মুগদা হাসপাতালে আগুন, দগ্ধ ৪

মুগদা হাসপাতালে আগুন, দগ্ধ ৪

রাজধানীর মুগদা হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ফায়ার সার্ভিসের সাত ইউনিট। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

মুগদা থানার এসআই প্রাণতোষ বণিক বৃহস্পতিবার দুপুরে নিউজবাংলাকে জানান, দগ্ধ চারজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে আগুনে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন, এর মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।

তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রাণতোষ বণিক বৃহস্পতিবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের ৬ তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। হাসপাতালের ৬ তলায় নির্মাণাধীন আইসিইউ ফ্লোরে আগুনটি মূলত ছড়ায়, তবে আইসিইউ নির্মাণাধীন থাকায় এখানে কোনো রোগী ছিল না।’

দগ্ধরা হলেন মুগদা মেডিক্যাল কলেজের সিনিয়র স্টাফ নার্স মনিকা পেরারা, নার্স মেরী আক্তার, নার্স রুমি খাতুন, ওয়ার্ড বয় নাজমুল হোসেন ও নার্স জহিরুল হক।

বিস্ফোরণে কাচের টুকরা লেগে আহতরা হলেন ময়মনসিংহ থেকে টিকা নিতে আসা সাইদুল ইসলাম, অপসোনিনের বিক্রয় প্রতিনিধি ওমর ফারুক, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিউর সিনিয়র নার্স শাহীনা আক্তার ও ওয়ার্ড বয় আলমগীর হোসেন।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক এস এম আইয়ুব আহসান বলেন, ‘মুগদা হাসপাতালে হঠাৎ এসি বিস্ফোরণের ঘটনায় আমাদের এখানে নয়জন রোগী এসেছে। এদের মধ্যে পাঁচজনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্নে ভর্তি করানো হয়েছে। আহত চারজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দগ্ধদের মধ্যে একজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) পাঠানো হয়েছে। এদের শরীরের ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে।’

এর আগে ফায়ার সার্ভিস জানায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আগুন লাগে। বাহিনীর সাত ইউনিট ১২টা ৫৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া অফিসার মো. রায়হান নিউজবাংলাকে জানিয়েছিলেন, হাসপাতালের ছয় তলায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের তিন ইউনিট খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে যায়। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় আরও চার ইউনিট।

আরও পড়ুন:
মুগদা হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে
কালীগঞ্জে আগুনে পুড়ল ৬০০ মণ পাট
আগুনে পুড়ল আ.লীগ অফিসসহ ১০ দোকান
খাগড়াছড়িতে মন্দিরের পাশে আগুন, পুড়েছে ৬ দোকান
শোবার ঘরে আগুন: ভাইয়ের পর বোনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অনাবিল পরিবহনের সুপারভাইজার গ্রেপ্তার

অনাবিল পরিবহনের সুপারভাইজার গ্রেপ্তার

র‍্যাব হেফাজতে অনাবিল পরিবহনের সুপারভাইজার গোলাম রাব্বী ওরফে রহমান। ছবি: সংগৃহীত

রামপুরা বাজার এলাকায় সোমবার রাতে একরামুন্নেসা স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী মাইনুদ্দিনকে অনাবিল পরিবহনের একটি বাস চাপা দেয়। ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হলে এলাকার লোকজন অনাবিল পরিবহনের বাসটি আটক করে। বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটির চালককে গণপিটুনির পর পুলিশে সোপর্দ করলেও সুপারভাইজার ও হেলপার পালিয়ে যান।

রাজধানীর রামপুরায় অনাবিল পরিবহনের বাসের চাপায় শিক্ষার্থী মঈনুদ্দিন ইসলাম দুর্জয়ের মৃত্যুর ঘটনায় বাসটির সুপারভাইজার গোলাম রাব্বী ওরফে রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সায়েদাবাদ এলাকা থেকে র‍্যাব-৩ তাকে গ্রেপ্তার করে।

র‍্যাব-৩ এর সহকারী পুলিশ সুপার ফারজানা হক জানান, সোমবার রাতে রামপুরা বাজার এলাকায় একরামুন্নেসা স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী মাইনুদ্দিনকে অনাবিল পরিবহনের একটি বাস চাপা দেয়। ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হলে এলাকার লোকজন অনাবিল পরিবহনের বাসটি আটক করে।

বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটির চালককে গণপিটুনির পর পুলিশে সোপর্দ করে। তবে বাসটির সুপারভাইজার ও হেলপার পালিয়ে যান।

তিনি আরও জানান, র‌্যাব-৩ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সায়েদাবাদ থেকে অনাবিল বাসের সুপারভাইজার গোলাম রাব্বীকে গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাব্বী দাবি করেছেন, বাসটির অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। বাস চাপায় একজনের মৃত্যুর বিষয় টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। এরপর ঢাকার বাইরে আত্মগোপনে যেতে সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছলে র‍্যাব তাকে ধরে ফেলে।

এর আগে মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর র‍্যাবের হাতে ধরা পড়েন অনাবিল পরিবহনের হেলপার চান মিয়া। তিনিও স্বীকার করেন, বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল বলেই স্কুলছাত্র মঈনুদ্দিন চাপা পড়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়।

সোমবার রাতে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় অনাবিল পরিবহনের একটি বাসের চাপায় ঘটনাস্থলের নিহত হয় শিক্ষার্থী মঈনুদ্দিন। এ ঘটনার পর আশপাশের উত্তেজিত লোকজন ধাওয়া করে বাসটির চালককে ধরে পিটুনি দেন।

ঘটনাস্থলে জ্ঞান হারানোর পর পুলিশ বাসচালক সোহেল রানাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। ওই ঘটনায় রামপুরায় ১২টি বাসে আগুন-ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে রামপুরা ব্রিজ এলাকায় সড়ক অবরোধ করে স্কুলছাত্র নিহতের ঘটনার বিচার দাবি করে বিক্ষোভ করা হয়। ৫ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সড়ক অবরোধের পর বেলা ৩টার পর সড়ক ছাড়েন শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
মুগদা হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে
কালীগঞ্জে আগুনে পুড়ল ৬০০ মণ পাট
আগুনে পুড়ল আ.লীগ অফিসসহ ১০ দোকান
খাগড়াছড়িতে মন্দিরের পাশে আগুন, পুড়েছে ৬ দোকান
শোবার ঘরে আগুন: ভাইয়ের পর বোনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশে হাফ ভাড়া চান শিক্ষার্থীরা

শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশে হাফ ভাড়া চান শিক্ষার্থীরা

নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিআরটিএ ভবনের সামনে মঙ্গলবার দুপুরে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: রাহুল শর্মা/নিউজবাংলা

সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে বুধবার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়ে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে বিআরটিএ ছাড়েন শিক্ষার্থীরা।

শুধু ঢাকা মহানগরে হাফ ভাড়া কার্যকরের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সামনে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীরা।

সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে বুধবার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়ে বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে তারা বিআরটিএ ছাড়েন।

এর আগে স্টেট ইউনিভার্সিটির ছাত্র ইনজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল বিআরটিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে ৯ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

বৈঠক শেষে বেরিয়ে ইনজামুল জানান, দাবি পূরণের বিষয়ে তেমন আশ্বাস মেলেনি।

স্টেট ইউনিভার্সিটির এ শিক্ষার্থী বলেন, ‘কাল (বুধবার) সারা দেশে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু ঢাকা মহানগরের মধ্যেই ছাত্ররা পড়ালেখা করে না। সারা দেশে ছাত্ররা পড়ালেখা করছে।

‘যদি হাফ পাস ভাড়া দিতে হয়, একসঙ্গে একযোগে সারা দেশে ছাত্রদের হাফ পাস ভাড়ার দাবি মেনে নিতে হবে। শুধু মুখের কথায় হবে না। আইন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে হবে।’

মঙ্গলবার বেলা ১টা ২৫ মিনিট থেকে বিআরটিএ ভবনের সামনে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা।

ওই সময় তারা ‘নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘ছাত্ররা মরবে কেন প্রশাসন জবাব চাই’য়ের মতো বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশে হাফ ভাড়া চান শিক্ষার্থীরা

৯ দফা দাবি

বিআরটিএ ভবনের সামনে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীরা ৯ দফা দাবি করেন।

১. দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে শিক্ষার্থীসহ সব সড়ক হত্যার বিচার করতে হবে ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

২. ঢাকাসহ সারা দেশে সকল গণপরিবহনে (সড়ক, নৌ, রেলপথ ও মেট্রোরেল) শিক্ষার্থীদের হাফ পাস নিশ্চিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।

৩. গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং জনসাধারণের চলাচলের জন্য যথাস্থানে ফুটপাত, ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা দ্রুততর সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।

৪. সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সব যাত্রী এবং পরিবহন শ্রমিকের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।

৫. পরিকল্পিত বাস স্টপেজ ও পার্কিং স্পেস নির্মাণ ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।

৬. দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ও যথাযথ তদন্তসাপেক্ষে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা মহলকে নিতে হবে।

৭. বৈধ ও অবৈধ যানবাহন চালকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বৈধতার আওতায় আনতে হবে এবং বিআরটিএর সব কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

৮. আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ঢাকাসহ সারা দেশে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা অবিলম্বে স্বয়ংক্রিয় ও আধুনিকায়ন এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে হবে।

৯. ট্রাফিক আইনের প্রতি জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য একে পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে হবে।

বাস ভাড়া অর্ধেকসহ নিরাপদ সড়কের দাবিতে কয়েক দিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের এ আন্দোলনের মধ্যে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি জানায়, ঢাকা মহানগরে কিছু শর্তসাপেক্ষে হাফ ভাড়ায় চলতে পারবেন শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
মুগদা হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে
কালীগঞ্জে আগুনে পুড়ল ৬০০ মণ পাট
আগুনে পুড়ল আ.লীগ অফিসসহ ১০ দোকান
খাগড়াছড়িতে মন্দিরের পাশে আগুন, পুড়েছে ৬ দোকান
শোবার ঘরে আগুন: ভাইয়ের পর বোনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

নটর ডেম শিক্ষার্থীর মৃত্যু: এবার মূল চালকের স্বীকারোক্তি

নটর ডেম শিক্ষার্থীর মৃত্যু: এবার মূল চালকের স্বীকারোক্তি

ডিএসসিসির ময়লাবাহী গাড়ির ধাক্কায় নিহত নটর ডেমের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের কাছ থেকে পাওয়া যায় লাইব্রেরি কার্ডটি। ফাইল ছবি

মঙ্গলবার দুই দিনের রিমান্ড শেষে ডাম্প ট্রাকের মূল চালক হারুন মিয়াকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার পুলিশের উপপরিদর্শক আনিছুর রহমান। আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ময়লাবাহী গাড়ির চাপায় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের নিহতের ঘটনায় করা মামলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. রাসেল খানের পর এবার ওই ডাম্প ট্রাকের মূল চালক হারুন মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার দুই দিনের রিমান্ড শেষে হারুন মিয়াকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার পুলিশের উপপরিদর্শক আনিছুর রহমান। আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

পল্টন থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোতালেব হোসেন এ তথ্য নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

গত ২৭ নভেম্বর মামলার তদন্তের স্বার্থে হারুন মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দুই দিনের হেফাজতে পায় পুলিশ।

এ মামলায় সোমবার পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল খান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার ঘটনায় জানা যায়, গত ২৪ নভেম্বর বেলা ১১টার দিকে গুলিস্তান বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের দক্ষিণ পাশে নটর ডেম কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানকে ধাক্কা দেয় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি ডাম্প ট্রাক (রেজি: নম্বর ঢাকা মেট্রো শ ১১-১২৪৪)। এ সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল খান।

পরে গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ও টহলরত পুলিশ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ অফিসের পূর্বপাশ থেকে ঘাতক ট্রাক ও চালকের আসনে থাকা রাসেল খানকে আটক করে।

এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর বাবা শাহ আলম দেওয়ান পল্টন থানায় সড়ক দুর্ঘটনা আইনে মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
মুগদা হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে
কালীগঞ্জে আগুনে পুড়ল ৬০০ মণ পাট
আগুনে পুড়ল আ.লীগ অফিসসহ ১০ দোকান
খাগড়াছড়িতে মন্দিরের পাশে আগুন, পুড়েছে ৬ দোকান
শোবার ঘরে আগুন: ভাইয়ের পর বোনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

আদালত প্রাঙ্গণেও বেপরোয়া পাপিয়া

আদালত প্রাঙ্গণেও বেপরোয়া পাপিয়া

শামীমা নুর পাপিয়া। ফাইল ছবি

মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইনের আদালতে হাজিরা দিতে আনা হয় শামিমা নুর পাপিয়াকে। এ সময় তিনি ঝালমুড়ি আর চানাচুরে মত্ততা দেখান। কাঠগড়ায় সহযোগী অন্য আসামিদের সঙ্গে দফায় দফায় শলাপরামর্শও করেন তিনি।

যুব মহিলা লীগ থেকে বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নুর পাপিয়া আদালত প্রাঙ্গণেও বেপরোয়া আচরণ দেখালেন। মামলার আসামি হিসাবে আদালতে হাজিরা দিতে এসে ঝালমুড়ি আর চানাচুরে মত্ততা দেখালেন এই আলোচিত নারী। বেশ আয়েশ করে পানি পান করতেও দেখা যায় তাকে।

কম যাননি পাপিয়ার শুভাকাঙ্ক্ষী এক ব্যক্তিও। মুড়ি-চানাচুর আর পানির সুবিধা দিতে এক নারী পুলিশ সদস্যকে টিপস দিতে দেখা গেছে তাকে। এজলাস কক্ষের ছবি তোলা নিষিদ্ধ থাকায় ওই ঘটনা ক্যামেরায় ধারণ করা যায়নি।

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইনের আদালতে হাজিরা দিতে আনা হয় শামিমা নুর পাপিয়াকে। তিনি আইনজীবীদের বসার জন্য এজলাস কক্ষে স্থাপন করা সোফায় বসা থাকেন। এক পর্যায়ে কাঠগড়ায় দাঁড়ানো সহযোগী অন্য আসামিদের সঙ্গে তাকে নিচু স্বরে দফায় দফায় শলাপরামর্শ করতেও দেখা যায়। আদালতে তার এমন ব্যতিক্রমী আচরণ উপস্থিত অন্য অনেকেরই নজর কাড়ে।

একই আদালতে রমজান আলী নামে আরেক মামলার এক আসামির হাজিরা ছিল। পাপিয়ার এমন আচরণ দেখে তিনি অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এরা যেখানেই যাক শান্তিতেই থাকে। আদালতের এজলাস কক্ষে এসেও যাচ্ছেতাই আচরণ করছে। আর আমরা মিথ্যা মামলার ঘাণি টানছি।’

অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে গত বছরের ১০ অক্টোবর শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমনকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় আদালত। ঢাকার ১ নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক কেএম ইমরুল কায়েশ ওই রায় শোনার সময়ও তাদের মধ্যে কোনো ভাবান্তর দেখা যায়নি।

আলোচিত এই দম্পতির বিরুদ্ধে আরো চারটি মামলা বিচারাধীন। তার মধ্যে অস্ত্র আইনের এই মামলায় সবার আগে তাকে ওই সাজা শোনানো হয়।

অস্ত্র আইনের ১৯ এর ‘এ’ ধারায় অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে পাপিয়া ও সুমনকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আর ১৯ এর ‘এফ’ ধারায় অবৈধভাবে গুলি রাখার দায়ে দেয়া হয়েছে সাত বছরের কারাদণ্ড। দুই ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে বলে এই দম্পতিকে মোট ২০ বছরের সাজাই খাটতে হবে।

এই দম্পতির বিরুদ্ধে আরো পাঁচটি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে মানি লন্ডারিংয়ের একটি মামলা তদন্তাধীন। বিশেষ ক্ষমতা আইনের তিনটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। আর দুর্নীতি দমন কমিশনের এক মামলায় আজ অভিযোগ গঠন করা হয়। জাল টাকা উদ্ধারের ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও দন্ডবিধিতে পৃথক দুটি মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। আরেকটি মাদক আইনের মামলায়ও সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

একটি মামলায় সাজাসহ মোট ছয়টি মামলার আসামি এই দম্পতি কারাগারের ভেতরেও দোর্দণ্ড প্রতাপে ছড়ি ঘোরান বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্ট আদালতে অন্য মামলায় হাজিরা দিতে আসা আসামিরা।

আরও পড়ুন:
মুগদা হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে
কালীগঞ্জে আগুনে পুড়ল ৬০০ মণ পাট
আগুনে পুড়ল আ.লীগ অফিসসহ ১০ দোকান
খাগড়াছড়িতে মন্দিরের পাশে আগুন, পুড়েছে ৬ দোকান
শোবার ঘরে আগুন: ভাইয়ের পর বোনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

মঈনুদ্দিনকে বাসচাপা দেয়ার কথা স্বীকার

মঈনুদ্দিনকে বাসচাপা দেয়ার কথা স্বীকার

র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনার পর মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকা থেকে চান মিয়াকে আটক করা হয়। চান মিয়া ওই অনাবিল বাসের হেলপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অনাবিল পরিবহনের বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল বলেই স্কুলছাত্র মঈনুদ্দিন চাপা পড়ে ঘটনাস্থলে মারা যায় বলে স্বীকার করেছেন বাসটির সহকারী চান মিয়া।

আটক হওয়ার পর র‍্যাবের কাছে এমন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায় র‍্যাব।

সংস্থাটির গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনার পর মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকা থেকে চান মিয়াকে আটক করা হয়। চান মিয়া ওই অনাবিল বাসের হেলপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

দুর্ঘটনার পর চান মিয়া ঢাকা ছাড়ার জন্য সায়েদাবাদ গিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন।

সোমবার রাতে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় অনাবিল পরিবহনের একটি বাসের চাপায় ঘটনাস্থলের নিহত হয় শিক্ষার্থী মঈনুদ্দিন। এ ঘটনার পর আশপাশের উত্তেজিত লোকজন ধাওয়া করে বাসটির চালককে ধরে পিটুনি দেন।

ঘটনাস্থলে জ্ঞান হারানোর পর পুলিশ বাসচালক সোহেল রানাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

ওই ঘটনায় রামপুরায় ১২টি বাসে আগুন-ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে রামপুরা ব্রিজ এলাকায় সড়ক অবরোধ করে স্কুলছাত্র নিহতের ঘটনার বিচার দাবি করে বিক্ষোভ করা হয়। ৫ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সড়ক অবরোধের পর বেলা ৩টার পর সড়ক ছাড়েন শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
মুগদা হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে
কালীগঞ্জে আগুনে পুড়ল ৬০০ মণ পাট
আগুনে পুড়ল আ.লীগ অফিসসহ ১০ দোকান
খাগড়াছড়িতে মন্দিরের পাশে আগুন, পুড়েছে ৬ দোকান
শোবার ঘরে আগুন: ভাইয়ের পর বোনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

ফ্লাইওভারের নিচে বৃদ্ধের মরদেহ

ফ্লাইওভারের নিচে বৃদ্ধের মরদেহ

শ্যামপুর থানার এসআই সাকিব হোসেন জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।

রাজধানীর জুড়াইন রেলগেট এলাকায় ফ্লাইওভারের নিচ থেকে অজ্ঞাত এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শ্যামপুর থানার এসআই সাকিব হোসেন জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ওই ব্যক্তি কিছুদিন আগে জুড়াইন এলাকায় আসেন। বেশকিছু দিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি মারা যান। তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় জানা যায়নি। তার পরনে ছিল লুঙ্গি ও ফুলহাতা গেঞ্জি।

আরও পড়ুন:
মুগদা হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে
কালীগঞ্জে আগুনে পুড়ল ৬০০ মণ পাট
আগুনে পুড়ল আ.লীগ অফিসসহ ১০ দোকান
খাগড়াছড়িতে মন্দিরের পাশে আগুন, পুড়েছে ৬ দোকান
শোবার ঘরে আগুন: ভাইয়ের পর বোনের মৃত্যু

শেয়ার করুন

ডিআরইউর নেতৃত্বে মিঠু-হাসিব

ডিআরইউর নেতৃত্বে মিঠু-হাসিব

ডিআরইউ নির্বাচনে জয়ীদের একাংশের উচ্ছ্বাস। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

প্রাপ্ত ফলে সভাপতি পদে নির্বাচিত হন জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএমের বাংলাদেশ প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম মিঠু। আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন বাংলাদেশ পোস্টের বিশেষ প্রতিনিধি নূরুল ইসলাম হাসিব।

দেশে রিপোর্টারদের সবচেয়ে বড় সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নেতৃত্বে এসেছেন নজরুল ইসলাম মিঠু ও নূরুল ইসলাম হাসিব।

আগামী এক বছরের জন্য সংগঠনের নেতৃত্ব দেবেন তারা।

দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে সংগঠনটির নির্বাচন শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফল ঘোষণা করা হয়।

প্রাপ্ত ফলে সভাপতি পদে নির্বাচিত হন জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএমের বাংলাদেশ প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম মিঠু এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন বাংলাদেশ পোস্টের বিশেষ প্রতিনিধি নূরুল ইসলাম হাসিব।

সভাপতি পদে মিঠুর প্রাপ্ত ভোট ৪৪৯টি। সাধারণ সম্পাদক পদে হাসিব পান ৫০০টি ভোট।

সহসভাপতি পদে ৩৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন ওসমান গনি বাবুল। ৮৩২ ভোট পেয়ে যুগ্ম সম্পাদক হন শাহনাজ শারমীন। ৬৭৮ ভোট পেয়ে অর্থ সম্পাদক হন এস এম এ কালাম।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৮৭৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন আব্দুল্লাহ আল কাফি। ৭১৫ ভোট পেয়ে দপ্তর সম্পাদক হন রফিক রাফি।

৮৫৯ ভোট পেয়ে নারীবিষয়ক সম্পাদক হন তাপসী রাবেয়া আঁখি। অন্যদিকে ৭২৩ ভোটে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হন কামাল উদ্দিন সুমন।

কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় একমাত্র প্রার্থী হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক হন কামাল মোশারেফ। আপ্যায়ন সম্পাদক হন মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান।

মাকসুদা লিসা ৭২৩ ভোট পেয়ে ক্রীড়া সম্পাদক, নাদিয়া শারমিন ৯৭৩ ভোট পেয়ে সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং জাহাঙ্গীর কিরণ ৫০১ ভোট পেয়ে কল্যাণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হন হাসান জাবেদ, মাহমুদুল হাসান, সোলাইমান সালমান, সুশান্ত কুমার সাহা, মো. আল আমিন এবং এস কে রেজা পারভেজ।

এবারের নির্বাচনে ১ হাজার ৭২২ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ হাজার ৪৫৪ জন। এর মধ্যে একটি ভোট বাতিল হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মুগদা হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে
কালীগঞ্জে আগুনে পুড়ল ৬০০ মণ পাট
আগুনে পুড়ল আ.লীগ অফিসসহ ১০ দোকান
খাগড়াছড়িতে মন্দিরের পাশে আগুন, পুড়েছে ৬ দোকান
শোবার ঘরে আগুন: ভাইয়ের পর বোনের মৃত্যু

শেয়ার করুন