গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বদরুন্নেসার শিক্ষক আটক

গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বদরুন্নেসার শিক্ষক আটক

বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের ফটক। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বেইলি রোডের বাসা থেকে বুধবার সকালে রুমা সরকারকে আটক করা হয়। দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‍্যাবের লিগ্যাল আ্যন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন।

ফেসবুকে ধর্মীয় উসকানিমূলক, মিথ্যা ও গুজব ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক রুমা সরকারকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

রাজধানীর বেইলি রোডের বাসা থেকে বুধবার সকালে তাকে আটক করা হয়।

দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান, রাজধানী পল্লবীর সাহিনুদ্দীন হত্যাকাণ্ডের ভিডিও নোয়াখালীর ‌যতন সাহা হত্যাকাণ্ডের বলে অপপ্রচারের অভিযোগে রুমা সরকারকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‍্যাব সদর দপ্তরে নেয়া হয়েছে।

আল মঈন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করে একটি ভিডিও ভাইরাল করেন রুমা সরকার, যে ভিডিও অনেক আগের এবং সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার সঙ্গে মিল নেই। এ ছাড়া তিনি ফেসবুক লাইভে এসে উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়েছেন। এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল। এ জন্য তাকে আমরা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।’

মামলা হওয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘মামলা হবে কি না, এখনই বলা যাচ্ছে না। পরবর্তী সময়ে আইনি প্রক্রিয়া মেনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রামপুরার শিক্ষার্থীদের পেছনে রাজনৈতিক উসকানি: কাদের

রামপুরার শিক্ষার্থীদের পেছনে রাজনৈতিক উসকানি: কাদের

মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সড়ক নিরাপত্তামূলক রোড শোতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘তারপরেও এই আন্দোলনটা একটি বিশেষ এলাকায় সীমাবদ্ধ রয়েছে। এটা রামপুরা এলাকাতেই শুধু হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীরা যখন আন্দোলন শেষে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করছে তখনি রাজনৈতিক উসকানি দিচ্ছে একটি মহল।’

নিরাপদ সড়কসহ বিভিন্ন দাবিতে কিছুদিন ধরে রাজধানীর রামপুরায় আন্দোলন করতে থাকা শিক্ষার্থীদের পেছনে একটি রাজনৈতিক দলের ইন্ধন আছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে শনিবার সকালে সড়ক নিরাপত্তা ও গণসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সড়ক নিরাপত্তামূলক রোড শোতে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

কাদের বলেন, ‘রাজনৈতিক দল থেকে শিক্ষার্থীদের উসকানি দেয়া হয়। সেটার প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। এর ভিডিও ফুটেজ আছে। এটা একটা রাজনৈতিক দলের মহানগরের মহিলা নেত্রী রামপুরায় রাস্তায় নেমে ছাত্রছাত্রীদের উসকানি দিচ্ছেন, স্কুলের ড্রেস পরে।

‘তারপরেও এই আন্দোলনটা একটি বিশেষ এলাকায় সীমাবদ্ধ রয়েছে। এটা রামপুরা এলাকাতেই শুধু হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীরা যখন আন্দোলন শেষে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করছে তখনি রাজনৈতিক উসকানি দিচ্ছে একটি মহল।’

বাস ভাড়া অর্ধেক করার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মাঝে ২৯ নভেম্বর রাতে রামপুরায় অনাবিল পরিবহনের বাসের ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষা দেয়া এক ছাত্রের প্রাণ যায়।

এর আগে ২৪ নভেম্বর রাজধানীর গুলিস্তানে সিটি করপোরেশনের একটি ময়লার গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন নটর ডেম কলেজের এক ছাত্র।

এসব ঘটনার পর নানা দাবিতে প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পেছনে যারা জড়িত, তাদের বিচারের পাশাপাশি অন্যতম দাবি ছিল বাস ভাড়া অর্ধেক করা।

এমন অবস্থায় ৩০ নভেম্বর ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়েছেন তারা। পরের দিন থেকেই ঢাকা শহরে ছাত্রদের জন্য কার্যকর করা হয় হাফ পাস।

হাফ পাসের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে মালিক সমিতি। এর মধ্যে রয়েছে হাফ পাস কার্যকর হবে শুধু রাজধানীতে, হাফ ভাড়া দেয়ার সময় অবশ্যই ছবিসংবলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড দেখাতে হবে। সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং সরকারি ছুটির দিনগুলোয় কোনো হাফ পাস থাকবে না।

তবে রাস্তা ছাড়ছেন না রামপুরার শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিনই দুপুর ১২টা থেকে দুই থেকে তিন ঘণ্টার জন্য নিয়ম করে রামপুরার ব্রিজে অবস্থান নেন তারা। এতে বাড্ডা-এয়ারপোর্ট রোডে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

রাস্তা ছেড়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোনিবেশ করার পরামর্শ দিলেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘প্যান্ডামিকের কারণে শিক্ষার্থীদের অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। অনেক ক্ষতি হয়েছে তাদের। তারা এখন পড়াশোনায় মননিবেশ করুক এটাই আমাদের চাওয়া।’

শেয়ার করুন

এবার রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় শিক্ষার্থী নিহত

এবার রাজধানীতে ট্রাকের ধাক্কায় শিক্ষার্থী নিহত

ট্রাকের ধাক্কায় নিহত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহাদী হাসান লিমন। ছবি: ফেসবুক

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘বিমানবন্দর পুলিশ কাওলা এলাকায় ট্রাকের চাপায় পিষ্ট এক মোটরসাইকেল আরোহীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে।’

রাজধানীতে সম্প্রতি গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজ ও রামপুরার একরামুন্নেসা স্কুলের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। চলমান আন্দোলনের মধ্যেই শুক্রবার রাজধানীর বিমানবন্দরের কাওলা এলাকায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

মাহাদী হাসান লিমন নামের ওই শিক্ষার্থী শুক্রবার রাজধানীর ঝিগাতলা থেকে উত্তরায় বাসায় ফেরার পথে রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি গ্রিন ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

নিহতের খালু মোহাম্মদ ইমাম হাসান জানান, বিমানবন্দরের কাওলা পদ্মা অয়েল কোম্পানির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিমানবন্দর থানার পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। রাত ২টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

মাহাদীর পকেটে থাকা মোবাইল দিয়ে কল করলে তার খালু ইমাম হাসান ঢাকা মেডিক্যালে যান। গিয়ে মাহাদীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে জানান।

তিনি বলেন, ‘মাহাদী একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ছিল, তার বাড়ি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানার দমদমা পশ্চিম গ্রামে। তার বাবার নাম মোজাম্মেল হক। দুই ভাই, এক বোনের মধ্যে সে বড় ছিল। উত্তরার কামারপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকত সে।’

২১ বছর বয়সী মাহাদী পড়াশোনার পাশাপাশি জুনিয়র লেভেলে ক্রিকেট খেলতেন।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘বিমানবন্দর পুলিশ কাওলা এলাকায় ট্রাকের চাপায় পিষ্ট এক মোটরসাইকেল আরোহীকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে।’

বিমানবন্দর থানার পুলিশের বরাত দিয়ে বাচ্চু মিয়া জানান, এ ঘটনায় চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে। গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

রামপুরায় শিক্ষার্থীদের অবস্থান, লাঞ্ছনার অভিযোগে উত্তেজনা

রামপুরায় শিক্ষার্থীদের অবস্থান, লাঞ্ছনার অভিযোগে উত্তেজনা

১১ দফা দাবিতে শুক্রবারও রামপুরা ব্রিজের পশ্চিম পাশে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

খিলগাঁও মডেল কলেজের ছাত্রী সোহাগী সামিয়া বলেন, ‍“যত দিন আমাদের দাবি না মানা হবে, তত দিন আমরা রাস্তায় নামব। সড়কের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা ‘লাল কার্ড’ দেখাতে চাই। আমরা আগামীকাল ফুটপাতে দাঁড়িয়ে লাল কার্ড ও ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করব।”

১১ দফা দাবিতে গত কয়েক দিনের মতো শুক্রবারও রামপুরা সড়কে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা।

বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রামপুরা ব্রিজের পশ্চিম পাশে অবস্থান নেয় তারা।

শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচিতে যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটেনি। কোনো ধরনের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেনি, তবে এক শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছনার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে কিছুক্ষণের জন্য তাদের বাগবিতণ্ডা হয়।

পরে আরও কিছুক্ষণ অবস্থান নিয়ে তারা রামপুরা এলাকা ছেড়ে দেয়।

অবস্থান কর্মসূচিতে থাকা শিক্ষার্থীরা ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘আমরা আছি থাকব, যুগে যুগে লড়ব’, ‘একাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’, ‘আমার ভাই কবরে, প্রশাসন কী করে’, ‘ছাত্র হত্যার আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ এ ধরনের স্লোগান দিতে থাকে।

বাগবিতণ্ডা কেন

কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা নিয়ে বাংলা কলেজের ছাত্র তানভীর হোসেন ফাহিম বলেন, ‌‍“আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিলাম। হঠাৎ শুনলাম আমাদের কয়েকজন ছাত্র বাস আটকাচ্ছে। পরবর্তী সময়ে আমরা সেখানে গিয়েছি তাদের থামানোর জন্য। তখন পুলিশের একজন সিভিলে ছিলেন। তিনি বলেন, ‌‘তোমার আইডি কার্ড দেখাও।’ আমি ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে উঠেছি এবার। পড়ি মিরপুর বাংলা কলেজে। সেকেন্ড ইয়ারের আইডি কার্ড পাইনি। তাই আমার ভর্তির কাগজ নিয়ে আসছি।

“তাকে ভর্তির কাগজ দেখালে তিনি কাগজটি দলামোচড় করে ফেলে দেন। পরে বলেন, ‌‘তোকে লাত্থি মেরে ফেলে দেব।’ পুলিশকে জানালে, তারা বলে, ‘সে আমাদের লোক না।’ তা হলে পুলিশ থাকতে সে কীভাবে আমাদের সঙ্গে এমন ব্যবহার করল।”

খিলগাঁও মডেল কলেজের ছাত্রী সোহাগী সামিয়া বলেন, ‘পুলিশ বলছে আন্দোলনে বহিরাগতদের প্রবেশের কথা। আমাদের আন্দোলনে যদি বহিরাগত ঢুকে যায়, সেটা তারা দেখবে। তারা আমাদের প্রটোকল দেবে। আমাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল এবং আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই করতে চেয়েছি। আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন পুলিশ বাহিনী নস্যাৎ করার জন্য সুকৌশলে কিছু ঘটনা ঘটাচ্ছে।

‘আমাদের ছাত্রদের গায়ে তারা কেন হাত তুলবে? আমাদের এক ছাত্র প্রবেশপত্র দেখাইছে। সেটা তারা ছুড়ে ফেলে দিছে। ছাত্রদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটালে ছাত্ররা কি মাথা নত করে চলে যাবে?’

ওই ছাত্রী বলেন, ‘গতকালও শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার সময় পুলিশ বাধা দিয়েছে। আমরা তো বলেছি, আমরা এমনভাবে আন্দোলন করব, যাতে কারও যাতায়াতে সমস্যা না হয়। আমরা জনগণের জন্য জীবনের স্বার্থ ত্যাগ করে নামছি।’

‍“যত দিন আমাদের দাবি না মানা হবে, তত দিন আমরা রাস্তায় নামব। সড়কের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা ‘লাল কার্ড’ দেখাতে চাই। আমরা আগামীকাল ফুটপাতে দাঁড়িয়ে লাল কার্ড ও ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করব।”

ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রমজান বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ এবং গায়ে হাত তুলিনি। কে বা কারা করেছে সেটি বলতে পারব না।’

বাস ভাড়া অর্ধেক করার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মাঝে গত সোমবার রাতে রামপুরায় অনাবিল পরিবহনের বাসের ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষা দেয়া এক ছাত্রের প্রাণ যায়।

এর আগে ২৪ নভেম্বর রাজধানীর গুলিস্তানে সিটি করপোরেশনের একটি ময়লার গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন নটর ডেম কলেজের এক ছাত্র।

এ ঘটনার পর নানা দাবিতে প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পেছনে যারা জড়িত, তাদের বিচারের পাশাপাশি অন্যতম দাবি ছিল বাস ভাড়া অর্ধেক করা।

এমন অবস্থায় গত মঙ্গলবার ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়েছেন তারা।

বুধবার থেকেই ঢাকা শহরে ছাত্রদের জন্য কার্যকর করা হয় হাফ পাস।

হাফ পাসের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে মালিক সমিতি। এর মধ্যে রয়েছে হাফ পাস কার্যকর হবে শুধু রাজধানীতে, হাফ ভাড়া দেয়ার সময় অবশ্যই ছবিসংবলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড দেখাতে হবে।

সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং সরকারি ছুটির দিনগুলোয় কোনো হাফ পাস থাকবে না।

শেয়ার করুন

বসুন্ধরা আবাসিকে গাড়ির ধাক্কায় সাইকেল আরোহী নিহত

বসুন্ধরা আবাসিকে গাড়ির ধাক্কায় সাইকেল আরোহী নিহত

জীবন মিয়া জানান, বিকেল ৪টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাইসাইকেলে করে বাসায় ফিরছিলেন হায়াতুল। পথে বসুন্ধরা আবাসিকের এম ব্লকের সামনে গেলে একটি প্রাইভেট কার তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় প্রাইভেট কারের ধাক্কায় মো. হায়াতুল নামে এক সাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত গাড়িটিকে আটক করা যায়নি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বসুন্ধরা আবাসিকের এম ব্লকে এ ঘটনা ঘটে।

২৮ বছর বয়সী হায়াতুল ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার তারাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি রাজধানীর কুড়িলের মির্জাপুর এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।

হায়াতুল পেশায় প্রাইভেট কারচালক ছিলেন বলে জানিয়েছে তার ভায়রা জীবন মিয়া।

তিনি জানান, বিকেল ৪টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাইসাইকেলে করে বাসায় ফিরছিলেন হায়াতুল। পথে বসুন্ধরা আবাসিকের এম ব্লকের সামনে গেলে একটি প্রাইভেট কার তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

জীবন মিয়া জানান, হায়াতুলকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। পরে চিকিৎসক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্বজনরা জানিয়েছেন, দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন হায়াতুল।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।’

শেয়ার করুন

রাজধানীতে ছুরিকাঘাতে কিশোর আহত

রাজধানীতে ছুরিকাঘাতে কিশোর আহত

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। ফাইল ছবি

আহত কিশোরের নাম শাকিল মিয়া। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে আহত তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার জন্য রক্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ’কিশোর গ্যাংয়ের’ দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে এক কিশোর আহত হয়েছে। ওই কিশোর এখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শুক্রবার বিকেলে এ ঘটনায় আহত কিশোরের নাম শাকিল মিয়া। সন্ধ্যার দিকে আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার জন্য রক্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

শাকিলের বন্ধু মোহাম্মদ শিমুল বলেন, ‘বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আমরা তিন-চার বন্ধু যাত্রাবাড়ীর কাজলা ব্রিজসংলগ্ন বরফ গলি এলাকা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। একপর্যায়ে ওই এলাকার কিছু বখাটে ছেলে শাকিলকে ডেকে চড়থাপ্পড় মারে।’

তিনি বলেন, ’তখন আমরা দুই-তিনজন এর প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের সঙ্গে হাতাহাতি হয়। পরে বিজয় নামে একজনসহ কয়েকজন আমাদের মারধর করতে থাকে। বিজয় শাকিলের পশ্চাৎদেশে ছুরিকাঘাত করে। এতে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় শাকিলকে হাসপাতালে আনা হয়।’

ঢাকা মেডিক্যালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, যাত্রাবাড়ী এলাকায় ছুরিকাঘাতে আহত এক কিশোরকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ছেলেটির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের চারজন কিশোরকে আমরা ঢাকা মেডিক্যাল থেকে আটক করেছি। যাত্রাবাড়ী থানাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

র‌্যাব সেজে সেনাবাহিনীতে চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৫

র‌্যাব সেজে সেনাবাহিনীতে চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৫

র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ৫ জন। ছবি: নিউজবাংলা

রাজধানীর দক্ষিণখান ও কুষ্টিয়া থেকে র‌্যাব -১২ ও র‌্যাব-১-এর যৌথ অভিযানে বৃহস্পতিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন তাজন হোসেন, সাইফুল ইসললাম শেখ, সাবান আলী, এস এম জাহিদুল ইসলাম ও কাজী শাহীন।

র‌্যাব কর্মকর্তা পরিচয়ে সেনাবাহিনীতে চাকরি দেয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

রাজধানীর দক্ষিণখান ও কুষ্টিয়া থেকে র‌্যাব-১২ ও র‌্যাব-১-এর যৌথ অভিযানে বৃহস্পতিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে শুক্রবার ব্রিফিংয়ে জানায় বাহিনীটি।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন তাজন হোসেন, সাইফুল ইসললাম শেখ, সাবান আলী, এস এম জাহিদুল ইসলাম ও কাজী শাহীন।

এ বিষয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যে র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়ার একটি দল র‌্যাব কর্মকর্তা পরিচয়ে সেনাবাহিনীতে চাকরি দেয়ার নামে কুষ্টিয়ার স্থানীয় দুজনের কাছ থেকে অর্থ নেয়ার অভিযোগে তাজন হোসেন, সাইফুল ইসলাম শেখ ও সাবান আলীকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় গ্রেপ্তার সাইফুলের কাছ থেকে র‌্যাবের একটি ভুয়া আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল ও তাজন স্বীকার করেন, প্রতারণা করে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে তারা ভুয়া র‌্যাব কর্মকর্তা সেজে এ ধরনের কাজ করতেন। কুষ্টিয়ার স্থানীয় একজন ঘটক সাবান আলীকে সাইফুল চাকরিপ্রার্থী সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করতেন। জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল স্বীকার করেন, ঢাকার আশকোনার একটি কম্পিউটারের দোকান থেকে সে র‌্যাবের ভুয়া আইডি কার্ড তৈরি করেছে।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাব-১-এর সহায়তায় র‌্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের দল রাজধানীর দক্ষিণখান আশকোনার কম্পিউটার দোকান থেকে র‌্যাবের ভুয়া আইডি তৈরিতে পারদর্শী এস এম জাহিদুল ইসলাম ও কাজী শাহীনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কম্পিউটার থেকে র‌্যাবের ভুয়া আইডি কার্ড ও সেনাবাহিনীতে ভর্তির নিয়োগপত্র জব্দ করা হয়।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন বলেন, গ্রেপ্তার সাইফুল এসএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। এরপর সে দীর্ঘ ১১ বছর হা-মীম নামক একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে নিরাপত্তা বিভাগে চাকরি করেছে। করোনা মহামারির সময় গার্মেন্টস কারখানা থেকে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর সে এই প্রতারণায় জড়িত হয়েছে বলে জানায়। সাইফুলের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় সেনাবাহিনীতে চাকরি দেয়ার নামে দুজনের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেয়ার পর ভুয়া নিয়োগপত্র দেয়ার অভিযোগে মাগুরার শ্রীপুর থানায় একটি মামলা আছে।

শেয়ার করুন

বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহত: সুপারভাইজার-হেলপারের স্বীকারোক্তি

বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহত: সুপারভাইজার-হেলপারের স্বীকারোক্তি

অনাবিল পরিবহনের একটি বাসের চাপায় শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন নিহত হয়। ফাইল ছবি

মাইনুদ্দিনকে বাস চাপা দেয়ার রাতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় শহীদ ব্যাপারী নামে এক আসামিকে আরও দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে একই আদালত।

রাজধানীর রামপুরায় বাসের চাপায় একরামুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন ইসলাম নিহতের মামলায় অনাবিল পরিবহনের সুপারভাইজার গোলাম রাব্বী ওরফে বিন রহমান ও হেলপার চাঁন মিয়া আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

এক দিনের রিমান্ড শেষে দুই আসামিকে শুক্রবার আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা থানার উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ আল আমিন মীর।

সড়ক পরিবহন আইনে করা মামলায় দুই আসামির স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন আদালতে রামপুরা থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক সেলিম রেজা।

এর আগে বুধবার দুই আসামিকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

অন্যদিকে মাইনুদ্দিনকে বাস চাপা দেয়ার রাতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় শহীদ ব্যাপারী নামে এক আসামিকে আরও দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে একই আদালত।

এক দিনের রিমান্ড শেষে শহীদ ব্যাপারীকে আদালতে হাজির করে আরও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রামপুরা থানার সাব-ইন্সপেক্টর তৌহিদুল ইসলাম।

গত ২৯ নভেম্বর রাত ১১টার দিকে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় অনাবিল সুপার পরিবহনের বাসের চাপায় মাইনুদ্দিন নিহত হয়। এ ঘটনায় রাতে সড়ক অবরোধ করে উত্তেজিত জনতা। এ সময় ঘাতক বাসসহ আটটি বাসে আগুন দেয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় আরও চারটি বাস।

মাইনুদ্দিন নিহতের ঘটনায় তার মা রাশিদা বেগম সড়ক দুর্ঘটনা আইনে মামলা করেন। একই ঘটনায় রামপুরা এলাকায় আটটি বাসে আগুন ও চারটিতে ভাঙচুর করায় পৃথক একটি মামলা করে পুলিশ। মামলায় আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাত পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে।

শেয়ার করুন