ পয়সা। তবে এখনও বলার মতো শেয়ার লেনদেন হয়নি। আজই সর্বোচ্চ সংখ্যক ৭৪ হাজার ৭৪৫টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

তৃতীয় অবস্থানে ছিল গত ১৪ নভেম্বর তালিকাভুক্ত একটি পেস্ট্রিসাইডস। টানা ১৩ কর্মদিবস শেয়ারদর যত বাড়া সম্ভব, বাড়ল ততটাই। গত তিন কর্মদিবস ধরে লেনদেনের গতিও বেশ ভালো।

আজ ৯.৭০ শতাংশ বেড়ে দাম দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা ৯০ পয়সা। হাতবদল হয়েছে ১৯ লাখ ৫১ হাজার ২২২টি শেয়ার।

আগের দুই দিন হাতবদল হয় যথাক্রমে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭১৬ টি ও ৯ লাখ ২৬ হাজার ৩০৩টি শেয়ার।

বৈঠকের দিন আরও বড় পতনে তীব্র হতাশা



চতুর্থ অবস্থানে ছিল বিমা খাতের ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স, যার দর বেড়েছে ৮.১৮ শতাংশ। এ ছাড়া রেনউইক যগেশ্বরের দর ৬.৪০ তাংশ, ওয়ান ব্যাংকের দর ৬.৩৪ শতাংশ, মনস্পুল পেপারের দর ৬.০৭ শতাংশ বেড়েছে।

শীর্ষ দশের অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে এনভয় টেক্সটাইলের দর ৫.৫০ শতাংশ, আমান কটনের দর ৫.১০ শতাংশ এবং ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টের দর বেড়েছে ৪.৯৯ শতাংশ।

এ ছাড়া আরও ৫টি কোম্পানির দর ৪ শতাংশের বেশি, ৩টি কোম্পানির ৩ শতাংশের বেশি, ৭টি কোম্পানির ২ শতাংশের বেশি, ২৯টি কোম্পানির দর ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

দরপতনের শীর্ষ ১০

এই তালিকায় শীর্ষে ছিল আরামিট সিমেন্ট, যার দর কমেছে ৯.৮৯ শতাংশ। কোম্পানিটি বেশ কয়েক বছর পর মুনাফায় ফিরলেও লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর থেকেই দর হারাচ্ছে। সবশেষ দর দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা ৭০ পয়সা।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এইচ আর টেক্সটাইল দর হারিয়েছেন ৮.৪০ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ব্যাংক খাতের এনআরবিসির দর কমেছে ৬.৪৭ শতাংশ। চতুর্থ অবস্থানে থাকা সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্সের দর কমেছে ৬.৪১ শতাংশ, পঞ্চম স্থানে থাকা ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স দর হারিয়েছে ৬.০২ শতাংশ।

এছাড়া সুঋদ ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৫.০৩ শতাংশ, জেনারেশন নেক্সটের দর ৪.৯২ শতাংশ, জেনেক্স ইনফোসিসের দর ৪.৯১ শতাংশ, শাহজিবাজার পাওয়ারের দর ৪.৮২ শতাংশ এবং মিথুন নিটিংয়ের দর কমেছে ৪.৭৬ শতাংশ।

আরও ৬টি কোম্পানি ৪ শতাংশের বেশি, ৩৩টি কোম্পানি ৩ শতাংশের বেশি, ৫৯টি কোম্পানি ২ শতাংশের বেশি, এবং ৯৪টি কোম্পানি ১ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে দর হারিয়েছে।

লেনদেনের শীর্ষ ১০

সম্প্রতি তুমুল আলোচিত ওয়ান ব্যাংক উঠে এসেছে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে। যে কোম্পানিটিতে এক মাস আগেও দিনে ১০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হতো না, সেই কোম্পানিতে হাতবদল হয়েছে ১৮৯ কোটি ৯৪ লাখ টাকার। হাতবদল হয়েছে মোট ৯ কোটি ৪ লাখ ৬ হাজার শেয়ার।

টানা পাঁচ দিন দরপতন হওয়া বেক্সিমকো লিমিটেড ছিল লেনদেনের দ্বিতীয় অবস্থানে। হাতবদল হয়েছে মোট ৯৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা। লেনদেন হয়েছে ৬৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮৩১ টি শেয়ার।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা বেক্সিমকো ফার্মায় লেনদেন হয়েছে ৪৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

কোম্পানিগুলোর মধ্যে আছে আইএফআইসি ব্যাংক, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, স্কয়ার ফার্মা, ওরিয়ন ফার্মা, ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানি জেনেক্স ইনফোসিস ও ফরচুর সুজ।

এই ১০টি কোম্পানিতেই হাতবদল হয়েছে ৫৮৬ কোটি ৬৮ লাখ ২ হাজার টাকা, যা মোট লেনদেনের ৫১.৫৪ শতাংশ।

শেয়ার করুন

পতন থামলেও হারিয়েছে শেয়ার কেনার আগ্রহ

পতন থামলেও হারিয়েছে শেয়ার কেনার আগ্রহ

আড়াই মাসেরও বেশি সময় ধরে মন্দাভাবের কারণে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নাভিশ্বাস উঠেছে। ফাইল ছবি

১৪৬ কর্মদিবসের সর্বনিম্ন লেনদেন হলো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে। হাতবদল হয় ৭০৮ কোটি ১৮ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। এর চেয়ে কম লেনদেন হয় গত ১৯ এপ্রিল। সেদিন হাতবদল হয় ৬৯৭ কোটি ২৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বসার দুই দিন আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠকের পর দিন পুঁজিবাজারে পতন থেমেছে। তবে লেনদেনের পৌনে দুই ঘণ্টায় সূচক যতটা বেড়ে লেনদেন হচ্ছিল, দিন শেষে সেখান থেকে অনেকটাই কমেছে।

বাজার নিয়ে আস্থাহীনতার কারণে নতুন বিনিয়োগে যেতে চাইছেন না বিনিয়োগকারীরা। বরং হাতে থাকা শেয়ারের দর আরও কমে যাবে, এই আশঙ্কায় কম দামে হলেও ছেড়ে দিতে চাইছে বহুজন। এই অবস্থায় লেনদেন একেবারে তলানিতে নেমেছে।

মাস তিনেক আগে এক ঘণ্টায় যতটুকু লেনদেন হতো, সারা দিনে সাড়ে চার ঘণ্টাতেও অতটা লেনদেন দেখা যায়নি।

দিন শেষে লেনদেন কোনো রকমে সাতশ কোটির ঘর অতিক্রম করে। হাতবদল হয় ৭০৮ কোটি ১৮ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।

১৪৬ কর্মদিবসের মধ্যে সবচেয়ে কম লেনদেন দেখল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। এর চেয়ে কম লেনদেন হয় গত ১৯ এপ্রিল। সেদিন হাতবদল হয় ৬৯৭ কোটি ২৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।

সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবস সোমবার আড়াইশর বেশি কোম্পানির শেয়ারদর বাড়লেও সূচকে অতটা প্রভাব পড়েনি মূলত বেক্সিমকো গ্রুপের কারণে। গ্রুপের দুই প্রধান কোম্পানি বেক্সিমকো লিমিটেড ও বেক্সিমকো ফার্মার টানা দরপতনে সূচক থেকে কমে গেছে ১০ পয়েন্ট। এই দুটি কোম্পানি ছাড়া দর হারানো অন্য কোম্পানিগুলো সূচক সেভাবে কমাতে পারেনি।

বিপরীতে ব্যাংক ও আর্থিক খাত, প্রকৌশল, খাদ্য বিমা, ওষুধ ও রসায়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির দর বৃদ্ধির কারণে টানা ছয় কর্মদিবস পর অবশেষে থামল পুঁজিবাজারের দরপতন।

পতন থামলেও হারিয়েছে শেয়ার কেনার আগ্রহ
ছয় কর্মদিবস পর সূচক বাড়লেও লেনদেনের এই চিত্র বিনিয়োগকারীদেরকে স্বস্তি দেবে না

গত সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস ২১ নভেম্বর থেকে শুরু হয় সূচকের টানা পতন। এ নিয়ে ছয় দিনেই সূচক পড়ল ৩১৮ পয়েন্ট।

এর আগে গত ১৬ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ছয় দিন পতন হয় ৬ কর্মদিবস।

গত দুই বছরে এর চেয়ে বেশি পতন চলতি বছরের ১০ থেকে ১৯ অক্টোবর দেখা দিয়েছিল। সে সময় টানা সাত কর্মদিবস সূচক পড়ে ৩৪৭ পয়েন্ট।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া দর সংশোধনের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ কিছু পদক্ষেপ বাজারে অর্থপ্রবাহ কমিয়ে দিয়েছে। ব্যাংকগুলোতে তাদের বিনিয়োগের তথ্য প্রতিদিন জানানোর নির্দেশ দেয়া ছাড়াও শেয়ার মূল্য বেড়ে যাওয়ার পর বিনিয়োগসীমা এক দিনের জন্য অতিক্রম করে যাওয়ার পর বেশ কিছু ব্যাংককে জরিমানা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংক বন্ডে যে বিনিয়োগ করবে, তা তার বিনিয়োগসীমার মধ্যে হবে।

এর মধ্যে মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনা করা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির লেনদেনের তথ্যও প্রতিদিন জানানোর আদেশ এসেছে, যে আদেশ আসার পর বিএসইসি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দিয়ে বলেছে, এটা তারা পারে না।

ওয়ান ব্যাংকের লভ্যাংশ ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে মতভিন্নতা ছিল আগে থেকেই। সেই সঙ্গে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা ক্রয়মূল্য নাকি বাজারমূল্যে হবে- এ নিয়ে মতপার্থক্য প্রায় এক দশক ধরেই। বাজারমূল্য বিনিয়োগসীমা নির্ধারণ করায় পুঁজিবাজারে অযাচিত ক্রয়চাপ তৈরি হয় আর গত মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে দুই পক্ষের বৈঠক শেষে বিএসইসি জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্রয়মূল্যে বিনিয়োগসীমা নির্ধারণে রাজি হয়েছে। কিন্তু আট মাসেও সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপে পুঁজিবাজারে অর্থপ্রবাহ কমে আসার পর গত বৃহস্পতিবার দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়। আগমী মঙ্গলবার এই বৈঠক হবে, এমন খবর আসার পরও রোববার বড় দরপতনে দেখা দেয় আতঙ্ক।

সেই সন্ধ্যাতেই বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম দেখা করেন অর্থ সচিবের কাছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানা পদক্ষেপের বিষয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন। বন্ডে বিনিয়োগ যেন পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমার বাইরে থাকে, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলাদাভাবে বসতে মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেন তিনি।

এই বৈঠকের খবর গণমাধ্যমে আসার পর সোমবার সূচক বেড়েই শুরু হয় লেনদেন। বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে আগের দিনের তুলনায় ৭১ পয়েন্ট বেড়ে লেনদেন হচ্ছিল। তখন মনে হচ্ছিল, আগের ছয় দিনের চাপ থেকে বুঝি মুক্তি মিলবে। কিন্তু শেয়ারদর বেড়ে যাওয়ার পর বিক্রয় চাপ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে বেলা ২টা ৭ মিনিটে সূচক দিনের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ৬৫ পয়েন্ট কমে লেনদেন হতে থাকে।

সে সময় সূচক আগের দিনের চেয়ে বেশি ছিল কেবল ৫ পয়েন্ট। আশঙ্কা করা হচ্ছিল, পতনে টানা সাত দিনের পতনের বেদনাদায়ক স্মৃতি বুঝি আবার ফিরে আসে। তবে দিন শেষে সেখান থেকে কিছুটা বেড়ে লেনদেন শেষ হয় ৬ হাজার ৭৯৫ পয়েন্টে, যা আগের দিনের চেয়ে ২১ পয়েন্ট বেশি।

সূচকে সবচেয়ে বেশি প্রভাব যেসব কোম্পানির

সূচক বাড়ানোয় প্রধান ভূমিকায় ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অফ বাংলাদেশ বা আইসিবি। শেয়ারদর ৩.৩৬ শতাংশ বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ৪.৭ পয়েন্ট।

ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারদর ২.২৩ শতাংশ বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ২.১৩ পয়েন্ট, আইএফআইসি ব্যাংকের দর ২.২৩ শতাংশ বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ১.০৯ পয়েন্ট।

পতন থামলেও হারিয়েছে শেয়ার কেনার আগ্রহ
এই ১০টি কোম্পানির দর বাড়ার কারণে সূচকে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট যোগ হয়েছে

এছাড়া লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, ইউনাইটেড পাওয়ার, পাওয়ারগ্রিড, ইসলামী ব্যাংক, জেনেক্স ইনফোসিস, আইপিডিসি ও পূবালী ব্যাংকের শেয়ারদর বাড়ায় সূচকে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট যোগ হয়েছে।

এই ১০টি কোম্পানির কারণে সূচক বেড়েছে ১১.৪০ পয়েন্ট।

বিপরীতে কেবল বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারদর ২.৭৬ শতাংশ কমার কারণে সূচক পড়েছে ৫.০৪ পয়েন্ট। একই গ্রুপের আরেক কোম্পানি বেক্মিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের দর ২.৫৮ শতাংশ কমায় সূচক কমেছে ৩.০২ পয়েন্ট।

রেনাটা, গ্রামীণ ফোন, বিকন ফার্মা, মবিল যমুনা, মেঘটা পেট্রলিয়াম, সোনালী পেপার ও ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানি শেয়ারের দর কমার কারণেও সূচক থেকে কমেছে কিছু পয়েন্ট।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানির কারণে সূচক কমেছে ১১.৮৯ পয়েন্ট।

পতন থামলেও হারিয়েছে শেয়ার কেনার আগ্রহ
সূচক সবচেয়ে বেশি কমিয়েছে বেক্সিমকো গ্রুপের দুই কোম্পানি

দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানি একমি পেস্ট্রিসাইডস ও সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্স আবারও দর বৃদ্ধির শীর্ষ দুই কোম্পানি হিসেবে উঠে এসেছে।

গত ১৪ নভেম্বর তালিকাভুক্ত হওয়ার পর টানা ১২ কর্মদিবস শেয়ারদর যত বাড়া সম্ভব, বাড়ল ততটাই। গত দুই কর্মদিবস ধরে লেনদেনের গতি বেশ ভালো।

আগের দিন প্রথমবারের মতো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শেয়ার লেনদেন হয়। সেদিন হাতবদল হয় ২ লাখ ২৪ হাজার ৭১৬ টি শেয়ার। এবার আরও বেড়ে লেনদেন হয়েছে ৯ লাখ ২৬ হাজার ৩০৩টি।

দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সেনাকল্যাণের শেয়ারদর সর্বোচ্চ পরিমাণ বাড়ল টাকা ১৭ কর্মদিবস। কোম্পানিটির লেনদেন শুরু হয় গত ৭ নভেম্বর। ১০ টাকায় তালিকাভুক্ত হয়ে দাম উঠেছে ৪৯ টাকা ৩০ পয়সা। তবে এখনও বলার মতো শেয়ার লেনদেন হয়নি। আজই সর্বোচ্চ সংখ্যক ৪২ হাজার ৯০৭টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা একটিভ ফাইন কেমিক্যালসের দর বেড়েছে ৯.৬৭ শতাংশ। পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করার পর ফ্যামিলি টেক্স উঠে এসেছে সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানির চতুর্থ স্থানে। আগের দিন শেয়ারদর ছিল ৪ টাকা ৪০ পয়সা। বাড়ার সুযোগ ছিল ৪০ পয়সা। বেড়েছেও তা। শতকরা হিসেবে বেড়েছে ৯.০৯ শতাংশ।

পতন থামলেও হারিয়েছে শেয়ার কেনার আগ্রহ

বস্ত্র খাতেরই আরেক কোম্পানি জেনারেশন নেক্সটের দর ৮.৯২ শতাংশ, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের এএফসি অ্যাগ্রোর দর ৮.৭৫ শতাংশ, দেশবন্ধু পলিমানের দর ৮.৭১ শতাংশ, শ্যামপুর সুগারের দর ৮.১০ শতাংশ আর সালভো ক্যামিকেলের দর বেড়েছে ৭.৭১ শতাংশ।

সব মিলিয়ে ৯ শতাংশের বেশি শেয়ারদর বেড়েছে ৪টি কোম্পানির, ৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে আরও ৪টির দর।

এ ছাড়া ২টি কোম্পানির দর ৭ শতাংশের বেশি, ৩টি কোম্পানির ৫ শতাংশের বেশি, ৫টি কোম্পানির ৪ শতাংশের বেশি, ১৩টি কোম্পানির দর ৩ শতাংশের বেশি, ৫৬টি কোম্পানির দর বেড়েছে ২ শতাংশের বেশি।

দরপতনের শীর্ষ ১০

এই তালিকায় শীর্ষে ছিল এমারেল্ড অয়েল যার দর কমেছে ৩.৯২ শতাংশ। চার বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ কোম্পানিটি সম্প্রতি উৎপাদনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। এই উৎপাদন শুরুর ঘোষণা ছিল গত ১ সেপ্টেম্বর থেকেই। তবে নানা জটিলতায় তা করা যায়নি।

এ কারণে শেয়ারদর ৪৪ টাকা থেকে কমে ৩১ টাকায় নেমে এসেছিল। সম্প্রতি গণমাধ্যমের খবরে এসেছে যে, আগের মালিকের শেয়ার হস্তান্তরসহ নানা জটিলতার অবসান হয়েছে। এই খবরে শেয়ারদর ৩১ টাকা থেকে বেড়ে আবার ৩৬ টাকা হয়ে যায়। তবে আজ কিছুটা কমে দাম দাঁড়িয়েছে ৩৪ টাকা ৩০ পয়সা।

পতন থামলেও হারিয়েছে শেয়ার কেনার আগ্রহ

লোকসানে থেকেও শেয়ার প্রতি ১০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা বিচ হ্যাচারির দর কমেছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩.৭৪ শতাংশ।

এছাড়া সুঋদ ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৩.৬৩ শতাংশ, আমামিট সিমেন্টের দর ৩.৬০ শতাংশ, দেশ গার্মেন্টসের দর ২.৯৯ শতাংশ, কুইন সাউথ টেক্সটাইলের দর ২.৯৭ শতাংশ, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের দর ২.৭৬ শতাংশ, বেক্সিমকো লিমিটেডের দর ২.৭৫ শতাংশ, বেক্সিমকো ফার্মার দর ২.৫৭ শতাংশ ও ইনডেক্স অ্যাগ্রোর দর কমে ২.০৪ শতাংশ।

লেনদেনের শীর্ষ ১০

টানা চার কর্মদিবস দরপতন হওয়া বেক্সিমকো লিমিটেড লেনদেনের শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে। তবে কিছুদিন আগে নিয়মিত দুই থেকে তিনশ কোটি টাকার বেশি টাকার শেয়ার হাতবদল হলেও তা নেমে এসেছে একশ কোটি টাকার নিচে। হাতবদল হয়েছে ৮৩ কোটি ৩৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।

লেনদেনের দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল জেনেক্স ইনফোসিস, যার ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ ২৫ হাজার টাকার শেয়ার হাতবদল হয়।

বেক্সিমকো ফার্মা, ব্র্যাক ব্যাংক, ডেল্টা লাইফ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, আইএফআইসি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, ফরচুন সুজ ও এএফসি অ্যাগ্রো ছিল সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া ১০টি কোম্পানি।

এই ১০টি কোম্পানিতেই হাতবদল হয়েছে৩২৫ কোটি ৯২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, যা মোট লেনদেনের ৪৬.০২ শতাংশ।

সব মিলিয়ে শীর্ষ ২০ কোম্পানিতে লেনদেন হয়েছে ৪০৭ কোটি ৫৯ লাখ ৬৭ হাজার টাকা, যা মোট লেনদেনের ৫৭.৫৫ শতাংশ।

শেয়ার করুন

ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিটের বাইরে থাকতে পারে বন্ড

ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিটের বাইরে থাকতে পারে বন্ড

বিএসইসি কমিশনার অধ্যাপক শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের খুবই ভালো মিটিং হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে কিছু জিজ্ঞাসা ছিল, আমরা সেগুলোর উত্তর দিয়েছি। একইভাবে আমাদের কিছু বিষয় জানার ছিল, সেগুলোও আমরা জানার চেষ্টা করেছি।’

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট গণনার যে সূত্র প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা পাল্টানোর সম্ভাবনা কম। তবে বন্ডে বিনিয়োগ এই সীমার বাইরে রাখার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রাজি করানোর নানা চেষ্টা করছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। দুই সংস্থার মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগেই যে আলোচনা হয়েছে, তাতে বিএসইসি ধারণা করছে, তাদের এই উদ্যোগ ফলপ্রসূ হতে যাচ্ছে।

পুঁজিবাজারে ক্রমাগত দরপতনের মধ্যে মঙ্গলবার দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকের দুই দিন আগে বিএসইসির কর্মকর্তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ে গিয়েও তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। বন্ডে বিনিয়োগ সারা বিশ্বেই ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিটের বাইরে থাকে- এই বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে এসেছে বিএসইসি।

এ ছাড়া এক্সপোজার লিমিট গণনা ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রাজি করাতে মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়ে এসেছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদসহ আরও কয়েকজন।

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ চৌধুরী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সেলিম উল্লাহ।

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেয়া হয় বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

প্রায় এক যুগের মন্দাভাব কাটিয়ে গত বছরের মে মাস থেকে পুঁজিবাজারে উত্থান শুরু হয়। গত সেপ্টেম্বরে সূচক ৭ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়ে যাওয়ার পর তৈরি হয় নতুন আশাবাদ।

কিন্তু এই পর্যায়ে এসে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কিছু পদক্ষেপ পুঁজিবাজারে অর্থপ্রবাহ কমিয়ে দেয়। আইন অনুযায়ী, একটি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তার মোট মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবে না। আর শেয়ারের ধারণকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হয় বাজারমূল্যের ভিত্তিতে। আর এখানেই বিপত্তি।

ব্যাংক তার বিনিয়োগসীমার মধ্যেই শেয়ার কিনলেও তার দাম বেড়ে গেলে বাজারমূল্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগ গণনার কারণে বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে আগেভাগেই। এতে পুঁজিবাজারে বিক্রয় চাপ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বাজারে হচ্ছে দরপতন।

এর মধ্যে আবার বন্ডের বিনিয়োগও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই বিনিয়োগসীমার মধ্যে ধরছে। অথচ বিএসইসি এই বিনিয়োগকে ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখার পক্ষে। তারা বলছে, সারা বিশ্বেই এই বন্ডে বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বাইরে থাকে।

সরকার পুঁজিবাজারে বন্ড মার্কেটকে জনপ্রিয় করতে চাইছে। এর অংশ হিসেবে সুকুক বন্ড ছেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা তুলতে অনুমতি দিয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডকে। আকর্ষণীয় মুনাফার এই বন্ডে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করেছে। আর বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করে যায় বলে ব্যাংকগুলো হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছে।

এই দুটি বিষয় ছাড়াও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসির মধ্যে আরও বেশ কিছু বিষয়ে মতভিন্নতা আছে। এর মধ্যে সম্প্রতি মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনা করা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির কাছে প্রতিদিনের শেয়ার কেনাবেচার তথ্য চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিএসইসি মনে করছে, এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের এখতিয়ারবহির্ভূত কাজ।

এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বৈঠক ডাকার পর রোববার পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার যে আশা করা হচ্ছিল, সেটি হয়নি। আগের পাঁচ কর্মদিবসের মতোই পতন হয়েছে সূচকের। লেনদেন নেমে এসেছে সাত মাসের আগের অবস্থানে। সূচক নেমেছে তিন মাসের আগের অবস্থানে।

বাজারে দরপতনের পর বিকেলে বিএসইসির প্রতিনিধিদল যায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। সরকারের কাছে তুলে ধরে তাদের বক্তব্য।

বিএসইসি কমিশনার অধ্যাপক শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের খুবই ভালো মিটিং হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে কিছু জিজ্ঞাসা ছিল, আমরা সেগুলোর উত্তর দিয়েছি। একইভাবে আমাদের কিছু বিষয় জানার ছিল, সেগুলোও আমরা জানার চেষ্টা করেছি।’

বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘পুঁজিবাজারে বন্ডের বিনিয়োগ যাতে ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিটের বাইরে থাকে, সে বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এর আগেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসি এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে।’

জানতে চাইলে বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করব। আশা করি, তারা পুঁজিবাজারের স্বার্থে বিষয়টি বিবেচনা করবে।’

তিনি জানান, আগামী মঙ্গলবার বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকটি হবে বেলা ৩টায়।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক দেবব্রত কুমার সরকার এ বিষয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক্সপোজার লিমিটের কারণেই পুঁজিবাজারে ব্যাংকের মতো বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগে আসতে পারছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির আলোচনায় এ বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত।’

তবে তিনি কিছু বিধিনিষেধের পক্ষেও। বলেন, ‘ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর যেহেতু প্রচুর বিনিয়োগ সক্ষমতা আছে, তাই তাদের ইচ্ছামতো বিনিয়োগ করতে দেয়া উচিত হবে না। তারা বিনিয়োগ করবে মুনাফার জন্য। বড় বিনিয়োগে বড় মুনাফা হবে। সাধারণ বিনিয়োগকারী যাতে এমন বিনিয়োগে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

শেয়ার করুন

শেয়ারে দেড় টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা বিকনের

শেয়ারে দেড় টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা বিকনের

বিকন ফার্মার কারখানায় কাজ করছেন এক কর্মী। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত বিকনের শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৩ টাকা ৭৪ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৬৫ পয়সা। ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এবারও সবচেয়ে বেশি আয় করে সবচেয়ে বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।

আগের বছরের তুলনায় বেশি আয় করে লভ্যাংশও বাড়িয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ অর্থাৎ শেয়ার প্রতি দেড় টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। আগের বছর লভ্যাংশ ছিল ৬ শতাংশ নগদ বা শেয়ার প্রতি ৬০ পয়সা।

রোববার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত বিকনের শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৩ টাকা ৭৪ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৬৫ পয়সা।

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এবারও সবচেয়ে বেশি আয় করে সবচেয়ে বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।

তবে গত দুই বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর যত বেড়েছে, সে তুলনায় আয় ততটা বেড়েছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে।

গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৬৬ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৪৯ টাকায় উঠেছিল। পরে কিছুটা কমলেও এখনও তা ২২৭ টাকা ৭০ পয়সা।

শেয়ারে দেড় টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা বিকনের
বিকন ফার্মার আয় ও লভ্যাংশ সংক্রান্ত ঘোষণা

শেয়ারদর এভাবে বাড়ার বিষয়টি স্বাভাবিক ঠেকেনি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কাছে। গত আগস্টে যে ৯টি কোম্পানির অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি নিয়ে তদন্তের আদেশ এসেছিল, তার একটি ছিল বিকন ফার্মা। তদন্তে কী জানা গিয়েছে, তা অবশ্য প্রকাশ হয়নি।

বিকনের শেয়ারদর কেবল গত এক বছর ধরে বাড়ছে এমন নয়, ২০১৯ সালের শুরুর দিকে শেয়ারদর ছিল ২০ টাকার ঘরে। আর গত দুই বছরে সর্বনিম্ন দর ছিল ৩৪ টাকা ৯০ পয়সা।

কোম্পানিটির আয় শতকরা হিসেবে দ্বিগুণ হলেও সম্পদমূল্য সেভাবে বাড়েনি। গত ৩০ জুন একেকটি শেয়ারের বিপরীতে সম্পদ ছিল ২৩ টাকা ১৮ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে শেয়ারপ্রতি সম্পদ ছিল ২০ টাকা ৪ পয়সার।

কোম্পানিটির লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ঠিক করা হয়েছে আগামী ২০ ডিসেম্বর। অর্থাৎ, যারা লভ্যাংশ নিতে চান, তাদেরকে সেদিন শেয়ার ধরে রাখতে হবে। লভ্যাংশ চূড়ান্ত করতে বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম ডাকা হয়েছে আগামী ২৯ ডিসেম্বর।

শেয়ার করুন