পীরগঞ্জে সহিংসতা: ৩৭ আসামি রিমান্ডে

player
পীরগঞ্জে সহিংসতা: ৩৭ আসামি রিমান্ডে

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত রোববার রাতে পীরগঞ্জে রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২৩টি বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬০টি পরিবার।

রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দুপাড়ায় সহিংসতার ঘটনায় ৩৭ আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

পীরগঞ্জ আমলি আদালতে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ৩৮ আসামিকে তোলা হলে ৩৭ জনকে রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দেন বিচারক ফজলে এলাহী খান।

বয়স ১৮-এর কম হওয়ায় এক আসামিকে শিশু আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে আসামিদের সাত দিনের রিমান্ডে পেতে আবেদন করে পুলিশ। সেই সঙ্গে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিনের আবেদনও করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের সাধারণ নিবন্ধক (জিআরও) শহিদুর রহমান।

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত রোববার রাতে পীরগঞ্জে রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২৩টি বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬০টি পরিবার।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে দুটি মামলা করেন পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেন। এর মধ্যে একটি মামলা হয়েছে হিন্দুদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটের ঘটনায়। এতে ৪১ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় অনেককে আসামি করা হয়েছে।

আরেকটি মামলায় একজনকে আসামি করে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার আসামি তার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেলার সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান বলেন, বুধবার রাতে পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক সুপথ হালদার আরেকটি মামলা করেছেন এ ঘটনায়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা নতুন মামলায় আসামি করা হয়েছে দুজনকে।

আল আমিন ও উজ্জল হাসান নামে ওই দুজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লার ঘটনার হোতা মোবাইল ব্যবহার করছেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পূজামণ্ডপে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
বাংলাদেশ সকল ধর্মের, সকল বর্ণের: প্রধানমন্ত্রী
পীরগঞ্জে সহিংসতায় আরও এক মামলা
কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না

শেয়ার করুন

মন্তব্য

টেক্সাসে জিম্মিকারী ব্রিটিশ নাগরিক

টেক্সাসে জিম্মিকারী ব্রিটিশ নাগরিক

ইহুদি উপাসনালয় ঘিরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ। ছবি: এএফপি

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, টেক্সাসে ব্রিটিশ নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়ে অবগত তারা। তিনি কে বা কেন প্রার্থনাকারীদের জিম্মি করেছেন, তা নিশ্চিত নয় লন্ডন।   

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ইহুদি উপাসনালয়ে চারজনকে জিম্মি করা ব্যক্তি ব্রিটিশ নাগরিক। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সেখানে বলা হয়েছে, টেক্সাসে ব্রিটিশ নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়ে অবগত তারা। তিনি কে বা কেন প্রার্থনাকারীদের জিম্মি করেছেন, তা নিশ্চিত নয় লন্ডন।

ডালাসের কোলিভিলের স্থানীয় সময় শনিবার বেলা ১১টার দিকে কংগ্রেগেসন বেথ ইসরায়েল সিনাগগে প্রার্থনা চলার সময় এক ব্যক্তি চারজনকে জিম্মি করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন উপসনালয়ের ধর্মগুরুও (রাবাই)।

ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচারিত ওই প্রার্থনার মধ্যে এক ব্যক্তির উচ্চস্বরে কথা বলতে শুনতে পাওয়া যায়। তিনি বলতে থাকেন, ‘ফোনে আমার বোনের সঙ্গে কথা বলিয়ে দাও। আমি মারা যাব।’

তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘আমেরিকা কিছু ভুল করেছে।’

এর পর পরই লাইভ ফিড বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। স্থানীয়দের নিরাপদে সরিয়ে নেন তারা। এরপর থেমে থেমে বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। চলে সমঝোতার চেষ্টাও।

৬ ঘণ্টা পর একজনকে ছেড়ে দেন জিম্মিকারী। এর কয়েক ঘণ্টা পর বাকিদেরও মুক্ত করে দেয়া হয়। তারা সবাই অক্ষত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি আফিয়া সিদ্দিকি নামে এক পাকিস্তানি স্নায়ুবিজ্ঞানীর মুক্তি দাবি করেন। আফগানিস্তানে নিরাপত্তা হেফাজতে থাকাকালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের হত্যাচেষ্টার দায়ে ৮৬ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন আফিয়া। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে আছেন।

এর আগে ২০১২ সালে সিরিয়ায় অপহৃত এক আমেরিকান সাংবাদিকের বিনিময়ে আফিয়ার মুক্তি দাবি করেছিল আইএস।

এদিকে আফিয়ার আইনজীবী সিএনএন জানান, ওই ব্রিটিশ জিম্মিকারী আফিয়ার ভাই নয়। আফিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে এই জিম্মির ঘটনার নিন্দা জানানো হয়েছে। তারা এ ঘটনাকে জঘন্য বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন।

টেক্সাসের বাসিন্দা ভিক্টোরিয়া ফ্রান্সিস বন্ধ হওয়ায় আগ পর্যন্ত লাইভ স্ট্রিমিং দেখেছিলেন। অ্যাসোসিয়েট প্রেসকে তিনি বলেন, ‘ওই ব্যক্তি আমেরিকাকে নিয়ে মন্তব্য করছিলেন। তার কাছে বোমা আছে বলেও ঘোষণা দিয়েছিলেন।’

আরও পড়ুন:
কুমিল্লার ঘটনার হোতা মোবাইল ব্যবহার করছেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পূজামণ্ডপে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
বাংলাদেশ সকল ধর্মের, সকল বর্ণের: প্রধানমন্ত্রী
পীরগঞ্জে সহিংসতায় আরও এক মামলা
কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না

শেয়ার করুন

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

আন্দোলনরত শাবি শিক্ষার্থীদের হটিয়ে দিতে ক্যাম্পাসে পুলিশের অ্যাকশন। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীদের সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এ কথা জানিয়েছেন।

তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও এর জেরে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষের পর সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে রোববার রাতে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, যার পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছিলেন সেই প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজা পদত্যাগ করেছেন। তার পরিবর্তে বেগম সিরাজুন্নেসা হলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নাজিয়া চৌধুরীকে।

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা হলেও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম চলবে বলে জানান উপাচার্য।

এদিকে, উপাচার্যের এই ঘোষণার পর ফের বিক্ষোভ শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। হল ছাড়বে না বলে ঘোষণা দিয়ে বঙ্গবন্ধু, শাহপরান ও সৈয়দ মুজতবা আলী হলের ছাত্ররা মিছিল করেছে।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্র শাকিল আহমদ জানান, হঠাৎ করে উপাচার্যের এই সিদ্ধান্ত এসেছে। এটা মেনে নেয়া সম্ভব না। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিতে হবে। শিক্ষার্থীরা হল খালি করবে না।

সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান খান বলেন, ‘অনির্দিষ্টকালের বন্ধের কারণে আমরা বিপাকে পড়েছি। হুট করে ১২টার মধ্যে কোথায় যাব? করোনার কারণে এমনিতেই আমাদের শিক্ষাজীবন সংকটে। এখন হল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের কারণে আরও সমস্যায় পড়ব।’

ওই হলের প্রভোস্ট সামিউল ইসলাম জানান, এটা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত; তাদের কিছু করার নেই।

সিদ্ধান্ত না মেনে কোনো শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

প্রাধ্যক্ষ জাফরিনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা হলের ছাত্রীরা বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে তারা সরে যান। দাবি পূরণ না হওয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক আটকে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন।

মধ্যরাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সরে গেলেও রোববার সকাল থেকে ফের শুরু হয় তাদের বিক্ষোভ। তাতে যোগ দেন সহপাঠীরাও।

বেলা ৩টার দিকে নিজ কার্যালয় থেকে বের হয়ে বাসভবনের দিকে যাওয়ার পথে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান আন্দোলনকারী ছাত্রীরা। এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উপাচার্যকে ঘেরাও করে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় আইআইসিটি ভবনে গিয়ে অবস্থান নেন উপাচার্য ফরিদ।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

বিকেল ৪টার দিকে সেখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম ও অন্য শিক্ষকরা গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেন।

উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন।

এর মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের আইআইসিটি ভবন থেকে হটিয়ে উপাচার্যকে বের করে তার বাসভবনে নিয়ে যায় পুলিশ।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ জানান, পুলিশের গুলিতে অধ্যাপক জহির গুলিবিদ্ধ হননি। ওই গুলি কারা ছুড়েছে তা তিনি জানেন না। তাকে মাউন্ড এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক নারী কনস্টেবলও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ইটের আঘাতে তিনিও আহত হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলমগীর কবীর জানান, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় শিক্ষক, পুলিশ ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছেন। তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রক্টর আরও জানান, গুলিবিদ্ধ অধ্যাপক জহিরকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি শঙ্কামুক্ত।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লার ঘটনার হোতা মোবাইল ব্যবহার করছেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পূজামণ্ডপে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
বাংলাদেশ সকল ধর্মের, সকল বর্ণের: প্রধানমন্ত্রী
পীরগঞ্জে সহিংসতায় আরও এক মামলা
কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না

শেয়ার করুন

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ‘ভিসির নির্দেশে’

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ‘ভিসির নির্দেশে’

ক্যাম্পাসের ফটক তালাবদ্ধ করে বাইরে শাবি শিক্ষার্থীদের অবস্থান। ছবি: নিউজবাংলা

আন্দোলনকারী ছাত্র সাত্তার আহমদ বলেন, ‘পুলিশ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা করেছে। ছাত্রীদের মারধর করেছে। গুলি ছুড়েছে। ভিসির নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এর বিচার চাই আমরা।’

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর উপাচার্যের নির্দেশে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।

ক্যাম্পাসে পুলিশ-শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলা প্রায় ৩০ মিনিটের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গুলির ঘটনার পর রোববার সন্ধ্যায় ফটকে তালা ঝুলিয়ে বাইরে অবস্থান নিয়ে রেখেছেন তারা। উপাচার্য ও পুলিশের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিচ্ছেন।

ক্ষুদ্ধ ছাত্র সাত্তার আহমদ বলেন, ‘পুলিশ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা করেছে। ছাত্রীদের মারধর করেছে। গুলি ছুড়েছে।
ভিসির নির্দেশেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এর বিচার চাই আমরা।’

তিনি জানান, তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

শিক্ষার্থীরা ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিলেও ভেতরে অবস্থান নিয়ে রেখেছে পুলিশ; আছেন সংবাদমাধ্যম কর্মীরাও।

এই বিষয়ে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সন্ধ্যায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ জানান, উপাচার্যের বাসভবনে চলছে জরুরি সিন্ডিকেট সভা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করতে গিয়েছিলাম। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমরা আলোচনার চেষ্টা করি, কিন্তু তারা আমাদের উপর ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করে। এ কারণে পুলিশ বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ করে এবং সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে।’

এর আগে সন্ধ্যায় গুলি ছোড়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করলেও রাতে জানান, পুলিশ ২১টি সাউন্ড গ্রেনেড ও ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়েছে।

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ‘ভিসির নির্দেশে’

প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা হলের ছাত্রীরা বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে তারা সরে যান। দাবি পূরণ না হওয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় ফের বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন।

মধ্যরাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সরে গেলেও রোববার সকাল থেকে ফের শুরু হয় তাদের বিক্ষোভ। তাতে যোগ দেয় সহপাঠীরাও।

বেলা ৩টার দিকে নিজ কার্যালয় থেকে বের হয়ে বাসভবনের দিকে যাওয়ার পথে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান আন্দোলনকারী ছাত্রীরা। এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উপাচার্যকে ঘেরাও করে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়ায় আইআইসিটি ভবনে গিয়ে অবস্থান নেন উপাচার্য ফরিদ।

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ‘ভিসির নির্দেশে’

ভবনের বাইরে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি।

বিকেল ৪টার দিকে সেখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম ও অন্য শিক্ষকরা গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেন।

উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়া হয়। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন।

এর মধ্যেই বিক্ষোভকারীদের আইআইসিটি ভবন থেকে হটিয়ে উপাচার্যকে বের করে তার বাসভবনে নিয়ে যায় পুলিশ।

শাবি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ‘ভিসির নির্দেশে’

মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ সে সময় জানান, পুলিশের গুলিতে অধ্যাপক জহির গুলিবিদ্ধ হননি। ওই গুলি কারা ছুড়েছে তা তিনি জানেন না। তাকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক নারী কনস্টেবলও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ইটের আঘাতে তিনিও আহত হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলমগীর কবীর জানান, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় শিক্ষক, পুলিশ ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছে। তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রক্টর আরও জানান, গুলিবিদ্ধ অধ্যাপক জহিরকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি শঙ্কামুক্ত।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লার ঘটনার হোতা মোবাইল ব্যবহার করছেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পূজামণ্ডপে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
বাংলাদেশ সকল ধর্মের, সকল বর্ণের: প্রধানমন্ত্রী
পীরগঞ্জে সহিংসতায় আরও এক মামলা
কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না

শেয়ার করুন

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে শাবি রণক্ষেত্র, শিক্ষক গুলিবিদ্ধ

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে শাবি রণক্ষেত্র, শিক্ষক গুলিবিদ্ধ

শাবির আইসিটি ভবনের সামনে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের হটাতে পুলিশের অ্যাকশন। ছবি: নিউজবাংলা

আইআইসিটি ভবনের সামনে রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। একপর্যায়ে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়া হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবন থেকে হটিয়ে উপাচার্যকে মুক্ত করেছে পুলিশ।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ, পুলিশ ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৪০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলে এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে শাবি রণক্ষেত্র, শিক্ষক গুলিবিদ্ধ

আইআইসিটি ভবনের সামনে রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। একপর্যায়ে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

এর মধ্যেই সন্ধ্যা ৬টার দিকে আইআইসিটি ভবনের গেটের তালা ভেঙে পুলিশ ভেতরে গিয়ে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে বের করে তার বাসভবনের দিকে নিয়ে যায়।

কিছুক্ষণ পর অ্যাম্বুলেন্সে করে আহত অন্তত পাঁচজনকে হাসপাতালে নিতে দেখা গেছে।

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে শাবি রণক্ষেত্র, শিক্ষক গুলিবিদ্ধ

সন্ধ্যা সোয়া ৬টা নাগাদ পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়েন পুলিশ সদস্যরা। বিক্ষোভকারীরা সরে গেলেও ক্যাম্পাসজুড়ে পরিস্থিতি থমথমে।

মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আজবাহার আলী শেখ জানান, তিনিসহ পুলিশের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। কোষাধ্যক্ষও আহত হন।

আন্দোলনকারী কয়েকজন প্রতিবেদককে জানান, তাদের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

অধ্যাপক জহিরের বিষয়ে উপকমিশনার বলেন, পুলিশের গুলিতে তিনি গুলিবিদ্ধ হননি। ওই গুলি কারা ছুড়েছে তা তিনি জানেন না। অধ্যাপককে মাউন্ড এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক নারী কনস্টেবলও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে শাবি রণক্ষেত্র, শিক্ষক গুলিবিদ্ধ

আইআইসিটি ভবনে রোববার বেলা ৩টা ১০ মিনিটে অবরুদ্ধ হন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। ভবনের বাইরে অবস্থান নিয়ে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি আদায়ে স্লোগান দেন বেগম সিরাজুন্নেসা হলের ছাত্রীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন সহপাঠীরাও।

বেলা ৩টার দিকে আন্দোলরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক জহির উদ্দিন ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি তুলসী কুমার দাস। তারা দাবি পূরণের বিষয়ে সময় চাইলে ছাত্রীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে শাবি রণক্ষেত্র, শিক্ষক গুলিবিদ্ধ
বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে উপাচার্যকে তার বাসভবনে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

এরপর নিজ কার্যালয় থেকে বের হয়ে বাসভবনের দিকে যাচ্ছিলেন উপাচার্য। সে সময় তার সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান ছাত্রীরা। এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ঘেরাও করে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে ছাত্রীদের ধাওয়ায় উপাচার্য আইআইসিটি ভবনে গিয়ে অবস্থান নেন।

বিকেল ৪টার দিকে সেখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা ‘ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে শাবি রণক্ষেত্র, শিক্ষক গুলিবিদ্ধ

এ ঘটনার পর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম ও অন্য শিক্ষকরা গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেন। উত্তেজনা বাড়তে থাকলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। এরপর শুরু হয় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

তিন দফা দাবি আদায়ে চতুর্থ দিনের মতো চলছে সিরাজুন্নেসা হলের ছাত্রীদের এ আন্দোলন। শনিবার মধ্যরাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে রোববার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের সামনে অবস্থান নেন তারা।

পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষে শাবি রণক্ষেত্র, শিক্ষক গুলিবিদ্ধ

তাদের দাবির মধ্যে আছে সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজা ও সহকারী প্রাধ্যক্ষদের পদত্যাগ, অবিলম্বে হলের যাবতীয় অব্যবস্থাপনা দূর করে সুস্থ-স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ছাত্রীবান্ধব ও দায়িত্বশীল প্রাধ্যক্ষ কমিটি নিয়োগ দেয়া।

উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে শুক্রবার দাবি মেনে নেয়ার জন্য শনিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন ছাত্রীরা। এরপর শনিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লার ঘটনার হোতা মোবাইল ব্যবহার করছেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পূজামণ্ডপে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
বাংলাদেশ সকল ধর্মের, সকল বর্ণের: প্রধানমন্ত্রী
পীরগঞ্জে সহিংসতায় আরও এক মামলা
কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না

শেয়ার করুন

এবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে শাবি ছাত্রীরা

এবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে শাবি ছাত্রীরা

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে ছাত্রীরা। ছবি: নিউজবাংলা

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শামীমা ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আজ থেকে ক্লাস পরীক্ষাও বর্জন করেছি আমরা।’

তিন দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন চতুর্থ দিনের মতো অব্যাহত রেখেছে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) বেগম সিরাজুন্নেসা হলের ছাত্রীরা।

মধ্যরাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে রোববার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়েছে তারা।

এতে বন্ধ হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সড়কের যান চলাচল। কোনো গাড়ি ক্যাম্পাসে প্রবেশ বা বের হতে পারছে না।

সেখানে অবস্থানরত ছাত্রীরা প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন। এ ছাড়া তাদের শনিবারের কর্মসূচিতে হামলার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করে জড়িতদের বিচারও দাবি করছেন।

সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজা ও সহকারী প্রাধ্যক্ষদের পদত্যাগ, অবিলম্বে হলের যাবতীয় অব্যবস্থাপনা দূর করে সুস্থ-স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ছাত্রীবান্ধব ও দায়িত্বশীল প্রাধ্যক্ষ কমিটি নিয়োগ দেয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার রাত থেকে আন্দোলন করছেন সিরাজুন্নেসা হলের ছাত্রীরা।

শুক্রবার উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে দাবি মেনে নেয়ার জন্য শনিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সময় বেধে দেয় তারা।

এরপর শনিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরের সামনে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে ছাত্রীরা। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ ওঠে।

যদিও ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে শাবি ছাত্রীরা

রাতে আন্দোলনরত ছাত্রীদের সাথে কথা বলতে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম ও প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবির।

তারা ছাত্রীদের দাবি পর্যায়ক্রমে মেনে নেয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের হলে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তবে ছাত্রীরা প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত হলে না গিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানায়।

রাতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে রোববার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে তারা।

নিউজবাংলাকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শামীমা ইয়াসমিন বলেন, ‘প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আজ থেকে ক্লাস পরীক্ষাও বর্জন করেছি আমরা।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আলমগীর কবির বলেন, ‘ছাত্রীদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। তাদের হলে ফিরে যাওয়ারও অনুরোধ করেছি। তবু তারা শোনেনি।’

দু’একটি বিভাগ ছাড়া বাকি সব বিভাগে ক্লাস ও পরীক্ষা অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।

ছাত্রীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে শাবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজা অসুস্থতার কারণে ছুটিতে থাকায় হলে ভারপ্রাপ্ত প্রাধ্যক্ষ হিসেবে আরেকজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আর ছাত্রীদের সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন:
কুমিল্লার ঘটনার হোতা মোবাইল ব্যবহার করছেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পূজামণ্ডপে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
বাংলাদেশ সকল ধর্মের, সকল বর্ণের: প্রধানমন্ত্রী
পীরগঞ্জে সহিংসতায় আরও এক মামলা
কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না

শেয়ার করুন

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন করবে শাবি ছাত্রীরা

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন করবে শাবি ছাত্রীরা

বিক্ষোভে স্লোগান স্লোগানে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবি জানান আন্দোলনরত ছাত্রীরা। ছবি: নিউজবাংলা

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শামীমা ইয়াসমিন বলেন, ‘এই প্রাধ্যক্ষ হল পরিচালনার অযোগ্য। তার কাছে আমাদের অভিযোগ জানালে তিনি সমাধান না করে উল্টো দুর্ব্যবহার করেন। তার পদত্যাগ ছাড়া আমরা হলে ফিরব না।’

তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের ছাত্রীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরের সামনে শনিবার রাত প্রায় আড়াইটা পর্যন্ত অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় মশাল জ্বালিয়ে স্লোগান স্লোগানে প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবি জানান আন্দোলনরত ছাত্রীরা।

এদিকে সিরাজুন্নেসা হলের ছাত্রীদের এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।

রোববার থেকে এই আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জোট নেতারা।

সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজা ও সহকারী প্রাধ্যক্ষদের পদত্যাগ, অবিলম্বে হলের যাবতীয় অব্যবস্থাপনা দূর করে সুস্থ-স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ছাত্রীবান্ধব ও দায়িত্বশীল প্রাধ্যক্ষ কমিটি নিয়োগ দেয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার রাত থেকে আন্দোলন করছেন সিরাজুন্নেসা হলের ছাত্রীরা।

শুক্রবার উপাচার্যের সাথে দেখা করে দাবি মেনে নেয়ার জন্য শনিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সময় বেধে দেয়।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন করবে শাবি ছাত্রীরা

এরপর শনিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরের সামনে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে ছাত্রীরা। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ ওঠে।

যদিও ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

রাতে আন্দোলনরত ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম ও প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবির।

তারা ছাত্রীদের দাবি পর্যায়ক্রমে মেনে নেয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের হলে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। ছাত্রীরা প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত হলে না গিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানায়।

নিউজবাংলাকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শামীমা ইয়াসমিন বলেন, ‘এই প্রাধ্যক্ষ হল পরিচালনার অযোগ্য। তার কাছে আমাদের অভিযোগ জানালে তিনি সমাধান না করে উল্টো দুর্ব্যবহার করেন। তার পদত্যাগ ছাড়া আমরা হলে ফিরব না।’

শামীমা বলেন, ‘আজকে আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে। আমরা হামলাকারীদেরও বিচার চাই।’

আন্দোলনকারী আরেক শিক্ষার্থী কানিজ ফাতেমা বলেন, ‘আমরা আর কোনো আশ্বাস চাই না। এবার দাবি পূরণ চাই।

‘বিনা উস্কানিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের উপড় হামলা করেছে। হামলা করে আমাদের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।’

তবে প্রক্টর ড. আলমগীর কবির বলেন, ‘হামলার অভিযোগ সত্য নয়। একটি অ্যাম্বুলেন্স যাওয়ার সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কিছু শিক্ষার্থীর ধাক্কাধাক্কি হয়েছে।’

একই বক্তব্য ছাত্রলীগ নেতাদেরও। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই।

নিউজবাংলাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের গত কমিটির পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক খলিলুর রহমান বলেন, ‘এটা যৌক্তিক আন্দোলন। ছাত্রলীগ হামলা করবে কেন?’

তিনি বলেন, ‘ছাত্রীদের আন্দোলনের কারণে ক্যাম্পাসের ভেতর রোগীবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্স আটকা পড়ে। এ সময় তাদের নিজেদের মধ্যে একটু হইচই হয়েছে। এতে ছাত্রলীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম দিপু বলেন, ‘আমরা ছাত্রীদের সব দাবি পর্যায়ক্রমে মেনে নেয়ার কথা জানিয়েছি। তাদের হলে ফিরে যেতেও বলেছি।’

‘ছাত্রীদের দাবি হুট করে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, এ জন্য সময় প্রয়োজন।’

আরও পড়ুন:
কুমিল্লার ঘটনার হোতা মোবাইল ব্যবহার করছেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পূজামণ্ডপে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
বাংলাদেশ সকল ধর্মের, সকল বর্ণের: প্রধানমন্ত্রী
পীরগঞ্জে সহিংসতায় আরও এক মামলা
কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না

শেয়ার করুন

শ্রীপুরে ছাত্রলীগ নেতা হত্যায় আসামি গ্রেপ্তার

শ্রীপুরে ছাত্রলীগ নেতা হত্যায় আসামি গ্রেপ্তার

প্রতীকী ছবি।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. বিপ্লব। ৪৫ বছরের বিপ্লবের বাড়ি কাওরাইদ গ্রামে। মামলার তিন নম্বর আসামি তিনি।

গাজীপুরের শ্রীপুরের কাওরাইদ বাজারে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

কাওরাইদ বাজার এলাকা থেকে শনিবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. বিপ্লব। ৪৫ বছরের বিপ্লবের বাড়ি কাওরাইদ গ্রামে। মামলার তিন নম্বর আসামি তিনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) গোলাম সারোয়ার এসব নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘কাওরাইদ বাজার এলাকা থেকে মামলার তিন নম্বর আসামি বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়। রোববার তাকে আদালতে তোলা হবে।’

ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধে গত বৃহস্পতিবার রাতে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় ছাত্রলীগ নেতা নয়ন শেখকে। এ ঘটনায় নয়নের ভাই রতন যুবলীগ নেতা খাইরুলসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করে ৩০-৩২ জনের নামে হত্যা মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লার ঘটনার হোতা মোবাইল ব্যবহার করছেন না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পূজামণ্ডপে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
বাংলাদেশ সকল ধর্মের, সকল বর্ণের: প্রধানমন্ত্রী
পীরগঞ্জে সহিংসতায় আরও এক মামলা
কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না

শেয়ার করুন