ইভ্যালির মামলা তদন্ত করবে না দুদক

ইভ্যালির মামলা তদন্ত করবে না দুদক

দুদক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দিন আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ই-কমার্স বা ইভ্যালির দুর্নীতি দুদকের শিডিউলভুক্ত অপরাধ নয়। শুধু মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি দেখে আমরা এটি আমলে নিয়েছিলাম।’

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির দুর্নীতির অনুসন্ধান থেকে সরে আসছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান মঈনউদ্দিন আব্দুল্লাহ মঙ্গলবার অফিস ছাড়ার সময় সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘ই-কমার্স বা ইভ্যালির দুর্নীতি দুদকের শিডিউলভুক্ত অপরাধ নয়। শুধু মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি দেখে আমরা এটি আমলে নিয়েছিলাম।’

গত জুলাইতে ইভ্যালির অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছিল সংস্থাটি।

ইভ্যালির বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারার অভিযোগ ছিল অনেক দিন ধরে। এসবের মধ্যেই গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

এরপর গুলশান থানায় করা অর্থ আত্মসাতের মামলায় তাদের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। এই মামলায় রিমান্ড শেষে ধানমন্ডি থানায় করা অর্থ আত্মসাতের অপর এক মামলায় রাসেলকে ফের রিমান্ডে পাঠানো হয়। আসামি দুজনই বর্তমানে কারাগারে।

এ ছাড়া গত ১৬ অক্টোবর ইভ্যালির ওয়েবসাইট ও অ্যাপ বন্ধ করে দেয়া হয়। গঠন করা হয় একটি পরিচালনা পরিষদ। সরকারের সাবেক সচিব ও বর্তমানসহ চার কর্মকর্তাকে পরিষদে রাখা হয়েছে।

হাইকোর্টের গঠন করে দেয়া বিশেষ কমিটির প্রধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালি নিয়ে বিচারপতি মানিকের কী পরিকল্পনা
ইভ্যালির ভাগ্য নির্ধারণে বিচারপতি মানিকের নেতৃত্বে কমিটি
ইভ্যালির সার্ভার বন্ধ
ইভ্যালি জন্য বোর্ডে সাবেক তিন সচিব
ইভ্যালি পরিচালনায় বোর্ড গঠন করবে হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শ্রমিকের পুষ্টিকর নাস্তা নিশ্চিত করুন: শ্রম প্রতিমন্ত্রী

শ্রমিকের পুষ্টিকর নাস্তা নিশ্চিত করুন: শ্রম প্রতিমন্ত্রী

অপুষ্টিকর ও দ্রুত প্রক্রিয়াজাত খাবার খেয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পোশাক শ্রমিকরা, এমনটি উঠে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য-অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের নতুন গবেষণায়। ফাইল ছবি

অনুষ্ঠানে উপস্থিত পোশাক খাতের মালিকদের সবচেয়ে বড় দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদেরকে প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বলেন, ‘পুষ্টিকর খাবার জনস্বাস্থ্যের তথা শারীরিক বৃদ্ধি, মেধা বিকাশ ও যথাযথ কর্মক্ষমতার জন্য খুবই গুরত্বপূর্ণ। তাই মালিকরা কারখানায় শ্রমিকদের যে নাস্তা দেয়, সেগুলো যেন পুষ্টিকর হয়। কারণ পুষ্টিকর খাবার খেয়ে শ্রমিক সুস্থ থাকলে উৎপাদন বাড়বে এবং এতে মালিকরাই লাভবান হবে। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদী অপুষ্টি শ্রমিকের কর্মক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।’

কারখানায় শ্রমিকদের পুষ্টিকর নাস্তা দিতে শিল্প মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। জানিয়েছেন, আয়রনের অভাবজনিত এনেমিয়ার কারণে বাংলাদেশে জিডিপির প্রায় ৮ শতাংশ কমে যায়।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘কর্মক্ষেত্র পুষ্টি কার্যক্রম: শিক্ষণ বিনিময়’ সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।

‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইম্প্রুভড নিউট্রিশন-গেইন’ নামে একটি উদ্যোগের সহযোগিতায় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত পোশাক খাতের মালিকদের সবচেয়ে বড় দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদেরকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পুষ্টিকর খাবার জনস্বাস্থ্যের তথা শারীরিক বৃদ্ধি, মেধা বিকাশ ও যথাযথ কর্মক্ষমতার জন্য খুবই গুরত্বপূর্ণ। তাই মালিকরা কারখানায় শ্রমিকদের যে নাস্তা দেয়, সেগুলো যেন পুষ্টিকর হয়।

‘কারণ পুষ্টিকর খাবার খেয়ে শ্রমিক সুস্থ থাকলে উৎপাদন বাড়বে এবং এতে মালিকরাই লাভবান হবে। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদী অপুষ্টি শ্রমিকের কর্মক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে।

এ বিষয়ে সরকারের করণীয় উল্লেখ করে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু শ্রমিক নয় সকল জনগণের অপুষ্টির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশের মানুষের পুষ্টির অবস্থার উন্নতির জন্য সরকার পুষ্টি নীতি-২০১৫ প্রণয়ন করেছে এবং দ্বিতীয় জাতীয় পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা (২০১৬-২০২৫) গ্রহণ করেছে। সবাই মিলে সতের কোটি মানুষকে পুষ্টির বেড়াজালে আটকাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে মঙ্গাকে বিদায় করেছি, খাদ্য ঘাটতিকে দূর করেছি, মধ্যম আয়ের উন্নীত হয়েছি।’

নীতি, প্রশাসনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের মাধ্যমে দেশের শুধু শ্রমজীবী মানুষই নয় সব নাগরিকের অপুষ্টিজনিত ঘাটতি দূর করার লক্ষ্য অর্জনে সরকার সফল হবে বলে প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রতিমন্ত্রী অনুষ্ঠানে সরকারী বেসরকারী উদ্যোগে একটি পুষ্টি কালচার তৈরির আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তৃতায় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এহছানে এলাহী বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে স্বাস্থ্যই সম্পদ। আগামীতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মাধ্যমে পুষ্টি বিষয়ে শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে আরও বেশি বেশি প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।’

সেমিনারে কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এর মহাপরিদর্শক মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ, বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান, বিকেএমইএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মনসুর আহমেদ, আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর তোমো পুতিআইনেন, ন্যাশনাল নিউট্রেশন সার্ভিসের লাইন ডিরেক্টর ডা. এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যুগ্ম-মহাপরিদর্শক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং গেইনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. রুদাবা খন্দকার বক্তব্য দেন।

ওয়ার্ক ফোর্স নিউটেশন এবং ইভালুয়েশন এন্ড লার্নিং এর ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাজমা শাহীন এবং ডা. সাইদ আবুল হামিদ।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালি নিয়ে বিচারপতি মানিকের কী পরিকল্পনা
ইভ্যালির ভাগ্য নির্ধারণে বিচারপতি মানিকের নেতৃত্বে কমিটি
ইভ্যালির সার্ভার বন্ধ
ইভ্যালি জন্য বোর্ডে সাবেক তিন সচিব
ইভ্যালি পরিচালনায় বোর্ড গঠন করবে হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

তামাক কোম্পানির সিএসআর বন্ধের আহ্বান

তামাক কোম্পানির সিএসআর বন্ধের আহ্বান

রোববার ‘তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচক’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে অতিথিরা।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘কোভিডের চেয়ে তামাকের কারণে বাংলাদেশে অনেক বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। অথচ তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আসলে সরকারি সংস্থাগুলো এফসিটিসি এবং প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে ধারণ করছে কি না সেটাই মৌলিক প্রশ্ন।’

তামাক কোম্পানির সব সিএসআর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে তামাকবিরোধী সংগঠন প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা)।

সংগঠনটি জানিয়েছে, তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচক-২০২১ এ বাংলাদেশের স্কোর ৭২। গত বছর এই স্কোর ছিল ৬৮। করোনাভাইরাস মহামারিতে কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী কার্যক্রমে হুমকির মুখে পড়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওর্য়াক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোলের (এফসিটিসি) কার্যকর বাস্তবায়ন এবং তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য। ব্যবসা চালু রাখতে তামাক কোম্পানিগুলো সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি (সিএসআর), লবিং, অনুদান ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারসহ বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে।

রোববার ঢাকায় প্রকাশিত ‘তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচক: এফসিটিসি আর্টিক্যাল ৫.৩ বাস্তবায়ন প্রতিবেদন, বাংলাদেশ ২০২১’ গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) আয়োজিত অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘কোভিডের চেয়ে তামাকের কারণে বাংলাদেশে অনেক বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। অথচ তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আসলে সরকারি সংস্থাগুলো এফসিটিসি এবং প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে ধারণ করছে কি না সেটাই মৌলিক প্রশ্ন।’

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে অর্থনীতিবিদ এবং জাতীয় তামাকবিরোধী মঞ্চের আহ্বায়ক ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, ‘হস্তক্ষেপ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান খুবই নাজুক। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ, সেটা কেন?’

তিনি বিএটিবির শেয়ার প্রত্যাহার এবং তামাকের ২৫ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক পুনর্বহালের দাবি জানান।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি সাংবাদিক এবং টিভি টুডের এডিটর ইন চিফ মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘সরকারি সংস্থাগুলোকে সচেতন করতে হবে যাতে তারা তামাক কোম্পানি থেকে কোনো সহায়তা না নেয়। তামাক কোম্পানির সহায়তা নেয়া এফসিটিসির সুস্পষ্ট লংঘন এবং প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’

মূল গবেষণা তুলে ধরেন প্রজ্ঞার তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কর্মসূচি প্রধান মো. হাসান শাহরিয়ার।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ বেড়েছে এবং আর্টিক্যাল ৫.৩ এর নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি হয়নি। আবারও কূটনৈতিক মাধ্যম ব্যবহার করে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ এবং প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে।

গবেষণায় জানানো হয়, ‘জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল (জেটিআই) কোম্পানির পক্ষে অর্থমন্ত্রীকে লেখা জাপানি রাষ্ট্রদূতের চিঠিতে বলা হয়েছে, জেটিআইর ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন কোনো তামাকনিয়ন্ত্রণ পদক্ষেপ নেয়া হলে সেটি বাংলাদেশে ভবিষ্যত জাপানি বিনিয়োগের (এফডিআই) পথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করবে।’

গবেষণায় আরও বলা হয়, ২০২০ সালে করোনা মহামারি চলার সময় তামাক কোম্পানিগুলো যেভাবে কথিত সিএসআর কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিল, এর আগে সেটি কখনও দেখা যায়নি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থাও তামাক কোম্পানিগুলোকে পুরস্কৃত করেছে।

গবেষণার সুপারিশে তামাক কোম্পানির সিএসআর কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধসহ তামাকনিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে এফসিটিসির সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার তাগিদ দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালি নিয়ে বিচারপতি মানিকের কী পরিকল্পনা
ইভ্যালির ভাগ্য নির্ধারণে বিচারপতি মানিকের নেতৃত্বে কমিটি
ইভ্যালির সার্ভার বন্ধ
ইভ্যালি জন্য বোর্ডে সাবেক তিন সচিব
ইভ্যালি পরিচালনায় বোর্ড গঠন করবে হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

‘বঙ্গোপসাগরের ৮০ ভাগে এখনো হাতই পড়েনি’

‘বঙ্গোপসাগরের ৮০ ভাগে এখনো হাতই পড়েনি’

ফাইল ছবি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, ‘মেরিন ট্যুরিজম বর্তমান বিশ্বে একটি সম্ভাবনাময় খাত। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই খাতে নিজেদেরকে এগিয়ে নিতে হবে।’

বাংলাদেশ গভীর সমুদ্রের মাত্র ২০ ভাগ এলাকায় মাছ আহরণ করে থাকে। বাকি ৮০ শতাংশ অধরা রয়ে গেছে। বঙ্গোপসাগরের এসব এলাকায় এখনও মৎস্যজীবীদের হাতই পড়েনি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।

রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা) আয়োজিত ব্লু ইকোনমি অন ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ড. মোমেন বলেন, মৎস্য শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মাত্র ১২ শতাংশ অবদান রাখে। দেশের মানুষের প্রাথমিক প্রোটিনের যোগান, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বৈদেশিক আয় ও খাদ্য নিরাপত্তা মৎস্য শিল্পের সঙ্গে জড়িত। তবে বাস্তবতা হল গভীর সমুদ্র থেকে মৎস্য আহরণে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে আছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্রে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের সমুদ্রে ৪৭৫টি জলজ প্রাণী রয়েছে। কিন্তু আমরা আহরণ করি মাত্র ১২০ প্রজাতির মাছ। অর্থাৎ মাত্র ২৫ শতাংশ মাছ ধরছি আমরা। গভীর সমুদ্রের মাত্র ৫০ থেকে ৬০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে আমরা মাছ ধরে থাকি।

‘অন্যদিকে বিশ্ব চাহিদার কারণে দেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্প উত্তরোত্তর উন্নতি করছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী জাহাজ নির্মাণ শিল্প ১৬শ’ বিলিয়ন ডলারের। বাংলাদেশ এর ১ শতাংশ দখল করতে পারলেও ১৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হতে পারে।’

মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশের তেল ও গ্যাস শিল্প বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। মেরিন ট্যুরিজম বর্তমান বিশ্বে একটি সম্ভাবনাময় খাত। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই খাতে নিজেদেরকে এগিয়ে নিতে হবে।

‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক সম্পদের ওপর বাংলাদেশের মানুষের সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমুদ্রসম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণের জন্য ১৯৭৪ সালে টেরিটোরিয়াল ওয়াটার অ্যান্ড মেরিটাইম জোন আইন প্রণয়ন করেন।’

আরও পড়ুন:
ইভ্যালি নিয়ে বিচারপতি মানিকের কী পরিকল্পনা
ইভ্যালির ভাগ্য নির্ধারণে বিচারপতি মানিকের নেতৃত্বে কমিটি
ইভ্যালির সার্ভার বন্ধ
ইভ্যালি জন্য বোর্ডে সাবেক তিন সচিব
ইভ্যালি পরিচালনায় বোর্ড গঠন করবে হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

‘বদলে যাওয়া বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের বড় বাজার’

‘বদলে যাওয়া বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের বড় বাজার’

রোববার রাজধানীর রেডিসন হোটেলে শুরু হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট সামিট। ছবি: নিউজবাংলা

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশে এখন পুরোপুরি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গত ১২ বছরে আমরা নতুন বাংলাদেশ তৈরি করতে পেরেছি। বদলে যাওয়া বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের বড় বাজার। বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আসছে। বাড়ছে দেশি বিনিয়োগও।’

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে, তবে মুনাফা কতটুকু হবে সে বিষয়ে সরকারের কিছুই করণীয় নেই বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তিনি বলেছেন, অবকাঠামো খাতের উন্নয়নসহ ব্যবসা করার ক্ষেত্রে সহজ উপায় বের করতে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে রোববার রাজধানীতে শুরু হয়েছে দু’দিনব্যাপী ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট সামিট (আইআইএস)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদ ভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন সরকার প্রধান।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ডের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সামিটে অংশ নিচ্ছে ৫৪টি দেশ। অনলাইনে যুক্ত হতে বিদেশ থেকে দু’হাজার ৫৭৪ জন ও দেশের দু’হাজার ১০৯ জন নিবন্ধন করেছেন।

রাজধানীর রেডিসন হোটেলে শুরু হওয়া সম্মেলনটি শেষ হবে সোমবার। সমাপনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল উপস্থিত থাকবেন।

সামিটে যোগ দিতে বেশ কয়েকটি দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসেছে। অনুষ্ঠানে সরাসরি যোগ দিতে সৌদি আরবের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল এখন ঢাকায়। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী ও চীনের ভাইস মিনিস্টার (বাণিজ্য মন্ত্রণালয়) ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন। এছাড়া জাপানের একজন ভাইস মিনিস্টারের বার্তা ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি সম্মেলনে পড়ে শোনান।

সামিটে বিডার পক্ষ থেকে ১১টি খাতকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কেউ এর বাইরে অন্য কোনো খাত নিয়ে আগ্রহ দেখালে তা নিয়েও আলোচনার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

এর আগে ২০১৬ সালে সর্বশেষ বিনিয়োগ সম্মেলন (ইনভেস্টমেন্ট সামিট) অনুষ্ঠিত হয়।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা নীতি সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বিনিয়োগের সফলতা পেতে পারে। এদেশে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীরা লাভবান হবেন।

‘অবকাঠামোগত এসব উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশে এখন পুরোপুরি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ রয়েছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও বন্দরসহ বড় বড় বহু প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গত ১২ বছরে আমরা নতুন বাংলাদেশ তৈরি করতে পেরেছি। বদলে যাওয়া বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের বড় বাজার। বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আসছে। বাড়ছে দেশি বিনিয়োগও। একইসঙ্গে এখানে বিদেশি বিনিয়োগের নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ‘গত কয়েক বছর ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। জিডিপি ৪১১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু গড় আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৫৫৪ ডলার। আগের হিসেবে তা ছিল দুই হাজার ২২৭ ডলার। দেশের অভ্যন্তরে কৃষি, শিল্প ও সেবাসহ সব খাত এগিয়ে যাচ্ছে। সবজি উৎপাদনে আমরা বিশ্বে তৃতীয়, চাল উৎপাদনে চতুর্থ স্থানে রয়েছি।

‘তৈরি পোশাক, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, আইসিটি, প্লাস্টিক, চামড়াজাতীয় পণ্যসহ বাংলাদেশে কয়েকটি খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। দেশে একশ’ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন হচ্ছে। এখানে বিনিয়োগে সব ধরনের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।’

বিডার আয়োজনে সামিটে সহযোগী হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ ইকোনমিক জোনস অথরিটি (বেজা), বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনস অথরিটি (বেপজা), বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক অথরিটি (বিএইচটিপিএ), পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ), ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই)।

এছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন ও ইউকেএইড সামিট আয়োজনে সহায়তা করছে।

সম্মেলনের প্রথম দিন বিজনেস সেশনে ‘ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড লজিস্টিক: দ্য রাইট মুভ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ‘ক্যাপিটাল মার্কেট: দ্য রাইজিং টাইগার’, ‘পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি: চার্জ অ্যাহেড’, ‘লিগাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস: এনশিউরিং সাসটেইন গ্রোথ’, ‘এগ্রোবিজনেস: গ্রোথ বাই ন্যাচার’, ‘লেদার অ্যান্ড লেদারগুডস: স্টেপ ইট আপ’, ‘রেডিমেড গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সটাইল: ওয়েভিং দ্য ওয়ে’, ‘ইলেকট্রিক্যাল ইলেক্ট্রনিকস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড প্লাস্টিক গুডস: রাইড দ্য কারেন্ট’ বিষয়ে সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন সোমবার প্লেনারি সেশনে থাকছে ইনভেস্টমেন্ট কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড বিজনেস এনভায়রনমেন্ট: রেসিং নিউ হাইস্ট ইন দ্য নিউ নরমাল শীর্ষক আলোচনা। দুটি বিজনেস সেশন ইন প্যারালালে থাকছে ইকোনমিক জুন: এক্সেডিং অল এক্সপেক্টেশনস, ব্লু ইকোনমি: ডিসকভার দ্য ফিউচার, লেভেরাজিং ফোর্থ-আইআর: নিউজ এভিনিউ ফর ইনোভেটিভ ইনভেস্টমেন্ট, হেলথ অ্যান্ড ফার্মাসিটিক্যালস: অ্যাফর্ডেবল ওয়েলবিং: হেলদি লিভিং ফর অল শীর্ষক আলোচনা।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালি নিয়ে বিচারপতি মানিকের কী পরিকল্পনা
ইভ্যালির ভাগ্য নির্ধারণে বিচারপতি মানিকের নেতৃত্বে কমিটি
ইভ্যালির সার্ভার বন্ধ
ইভ্যালি জন্য বোর্ডে সাবেক তিন সচিব
ইভ্যালি পরিচালনায় বোর্ড গঠন করবে হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

ইভ্যালির রাসেলের বিরুদ্ধে বরিশালে ৩ মামলা

ইভ্যালির রাসেলের বিরুদ্ধে বরিশালে ৩ মামলা

ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেল। ফাইল ছবি

মামলায় বলা হয়েছে, বরিশালের গ্রাহক নিলয়, সুরুজ ও ফেরদাউস মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকা দেন ইভ্যালির এমডি রাসেলকে। মোটরসাইকেল দিতে ব্যর্থ হয়ে ইভ্যালি ওই টাকার বিপরীতে তাদেরকে চেক দেয়। চেক ব্যাংকে জমা দিলে ফেরত দেয় কর্তৃপক্ষ।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেলের বিরুদ্ধে বরিশালে চেক প্রতারণার অভিযোগে তিনটি মামলা করা হয়েছে।

রোববার বরিশাল অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক গ্রাহকের করা আলাদা মামলা তিনটি আমলে নিয়ে সমন জারি করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী চারচিল ও বাদী পক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান।

মামলায় বলা হয়েছে, বরিশালের বাসিন্দা নিলয় শরীফ মোটরসাইকেল কেনার জন্য তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা, সাদিকুর রহমান সুরুজ দুই লাখ ৭১ হাজার টাকা এবং মো. ফেরদাউস এক লাখ ৭৪ হাজার টাকা দেন ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেলকে। মোটরসাইকেল দিতে ব্যর্থ হয়ে ইভ্যালি ওই টাকার বিপরীতে তাদেরকে চেক দেয়। চেক ব্যাংকে জমা দিলে ফেরত দেয় কর্তৃপক্ষ।

পরে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে টাকা ফেরত চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়। এর কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় গ্রাহক নিলয়, সুরুজ ও ফেরদাউস আলাদা তিনটি মামলা করেন ।

রাসেল-শামীমার বিরুদ্ধে অন্য মামলা

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আলোচিত ই-কমার্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে ১৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় মামলা হয়েছিল।

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া নিউজবাংলাকে জানিয়েছিলেন, কামরুল ইসলাম নামে একজন মার্চেন্ট মামলাটি করেছেন। তিনি ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য সরবরাহ করেছেন, ইভ্যালি তার পাওনা টাকা পরিশোধ করেনি।

১৬ সেপ্টেম্বর রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় মামলা করেন আরিফ বাকের নামে এক গ্রাহক। ওইদিন বিকেলেই রাসেলের মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। রাসেল ও শামীমাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন তাদের গুলশান থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালি নিয়ে বিচারপতি মানিকের কী পরিকল্পনা
ইভ্যালির ভাগ্য নির্ধারণে বিচারপতি মানিকের নেতৃত্বে কমিটি
ইভ্যালির সার্ভার বন্ধ
ইভ্যালি জন্য বোর্ডে সাবেক তিন সচিব
ইভ্যালি পরিচালনায় বোর্ড গঠন করবে হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

এবার লক্ষ্য উন্নত দেশ: প্রধানমন্ত্রী

এবার লক্ষ্য উন্নত দেশ: প্রধানমন্ত্রী

সরকারের সাম্প্রতিক উন্নয়নের অন্যতম স্মারক মেট্রোরেল উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চলবে। ছবি: সাইফুল ইসলাম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন আমাদের মূল লক্ষ্য একটি সামনে আছে। ২০৪১ সালের মধ্যে যেন বাংলাদেশ উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হয়, সে লক্ষ্য অর্জন করা।’

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার স্বীকৃতি পাওয়ার পর ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোনোর তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনের সমাপনী দিন রোববার সংসদ নেতার বক্তব্যে তিনি এ তাগিদ দেন।

বক্তব্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের যাত্রা সহজ ছিল না বলে উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের মূল লক্ষ্য একটি সামনে আছে। ২০৪১ সালের মধ্যে যেন বাংলাদেশ উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হয়, সে লক্ষ্য অর্জন করা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বিষয়ে আজ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করব। প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগ সরকারে ২০০৮ এর নির্বাচনি ইশতেহারে আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। রূপকল্প ২০২১ আমরা ঘোষণা দেই। তারই ভিত্তিতে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করি ২০১০ থেকে ২০২০ পর্যন্ত। সুপরিকল্পিতভাবে দেশের উন্নয়নে আমরা ব্যাপক কাজ করি। একটি লক্ষ্য স্থির করে কোনো দেশ যদি এগিয়ে যায়, তাহলে সেটা অর্জন করা সম্ভব। সেটা আমরা প্রমাণ করেছি।

‘২৪ নভেম্বর নিউইয়র্ক সময় সকাল ১০টা, তখন বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা। সে সময় জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ৭৬তম অধিবেশনে ৪০তম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের ঐতিহাসিক রেজুলেশন গৃহীত হয়। এ প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে আমরা এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া আমাদের সম্পন্ন হলো।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আমরা কাজ করে যাচ্ছিলাম দেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে। আজকে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে যে গ্র্যাজুয়েশন, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটা এত তাড়াতাড়ি হয়নি। এটাও মনে রাখতে হবে।

‘আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকেই আমরা ২০০৯ সাল থেকে যে পরিকল্পনা নিয়েছি এবং তা বাস্তবায়ন করেছি। বাংলাদেশের দারিদ্র্যমুক্তি, মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন কাজ আমরা করেছি এবং খুব পরিকল্পিতভাবে।’

পদে পদে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ার কথা জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, ‘বারবার জনগণ ভোটে নির্বাচিত করেছে বলেই এ উত্তরণ সম্ভব হয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, এই কাজগুলো যে আমরা খুব সহজভাবে করতে পেরেছি, তা না। আমরা দেশের জনগণের জাতীয় জীবনের সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছি। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে মানুষের সে গৌরবজনক যাত্রা শুরু হয়।

‘আমরা ২০১৮ সালে প্রথম জাতিসংঘের যে কমিটি-সিডিপি, বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের সুপারিশ করে। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে যে বারবার সরকারে আসতে পেরেছি, তার ফলে যে উন্নতি আমরা করতে পেরেছি, তারই ফসল হচ্ছে এ স্বীকৃতি।’

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী এলডিসি উত্তরণের জন্য সিডিপি পরপর দুবার ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা করে। এতেও বাংলাদেশ আমাদের অর্জিত মানদণ্ড ধরে রাখতে সক্ষম হই। কোভিড-১৯-এর প্রকোপে সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দেয়, বাংলাদেশেও। এরপরেও আমরা আমাদের অর্জনগুলো ধরে রাখি এবং ক্ষেত্রবিশেষে উন্নত করি।

‘২০২০ থেকে ২০২১ পর্যন্ত জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী অর্থাৎ মুজিববর্ষ। ২০২১ আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এ সময় এ অর্জন এটা আমাদের জন্য অনেক গৌরবের। বাঙালি জাতির জন্য বিরল সম্মান অর্জন। বিশ্বসভায় বাঙালি জাতির জন্য এক বিরল উত্তরণ।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে আওয়ামী লীগঘোষিত রূপকল্প ২০২১ এবং এর আলোকে আমরা যে পরিকল্পনাগুলো পরপর নিয়েছি, সে সময় প্রকৃতপক্ষে অনেকে ধারণাই করতে পারেনি যে, বাংলাদেশ এ ধরনের অর্জন করতে পারে, কিন্তু সুপরিকল্পিত লক্ষ্য নিয়ে আমরা এগিয়েছি বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। আশু করণীয় কী, সেটা নিয়েও কিন্তু আমরা অনেক কাজ করেছি।

‘অনেক সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তারপরেও আমরা জানি এটার একটা ফলাফল বাংলাদেশের মানুষ পাবে। যেমন: রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে শুরু করে যখন বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে গেছি, অনেক সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা সমালোচনায় কান দেইনি, কারণ আমরা জানি, এ দেশটাকে আমরা চিনি।’

তিনি বলেন, ‘অভীষ্ট লক্ষ্য স্থির করেই আমরা কাজ করেছি। দেশে উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি আশু করণীয় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে আমরা কাজ করেছি।’

সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২১ থেকে ২০৪১ পর্যন্ত লক্ষ্য রেখে আমরা আরেকটি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা আমরা প্রণয়ন করেছি। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ যাতে একটি উন্নত দেশ হয়, সেই পরিকল্পনাই আমরা হাতে নিয়েছি। ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত স্থায়ী উন্নয়নের কাজও আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। বাংলাদেশের জনগণের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।

‘এটি এ কারণে ২০০৮ এর নির্বাচন, এরপর ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন, প্রতিটিতে তারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন। আমাদের জয়যুক্ত করেছেন এবং আমরা জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। এর ফলে আজকে দীর্ঘদিন জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি বলে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তবে এ কথা ঠিক, এ যাত্রাপথ কখনো সুগম ছিল না। অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে, অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে, অনেক অপপ্রচারের শিকার হতে হয়েছে। আমরা দেখেছি আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা, পেট্রলবোমা মারা, চলন্ত বাস-স্কুটার থেকে মানুষকে টেনে বের করে পেট্রল দিয়ে, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে। সেই অগ্নিসন্ত্রাসের শিকার আমাদের একজন সংসদ সদস্যও আজ এখানে উপস্থিত আছেন।

‘ঠিক এভাবে রাস্তা কেটে ফেলা, হাজার হাজার গাছ কেটে ধ্বংস করা, মানুষ হত্যা, তারপর হরতাল-অবরোধ। অবরোধ মনে হয় এখনও বিএনপি তুলে নেয়নি। সেই অবরোধসহ নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করার জন্য। পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগও কিন্তু আমাদের মোকাবিলা করতে হয়েছে। এটা হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের ফল।’

তিনি বলেন, ‘এরপরে আসল করোনাভাইরাস। করোনার মধ্যেও সারা বিশ্বের অর্থনীতি যেখানে স্থবির, সেখানে আমরা চেষ্টা করেছি অর্থনীতি সচল রাখতে। আমরা প্রায় এক লক্ষ ৮৩ কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়ে নগদ অর্থ সরবরাহ একেবারে গ্রামের তৃণমূল মানুষকে দিয়েছি।

‘আমরা অন্য সব বাদ দিয়ে মানুষের হাতে যেন টাকা যায়, মানুষের হাতে যেন খাবার যায়, সেটি নিয়ে ব্যাপক কর্মসূচি পালন করেছি। আমাদের কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষ, চাকরীজীবী, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী সকলের যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, এ জন্য প্রণোদনা প্যাকেজের মাধ্যমে সহযোগিতা করেছি।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘শুধু বাজেট থেকে বা সরকারি কোষাগার থেকে না প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকেও কয়েক শ কোটি টাকা মানুষের কাছে বিলিয়েছি। অর্থাৎ মানুষকে সব ধরনের সহযোগিতা করা, এটা আমরা করতে পেরেছি।

‘এর ফলাফল হলো এই অতিমারির মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি গতিশীল থেকেছে। এখন আমাদের মূল লক্ষ্য একটি সামনে আছে। ২০৪১ সালের মধ্যে যেন বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হয়, সে লক্ষ্য অর্জন করা।’

আরও পড়ুন:
ইভ্যালি নিয়ে বিচারপতি মানিকের কী পরিকল্পনা
ইভ্যালির ভাগ্য নির্ধারণে বিচারপতি মানিকের নেতৃত্বে কমিটি
ইভ্যালির সার্ভার বন্ধ
ইভ্যালি জন্য বোর্ডে সাবেক তিন সচিব
ইভ্যালি পরিচালনায় বোর্ড গঠন করবে হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

প্রাধান্যে অর্থনৈতিক কূটনীতি: প্রধানমন্ত্রী

প্রাধান্যে অর্থনৈতিক কূটনীতি: প্রধানমন্ত্রী

বিনিয়োগ সম্মেলন উদ্বোধনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিনিয়োগের জন্য ১১টি খাত চিহ্নিত করেছি। আমি আশা করি, এ সম্মেলনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা এ সব খাতের সম্ভাবনা সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে পারবে।’

অর্থনৈতিক উন্নয়ন মাথায় রেখে সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজধানীতে শুরু হওয়া দুদিনের ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট সামিট উদ্বোধন করে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদ ভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন সরকার প্রধান।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ড (বিডা) এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অর্থনৈতিক কূটনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছি। দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্যিক অগ্রাধিকার চুক্তি মুক্তবাণিজ্য চুক্তি ও সমন্বিত অর্থনৈতিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের কাজ করে যাচ্ছি।

‘ইতিমধ্যে ভুটানের সঙ্গে পিটিএ সই করেছি। বাংলাদেশ বিশ্বে ৩৮টি দেশে একতরফা শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পাচ্ছে। ৩৬টি দেশের সাথে দ্বৈত করার্পণ পরিহার চুক্তি বলবৎ আছে। আমার বিভিন্ন বাণিজ্য জোটের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৮ এর নির্বাচনে জয়ী হয়ে পরপর তিনদফা এই দেশ চালাবার সুযোগ পেয়েছে। এতে দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দক্ষ পরিশ্রমী জনবল সৃষ্টি, আকর্ষণীয় প্রণোদনার মাধ্যমে উদার বিনিয়োগ নীতি, দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্বের বিশাল জনগোষ্ঠীর বাজারের মধ্যে ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।

‘বাংলাদেশের প্রতি আস্থার ফলে ৭ শতাংশেরও বেশি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আসছে পুনর্বিনিয়োগের মাধ্যমে। আমরা জাতীয় শিল্পনীতিসহ খাত অনুযায়ী শিল্প নীতিমালা প্রণোয়ন করেছি। শ্রম আইন ২০১৮ প্রণোয়ন করেছি। প্রতিটি প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। রপ্তানিমুখী শিল্পের বৃদ্ধির জন্য বন্ড ব্যাবস্থাপনাকে অটোমেশন করা হয়েছে।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘আমরা ৩৯টি হাইটেক পার্ক নির্মাণ করেছি। পর্যায়ক্রমে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল আমরা গড়ে তুলছি। অর্থনৈতিক অঞ্চলসমুহে ২৭ দশমিক ০৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছি। মীরসরাই, সোনাগাজী, সীতাকুন্ড উপজেলায় বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর গড়ে তুলেছি। আড়াইহাজারে জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে।

‘আমরা বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব আইন প্রণোয়ন করেছি এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করেছি। বর্তমানে ৬৯টি পিপিপি প্রকল্পে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।’

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকারের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘২০১৯ সাল থেকে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ৩৫টি সংস্থার ১৫৪টি বিনিয়োগ সংস্থার সেবা অনলাইনে প্রদানের লক্ষে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

‘আমরা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে অবকাঠামোসহ সকল সহায়তা প্রদানে অঙ্গীকারাবদ্ধ।’

এ সময় বিএনপি সরকারের আমলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনাও করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা এক সময় বিনামূল্যে সাবমেরিন কেবল এবং ফাইবার অপটিকসে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম।

‘সে সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিল তারা সে সুযোগটা নেয়নি। বরং প্রত্যখ্যান করেছিল।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বে এখন উন্নয়নের রোল মডেল। আমরা এসডিজি প্রোগ্রেস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। আমরা প্রায় ৯৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। আমাদের ১২ কোটির বেশি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। তথ্য প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন মানবসম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা আহহরনের প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছি। ২০২৫ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলারে আইটি পণ্য রপ্তানি করার লক্ষ্য আমরা স্থির করেছি।

‘মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ উৎক্ষেপণ করেছি, পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে, যা আমরা স্বঅর্থায়ণে করেছি। ঢাকায় মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক বিমানবন্দরে রূপান্তর, কক্সবাজারে আরও একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর নিচে টানেল, মাতারবাড়ী ও পায়রায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মানের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার প্রতিঘাত নিরসনে এক লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ আমরা দিয়েছি, যার সুফল এখন মানুষ পাচ্ছে। আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি।

‘আমাদের অর্থনীতির আকার এখন ৪১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪৬ দশমিক ৫ বিনিয়ন ডলার। মাথাপিছু আয় ২৫৫৪ মার্কিন ডলার।’

দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, ভারতসহ বিশ্বের ১৫টি দেশের ২ হাজার ৩৩৫ জন অংশগ্রহণকারী নিবন্ধন করেছের জেনে আমি আনন্দিত। বিনিয়োগের জন্য আমরা সম্ভাবনাময় ১১টি খাত চিহ্নিত করে দিয়েছি। এর মধ্যে অবকাঠামো, পুজিবাজার, ফিন্যানসিয়াল সেবা, তথ্য প্রযুক্তি, ইলেক্ট্রনিক্স উৎপাদন, স্বয়ংক্রিয় ও হালকা প্রকৌশল, চামড়া, কৃষিপণ্য, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, স্বাস্থ্য সেবা ও ওষুধ, পাট ও বস্ত্র এবং ব্লু ইকোনমি।

‘আমি বিশ্বাস করি, এ সম্মেলনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের এইসব সম্ভাবনাম খাত সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে পারবেন। বিশ্বে বাংলাদেশি পণ্যের নতুন বাজার সৃষ্টি হবে এবং বাংলাদেশ কাঙ্খিত বিনিয়োগ আকর্ষণেও সক্ষম হবে।’

নিজ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে যে ধরনের কূটনীতির আশ্রয় নেয় সংশ্লিষ্ট সংরকার সেটাই অর্থনৈতিক কূটনীতি। দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা এই কূটনীতির মূল লক্ষ্য।

জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) আকারের তুলনায় দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ কম। এটা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিতে সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে। সে ধারাবাহিকতায় লাভজনক বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশকে তুলে ধরতেই দুদিনের এ সম্মেলন।

রাজধানীর রেডিসন হোটেলে শুরু হওয়া সম্মেলনটি শেষ হবে সোমবার। এর আগে ২০১৬ সালে ঢাকায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সরকার বলছে, দেশে সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ গত কয়েক বছর ধরেই ৩০-৩১ শতাংশে আটকে আছে। অবশ্য করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে দেশের সার্বিক বিনিয়োগের সঙ্গে জিডিপির অনুপাত ২৯ দশমিক ৯২ শতাংশে নেমে এসেছে। এর অনুপাত ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য সরকারের।

বর্তমানে দেশের অর্থনীতির আকার (জিডিপি) ৪০৯ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৫ লাখ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩২৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৮৪ কোটি ৭০ লাখ ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে।

বিডা জানায়, বিনিয়োগ সম্মেলনে মূলত দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশ, অর্থনৈতিক অঞ্চল, সমুদ্র অর্থনীতি খাতে বিনিয়োগ উপযোগিতা তুলে ধরা হবে।

এ ছাড়া বিভিন্ন সেশনে স্বাস্থ্য ও ওষুধ শিল্প, পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খাত, শেয়ার বাজার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, অবকাঠামো, আর্থিক সেবা, কৃষি বাণিজ্য, তৈরি পোশাক, তথ্য-প্রযুক্তি, ইলেক্ট্রিক্যাল পণ্য তৈরিসহ ১৪টি খাত নিয়ে নির্দিষ্ট আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ৫০০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪৩ লাখ কোটি অর্থনীতির দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সরকার।

বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকসহ (এআইআইবি) বৈশ্বিক অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালি নিয়ে বিচারপতি মানিকের কী পরিকল্পনা
ইভ্যালির ভাগ্য নির্ধারণে বিচারপতি মানিকের নেতৃত্বে কমিটি
ইভ্যালির সার্ভার বন্ধ
ইভ্যালি জন্য বোর্ডে সাবেক তিন সচিব
ইভ্যালি পরিচালনায় বোর্ড গঠন করবে হাইকোর্ট

শেয়ার করুন