দেশে স্মার্টফোন উৎপাদন শুরু শাওমির

দেশে স্মার্টফোন উৎপাদন শুরু শাওমির

শাওমির ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের মোবাইল উৎপাদন কারখানাটি গাজীপুরে। সেমি নকডাউন (এসকেডি) বা হ্যান্ডসেটের যন্ত্রাংশ এনে সংযোজন করে স্মার্টফোন করবে চীনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। উৎপাদিত মোবাইল ফোন দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানিও করা হবে।

বিশ্বের অন্যতম সেরা কয়েকটি ব্র্যান্ডের পর এবার বাংলাদেশে মোবাইল উৎপাদন শুরু করেছে শাওমি। গাজীপুরের চীনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির কারখানায় উৎপাদিত মোবাইল ফোন দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানিও করা হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বৃহস্পতিবার তার দপ্তর থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শাওমির ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের মোবাইল উৎপাদন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এ উপলক্ষে বনানীর শেরাটন হোটেলে শাওমির বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিয়াউদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

দেশে সেমি নকডাউন (এসকেডি) বা হ্যান্ডসেটের যন্ত্রাংশ এনে সংযোজন করে স্মার্টফোন তৈরি করবে শাওমি।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, আমদানিকারক দেশ থেকে রপ্তানিকারী দেশে রূপান্তরে ২০১৫ সালে ডিজিটাল ডিভাইসবিষয়ক টাস্কফোর্স মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দেন। তার দৃঢ় অঙ্গীকার এবং তার বিনিয়োগ সহায়ক কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের ফলে দেশে ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদনের যাত্রা শুরু হয়েছে।

মোস্তাফা জব্বার জানান, শাওমির বাংলাদেশ কারখানার উৎপাদিত মোবাইল সেট কেবল দেশেই নয় দেশের বাইরেও রপ্তানি হবে। দেশে এখন ১৪টি মোবাইল কারখানা থেকে উৎপাদিত মোবাইল সেট দেশের মোট চাহিদার শতকরা ৬৫ ভাগের বেশি পূরণ করছে। কারখানাগুলোর ৯৯ ভাগ কর্মীই এদেশের।

তিনি বলেন, ‘তারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মোবাইল উৎপাদন কারখানায় কাজ করছে। বাংলাদেশের কারখানা থেকে উৎপাদিত ফাইভজি মোবাইল সেট আমেরিকায় যাচ্ছে। সৌদি আরবে আইওটি ডিভাইস রপ্তানি করছি। বিশ্বের ৮০টি দেশে বাংলাদেশ থেকে সফটওয়্যার রপ্তানি হচ্ছে। সৌদি আরব ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করছি। অথচ এক সময় কাপড় কাঁচার সাবান থেকে প্রায় প্রতিটি পণ্য বিদেশ থেকে আমাদের আমদানি করতে হয়েছে।’

সরকারের গৃহীত বিনিয়োগ উপযোগী পরিবেশের পাশাপাশি মেধাবী জনসম্পদের কারণে বিশ্ব সেরা ব্র্যান্ডের মোবাইল উৎপাদন প্রতিষ্ঠানও বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনে আকৃষ্ট হচ্ছে বলে জানান টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী। বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনের জন্য শাওমি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি। আশ্বাস দেন সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার।

মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘২০২১ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ দৃশ্যমান দেখেছি, সাবমেরিন ক্যাবল ও মহাকাশে স্যাটেলাইটসহ দেশের প্রতিটি ইউনিয়নসহ, দুর্গম চরাঞ্চল, হাওর ও দ্বীপ এবং পার্বত্য অঞ্চলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ এবং ফোরজি সার্ভিস পৌঁছে দেয়ায় দেশে শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। গত দুই বছর করোনাকালে মানুষের জীবন যাত্রা-শিল্প-বাণিজ্য সচল রাখা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্পখাত ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, ‘তরুণ নেতৃত্ব ও শাওমির মতো তরুণ কোম্পানির ওপর আমাদের যথেষ্ট বিশ্বাস রয়েছে। এমন নতুন প্রজন্মের সব কোম্পানি ও উদ্যোক্তাই হচ্ছে বাংলাদেশের একেকটা সফলতা। ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে শাওমির প্রথম উৎপাদন ইউনিট স্থাপনের মাধ্যমে দেশের তরুণদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বৈশ্বিক মানের ইলেক্ট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং ইকোসিস্টেম প্রতিষ্ঠা হবে।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে স্মার্টফোন উৎপাদন কারখানা চালুর জন্য শাওমিকে অভিনন্দন। এটি ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে মেড ইন বাংলাদেশ উদ্যোগ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। এখন থেকে দেশের মানুষ একটি প্রতিযোগিতামূলক দামে বিশ্বমানের শাওমির সবশেষ সব উদ্ভাবনী পণ্য উপভোগ করবে।’

বাংলাদেশে স্যামসাং, ভিভো, অপো, রিয়েলমি, নোকিয়া, ওয়ালটন, সিম্ফনি, আইটেল-ট্র্যানসান, ফাইভস্টার, লাভা, ওকে মোবাইল, উইনস্টারসহ বিভিন্ন কোম্পানি মোবাইল উৎপাদন করছে। দেশে মটোরোলাসহ আরও কয়েকটি ব্র্যান্ড মোবাইল ফোনের কারখানা করতে আগ্রহ জানিয়েছে।

আরও পড়ুন:
দেশে শাওমির নতুন স্মার্টফোন রেডমি ১০
দেশে শাওমির নতুন ৪ সার্ভিস সেন্টার
স্যামসাং, অ্যাপলকে টপকে শীর্ষ স্মার্টফোন ব্র্যান্ড শাওমি
ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ কোম্পানির তালিকায় ৩৩৮তম শাওমি
স্মার্টফোনে অ্যাপলকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে শাওমি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাজারে আসছে দেশে তৈরি নোকিয়ার স্মার্টফোন

বাজারে আসছে দেশে তৈরি নোকিয়ার স্মার্টফোন

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে শেরাটন হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের গ্রাহকদের জন্য ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ নোকিয়া ফোনের বাজারজাত করার ঘোষণা দেয়া হয়।

জি-২০ সেটটি নোকিয়া স্মার্টফোনের সিগ্নেচার ‘অ্যান্ড্রয়েড প্রতিশ্রুতি’ দ্বারা সমর্থিত, যা একজন ব্যাবহারকারীর ডেটা যতটা সম্ভব সুরক্ষিত রাখতে তিন বছর পর্যন্ত মাসিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দুই বছর পর্যন্ত অপারেটিং সিস্টেম হালনাগাদ করে বা আপডেট করে। এতে রয়েছে চারটি ব্যাক ক্যামেরা এবং ওজো সারাউন্ড অডিওসহ আকর্ষণীয় ৪৮ মেগাপিক্সেলের ওয়াইড এঙ্গেল ব্যাক ক্যামেরা। চার জিবি র‍্যাম ও ৬৪ জিবি স্টোরেজের সেটটির দাম ১৪ হাজার ৯৯৯ টাকা।

প্রথমবারের মতো দেশে তৈরি বিশ্বখ্যাত নোকিয়া মোবাইলের জি সিরিজের দুটি স্মাটফোন জি-১০ ও জি-২০ বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে এইচএমডি গ্লোবাল বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে শেরাটন হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের গ্রাহকদের জন্য ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ নোকিয়া ফোনের বাজারজাত করার ঘোষণা দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এইচএমডি গ্লোবাল বাংলাদেশের হেড অফ বিজনেস ফারহান রশিদ, ইউনিয়ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিবুল কবির, পরিচালক আলভী রানাসহ অনেকে।

নোকিয়া জি-সিরিজের দুটি ফোন জি-১০ এবং জি-২০ তিন দিনের ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম। আঙ্গুলের ছাপ ও ব্যবহারকারীর ফেইস রিকগনিশনের মাধ্যমে ফোন আনলক সুবিধার ফোনে থাকছে ছয় দশমিক পাঁচ ইঞ্চি টিয়ারড্রপ ডিসপ্লে ও ৫০৫০ এমএএইচের ব্যটারি।

জি-২০ সেটটি নোকিয়া স্মার্টফোনের সিগ্নেচার ‘অ্যান্ড্রয়েড প্রতিশ্রুতি’ দ্বারা সমর্থিত, যা একজন ব্যাবহারকারীর ডেটা যতটা সম্ভব সুরক্ষিত রাখতে তিন বছর পর্যন্ত মাসিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দুই বছর পর্যন্ত অপারেটিং সিস্টেম হালনাগাদ করে বা আপডেট করে।

এতে রয়েছে চারটি ব্যাক ক্যামেরা এবং ওজো সারাউন্ড অডিওসহ আকর্ষণীয় ৪৮ মেগাপিক্সেলের ওয়াইড এঙ্গেল ব্যাক ক্যামেরা। চার জিবি র‌্যাম ও ৬৪ জিবি স্টোরেজের সেটটির দাম ১৪ হাজার ৯৯৯ টাকা।

নোকিয়া জি-১০ মোবাইলে আছে ত্রিপল রিয়ার ক্যামেরা আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্বলিত শুটিং মোড, এর মাধ্যমে কম আলোতেও অত্যন্ত ভালো ছবি তোলা সম্ভব। এতে রয়েছে আট মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরা ও ১৩ মেগাপিক্সেলের ব্যাক ক্যামেরা এবং ৩ জিবি র‌্যাম ও ৩২ জিবি স্টোরেজ। সেটটির দাম ১৩ হাজার ৪৯৯ টাকা।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটির নোকিয়া কারখানায় স্মার্টফোন দুটি তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানি ভাইব্রেন্ট সফটওয়্যার ও ইউনিয়ন গ্রুপ বাংলাদেশের সমন্বয়ে গঠিত ‘ভাইব্রেন্ট সফটওয়্যার (বাংলাদেশ) লিমিটেড’ কারখানাটি স্থাপন করেছে।

নতুন স্মার্ট ফোন বাজারে আনা প্রসঙ্গে এইচএমডি গ্লোবালের জেনারেল ম্যানেজার (প্যান এশিয়া) রাভি কুনওয়ার বলেন, ‘আজকে আমাদের জন্য স্মরণীয় একটি দিন। গত এক বছর ছিল আমাদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং, তবে এ সময় আমাদের চিন্তাভাবনা করে প্রস্তুত হয়ে পরবর্তী বড় পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে। বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন ও সেখানে সংযোজিত হ্যান্ডসেটের উন্মোচন আমাদের যাত্রার একটি মাইলফলক।’

এইচএমডি গ্লোবাল বাংলাদেশের হেড অফ বিজনেস ফারহান রশিদ বলেন, ‘নোকিয়া আগের আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা থেকে আবারও মোবাইল শিল্পে নিজের জায়গা করে নিতে চায়। আগামী দুই বছরের মধ্যেই স্মার্টফোন ব্যবহারের দিক থেকে নোকিয়া দেশের প্রথম তিনটি কোম্পানির একটি হতে চায়।’

ইউনিয়ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিবুল কবির বলেন, ‘এখন আমাদের প্রথম লক্ষ্য স্থানীয় বাজার ধরে সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখা। শিগগিরই আমরা মেড ইন বাংলাদেশ ফোন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রপ্তানির আশা করছি।’

ইউনিয়ন গ্রুপের পরিচালক আলভী রানা বলেন, ‘মোবাইল ফোন যুগের শুরুতে সম্ভবত দেশে এমন কোনো পরিবার ছিল না যেখানে অন্তত একটি নোকিয়া ফোন ছিল না। সেই হারানো দিন ফিরে আসবে মেইড ইন বাংলাদেশ নোকিয়া ফোনের হাত ধরে। এইচএমডি গ্লোবালের নির্দেশনায় ইউরোপীয় মানে আমরা কারখানা স্থাপন করেছি। দেশে তৈরি হওয়ায় এসব হ্যান্ডসেট ভোক্তারা সাশ্রয়ী মূল্যে পাবে।’

গাজীপুরের হাইটেক সিটির ব্লক ৫-এ নোকিয়া ফোনের কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। সর্বোচ্চ মানের পণ্য নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি ফোনকে স্বয়ংক্রিয় ও মানুষের দ্বারা পরিচালিত দুইভাবে গুণগত মানের পরীক্ষায় পার হয়ে আসতে হয়।

শুরুতে কারখানায় প্রতিদিন ৩০০ ফোন সংযোজন করা হচ্ছে। এটি ক্রমান্বয়ে দিনে তিন হাজারে উন্নীত হবে। স্থানীয়ভাবে তৈরি এসব স্মার্টফোন আমদানি করা ফোনের তুলনায় ৩০ শতাংশ কম দামে পাওয়া যাবে।

২০১৭ সালে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে মোবাইল সেট তৈরি শুরু হয় ইলেক্ট্রনিক্স ব্র্যান্ড ওয়াল্টনের হাত ধরে।

তখন থেকে ১০-১২টি ব্র্যান্ড স্থানীয়ভাবে মোবাইল তৈরি করছে, এর মধ্যে রয়েছে স্যামসাং, সিম্ফনি, ওপ্পো, রিয়েলমি, শাওমির মতো বৈশ্বিক স্মার্টফোন বিক্রেতাও।

এসব প্রতিষ্ঠান স্থানীয় বাজারের স্মার্টফোন চাহিদার ৮৫ শতাংশ তৈরি করে এবং মোট ফোন (ফিচার ও স্মার্ট মিলিয়ে) চাহিদার ৫৫ শতাংশ পূরণ করে।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে আমদানি করা ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মোট মোবাইল সেটের সংখ্যা ২৯ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ২৭ মিলিয়ন আমদানি করা এবং ১৬ দশমিক ২১ মিলিয়ন স্থানীয়ভাবে তৈরি করেছে ১০টি কোম্পানি।

আরও পড়ুন:
দেশে শাওমির নতুন স্মার্টফোন রেডমি ১০
দেশে শাওমির নতুন ৪ সার্ভিস সেন্টার
স্যামসাং, অ্যাপলকে টপকে শীর্ষ স্মার্টফোন ব্র্যান্ড শাওমি
ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ কোম্পানির তালিকায় ৩৩৮তম শাওমি
স্মার্টফোনে অ্যাপলকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে শাওমি

শেয়ার করুন

মিথ্যা বললে রক্ষা নেই

মিথ্যা বললে রক্ষা নেই

মিথ্যা বলার সময় মানুষের অজান্তেই সক্রিয় হয় মুখের বেশ কিছু পেশি। ছবি: নিউজবাংলা

মিথ্যাবাদীর চেহারায় তার মনের ভাবের ছাপ পড়ে এমন ধারণা নতুন নয়। চার্লস ডারউইনের আমল থেকে এ ধারণা চলে এসেছে। তিনি নিজেও বেশ কিছু মনোবিদ্যার পরীক্ষা করেছিলেন। ১৮৭২ সালে এক গবেষণায় তিনি দেখেন, ‘মুখের যে সব পেশি আমাদের ইচ্ছার অধীনে নেই সেগুলো কখনও কখনও নিজে থেকে কোনো অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতে পারে।’

কিছু মানুষ অবলীলায় বলে যান একের পর এক মিথ্যা। তাদের ভাবলেশহীন চোখ-মুখ দেখে মিথ্যা ধরা কঠিন। তবে এসব চতুর মিথ্যাবাদীর সামনে আসছে দুঃসময়। বিজ্ঞানীরা এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন, যাতে মিথ্যা বলে পার পাওয়া হবে কঠিন।

এই প্রযুক্তির বিশেষ সেন্সর মুখের পেশির অতি ক্ষুদ্র কম্পনকেও ঠিক ধরে ফেলতে সক্ষম। আর এর মাধ্যমে বোঝা যাবে, মনের ভেতরে কথা লুকিয়ে রেখে বাইরে আপনি কতটা মিথ্যা বলছেন। বিজ্ঞান বিষয়ক সাইট সায়েন্স অ্যালার্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রযুক্তি গড়পড়তা যে কোনো ব্যক্তির চেয়ে মিথ্যা কথা শনাক্তে অনেক ভালো কাজ করে।

ইসরায়েলের তেল আভিভ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি এই সিস্টেম ৭৩ শতাংশ ক্ষেত্রে ঠিকঠাক মিথ্যা ধরতে পেরেছে। এই প্রক্রিয়ায় দুই ধরনের মিথ্যাবাদীকে ধরা গেছে।
বিহেভিওরাল নিওরোসায়েন্টিস্ট ডিনো লিভি বলেন, ‘এটি পুরোপুরি নিঁখুত নয়, কিন্তু অন্য অনেক ফেশিয়াল রেকগনিশন প্রযুক্তির চেয়ে বেশ ভালো।’

সত্যি ও মিথ্যা কথা বলা ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে লাগানো ইলেক্ট্রোড মুখের পেশির নড়াচড়া মেপে মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদমকে তথ্য দিয়েছে। এতে করে ওই অ্যালগরিদমে মানুষের মুখের ভাবভঙ্গী থেকে ইঙ্গিতগুলো চিনতে শিখেছে আর্টিফিসিয়াল প্রযুক্তি।

গবেষকেরা বলছেন, পলিগ্রাফের মতো প্রচলিত সাধারণ মিথ্যা ধরার যন্ত্রগুলো হৃৎকম্পন, রক্তচাপ ও নিঃশ্বাসের মাত্রার হেরফেরের মতো শরীরিক বৈশিষ্ট্যগুলোর ওপর নির্ভর করে। তবে যে কেউ এ বৈশিষ্ট্যগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার প্রশিক্ষণ নিতে পারেন। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পলিগ্রাফ মেশিন ব্যবহার করলেও এ থেকে পাওয়া ফলকে নিঁখুত বলার উপায় নেই।

মিথ্যাবাদীর চেহারায় তার মনের ভাবের ছাপ পড়ে এমন ধারণা নতুন নয়। চার্লস ডারউইনের আমল থেকে এ ধারণা চলে এসেছে। তিনি নিজেও বেশ কিছু মনোবিদ্যার পরীক্ষা করেছিলেন। ১৮৭২ সালে এক গবেষণায় তিনি দেখেন, ‘মুখের যে সব পেশি আমাদের ইচ্ছার অধীনে নেই সেগুলো কখনও কখনও নিজে থেকে কোনো অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতে পারে।’

তবে এসব পেশির পরিমাপ, নিয়ন্ত্রণ বা চিহ্নিত করা সহজ নয়। অনিচ্ছাকৃত, অনিয়ন্ত্রিত ক্ষুদ্র-অভিব্যক্তিগুলো শুধু এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশের জন্য দেখা যায়। ৪০ থেকে ৬০ মিলিসেকেন্ডের পরে অভিব্যক্তিগুলো অদৃশ্য হয়ে যায়।

অভিব্যক্তি তৈরি করে মুখের এমন নির্দিষ্ট পেশি শনাক্ত করার জন্য বেশিরভাগ গবেষণায় ফেসিয়াল সারফেস ইলেক্ট্রোমাইয়োগ্রাফি বা এসইএমজি নামের একটি কৌশল ব্যবহার করা হয়। এটি মুখের পেশির বৈদ্যুতিক কর্মকাণ্ড পরিমাপ করে এবং মানুষের পক্ষে শনাক্ত করা কঠিন এমন সব সূক্ষ্ম অভিব্যক্তি চিহ্নিত করতে পারে।

ইসরায়েলি বিজ্ঞানীদের গবেষণায় একটি নতুন ধরনের পরিধানযোগ্য ইলেক্ট্রোড পরীক্ষা করা হয়েছে। এটি এসইএমজি ডিভাইসের চেয়ে বেশি সংবেদনশীল ও আরামদায়ক। ভিডিও ফুটেজে মুখের অভিব্যক্তি পড়ার জন্য প্রশিক্ষিত একটি মেশিন লার্নিং টুলকেও গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে।

লিভি ব্যাখ্যা করেন, ‘এটা শুরুর দিককার একটা গবেষণা ছিল, যে কারণে খুব সাধারণ মিথ্যা কথা দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে।’

পরীক্ষায় দুই জন ব্যক্তিকে সামনাসামনি ইলেক্ট্রোড লাগিয়ে বসানো হয়। একজন হেডফোন লাগিয়ে কানে যা শুনছেন সেটা বলেন বা ভিন্ন কিছু বলেন। আর তার সামনে বসা ব্যক্তি ধরার চেষ্টা করেন কখন তিনি সঠিক কথা বলছেন।

দুই অংশগ্রহণকারী যখন অডিও শুনছে, কথা বলছে ও প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে সে সময় গবেষকেরা তাদের দুই ভ্রুর মাঝের পেশি (যাকে করুগেটর সুপারসিলিয়া বলা হয়) ও গালের পেশির (জাইগোম্যাটিকাস মেজর) কার্যকলাপ রেকর্ড করেন।

গবেষণায় ৪৮ জন অংশগ্রহণকারীর মিথ্যা বলার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন নিদর্শন বা ‘সূত্র’ পাওয়া গেছে। কিছু লোক মিথ্যা বলার সময় তাদের গালের পেশিগুলিকে সক্রিয় করে, কেউ বা তাদের ভ্রুর কাছে পেশি কুঁচকে ফেলে।

লিভি ও তার সহকর্মীরা গবেষণাপত্রে লিখেছেন, ‘আমরা সব অংশগ্রহণকারীর মিথ্যা সফলভাবে ধরতে পেরেছি। মানুষের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ পাওয়া যন্ত্রের চেয়ে এর সফলতা অনেক বেশি।’
মিথ্যা কথা ধরার অ্যালগরিদমটি দিয়ে লিভি ও তার দল ২২ থেকে ৭৩ শতাংশ সময় যথাযথভাবে মিথ্যা কথা ধরতে পেরেছে।
গবেষকেরা বলছেন, পরীক্ষামূলক অ্যালগরিদমটির আরও উন্নতি দরকার। কারণ দেখা গেছে, মানুষের যেসব পেশি তথ্য প্রকাশ করে সেগুলো বদলাতে থাকে।

তবে দুর্ভাবনার বিষয় হলো, যেসব ব্যক্তি সফলভাবে তাদের পার্টনারকে প্রতারিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন, তাদেরকে মেশিন-লার্নিং অ্যালগরিদমও খুব একটা শনাক্ত করতে পারেনি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাস্তব জীবনে বা জটিল পরিস্থিতিতে মিথ্যা শনাক্ত করা আরও চ্যালেঞ্জিং। মিথ্যাবাদীরা সাধারণত মিথ্যা ও অর্ধ-সত্য মেশানো দীর্ঘ গল্প শোনান। এছাড়া মিথ্যা বলার সময় অনেকে শব্দ বাদ দিয়ে দেন, এড়িয়ে যান বা সত্য ঢাকতে দুর্বোধ্যভাবে কথা বলেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

দ্য টাইমস অফ ইসরায়েলকে লিভি বলেন, ‘ আমরা আশা অরি আরও উন্নতি ও সফল পরীক্ষার পর এটি পলিগ্রাফের শক্ত বিকল্প হিসেবে দাঁড়াবে।’

লিভি ও তার সহকর্মীদের ধারণা, ইমেজ প্রসেস করার যে যন্ত্র সেটিকে আরও উন্নত করে কণ্ঠের পরিবর্তন নিয়ে যে সব প্রযুক্তি কাজ করে সেগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা যাবে।

আরও পড়ুন:
দেশে শাওমির নতুন স্মার্টফোন রেডমি ১০
দেশে শাওমির নতুন ৪ সার্ভিস সেন্টার
স্যামসাং, অ্যাপলকে টপকে শীর্ষ স্মার্টফোন ব্র্যান্ড শাওমি
ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ কোম্পানির তালিকায় ৩৩৮তম শাওমি
স্মার্টফোনে অ্যাপলকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে শাওমি

শেয়ার করুন

ভার্চুয়াল মিটিং সহজ করতে আসছে কনভে

ভার্চুয়াল মিটিং সহজ করতে আসছে কনভে

রূপায়ণ চৌধুরী বলেন, ‘ কনভে-এর ইনোভেশন অনেক সমস্যার সহজ সমাধান দেবে। এখন চার দেশের মানুষজন এই ইনোভেশনে কাজ করছে। কনভে একটি ভার্চুয়াল কোলাবরেশন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ভিডিও কনফারেন্সিং, বিভিন্ন কোলাবরেশন টুলস ও ভিজ্যুয়াল বোর্ডের সমন্বয়ে কর্মীদের মধ্যে খুবই কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তোলা যায়।’

ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়াতে দেশে তৈরি হয়েছে বিকল্প প্ল্যাটফর্ম ‘কনভে’। ভার্চুয়াল এ মিটিং প্ল্যাটফর্মটিতে একসঙ্গে ৩০০ জনের বৈঠকের ব্যবস্থা আছে।

সিনেসিস আইটি নামের প্রতিষ্ঠান আগামী বছরের শুরুতে ভার্চুয়াল অফিস কোলাবরেশন প্ল্যাটফর্ম ‘কনভে’ নিয়ে আসছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী (সিইও) রূপায়ণ চৌধুরী বলেন, ‘২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া গেলে সমস্যায় পড়ি টিম সদস্যদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে। একপর্যায়ে পুরো টিম বাধ্য হয়ে রিমোট কোলাবরেশন ব্যবহার শুরু করি। করোনা আগে থেকে সিনেসিস ভিডিও কনফারেন্সিং ব্যবহার শুরু হয়।

‘রিমোট কোলাবরেশন এখনো নতুন, এখানে অনেক কিছু দরকার। কনভে-এর ইনোভেশন অনেক সমস্যার সহজ সমাধান দেবে। এখন চার দেশের মানুষজন এই ইনোভেশনে কাজ করছে। কনভে একটি ভার্চুয়াল কোলাবরেশন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ভিডিও কনফারেন্সিং, বিভিন্ন কোলাবরেশন টুলস ও ভিজ্যুয়াল বোর্ডের সমন্বয়ে কর্মীদের মধ্যে খুবই কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তোলা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হয়েছে তথ্য নিরাপত্তায়, যা জুমের একটা বড় দুর্বলতা। কনভে তৈরি করা হয়েছে গ্লোবাল মার্কেটের জন্য। এটি প্রচলিত অন্য যে কোনও অ্যাপের চেয়ে বহুগুণে ভালো।

‘বর্তমানে অনায়াসে ৩০০ জনের মিটিং করা যাবে, যা আগামীতে ১২০০ জনে উন্নীত করার পরিকল্পনা আছে। সিনেসিসের কয়েকটি টিম এখন কনভে ব্যবহার করছে। আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে সীমিত কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য মার্কেটে আসবে কনভে।’

আরও পড়ুন:
দেশে শাওমির নতুন স্মার্টফোন রেডমি ১০
দেশে শাওমির নতুন ৪ সার্ভিস সেন্টার
স্যামসাং, অ্যাপলকে টপকে শীর্ষ স্মার্টফোন ব্র্যান্ড শাওমি
ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ কোম্পানির তালিকায় ৩৩৮তম শাওমি
স্মার্টফোনে অ্যাপলকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে শাওমি

শেয়ার করুন

পেগাসাস-নির্মাতা ইসরায়েলি ফার্মের বিরুদ্ধে অ্যাপলের মামলা

পেগাসাস-নির্মাতা ইসরায়েলি ফার্মের বিরুদ্ধে অ্যাপলের মামলা

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত এনএসও কুখ্যাত হ্যাকার। একবিংশ শতাব্দীর অনৈতিক কাজ সম্পাদনকারী এই সংস্থাটি অত্যন্ত উন্নতমানের সাইবার নজরদারি যন্ত্রপাতি তৈরি করেছে। যা অপব্যবহারের ইন্ধন জোগায়।

নিজেদের আইফোন ও অন্যান্য ডিভাইস ব্যবহার করা ব্যক্তিদের টার্গেট করার জন্য ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার পেগাসাসের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনএসও-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছে অ্যাপল।

মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার মার্কিন ফেডারেল আদালতে এই মামলা দায়ের করা হয়। এর মাধ্যমে ১০ কোটি আইফোন ব্যবহারকারী যেন এনএসও গ্রুপের টার্গেট থেকে মুক্ত থাকে তার নিশ্চয়তা চাইছে অ্যাপল।

মামলার পর অ্যাপল জানায়, ব্যবহারকারীদের ক্ষতি রোধ করতে এনএসও গ্রুপকে নিজেদের কোনও সফ্টওয়্যার, পরিষেবা বা ডিভাইস ব্যবহারে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানিয়েছে তারা।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত এনএসও কুখ্যাত হ্যাকার। একবিংশ শতাব্দীর অনৈতিক কাজ সম্পাদনকারী এই সংস্থাটি অত্যন্ত উন্নতমানের সাইবার নজরদারি যন্ত্রপাতি তৈরি করেছে। যা অপব্যবহারের ইন্ধন জোগায়।

গত জুলাইয়ে ইসরায়েলি স্পাইওয়ার পেগাসাস ঘিরে হইচই শুরু হয় বিশ্বজুড়ে। দ্য গার্ডিয়ান দাবি করে, সারা বিশ্বের ১৮০ জনের বেশি সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, শিল্পপতি, ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের ফোন হ্যাক করা হয়েছে পেগাসাসের মাধ্যমে।

সম্প্রতি পেগাসাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই বিষয়ে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, মানবাধিকারের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে জো বাইডেন প্রশাসন।

তবে, এনএসও-এর বিরুদ্ধে মামলা করা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৯ সালে গুপ্তচর সরঞ্জাম তৈরি করা সংস্থাটির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল ফেসবুক। সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং অন্যদের ওপর সাইবার গুপ্তচরবৃত্তির জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে আঁড়িপাতার অভিযোগ দিয়েছিল সংস্থাটি।

আরও পড়ুন:
দেশে শাওমির নতুন স্মার্টফোন রেডমি ১০
দেশে শাওমির নতুন ৪ সার্ভিস সেন্টার
স্যামসাং, অ্যাপলকে টপকে শীর্ষ স্মার্টফোন ব্র্যান্ড শাওমি
ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ কোম্পানির তালিকায় ৩৩৮তম শাওমি
স্মার্টফোনে অ্যাপলকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে শাওমি

শেয়ার করুন

ব্ল্যাকফ্রাইডে উপলক্ষে এক্সনহোস্টে ৭০% পর্যন্ত ছাড়

ব্ল্যাকফ্রাইডে উপলক্ষে এক্সনহোস্টে ৭০% পর্যন্ত ছাড়

বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৭০ দেশে ডোমেইন হোস্টিং সেবা প্রদান করছে এক্সনহোস্ট । এরই মধ্যে সিপ্যানেল, লাইটস্পিডসহ বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়েছে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানটি।

দেশের শীর্ষস্থানীয় হোস্টিং কোম্পানি এক্সনহোস্ট প্রতিবারের মতো এবারও আয়োজন করেছে ব্ল্যাকফ্রাইডে সেল।

ব্ল্যাকফ্রাইডে হলো বিশ্বের শপিং দুনিয়ার বহুল প্রতীক্ষিত মেগা সেলের দিন। যা পশ্চিমা বিশ্বে থ্যাংকস গিভিং ডের পরের দিন ব্ল্যাকফ্রাইডে হিসেবে পরিচিত। এদিন ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় বিশেষ মূল্য ছাড় দেন।

ব্ল্যাকফ্রাইডে উপলক্ষে ওয়েব হোস্টিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এক্সনহোস্ট হোস্টিং সার্ভিসে ২৫ থেকে ৭০ শতাংশ ছাড় ঘোষণা করেছে। এক্সনহোস্টের ওয়েবসাইট থেকে খুব সহজেই কুপন কোড ব্যবহার করে ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যাবে।

কাস্টমাররা বিকাশ, ক্রেডিট/ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে সহজেই এক্সনহোস্ট থেকে ডোমেইন, ওয়েব হোস্টিং, ভিপিএস এবং ডেডিকেটেড সার্ভার কিনতে পারবেন।

আইসিএনএন স্বীকৃত রেজিস্ট্রার কোম্পানি পার্পল আইটি লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এক্সনহোস্ট ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন সেবা দিয়ে থাকে।

বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৭০ দেশে ডোমেইন হোস্টিং সেবা প্রদান করছে এক্সনহোস্ট । এরই মধ্যে সিপ্যানেল, লাইটস্পিডসহ বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়েছে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানটি।

ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে কর্পোরেট ওয়েবসাইটের জন্য ডোমেইন, ওয়েব হোস্টিং, ভার্চুয়াল সার্ভার, ডেডিকেটেড সার্ভার ও ক্লাস্টার সার্ভার সলিউশন দিচ্ছে এক্সনহোস্ট।

আরও পড়ুন:
দেশে শাওমির নতুন স্মার্টফোন রেডমি ১০
দেশে শাওমির নতুন ৪ সার্ভিস সেন্টার
স্যামসাং, অ্যাপলকে টপকে শীর্ষ স্মার্টফোন ব্র্যান্ড শাওমি
ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ কোম্পানির তালিকায় ৩৩৮তম শাওমি
স্মার্টফোনে অ্যাপলকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে শাওমি

শেয়ার করুন

আরও ১০ হাজার স্কুলে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব

আরও ১০ হাজার স্কুলে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব

ফাইল ছবি

একনেক সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে সরকার নতুন নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন’ প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এর মাধ্যমে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপনের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়েও বিভিন্ন আইটি সেবা সহজ করা হবে।’

ছাত্রজীবন থেকে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিমনস্ক করে গড়ে তুলতে দেশের প্রায় আট হাজার স্কুলে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আরও ১০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ডিজিটাল ল্যাব স্থাপনের নতুন প্রকল্প নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন করে ১ লাখ ১০ হাজার উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগও দেয়া হবে।

এ সংশ্লিষ্ট তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ‘ইস্টাবলিশিং ডিজিটাল কানেকটিভিটি’ বা ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন’ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

একনেকের মঙ্গলবারের সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একনেকের অন্য সদস্যরা শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সভায় অংশ নেন।

একনেক সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে সরকার নতুন নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন’ প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এর মাধ্যমে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপনের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়েও বিভিন্ন আইটি সেবা সহজ করা হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলমসহ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। ৫ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকার এ প্রকল্পে ৩ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা ঋণ দেবে চীন সরকার। এর মাধ্যমে সরকারের সেবাগুলোকে ই-সেবায় রূপান্তরের মাধ্যমে জনগণের কাছে দ্রুত ও সহজে পৌঁছে দেয়া এবং সকল ক্ষেত্রে আইসিটির ব্যবহার বৃদ্ধিকল্পে প্রয়োজনীয় আইসিটি অবকাঠামো স্থাপন করা হবে।

প্রকল্পটির আওতায় দেশব্যাপী ১ লাখ ৯ হাজার ২৪৪টি ব্রডব্যান্ড অ্যান্ড ইউজার সংযোগ দেয়া হবে, ১০ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন, জেলা পর্যায়ে ৫৭টি বিশেষায়িত ল্যাব, সেন্ট্রাল ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম এবং ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি সেন্টার অব এক্সিলেন্স স্থাপন করা হবে।

জেলা ও উপজেলা কমপ্লেক্সে আইটি অবকাঠামোসহ ল্যান, নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) স্থাপন, ৫৫৫টি ডিজিটাল সার্ভিস স্টোরেজ অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন, মাঠ পর্যায়ের ক্লাউড ফাইল সার্ভিস স্থাপন করা হবে।

ডিজিটাল স্টোরেজের জন্য কেন্দ্রীয় সার্ভার অবকাঠামো স্থাপন, আইসিটি ল্যাব, স্মার্ট ভার্চুয়াল ক্লাসরুম, ডিসট্যান্স লার্নিং প্ল্যাটফর্মসহ প্রয়োজনীয় আইসিটি অবকাঠামো সুবিধাসংবলিত একটি ডিজিটাল লিটারেসি সেন্টার স্থাপন, সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস (সিআরভিএস) বাস্তবায়নে সিআরভিএস সেন্ট্রাল আইএসডিপি সার্ভার স্থাপন এবং ১টি ২১ তলাবিশিষ্ট ‘ডিও আইসিটি টাওয়ার’ নির্মাণ করা হবে।

তাছাড়া মাঠ পর্যায়ে সাড়ে ৫ হাজার এনরোলমেন্ট অবকাঠামো স্থাপন এবং ১৭ হাজার ৩১৪টি সার্ভিস ডেলিভারি ডিভাইস বিতরণ, ১০টি ডিজিটাল ভিলেজ স্টেশন স্থাপন, ৪৯২টি অনাবাসিক ভবন নির্মাণ, উপজেলা শেয়ারড আইসিটি অপারেশন সেন্টারের জন্য ৪৯১ উপজেলা বিল্ডিং একতলা ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা হবে। ১০টি ডিজিটাল ভিলেজ স্টেশনের আওতায় ফিল্ড সার্ভে এবং ২০ হাজার কৃষককে স্মার্ট সেন্সর ডিভাইস দেয়া হবে।

এ ছাড়া দক্ষতা বাড়াতে ৪০ জনকে বৈদেশিক প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে, জাতীয়ভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে ৩ হাজার ৩৩৫ জনকে এবং স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণ পাবেন ১৬ হাজার ৮২১ জন। সেমিনার এবং কনফারেন্সও আয়োজন করা হবে।

আইসিটি বিভাগ বলছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চগতিসম্পন্ন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত হবে, প্রান্তিক পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তি ব্যবহার ও চর্চা বৃদ্ধি পাবে, ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন ও গবেষণা সম্ভব হবে, সরকারি সেবা স্বচ্ছ ও সহজ করার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সব নাগরিকের জন্য ডিজিটাল সেবা গ্রহণ, জ্ঞানভিত্তিক দক্ষ সমাজ গঠন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পের আনুষঙ্গিক কাজের জন্য ২টি জিপ, ২টি মাইক্রোবাস, ২টি ডাবল কেবিন পিকআপ ক্রয়, ২৮ ধরনের পরামর্শক সেবা ক্রয়; কম্পিউটার এক্সেসরিজ এবং সফটওয়্যার সংগ্রহ, ১০২টি অফিস ইক্যুইপমেন্ট ও ৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৮২টি ফার্নিচার সংগ্রহ করা হবে।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ বলছে, সরকারের ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় উচ্চ প্রবৃদ্ধির জন্য প্রযুক্তিসমূহের উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধা লাভের জন্য নীতি ও কৌশল গ্রহণের সার্বিক নির্দেশনা রয়েছে।

এ ছাড়া ডিজিটাল অর্থনীতি বাস্তবায়ন ও মানবসম্পদ বিকাশের লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক আইসিটি ল্যাবে সজ্জিতকরণ; স্বচ্ছতা, সুশাসন ও জনগণের নিকট সেবা সরবরাহ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বরান্বিত করা; আইসিটিভিত্তিক মানসম্পন্ন শিক্ষার প্রসার এবং তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জনশক্তি বিনির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ প্রকল্প সে লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে।

আরও পড়ুন:
দেশে শাওমির নতুন স্মার্টফোন রেডমি ১০
দেশে শাওমির নতুন ৪ সার্ভিস সেন্টার
স্যামসাং, অ্যাপলকে টপকে শীর্ষ স্মার্টফোন ব্র্যান্ড শাওমি
ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ কোম্পানির তালিকায় ৩৩৮তম শাওমি
স্মার্টফোনে অ্যাপলকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে শাওমি

শেয়ার করুন

ঢাকায় ৫০ টাকায় মিলবে অ্যাপভিত্তিক গাড়িসেবা

ঢাকায় ৫০ টাকায় মিলবে অ্যাপভিত্তিক গাড়িসেবা

রাজধানীর নির্ধারিত স্থান থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে গাড়ি ছেড়ে যাবে। যে কেউ চাইলে মাসব্যাপী এ সেবা নিতে পারবেন। সুযোগ রয়েছে আসা-যাওয়া দুই ধরনের সেবারই।

অফিসগামীদের জন্য স্বল্প টাকায় পিক অ্যান্ড ড্রপ গাড়িসেবা শুরু করেছে ‘যাবো’।

রাজধানীর নির্ধারিত স্থান থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে গাড়ি ছেড়ে যাবে। যে কেউ চাইলে মাসব্যাপী এ সেবা নিতে পারবেন। সুযোগ রয়েছে আসা-যাওয়া দুই ধরনের সেবারই।

‘যাবো’র এসব সেবা নিতে হবে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে। অফিস শেষ করে ফেরার সময়ও থাকবে তাদের এ সেবা।

মিরপুর-১ থেকে গুলশানে আসা যাবে ৫০ টাকায়।

৫০ টাকায় প্রতিষ্ঠানটি দেবে ফিক্সড রুট, বাজেট ফ্রেন্ডলি ভাড়া, অনটাইম, ফিক্সড স্টপেজ, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও হাইজিন এবং এসি গাড়ি।

আগামী ১২ ডিসেম্বর থেকে মিরপুর টু গুলশান রোডে যাবো তাদের সেবা চালু করবে।

শিগগির মোহাম্মদপুর থেকে গুলশান, উত্তরা থেকে মতিঝিল, ধানমন্ডি থেকে গুলশান এবং উত্তরা থেকে গুলশানে যাতায়াত সেবা চালু হবে।

প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার রাফাত রহমান বলেন, ‘এসি গাড়িতে আমরা স্বল্প টাকায় নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে দেব। অ্যাপের মাধ্যমে আমরা এ সেবা দেব। কম ভাড়ায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা করাই আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে বেশি ভাড়া দিয়েও গাড়ির ভালো সেবা পাচ্ছেন না। গ্রাহকের জন্য সেরা সেবা দেয়াই আমাদের লক্ষ্য।’

আরও পড়ুন:
দেশে শাওমির নতুন স্মার্টফোন রেডমি ১০
দেশে শাওমির নতুন ৪ সার্ভিস সেন্টার
স্যামসাং, অ্যাপলকে টপকে শীর্ষ স্মার্টফোন ব্র্যান্ড শাওমি
ফরচুন গ্লোবাল ৫০০ কোম্পানির তালিকায় ৩৩৮তম শাওমি
স্মার্টফোনে অ্যাপলকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে শাওমি

শেয়ার করুন