বাংলাদেশ সকল ধর্মের, সকল বর্ণের: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ সকল ধর্মের, সকল বর্ণের: প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের নবনির্মিত অফিস ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাধীনতা যুদ্ধে কোনো ধর্মীয় পরিচয় দেখা হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন সেখানে কিন্তু কোনো ধর্ম দেখে না। যারা রক্ত দিয়েছেন তাদের সকলের রক্ত, যে যে ধর্মের হোক একাকার হয়ে মিশে গেছে। কাজেই এটা সবার মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ সকল ধর্মের, সকল বর্ণের, সব শ্রেণি পেশার মানুষের। সকলেই একটা মর্যাদা নিয়ে চলবে, সম্মান নিয়ে চলবে, সেটাই আমাদের স্মরণ রাখতে হবে।’

শারদীয় দুর্গাপূজার সময় ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে সব ধর্মের লোকদের সম্প্রীতি নিয়ে বাস করতে হবে।

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের নবনির্মিত অফিস ভবনের উদ্বোধনী আয়োজনে বৃহস্পতিবার দুপুরে গণভবন প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সরকার প্রধান।

বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনাতেই থাকবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশে আমরা অসাম্প্রদায়িক সমাজে বসবাস করি। সেখানে সকল ধর্মের সঙ্গে আমাদের সম্প্রীতি থাকবে। সম্প্রীতি নিয়েই আমাদের চলতে হবে। যুগ যুগ ধরেই কিন্তু সকল ধর্মের মানুষ আমরা একসঙ্গে বসবাস করে আসছি।’

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কোনো ধর্মীয় পরিচয় দেখা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন সেখানে কিন্তু কোনো ধর্ম দেখে না। যারা রক্ত দিয়েছেন তাদের সকলের রক্ত, যে যে ধর্মের হোক একাকার হয়ে মিশে গেছে। কাজেই এটা সবার মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ সকল ধর্মের, সকল বর্ণের, সব শ্রেণি পেশার মানুষের। সকলেই একটা মর্যাদা নিয়ে চলবে, সম্মান নিয়ে চলবে, সেটা আমাদের স্মরণ রাখতে হবে।’

কুমিল্লার ঘটনাটি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটে গেছে সেটা খুব দুঃখজনক। কারণ মানবধর্মকে সম্মান করা এটা ইসলামের শিক্ষা। নিজের ধর্ম পালনের অধিকার যেমন সবার আছে, অন্যের ধর্মকেও কেউ হেয় করতে পারে না। এটা ইসলাম শিক্ষা দেয় না। আর নিজের ধর্মকে সম্মান করার সঙ্গে সঙ্গে অন্যের ধর্মকেও সম্মান করতে হয়। আর অন্যের ধর্মকে যদি হেয় করা হয়, তাহলে নিজের ধর্মকে অসম্মান করা হয়।’

কুমিল্লার ঘটনায় অন্য ধর্মকে অসম্মান করতে গিয়ে পবিত্র কোরআন শরীফ অবমাননা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমাদের পবিত্র কোরআন শরীফকে অবমাননা করেছে অন্যের ধর্মকে অসম্মান করতে গিয়ে। এটাই হচ্ছে সব থেকে দুঃখজনক। আমি এটাই বলব, যার যার নিজের ধর্মের সম্মান নিজেকে রক্ষা করতে হবে।’

আইন নিজের হাতে তুলে না নিতেও সবাইকে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আরেকটি কথা, আইন কেউ হাত তুলে নেবে না। কেউ যদি অপরাধ করে সে যেই হোক অপরাধীদের বিচার হবে। আমাদের সরকার সেই বিচার করবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নবী করিম (সা.) বলেছেন, ধর্ম নিয়ে কেউ বাড়াবাড়ি করবে না। আমাদের সবারই সে কথাটা মেনে চলতে হবে। সে কথাটা স্মরণ করতে হবে। সেই কথাটা জানতে হবে। তাহলেই আমাদের ইসলামের প্রকৃত শিক্ষাটা পাব। প্রতিটি ধর্মই শান্তির বাণীর কথা বলে। সকলেই শান্তি চায়।’

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আমরা জানি যে, সবসময় এরকম একেকটা ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। অথচ বাংলাদেশটা আজকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা মুজিববর্ষ উদযাপন করছি, আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। এই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে, মুজিববর্ষে আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এই মর্যাদা রক্ষা করে আমাদের উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে।’

সম্প্রীতি রক্ষায় আওয়ামী লীগকে নির্দেশনা

দেশের কোথাও যাতে সাম্প্রদায়িক সংঘাত না হয়, সেজন্য সারা দেশের আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের এলাকায় এলাকায় নজরদারি বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। প্রত্যেকটা এলাকায় এলাকায় আমাদের নেতা-কর্মীদেরকে নজরদারি বাড়াতে হবে এবং শান্তি সম্মেলন, শান্তি মিছিল, শান্তির সভা করতে হবে।’

সারা দেশে সম্প্রীতির ব্যবস্থা নিতেও দলীয় কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু কন্যা। বলেন, ‘যাতে কোনো প্রকার সংঘাত দেখা না দেয়। কারণ এই মাটিতে প্রতিটা ধর্মের মানুষ, সে মুসলমান হোক, হিন্দু হোক, খ্রিস্টান হোক, বোদ্ধ হোক সকলেই যেন ভালোভাবে বাঁচতে পারে।

‘আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মনে রাখতে হবে, আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছে মানুষের সেবা করতে।’

এসময় কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন কার্যালয় প্রসঙ্গে দলটির প্রধান বলেন, ‘যেহেতু এটা কুমিল্লা শহরে, এটাকে শুধু মহানগর অফিস বললে হবে না, এটা কুমিল্লা আওয়ামী লীগ অফিসই বলতে হবে।’

আরও পড়ুন:
কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না
গণতদন্ত কমিটি গঠনের দাবি নাগরিক সমাজের
চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০
‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

না.গঞ্জ সিটিসহ তিন নির্বাচন ১৬ জানুয়ারি

না.গঞ্জ সিটিসহ তিন নির্বাচন ১৬ জানুয়ারি

ফাইল ছবি

টাঙ্গাইল-৭ আসন ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এবং নোয়াখালী সদর, নাটোর সদর, বাগাতিপাড়া, যশোরের ঝিকরগাছা ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, টাঙ্গাইল-৭ আসন এবং দেশের পাঁচটি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১৬ জানুয়ারি। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের ৯১তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভা শেষে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন কবির খোন্দকার নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে তফসিল ঘোষণা করেন।

ইসি সচিব বলেন, সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া টাঙ্গাইল-৭ আসন ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। নানা কারণে নির্বাচন আটকে থাকা পাঁচ পৌরসভার ভোটও একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। পৌরসভাগুলো হলো- নোয়াখালী সদর, নাটোর সদর ও বাগাতিপাড়া, যশোরের ঝিকরগাছা এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভা।

সচিব হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৫ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ২০ ডিসেম্বর ও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৭ ডিসেম্বর।

‘নাটোর পৌরসভা নির্বাচন মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে স্থগিত করা হয়েছিল। তাই ওই অবস্থা থেকেই আবার এই পৌরসভায় নির্বাচন শুরু হবে। যারা এর আগে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন, তাদের নতুন করে আর মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে না।’

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ সিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে এ‌ই সিটিতে নির্বাচন হয়। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি এই সিটির জনপ্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পঞ্চম ধাপের পুনঃতফসিল ঘোষণা করা হয়। আগের ঘোষণা অনুসারেই ৫ জানুয়ারি নির্বাচন হবে। তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে সময় কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ৯ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১২ ডিসেম্বর এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ ডিসেম্বর করা হয়।

এর আগে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ ৯ ডিসেম্বর এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল ১৫ ডিসেম্বর।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না
গণতদন্ত কমিটি গঠনের দাবি নাগরিক সমাজের
চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০
‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’

শেয়ার করুন

খালেদার ফের রক্তক্ষরণ: ফখরুল

খালেদার ফের রক্তক্ষরণ: ফখরুল

নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা নিয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে দলের মহাসচিব বলেন, ‘আশঙ্কা করেছিলাম, যেটা ভয় পাচ্ছিলাম। আমরা যেটা বলেছি, যেকোনো সময় আবার রক্তক্ষরণ হতে পারে। বন্ধুগণ কাল সন্ধ্যায় আবার তার রক্তক্ষরণ হয়েছে।’

লিভার সিরোসিসের কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আবার রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘কাল সন্ধ্যায় এ জেড এম জাহিদ হোসেন আমাকে ফোন করে বললেন যেতে। তার (খালেদা জিয়ার) চিকিৎসা করছেন প্রায় ১০ জন। তারা বসে আছেন। প্রত্যেকের মুখ অত্যন্ত...বলা যেতে পারে অত্যন্ত চিন্তিত মুখ।

‘আমি ঘরে ঢুকে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলাম কী হয়েছে। তারা বললেন, আমরা যেটা আশঙ্কা করেছিলাম, যেটা ভয় পাচ্ছিলাম। আমরা যেটা বলেছি, যেকোনো সময় আবার রক্তক্ষরণ হতে পারে। বন্ধুগণ কাল সন্ধ্যায় আবার তার রক্তক্ষরণ হয়েছে।’

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড গত রোববার সংবাদ সম্মেলনে জানায়, বিএনপি নেত্রীর যকৃৎ বা লিভারে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। একবার এই রক্তক্ষরণ সামাল দেয়া গেছে। তবে এখন তার যে অবস্থা, সেটি আবার সামাল দেয়া কঠিন হবে।ৎ

বাংলাদেশে দুই থেকে তিনবার রক্তক্ষরণ সামাল দেয়ার কারিগরি সুযোগ নেই দাবি করে যত দ্রুত সম্ভব তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন চিকিৎসকরা।

১৩ নভেম্বর বিকেলে খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে এভারকেয়ারে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হওয়ায় পরের দিন ভোরে তাকে সিসিইউতে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার।

খালেদার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য তার পরিবার ও দল থেকে সরকারের প্রতি বারবার আহ্বান জানানো হলেও তাতে সাড়া মিলছে না।

দণ্ডবিধির ৪০১ ধারা ব্যবহার করে দুর্নীতির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের দণ্ড স্থগিত করিয়ে ২০২০ সালের মার্চে তার মুক্তির ব্যবস্থা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময়ই শর্ত ছিল তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।

দল থেকে বলা হচ্ছে, তাদের নেত্রীর অবস্থা ‘ভ্যারি ক্রিটিক্যাল’। তাকে অবিলম্বে বিদেশে নেয়া দরকার।

ফখরুল বলেন, ‘চেয়াপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারকে বিভিন্ন দেশ থেকে চাপ দিয়েছে। সরকার মিথ্যা কথা বলছে। আপনারা জনগণের সঙ্গে প্রত্যারাণা করেন।

‘আপনারা বলছেন আইনের কারণে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে দেয়া হচ্ছে না। আপনারা মিথ্যা কথা বলছেন। আইন অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানো যায়। বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হলে আপনাদের (সরকার) কোনো দিনও মাফ করবেন না দেশের জনগণ।’

আরও পড়ুন:
কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না
গণতদন্ত কমিটি গঠনের দাবি নাগরিক সমাজের
চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০
‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’

শেয়ার করুন

ষাটোর্ধ্বরা পাবেন বুস্টার ডোজ

ষাটোর্ধ্বরা পাবেন বুস্টার ডোজ

৬০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য টিকার বুস্টার ডোজ চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। ফাইল ছবি

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘যারা ষাটোর্ধ্ব অথবা যারা অসুস্থ, তাদের বুস্টার ডোজের আওতায় আমরা নিয়ে আসতে চাই। এ বিষয়ে আমরা একটি সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। শিগগিরই যাতে তাদের বুস্টার ডোজ দিতে পারি। অনেক দেশেই এটা দিচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা মোটামুটি একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ৬০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের করোনা প্রতিরোধী টিকার বুস্টার ডোজ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার দেশে ওমিক্রন ঠেকাতে এক আন্ত: মন্ত্রণালয় সভা শেষে এ কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘দেশে করোনা সংক্রমণের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন বয়স্করা। তাই ৬০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য টিকার বুস্টার ডোজ চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আরেকটি বিষয় আমরা চিন্তা করেছি, যারা ষাটোর্ধ্ব অথবা যারা অসুস্থ, তাদের বুস্টার ডোজের আওতায় আমরা নিয়ে আসতে চাই। এ বিষয়ে আমরা একটি সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। শিগগিরই যাতে তাদের বুস্টার ডোজ দিতে পারি। অনেক দেশেই এটা দিচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা মোটামুটি একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

সভা শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আরও জানান,দেশের সব মানুষকে করোনা টিকার আওতায় আনতে ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিসের’ মতোই এবার ‘নো ভ্যাকসিন, নো সার্ভিস’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এরই মধ্যে ১০ কোটি ডোজ টিকা দেয়া হয়ে গেছে। এরমধ্যে সিঙ্গেল ডোজ প্রায় ৬ কোটির মতো আর ডাবল ডোজও প্রায় ৪ কোটির কাছাকাছি হয়ে গেছে। সব পর্যায়ের মানুষকে টিকা দেয়ার জন্য আমরা একেবারে কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত টিকা পৌঁছে দিচ্ছি।

‘এরপরেও দেখা যায় অনেকেই এখনও টিকা নেন নাই। টিকা দেয়ায় আগে যে আগ্রহ পেয়েছি সেটা এখন কম। একটা জিনিস আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেটা সকলেই একমত হয়েছেন, সেটা হলো নো মাস্ক, নো সার্ভিস ছিল। এখন আমরা বলতে চাচ্ছি নো ভ্যাকসিন, নো সার্ভিস। এ কথাটা আমরা বলতে চাচ্ছি। এটা আমাদের পরামর্শ থাকলো। এটা করতে পারলে টিকা কার্যক্রমটা আরও বেগবান হবে এবং টিকা নেয়ার জন্য মানুষ হয়তো আরও বেশি আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নো ভ্যাকসিন, নো সার্ভিস যেটা বললাম, এটা এখানেই তৈরি হলো। আমরা চিঠির মাধ্যমে সব মন্ত্রণালয়ে জানিয়ে দেবো। তারা যে যার মতো করে এনফোর্স করবে। প্রাইভেট লেভেলে আমরা ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দেবো।’

প্রতিনিয়তই দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। এ ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। আর সংক্রমণ ধরা পড়েছে ২৭৩ জনের শরীরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে মঙ্গলবার বিকেলে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ২৮৪ জনের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৯৮১ জনের।

গত একদিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩৬৮ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৯৬৫ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহ নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সে দেশের করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে ধরা হয়।

সে অনুযায়ী বাংলাদেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সরকারের লক্ষ্য এই হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না
গণতদন্ত কমিটি গঠনের দাবি নাগরিক সমাজের
চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০
‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’

শেয়ার করুন

এবার টিকা ছাড়া সেবা নয়

এবার টিকা ছাড়া সেবা নয়

রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী গণটিকা কার্যক্রম। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘এরই মধ্যে ১০ কোটি ডোজ টিকা দেয়া হয়ে গেছে। এরমধ্যে সিঙ্গেল ডোজ প্রায় ৬ কোটির মতো আর ডাবল ডোজও প্রায় ৪ কোটির কাছাকাছি হয়ে গেছে। সব পর্যায়ের মানুষকে টিকা দেয়ার জন্য আমরা একেবারে কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত টিকা পৌঁছে দিচ্ছি। এরপরেও দেখা যায় অনেকেই এখনও টিকা নেন নাই।’

দেশের সব মানুষকে করোনা টিকার আওতায় আনতে ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিসের’ মতোই এবার ‘নো ভ্যাকসিন, নো সার্ভিস’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার দেশে ওমিক্রন ঠেকাতে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে এ কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এরই মধ্যে ১০ কোটি ডোজ টিকা দেয়া হয়ে গেছে। এরমধ্যে সিঙ্গেল ডোজ প্রায় ৬ কোটির মতো আর ডাবল ডোজও প্রায় ৪ কোটির কাছাকাছি হয়ে গেছে। সব পর্যায়ের মানুষকে টিকা দেয়ার জন্য আমরা একেবারে কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত টিকা পৌঁছে দিচ্ছি।

‘এরপরেও দেখা যায় অনেকেই এখনও টিকা নেন নাই। টিকা দেয়ায় আগে যে আগ্রহ পেয়েছি সেটা এখন কম। একটা জিনিস আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেটা সকলেই একমত হয়েছেন, সেটা হলো নো মাস্ক, নো সার্ভিস ছিল। এখন আমরা বলতে চাচ্ছি নো ভ্যাকসিন, নো সার্ভিস। এ কথাটা আমরা বলতে চাচ্ছি। এটা আমাদের পরামর্শ থাকলো। এটা করতে পারলে টিকা কার্যক্রমটা আরও বেগবান হবে এবং টিকা নেয়ার জন্য মানুষ হয়তো আরও বেশি আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নো ভ্যাকসিন, নো সার্ভিস যেটা বললাম, এটা এখানেই তৈরি হলো। আমরা চিঠির মাধ্যমে সব মন্ত্রণালয়ে জানিয়ে দেবো। তারা যে যার মতো করে এনফোর্স করবে। প্রাইভেট লেভেলে আমরা ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দেবো।’

সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ৬০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের করোনা প্রতিরোধী টিকার বুস্টার ডোজ দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, ‘দেশে করোনা সংক্রমণের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন বয়স্করা। তাই ৬০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য টিকার বুস্টার ডোজ চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আরেকটি বিষয় আমরা চিন্তা করেছি, যারা ষাটোর্ধ্ব অথবা যারা অসুস্থ, তাদের বুস্টার ডোজের আওতায় আমরা নিয়ে আসতে চাই। এ বিষয়ে আমরা একটি সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। শিগগিরই যাতে তাদের বুস্টার ডোজ দিতে পারি। অনেক দেশেই এটা দিচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা মোটামুটি একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

প্রতিনিয়তই দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। এ ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। আর সংক্রমণ ধরা পড়েছে ২৭৩ জনের শরীরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে মঙ্গলবার বিকেলে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ২৮৪ জনের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৯৮১ জনের।

গত একদিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩৬৮ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৯৬৫ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহ নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সে দেশের করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে ধরা হয়।

সে অনুযায়ী বাংলাদেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সরকারের লক্ষ্য এই হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না
গণতদন্ত কমিটি গঠনের দাবি নাগরিক সমাজের
চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০
‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’

শেয়ার করুন

ওমিক্রন: কোয়ারেন্টিনে সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করার চিন্তা

ওমিক্রন: কোয়ারেন্টিনে সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করার চিন্তা

ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই, সশস্ত্র বাহিনী এই কোয়ারেন্টিন ম্যানেজ করবে। এখনও যে দেশে ওমিক্রন পাওয়া যায়নি, সেখান থেকে (আফ্রিকা) করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে আসা যাবে, কিন্তু ভবিষ্যতে যদি সংক্রমণ বৃদ্ধি পায় তাহলে সেদেশ থেকে আসলে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করার কথা আমরা ভাবছি।’

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন রোধে আফ্রিকা মহাদেশের কোনো দেশ থেকে কেউ আসলে তাকে ১৪ দিনের কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই কোয়ারেন্টিনে সশন্ত্রবাহিনীকে যুক্ত করার কথাও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

ওমিক্রম মোকাবিলা প্রস্তুতি সম্পর্কিত আন্তমন্ত্রণালয় সভার বৈঠক শেষে বিস্তারিত গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন, ওমিক্রন ভেরিয়েন্টটি খুবই সংক্রামক, ডেল্টা ভেরিয়েন্টের চেয়েও অনেক বেশি সংক্রমণ করার ক্ষমতা রাখে। আক্রান্ত হলে রোগীর মধ্যে মৃদু সিম্পটম থাকে। একটু দুর্বলতা ও হালকা কাশি থাকে। জ্বর হয় না, এ কারণে বোঝা মুশকিল।

‘আমাদের হাসপাতালগুলো প্রস্তুত আছে। করোনা চিকিৎসার জন্য আমরা যে অবকাঠামো গুলো তৈরি করেছি সেগুলো এখন সে অবস্থাতেই আছে। বেড ১৮ হাজার আছে। ১২০ টি হাসপাতালে আমাদের সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন আছে। অক্সিজেনের পরিমাণও এখনও অনেক, প্রায় ৩০০ টনের কাছাকাছি বাংলাদেশ তৈরি করছে।’

তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে যখন কেউ আসবে বিশেষ করে আফ্রিকার কোনো দেশ থেকে বা সাউথ আফ্রিকা থেকে। আমরা চাইব এই মুহূর্তে এটাকে নিরুৎসাহিত করতে। ওখান থেকে যারাই আসুক তাদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে বাধ্যতামুলক। সেটা হোম কোয়ারেন্টিন নয়, ইন্সটিটিউশনাল কোয়ারেন্টিন।

‘এটার ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত শক্ত হতে হবে। আমরা চাই, সশস্ত্র বাহিনী এই কোয়ারেন্টিন ম্যানেজ করবে। এখনও যে দেশে ওমিক্রন পাওয়া যায়নি, সেখান (আফ্রিকা) থেকে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে আসা যাবে, কিন্তু ভবিষ্যতে যদি সংক্রমণ বৃদ্ধি পায় তাহলে সেদেশ থেকে আসলে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করার কথা আমরা ভাবছি।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘করোনা টেস্টের বিষয়ে আমরা ৭২ ঘণ্টার পরিবর্তে চিন্তা করছি এটা ৪৮ বা ২৪ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা যায় কি না। এটাও আমরা চিন্তা করছি, কিন্তু কমিয়ে আনব এটা ঠিক আছে।

‘আমাদের বর্ডারে মনিটরিং আরও জোরদার করতে বলা হয়েছে। কোয়ারেন্টিনের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করার কথা বলা হয়েছে। আমাদের পাশের দেশ, যেখানে অনেক মানুষ যাওয়া-আসা করে, সেটাও কিছুটা কমিয়ে আনা যায় কি না এ বিষয়গুলো আমরা আলোচনা করেছি। এটাও আমরা চেষ্টা করব।’

সরকারে সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি দেয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই যে সামাজিক অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক অনুষ্ঠান বা ধর্মীয় অনুষ্ঠান সীমিত করা হোক।

‘নতুন করে কোনো অনুষ্ঠান যেন গ্রামগঞ্জে না নেয়া হয়, সেদিকে আমরা একটা পরামর্শ দেব। এছাড়াও বিদেশ থেকে যদি কেউ আসে তারা যদি বাড়িতে যায় সেটাকেও যেন মনিটরিংয়ে রাখে। প্রয়োজনে পতাকা লাগিয়ে দেবে।’

পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত স্কুল কলেজে পাঠদান বর্তমান নিয়মেই চলবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘স্কুল কলেজের বিষয়ে এখন যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায়ই আমরা থাকব বলেছি। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত স্কুলের দিন যেন না বাড়ায় সেটা আমরা বলেছি।

‘ওমিক্রন এখনও দেশে আসেনি। তাই জীবন যাত্রা যেমন রয়েছে তেমনই চলবে। পরীক্ষাও চলবে। যেখানে সতর্ক হওয়ার দরকার আমরা সতর্কতা অবলম্বন করব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি যে. সকলেই যাতে স্বাস্থ্যবিধি মানে। অর্থাৎ বাস-ট্রেনে চলাচল করার সময় যেন সবাই মাস্ক পরেন। আর না পরলে যাতে জরিমানার আওতায় নিয়ে আসা হয়। মোবাইল কোর্টও করতে বলা হয়েছে।

‘ডিজি হেলথকে বলেছি তারা যেন একটি মনিটরিং সেল তৈরি করে। এর মাধ্যমে সব জায়গার খোজ খবর রাখা হবে এবং তড়িৎ সিদ্ধান্ত তারা নেবে।’

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কী হবে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সচিব এখানে ছিলেন। আমরা তাদের বলেছি স্বাস্থ্যবিধিটা যেন মেনে চলা হয়। জনসমাগমগুলো যেন সীমিত রাখা হয়। এখনও তো আমরা ভালো আছি, তাই প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি।’

বিজয় দিবসসহ জাতীয় নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে পরামর্শ জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওমিক্রন তো সাত দিনের বিষয়, কিন্তু সামনে যে অনুষ্ঠানগুলো আছে সেগুলো অনেক আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নেয়া।

‘আমরা এখানে অনুরোধ করব, যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে করা হয়। ওমিক্রন যদি দেখা না দেয় তাহলে তো সুন্দরভাবে করতে পারবে, কিন্তু যদি ওমিক্রন দেখা যায় তাহলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে।’

এ সময় শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আমরা টিকা দিয়েছি, কিন্তু আমরা যে রকম আশা করেছিলাম সে পর্যায়ে এখনও যেতে পারিনি। আমাদের সাত ৮ লাখ দেয়া হয়েছে।

‘আমরা আশা করছিলাম আরও বেশি দেয়ার। আমরা চেষ্টা করছি যাতে এটাই বাড়ানো যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদেরও বলেছি যাতে তারা আমাদের একটু সহযোগিতা করেন।’

আরও পড়ুন:
কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না
গণতদন্ত কমিটি গঠনের দাবি নাগরিক সমাজের
চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০
‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’

শেয়ার করুন

ছাত্রদের হাফ ভাড়া যেসব শর্তে

ছাত্রদের হাফ ভাড়া যেসব শর্তে

বাসে হাফ পাসের দাবিতে বেশ কিছু দিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

শর্তগুলো হলো- ঢাকার বাইরে হাফ ভাড়া নেয়া হবে না। হাফ ভাড়া দেয়ার সময় অবশ্যই শিক্ষার্থীদেরকে স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছবিযুক্ত আইডি কার্ড দেখাতে হবে। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত কার্যকর এ শর্ত। ছুটির দিন কোনো হাফ পাস নাই।

টানা আন্দোলনের মুখে ছাত্রদের বাস ভাড়া অর্ধেকের দাবি মেনে নিয়েছে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। তবে জুড়ে দিয়েছে কয়েকটি শর্ত।

শিক্ষার্থীদের জন্য বাস ভাড়া অর্ধেক করার বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন সংগঠনটির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ। জানান, হাফ ভাড়া কার্যকরের শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, ‘সবদিক আলাপ-আলোচনা করে আমরা স্থির করেছি, ছাত্রদের যে দাবি, সেই দাবির প্রতি আমরা সমর্থন জানিয়ে সেই দাবি কার্যকর করার জন্য। আগামীকালকে থেকে, ১ ডিসেম্বর থেকে ছাত্রদের বাসে হাফ ভাড়া কার্যকর করা হবে।’

এ সময় কয়েকটি শর্তের কথাও উল্লেখ করেন এনায়েত উল্যাহ। শর্তগুলো হলো:

## ঢাকার বাইরে হাফ ভাড়া নেয়া হবে না।

## হাফ ভাড়া দেয়ার সময় অবশ্যই শিক্ষার্থীদেরকে স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছবিযুক্ত আইডি কার্ড দেখাতে হবে।

## সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত হাফ ভাড়া কার্যকর থাকবে।

## সরকারি ছুটির দিন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মৌসুমি ছুটিসহ অন্যান্য ছুটির সময় ছাত্রদের হাফ ভাড়া কার্যকর হবে না।

এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘আগামীকাল ১ ডিসেম্বর থেকে ছাত্রদের হাফ ভাড়া কার্যকর হবে। সকল পরিবহন মালিকদের প্রতি এবং শ্রমিকদের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, ছাত্ররা যেন হাফ ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারে, সে ব্যাপারটি নিশ্চিত করার জন্য।

‘আমরা দীর্ঘদিন আলাপ-আলোচনা করে, বিভিন্ন সভা করে, মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম। দেশবাসীকে আমরা জানাতে চাই। আমরা হাফ ভাড়া কার্যকর ছাত্রদের জন্য করে দিলাম।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পরিবহন মালিক সমিতির এই নেতা বলেন, ‘ছাত্রদের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, এরা আমাদেরই সন্তান; কোমলমতি ছাত্ররা আমাদেরই সন্তান। তারা যেন এখন থেকে তাদের পড়ালেখায় মনোযোগ দেয়। তারা যেন স্কুল-ভার্সিটিতে ফেরত যায়। রাস্তায় এইসব আন্দোলন না করে তারা যেন ফেরত যায়, এটা তাদের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে।’

এর আগে হাফ ভাড়া কার্যকরের জন্য সরকারের কাছে প্রণোদনা চেয়েছিল মালিক সমিতি। সেই অবস্থান থেকে পরিবহন মালিকরা সরে এসেছেন কি না, এমন প্রশ্নে এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘আমরা সে দাবি এখনও করতে চাই। কেউ বিশ্বাস করুক আর না করুক ঢাকা শহরের ৮০ ভাগ বাসের মালিক গরিব। অনেক মালিক রয়েছেন যার একটিমাত্র গাড়ি রয়েছে সেই আয় দিয়ে তার সংসার চলে, তার সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চলে।

‘সে টাকা দিয়ে আবার বাসের ঋণ শোধ করে। অনেকে আবার বাসের চালক থেকে মালিক হয়েছেন। এখানে বড় কোনো বিনিয়োগ নেই। এটা দাবিটি সরকার পক্ষ থেকে বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করছি। আমরা পুরোটাই সরকারের ওপর ছেড়ে দিলাম।’

ভাড়া নিয়ে বিতর্কে বাস থেকে যাত্রীদের ফেলে দেয়া হচ্ছে, চালকের বেপরোয়া আচরণে পথচারী মারা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠছে। এসব প্রসঙ্গেও কথা বলেন এনায়েত।

তিনি বলেন, ‘সারা দেশে প্রায় ১ লাখের ওপর বাস রয়েছে সবখানেই বাসগুলো নিয়ন্ত্রিতভাবে রয়েছে, ভাড়াসহ সবকিছুই ঠিক আছে। শুধু ঢাকা শহরেই কিছুটা অনিয়ন্ত্রিত। কিছু অনিয়ম রয়েছে এগুলো নিয়মে আনার জন্য মালিক সমিতির নয়টি টিমসহ বিআরটিএ কাজ করছে। কিছু কিছু গাড়ি এখনও কন্টাকে চলে, ট্রিপ ভিত্তিতে চলে। এর পরিমাণ আগের চেয়ে কমে এসেছে। বাকিগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা কাজ করছি।’

ঢাকা শহরে পরিবহন ব্যবসা লাভজনক নয় উল্লেখ করে এনায়েত বলেন, ‘এই কারণে দিনে দিনে ঢাকায় গণপরিবহনের সংখ্যা কমছে অনেকেই আগে একটা গাড়ি কিনেছিলেন, সেটার কোনো রকমে লোন শোধ করেছেন, তাই এখন সেটা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ঢাকায় রাস্তা অনুপাতে গাড়ির সংখ্যা বেশি, কিন্তু যাত্রী অনুপাত গাড়ির সংখ্যা কম।’

বাসের বিভিন্ন সার্ভিস বন্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের বিভিন্ন সিটিং সার্ভিস, গেটলক সার্ভিস, ওয়েবিল বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত আমার একার ছিল না, সবগুলো মালিককে নিয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। এটা কার্যকর করা হবে। এসব সার্ভিস অনেকাংশে কমে এসেছে।’

আরও পড়ুন:
কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না
গণতদন্ত কমিটি গঠনের দাবি নাগরিক সমাজের
চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০
‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’

শেয়ার করুন

অবৈধ সম্পদ: পাপিয়া-সুমনের বিচার শুরু

অবৈধ সম্পদ: পাপিয়া-সুমনের বিচার শুরু

শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী। ফাইল ছবি

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইনের আদালতে আসামিদের পক্ষে করা মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামি ২২ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ঠিক করেন।

নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামিমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় অভিযোগ গঠন করেছে আদালত।

এর মাধ্যমে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হলো।

সোমবার দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইনের আদালতে আসামিদের পক্ষে করা অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামি ২২ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ঠিক করেন।

২০২০ সালের ৪ আগস্ট দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ সংস্থার উপপরিচালক শাহীন আরা মমতাজ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় পাপিয়ার বিরুদ্ধে মোট ৬ কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত বছর ১২ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলের ২৫টি রুমে অবস্থান করে রুম-নাইট, রেস্টুরেন্ট (খাবার), রেস্টুরেন্ট (মদ), স্পা, লন্ড্রি, মিনি বার ফুড, মিনি বার বাবদ মোট তিন কোটি ২৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৬১ টাকার বিল ক্যাশে পরিশোধ করেন পাপিয়া।

হোটেলে থাকাকালীন সময়ে তিনি প্রায় ৪০ লাখ টাকার কেনাকাটা করেন। এসব অর্থের বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হন পাপিয়া। এভাবে মোট ৬ কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার ৭১৮ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায়।

এ আয়ের উৎসের স্বপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ না পাওয়ায় পাপিয়া এবং সুমনের বিরুদ্ধে দুদক আইনে মামলা করা হয়।

চলতি বছরের মার্চ মাসে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন শাহীন আরা মমতাজ। এরপর গত ৬ অক্টোবর ঢাকা মহানগর জেষ্ঠ্য বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশ আসামিদের উপস্থিতিতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে বদলির আদেশ দেন।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লার সেই মসজিদের বারান্দায় আর কোরআন রাখা হবে না
গণতদন্ত কমিটি গঠনের দাবি নাগরিক সমাজের
চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০
‘শান্তিপূর্ণভাবে একই দিনে ৩ ধর্মের উৎসব পালিত’

শেয়ার করুন