চলতি মাসেই স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা

চলতি মাসেই স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা

১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেশে দেড় কোটি।

শিক্ষার্থীদের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজারের টিকা দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই টিকার ৬০ লাখ ডোজ সরকারের হাতে রয়েছে। এখান থেকে ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে দুই ডোজ টিকা দেয়ার কাজ সম্পন্ন হবে।

করোনার সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিতে এ মাসের মধ্যে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানের একটি হোটেলে জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষামূলক টিকা দেয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজারের টিকা দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই টিকার ৬০ লাখ ডোজ সরকারের হাতে রয়েছে। এখান থেকে ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে দুই ডোজ টিকা দেয়ার কাজ সম্পন্ন হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের তালিকা আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। তালিকা পেলে চলতি মাসেই তাদের টিকা দেয়া শুরু হবে।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের স্কুলশিক্ষার্থীর সংখ্যা দেড় কোটির মতো। তাদের টিকা দেয়ার প্রস্তুতি আমাদের আছে। আমাদের হাতে ফাইজারের টিকাও আছে। নতুন করে ৭২ ও ৯০ লাখ টিকার দুটি চালান শিগগিরই আসবে।’

জাহিদ মালেক জানান, দেশের মানুষকে করোনার সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে ইতোমধ্যেই ২১ কোটি ডোজ টিকা কেনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সব মিলিয়ে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এ মাসে প্রায় তিন কোটি টিকা দিতে পারব। টিকাদান কর্মসূচি চলমান থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ শতাংশ মানুষ টিকার আওতায় আসবে।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘কিছুদিন আগেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা বলেছে, আমরা টিকা কর্মসূচিতে ভালো করছি। আমরা বলেছিলাম আমাদের টিকা বাড়িয়ে দেয়ার জন্য। তারাও সম্মতি দিয়েছে।’

আরও পড়ুন:
সারা দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাউশি
আগামী সপ্তাহে শুরু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকাদান
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে প্রজন্ম মূর্খ হবে’
টিকা দিয়েই খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খালেদার রক্তক্ষরণ আপাতত বন্ধ: চিকিৎসক

খালেদার রক্তক্ষরণ আপাতত বন্ধ: চিকিৎসক

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

মেডিক্যাল বোর্ডের এক চিকিৎসক বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শরীরিরের অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। রক্তক্ষরণ আপাতত বন্ধ হয়েছে। ওষুধ প্রয়োগের কারণে খালেদা জিয়ার রক্তক্ষরণ সাময়িক বন্ধ হয়েছে। উনার পুনরায় যেন রক্তক্ষরণ না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ দেয়া হচ্ছে।’

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রধান অসুখ পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের এক সদস্য।

মেডিক্যাল বোর্ডের ওই সদস্য রোববার সকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার শরীরিরের অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। রক্তক্ষরণ আপাতত বন্ধ হয়েছে। ওষুধ প্রয়োগের কারণে খালেদা জিয়ার রক্তক্ষরণ সাময়িক বন্ধ হয়েছে। উনার পুনরায় যেন রক্তক্ষরণ না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ দেয়া হচ্ছে।’

প্রতিদিনের মতো গতকাল শনিবার বিকেলে খালেদার স্বাস্থ্যর বিষয় নিয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠক হয়েছে। মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ কয়েকজন চিকিৎসক বৈঠকে অংশ নেন। আজ বিকেলেও মেডিক্যাল বোর্ডের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

গতকাল বৈঠক থেকে নতুন করে কয়েকটি স্বাস্থ্যের পরীক্ষা দেয়া হয়েছে বলে জানান ওই চিকিৎসক।

তিনি বলেন, ‘খালেজা জিয়ার শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক আছে। ইনসুলিন দিয়ে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। এখন রক্তের হিমোগ্লোবিন ৮ দশমিক ৫০ আছে।’

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, বাসার তৈরি খাবার খাচ্ছেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

শারীরিক নানা জটিলতা নিয়ে ১৩ নভেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে।

তার শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের কথা বলা হয়। এমনকি তিনি চরম সঙ্কটাপন্ন দাবি করে তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার দাবি তুলে দলটি।

তখন থেকে বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার দাবিতে বেশ কিছু কর্মসূচি পালন করে আসছে।

আরও পড়ুন:
সারা দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাউশি
আগামী সপ্তাহে শুরু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকাদান
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে প্রজন্ম মূর্খ হবে’
টিকা দিয়েই খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন

চাকরির পিছে না ছুটে উদ্যোক্তা হোন: তরুণদের প্রধানমন্ত্রী

চাকরির পিছে না ছুটে উদ্যোক্তা হোন: তরুণদের প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় এসএমই পণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: টিভি ফুটেজ থেকে নেয়া

তরুণদেরকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজে কাজ করবেন, অন্যকে কাজের সুযোগ দেবেন, চাকরির সুযোগ দেবেন, নিজেরা উদ্যোক্তা হবেন। সেই উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি, সব ধরনের ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।’

পড়াশোনা শেষে চাকরির পিছে না ছুটে তরুণদেরকে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক্ষেত্রে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দেবেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

শিল্প মন্ত্রণালয় ও এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কেন্দ্রে নবম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

দেশের তরুণদের জন্য সরকারের নানা কর্মসূচির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘উদ্যোক্তা হতে চাইল যে কেউ হতে পারে। শুধুমাত্র একটা পাস করে চাকরি পেছনে না ছুটে নিজেরা উদ্যোক্তা হওয়া এবং নিজেরা অন্যকে চাকরি দেয়া, তরুণ সমাজের কাছে আমার এটাই থাকবে আবেদন।’

তরুণদেরকে উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা নিয়ে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিজে কাজ করবেন, অন্যকে কাজের সুযোগ দেবেন, চাকরির সুযোগ দেবেন, নিজেরা উদ্যোক্তা হবেন। সেই উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি, সব ধরনের ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।’

নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপে কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। আগামীতে দেশে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা আরও বাড়বে বলেও আশা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আমি অবশ্য আমাদের পুরুষ সমাজকে একটু পরামর্শ দিতে পারি। আপনারাও ব্যবসা করেন। তা আপনাদের স্ত্রীর নামে যদি আপনারা এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে ঋণ নিয়ে থাকেন তাকেও একটু কাজ করার সুযোগ করে দেন। তাহলে সংসারের সঙ্গে সঙ্গে মেয়েরাও কিন্তু সেই ধরনের শিল্পায়নও করতে পারবে। তাতে উদ্যোক্তাও সৃষ্টি হবে। সেই সুযোগটা আপনারা দিয়েন, অন্তত বাধা দিয়েন না।’

তিনি বলেন, ‘এসএমই ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যে সারা দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ১৭৭টি ক্লাস্টার চিহ্নিত করেছে। ক্লাস্টারসহ সারা দেশে রয়েছে ৭৮ লাখ এসএমই শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এক্ষেত্রে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নতুন করে একজন মানুষের কাজের ব্যবস্থা হলেও কমপক্ষে ৭৮ লাখ বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।’

‘যত্রতত্র শিল্প নয়’

এসএমই ক্লাস্টারের উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার দেয়ার আশ্বাস দিলেও যেখানে সেখানে শিল্প করা যাবে না বলে সতর্ক করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যত্রতত্র কিন্তু শিল্প করা যাবে না। এটা বাস্তব। কারণ আমরা চাই আমাদের কৃষি জমি রক্ষা করতে। খাদ্য চাহিদা কখনও কমবে না, কারণ দিনের পর দিন বাড়বে। কোভিড-১৯ এর পর এই চাহিদা আরও বেড়েছে। অনেক উন্নত দেশ এখন খাদ্য সংকটে ভুগছে। আল্লাহর রহমতে আমাদের সেই সমস্যাটা নাই। করোনা দেখা দিল যখন তখন থেকেই আমি একটা নির্দেশ দিয়েছিলাম, যেভাবেই খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। সেরকম আমরা ব্যবস্থাও নিয়েছি।’

দেশের ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির বিষয়টি সামনে এনে সরকারপ্রধান বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট জায়গায় সেই শিল্পটা গড়ে তোলা, যাতে করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাটাও ঠিক থাকে, পরিবেশ ঠিক থাকে, পরিবেশ যেন নষ্ট না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। তাই আমি বলব, যত্রতত্র না করে ক্ষুদ্র বা কুটির শিল্প তো নিজেরাই করতে পারেন।’

এসএমই ফাউন্ডেশনেরও এ বিষয়ে ভূমিকা নেয়ার সুযোগ আছে বলে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে আমি এই ফাউন্ডেশনকে অনুরোধ করব, আপনারা এই ব্যাপারটায় একটু বিশেষভাবে দৃষ্টি দেবেন। কেউ যদি উদ্যোক্তা হতে চায় তাহলে সে কোথায় কাজগুলো করতে পারে সুনির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করে দেয়া, নিজের ঘরে বা জমিতে যদি করে, সেখানেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বাজারজাত কীভাবে করবে সেগুলো ভালোভাবে দেখতে হবে।’

কৃষি প্রক্রিয়াজাত ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অঞ্চলভিত্তিক আমাদের কিছু পণ্য উৎপাদন হয়। কৃষি ছাড়াও অন্য যেসব পণ্য উৎপাদন হয় সেগুলোকেও কাজে লাগানো। তারই ভিত্তিতে ওইসব অঞ্চলে শিল্প গড়ে তোলা যাতে কাঁচা পণ্যটা আমরা নিজেদের দেশ থেকে আহরণ করতে পারি। সেদিকেও বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব শতবর্ষের মধ্যে শতভাগ মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা জায়গায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাটা যদি ঠিক থাকে, তাহলে সেখানে পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কোনো সমস্যা হয় না। আমরা সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিচ্ছি।’

৭৫ পরবর্তী দীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে অন্য খাতগুলোর মতো এসএমই খাতকেও সরকার গুরুত্ব দিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশে যেন শিল্পায়নটা হয়, একটা জায়গার মধ্যে না, তার জন্য ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। আমাদের লক্ষ্য দেশটাকে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে, শিল্পখাতের উন্নয়ন করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য দারিদ্র বিমোচন, মানুষের আয় বৃদ্ধি করা, দারিদ্রের হাত থেকে এ দেশের মানুষকে মুক্ত করা। পাশাপাশি আমাদের নারী সমাজ, তারাও যেন অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে আমরা আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।’

অনুষ্ঠানে বর্ষসেরা চার উদ্যোক্তাকে দেয়া হয় সম্মাননা। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা (নারী) বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন হুমায়রা মুস্তফা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা (পুরুষ) বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন নাজমুল ইসলাম এবং সৈয়দ মো. শোয়াইব হাসান। আর মাঝারি উদ্যোক্তা (পুরুষ) শাখায় সম্মাননা গেছে মো. আজিজুল হকের হাতে।

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুন বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

আরও পড়ুন:
সারা দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাউশি
আগামী সপ্তাহে শুরু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকাদান
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে প্রজন্ম মূর্খ হবে’
টিকা দিয়েই খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন

শক্তি হারিয়ে ‘জাওয়াদ’ এখন গভীর নিম্নচাপ, ঝরাবে বৃষ্টি

শক্তি হারিয়ে ‘জাওয়াদ’ এখন গভীর নিম্নচাপ, ঝরাবে বৃষ্টি

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে পটুয়াখালীতে শনিবার থেকে হচ্ছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। ছবি: নিউজবাংলা

গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল রয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’ তার শক্তি ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছে। এরইমধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।

রোববার সকালে জাওয়াদ আরও শক্তি হারিয়েছে বলে জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর ফলে উপকূলীয় এলাকায় মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলেও জানায় অধিদপ্তর।

ঘূর্ণিঝড়টি দুপুরের দিকে ভারতের পুরীর স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। অবশ্য শক্তি হারানোয় প্রচুর মেঘমালা তৈরি হয়েছে, যা বৃষ্টি আকারে ঝড়ে পড়বে বলে জানানো হয়েছে।

রোববার দুপুরের দিকে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে দেয়া বিশেষ এক বুলেটিনে বলা হয়, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় (১৮.২° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৫.০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে।

এটি রোববার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ- দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে বলে বুলেটিনে জানায় অধিদপ্তর।

গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছে সাগর উত্তাল রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গভীর নিম্নচাপটির অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চরণশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে এবং বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে এবং পরে কোনো নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সারা দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাউশি
আগামী সপ্তাহে শুরু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকাদান
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে প্রজন্ম মূর্খ হবে’
টিকা দিয়েই খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন

শর্তে চট্টগ্রামেও শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া

শর্তে চট্টগ্রামেও শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া

বাসে হাফ ভাড়ার দাবিতে টানা আন্দোলন করেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি

সড়ক অবরোধ করে ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে গত ৩০ নভেম্বর রাজধানীতে বাসে শর্তসাপেক্ষে হাফ ভাড়া নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবহন মালিক সমিতি। ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অন্য শহরগুলোতেও বাসে হাফ ভাড়ার দাবি জানায়। তাদের এ দাবির মধ্যেই চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার পর চট্টগ্রামেও বাসে হাফ ভাড়া নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। এ ক্ষেত্রে কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

হাফ ভাড়ার এ সিদ্ধান্ত ১১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

চট্টগ্রাম থেকে মোবাইলে নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ।

এর আগে রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সিদ্ধান্তের কথা জানান মহাসচিব।

সড়ক অবরোধ করে ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে গত ৩০ নভেম্বর রাজধানীতে বাসে শর্তসাপেক্ষে হাফ ভাড়া নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবহন মালিক সমিতি।

ওই দিন এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানিয়েছিলেন এনায়েত উল্যাহ।

পরিবহন মালিক সমিতির এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অন্য শহরগুলোতেও বাসে হাফ ভাড়ার দাবি জানায়। তাদের এ দাবির মধ্যেই চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ঢাকায় যেসব শর্ত দেয়া হয়েছিল

শিক্ষার্থীদের জন্য বাস ভাড়া অর্ধেক করার বিষয়টি নিয়ে নভেম্বরের শেষ দিন রাজধানীর বাংলামোটরে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন সংগঠনটির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ।

তিনি জানান, হাফ ভাড়া কার্যকরে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, ‘সবদিক আলাপ-আলোচনা করে আমরা স্থির করেছি, ছাত্রদের যে দাবি, সেই দাবির প্রতি আমরা সমর্থন জানিয়ে সেই দাবি কার্যকর করার জন্য। আগামীকালকে থেকে, ১ ডিসেম্বর থেকে, ছাত্রদের বাসে হাফ ভাড়া কার্যকর করা হবে।’

ওই সময় কয়েকটি শর্তের কথাও উল্লেখ করেন এনায়েত উল্যাহ। শর্তগুলো হলো:

১. ঢাকার বাইরে হাফ ভাড়া নেয়া হবে না।

২. হাফ ভাড়া দেয়ার সময় অবশ্যই শিক্ষার্থীদের স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছবিযুক্ত আইডি কার্ড দেখাতে হবে।

৩. সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হাফ ভাড়া কার্যকর থাকবে।

৪. সরকারি ছুটির দিন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মৌসুমি ছুটিসহ অন্যান্য ছুটির সময় ছাত্রদের হাফ ভাড়া কার্যকর হবে না।

আরও পড়ুন:
সারা দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাউশি
আগামী সপ্তাহে শুরু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকাদান
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে প্রজন্ম মূর্খ হবে’
টিকা দিয়েই খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন

অর্থপাচার: ৪৩ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের তালিকা হাইকোর্টে

অর্থপাচার: ৪৩ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের তালিকা হাইকোর্টে

বিদেশে পাচার করা অর্থ উদ্ধারের যথাযথ পদক্ষেপ চেয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী। তারই ধারাবাহিকতায় এবার হাইকোর্টে অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তালিকা জমা দিলো দুদক।

অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত এমন ১৪ প্রতিষ্ঠান ও ২৯ ব্যক্তির তালিকা হাইকোর্টে জমা দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এ বিষয়ে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল ইসলামের বেঞ্চে শুনানি হবে।

সংবাদমাধ্যম, প্যারাডাইস পেপারস, পানামা পেপারসসহ বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িতদের নাম সংগ্রহ করেছে দুদক।

তালিকায় থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো হলো

মাল্টিমোড লিমিটেডের আবদুল আউয়াল মিন্টু ও তার স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়াল এবং তাদের সন্তান তাবিথ আউয়াল, তাফসির আউয়াল ও তাজওয়ার মো. আউয়াল, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মোগল ফরিদা ওয়াই ও শহিদ উল্লাহ, ঢাকার বনানীর চৌধুরী ফয়সাল, বারিধারার আহমাদ সামির, ব্রামার অ্যান্ড পার্টনার্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, ভেনাস ওভারসিজ কোং-এর মুসা বিন শমসের।

আরও আছেন ডাইনামিক এনার্জির ফজলে এলাহী, ইন্ট্রিপিড গ্রুপের কেএইচ আসাদুল ইসলাম, খালেদা শিপিং কোম্পানির জুলফিকার আহমেদ, নারায়ণগঞ্জের জেমিকো ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের তাজুল ইসলাম তাজুল, চট্টগ্রামের বেঙ্গল শিপিং লাইনসের মোহাম্মদ মালেক, ঢাকার সাউদার্ন আইস শিপিং কোম্পানির শাহনাজ হুদা রাজ্জাক, ওসান আইস শিপিং কোম্পানির ইমরান রহমান, শামস শিপিং লিমিটিডের মোহাম্মদ এ আউয়াল।

অর্থ পাচারের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আছে ঢাকার উত্তরার এরিক জনসন আনড্রেস উইলসন, ইন্ট্রিডিপ গ্রুপের ফারহান ইয়াকুবুর রহমান, জেমিকো ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের তাজুল ইসলাম, পদ্মা টেক্সটাইলের আমানুল্লাহ চাগলা, রাশিয়ার নিউটেকনোলজি ইনভেস্টমেন্টের মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান, মাল্টার মোহাম্মদ রেজাউল হক, নারায়ণগঞ্জের জেমিকো ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মোহাম্মদ কামাল ভূঁইয়া, তুহিন-সুমন, সেলকন শিপিং কোম্পানির মাহতাবা রহমান, নারায়ণগঞ্জের জেমিকো ট্রেড ইন্টান্যাশনালের ফারুক পালওয়ান ও আয়ারল্যান্ডের গ্লোবাল এডুকেশন সিস্টেমের মাহমুদ হোসাইনের নাম।

এছাড়া আছে বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী, সেতু করপোরেশনের চেয়ারম্যান উম্মে রুবানা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, ঢাকার আজমত মঈন, সালমা হক, এসএম জোবায়দুল হক, ড. সৈয়দ সিরাজুল হক, শরীফ জহির, তারিক ইকরামুল হক, ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা, প্রতিষ্ঠানটির তিন পরিচালক খন্দকার মঈনুল আহসান শামীম, আহমেদ ইসমাইল হোসেন এবং আখতার মাহমুদের নাম।

কর ফাঁকি দিয়ে নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়া, আইন অমান্য করে দেশের টাকা বিদেশে পাচার ও অবৈধ আয়ে বৈধ ক্ষমতার মালিক হওয়া নিয়ে ২০১৬ সালের এপ্রিলে পানামা পেপারস নামে দুর্নীতির সংবাদ আসে বিশ্ব গণমাধ্যমে।

বিশ্বের সাবেক ও বর্তমান শতাধিক রাষ্ট্রনায়ক ও রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, খেলোয়াড়, অভিনেতা, শিল্পী অনেকের নাম ছিল এ তালিকায়।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে দুদক প্রথম পর্বে ৪৩ ব্যক্তি ও ২টি প্রতিষ্ঠান এবং দ্বিতীয় পর্বে ১৮ ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানসহ মোট ৬১ ব্যক্তি এবং ৭টি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায়।

বিদেশে পাচার করা অর্থ উদ্ধারের যথাযথ পদক্ষেপ চেয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম খান ও সুবীর নন্দী দাস।

ওই রিটের শুনানি শেষে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রুলসহ আদেশ দেয় হাইকোর্ট। তারই ধারাবাহিকতায় এবার হাইকোর্টে অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তালিকা জমা দিলো দুদক।

আরও পড়ুন:
সারা দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাউশি
আগামী সপ্তাহে শুরু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকাদান
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে প্রজন্ম মূর্খ হবে’
টিকা দিয়েই খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন

দুই সন্তানকে ফিরে পেতে জাপানি মায়ের আপিল

দুই সন্তানকে ফিরে পেতে জাপানি মায়ের আপিল

বাংলাদেশি বাবা ও জাপানি মায়ের দুই শিশু। ফাইল ছবি

এর আগে ২১ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ে দুই সন্তানকে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পাননি জাপানি মা। রায়ে বলা হয়, সন্তানরা থাকবে বাবার কাছে। তবে তাদের মা বছরে তিন মাস বাংলাদেশে এসে ১০ দিন করে তাদের নিজের কাছে রাখতে পারবেন।

দুই সন্তান ফিরে পেতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন জাপানি মা নাকানো এরিকো।

আপিলের বিষয়টি রোববার সকালে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন এরিকোর আইনজীবী শিশির মনির।

এর আগে ২১ নভেম্বর হাইকোর্টের রায়ে দুই সন্তানকে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পাননি জাপানি মা। রায়ে বলা হয়, সন্তানরা থাকবে বাবার কাছে। তবে তাদের মা বছরে তিন মাস বাংলাদেশে এসে ১০ দিন করে তাদের নিজের কাছে রাখতে পারবেন।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দিয়েছিল।

রায় ব্যাখ্যা করে আদালত বলে, যেহেতু মা জাপানি নাগরিক, সেখানে তার বসবাস ও কর্মস্থল, সে কারণে তিনি তার সুবিধামতো সময়ে বাংলাদেশে এসে শিশুদের সঙ্গে প্রতিবার কমপক্ষে ১০ দিন একান্তে সময় কাটাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে বছরে তিনবার বাংলাদেশে তার যাওয়া আসাসহ ১০ দিন অবস্থানের যাবতীয় খরচ শিশু দুটির বাবাকে বহন করতে হবে।

আদালতের আদেশে আরও বলা হয়, অতিরিক্ত সময়ে যাওয়া-আসা বা বাংলাদেশে অবস্থানের খরচ মা বহন করবেন। এ ছাড়া বাবা মাসে কমপক্ষে দুবার ছুটির দিন শিশুসন্তানদের ভিডিও কলে মায়ের সঙ্গে কথা বলার ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন।

গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে অবস্থান ও যাতায়াত বাবদ মাকে ১০ লাখ টাকা দিতে বাবাকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী সাত দিনের মধ্যে এই টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, রিটটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো পক্ষ কর্তৃক আদালতের আদেশ প্রতিপালিত না হলে বা অন্যকোনো আদেশের প্রয়োজনে তারা আদালতে আসতে পারবেন।

আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্মকর্তা শিশুদের দেখভাল অব্যাহত রাখবেন। প্রতি তিন মাস পর পর শিশুদের বিষয়ে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার বরাবর প্রতিবেদন দেবেন।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবেক স্বামী শরীফ ইমরানের কাছ থেকে নিজের দুই সন্তানকে ফিরে পেতে জাপানি নাগরিক চিকিৎসক নাকানো এরিকো হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের শুনানি শেষে দুই সন্তানকে ৩১ আগস্ট হাজির করতে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট।

পাশাপাশি জাপানি আইন ভঙ্গ করে সন্তান নিয়ে আসা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে আদালত। ওই রিটের দীর্ঘ শুনানি শেষে রায় দিয়েছিল হাইকোর্ট।

২০০৮ সালের ১১ জুলাই জাপানের এরিকো ও বাংলাদেশি আমেরিকান শরীফ ইমরান জাপানি আইন অনুযায়ী বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা টোকিওতে বসবাস শুরু করেন। তাদের ১২ বছরের সংসারে তিন মেয়েসন্তানের জন্ম দেন এরিকো। তারা হলো জেসমিন মালিকা, লাইলা লিনা ও সানিয়া হেনা।

এরিকো পেশায় একজন চিকিৎসক। মালিকা, লিনা ও হেনা টোকিওর চফো সিটিতে আমেরিকান স্কুল ইন জাপানের (এএসআইজে) শিক্ষার্থী ছিল।

চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি শরীফ ইমরান বিয়েবিচ্ছেদের (ডিভোর্স) আবেদন করেন। ২১ জানুয়ারি ইমরান এএসআইজে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে তার মেয়ে জেসমিন মালিকাকে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করেন।

স্কুল কর্তৃপক্ষ এরিকোর সম্মতি না থাকায় তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। পরে ইমরান তার মেয়ে জেসমিন ও লিনাকে স্কুলবাসে বাড়ি ফেরার পথে বাসস্টপ থেকে অন্য একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান।

২৫ জানুয়ারি ইমরান তার আইনজীবীর মাধ্যমে এরিকোর কাছে তার সন্তানদের পাসপোর্ট হস্তান্তরের আবেদন করেন। এরিকো তা প্রত্যাখ্যান করেন।

এরপর ২৮ জানুয়ারি এরিকো টোকিওর পারিবারিক আদালতে তার সন্তানদের জিম্মার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চেয়ে মামলা করেন। আদালত ৭, ১১ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শিশুদের সঙ্গে পারিবারিকভাবে সাক্ষাতের আদেশ দেয়। ইমরান আদালতের আদেশ ভঙ্গ করে মাত্র একবার মায়ের সঙ্গে দুই মেয়ের সাক্ষাতের সুযোগ দেন।

এরিকোর অভিযোগ, গত ৯ ফেব্রুয়ারি মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ইমরান তার মেয়েদের জন্য নতুন পাসপোর্টের আবেদন করেন এবং গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন পাসপোর্ট নেন। গত ২১ ফেব্রুয়ারি ইমরান তার দুই মেয়ে জেসমিন ও লাইলাকে নিয়ে দুবাই হয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন।

আরও পড়ুন:
সারা দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাউশি
আগামী সপ্তাহে শুরু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকাদান
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে প্রজন্ম মূর্খ হবে’
টিকা দিয়েই খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন

এএসপি নিয়োগে পরিবর্তন আসবে: আইজিপি

এএসপি নিয়োগে পরিবর্তন আসবে: আইজিপি

বাংলাদেশ পুলিশ ও টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের যৌথ কর্মশালায় বক্তব্য রাখছেন আইজিপি বেনজীর আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

আইজিপি জানান, প্রায় ৪০ বছর পর কনস্টেবল নিয়োগে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় সহকারী পুলিশ সুপার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কনস্টেবল, সাব-ইন্সপেক্টর ও সার্জেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এসেছে। এবার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছেন আইজিপি বেনজীর আহমেদ।

শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ পুলিশ ও টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের যৌথ আয়োজনে পরিবর্তীত পদ্ধতিতে বাংলাদেশ পুলিশের ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগ সম্পর্কিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

আইজিপি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হবে। বাংলাদেশ পুলিশকে উন্নত দেশের উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কনস্টেবল, সাব-ইন্সপেক্টর ও সার্জেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া সংশোধনের মধ্য দিয়ে এ পরিবর্তনের সূচনা করা হয়েছে।’

তিনি জানান, প্রায় ৪০ বছর পর কনস্টেবল নিয়োগে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় সহকারী পুলিশ সুপার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সম্প্রতি নতুন পদ্ধতিতে সম্পন্ন হওয়া কনস্টেবল নিয়োগ প্রসঙ্গে দেশের জনগণকে নিশ্চয়তা দিয়ে তিনি বলেন, কনস্টেবল পদে জব মার্কেট থেকে ‘বেস্ট অব দ্য বেস্ট’ প্রার্থী নিয়োগে আমরা সক্ষম হয়েছি। আমরা মেধার পাশাপাশি শারীরিকভাবে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করছি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে মানুষ এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন দেখবে।

বাংলাদেশ পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার জন্য টেলিটক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে আইজিপি বলেন, ‘ভবিষ্যতেও টেলিটকের সঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ পুলিশ আগ্রহী।’

ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব বলেন, ‘সরকারি সংস্থা টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড বাংলাদেশ পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থেকে স্বচ্ছ নিয়োগে অবদান রাখছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে টেলিটক বিভিন্ন সরকারি সেবা স্বল্প খরচে সহজে জনগণের মাঝে পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।’

শনিবারের কর্মশালা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যুক্ত কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘টেলিটক পুলিশের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যুক্ত থেকে স্বচ্ছ নিয়োগে অবদান রাখছে।’

কর্মশালায় বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সহকারী পুলিশ সুপার থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন সব রেঞ্জ ডিআইজি এবং জেলার পুলিশ সুপাররাও।

আরও পড়ুন:
সারা দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাউশি
আগামী সপ্তাহে শুরু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকাদান
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে প্রজন্ম মূর্খ হবে’
টিকা দিয়েই খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন