রঙিন ফানুস উড়াল এবিএসবি

রঙিন ফানুস উড়াল এবিএসবি

প্রবারণা পূর্ণিমায় নন্দনকানন চট্টগ্রাম বৌদ্ধবিহার এবং ঢাকা ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে ফানুসগুলো উত্তোলন করা হয়।

বাংলাদেশের বৌদ্ধ শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ বুড্ডিস্ট স্টুডেন্টস অফ বাংলাদেশের (এবিএসবি) আয়োজনে প্রবারণা পূর্ণিমায় আকাশে উড়েছে চিত্রকর্মে রঙিন ফানুস।

নন্দনকানন চট্টগ্রাম বৌদ্ধবিহার এবং ঢাকা ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ফানুসগুলো উত্তোলন করা হয়।

এর আগে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ফানুস তৈরির কর্মশালায় সব বয়সের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

এবিএসবির উদ্যোগে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো হ্যান্ডপেইন্টেড ফানুস অর্থাৎ হাতে আঁকা রঙিন ফানুস উড়ল। প্রতিটি ফানুসে মহামতী গৌতম বুদ্ধের জীবনের সব গুরুত্বপূর্ণ সময়ের ছবি সুনিপুণভাবে তুলে ধরা হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রংপুরে চলছে জেলা ইজতেমা

রংপুরে চলছে জেলা ইজতেমা

আয়োজক কমিটির সদস্য ও খিত্তা জামাতের জিম্মাদার আহসান হাবীব জানান, হাজি দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে চলছে ইজতেমা। নাইজেরিয়া ও সৌদি আরবের তাবলিগ জামাতের সাথিরা এতে অংশ নিয়েছেন। রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকেও বিভিন্ন মারকাজের তাবলিগ জামাতের সাথিরা অংশ নিচ্ছেন।

রংপুরের হাজিরহাট রব্বানীর চরে শুরু হয়েছে তিন দিনের জেলা ইজতেমা। জেলার কেন্দ্রীয় মারকাজ মসজিদ কমিটি এর আয়োজন করেছে।

জাতীয় কওমি মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান মাওলানা জিয়া বিন কাশেমের বয়ানের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এই ইজতেমা শুরু হয়েছে।

আয়োজক কমিটির সদস্য ও খিত্তা জামাতের জিম্মাদার আহসান হাবীব জানান, হাজি দেলোয়ার হোসেন চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে চলছে ইজতেমা। নাইজেরিয়া ও সৌদি আরবের তাবলিগ জামাতের সাথিরা এতে অংশ নিয়েছেন। রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকেও বিভিন্ন মারকাজের তাবলিগ জামাতের সাথিরা অংশ নিচ্ছেন।

আয়োজন কমিটির আরেক সদস্য মোস্তাফিজার রহমান সুমন জানান, সাদপন্থি তাবলিগ জামাতের হাজার হাজার অনুসারী ইজতেমায় যোগ দিয়েছেন। দেশের পাশাপাশি বিদেশি বক্তারাও বয়ান করবেন। আগামী শনিবার দুপুরে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এটি শেষ হবে।

ইজতেমা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পুলিশের টহল আছে বলে জানান রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার সাজ্জাদ হোসেন।

শেয়ার করুন

পুড়ে যাওয়া তাজরীন ভবনের সামনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা

পুড়ে যাওয়া তাজরীন ভবনের সামনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা

তাজরীন ফ্যাশন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের নবম বর্ষপূর্তিতে নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন আহত শ্রমিক ও নিহতদের স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। ছবি: নিউজবাংলা

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তপন সাহা বলেন, ‘তাজরীনে অগ্নিকাণ্ডের নবম বছরে এসেও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে আসছি। এ ছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট ও তদন্তে তাজরীন ফ্যাশনের অগ্নিকাণ্ডে মালিক দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। তারপরও সে বিচার এতদিনেও পায়নি ক্ষতিগ্রস্তরা।’

সাভারে তাজরীন ফ্যাশন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার নবম বর্ষপূর্তিতে নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আহত ও নিহতদের স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন।

আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে পুড়ে যাওয়া তাজরীন গার্মেন্টসের ফটকে বুধবার সকাল ৭টার দিকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারা।

টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এদিন প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

পুড়ে যাওয়া তাজরীন ভবনের সামনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা
তাজরীন ফ্যাশন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনার বর্ষপূর্তিতে নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন। ছবি: নিউজবাংলা

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তপন সাহা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজকের এই দিনে প্রথম প্রহরে আমরা তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্মরণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছি। বরাবরের মতোই এই কর্মসূচিতে শ্রমিকরা অংশ নিয়েছেন।

‘তাজরীনে অগ্নিকাণ্ডের নবম বছরে এসেও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে আসছি। এ ছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট ও তদন্তে তাজরীন ফ্যাশনের অগ্নিকাণ্ডে মালিক দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। তারপরও সে বিচার এতদিনেও পায়নি ক্ষতিগ্রস্তরা।’

তিনি বলেন, ‘নতুন করে আজকের এই দিনে আমরা আবারও ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনসহ মালিক দেলোয়ারের বিচার বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি কামনা করছি।’

তিনি জানান, দিনটিতে প্রতিবারই শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নানান কর্মসূচি পালন করা হয়। বুধবার গাজীপুর ও নিশ্চিন্তপুরে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ১১৪ জন শ্রমিক। আহত হন আরও দুই শতাধিক শ্রমিক।

শেয়ার করুন

নাচে-গানে খাসিয়াদের বর্ষবিদায়

নাচে-গানে খাসিয়াদের বর্ষবিদায়

উৎসবের মঞ্চ এবার সাজানো হয়েছে বাঁশ, কলাপাতা ও সুপারিপাতা দিয়ে। মেলাও বসে সেখানে। অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয় কলাপাতায় মোড়ানো ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে নাচে-গানে উদযাপিত হয়েছে খাসিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহীয় বর্ষ বিদায় ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান খাসি সেং কুটস্নেম। খাসিয়ারা নিজস্ব আয়োজনে ১২২ তম বছরকে বিদায় জানিয়েছেন।

কমলগঞ্জেের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন মাগুরছড়া খাসি পুঞ্জি মাঠে মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই উৎসব। নাচ-গানের পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও আলোচনা সভারও।

ব্রিটিশ আমল থেকে খাসিয়ারা প্রতি বছরের ২৩ নভেম্বর এই অনুষ্ঠান করে আসছেন।

মাগুরছড়া পুঞ্জির মন্ত্রী ও খাসি সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি জিডিশন প্রধান সুচিয়াং জানান, খাসি সেং কুটস্নেম উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এই আয়োজন করা হয়।

তিনি জানান, খাসিয়া জনগোষ্ঠীর রয়েছে বৈচিত্র্যময় জীবনগাঁথা। প্রাচীন খাসি সমাজে দেবতার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশের মধ্য দিয়েই এ উৎসব পালিত হত। এরই ধারাবাহিকতায় এখন নিজেদের বিশেষ বর্ণিল পোশাকে সেজে এই সম্প্রদায়ের লোকজন উৎসবটি উদযাপন করে। দিনভর চলে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

উৎসবের মঞ্চ এবার সাজানো হয়েছে বাঁশ, কলাপাতা ও সুপারিপাতা দিয়ে। মেলাও বসে সেখানে। অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয় কলাপাতায় মোড়ানো ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে।

খাসিয়া তরুণী সালভেশন বলেন, ‘আমাদের এ উৎসব একটা মিলনমেলার মতো। উৎসবকে কেন্দ্র করে আমরা সবাই জড়ো হই। এ বছর করোনার কারণে উপস্থিতি কম। তারপরও যতটুকু হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট।’

আদিবাসী রক্ষা আন্দোলনের নেতা ফিলা ফতমি বলেন, ‘খাসিরা দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করে আসছেন। পাহাড়ের পাদদেশে বিভিন্ন টিলা এলাকায় তাদের বসবাস। দরিদ্র্যসীমার নিচে বাস করলেও তারা অত্যন্ত নিরীহ। তারা প্রকৃতির পূজারী।’

অনুষ্ঠানে ছিলেন বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জিডিসন প্রধান সুচিয়াঙ, লাউয়াছড়া খাসিয়া পুঞ্জি প্রধান ফিলা পত্মী, মণিপুরী সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আনন্দ মোহন সিংহ, সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক আকমল হোসেন নিপু, চা শ্রমিক নেতা পরিমল বাড়াইকসহ অনেকে।

উৎসব দেখতে জড়ো হন বাঙালি এবং বিদেশী পর্যটকরাও।

শেয়ার করুন

১ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে সম্মাননা

১ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে সম্মাননা

কুমিল্লার পাশাপাশি সম্মাননা পেয়েছে চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীর বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারও।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা সেনানিবাসে ১ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে সম্মাননা দেয়া হয়েছে।

সেনানিবাসের এম আর চৌধুরী প্রাঙ্গণে রোববার বিকেলে এই সম্মাননা দেয়া হয়।

কুমিল্লার পাশাপাশি সম্মাননা পেয়েছে চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীর বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারও।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপনে কেক কাটার পর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের হাতে সম্মাননা ও উপহার তুলে দেন সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও কুমিল্লা এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর হারুন।

অনুষ্ঠান শুরুর পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

এরিয়া কমান্ডার জাহাঙ্গীর বলেন, ‘দেশের উন্নয়নে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের কঠোর আত্মত্যাগ ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলা, অবকাঠামো নির্মাণ, আর্তমানবতার সেবা, পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন, জঙ্গি দমন, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।’

অনুষ্ঠানে ছিলেন জেলার বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সংবাদমাধ্যমকর্মীরা৷

শেয়ার করুন

বিবাদ মিটিয়ে আজ ‘হ্যালো’ বলুন

বিবাদ মিটিয়ে আজ ‘হ্যালো’ বলুন

যুদ্ধের ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে ১৯৭৩ সালের ২১ নভেম্বর প্রথম হ্যালো দিবস উদযাপন করেন দুই ম্যাককরমেক। এখন বিশ্বের প্রায় ১৮০টি দেশে এই দিনটির উদযাপন করা হয়।

মানুষের ভাবনা প্রকাশের অন্যতম ভালো মাধ্যম ভাষা। ভাষা এমন এক সেতু যার মধ্য দিয়ে মানুষ তার চিন্তা, অনুভূতি, ধারণা, অভিজ্ঞতা একে অপরের সঙ্গে বিনিময় করতে পারে।

শান্তিকামী একদল মানুষ বিশ্বাস করে, একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ বা কথা বলার মধ্য দিয়ে যে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব। তাই মানুষে মানুষে যোগাযোগ স্থাপনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন থেকে এসেছে ‘বিশ্ব হ্যালো দিবস’।

যাকে খুব অপছন্দ তাকেও ‘হ্যালো’ সম্ভাষণ জানিয়ে কাছে টানার সুযোগ নিতে পারেন আজ। মাত্র ১০ জন মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে উদযাপন করতে পারেন ৪৯তম হ্যালো দিবস।

যেভাবে এল দিনটি

১৯৭০ সাল। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আতঙ্ক, অজানা আশঙ্কা। মুখোমুখি অবস্থানে ইসরায়েল ও মিশর। মিশরের সমর্থনে আছে সিরিয়াও। যুদ্ধপরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে পুরো জনপদ।

তখনও কিছু মানুষ বলছিলেন, যুদ্ধ নয়, নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়িয়ে এই বিরোধের নিষ্পত্তি করুন। তাহলে প্রাণহানি যেমন থামানো যাবে, বিশ্বের সীমিত সম্পদের ক্ষতিও ঠেকানো যাবে।

তিন বছর ধরে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে, ১৯৭৩ সালের ৬ অক্টোবর শুরু হয় অক্টোবর বা ইয়োম কিপপুর যুদ্ধ। ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলা ওই যুদ্ধে হাজার হাজার সেনা ও বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারান। অনেক সেনা সদস্যরা যেমন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, অনেককে দেয়া হয়েছে মৃত্যুদণ্ড।

যুদ্ধ বেঁধে গেলেও আলোচনার মধ্য দিয়ে যে বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব, তার ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখেন অ্যারিজোনা স্টেস ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক ব্রায়ান ম্যাককরমেক এবং হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজেুয়েট মাইকেল ম্যাককরমেক। আর সেই বিশ্বাসটি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়োজন অনুভব করলেন তারা।

যুদ্ধের সেই ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে ১৯৭৩ সালের ২১ নভেম্বর প্রথম হ্যালো দিবস উদযাপন করেন দুই ম্যাককরমেক। এখন বিশ্বের প্রায় ১৮০টি দেশে এই দিনটির উদযাপন করা হয়।

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই দিনটির সম্ভাবনা অনুধাবন করতে পেরেছেন ৩১ নোবেল জয়ী। তাই দিনটি উদযাপনের পাশাপাশি যারা বিশ্ব শান্তিতে অবদান রাখতে চান, তাদের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

শেয়ার করুন

যবিপ্রবির ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের তৃতীয় বর্ষপূর্তি

যবিপ্রবির ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের তৃতীয় বর্ষপূর্তি

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অল্প সময়ে ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগটি নিজেদের প্রয়োজনীয়তা সবার সামনে তুলে ধরতে পেরেছে। এই বিভাগে ক্লিনিক্যাল সার্ভিস চালু করায় আমি খুবই আনন্দিত। এর ফলে আশপাশের মানুষ অল্প খরচে আধুনিক ফিজিওথেরাপি সেবা নিতে পারবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হবে।’

নানা কর্মসূচির মাধ্যমে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়েছে।

তৃতীয় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল আধুনিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার নানাদিক তুলে ধরা এবং এ পেশা ও চিকিৎসা সম্পর্কে মানুষকে সঠিকভাবে জানানো।

এই দিন উপলক্ষে র‍্যালি, কেক কাটা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ফিজিওথেরাপি বিভাগের ক্লিনিক্যাল সার্ভিস, ডিজিটাল ক্লাসরুম ও ফিজিওথেরাপি ডিজিটাল ল্যাবরেটরি উদ্বোধন করা হয়েছে।

ফিজিওথেরাপি বিভাগের ক্লিনিক্যাল সার্ভিস, ডিজিটাল ক্লাসরুম ও ফিজিওথেরাপি ডিজিটাল ল্যাবরেটরি উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, ‘অল্প সময়ে ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগটি নিজেদের প্রয়োজনীয়তা সবার সামনে তুলে ধরতে পেরেছে। এই বিভাগে ক্লিনিক্যাল সার্ভিস চালু করায় আমি খুবই আনন্দিত। এর ফলে আশপাশের মানুষ অল্প খরচে আধুনিক ফিজিওথেরাপি সেবা নিতে পারবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হবে।’

শেয়ার করুন

যে বার্তা নিয়ে পুরুষ দিবস

যে বার্তা নিয়ে পুরুষ দিবস

সংগৃহীত ছবি

ন্যাশনাল টুডে ডটকম শুধু যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য তুলে ধরে বলছে, বিনিদ্র রজনী যারা পার করছেন কিংবা বার বার ঘুম ভেঙে ছটফট করছেন তাদের ৮৭ শতাংশ পুরুষ। নিখোঁজ মানুষের যে সংখ্যা, সেই নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, তাদের ৭৩ শতাংশ পুরুষ। জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে যারা হচ্ছেন আত্মঘাতী, তাদের মধ্যে ৭৬ শতাংশ পুরুষ। উচ্চ কোলেস্টেরলেও পুরুষের সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তের হার ২৬ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে গেল বছর ২২ শতাংশ পুরুষ মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নানা সমস্যায় পড়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন।

পুরুষকে ঘিরে যে কঠোর, অনমনীয় ও নিরাবেগ ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে হাজার বছর ধরে, সেটির আড়ালে চাপা পড়ে যায় একজন পুরুষের হৃদয়ের অনেক হাহাকার। ফলে পুরুষও যে গোপনে ভাঙে, গোপনে কাঁদে তার প্রায় সবটিই থেকে যায় অজানা।

নারীর প্রতি দৃশ্যত কঠোর পুরুষও হয় বিরহকাতর। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মেলে দিয়েছেন সেই যাতনার ঝাঁপি। প্রেয়সীকে তিনি লেখেন, ‘আমার অন্তর্যামী জানেন, তোমার জন্য আমার হৃদয়ে কী গভীর ক্ষত; কী অসীম বেদনা।’

জীবনশাস্ত্র, সংসার, বেঁচে থাকার লড়াই পুরুষকে করে তুলছে নাজুক। পরিসংখ্যানও অবশ্য সেই নাজুক পরিস্থিতির স্বাক্ষ্য দিচ্ছে। ন্যাশনাল টুডে ডটকম শুধু যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য তুলে ধরে বলছে, বিনিদ্র রজনী যারা পার করছেন কিংবা বার বার ঘুম ভেঙে ছটফট করছেন তাদের ৮৭ শতাংশ পুরুষ। নিখোঁজ মানুষের যে সংখ্যা, সেই নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, তাদের ৭৩ শতাংশ পুরুষ।

জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে যারা হচ্ছেন আত্মঘাতী, তাদের মধ্যে ৭৬ শতাংশ পুরুষ। উচ্চ কোলেস্টেরলেও পুরুষের সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্তের হার ২৬ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে গেল বছর ২২ শতাংশ পুরুষ মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নানা সমস্যায় পড়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন।

তাই আজকের দিনটি পুরুষের জন্য। পুরুষের যত্ন-আত্তির দিন। শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে মানসিক স্থিতি ঠিক রাখতে নিজেকে ভালোবাসার দিন। ১৯ নভেম্বর বিশ্বের ৫৭টিরও বেশি দেশে ছোট কিংবা বড় পরিসরে দিনটি উদযাপিত হয়।

নারী দিবসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে দিনটি আসেনি। কবি নজরুল আবারও প্রাসঙ্গিক এখানে। তিনি লিখেছেন, ‘পৃথিবীতে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।’ এ সত্য মেনে পুরুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোই দিনটির মূল লক্ষ্য।

কীভাবে এলো পুরুষ দিবস

১৯৬৮ সালের কথা। সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করে সম্পাদকীয় লেখেন আমেরিকান সাংবাদিক জন পি হ্যারিস। ওই লেখায় খোদ সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতন্ত্রের আড়ালে বৈষম্য চলছে বলে দাবি করে বসলেন তিনি। কারণ হিসেবে হ্যারিস জানান, দেশটিতে নারী দিবস পালন করা হলেও, পুরুষের জন্য ছিল না আলাদা কোনো দিন।

নারীদের জন্য একটি বিশেষ দিন থাকার বিরোধিতা কিন্তু করেননি হ্যারিস। তার যুক্তি ছিল, শুধু নারীদের জন্য আলাদা দিন মানে এটা সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার ত্রুটি।

ওই লেখা আলোচনার জন্ম দিলেও পুরুষ দিবস পালনে প্রভাব ফেলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ১৯৯০ সালের গোড়ার দিকে বদল হলো দৃশ্যপটের। পুরুষদের জন্যও একটি বিশেষ দিন উদযাপনের কথা ভাবলেন মিসৌরি সেন্টার ফর মেনস স্টাডিজের পরিচালক থমাস ওয়েস্টার।

ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছোট পরিসরে আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবসের আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও মাল্টার কয়েকটি সংগঠনকে আহ্বান জানালেন ওয়েস্টার। দুই বছর ধরে বেশ সাফল্যও পেয়েছেন তিনি কিন্তু সেটাকে দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোতে আনতে পারেননি। বরং ১৯৯৫ সালে এসে ব্যর্থতার চিত্রটাই বড় হয়ে ওঠে, দিন পালনে পুরুষরাই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসলেন না। তাই অভিমান নিয়ে আয়োজন থেকে সরে দাঁড়ান ওয়েস্টার। এরপর অস্ট্রেলিয়ার আয়োজকরাও উৎসাহ হারান। তবে হাল ছাড়েনি মাল্টা। পৃথিবীর একমাত্র দেশ হিসেবে এই দিবস পালন করেছিলেন তারা।

পুনর্জন্ম

চার বছর পরের কথা। ১৯৯৯ সাল। ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোব্যাগোতে আবারও এক বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে পুরুষ দিবসকে পুনর্জীবন দেন জেরোম তেলুকাসিং। জেরোম ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

বাবাদের জন্যও একটি দিন আছে, কিন্তু যারা এখনও বাবা হননি, কিংবা যারা এখনও কিশোর, তরুণ তাদের উদযাপনে নেই কোনো বিশেষ দিন। এমন ভাবনা দারুণভাবে তাড়িত করে জেরোম তেলুকাসিংকে। মাথার মধ্যে ঘুরছিল, কী করা যায়। জেরোমের জন্মদাতা বাবাই ছিলেন সুপুরুষ হিসেবে তার জন্য বড় প্রেরণা।

তাই বিশ্ব পুরুষ দিবস উদযাপনে বাবার জন্মদিন ১৯ নভেম্বরকেই বেছে নিলেন জেরোম। সেদিন স্থানীয় একটি ক্লাবের ফুটবলারদেরও জড়ো করেছিলেন জেরোম। পুরুষ দিবস উদযাপন করে বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল পর্বে খেলার প্রত্যয় জানিয়েছিলেন তারা। অদ্ভুত বিষয় হলো, ২০০২ সালের বিশ্বকাপে মিস করলেও, ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলেছিল ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোব্যাগো।

জেরোমের হাত ধরে আবারও সামনে আসে পুরুষ দিবস। এই দিনে পুরুষতান্ত্রিকতার নেতিবাচক দিকগুলোকে ছাপিয়ে পুরুষ পরিচয়ের ইতিবাচক বিষয়গুলোকে সামনে আনার চেষ্টা হয়। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা এই দিনটির লক্ষ্য নয়। বরং পুরুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা বাড়ানো এবং পুরুষ পরিচয়ের গুণগুলোকে তুলে ধরাই দিনটির মূল লক্ষ্য।

জেরোম প্রবর্তিত এই দিনটি এখন পৃথিবীর অনেক দেশেই উদযাপিত হয়। যদিও ১৯৯৪ সাল থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পুরুষ দিবস পালন করে আসছিল মাল্টা। ২০০৯ সালে এসে তারাও বদল আনে তারিখে। এখন ১৯ নভেম্বরই পুরুষ দিবস।

শেয়ার করুন