হাসপাতালের অবহেলায় প্রবাসীদের টিকায় ভোগান্তি

player
হাসপাতালের অবহেলায় প্রবাসীদের টিকায় ভোগান্তি

সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের সামনে করোনা প্রতিরোধী টিকার দাবিতে প্রবাসীদের বিক্ষোভ। ছবি: নিউজবাংলা

রাজধানীর নির্ধারিত সাতটি হাসপাতালে প্রবাসীদের করোনাপ্রতিরোধী টিকা দেয়া হয়। এর মধ্যে সোহরাওয়ার্দী ছাড়া ছয়টি হাসপাতাল ঈদে মিলাদুন্নবীর দিন টিকা দেয়ার কোনো কর্মসূচি রাখেনি। সেভাবেই তারা প্রবাসীদের এসএমএস পাঠিয়েছে।

এসএমএসে পাঠানো তথ্যানুযায়ী ঈদে মিলাদুন্নবীর দিনে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রবাসীরা। তারা এসে দেখেন, সরকারি ছুটি থাকায় এদিন টিকা দেয়া হচ্ছে না। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগে জানায়নি।

বুধবার সকালে টিকা নিতে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে সোহরাওয়ার্দীতে আসেন কয়েক শ প্রবাসী। তারা জানান, তাদেরকে পাঠানো এসএমএসে দেয়া তথ্যানুযায়ী সকাল ১০টায় টিকা নিতে হাসপাতালে জড়ো হন তারা। এসে দেখেন ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি, তাই টিকা দেয়া হচ্ছে না।

বিদেশগামী শ্রমিকদের দাবি, শুধু হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে টিকা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হলো তাদের। তিন সপ্তাহ আগে টিকার এসএমএস পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে নতুন কোনো এসএমএস দিয়ে জানানোও হয়নি, বুধবার ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটিতে টিকা দেয়া হবে না।

টিকা না পেয়ে বুধবার ১০টা থেকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন প্রবাসীরা। কেউ কেউ ক্ষিপ্ত হয়ে আনসার এবং হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায়ও জড়ান। এসময় ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে।

পরে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে বেলা ১১টার দিকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ছাড়েন প্রবাসীরা।

রাজধানীর নির্ধারিত সাতটি হাসপাতালে প্রবাসীদের করোনাপ্রতিরোধী টিকা দেয়া হয়। এগুলো হলো ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল।

এর মধ্যে সোহরাওয়ার্দী ছাড়া ছয়টি হাসপাতাল ঈদে মিলাদুন্নবীর দিন টিকা দেয়ার কোনো কর্মসূচি রাখেনি। সেভাবেই তারা প্রবাসীদের এসএমএস পাঠিয়েছে।

সোহরাওয়ার্দীতে শেরপুর থেকে টিকা নিতে আসা মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘এসএমএস পেয়ে এত দূর থেকে টিকা দিতে এলাম। এসে দেখি টিকা দিচ্ছে না। ঢাকায় আমার কোনো আত্মীয়-স্বজনও নেই। হোটেলে থাকলেও দুই-তিন হাজার টাকার খরচার ব্যাপার।’

সালাউদ্দিনের মতো ভোগান্তির কথা জানালেন আরও অনেকে।

প্রবাসীদের ভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করেছেন সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. খলিলুর রহমান।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি ছিল মূলত মঙ্গলবার। ক্যালেন্ডার দেখে তিন সপ্তাহ আগে টিকার এসএমএস পাঠানো হয়েছে। সেটি পরিবর্তন হওয়ায় এসএমএস জটিলতা তৈরি হয়েছে।’

ছুটি যখন পরিবর্তন হয়েছে তখন টিকার তারিখ পরিবর্তন করে এসএমএস দিতে পারতেন কি না, এমন প্রশ্নে অদ্ভুত যুক্তি দেখালেন খলিলুর। তিনি বলেন, ‘সেটি হয়তো করা যেত, তাতে নতুন ভোগান্তি দেখা দিত। অনেকেই হয়তো এসএমএস দেখতো না। যেকারণে নতুন করে আর টিকা এসএমএস দেয়া হয়নি।’

টিকা প্রত্যাশীদের আশ্বস্ত করে খলিলুর বলেন, ‘আজ যারা টিকা নিতে এসেছেন আমরা তাদেরকে বলেছি আগামীকাল নির্দিষ্ট সময়ে টিকা নিতে আসবেন।’

আগামীকালের জন্য তো নির্ধারিত মানুষকে টিকার এসএমএস দেয়া হয়েছে, সেক্ষেত্রে ভোগান্তি বা জটিলতা তৈরি হবে কি-না এমন প্রশ্ন রাখা হয় হাসপাতালটির পরিচালকের কাছে।

খলিলুর বলেন, ‘আমাদের হাতে পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে। একটু ভিড় হলেও সবাই টিকা পাবেন।’

আরও পড়ুন:
টিকার দাবিতে সোহরাওয়ার্দীতে প্রবাসীদের বিক্ষোভ
মাসে ৩ কোটি টিকা দেয়ার ঘোষণা
বুস্টার ডোজ নিয়ে ভাবছে না সরকার
সারা দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাউশি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকাদান শুরু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

অরিত্রীর আত্মহত্যা: সাক্ষ্য দিলেন দুই শিক্ষিকা

অরিত্রীর আত্মহত্যা: সাক্ষ্য দিলেন দুই শিক্ষিকা

অরিত্রীর আত্মহত্যার পর বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারী ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর রাজধানীর শান্তিনগরে নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অরিত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতি শাখার প্রধান জিনাত আক্তার ও শ্রেণি-শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে আসামি করে মামলা হয়।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির দুই শিক্ষিকা।

ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলমের আদালতে সোমবার তারা সাক্ষ্য দেন। তারা হলেন প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র শিক্ষিকা লুৎফুন নাহার করিম ও প্রভাতি শাখার খণ্ডকালীন শিক্ষিকা আফসানা আমাতু রাব্বী।

আদালত তাদের সাক্ষ্য নিয়ে আগামী ৩০ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্যের জন্য দিন ঠিক করে।

মামলাটির অভিযোগপত্রে থাকা রাষ্ট্রপক্ষের ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত আটজনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে।

আদালতে সোমবার সাক্ষ্যগ্রহণের সময় মামলার দুই আসামি নাজনীন ফেরদৌস ও জিনাত আক্তার কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সাবিনা আক্তার দিপা নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর রাজধানীর শান্তিনগরে নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয় শিক্ষার্থী অরিত্রী। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে।

অরিত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে পরদিন রাজধানীর পল্টন থানায় তার বাবা দিলীপ অধিকারী বাদী হয়ে মামলা করেন। আসামি করা হয় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতি শাখার প্রধান জিনাত আক্তার ও শ্রেণি-শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কাজী কামরুল ইসলাম দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় শ্রেণি-শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদনও করেন তিনি।

২০১৯ সালের ১০ জুলাই ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও শাখাপ্রধান জিনাত আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

এজাহারে অরিত্রীর আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে বলা হয়, অরিত্রীর স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। ২০১৮ সালের ২ ডিসেম্বর সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষা চলার সময় তার কাছে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। এ জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের (বাবা-মা) ডেকে পাঠায়। ৩ ডিসেম্বর স্কুলে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়, অরিত্রী মোবাইল ফোনে নকল করছিল, তাই তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এজাহারে অরিত্রীর বাবা আরও উল্লেখ করেন, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষ মেয়ের সামনে আমাকে (বাবা) অনেক অপমান করেন। এ অপমান এবং পরীক্ষা দিতে না পারার মানসিক আঘাত সইতে না পেরে সে (অরিত্রী) আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।’

অরিত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্কুল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় স্কুলের অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়।

আরও পড়ুন:
টিকার দাবিতে সোহরাওয়ার্দীতে প্রবাসীদের বিক্ষোভ
মাসে ৩ কোটি টিকা দেয়ার ঘোষণা
বুস্টার ডোজ নিয়ে ভাবছে না সরকার
সারা দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাউশি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকাদান শুরু

শেয়ার করুন

‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে প্রতারিত হয়ে নিজেই প্রতারক’

‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে প্রতারিত হয়ে নিজেই প্রতারক’

সিআইডির অভিযানে সোমবার গ্রেপ্তার করা হয় মেহেদী হাসানকে। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ জানায়, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য ফেসবুকে একটি চক্র প্রলোভন দিয়ে যাচ্ছিল। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সাইবার টিম বিষয়টি জানতে পেরে অভিযানে নামে।

ছোট ভাইকে অবৈধ উপায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য একজনকে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়ে এখন নিজেই সেই প্রতারণার পথ বেছে নিয়েছেন মেহেদী হাসান।

সোমবার সকালে নড়াইলের লোহাগড়া থেকে এমন অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজধানীর একটি সরকারি কলেজ থেকে অনার্স মাস্টার্স শেষ করেছেন মেহেদী।

পুলিশ জানায়, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য ফেসবুকে একটি চক্র প্রলোভন দিয়ে যাচ্ছিল। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার টিম বিষয়টি জানতে পেরে অভিযানে নামে।

সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিআরইউআর চান্স ১০০% করে দিব’ নামের গ্রুপ থেকে একটি বার্তা ফেসবুকে শেয়ার করা হয়। এতে বলা হয়, যারা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাননি, তাদের চান্স পাইয়ে দেব। এতে খরচ হবে ২০ হাজার টাকা। অগ্রিম পেমেন্ট করতে হবে ৮৫০ টাকা।

‘একই গ্রুপ থেকে আরেকটি বার্তা শেয়ার করা হয়। সেখানে লেখা ছিল, যারা রেজাল্ট চেঞ্জ করার জন্য ৮৫০ টাকা দিয়েছেন তাদের রেজাল্ট চেঞ্জ হয়েছে। বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে রেজাল্ট পাবেন। বাকি টাকা ভর্তির পর দেবেন।’

বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ বলেন, ‘সিআইডি সাইবার টিম এ ব্যাপারে তৎপর হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বেশ কয়েক দিন অনুসন্ধান চালানোর পর অবশেষে প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করা হয়।

‘অনুসন্ধানে জানা যায়, এই প্রতারক চক্রটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গেও যুক্ত। চক্রটি বিভিন্ন মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিত। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মেহেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার মেহেদী হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ২০১৭ সালে তার ছোট ভাইকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য একজনকে তিন হাজার টাকা দিয়ে প্রতারিত হন মেহেদী। এখান থেকেই তার এই প্রতারণার শুরু। তিনি বিভিন্ন সময়ে এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেন।

গ্রেপ্তারের সময় মেহেদীর কাছ থেকে বিকাশ সিমসহ মোট ১০টি সিম, তিনটি মোবাইল ফোন এবং একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
টিকার দাবিতে সোহরাওয়ার্দীতে প্রবাসীদের বিক্ষোভ
মাসে ৩ কোটি টিকা দেয়ার ঘোষণা
বুস্টার ডোজ নিয়ে ভাবছে না সরকার
সারা দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাউশি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকাদান শুরু

শেয়ার করুন

গ্লাস কাটা ছেড়ে রগ কাটা

গ্লাস কাটা ছেড়ে রগ কাটা

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৫ জানুয়ারি সুমন ও তার সহযোগীরা সায়মনকে পাশের নির্মাণাধীন ভবন থেকে ধরে নিয়ে আসেন মুক্তিরবাগ বালুর মাঠ এলাকায়। ভিকটিমকে চেপে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার হাত ও পায়ের রগ কেটে দেন তারা।

কেরানীগঞ্জের এক গ্লাস (কাচ) কোম্পানিতে চাকরি করতেন সুমন। ভালো গ্লাস কাটতে পারতেন এবং ভাঙা গ্লাস দিয়ে মানুষকে বিভিন্ন সময় আক্রমণ ও জখম করার কারণে নাম হয় গ্লাস সুমন। পরবর্তীতে গ্লাস কোম্পানির চাকরি ছেড়ে ‘গ্লাস কোম্পানি’ নামে একটি মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন তিনি।

কিছুদিন আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওই মাদক সিন্ডিকেটের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। সুমন ও তার সহযোগীরা সন্দেহ করেন, নূরে আলম সায়মন নামে এক তরুণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য দিয়েছেন।

এর ফলে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তারা সায়মনকে হাত ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব সদরদপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১০ রোববার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে কেরানীগঞ্জে সুমন ওরফে ‘গ্লাস সুমন’সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃত অন্য সদস্যরা হলেন: মো. সোহাগ, মো. শরীফ, মো. জনি ও মো. হারুন। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় হত্যার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান, গত ১৫ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জ এলাকায় নুরে আলম ওরফে সায়মনকে বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাত ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় সায়মনের ভাই আরস আলম কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় সাত-আটজন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। র‌্যাব ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে ও জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত সুমন একটি মাদক সিন্ডিকেটের হোতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কেরানীগঞ্জসহ এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় তিনি ‘গ্লাস কোম্পানি’ নামে একটি মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই চক্রের সক্রিয় সদস্যসংখ্যা ১২ থেকে ১৫।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওই মাদক সিন্ডিকেটের কয়েকজন কারবারিকে কিছুদিন আগে গ্রেপ্তার করে। সুমন ও তার সহযোগীরা এ জন্য ভিকটিম সায়মনকে সন্দেহ করেন। ফলে তারা প্রতিহিংসার বশে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

ঘটনার কয়েক দিন আগে মুক্তিরবাগ বালুর মাঠ এলাকায় সুমন ও তার সহযোগী সোহাগসহ আরও কয়েকজন হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তারকৃতরা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৫ জানুয়ারি সুমন ও তার সহযোগীরা সায়মনকে পাশের নির্মাণাধীন ভবন থেকে ধরে নিয়ে আসেন মুক্তিরবাগ বালুর মাঠ এলাকায়। ভিকটিমকে চেপে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার হাত ও পায়ের রগ কেটে দেন তারা। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সায়মনকে গুরুতর আহত করে তারা পালিয়ে যান। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন সায়মনকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সুমন হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী এবং হত্যাকাণ্ডের সময় সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিজে ভিকটিমের রগ কেটেছেন বলে স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া গ্রেপ্তারকৃত সোহাগ ও শরীফ রগ কাটায় অংশগ্রহণ করেন এবং গ্রেপ্তারকৃত জনি ও গ্লাস সুমন পরবর্তীতে ধরে রাখেন।

র‍্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সুমনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক ও ছিনতাই সংক্রান্ত পাঁচটি মামলা রয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধেও রাজধানীর বিভিন্ন থানায় রয়েছে একাধিক মামলা।

আরও পড়ুন:
টিকার দাবিতে সোহরাওয়ার্দীতে প্রবাসীদের বিক্ষোভ
মাসে ৩ কোটি টিকা দেয়ার ঘোষণা
বুস্টার ডোজ নিয়ে ভাবছে না সরকার
সারা দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাউশি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকাদান শুরু

শেয়ার করুন

জামিন পেলেন সাংবাদিক শাকিল আহমেদ

জামিন পেলেন সাংবাদিক শাকিল আহমেদ

ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত জামিন দেয় সাংবাদিক শাকিলকে। ফাইল ছবি

ধর্ষণ ও ভ্রুণ হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গত বছরের ৬ ডিসেম্বর বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন শাকিল আহমেদ। শুনানি শেষে আদালত মামলার নথি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে থাকায় তা তলবের আদেশ এবং ১৭ জানুয়ারি জামিন আবেদনের ওপর শুনানির তারিখ ঠিক করে।

ধর্ষণ ও ভ্রুণ হত্যার অভিযোগে করা মামলায় জামিন পেয়েছেন বেসরকারি চ্যানেল একাত্তর টেলিভিশনের হেড অফ নিউজ শাকিল আহমেদ।

ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে সোমবার আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন শাকিল। শুনানি শেষে বিচারক তাকে জামিনের আদেশ দেন।

এর আগে গত বছরের ৮ নভেম্বর আসামি শাকিল হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন দেয়। এরপর তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়।

নির্দেশ অনুযায়ী ৬ ডিসেম্বর বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন শাকিল। শুনানি শেষে আদালত মামলার নথি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে থাকায় তা তলবের আদেশ এবং ১৭ জানুয়ারি জামিন আবেদনের ওপর শুনানির তারিখ ঠিক করে।

শাকিল আহমেদের পক্ষে আজ ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি কাজী নজিব উল্যাহ হিরু জামিন শুনানি করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী ঢাকা বারের সভাপতি আবদুল বাতেন জামিনের বিরোধিতা করেন। মামলার বাদীও এজলাসে উপস্থিত হয়ে জামিনের বিরোধিতা করেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত শাকিল আহমেদের জামিনের আদেশ দেয়।

শুনানিকালে শাকিল আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল নিউজবাংলাকে এসব বিষয় নিশ্চিত করেন।

গত ৪ নভেম্বর রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দীপ্ত টিভির সংবাদ পাঠক ও চিকিৎসক এক নারী বাদী হয়ে গুলশান থানায় শাকিল আহমেদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।

আরও পড়ুন:
টিকার দাবিতে সোহরাওয়ার্দীতে প্রবাসীদের বিক্ষোভ
মাসে ৩ কোটি টিকা দেয়ার ঘোষণা
বুস্টার ডোজ নিয়ে ভাবছে না সরকার
সারা দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাউশি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকাদান শুরু

শেয়ার করুন

অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়া পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়া পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়া পুলিশ সদস্যকে রাতে মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানোর পর আজ সকালে তিনি মারা যান। তার মরদেহ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

রাজধানীতে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক পুলিশ সদস্যের।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিটফোর্ড হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে তিনি মারা যান।

মীর আব্দুল হান্নান এপিবিএন পুলিশের এএসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হান্নানের স্ত্রীর বড় ভাই (সম্মন্ধি) আব্দুল মোমেন।

রোববার বিকেলে আব্দুল হান্নানের কর্মস্থল শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছুটি নিয়ে সাতক্ষীরায় বাড়িতে যেতে বাসে ওঠেন। পরে কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর এলাকায় বাসে অচেতন অবস্থায় ছিলেন।

পরে তার কাছে থাকা মোবাইল নিয়ে পথচারীরা ফোন করে স্বজনদের বিষয়টি জানান। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে পাকস্থলী পরিষ্কার করার পর মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

আব্দুল হান্নানের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার আলাইপুর গ্রামে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়া পুলিশ সদস্যকে রাতে মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানোর পর আজ সকালে তিনি মারা যান। তার মরদেহ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

আরও পড়ুন:
টিকার দাবিতে সোহরাওয়ার্দীতে প্রবাসীদের বিক্ষোভ
মাসে ৩ কোটি টিকা দেয়ার ঘোষণা
বুস্টার ডোজ নিয়ে ভাবছে না সরকার
সারা দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাউশি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকাদান শুরু

শেয়ার করুন

দর্জি মনিরের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল

দর্জি মনিরের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল

মনির খান বা দর্জি মনির। ফাইল ছবি

সোমবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়ার কথা ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। পরে ঢাকা মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলাম আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ নির্ধারণ করে দেন।

‘বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদ’ নামে ভুঁইফোঁড় সংগঠনের সভাপতি পরিচয়ে চাঁদাবাজি ও প্রতারণার মামলায় মনির খান ওরফে দর্জি মনিরের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদেন জমার নতুন তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছে আদালত।

সোমবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়ার কথা ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। পরে ঢাকা মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলাম আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেয়ার তারিখ নির্ধারণ করে দেন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন দর্জি মনিরের আইনজীবী মো. আমানুল করিম লিটন।

চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে কামরাঙ্গীরচর থানায় গত বছরের ৩ আগস্ট মামলাটি করেন ইসমাইল হোসেন নামে এক ব্যক্তি। পরদিন দর্জি মনিরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর দর্জি মনিরকে চার দিনের জন্য রিমান্ডেও পাঠানো হয়েছিল। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতা পরিচয় দেয়া হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তারের পর দর্জি মনিরের বিষয়টিও সামনে চলে আসে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, একটি ছোট দর্জির দোকানে চাকরি করতেন মনির। হঠাৎ করে নিজেকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বন্ধু হন। একেক সময় একেক রাজনৈতিক পদবি, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের এমডি হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপির সঙ্গে নিজের ছবি ফটোশপে নিখুঁতভাবে এডিট করে পাশে নিজের ছবি বসাতেন মনির। নিজেকে ‘বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনা পরিষদ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দাবি করতেন।

ভুঁইফোঁড় এ সংগঠনের ঢাকা মহানগরী এবং বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় কমিটি দেয়ার নাম করে অনেকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা বাগিয়ে নেয়ারও অভিযোগ আছে দর্জি মনির ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৩০ জুলাই বেলা আড়াইটার দিকে কামরাঙ্গীরচর থানার মাদবরবাজার ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে মনির তার সংগঠনের পদ প্রদান ও বড় বড় নেতার সঙ্গে সুসম্পর্ক করিয়ে দেয়ার নাম করে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

মামলায় আরও বলা হয়, দর্জি মনির ফেসবুকে নিজেকে ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে প্রচার করে এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সৃষ্টি করেন। ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অনেকের মুখে প্রশ্ন করতে শোনা যায়, হঠাৎ করে কে এই দর্জি মনির? তাকে কেনইবা শেখ হাসিনা চিনতে যাবেন।

আরও পড়ুন:
টিকার দাবিতে সোহরাওয়ার্দীতে প্রবাসীদের বিক্ষোভ
মাসে ৩ কোটি টিকা দেয়ার ঘোষণা
বুস্টার ডোজ নিয়ে ভাবছে না সরকার
সারা দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাউশি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকাদান শুরু

শেয়ার করুন

রাজধানীতে আক্রান্তের ৬৯ শতাংশের শরীরে ওমিক্রন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাজধানীতে আক্রান্তের ৬৯ শতাংশের শরীরে ওমিক্রন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাজধানীতে বর্তমানে বেশির ভাগ মানুষের দেহে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ঢাকায় কিছু জড়িপ করেছি, জিনোম সিকুয়েন্সিং করেছি, তার মধ্যে দেখা গেছে ওমিক্রন এখন ৬৯ ভাগে উন্নীত হয়েছে। এটা আগে ১৩ শতাংশ ছিল। এই ১০-১৫ দিনের মধ্যেই আমরা এটা পেয়েছি।’

দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন ছড়ানো নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। জানিয়েছেন, জিনোম সিকুয়েন্সে দেখা গেছে রাজধানীতে বর্তমানে করোনা আক্রান্তের ৬৯ শতাংশের শরীরেই ওমিক্রনের উপস্থিতি রয়েছে।

সচিবালয়ে সোমবার রুশ রাষ্ট্রদূতর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ঢাকায় কিছু জড়িপ করেছি, জিনোম সিকুয়েন্সিং করেছি, তার মধ্যে দেখা গেছে ওমিক্রন এখন ৬৯ ভাগে উন্নীত হয়েছে। এটা আগে ১৩ শতাংশ ছিল। এই ১০-১৫ দিনের মধ্যেই আমরা এটা পেয়েছি।

‘এটা শুধু ঢাকায় করা হয়েছে। তবে ঢাকার বাহিরেও আমরা মনে করি একই হাল হবে। এ কারণেই ইনফেকশন রেট ১৮ শতাংশ হচ্ছে।’

বয়স ৫০ হলেই বুস্টার ডোজ

করোনার নতুন ঢেউ মোকাবিলায় টিকার বুস্টার ডোজ দেয়ার বয়সসীমা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বলেছেন, যাদের বয়স ৫০ বছরের মধ্যে তাদের সবাইকে বুস্টার ডোজ দেয়া হবে।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের টিকা কর্মসূচি চলমান আছে। আমরা বুস্টার ডোজ দিয়ে যাচ্ছি। এতে খুব অগ্রগতি হয়নি। এর কারণ ৬ মাস সকলের এখনও হয়নি। আমরা প্রায় ৭ লাখ বুস্টার দিতে পেরেছি।

‘বুস্টারের বয়স আগে ছিল ৬০ বছর। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ৫০ বছর থেকেই এখন থেকে বুস্টার ডোজ দেয়া হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীরও অনুমোদন আছে। এতে আমরা মনে করি, প্রায় ৭০ লাখ মানুষকে বুস্টার ডোজ দিতে পারব।’

শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ টিকা দিয়েছি, এটা আমাদের বড় প্রাপ্তি। হাতে এখনও প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ ডোজ আছে। যারা নিবন্ধন করেছিলেন তাদের মধ্যে প্রায় শতভাগকেই টিকা দেয়া হয়ে গেছে।’

সংক্রমণ বাড়ায় উদ্বেগ

করোনা আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হারে বৃদ্ধি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি বলেন, ‘ওমিক্রন এবং ডেল্টায় আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। আমরা এখন কিছুটা হলেও চিন্তিত ও আতঙ্কিত। আমরা চাই না এভাবে বাড়ুক।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গত ১৫ থেকে ২০ দিনে এটা ১৮ ভাগে উঠে গেছে। গতবার ডেল্টা ভেরিয়েন্ট ২৯-৩০ ভাগে উঠেছিল পুরো মাসব্যাপী। এখন যেভাবে সংক্রমণ বাড়ছে তা ৩০ ভাগে পৌঁছাতে সময় লাগবে না।

হাসপাতালগুলোতে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় খুব শিগগিরই ধারণক্ষমতা অতিক্রম করতে পারে বলে মনে করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন ২০০ ওপরে যাচ্ছে। এভাবে যদি বাড়ে, তাহলে আমরা হিসাব করে দেখেছি এক দেড় মাসের মধ্যে হাসপাতালে কোনো জায়গা থাকবে না। তখন চিকিৎসা দেয়াও দুরহ হয়ে যাবে। কাজেই জনগণকে আহ্বান করছি তারা যাতে স্বাস্থ্যবিধি মানে, মাস্কটা পরে।’

রাশিয়ার কাছে চুক্তির টিকা দাবি

গণমাধ্যমের সামনে আসার আগে নিজ কার্যালয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কী আলোচনা হয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত এসেছিলেন টিকার বিষয় নিয়ে। তাদের সঙ্গে আমরা টিকার চুক্তি করেছিলাম সেটা এখনও আছে, কিন্তু আমরা টিকা পাইনি।

‘আমি বলেছি, আমাদের সঙ্গে যে চুক্তি রয়েছে সে অনুযায়ী টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করেন। ওনাদের টিকার দুটি করে ডোজ লাগে, আমরা বলেছি দুটি ডোজ এক সঙ্গে দিতে হবে। এটি আমাদের কথা ছিল।’

তিনি বলেন, ‘ওনারা বলেছেন যে একটি নতুন ধরনের টিকা ওনাদের আছে স্পুৎনিক লাইট, সেটা নেয়ার কথা বলেছেন। আমরা বলেছি, আপনারা কাগজপত্র দেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এগুলো দেখবে, তারা অনুমোদন দিলে তখন সিদ্ধান্ত দিতে পারবে। কিন্তু এখন যে চুক্তি হয়ে আছে সে টিকাগুলো দিলে আমাদের জন্য ভালো হয়।’

আরও পড়ুন:
টিকার দাবিতে সোহরাওয়ার্দীতে প্রবাসীদের বিক্ষোভ
মাসে ৩ কোটি টিকা দেয়ার ঘোষণা
বুস্টার ডোজ নিয়ে ভাবছে না সরকার
সারা দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাউশি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকাদান শুরু

শেয়ার করুন