জাহাজ ভাঙায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ

জাহাজ ভাঙায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ

শিপ ব্রেকিং প্ল্যাটফর্মের সবশেষ প্রান্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী জাহাজ ভাঙা হয়েছে ১২০টি। এর মধ্যে ৪১টি বা ৩৪ শতাংশ ভাঙা হয়েছে বাংলাদেশে। আর ২০২০ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী জাহাজ ভাঙা হয়েছিল ১৭০টি। যার মধ্যে বাংলাদেশে ভাঙা হয়েছিল ২৪টি।

জাহাজ ভাঙায় বিশ্বের সব দেশকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকেও (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জাহাজ ভাঙায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এর আগে প্রথম দুই প্রান্তিকেও (জানুয়ারি-মার্চ ও এপ্রিল-জুন) শীর্ষে ছিল ঢাকা।

জাহাজ ভাঙা নিয়ে বিশ্বব্যাপী কাজ করা বেলজিয়ামভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা- শিপ ব্রেকিং প্ল্যাটফর্মের সবশেষ প্রান্তিক প্রতিবেদনে এ তথ্য মিলেছে।

এতে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী জাহাজ ভাঙা হয়েছে ১২০টি। যার মধ্যে ৪১টি বা ৩৪ শতাংশ ভাঙা হয়েছে বাংলাদেশে। আর ২০২০ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে জাহাজ ভাঙা হয়েছিল ১৭০টি। যার মধ্যে বাংলাদেশে ভাঙা হয়েছিল ২৪টি। অর্থাৎ ওই সময় মাত্র ১৪ শতাংশ ভাঙা হয়েছিল বাংলাদেশে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) বিশ্বব্যাপী জাহাজ ভাঙা হয় ৫৮২টি। এর মধ্যে বাংলাদেশে ভাঙা হয় ১৯৭টি বা প্রায় ৩৪ শতাংশ।

আর ২০২০ সালের প্রথম ৯ মাসে বিশ্বব্যাপী জাহাজ ভাঙা হয় ৩৩৪টি। তার মধ্যে বাংলাদেশের ইয়ার্ডগুলোয় ভাঙা হয়েছিল ৯৮টি বা ২৯ শতাংশ। সেই হিসাবে চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে বাংলাদেশে জাহাজ ভাঙা বেড়েছে ৯৯টি।

শিপ ব্রেকিং প্ল্যাটফর্মের তথ্য মতে, গত বছর প্রথম ৯ মাসে জাহাজ ভাঙায় শীর্ষে ছিল ভারত। তবে চলতি বছর দ্বিতীয় অবস্থানে নেমে গেছে দেশটি। ওই সময় দেশটিতে জাহাজ ভাঙা হয়েছে ১৫৫টি। এ ছাড়া চলতি বছর প্রথম ৯ মাসে পাকিস্তানে জাহাজ ভাঙা হয়েছে ৮৭টি, তুরস্কে ৬৭টি, চীনে পাঁচটি ও ইউরোপসহ বিশ্বের বাকি দেশে ৭১টি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী জাহাজ ভাঙা হয় ৬৩০টি। এর মধ্যে ভারতে ভাঙা হয়েছে ২০৩টি, বাংলাদেশে ১৪৪টি, পাকিস্তানে ৯৯টি, তুরস্কে ৯৪টি, চীনে ২০টি ও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৬০টি।

আর ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপী জাহাজ ভাঙা হয় ৬৭৬টি। এর মধ্যে বাংলাদেশেই ভাঙা হয়েছিল ২৩৬টি। এ ছাড়া ভারতে ২০০টি, তুরস্কে ১০৭টি, পাকিস্তানে ৩৫টি, চীনে ২৯টি ও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৬৯টি জাহাজ ভাঙা হয়।

গত বছর জাহাজ ভাঙায় পরিমাণের দিক থেকে শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ। ওই সময় বিশ্বব্যাপী জাহাজ ভাঙার পরিমাণ ছিল প্রায় এক কোটি ৫৮ লাখ ৬৬ হাজার ৭০৪ টন। এর মধ্যে বাংলাদেশে জাহাজ ভাঙার পরিমাণ ছিল ৬৯ লাখ ৬৪ হাজার ৭৭৪ টন। এতে পরিমাণের দিক থেকে টানা ছয় বছর শীর্ষস্থান ধরে রাখে বাংলাদেশ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ। ফলে রডের চাহিদা বেড়ে গেছে। তাই জাহাজ ভাঙা বাড়ছে।

বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবু তাহের বলেন, ‘পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ীসহ বড় বেশকিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অবকাঠামোর নির্মাণ চলছে। পাশাপাশি আবাসন খাতেও মন্দা কাটতে শুরু করেছে। এর প্রভাবে দেশে রডের চাহিদা বেড়ে গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন শিল্পেও লোহার ব্যবহার বাড়ছে। এ চাহিদা পূরণে অন্যতম ভূমিকা রাখে জাহাজ ভাঙা শিল্প।’

তিনি বলেন, ‘জাহাজ ভাঙায় বাংলাদেশের শীর্ষস্থানে উঠে আসার কারণ হলো ইস্পাতের কাঁচামাল জোগানে নির্ভরতা। ভারতে ইস্পাত তৈরির মূল কাঁচামাল আকরিক আছে। সেখানে পুরোনো জাহাজ ভাঙার জন্য কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীলতা কম।’

মূলত একটি জাহাজ কয়েক দশক চালানোর পর যখন এটিকে চলাচলের অনুপযুক্ত ঘোষণা করা হয়, তখন এ জাহাজটি ভেঙে টুকরা টুকরা করে সব সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি আলাদা করে ফেলা হয়। তারপর এসব মূল্যবান সামগ্রী পুনর্ব্যবহারের উপযোগী করা হয়।

ওয়াইপিএসএ-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৭০০ সমুদ্রগামী জাহাজ পরিত্যক্ত হয়। এসব জাহাজের অন্যতম বড় ক্রেতা বাংলাদেশ।

শিপ ব্রেকিং প্ল্যাটফর্ম বলছে, জাহাজ ভাঙা শিল্পে আশির দশকে নেতৃত্বে ছিল তাইওয়ান। নব্বইয়ের দশকে তাইওয়ানের সঙ্গে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া এই খাতে নেতৃত্ব দেয়। এর পরের দুই দশকে ভারত ও চীন ছিল জাহাজ ভাঙায় শীর্ষে। গত এক দশক ধরে এই দুই দেশের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে বাংলাদেশও।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চকলেট দিতে ডেকে নিয়ে শিশুকে ‘বলাৎকার’

চকলেট দিতে ডেকে নিয়ে শিশুকে ‘বলাৎকার’

ওই শিশুর বাবা নিউজবাংলাকে জানান, হাকিম মিয়া ওই এলাকার কৃষিকাজ করেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে চকলেটের লোভ দেখিয়ে তার ৭ বছরের ছেলেকে লঙ্গন নদীর পাড়ে নিয়ে বলাৎকার করেন হাকিম।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ৭ বছরের শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

হাকিম মিয়া নামে ওই যুবককে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের ভলাকুট গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হাকিম মিয়া ইউনিয়নের বাইংলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ সরকার তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছেন।

ওই শিশুর বাবা নিউজবাংলাকে জানান, হাকিম মিয়া ওই এলাকার কৃষিকাজ করেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে চকলেটের লোভ দেখিয়ে তার ৭ বছরের ছেলেকে লঙ্গন নদীর পাড়ে নিয়ে বলাৎকার করেন হাকিম। শিশুর চিৎকারে এলাকার লোকজন এগিয়ে গেলে হাকিম পালিয়ে যান।

তিনি জানান, ছেলেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় সেদিন। বুধবার উন্নত চিকিৎসার জন্য নেয়া হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে।

নাসিরনগর থানার ওসি হাবিবুল্লাহ সরকার বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত হাকিমকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করে।
শিশুটি বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শেয়ার করুন

ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দারাজের ডেলিভারি ম্যান-গা‌ড়িচালক

ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দারাজের ডেলিভারি ম্যান-গা‌ড়িচালক

বরিশালে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দারাজের গাড়িচালক ও ডেলিভারি ম্যান। ছবি: নিউজবাংলা

বাবুগঞ্জ থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারি যে দারাজের ডেলিভারি ভ্যানে ইয়াবা আছে... কাভার্ডভ্যান ব্রিজে উঠলে সেটি আটক করা হয়। গাড়ি তল্লাশি চালিয়ে চালকের আসনের সিট কভারের ভেতর থেকে কাগজে মোড়ানো ইয়াবা জব্দ করা হয়।’

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দারাজের পণ্য সরবরাহের গাড়ি থেকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে চালক ও ডেলিভারি ম্যানকে।

নগরীর বাবুগঞ্জের স্টিল ব্রিজ এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে থানায় নিয়ে মাদকের মামলা দেয়া হয় তাদের নামে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন গাড়িচালক গকুল চন্দ্র ও ডেলিভারি ম্যান শাহাদাত হোসেন।

বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারি যে দারাজের ডেলিভারি ভ্যানে ইয়াবা আছে। আমরা ফোর্স নিয়ে রহমতপুর-মীরগঞ্জ সড়কের স্টিল ব্রিজে অবস্থান নিই।

‘কিছুক্ষণ পরই দারাজের ডেলিভারির একটি কাভার্ডভ্যান ব্রিজে উঠলে সেটি আটক করা হয়। গাড়ি তল্লাশি চালিয়ে চালকের আসনের সিট কভারের ভেতর থেকে কাগজে মোড়ানো ১০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।’

শেয়ার করুন

পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল, শিক্ষককে অব্যাহতি

পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল, শিক্ষককে অব্যাহতি

সাতকানিয়ার ইউএনও বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন সকালে কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে ওই শিক্ষকের কাছে একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন পাওয়া যায়। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিবকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। তিনি ব্যবস্থা নিয়েছেন।’

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় এইচএসসি পরীক্ষা চলার সময় কেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ায় পর্যবেক্ষক নূর উদ্দিনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বাজালিয়া কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম কলেজে এ ঘটনা ঘটে। অব্যাহতি পাওয়া নূর উদ্দিন ওই কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষক।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা তুজ জোহরা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিন সকালে কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে ওই শিক্ষকের কাছে একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন পাওয়া যায়। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিবকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। তিনি ব্যবস্থা নিয়েছেন।’

পরীক্ষা চলার সময় কেন্দ্রে মোবাইল ফোন না নেয়ার নির্দেশনা রয়েছে বলেও জানান ইউএনও।

শেয়ার করুন

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান

বেতবাড়িয়া ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হয়েছেন বাবুল আকতার। ছবি: সংগৃহীত

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রশিদুল আলম জানান, খোকসার বেতবাড়িয়া ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল আজম খান বুধবার বিকেলে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলে একক প্রার্থী হন বাবুল আকতার।

কুষ্টিয়ার খোকসার বেতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বাবুল আকতার।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রশিদুল আলম বৃহস্পতিবার বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, খোকসা উপজেলার বেতবাড়িয়া ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউনিয়ন কৃষক লীগ নেতা নুরুল আজম খান বুধবার বিকালে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলে একক প্রার্থী হন বাবুল আকতার। নুরুল আজম ইউনিয়ন কৃষক লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

বাবুল এর আগেও দুবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইউপি চেয়ারম্যান হয়েছিলেন।

চতুর্থ ধাপে ৬ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও খোকসা উপজেলায় বিভিন্ন ইউপিতে ভোট।

এ ছাড়া খোকসা উপজেলার বেতবাড়িয়া ও জানিপুর ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চারজন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তারা হলেন বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মো. সায়েদুজ্জামান, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আকাম উদ্দিন, সংরক্ষিত নারী সদস্য জহুরা খাতুন এবং জানিপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে নজরুল ইসলাম মণ্ডল।

শেয়ার করুন

ভাইকে শেষবার দেখতে গিয়ে নিহত

ভাইকে শেষবার দেখতে গিয়ে নিহত

পরিবারের সদস্যরা জানান, দীপক ফুফাতো ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে দুপুরে নিজ কর্মস্থল থেকে মোটরসাইকেলে চরফ্যাশনের উদ্দেশে রওনা হন। সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে সন্ধ্যায় পুলিশ খবর দেয়।

ভোলার লালমোহনে ফুফাতো ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে শেষবারের মতো দেখতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন দীপক চন্দ্র দে নামে এক ব্যক্তি।

উপজেলার আবুগঞ্জ বাজার এলাকায় ইঞ্জিনচালিত নসিমনের সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেলের আরোহী দীপক নিহত হন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ভোলা-চরফ্যাশন হাইওয়ে সড়কের আবুগঞ্জ বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

৪৫ বছর বয়সী দীপক ভোলার পৌরকাচিয়া কলোনি এলাকার বাসিন্দা। তিনি ভোলা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ছিলেন।

স্থানীরা জানায়, ভোলা থেকে মোটরসাইকেলে চরফ্যাশন যাচ্ছিলেন দীপক। আবুগঞ্জ বাজার এলাকায় বাইকের সঙ্গে ধানবোঝাই নসিমনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।

দীপকের পরিবারের সদস্যরা জানান, দীপক ফুফাতো ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে দুপুরে নিজ কর্মস্থল থেকে মোটরসাইকেলে চরফ্যাশনের উদ্দেশে রওনা হন। সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে সন্ধ্যায় পুলিশ খবর দেয়।

লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদুর রহমান মুরাদ জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নসিমনটি জব্দ করা গেলেও চালক পালিয়ে গেছেন।

তদন্ত করে এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ওসি মুরাদ।

শেয়ার করুন

কক্সবাজার বিমানবন্দর: নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ পাইলটদেরও

কক্সবাজার বিমানবন্দর: নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ পাইলটদেরও

কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে মঙ্গলবার বিকেলে উড়োজাহাজের ধাক্কায় দুটি গরু মারা যায়। ছবি: নিউজবাংলা

কক্সবাজার বিমানবন্দরে কর্মরত একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অভিযোগ, বিমানবন্দরের রানওয়েতে অবতরণের সময় নানা সমস্যা নিয়ে মৌখিক ও লিখিতভাবে পাইলটরা অভিযোগ দিলেও তা আমলে নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মর্যাদা পেলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। দুই দিন আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের পাখার ধাক্কায় দুই গরুর মৃত্যুর পর তা ফের আলোচনায় উঠে এসেছে।

এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। উঠেছে নতুন অভিযোগও।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে কর্মরত একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অভিযোগ, বিমানবন্দরের রানওয়েতে অবতরণের সময় নানা সমস্যা নিয়ে মৌখিক ও লিখিতভাবে পাইলটরা অভিযোগ দিলেও তা আমলে নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, দুই সপ্তাহ আগেও অভিযোগ করা হয়েছিল গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন প্রাণীর রানওয়েতে উঠে পড়ার কারণে পাইলটদের অবতরণে সমস্যা হচ্ছে। বিমানবন্দরের কাছে স্থানীয়দের অবাধ চলাচল এবং ভিড়ও বড় সমস্যা।

একাধিক পাইলট জানিয়েছিলেন, চারদিকে প্রচুর মানুষের মধ্যে শঙ্কা নিয়ে বিমান অবতরণ করতে হয় তাদের। বিকেল হলেই বিমানবন্দরের রানওয়ের পাশের সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে ভেতরে চলে ফুটবল খেলা। সেই খেলা দেখতে আবার ভিড় করে অন্তত দুই শতাধিক মানুষ।

তার অভিযোগ, বিভিন্ন সময় এসব বিষয় নিয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরের সিকিউরিটি ইনচার্জকে মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো সমাধান আসেনি।

মঙ্গলবার রাতের ওই ঘটনার পর নির্দিষ্ট সীমানাপ্রাচীরের কাছে দায়িত্বে থাকা চার আনসার সদস্যকে চাকরিচ্যুত করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া গঠন করা হয়েছে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি, তবে তাদের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি কক্সবাজার বিমানবন্দরের দায়িত্বরতরা।

এ ছাড়া ওই ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এভিয়েশনের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। বুধবার বিকেলে তারা বিমানবন্দর পরিদর্শন করেন। বৃহস্পতিবার সকালে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তারা ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ছাড়েন।

এ প্রতিনিধি দলে ছিলেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (সিকিউরিটি) গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবু সালেহ মাহমুদ মান্নাফি।

কক্সবাজার বিমানবন্দর: নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ পাইলটদেরও
বিমানবন্দরের সীমানা প্রাচীরের ভাঙা অংশ দিয়ে অবাধে চলছে যাতায়াত, ঢুকে পড়ছে পশু

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কক্সবাজার বিমানবন্দরের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, মূলত রানওয়েতে গরু ঢুকেছে সংস্কার কাজের জন্য অরক্ষিত হয়ে পড়া সীমানা প্রচীরের অংশ দিয়ে। পাইলটদের অভিযোগের বিষয়ে অবশ্য কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

আকাশপথ ব্যবহার করে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকরা শঙ্কা প্রকাশ না করলেও বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় প্রয়োজনে চারদিকে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি তুলেছেন।

ঢাকা থেকে আসা জাহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানের একটি বিমানবন্দরে এমন ঘটনা কখনও কাঙ্ক্ষিত হতে পারে না। শুধু চার আনসার নয়, দায়িত্ব অবহেলার দায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপরও পড়ে। প্রয়োজনে তাদেরও পরিবর্তন করা হোক।’

নাদিরা জামান নামে আরেক যাত্রী বলেন, ‘একটি বিদেশি এনজিও সংস্থায় কাজ করার কারণে নিয়মিতই বিমানে কক্সবাজার আসি, কিন্তু বিমানের ধাক্কায় গরুর মৃত্যুর বিষয়টি দেখে নিজের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। ভাগ্য ভালো ওই বিমানযাত্রীদের। আমরা মনে করি এ বিমানবন্দরে আরও নিরাপত্তা বাড়ানো উচিত।

তবে বারবরের মতোই কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক গোলাম মোর্তজা হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কয়েকটি পয়েন্টে সীমানাপ্রাচীর সংস্কারের কাজ চলছে। দ্রুত তা শেষ হলে এসব গবাদিপশু বা বিমানবন্দরের নিরাপত্তাঝুঁকি কেটে যাবে।

কক্সবাজার বিমানবন্দর: নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ পাইলটদেরও
কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে মঙ্গলবার বিকালে উড়োজাহাজের ধাক্কায় দুটি গরু মারা গেছে

তার কাছেও পাইলটদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

২০০৫ সালে কক্সবাজার বিমানবন্দরের উত্তরে বঙ্গোপসাগরে একটি কার্গো উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে বিদেশি পাইলটসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। কার্গো উড়োজাহাজটি কক্সবাজার থেকে চিংড়ির পোনা নিয়ে যশোর যাচ্ছিল। এ ছাড়া ২০১৭ সালে একটি বেসরকারি উড়োজাহাজের চাকায় পিষ্ট হয়ে রানওয়েতে তিনটি কুকুরের মৃত্যু হয়।

শেয়ার করুন

ট্রেন লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরের রেল বন্ধ

ট্রেন লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরের রেল বন্ধ

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় লাইনচ্যুত হয়েছে মালবাহী ট্রেন। ছবি: নিউজবাংলা

পাকশী রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী শিপন আলী জানান, দুর্ঘটনার কারণে চাটমোহর স্টেশনে ঢাকাগামী লালমনি এক্সপ্রেস ও উল্লাপাড়া স্টেশনে রাজশাহীগামী বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে আছে।

ঢাকা-ঈশ্বরদী রেলপথের পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ আছে।

ভাঙ্গুড়ার বড়ালব্রিজ রেলস্টেশনে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পাকশী রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী শিপন আলী নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দুর্ঘটনার কারণে চাটমোহর স্টেশনে ঢাকাগামী লালমনি এক্সপ্রেস ও উল্লাপাড়া স্টেশনে রাজশাহীগামী বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে আছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বড়ালব্রিজ স্টেশন পার হওয়ার সময় বিকট শব্দে ট্রেনটির পেছনের ১০টি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর মধ্যে একটি বগি হেলে পড়ে। আরেকটির চাকা লাইন থেকে পড়ে যায়।

বড়ালব্রিজ স্টেশনের বুকিং ক্লার্ক মো. মামুন জানান, পাকশী থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন