৩৫ বছরের হকারি জীবন গেল কাভার্ডভ্যানের চাপায়

৩৫ বছরের হকারি জীবন গেল কাভার্ডভ্যানের চাপায়

কাভার্ডভ্যানের চাপায় নিহত হকারের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

সাভার হাইওয়ে থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, কাভার্ডভ্যানটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঢাকার সাভারে রাস্তা পারাপারের সময় কাভার্ডভ্যানের চাপায় পত্রিকার হকার নিহত হয়েছেন।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

৬০ বছর বয়সী রুহুল আমিন ৩৫ বছর ধরে পত্রিকার হকার হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল সদর থানায়।

আশুলিয়ার ডেন্ডাবর নতুন পাড়া এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন তিনি।

নিহতের সহকর্মী আশরাফুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘৩৫ বছর ধরে পত্রিকা বিলি করে আসছিলেন রুহুল আমিন। প্রতিদিনের মতো আজও ভোরে নিজ বাসা থেকে সাইকেল নিয়ে নবীনগরে আসছিলেন পত্রিকা নিতে।

‘জয় রেস্তোরাঁর সামনে রাস্তা পারপারের সময় একটি দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।’

ওই সময় স্থানীয় লোকজন কাভার্ডভ্যানটিকে জব্দ করে পুলিশে দেয়। গাড়িটির চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়।

সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, কাভার্ডভ্যানটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সাবেক ডিসির দণ্ড মওকুফ: হতাশ সাংবাদিক আরিফুল

সাবেক ডিসির দণ্ড মওকুফ: হতাশ সাংবাদিক আরিফুল

বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগান। ছবি: সংগৃহীত

আরিফুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি হতাশ। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবক। তিনি আমার বিষয়টিও দেখতে পারতেন। আইন সবার জন্য। সরকারি চাকরিজীবীর আইনটি বাতিল করা প্রয়োজন।’

নির্যাতনের ঘটনায় আলোচিত কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনের দণ্ড মওকুফে হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগান।

মধ্যরাতে আরিফুলকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় সুলতানার ‘লঘুদণ্ড’ মওকুফ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

সাবেক ডিসির আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে দেয়া ‘দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা’র দণ্ডাদেশ বাতিল করে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ২৩ নভেম্বরের প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর রয়েছে সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজমের।

এ নিয়ে শনিবার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আরিফুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি হতাশ। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবক। তিনি আমার বিষয়টিও দেখতে পারতেন। আইন সবার জন্য।

‘সরকারি চাকরিজীবীর আইনটি বাতিল করা প্রয়োজন। জনগণ রাষ্ট্রের মালিক হলেও এই আইনের সাথে সাংঘর্ষিক। যেহেতু আমার মামলাটি হাইকোর্টে আছে, সেখানে আমি ন্যায়বিচার পাব বলে আশাবাদী।’

কী হয়েছিল আরিফুলের সঙ্গে

২০২০ সালের ১৩ মার্চ মধ্যরাতে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের বাসায় হানা দিয়ে তাকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে ক্রসফায়ারের হুমকিসহ ডিসি অফিসে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।

এরপর অধূমপায়ী আরিফের বিরুদ্ধে আধা বোতল মদ ও দেড় শ গ্রাম গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ এনে ওই রাতেই এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ১৫ মার্চ আরিফ জামিনে মুক্তি পান।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে কুড়িগ্রামের তখনকার ডিসি সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দীন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। একই সঙ্গে এ ঘটনায় বিভাগীয় অভিযোগ করা হয়। ঘটনা তদন্তে কমিটি করে মন্ত্রণালয়।

শেয়ার করুন

মারধরে চালক নিহতের অভিযোগে বাস বন্ধ

মারধরে চালক নিহতের অভিযোগে বাস বন্ধ

মিনিবাস চালক আব্দুর রহিম নিহতের অভিযোগে দুই রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে পরিবহন শ্রমিকরা। ছবি: নিউজবাংলা

চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘সন্ধ্যায় রাস্তায় সাইড দেয়া নিয়ে একটি নোহা গাড়ির যাত্রীরা রহিমকে প্রচণ্ড মারধর করে। হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা এখন চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে।’

চট্টগ্রামে মারধরের জেরে মিনিবাসচালক নিহতের অভিযোগে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

মিনিবাসচালক আব্দুর রহিম নিহতের অভিযোগে শনিবার সকালে পরিবহন শ্রমিকরা হাটহাজারীতে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক অবরোধ করেন।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাত ১০টার দিকে মৃত্যু হয় ৩ নম্বর সিটি সার্ভিসের চালক আব্দুর রহিমের। রহিমের বাড়ি রাউজানের গহিরা এলাকায়।

রহিমের ভাতিজা মো. শাকিল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যায় ফতেয়াবাদ থেকে বাস নিয়ে চট্টগ্রাম নিউ মার্কেটে যাওয়ার সময় বায়েজিদ থানা এলাকায় আতুরার ডিপোতে আমার চাচাকে কারা নাকি মারধর করছে। পরে রাত ১০টার দিকে চাচা চট্টগ্রাম মেডিক্যালে মারা গেছেন।

‘যারা মারছে তারা নাকি একটি নোহা গাড়ির যাত্রী ছিল বলে শুনছি। আমি আর কিছু জানি না।’

চট্টগ্রাম সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘সন্ধ্যায় রাস্তায় সাইড দেয়া নিয়ে একটি নোহা গাড়ির যাত্রীরা রহিমকে প্রচণ্ড মারধর করে। হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে। এর প্রতিবাদে সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।

‘পরে সার্কেল এসপি, ওসি ও আমরা গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে অবরোধ উঠিয়ে দিই। তবে শ্রমিকরা এখন চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে।’

বাসচালক মৃত্যুর বিষয়ে বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘মারধরে বাসচালক মৃত্যুর বিষয়ে আমরা জানতে পারিনি। সাধারণত হাসপাতালে কেউ অস্বাভাবিক কারণে মারা গেলে আমাদের ইনফর্ম করা হয়। তবে এখন যেহেতু জেনেছি, দ্রুত খোঁজ নিচ্ছি।’

অবরোধের বিষয়ে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব শর্মা জানান, সকালে শ্রমিকরা হাটহাজারী স্টেশনে জড়ো হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর তাদের বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

রাজিব বলেন, ‘শ্রমিকরা কেন সড়ক অবরোধ করেছে, সেই বিষয়টি আসলে ক্লিয়ার না। শ্রমিক নেতারা ভালো বলতে পারবেন।’

শেয়ার করুন

ঝোপঝাড়ে নান্দনিক বাগান কুমিল্লার ডিসির

ঝোপঝাড়ে নান্দনিক বাগান কুমিল্লার ডিসির

ডিসি বলেন, ‘আমি ছোট বেলা থেকেই সবজি বাগান করতাম। যখন সহকারী কমিশনার ভূমি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করি তখন সবজি বাগান করা আমার নেশা হয়ে দাঁড়ায়। ওই সময় আমি ছাদ বাগান গড়ি।’

কুমিল্লা বোটানিক্যাল গার্ডেনের প্রবেশপথের দুপাশে কয়েক মাস আগেও ছিল ঝোপঝাড় ও খানাখন্দ। জঙ্গল পরিষ্কারের পর ভূমি সমতল করে সেখানে লাগানো হয়েছে সবজি ও ফলের গাছ।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান প্রায় একশ শতক পতিত জমিতে এই বাগান গড়ে তুলেছেন।

তার বাগানে আছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, ধনেপাতা, মরিচ, শিমসহ হরেক রকম শীতকালীন সবজি। আছে আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, জামরুল, আনারস ও সফেদার গাছ। এ ছাড়া ভেষজ উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে হরিতকি, বাসক, বহেরা ও অর্জুন।

বেশ কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান নিজেও সবজি ও ফলবাগান পরিচর্যা করেন নিয়মিত।

ঝোপঝাড়ে নান্দনিক বাগান কুমিল্লার ডিসির
পতিত জমিতে কাজ করছেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান

ডিসি বলেন, ‘আমি ছোট বেলা থেকেই সবজি বাগান করতাম। যখন সহকারী কমিশনার ভূমি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করি তখন সবজি বাগান করা আমার নেশা হয়ে দাঁড়ায়। ওই সময় আমি ছাদ বাগান গড়ি।’

‘বিশেষ করে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আমি প্রচুর সবজি বাগান করি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাঝে আমি আমার বাগানে উৎপাদিত সবজি বিতরণ করে থাকি।’

তিনি আরও বলেন, আমার বাগানে সূর্যমুখী, গাঁদা, গোলাপসহ নানা প্রজাতির ফুলের গাছ রয়েছে। কিছুদিন পর বাগান থেকে সবজি ও বিভিন্ন ফল পাওয়া যাবে। পরিকল্পনা আছে বাগানে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসব। তাদের মাঝে সবজি ও ফল বিতরণ করব। যেন শিক্ষার্থীরা বাগান করতে উদ্বুদ্ধ হয়।

বাগান করার ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুপ্রেরণা রয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, ‘আমার স্ত্রী উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। বাগান করার ক্ষেত্রে তার অনুপ্রেরণা আমাকে উৎসাহিত করে।’

বাগানের বড় গাছগুলোতে পাখিদের জন্য গাছে টানিয়েছেন মাটির কলস। যেখানে পাখি এসে আবাস গড়েছে।

শেয়ার করুন

ভারতে গরুসহ বাংলাদেশি যুবক আটক, থানায় হস্তান্তর

ভারতে গরুসহ বাংলাদেশি যুবক আটক, থানায় হস্তান্তর

বিজিবি-১৬ (নওগাঁ) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক রেজাউল কবির নিউজবাংলাকে জানান, ভোরে পোরশা সীমান্ত দিয়ে ৭ থেকে ৮ জন অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে। গরু-মহিষ নিয়ে দেশে ফেরার পথে ভারতের মালদা জেলার ভূতপাড়া এলাকায় কেদারি ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ৩টি গরুসহ মনিরুলকে আটক করেন।

ভারতে গরুসহ বাংলাদেশি যুবককে আটকের পর বিএসএফ তাকে পুলিশে দিয়েছে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বিজিবি বলছে, শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তাকে মালদা জেলার হবিপুর থানা পুলিশের কাছে দেয়া হয়।

আটক মনিরুল ইসলাম পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা।

বিজিবি-১৬ (নওগাঁ) ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেজাউল কবির নিউজবাংলাকে জানান, ভোরে পোরশা সীমান্ত দিয়ে ৭ থেকে ৮ জন অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন।

গরু-মহিষ নিয়ে দেশে ফেরার পথে ভারতের মালদা জেলার ভূতপাড়া এলাকায় কেদারি ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করেন। এ সময় অন্যরা পালিয়ে এলেও মনিরুলকে ৩টি গরুসহ আটক করে তারা।

কর্নেল রেজাউল আরও বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

নৌকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হামলার অভিযোগ

নৌকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হামলার অভিযোগ

চেয়ারম্যান নুরুল বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বীরা শুরু থেকেই নানা রকম টালবাহানা করছে। নিজেরা অফিস ভেঙে আমার কর্মীদের ওপর দোষারোপ করেছে। গতকাল রাতে ওল্টু নির্বাচনি বিধি লঙ্ঘন করে মোটরসাইকেল শোডাউন করেছে। নিজেরা গণ্ডগোল করে এখন আমাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।’

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছেন এক স্বতন্ত্র প্রার্থী।

আলমডাঙ্গা থানায় শনিবার সকাল ৯টার দিকে হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের লিখিত অভিযোগ করেন হারদী ইউপি নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশিকুজ্জামান ওল্টু। যদিও পুলিশ বলছে, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ওল্টু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্রবার ছিল ভোটের প্রচারের শেষ দিন। হারদী কৃষি ক্লাবে পথসভা শেষে তারা রাতে বাড়ি ফিরছিলেন। বর্তমান চেয়ারম্যান ও এবারের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী নুরুল ইসলামের বাড়ির সামনে কুদ্দুস বটতলার মোড়ে পৌঁছালে নুরুলের কর্মী-সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়।

‘হামলায় আমার ১৪ জন কর্মী আহত হয়েছে। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আমার পথসভার ৩০টি আলমসাধু, ইজিবাইক ও পাখি ভ্যান ভাঙচুর করেছে। আমি এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছি।’

এই অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান নুরুল বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা শুরু থেকেই নানা রকম টালবাহানা করছে। নিজেরা অফিস ভেঙে আমার কর্মীদের ওপর দোষারোপ করেছে। গতকাল রাতে ওল্টু নির্বাচনি বিধি লঙ্ঘন করে মোটরসাইকেল শোডাউন করেছে। নিজেরা গণ্ডগোল করে এখন আমাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।’

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, রাতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পথসভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। তবে কোনো গাড়ি ভাঙচুর বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে রোববার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদীসহ ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হবে। ১৩ ইউপিতে আওয়ামী লীগের ১৩ জন, বিদ্রোহী ৩০ জন, বিএনপির ছয়জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ছয়জন ও স্বতন্ত্র পরিচয়ে জামায়াতে ইসলামের পাঁচজন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ইউপিতে সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে।

শেয়ার করুন

ভাসানচর থেকে পালানোর সময় ২৩ রোহিঙ্গা আটক

ভাসানচর থেকে পালানোর সময় ২৩ রোহিঙ্গা আটক

নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মিত ঘর। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভাসানচর আশ্রয়ণ ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থানে এপিবিএন সিভিল দল ও কোস্ট গার্ডের অভিযানে ২৩ রোহিঙ্গা আটক হয়।

নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরে শুক্রবার পালানোর সময় ৫ দালালসহ ২৩ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে।

ভাসানচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

আটক ২৩ জনের মধ্যে পাঁচ দালাল, চার পুরুষ, ছয় নারী ও আট শিশু রয়েছে।

পাঁচ দালাল হলেন ভাসানচর ৬৩ নম্বর ক্লাস্টারের আবদুস শুক্কুর, মোহাম্মদ রজুমল্ল্যাহ, শামসুল আলম, ৫১ নম্বর ক্লাস্টারের কেফায়েত উল্লাহ ও ২৬ নম্বর ক্লাস্টারের এনায়েত উল্লাহ।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভাসানচর আশ্রয়ণ ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গাদের আটক করে এপিবিএন সিভিল দল ও কোস্ট গার্ড।

কোস্ট গার্ডের ভাসানচর ক্যাম্পের কমান্ডার খলিলুর রহমান জানান, আটক ৫ রোহিঙ্গা দালালকে ভাসানচর থানা এবং বাকি ১৮ জনকে ক্যাম্পের প্রশাসন ইনচার্জের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ভাসানচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আটক দালালদের বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিক আইনে মামলা করা হয়েছে। আটক অন্য রোহিঙ্গাদের পুনরায় আশ্রয়ণ কেন্দ্রে ফেরত পাঠানো হয়েছে।’

শেয়ার করুন

তিতাস-মেঘনাজুড়ে বাঁশ-জালের ঘের, ঘটছে দুর্ঘটনা

তিতাস-মেঘনাজুড়ে বাঁশ-জালের ঘের, ঘটছে দুর্ঘটনা

উপজেলার অরুয়াইল ও পাকশিমুল এলাকায় তিতাস ও মেঘনা নদীতে ছোট ছোট ঘের তৈরি করে দীর্ঘদিন মাছ ধরা হলেও প্রভাবশালী চক্রটির বিরুদ্ধে কেউই মুখ খুলতে চান না। এখন নিয়মিত দুর্ঘটনার কারণে অনেকেই এগুলো সরিয়ে নিতে অভিযানের দাবি জানিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস ও মেঘনা নদীতে বাঁশ ও জাল দিয়ে ছোট ছোট ঘের তৈরি করে মাছ শিকারের কারণে বাড়ছে নৌ দুর্ঘটনা। ঘেরের কারণে গত এক বছরেই অন্তত আটটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ঘেরে ছোট ফাঁসের জাল দিয়ে মাছ ধরায় জীববৈচিত্র্যেরও ক্ষতি হচ্ছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, নদীর মাঝখানে বাঁশ পুঁতে এবং গাছের ডালপালাসহ কচুরিপানা ও জাল দিয়ে তৈরি করা হয় এসব ঘের। এর মধ্যে দেয়া হয় প্রচুর পরিমাণে মাছের খাবার। খাবারের খোঁজে মাছ ভেতরে এলে চারদিকে জাল দিয়ে ঘের আটকানো হয়। তারপর সেই মাছ ধরা হয়।

স্থানীয় প্রভাবশালীরা দীর্ঘ ৬০ থেকে ৭০ বছর ধরে এভাবে মাছ ধরছেন। অথচ নদীতে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে মাছ ধরা অপরাধ।

উপজেলার অরুয়াইল ও পাকশিমুল এলাকায় তিতাস ও মেঘনা নদীতে এভাবে দীর্ঘদিন মাছ ধরা হলেও প্রভাবশালী চক্রটির বিরুদ্ধে কেউই মুখ খুলতে চান না। এখন নিয়মিত দুর্ঘটনার কারণে অনেকেই এগুলো সরিয়ে নিতে অভিযানের দাবি জানিয়েছেন।

তিতাস-মেঘনাজুড়ে বাঁশ-জালের ঘের, ঘটছে দুর্ঘটনা

একটি দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া আব্দুল গাফফার বলেন, ‘আল্লাহর রহমত ছিল, সেই নৌ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গিয়েছিলাম। গত বছরের অক্টোবর মাসে নদীর পানি কমতে শুরু করার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এর মূল কারণ নদীতে থাকা ঘের।

‘ঘেরের কারণে নদী ছোট হয়ে যাওয়ায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে ১০-১২ জন যাত্রীসহ আমাদের নৌকাটির সঙ্গে তিতাস নদীতে অন্য একটি নৌকার সংঘর্ষ হয়। সঙ্গে সঙ্গেই নৌকাটি ডুবতে শুরু করে। পরে পাশ দিয়ে যাওয়া আরেকটি নৌকা আমাদের উদ্ধার করে।’

তিতাস-মেঘনাজুড়ে বাঁশ-জালের ঘের, ঘটছে দুর্ঘটনা

তিতাস নদী দিয়ে প্রতিদিন অরুয়াই বাজারে যাত্রীদের আনা-নেয়া করেন বাছির মিয়া। তিনি বলেন, ‘নদীতে ভাই অনেক ঘের। এইডিরে না হরাইলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা হইব।

‘কতলা স্বার্থপর বেডাইত আছে, এইডি করে। আপনেরা মিললা এইডি সরান। বিশেষ করে রাতের বেলায় ও শীতকালে কুয়াশার কারণে নৌকা ঘেরের মধ্যে উঠে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।’

ঘেরের কারণে সাধারণ জেলেরা নদীতে আর আগের মতো মাছ পান না বলেও অভিযোগ করেছেন।

উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের জেলে হিরণ মিয়া বলেন, ‘আমরা যারা নৌকা দিয়া মাছ ধরি, তাগো অনেক সময় খালি হাতেই বাড়িত যাওন লাগে। ঘেরের কারণে নদীতে এখন আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না।

‘নদীতে ঠিকমতো নামতেও পারি না। যেখানে-সেখানে ঝোপ তৈরি করার ফলে নৌকাও চালানো যায় না। আবার ঘেরের আশপাশে মাছ ধরতেও দেয়া হয় না।’

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, ঘেরগুলোর কারণে জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়ছে। কর্মকর্তারা জানান, ঘেরে ছোট ছিদ্রযুক্ত জাল ব্যবহার করায় মা ও পোনাসহ সব ধরনের মাছ আটকা পড়ছে। এতে জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হচ্ছে।

আবার পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় নদীগুলো নাব্যতা হারিয়ে ক্রমে মরা খালে পরিণত হচ্ছে। নদী দখল ও পলি জমে ভরাট হওয়ার পাশাপাশি অবৈধভাবে তৈরি এসব ঘের নদীর নাব্যতা সংকটের অন্যতম কারণ।

সরাইল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মায়মুন জাহান বলেন, ‘আমরা নদী থেকে ঘেরগুলো উঠানোর চেষ্টা করছি। কিছু ঘের উঠিয়েছি। যারা আমাদের কথা শুনবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

নদীতে ঘের বা ঝোপ দিয়ে মাছ শিকার নিষেধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর ফলে নদী নাব্যতা হারায় এবং মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হয়।’

শেয়ার করুন