তিস্তায় বাঁধে ধস, শুষ্ক মৌসুমে বড় বন্যার শঙ্কা

তিস্তায় বাঁধে ধস, শুষ্ক মৌসুমে বড় বন্যার শঙ্কা

তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পরেছে। ছবি: নিউজবাংলা

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া পয়েন্টের নির্বাহী প্রকৌশলী আশফাউদ্দৌলা প্রিন্স বলেন, ‘‘ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে তিস্তা পারের নিম্নাঞ্চলে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। ফ্লাড বাইপাস বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিস্তা পারের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়ার জন্য বলা হচ্ছে।’’

পানির তোড়ে লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ২০০ মিটার ধসে গেছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১০ হাজার পরিবার। তলিয়ে গেছে বহু ঘরবাড়ি ও জমির ফসল। ক্ষতিগ্রস্তদের নেয়া হয়েছে পাশের আশ্রয়কেন্দ্র।

স্থানীয়রা বলছেন, বাঁধ রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

বুধবার ভোরে ফ্লাড বাইপাস বাঁধে ধস শুরু হয়। বেলা ১১টা পর্যন্ত ধসে যায় বাধের প্রায় ২০০ মিটার। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে পানি ঢুক পড়ে নিম্নাঞ্চলে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা তিস্তা ব্যারেজের সবকটি জলকপাট খুলে দিয়েছে। কিন্তু বিপদ বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে দেখা দিতে পারে ভয়াবহ বন্যা।

উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে হঠাৎ ফুলে ফেঁপে উঠেছে তিস্তা। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ভারতের গজলডোবায় সব কয়টি জলকপাট খুলে দেয়ায় হু হু করে পানি বাড়ছে। তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় বুধবার দুপুর ১২টার দিকে পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানিবন্দি হয়ে পড়েছে পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, সিঙ্গামারি, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী ও কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি, মহিষখোজা, খুনিয়াগাছ, কালমাটি, গোকুন্ডাসহ নদীর নিম্নাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার পরিবার। তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি। পানির তোড়ে ভেঙে যাচ্ছে রাস্তাঘাট।

তিস্তায় বাঁধে ধস, শুষ্ক মৌসুমে বড় বন্যার শঙ্কা

বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় পরিবার নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন কেউ কেউ। নদী তীরের এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া পয়েন্টের নির্বাহী প্রকৌশলী আশফাউদ্দৌলা প্রিন্স বলেন, ‘‘ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে তিস্তা পারের নিম্নাঞ্চলে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। ফ্লাড বাইপাস বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিস্তা পারের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়ার জন্য বলা হচ্ছে।’’

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, ‘তিস্তার পানি বৃদ্ধির বিষয়টি আমরা জেনেছি। পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা পানিবন্দি মানুষের কাছে এই সহায়তা পৌঁছে দেবেন।’

আরও পড়ুন:
ভারতে বন্যা, তিস্তায় রেড অ্যালার্ট
তিস্তার ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি
অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়
তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রণে খুলে দেয়া হলো ৪৪ গেট
ভাঙছে তিস্তা, ছুটছে মানুষ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ট্রাকে ট্রেনের ধাক্কা, ২ ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ চালু

ট্রাকে ট্রেনের ধাক্কা, ২ ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ চালু

নাটোর রেলস্টেশনের মাস্টার অশোক কুমার বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর নাটোর-ঢাকা রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক থাকলেও নাটোর-খুলনা রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ট্রাকটি লাইনের পাশ থেকে সরিয়ে ফেলায় দুই ঘণ্টা পর আবার ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।’

নাটোরে মিনি ট্রাকে ট্রেনের ধাক্কায় দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর খুলনার সঙ্গে নাটোরের রেল যোগাযোগ চালু হয়েছে।

শহরের তেবাড়িয়া লেভেল ক্রসিং গেটে রোববার রাত ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

নাটোর রেলস্টেশনের মাস্টার অশোক কুমার নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রাত ৩টার দিকে তেবাড়িয়া লেভেল ক্রসিংয়ের গেট ভেঙে একটি মিনি ট্রাক লাইনের ওপর উঠে আসে। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয়। এরপর ট্রেনের সঙ্গে বেঁধে ট্রাক ৫০০ গজ পর্যন্ত গিয়ে লাইনের পাশে পড়ে যায়।

এ ঘটনার পর পরই কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস তার গন্তব্যের উদ্দেশে চলে যায়।

অশোক কুমার বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর নাটোর-ঢাকা রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক থাকলেও নাটোর-খুলনা রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ট্রাকটি লাইনের পাশ থেকে সরিয়ে ফেলায় দুই ঘণ্টা পর আবার ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই ট্রাকের চালক ও হেলপার পলাতক। পুলিশ তাদের আটক করতে পারেনি।’

আরও পড়ুন:
ভারতে বন্যা, তিস্তায় রেড অ্যালার্ট
তিস্তার ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি
অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়
তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রণে খুলে দেয়া হলো ৪৪ গেট
ভাঙছে তিস্তা, ছুটছে মানুষ

শেয়ার করুন

বিষপ্রয়োগে বৃদ্ধকে হত্যা: দায় স্বীকার করে নাতনির জবানবন্দি

বিষপ্রয়োগে বৃদ্ধকে হত্যা: দায় স্বীকার করে নাতনির জবানবন্দি

ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘সাবেক স্বামী হাসানের সঙ্গে বিয়েবিচ্ছেদের আগেই কামনা খাতুন বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। রাশেদের সঙ্গে সম্পর্কের কথা জেনে যান নানা শামসুল শেখ। বকাঝকাও করেন। পরে সম্পর্ক মেনে না নেয়ায় নানাকে খুন করার পরিকল্পনা করেন কামনা ও রাশেদ।’

চুয়াডাঙ্গায় ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে বিষ প্রয়োগ করে শামসুল শেখ নামে এক বৃদ্ধকে হত্যার ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে।

নাজামাই জাহিদ হাসান নন, বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে প্রেমিকের কথামতো নানাকে খুন করেছে বলে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে নাতনি কামনা খাতুন।

রোববার বিকেল ৫টাদিকে চুয়াডাঙ্গা জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে তোলা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় কামনাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডাকে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

৩ ডিসেম্বর শুক্রবার হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার গাইদঘাট থেকে কামনার কথিত প্রেমিক রাশেদ আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন সন্ধ্যায় তাকে আদালতে তোলা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘সাবেক স্বামী হাসানের সঙ্গে বিয়েবিচ্ছেদের আগেই কামনা খাতুন বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন রাশেদের সঙ্গে সম্পর্কের কথা জেনে যান নানা শামসুল শেখ। বকাঝকাও করেন। পরে সম্পর্ক মেনে না নেয়ায় নানাকে খুন করার পরিকল্পনা করেন কামনা ও রাশেদ।’

তিনি বলেন, ‘রাশেদের বুদ্ধিতেই ঘুমন্ত নানার ঘাড়ে কীটনাশক ভর্তি ইনজেকশন পুশ করেন কামনা। নানা উঠেই রাশেদকে দেখেন। তবে হাসানের চেহারার সঙ্গে মিল থাকায় অন্ধকারে তাকেই নাতজামাই হাসান মনে করেন। তাই হাসানের নামই বলতে থাকেন।’

ওসি বলেন, বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ক বাঁচাতে নিজ হাতেই নানাকে খুন করেন কামনা। দোষ চাপান সাবেক স্বামী হাসানের পর। এখন মামলাটি একটি নতুন মোড় নিয়েছে। আমরা রাশেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করব।’

২৯ নভেম্বর রাতে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বেলগাছি গ্রামের শামসুল শেখকে ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে বিষ প্রয়োগ করা হয়। ওই ঘটনার পর রাত ১টার দিকে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়। পরদিন সকালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

বুধবার বৃদ্ধের নাতজামাই জাহিদ হাসানকে প্রধান আসামি করে মামলা করেন নিহতের ছেলে রফিকুল ইসলাম। পরে রাত ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নাতজামাই জাহিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
ভারতে বন্যা, তিস্তায় রেড অ্যালার্ট
তিস্তার ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি
অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়
তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রণে খুলে দেয়া হলো ৪৪ গেট
ভাঙছে তিস্তা, ছুটছে মানুষ

শেয়ার করুন

হাসন রাজারে বাউলা কে বানাইলো রে...

হাসন রাজারে বাউলা কে বানাইলো রে...

বাউল সাধক হাসন রাজা। ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের পরিচিতিও হয়ে উঠেছে ‘হাসন রাজার শহর’ হিসেবে। তবে নিজ শহরেই হাসন রাজার মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নেই কোনো আয়োজন। এতে ক্ষুব্ধ সংস্কৃতিকর্মীরা।

নামের সঙ্গে যুক্ত ‘রাজা’। উত্তরাধিকার সূত্রে ছিলেন জমিদার। কিন্তু কর্মে ও চিন্তায় ছিলেন আপাদমস্তক এক বাউল।

তিনি হাসন রাজা। নিজের কাছেই যার জিজ্ঞাসা ছিল- বাউলা কে বানাইলোরে/ হাসন রাজারে বাউলা কে বানাইলো রে।

বাংলা গানের এই খেয়ালি রাজার ৯৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯২২ সালের ৬ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন তিনি। আর জন্মেছিলেন ১৮৫৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের লক্ষণশ্রীতে।

সুনামগঞ্জের তাই পরিচিতিও হয়ে উঠেছে ‘হাসন রাজার শহর’ হিসেবে। তবে নিজ শহরেই হাসন রাজার মৃত্যুবার্ষিকীতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নেই কোনো আয়োজন। এতে ক্ষুব্ধ সংস্কৃতিকর্মীরা।

গানে গানে প্রেম, বিরহ, জীবনদর্শন, আধ্যাতিকতার কথা বলে গেছেন হাসন রাজা। গানকে তিনি নিয়েছিলেন সাধনা হিসেবে। বাংলা গানের যে মরমী ধারা, যুগের পর যুগ ধরে সংগীতপিপাসুদের তৃষ্ণা মিটিয়ে চলছে আর জিজ্ঞাসু করে তুলছে, সেই ধারার অন্যতম সাধক পুরুষ হাসন রাজা। যদিও গানে গানে তিনি নিজের সম্পর্কে বলে গেছেন- ‘আমি কিছু নয় রে, আমি কিছু নয়’।

নিজেকে ‘কিছু নয়’ বলে যাওয়া হাসন রাজা মৃত্যুর ৯৯ বছর পরও প্রবলভাবে প্রভাব বিস্তার করে বাংলার মাটিগন্ধা গান আর শেকড়ের সংস্কৃতিতে। জীবদ্দশায় প্রায় ২০০ গান লিখে গেছেন তিনি, যা আজও ঘুরে বেড়ায় লোকের মুখে মুখে। গীত হয় নানা শিল্পীর কণ্ঠে।

হাসন রাজারে বাউলা কে বানাইলো রে...

তবে হাসন রাজার সৃষ্টিকে সংরক্ষণ আর তার সংগীতের শুদ্ধ প্রচারের জন্যও এখন পর্যন্ত নেই তেমন কোনো উদ্যোগ। দীর্ঘদিন ধরে হাসন রাজার নামে একটি একাডেমি গঠনের দাবি জানানো হলেও তা থেকে গেছে উপেক্ষিতই।

সুনামগঞ্জ জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাসন রাজাকে নিয়ে আমাদের চর্চা দিন দিন কমে যাচ্ছে আর সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ না নেয়া হলে আগামীতে এটি হারিয়ে যাবে। এ ছাড়া একটি হাসন রাজা একাডেমি যদি তৈরি করা হয় এবং সেখানে হাসন রাজার গানগুলো যদি শুদ্ধরূপে গাওয়ানো হয় তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তার গানের সুর ও কথাগুলোর সঠিক ধারণা পাবে।

হাসন রাজার নামে একটি একাডেমি গড়ার উদ্যোগ স্বাধীনতার পরপরই নেয়া হয়েছিল জানিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মী মলয় চক্রবর্তী রাজু বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই সময়েই হাসন রাজা একাডেমি তৈরির জন্য ২০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে অনেক দৌড়াদৌড়ি করার পর হাসন রাজা একাডেমি তৈরির জন্য মন্ত্রণালয় থেকে টাকা এলেও সেটিকে একটি মহল শিল্পকলা একাডেমি নামকরণ করে নেয়।

তিনি বলেন, ইউনিসকো হাসন রাজা চর্চার ওপর কিছু টাকা দিয়েছিল, সেই টাকা দিয়েই আমরা হাসন রাজার শতাধিক গান আবারও নতুন করে গাওয়া হয় এবং হাসন রাজার প্রপৌত্র সামারীন দেওয়ান হাসন জীবনী ও গানের দুটি বই লেখেন। তবে সরকারি উদ্যোগে হাসন রাজার সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ ও প্রচারে তেমন উদ্যোগ নেই।

মলয় চক্রবর্তী আরও বলেন, সুনামগঞ্জে হাসন রাজার মৃত্যুবার্ষিকী পালন হয় না এটি দুঃখের বিষয়। তবে আমরা তার জন্মশতবার্ষিকী বড় করে আয়োজন করব।

হাসন রাজা জন্ম ও মৃত্যবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী বলেন, হাসন রাজার নামে সুনামগঞ্জ জেলার পরিচিতি গড়ে উঠলেও এখানে তার সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ ও চর্চার কোনো উদ্যোগ নেই। তার জীবনী, ইতিহাস ও গানগুলো ধরে রাখতে হলেও হাসন রাজাকে নিয়ে চর্চা করার জন্য একটি একাডেমির দরকার।

সরকারিভাবে মৃত্যুবার্ষিকীতে কোনো আয়োজন নেই জানিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা আহমেদ মঞ্জুরুল চৌধুরী বলেন, ৬ ডিসেম্বর কোনো আয়োজন নেই, তবে সামনে একটি উৎসব আছে ১১-১২ জানুয়ারি। সেখানে আমরা তাকে স্মরণ করব।

রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ না থাকলে পারিবারিক উদ্যোগে সুনামগঞ্জে গড়ে তোলা হয়েছে হাসন রাজা স্মৃতি জাদুঘর। সেখানে সংরক্ষিত তার স্মৃতিগুলো দেখতে অনেকেই আসেন দূর-দূরান্ত থেকে।

আর তার গান তো ছড়িয়ে আছে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে। যার কথা ও সুর সংসারি মানুষের মধ্যেও আচমকা জাগিয়ে তুলে বাউলা মন। আপন মনেই গেয়ে ওঠে- ‘পরের জায়গা পরের জমি/ ঘর বানাইয়া আমি রই/ আমি তো সেই ঘরের মালিক নই।’

আরও পড়ুন:
ভারতে বন্যা, তিস্তায় রেড অ্যালার্ট
তিস্তার ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি
অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়
তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রণে খুলে দেয়া হলো ৪৪ গেট
ভাঙছে তিস্তা, ছুটছে মানুষ

শেয়ার করুন

শ্বশুরের বিরুদ্ধে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, ছেলের আত্মহত্যার চেষ্টা

শ্বশুরের বিরুদ্ধে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ, ছেলের আত্মহত্যার চেষ্টা

পুলিশ জানিয়েছে, তিন মাস আগে প্রতিবেশী এক নারীর সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেন ওই যুবক। জীবিকার প্রয়োজনে দিনেরবেলায় বাড়ির বাইরে থাকেন তিনি। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে ওই গৃহবধূকে কয়েক দফা ধর্ষণ করেন তার শ্বশুর।

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন ওই ব্যক্তির ছেলে।

পুলিশ জানিয়েছে, তিন মাস আগে প্রতিবেশী এক নারীর সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেন ওই যুবক। জীবিকার প্রয়োজনে দিনেরবেলায় বাড়ির বাইরে থাকেন তিনি। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে ওই গৃহবধূকে কয়েক দফা ধর্ষণ করেন তার শ্বশুর।একপর্যায়ে বিষয়টি তার স্বামী ও শাশুড়িকে জানান ওই গৃহবধূ।

পুলিশ জানিয়েছে, রোববার বিষয়টি নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান ওই যুবক। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করান স্বজনরা।

ওই নববধূ বলেন, ‘গত সাত দিন ধরে ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর বিষয়টি আমি স্বামী ও শাশুড়িকে জানাই। তারা প্রথমে বিশ্বাস করেনি আমার কথা। শেষ দিন আমার স্বামী নিজেই বিষয়টা দেখে ফেলেন। এই ক্ষোভে সে বিষপানে আত্মত্যার চেষ্টা করেছে।’

আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
ভারতে বন্যা, তিস্তায় রেড অ্যালার্ট
তিস্তার ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি
অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়
তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রণে খুলে দেয়া হলো ৪৪ গেট
ভাঙছে তিস্তা, ছুটছে মানুষ

শেয়ার করুন

কক্সবাজারে র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

কক্সবাজারে র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ২

‘বন্দুকযুদ্ধ’ শেষে র‍্যাবের উদ্ধার করা অস্ত্র। ছবি: নিউজবাংলা

মেজর শেখ ইউসুফ আহমেদ বলেন, ‘একটি দল ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে- এমন খবর পেয়ে র‍্যাব সোমবার ভোররাতে পূর্ব বড় ভেওলায় অভিযান চালায়। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা গুলি চালাতে থাকে। আত্মরক্ষার্থে র‍্যাবও গুলি চালায়।’

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বন্দুকযুদ্ধে দুই ডাকাত নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে র‍্যাব। উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্র ও গুলি।

চকরিয়া উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা এলাকায় সোমবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে।

কক্সবাজার র‌্যাব-১৫-এর সিপিসি কমান্ডার মেজর শেখ ইউসুফ আহমেদ নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি।

মেজর শেখ ইউসুফ আহমেদ বলেন, ‘একটি দল ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে- এমন খবর পেয়ে র‍্যাব সোমবার ভোররাতে পূর্ব বড় ভেওলায় অভিযান চালায়। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা গুলি চালাতে থাকে। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও গুলি চালায়।

‘গোলাগুলি শেষে আমরা সেখান থেকে দুজনকে আটক করেছি এবং দুজনকে পড়ে থাকতে দেখেছি। তাদের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি দেশীয় অস্ত্র, ছয়টি গুলি ও চারটি কার্তুজসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন:
ভারতে বন্যা, তিস্তায় রেড অ্যালার্ট
তিস্তার ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি
অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়
তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রণে খুলে দেয়া হলো ৪৪ গেট
ভাঙছে তিস্তা, ছুটছে মানুষ

শেয়ার করুন

পুলিশ পরিচয়ে শিক্ষকের টাকা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২

পুলিশ পরিচয়ে শিক্ষকের টাকা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ২

পুলিশ পরিচয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার আলিফ ও আরাফাত। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ জানিয়েছে, ডুবারচর এলাকায় আটক ব্যক্তিরা পুলিশ পরিচয় দিয়ে মাদক উদ্ধারের নামে তার শরীরে তল্লাশি চালান। এ সময় তারা মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। শিক্ষক রফিকের চিৎকারে স্থানীয়রা এবং টহল পুলিশ দল এসে তাদের আটক করে।

শেরপুর সদর উপজেলার ডুবারচরে পুলিশ পরিচয়ে এক স্কুলশিক্ষকের টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুজনকে আটকের পর গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

রা হলেন শেরপুর জেলা শহরের মীরগঞ্জ মহল্লার বাসিন্দা আলিফ ও আরাফাত।

পুলিশ জানিয়েছে, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন শ্রীবরদী উপজেলার ঝগড়ারচর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামপথে ডুবারচর এলাকায় আটক ব্যক্তিরা পুলিশ পরিচয় দিয়ে মাদক উদ্ধারের নামে তার শরীরে তল্লাশি চালান। এসময় তারা মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। শিক্ষক রফিকের চিৎকারে স্থানীয়রা এবং টহল পুলিশ দল এসে তাদের আটক করে।

শেরপুর সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আলিফ ও আরাফাতের নামে রফিকুল ইসলাম একটি মামলা করেছে। আলিফ ও আরাফাতের নামে বিভিন্ন জায়গায় একাধিক মামলা রয়েছে। আলিফ একটি মামলায় এক সপ্তাহ আগে জামিনে বেরিয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ভারতে বন্যা, তিস্তায় রেড অ্যালার্ট
তিস্তার ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি
অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়
তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রণে খুলে দেয়া হলো ৪৪ গেট
ভাঙছে তিস্তা, ছুটছে মানুষ

শেয়ার করুন

মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

ধর্ষণের অভিযোগে দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ কর্মকর্তা মো. বন্দে আলী মিয়া বলেন, ‘এ ঘটনার ভিকটিম অজ্ঞাতপরিচয় মানসিক ভারসাম্যহীন নারী। তিনি কোনো কথাই বলতে পারছেন না। ঘটনাটি কতদূর ঘটেছে সেটি বোঝা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে আলাপ আলোচনা করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শেরপুর সদর উপজেলার মোকসেদপুরে এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত আরও দুইজন পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন তারা।

রোববার রাত ১১টার দিকে মোকসেদপুর খোলার মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিন ধরে অজ্ঞাতপরিচয় এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী শেরপুর সদরের মোকসেদপুর নন্দীর বাজারে ঘোরাফেরা করছিলেন।

অভিযোগ উঠেছে, রাতে ওই নারীকে জোর করে ধরে নিয়ে মোকসেদপুর খোলা মাঠে নিয়ে ধর্ষণ করেন চরমুচারিয়া ইউনিয়নের মাছপাড়ার হকার ফকির, পুরান পাড়ার আলম, নন্দীর পাড়ার জুয়েল ফকির ও পাকুড়িয়া ইউনিয়নের বরাটিয়ার হামেদ।

এসময় ওই নারীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ফকির ও হামেদকে আটক করে। অন্য দুইজন পালিয়ে যান।

শেরপুর সদর থানাা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. বন্দে আলী মিয়া বলেন, ‘এ ঘটনার ভিকটিম অজ্ঞাতপরিচয় মানসিক ভারসাম্যহীন নারী। তিনি কোনো কথাই বলতে পারছেন না। ঘটনাটি কতদূর ঘটেছে সেটি বোঝা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে আলাপ আলোচনা করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
ভারতে বন্যা, তিস্তায় রেড অ্যালার্ট
তিস্তার ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি
অসময়ের বন্যায় কৃষকের হাত মাথায়
তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রণে খুলে দেয়া হলো ৪৪ গেট
ভাঙছে তিস্তা, ছুটছে মানুষ

শেয়ার করুন