বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানার উদ্বোধন

বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানার উদ্বোধন

রাজধানীর পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

ঢাকার পূর্বাচলে ২০১৫ সালের জুলাইয়ে শুরু হয় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৩০৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে চীন সরকারের অনুদান ৬২৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

দেশের পণ্য প্রদর্শনী ও বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে রাজধানীর পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১ টার দিকে ভার্চুয়ালি সেন্টারটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন প্রান্ত থেকে যোগ দেন তিনি।

নির্মাণ কাজ শেষে এ বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি প্রদর্শনী কেন্দ্রটি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে চীন।

ঢাকার পূর্বাচলে ২০১৫ সালের জুলাইয়ে শুরু হয় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৩০৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে চীন সরকারের অনুদান ৬২৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

এটি নির্মাণ করেছে চীনের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন। এই প্রদর্শনী কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর কাছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতি বাণিজ্যমন্ত্রী ‍টিপু মুনশী বলেন, ‘এই এক্সিবিশন সেন্টারটিকে বিজনেস হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’

একটা স্থায়ী কাঠামো না থাকার কারণে পণ্য প্রদর্শনীতে যেমন জটিলতা হচ্ছিল তেমনি উন্মুক্তস্থানে মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছিল বলে জানান মন্ত্রী।

এ সময় প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন সরকারের ভূমিকায় ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। আগামীতেও এমন সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং দুই দেশ বাণিজ্য খাতের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করব।’

বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘এখন থেকে প্রতিবছরের পয়লা জানুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করতে পারবেন।’

চীনের আর্থিক অনুদান ও কারিগরি সহায়তায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মালিকানায় পূর্বাচলে ২০ একর জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারটি।

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে টানতে তৈরি এই কেন্দ্রটির নাম বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তাতে সম্মতি দিয়েছে চীন।

এটির নির্মাণ শুরু হয় ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবরে। আর শেষ হয় গেল গত বছরের নভেম্বরে।

নির্মাণের কারণ ব্যাখ্যায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বলছে, বাণিজ্য সম্প্রসারণে দেশি-বিদেশি পণ্য উৎপাদনকারী ও ক্রেতাদের বাংলাদেশে আর্ন্তজাতিক মানের একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত ও সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরি করা।

ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরিতেই প্রদর্শনী কেন্দ্র

ব্যবসা বাণিজ্যের মধ্য দিয়েই দেশের উন্নতি হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসা বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি করার জন্য আমরা এই সেন্টারটি তৈরি করেছি।’

তাই প্রদর্শনী কেন্দ্রটির সর্বোত্তম ব্যবহারের তাগিদ দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘এই এক্সিবিশন সেন্টারের মাধ্যমে বাংলাদেশের পণ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য রপ্তানি মেলা, সোর্সিং ফেয়ার আয়োজন এবং ক্রেতা আকর্ষণের জন্য বছরব্যাপী বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সম্মেলন আয়োজনসহ দেশের বাণিজ্য প্রসারেও বিভিন্ন মেলা এখানে আয়োজন করতে পারবেন।’

সারা বছর প্রদর্শনী কেন্দ্রটি ব্যবসায়ীদের কাছে নানা আয়োজনের জন্য ভাড়া দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আয় বাড়বে বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

করোনা মহামারিতে সারা বিশ্বে অর্থনীতির স্থবিরতা এসেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই দেড় বছরে আমরা চেষ্টা করেছি, যাতে আমাদের ব্যবসাটা চলে। তবে আন্তর্জাতিক মেলার আয়োজন আমরা করতে পারিনি। তবে সীমিত পরিসরে ডিজিটাল রপ্তানি মেলা বা সোর্সিং ফেয়ারের আয়োজন করা হয়েছে। বিশালাকারে যে রপ্তানি মেলা আমরা করতাম সেটা করা সম্ভব হয়নি।’

প্রধানমন্ত্রীর কথায় উঠে আসে এই প্রদর্শনী কেন্দ্র নির্মাণের প্রেক্ষাপট।

তিনি বলেন, ‘রপ্তানি মেলাটা আমরা খোলা জায়গায় করতাম। সেখানে ব্যবসায়ীরা নিজেরা নিজেদের মত অবকাঠামো গড় তুলতেন। আবার সেটা ভাঙতে হত। এমন কিছু ঝামেলা ছিল। আর জায়গাটাও ছিল সীমিত। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, ভালো বড় জায়গায় সেন্টার তৈরি করার, যেখানে ১২ মাস মেলা চলতে পারে।’

প্রদর্শনী কেন্দ্রটি নির্মাণে সহায়তা করায় চীনকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

যা থাকছে এক্সিবিশন সেন্টারে

এক্সিবিশন সেন্টারের মোট ফ্লোরের আয়তন ৩৩ হাজার বর্গমিটার। ভবনের ফ্লোরের আয়তন ২৪ হাজার ৩৭০ বর্গমিটার। এক্সিবিশন হলের আয়তন ১৫ হাজার ৪১৮ বর্গমিটার।

এক্সিবিশন হলে ৮০০টি বুথ রয়েছে। প্রতিটি বুথের আয়তন ৯ দশমিক ৬৭ বর্গমিটার।

দোতলা পার্কিং বিল্ডিংয়ের মোট পার্কিং স্পেস ৭ হাজার ৯১২ বর্গমিটার যেখানে ৫০০টি গাড়ি রাখা যাবে। আর এক্সিবিশন বিল্ডিংয়ের সামনের খোলা জায়গায় আরও ১ হাজার গাড়ি পার্কিং করার সুযোগ আছে।

এতে রয়েছে ৪৭৩ আসনের একটি মাল্টি ফাংশনাল হল, ৫০ আসনের একটি কনফারেন্স রুম, ছয়টি নেগোসিয়েশন/মিটিং রুম, ৫০০ আসনের ক্যাফেটরিয়া/রেস্টুরেন্ট, শিশুদের খেলার স্পেস, নামাজের কক্ষ, অফিস রুম দুইটি, মেডিক্যাল রুম, ডরমিটরি-গেস্ট রুম, ১৩৯টি টয়লেট, বিল্ট ইন পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম।

এ ছাড়াও রয়েছে নিজস্ব ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, স্টোর রুম, সিএটিভি কন্ট্রোল রুম, অটোমেটেড সেন্ট্রাল এসি সিস্টেম, ইনবিল্ট ইন্টারনেট/ওয়াইফাই, আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, আলাদা রেজিস্ট্রেশন হল, আধুনিক ফোয়ারা, ইন বিল্ট পতাকা স্ট্যান্ড, রিমোট কন্ট্রোলড-ইলেকট্রনিক প্রবেশ গেইট।

আরও পড়ুন:
চালুর আগেই বন্ধ বাণিজ্য মেলা
বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানা হলো পূর্বাচল
এবারের বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলে, শুরু ১৭ মার্চ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আজ সারা দিন বৃষ্টি

আজ সারা দিন বৃষ্টি

রাজধানীতে সোমবার বৃষ্টির মধ্যেই কর্মজীবী মানুষজন রাস্তায় নামেন। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগামীকাল (মঙ্গলবার) দেশের পশ্চিমাঞ্চল থেকে সূর্য ওঠা শুরু করবে। পূর্বাঞ্চলে সূর্য উঠতে একটু দেরি হবে। আজ সারা দিন বৃষ্টি থাকবে। দেশের পশ্চিমাঞ্চল থেকে বৃষ্টি থামতে থামতে পূর্ব দিকে যাবে।’

ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’ দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। সে নিম্নচাপের প্রভাবে রোববার সকাল থেকেই থেমে থেমে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি শুরু হয়। সোমবার সারা দিন এই বৃষ্টি থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রোববার মধ্য রাত থেকেই রাজধানীতে বৃষ্টির প্রভাব বাড়তে থাকে, যা একটানা এখন পর্যন্ত চলছে। সোমবার সকালে রাজধানীর রাস্তায় মানুষের আনাগোনা কিছুটা কম চোখে পড়েছে।

রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যাও অনেক কম ছিল। তবে এ সময় অফিসগামী ও শিক্ষার্থীদের পড়তে হয়েছে ভোগান্তিতে।

রাজধানীর বেশ কিছু এলাকার রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন ঘর থেকে বের হওয়া মানুষজন।

আজ সারা দিন বৃষ্টি
বাইরে বের হয়ে বৃষ্টির কবলে পড়লে সন্তানকে বৃষ্টি থেকে বাঁচানোর চেষ্টায় মা। ছবি: সাইফুল ইসলাম

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগামীকাল (মঙ্গলবার) দেশের পশ্চিমাঞ্চল থেকে সূর্য ওঠা শুরু করবে। পূর্বাঞ্চলে সূর্য উঠতে একটু দেরি হবে। আজ সারা দিন বৃষ্টি থাকবে। দেশের পশ্চিমাঞ্চল থেকে বৃষ্টি থামতে থামতে পূর্ব দিকে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই বৃষ্টি থেমে গেলেই শীত পড়তে শুরু করবে। এই মাসের মাঝামাঝির দিকে আবারও একটি নিম্নচাপ আসতে পারে।’

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে লঘুচাপ আকারে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে আজ সন্ধ্যায় লঘুচাপে পরিণত হতে পারে।

লঘুচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে।

আজ সারা দিন বৃষ্টি
সকালে বের হয়ে গাড়ি না পাওয়ায় অনেকেই ভ্যানে পলিথিন মাথায় দিয়ে রওনা হন গন্তব্যে। ছবি: সাইফুল ইসলাম

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চালুর আগেই বন্ধ বাণিজ্য মেলা
বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানা হলো পূর্বাচল
এবারের বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলে, শুরু ১৭ মার্চ

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ আজ উপচেপড়া ঝুড়ির দেশ

বাংলাদেশ আজ উপচেপড়া ঝুড়ির দেশ

রাজধানীর হাতিরঝিলে বিজয় উৎসবে আলোর ফোয়ারা। ফাইল ছবি

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিশ্ব মানচিত্রে আয়তনের দিক দিয়ে ছোট একটি দেশ হলেও চাল, মাছ, ফল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদনে অন্যতম প্রধান দেশ। এই উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রেখে সরকার চায় দেশকে উন্নত, মানবিক, সামাজিক ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে।’

বিজয়ের ৫০ বছরে এসে বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ নয়, বরং ঝুড়ি উপচে পড়া দেশ।

রোববার এফবিসিসিআই আয়োজিত ১৬ দিনব্যাপী ‘বিজয়ের ৫০ বছর: লাল-সবুজের মহোৎসব’-এর পঞ্চম দিনের অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনরা এমন মন্তব্য করেছেন। রাজধানীর হাতিরঝিলে অ্যাম্ফিথিয়েটারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বোববার ছিলো রবীন্দ্র উৎসব।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম, বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন স্বাধীনতা লাভ করে তখন বিশ্বনেতাদের অনেকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে বিজয়ের ৫০ বছরে এসে বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ নেই; বরং ঝুড়ি উপচে পড়া দেশ। বিশ্ব মানচিত্রে আয়তনের দিক দিয়ে ছোট একটি দেশ হলেও চাল, মাছ, ফল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদনে অন্যতম প্রধান দেশ।

ভবিষ্যতে এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে সরকার চায় বাংলাদেশকে উন্নত, মানবিক, সামাজিক ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে।’

দেশে মৌলবাদের বিস্তার রুখতে সাংস্কৃতিক বিপ্লব দরকার উল্লেখ করে তরুণ জনগোষ্ঠীকে সংস্কৃতিমনা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তথ্যমন্ত্রী। বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে এফবিসিসিআই’র লাল-সবুজের মহোৎসব বাংলাদেশের আবহমান সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে সাহায্য করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ব্যবসা করার পাশাপাশি যাদের কল্যাণে দেশ স্বাধীন হয়েছে, তাদের প্রতি দায়িত্ববোধ রয়েছে ব্যবসায়ীদের। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী সব বাংলদেশির জন্য মাহেন্দ্রক্ষণ। এই বিশেষ উপলক্ষ্ উদযাপনে এফবিসিসিআই ১৬ দিনব্যাপী মহোৎসবের আয়োজন করেছে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাপানের রাষ্ট্রদ্যুত ইতো নাওকি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের প্রিয় দেশগুলোর একটি ছিল জাপান। আগামী বছর জাপান-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পালিত হবে। সে উপলক্ষে বাংলাদেশে জাপানি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হবে।’

বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে প্রথম দিকে স্বীকৃতি দেয়া দেশগুলোর মধ্যে জাপান একটি।

প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের গান, লেখা, কবিতা মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণআন্দোলনে শক্তি যুগিয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে রবীন্দ্রনাথের ‘আমার সোনার বাংলা’ গানকে বঙ্গবন্ধু আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ মাত্র ১২ বছরে সুসম্পন্ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এই উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে সাংস্কৃতিক বিপ্লব করতে হবে।’

মুজিব বর্ষে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সোনার বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকায় যারা জমি বেদখল করে রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ডিএনসিসি।’

মীর নাসির হোসেন তার বিশেষ বক্তব্যে রবীন্দ্র উৎসব উপলক্ষে কবিগুরুর নানা কবিতার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।

অতিথিদের বক্তব্য শেষে দর্শকদের রবীন্দ্র সংগীত গেয়ে শোনার জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাউকি। এরপর অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

১৬ দিনব্যাপী ‘বিজয়ের ৫০ বছর: লাল-সবুজের মহোৎসব’-এর ষষ্ঠ দিন সোমবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে নৃত্য উৎসব। এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।

আরও পড়ুন:
চালুর আগেই বন্ধ বাণিজ্য মেলা
বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানা হলো পূর্বাচল
এবারের বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলে, শুরু ১৭ মার্চ

শেয়ার করুন

স্বৈরাচার পতন দিবস আজ

স্বৈরাচার পতন দিবস আজ

শহীদ নূর হোসেনের বড় ভাই আলী হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বৈরাচার পতনের পর শত দুঃখের মাঝেও আমাদের পরিবার এক ধরনের প্রাপ্তি অনুভব করেছে।’

আজ ৬ ডিসেম্বর, স্বৈরাচার পতন দিবস। গণ-আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের এই দিনে পদত্যাগ করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। একই দিনে তিনি অস্থায়ী সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। এর মাধ্যমে অবসান হয় এরশাদের ৯ বছরের স্বৈরশাসনের। মুক্তি পায় গণতন্ত্র।

সামরিক আইন জারির মাধ্যমে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ ক্ষমতা দখল করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন দুই জোটসহ বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর টানা আন্দোলনের মুখে এইচ এম এরশাদ ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। বিভিন্ন দল ও সংগঠন দিনটিকে ‘স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ হিসেবে পালন করে। আর এরশাদের দল জাতীয় পার্টি পালন করে ‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ হিসেবে।

এরশাদের ক্ষমতা ছাড়ার তিন বছর আগে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর বুকে-পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগান লিখে এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিলেন নূর হোসেন। সেদিন জীবন দিতে হয় তাকে।

স্বৈরাচার পতন দিবসের স্মৃতিচারণ করেন শহীদ নূর হোসেনের বড় ভাই আলী হোসেন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘সেদিনের কথা মনে করলে আমাদের কাছে মনে হয় দেশ ভারমুক্ত হয়েছে। দেশে যে একটা কালো মেঘ ছিল সেটা চলে গেছে।’

‘ওইদিন ভাই হারানোর দুঃখের মাঝেও একদিক দিয়ে আমার মনে একটু স্বস্তিও ছিল। আমি ঢাকার রাস্তায় হেঁটে বেরিয়েছি। যেদিন স্বৈরাচারের পতন হয় সেদিন আমার পরিবার দুঃখের মধ্যেও এক ধরনের প্রাপ্তি অনুভব করেছে।’

আলী হোসেন বলেন, ‘নূর হোসেনের মৃত্যুর পর এরশাদ সরকারের আমলে ভাইয়ের লাশ খুঁজে বেরিয়েছি। বাবাকে সঙ্গে নিয়ে আমি রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতাম। এক মাস পর্যন্ত কোথাও ভাইয়ের লাশ পেলাম না। পরে খবর পাই জুরাইন কবরস্থানের কবরখোদকদের কাছ থেকে। জানতে পারি যে সেখানে আমার ভাইকে দাফন করা হয়েছে।’

স্বৈরাচার পতন দিবসে আজকের চাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি চাই, এদেশে যেন সেরকম আর কোনো স্বৈরাচার না আসে। সবাই যেন সুখ-দুঃখে একসঙ্গে থাকতে পারে। আমরা সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে পারি। আর যেন কোনো মায়ের বুক খালি না হয়।’

আলী হোসেন বলেন, ‘স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শুধু আমার ভাই একাই তো জীবন দেয়নি। আরও বহু মানুষের জীবনের বিনিময়ে স্বৈরাচার-মুক্তির এই সফলতা এসেছে। নূর হোসেন, রউফুন বসুনিয়া, বাবুল এমন অনেক যুবক সে সময় প্রাণ দিয়েছেন। এসব ঘটনার বিচার আমরা আজও চাই।’

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নূর হোসেনের বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন জানিয়ে আলী হোসেন বলেন, ‘এরশাদ জেলখানা থেকে বেরিয়ে প্রথম আমাদের বাসায় আসেন। তিনি বলেছিলেন-আপনার ছেলে মারা গেছে, আমি সেজন্য অনুতপ্ত এবং ক্ষমা চাই। আমি আপনার ছেলে হয়ে সারা জীবন বাঁচতে চাই।’

২০১৯ সালের ১৪ জুলাই সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

শহীদ নূর হোসেনের মাসহ পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে থাকেন মিরপুর মাজার রোডে। এর আগে তারা রাজধানীর নবাবপুরের বনগ্রামে থাকতেন। নূর হোসেনের বাবা মারা গেছেন ২০০৫ সালে।

আরও পড়ুন:
চালুর আগেই বন্ধ বাণিজ্য মেলা
বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানা হলো পূর্বাচল
এবারের বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলে, শুরু ১৭ মার্চ

শেয়ার করুন

সিলেট সেনানিবাসে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য

সিলেট সেনানিবাসে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ রোববার সিলেট সেনানিবাসের এভিনিউ-১৭ এর মুজিব চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ‘বজ্রকণ্ঠ’ উদ্বোধন করেন। ছবি: আইএসপিআর

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি স্থাপনের মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জাতির প্রতি তার অবদানকে অবিস্মরণীয় করে রাখার প্রয়াস নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভাস্কর্যটি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উজ্জীবিত করবে। এছাড়া ভাস্কর্যটি নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে ফুটিয়ে তুলবে।

সিলেট সেনানিবাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য উদ্বোধন করা হয়েছে।

রোববার বজ্রকণ্ঠ নামের ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করা হয়।

সিলেট সেনানিবাসের মূল সড়ক এভিনিউ-১৭ এর মুজিব চত্বরে ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে স্মরণীয় করে রাখতে এরিয়া সদর দপ্তর সিলেটের তত্ত্বাবধানে মুজিব চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। ভাস্কর্যটির উচ্চতা ১৫ ফুট এবং বেইজের উচ্চতা ছয় ফিট। দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্যটি সিলেট-তামাবিল বাইপাস সড়ক থেকে দৃশ্যমান।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি স্থাপনের মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জাতির প্রতি তার অবদানকে অবিস্মরণীয় করে রাখার প্রয়াস নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভাস্কর্যটি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উজ্জীবিত করবে। এছাড়া ভাস্কর্যটি নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে ফুটিয়ে তুলবে।

অনুষ্ঠানে জিওসি ১৭ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার সিলেট এরিয়াসহ সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সিলেট এরিয়ায় কর্মরত অফিসার, জেসিও এবং অন্যান্য পদবীর সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
চালুর আগেই বন্ধ বাণিজ্য মেলা
বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানা হলো পূর্বাচল
এবারের বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলে, শুরু ১৭ মার্চ

শেয়ার করুন

সার্ভার জটিলতা: আড়াই লাখ টিকাগ্রহীতার তথ্য উধাও

সার্ভার জটিলতা: আড়াই লাখ টিকাগ্রহীতার তথ্য উধাও

ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিক্যাল অফিসার ডা. দেবাশিস বিশ্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই দুই দিনে টিকা নেওয়া প্রায় সবার ক্ষেত্রেই এমন সমস্যার তথ্য পাওয়া গেছে। সার্ভার জটিলতায় এমনটা হয়ে থাকতে পারে।’

নিবন্ধনের তিন মাস পর ১৩ অক্টোবর জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে করোনা টিকার প্রথম ডোজ নেন নুসরাত জাবীন বিভা। নিয়ম অনুযায়ী টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার কথা এক মাস পর। তবে দেড় মাসের বেশি সময় পার হলেও টিকাসংক্রান্ত এসএমএস পাননি তিনি। এক প্রকার নিরুপায় হয়ে দ্বিতীয় ডোজ নিতে ২ ডিসেম্বর টিকাকেন্দ্রে যোগাযোগ করেন তিনি।

কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বলেন, ১৩ অক্টোবর যারা টিকা নিয়েছেন তাদের তথ্য সার্ভার থেকে ডিলিট হয়ে গেছে। যে কারণে ওই দিনে টিকা নেয়া কাউকেই এসএমএস দেয়া সম্ভব হয়নি। নিজ উদ্যোগে যারা টিকাকেন্দ্রে আসছেন তাদের টিকাদানের তারিখ আপডেট করে দেয়া হচ্ছে। এরপর দু-একদিনের মধ্যে তাদের এসএমএস পাঠানো হচ্ছে। এতে নতুন করে ভোগান্তিতে পড়ছেন টিকার প্রথম ডোজ গ্রহীতারা।

শুধু নুসরাত জাবীন বিভা নন, ওই দিন টিকা দেয়া আড়াই লাখের বেশি টিকাগ্রহীতার তথ্য সার্ভার উধাও হয়ে গেছে। তবে টিকা গ্রহণের তারিখ সার্ভার থেকে কেন কীভাবে উধাও হয়ে গেল, তা জানা নেই ওই কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্তকর্তা স্বীকার করেছেন, সার্ভারের জটিলতার কারণেই গত ১৩ অক্টোবর সারা দেশে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৬১ জন টিকাগ্রহীতার টিকা গ্রহণের তারিখ সুরক্ষা ওয়েবসাইটের (www.surokkha.gov.bd) সার্ভার থেকে উধাও হয়ে গেছে।

তারা বলছেন, ইতিমধ্যে এমন একাধিক অভিযোগ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আসছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যাদের তথ্য গায়েব হয়েছে, তাদের কিছুদিন পর নতুন করে টিকা কার্ড ডাউনলোড করতে হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা রোববার নিউজবাংলাকে বলেন, সার্ভার জটিলতার কারণে ওই দিন হয়তো এমনটা হতে পারে। টিকাগ্রহীতার টিকা নেয়া তারিখ খুঁজে না পাওয়ায় ইতিমধ্যে বিষয়টি আইসিটি বিভাগকে জানানো হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সমস্যার সমাধান হলে ওই দিনের টিকাগ্রহীতারা নতুন করে টিকা কার্ড ডাউনলোড করলে ৮০ শতাংশই টিকা গ্রহণের তারিখ পেয়ে যাবেন। বাকি ২০ শতাংশের ক্ষেত্রে যে সমস্যাটা তৈরি হবে, তা সরাসরি আইসিটি বিভাগকে জানানো হবে। আশা করা যায়, এরপর তাদের সমস্যারও সমাধান হবে।

‘এমন কোনো সমস্যা দেখা দিলেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বিষয়টি আইসিটি বিভাগকে জানিয়ে দেয়া হয়। এ বিষয়টি ইতিমধ্যে আমরা জানিয়ে দিয়েছি। তারা জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে।’

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘শুধু ১৩ অক্টোবর নয়, ওই মাসের ২৮ তারিখেও দেশের কিছু কেন্দ্রে এমন সমস্যা দেখা দেয়। তা নিয়েও কাজ করছে আইসিটি বিভাগ।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিক্যাল অফিসার ডা. দেবাশিস বিশ্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই দুই দিনে টিকা নেওয়া প্রায় সবার ক্ষেত্রেই এমন সমস্যা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সার্ভার জটিলতার কারণে এমন সমস্যা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে টিকার তথ্যগুলো আছে, কিন্তু হ্যাং হয়ে গেছে। এখনো সেগুলো উদ্ধার করা যায়নি। এখন নতুন করে নিতে গেলে একই তথ্য দুবার নেয়া হয়ে যাবে। এটা নিয়ে অধিদপ্তর ও আইসিটি বিভাগ কাজ করছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমন তথ্য আমার জানা নেই। তবে এমনটা হয়ে থাকলে বিষয়টি অবশ্যই আইসিটি বিভাগে জানানো হবে।’

আরও পড়ুন:
চালুর আগেই বন্ধ বাণিজ্য মেলা
বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানা হলো পূর্বাচল
এবারের বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলে, শুরু ১৭ মার্চ

শেয়ার করুন

মামলা মাদারীপুরে, ঢাকায় সাংবাদিকপুত্র গ্রেপ্তারে প্রশ্ন

মামলা মাদারীপুরে, ঢাকায় সাংবাদিকপুত্র গ্রেপ্তারে প্রশ্ন

মাদারীপুরের রাজৈর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার সাংবাদিকপুত্র আহসান হাবিব নাহিদ। ছবি: নিউজবাংলা

যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই আহসান হাবিব নাহিদ কখনও মাদারীপুরে যাননি বলে দাবি করেছে তার পরিবার। সেখানে ২০২০ সালের ১৪ জুন যে মামলা হয়েছিল, তাতেও তার নাম ছিল না।

দেড় বছর আগে মাদারীপুরে সন্ত্রাস দমন আইনে এক মামলায় ঢাকা থেকে এক জনকে গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সেই তরুণের বাবা একজন গণমাধ্যমকর্মী। তার অভিযোগ, ছেলেকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি শুরুতে তাকে জানানো হয়নি। এজন্য নিখোঁজ ভেবে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই আহসান হাবিব নাহিদ কখনও মাদারীপুরে যাননি বলে দাবি করছে পরিবার। সেখানে ২০২০ সালের ১৪ জুন যে মামলা হয়েছিল, তাতেও তার নাম ছিল না। সেই মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে কয়েকজনের কথা উল্লেখ ছিল, সেই আসামিদের একজন হিসেবেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এই নাহিদকে।

নাহিদের বাবা তোফাজ্জল হোসেন কাজ করেন দৈনিক খোলা কাগজে। সম্প্রতি হয়ে যাওয়া ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন। তবে জিততে পারেননি।

তোফাজ্জল জানান, ভোটের আগের দিন ২৯ নভেম্বর সকালে আদাবরের বাসার সামনে থেকে তার ছেলে নাহিদ নিখোঁজ হন। সে দিনই মোহাম্মদপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তারা। পরদিন দুপুরে তার স্ত্রীর ফোনে র‍্যাব সদস্য পরিচয়ে একজন ফোন করে জানান, নাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি এখন মাদারীপুর কারাগারে।

কোন মামলা, কী অভিযোগ

২০২০ সালের ১৪ জুন জেএমবির দাওয়াতি শাখার সক্রিয় সদস্য হিসেবে মাদারীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় খোকন মিয়া নামে একজনকে। সন্ত্রাস দমন আইন ২০০৯, (সংশোধিত/২০১৩) ধারায় খোকন মিয়াসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০/১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করে র‍্যাব।

সেই অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে নাহিদ ও আবু সাঈদকে ২৯ নভেম্বর মোহাম্মদপুর আদাবর সম্পা মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মাদারীপুরের রাজৈর থানায় করা মামলার এজাহারে লেখা আছে, খোকন মিয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জেএমবির সংগঠক ও দাওয়াতি শাখার সক্রিয় সদস্য। তিনি অন্য সদস্যদের নিয়ে ঢাকা, মাদারীপুর, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় দাওয়াতি কার্যক্রম চালান।

গত ২৯ নভেম্বর গ্রেপ্তারের সময় নাহিদের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও দুটি সিম কার্ড এবং সাঈদের কাছ থেকে একটা মোবাইল ফোন ও একটি সিম কার্ড জব্দ করে র‍্যাব।

আদালতে নাহিদের সম্পর্কে র‍্যাবের দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, আহসান হাবিব নাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, মুসলিম ভাই নামে একজন প্রথমে তাকে আহলে হাদিসে আসার দাওয়াত দেন এবং তখন থেকে নাহিদ আল আমিন মসজিদে যাতায়াত শুরু করেন।

নাহিদ ‘আল্লাহর জন্য ভালবাসা’ ও ‘দ্বীনি আলোচনা’ নামে দুটি গ্রুপ খোলেন বলেও উল্লেখ করেছে র‍্যাব।

তবে ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মানছেন না তোফাজ্জল হোসেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এগুলো সাজানো গল্প। অনার্স শেষ করে ১৫ দিন আগে ঢাকায় একটি বেসরকারি আইটি ফার্মে চাকরিতে প্রবেশ করেছে আমার ছেলে। ২৯ তারিখ সকালে অফিসের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয় সে। তখন আমার ছেলেকে র‍্যাব নিয়ে গেছে।

‘আমার ছেলে ছোট থেকে মোহাম্মদপুর এলাকায় বড় হয়েছে। কোনো দিন মাদারীপুর এলাকায় যায়নি। এমনকি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও সম্পৃক্ত নয়।’

নাহিদের মা শরিফা নাজনীন বলেন, ‘আমাদের গ্রাম গাইবান্ধায়। ছেলে কখনোই মাদারীপুরের রাজৈর যায়নি। এরপরও রাজৈর থানার মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

নাহিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানতে চাইলে তাকে গ্রেপ্তার করা র‍্যাব-৮-এর স্কোয়াড কমান্ডার (সিপিএসসি) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সহকারী উপপরিচালক) শেখ ইয়াছিন আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মামলাটি তো কোর্টে বিচারাধীন আছে। এ বিষয়ে কোর্টে খোঁজ নিলে জানতে পারবেন।’

তার বিরুদ্ধে জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, মাদারীপুর কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক রমেশ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘অনেকগুলো আসামি কোর্টে আনা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু আসামি জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে যদি ওই (আহসান হাবিব নাহিদ) থেকে থাকে তাহলে তাকেও জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। আমার জানা মতে, মামলাটি রাজৈর থানায় হলেও র‍্যাব-৮ তদন্ত করছে। কাল (সোমবার) ডকুমেন্ট দেখে বিস্তারিত বলতে পারব।’

রাজৈর থানার ওসি শেখ মো. সাদিক বলেন, ‘মামলাটি যখন করা হয়, তখন আমি রাজৈর থানায় ছিলাম না। তবে যতটুকু শুনেছি, মামলাটি র‍্যাব-৮-এর সদস্যরা করে পুলিশ হেড কোয়ার্টারস থেকে অনুমোদন নিয়ে তারাই তদন্ত করছে।

‘আসামি গ্রেপ্তারসহ যে কোনো বিষয়ে র‍্যাবই তথ্য দিতে পারবে। এর বাইরে তেমন কিছু জানা নেই।’

আরও পড়ুন:
চালুর আগেই বন্ধ বাণিজ্য মেলা
বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানা হলো পূর্বাচল
এবারের বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলে, শুরু ১৭ মার্চ

শেয়ার করুন

রাজারবাগ শরিফ গোপালগঞ্জ পাল্টে করেছে গোলাপগঞ্জ

রাজারবাগ শরিফ গোপালগঞ্জ পাল্টে করেছে গোলাপগঞ্জ

কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজারবাগ শরিফ গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বেশ কয়েকটি জেলা ও স্থানের নাম পরিবর্তন করে সাম্প্রদায়িক মনোভাব ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

সারা দেশে যেসব জেলার নামের সঙ্গে হিন্দু ব্যক্তিদের নামের মিল রয়েছে, সেসব জেলার নাম পাল্টে দিয়েছে রাজারবাগ পিরের দরবার শরিফ। তারা গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তন করে গোলাপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জকে নূরানীগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওকে নূরগাঁও, ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে আমানবাড়িয়া বলে প্রচার করছে।

কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে রাজারবাগ পিরের দরবার নিয়ে এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার প্রতিবেদনটি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে দাখিল করার পর আদালত সেটি পড়ে শোনায়।

প্রতিবেদনের একটি জায়গায় বলা হয়েছে, ‘তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তন করে গোলাপগঞ্জ করে আলোচ্য পত্রিকার মাধ্যমে প্রচার করছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলার নাম পাল্টে নূরানীগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও জেলার নাম পরিবর্তন করে নূরগাঁও, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাম পরিবর্তন করে আমানবাড়িয়া- এ রকম আরও বেশ কয়েকটি জেলা ও স্থানের নাম পরিবর্তন করে তারা নিজেদের সাম্প্রদায়িক মনোভাব সারা দেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে।

‘উপরোক্ত পর্যালোচনায় দেখা যায় যে ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ধর্মান্ধ। মানুষের এই ধর্মানুভূতি কাজে লাগিয়ে এই পির ও তার দরবার শরিফ সামাজিকভাবে কুসংস্কার, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘পির দিল্লুর রহমানের দরবার থেকে প্রকাশিত আলোচিত দুটি পত্রিকা মাসিক আল বাইয়্যিনাত ও দৈনিক আল ইহসানের মাধ্যমে গুটিকয়েক ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করা হলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে নানাভাবে ধর্মীয় উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ, ধর্মীয় কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটছে।

‘তাদের এসব কার্যক্রম সরাসরি সরকারি নীতিমালা, দেশের প্রচলিত আইন, সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিবিরোধী। দেশের বিভিন্ন থানায় রাজারবাগ দরবার শরিফের পির ও তার মুরিদদের বিরুদ্ধে রুজুকৃত মামলা ও মামলাগুলো তদন্তে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।’

প্রতিবেদন পড়ে শোনানোর পর সব পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে আদালত কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়ে ২০২২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন ঠিক করে দেয়।

আরও পড়ুন:
চালুর আগেই বন্ধ বাণিজ্য মেলা
বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানা হলো পূর্বাচল
এবারের বাণিজ্য মেলা পূর্বাচলে, শুরু ১৭ মার্চ

শেয়ার করুন