নজরদারিতে আসছে ই-কমার্স

নজরদারিতে আসছে ই-কমার্স

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। ফাইল ছবি

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘ই-কমার্স তো বন্ধ করা যাবে না। সুতরাং তাদের সবাইকে রেজিস্ট্রেশন ও মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। কীভাবে মনিটর করা যাবে, সে ব্যবস্থা আমরা করে ফেলেছি। আশা করি, দেড় বা দুয়েকের মধ্যে একটা ভালো কিছু হবে।’

সরকার ই-কমার্স বন্ধ করতে চায় না। তবে এ পদ্ধতিতে ব্যবসা করতে আগ্রহীদের নিবন্ধনের আওতায় আসতে হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

পাশাপাশি ই-কমার্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নজরদারির আওতায় আনার বিষয়টিও চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক পরবর্তী এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, ‘ই-কমার্স তো বন্ধ করা যাবে না। সুতরাং তাদের সবাইকে রেজিস্ট্রেশন ও মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। কীভাবে মনিটর করা যাবে, সে ব্যবস্থা আমরা করে ফেলেছি। আশা করি, দেড় বা দুয়েকের মধ্যে একটা ভালো কিছু হবে।’

ই-কমার্স নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে বলেও জানান সচিব। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে গত কয়েকদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এক সভায় পাঁচ সদস্যের কমিটি করে দেয়া হয়েছে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সচিব বলেন, ‘এক মাস সময় দেয়া হয়েছিল। আমার মনে হয় আগামী ২০ দিনের মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দেবেন। বাণিজ্যমন্ত্রী ও সচিব দুজনই বলেছেন তারা অনেকদূর এগিয়েছেন। আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। গত দু্ই থেকে আড়াইমাস ধরে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আছে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ই-কমার্সের প্রলোভনে না পড়তে জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও মন্ত্রিসভায় জোর দেয়া হয়েছে।

খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, ‘জনগনকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে যে, তিনি কী জাতীয় প্রস্তাবে সাড়া দিচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো পাঁচ লাখ টাকার মোটরবাইক আড়াই লাখ টাকায় দেয়া হবে বলছে। সেটি শুনেই ঝাঁপিয়ে না পড়ে নিজেরও বিচার বিবেচনা থাকা দরকার।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ই-কমার্স: প্রতারণা বন্ধে বিজনেস আইডির রূপরেখা চূড়ান্ত

ই-কমার্স: প্রতারণা বন্ধে বিজনেস আইডির রূপরেখা চূড়ান্ত

প্রতীকী ছবি

এ টু আই এর মাধ্যমে ‘আমার সরকার’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। ইতোমধ্যে এ টু আই এর সঙ্গে আলোচনাক্রমে ‘আমার সরকার’ পোর্টালে একটি নিবন্ধন উইন্ডো তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এর মাধ্যমে ডিসেম্বরের মধ্যে ইউভিআইডির নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ইউভিআইডির সার্বিক নিবন্ধন হবে।

ডিজিটাল কমার্স বা ই-কমার্সসহ সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দ্বারা প্রতারণামূলক লেনদেন বন্ধে ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিটির (ইউভিআইডি) রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় মনে করছে, এই রূপরেখা অনুযায়ী সবাইকে ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিটির আওতায় আনা গেলে দেশের সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধান সহজ হবে এবং ব্যবসায় শৃঙ্খলা আসবে।

এই লক্ষ্যে রূপরেখায় সেইফ গার্ড পদক্ষেপ হিসেবে প্রতারণায় জড়িত যেকোনো ধরনের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে শনাক্তকরণের সহজ ৮টি উপায় চিহ্নিত করা হয়েছে। আর তা মাঠপর্যায়ে চার ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে এর আওতায় ই-কমার্স খাত বা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে ইউভিআইডিতে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। যা চলতি ডিসেম্বর থেকে পরবর্তী এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

তবে ই-কমার্সসহ সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ইউভি আইডির আওতায় আনতে হলে এ সংক্রান্ত আইন ও কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রয়োজনীতাও উল্লেখ করা হয়েছে ইউভিআইডির রূপরেখায়। একই সঙ্গে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধন দেয়ার দায়িত্ব যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধক (আরজেএসসি) প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে।

মনিটরিংয়ের জন্য প্রাথমিকভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ই-কমার্স সেলকে দায়িত্ব প্রদান এবং সেই সঙ্গে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকেও নিয়মিত ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসমূহকে মনিটরিং করতে পারে বলে মতামত দেয়া হয়েছে।

গত ৩০ নভেম্বর ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিটি (ইউভিআইডি) সংক্রান্ত রূপরেখা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিয়েছে মন্ত্রণালয়ের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সেল।

আগামী সপ্তাহ থেকেই ইউভিআইডির এই রূপরেখা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা।

যা রয়েছে ইউভিআইডর রূপরেখায়

০১. দেশে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সনাক্ত ও তদারকি সহজ করতে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে একটি ডিজিটাল সিস্টেমে ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিটি নম্বরের আওতায় নিবন্ধন প্রদান।

০২. সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আরজেএসসির সব লাইসেন্স বা ব্যবসায় সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন এর সাথে সংযুক্ত রাখা।

০৩. ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যক্তিকে সহজে শনাক্ত করার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেইজের সাহায্য নেয়া।

০৪. প্রতিটি অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, ফেইসবুক পেইজ, কোম্পানি প্যাড ইত্যাদিকে ইউনিক বিজনেস আইডি নম্বর প্রদর্শন।

০৫. (www.ubid.gov.bd) ও ‘আমার সরকার’ (myGov) উভয় ওয়েবসাইট থেকে সহজ এবং অনলাইন পদ্বতিতে ইউনিক বিজনেস আইডি নম্বরের নিবন্ধন দেয়ার ব্যবস্থা। অন্যান্য লাইসেন্স বা নিবন্ধন প্রদানের সময়ও স্বয়ংক্রিয় পদ্বতিতে ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন সনদ প্রস্তুত হওয়া।

০৬. ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিটি সনদ গ্রহণের সময় আবেদনকারি চাইলে সরাসরি ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন, বিআইএন, আরপিএ (রিটেইলারস পার্সোনাল অ্যাকাউন্ট) গ্রহণের ব্যবস্থা রাখা।

০৭. সব ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিটি সনদ ও ব্যবসার তথ্যাদি কেন্দ্রীয় ডাটাবেইজে সংরক্ষণ।

০৮. মোবাইল সেটসহ অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস থেকে নিবন্ধন করার ব্যবস্থা রাখা।

বাস্তবায়ন পদ্ধতি

এ টু আই এর মাধ্যমে ‘আমার সরকার’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। ইতিমধ্যে এ টু আই এর সাথে আলোচনাক্রমে ‘আমার সরকার’ পোর্টালে একটি নিবন্ধন উইন্ডো তৈরির কাজ শেষ হয়েছে।

এর মাধ্যমে ডিসেম্বরের মধ্যে ইউভিআইডির নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ইউভিআইডির সার্বিক নিবন্ধন হবে।

মন্ত্রিপরিষদে জমা দেয়া ইউভিআইডির রূপরেখা সম্পর্কিত প্রতিবেদন তথ্যমতে, এ টু আই ইতোমধ্যে পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইটের একটি ‘ডেমো ভার্সন’ তৈরি করেছে। এটির চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে ওই ‘ডেমো-ভার্সন’ কেই পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইটে রূপান্তর করা হবে।

বাস্তবায়নের ধাপসমূহ

প্রতিবেদন তথ্যমতে, সমগ্র নিবন্ধন প্রক্রিয়াটিকে কয়েকধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

এতে প্রথম ধাপে শুধু ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানসমূহকে নিবন্ধনের আওতায় আনার কথা বলা হয়। এ প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতার আলোকে প্রয়োজনে গৃহীত প্রক্রিয়ার সংশোধন বা সংযোজন হতে পারে। তবে সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে এই প্রথম ধাপটির বাস্তবায়ন সমাপ্ত করা সম্ভব।

নিবন্ধনের দ্বিতীয় ধাপে ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিটির আওতায় নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে আরজেএসসিতে নিবন্ধিত সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে। এটির জন্য সর্বোচ্চ ৬ মাসের বেধে দেয়ার সুপারিশ রয়েছে।

তৃতীয় ধাপে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে সকল ট্রেড লাইসেন্সকে ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিটির আওতায় নেয়ার পরামর্শ রয়েছে। এক বছরের মধ্যে এ প্রক্রিয়াটি শেষ করতে বলা হয়েছে।

চতুর্থ ধাপে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন বিজনেস ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর, ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর, বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বরের সঙ্গে সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

এনবিআর থেকে ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিটি সনদ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর গ্রহণ বাধতামূলক করার অনুরোধ এসেছে। একই সঙ্গে ভ্যাট আইনের অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে বিজনেস আইডিন্টিটি সনদ গ্রহণও বাধ্যতামূলক করার বিধান আছে।

কেন এই ইউভিআইডির উদ্যোগ

সাধারণত নতুন যে কোনো অনিবন্ধিত ব্যবসার ক্ষেত্রে তার কোন আইডেন্টি থাকে না। বিশেষ করে যারা নতুন উদ্যোক্তা (নতুন বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারি) অনলাইন এবং ই-কমার্স ব্যবসায়ী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি কোম্পানি, এসএমই, কারিগর বা গ্রামীণ এলাকায় ছোট কারিগর।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এ ধরনের ক্ষুদ্র, মাঝারি উদ্যোক্তাদের অবদান থাকলেও অনেক সময় ব্যবসায় নিবন্ধন না থাকার কারণে বা বিজনেস প্রোফাইল না থাকার কারণে একদিকে যেমন তারা সরকার কর্তৃক প্রদেয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে দেশ সব ধরনের ব্যবসাকে একটি সিস্টেমের মধ্যে আনার সঠিক প্ল্যাটফর্মের অভাব এবং কোনো মনিটরিংয়ের আওতায় না থাকায় কখনও কখনও তাদের দ্বারা ভোক্তা সাধারণ প্রতারিত হওয়ারও সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ইউনিক বিজনেস আইডি (এইউভিআইডি) এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হবে, যা ট্রেড লাইসেন্স অর্জন এবং ব্যবসা নিবন্ধন করার প্রক্রিয়াকে সহজ করবে।’

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সব ধরনের ব্যবসাকে একটি অনন্য ব্যবসা শনাক্তকরণ প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হবে। অনিবন্ধিত ব্যবসাসমূহেকে শনাক্তকরণের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেয়া হবে। যার আওতায় সব ব্যবসার একটি বিজনেস রেডি প্রোফাইল থাকবে।

এতে যেমন স্বচ্ছ বাণিজ্যিক পরিষেবা নিশ্চিত হবে। একইভাবে সব ব্যবসাকে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটর করা সম্ভব হবে বলেও মনে করেন তিনি। বলেন, পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানকে সরকারের সাধারণ নীতি, কর, ভর্তুকি, আনুষ্ঠানিক ব্যবসা এবং অন্যান্য ব্যবসাকে আর্থিক সুবিধার আওতায় থাকবে।

শেয়ার করুন

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষকে। তারা বার বার আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে সরকারে থাকায় এ সুযোগ আমরা পেয়েছি। মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পেরেছি।'

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। এই উত্তরণে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজয়ের ৫০ বছর উপলক্ষ্যে বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হাতিরঝিলে লাল-সবুজের মহোৎসবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা অনেকদূর এগিয়ে গেছি। আজ আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। উন্নয়শীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নেয়ার অনেক সুযোগ আমরা পাবো। এটা আমরা উন্নয়নশীল দেশ না হলে পেতাম না। এজন্য অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জন্য আমরা সবসময় প্রস্তুত। ব্যবসায়ীদের বলব, আপনারাও প্রস্তুতি নিন। মনে রাখবেন এই দেশ এই মাটি আপনাকে সেই সুযোগ দিয়েছে। তাই সবাই মিলে দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তুলব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ বার বার আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে। আমরা তাদেরকে সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। জাতির সার্বিকভাবে যাতে উন্নতি হয় আমরা সে ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছি। ২০০৮ সালে নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছিলাম, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলাম। আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। প্রযুক্তির মাধ্যমে আমি এখন আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছি। ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠান করতে পারছি। এটা অবশ্যই একসময় মানুষের কল্পনার অতীত ছিল।

‘বাণিজ্য থেকে শুরু করে ক্রয়-বিক্রয়, বিভিন্ন কর্মসূচি- সবকিছুই মানুষ এখন ডিজিটালভাবে করতে পারছে। এমনকি কৃষক ফসলে কী সার দেবে সেই তথ্যটাও ডিজিটাল মাধ্যমে জেনে নিতে পারছে। আমরা তথ্য-প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে ব্যাপকভাবে গণমানুষের কর্মসংস্থান ও তাদের সেবার মান নিশ্চিত করছি। এভাবেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষকে। তারা বার বার আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে সরকারে থাকায় এ সুযোগ আমরা পেয়েছি। মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পেরেছি।

'আজকের বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ২০ শতাংশের দিকে নেমে এসেছে। মহামারী না দেখা দিলে হয়তো আমরা এই হার আরও কমাতে পারতাম। প্রবৃদ্ধির হার আরও উন্নত করতে পারতাম। করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী অনৈতিক মন্দা ও ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছু স্থগিত ছিল বলে আমাদের প্রবৃদ্ধি কিছুটা কম হয়েছে। এশিয়ার মধ্যে আমরাই সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ৫৫৪ ডলার করতে সক্ষম হয়েছি। অর্থাৎ তৃণমূল পর্যায় থেকে মানুষ যাতে তাদের জীবন-মান উন্নত করতে পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি ও তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আজ আমরা যখন স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করছি তখন বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। আজ জাতির পিতা বেঁচে নেই। কিন্তু নিশ্চয়ই তিনি জান্নাতে বসে উন্নয়নশীল বাংলাদেশকে দেখছেন। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করা। বাংলাদেশ হবে জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ।’

শেয়ার করুন

বিজমায়েস্ট্রোজ চ্যাম্পিয়ন ‘দ্য ডিপেন্ডেবলস’

বিজমায়েস্ট্রোজ চ্যাম্পিয়ন ‘দ্য ডিপেন্ডেবলস’

প্রতিযোগিতার শীর্ষ তিন দলকেই ইউনিলিভার লিডারশিপ ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের (ইউএলআইপি) আওতায় ‘ইন্টার্ন’ হবার সুযোগ দেওয়া হবে।

ইউনিলিভার বাংলাদেশের (ইউবিএল) ব্যবসা বিষয়ক শীর্ষ প্রতিযোগিতা ‘বিজমায়েস্ট্রোজ-২০২১’ এর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) দল ‘দ্য ডিপেন্ডেবলস’। এবারই প্রথম এনএসইউ’র কোনো দল বিজমায়েস্ট্রোজ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করল।

প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার আপ হয়েছে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির টিম ‘কোড রেড’। এ দলের সব সদস্যরাই নারী, যারা সম্পূর্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছে। দ্বিতীয় রানার আপ নির্বাচিত হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর টিম ‘লেফ্টওভার পিৎজা’।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব শেষে তাদের নাম ঘোষণা করা হয়।

প্রতিযোগিতার শীর্ষ তিন দলকেই ইউনিলিভার লিডারশিপ ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের (ইউএলআইপি) আওতায় ‘ইন্টার্ন’ হবার সুযোগ দেওয়া হবে। এছাড়া প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় রাউন্ডে উত্তীর্ণ হবার পর থেকে যারা সফলতা দেখিয়েছে, তারাও ইউনিলিভার বাংলাদেশের ‘ট্যালেন্ট পাইপলাইন’ এ অন্তর্ভুক্ত থেকে ভবিষ্যত নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।

বিজয়ী দলের সদস্যরা হলেন- তাহের সাব্বির মাহুওয়ালা, আবরার মাহির আহমেদ ও আফনান সাইদ। তারা যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউনিলিভারের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম ‘ফিউচার লিডারস লিগ (এফএলএল)- ২০২১’ এ বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন।

এ বছর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১১৩টি দল বিজমায়েস্ট্রোজ প্রতিযোগিতার প্রথম রাউন্ডে অংশ গ্রহণ করে। কঠোর মূল্যায়নের মাধ্যমে সেখান থেকে ৩০টি দল সেমি-ফাইনালে এবং ৬টি দল ফাইনাল রাউন্ডে জায়গা করে নেয়।

অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরী, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাভেদ আখতার এবং ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এস এম মিনহাজ।

ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রধান জাভেদ আখতার বলেন, ‘বিজমায়েস্ট্রোজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা আগামী দিনের ব্যবসায়িক নেতৃত্ব তৈরির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ উদ্যোগটি ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ১০ লাখ দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত।

তরুণদের মধ্যে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গুণ ও বিশ্লেষণাত্মক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ১৭ অক্টোবর যাত্রা শুরু করে ইউনিলিভার বাংলাদেশের ব্যবসা বিষয়ক শীর্ষ প্রতিযোগিতা ‘বিজমায়েস্ট্রোজ ২০২১’। তিন জনের দলে ভাগ হয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শেষ বর্ষের প্রায় ৩৪০ জন শিক্ষার্থী এবারের আসরে প্রথম রাউন্ডে অংশ গ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

বিসিকে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্স

বিসিকে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্স

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিক পরিচালক (দক্ষতা ও প্রযুক্তি) কাজী মাহবুবুর রশিদ। বক্তব্য রাখেন বিসিকের সচিব মফিদুল ইসলাম ও প্রশিক্ষণ শাখার ব্যবস্থাপক লায়লা জেসমিন।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) প্রশিক্ষণ শাখা আয়োজিত অডিট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সফটওয়্যার বিষয়ক দিনব্যাপী ইন-হাউজ প্রশিক্ষণ কোর্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিসিক ভবনে করপোরেশনের পরিচালক (অর্থ) স্বপন কুমার ঘোষ প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিক পরিচালক (দক্ষতা ও প্রযুক্তি) কাজী মাহবুবুর রশিদ। বক্তব্য রাখেন বিসিকের সচিব মফিদুল ইসলাম ও প্রশিক্ষণ শাখার ব্যবস্থাপক লায়লা জেসমিন।

বিসিক প্রধান কার্যালয়ের হিসাব ও অর্থ বিভাগ, অডিট বিভাগ, প্রশাসন বিভাগ, চারটি আঞ্চলিক কার্যালয়, বিসিক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও শাখার ৩০জন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন

খাদ্যে অতিরিক্ত চর্বি ঠেকাতে প্রবিধানের প্রশংসা বিশেষজ্ঞদের

খাদ্যে অতিরিক্ত চর্বি ঠেকাতে প্রবিধানের প্রশংসা বিশেষজ্ঞদের

ডব্লিউএইচও ঘোষিত সর্বোত্তম নীতি হচ্ছে কোনো খাদ্যে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ ট্রান্স ফ্যাটি এসিড থাকতে পারে। এর বেশি মাত্রা থাকলে পণ্যটি বাজেয়াপ্ত করতে হবে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এই নীতি বাস্তবায়নেই প্রবিধানমালাটি জারি করেছে।

যেকোনো খাদ্যদ্রব্যে অতিরিক্ত চর্বি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে জারি করা প্রবিধানকে স্বাগত জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন।

এসব সংগঠন বলছে, খাদ্যদ্রব্যে মাত্রাতিরিক্ত চর্বি বা ট্রান্স ফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ করা গেলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা যাবে। এর ফলে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা সহজ হবে।

নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ অনুযায়ী জারি করা ‘খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা, ২০২১’ এর গেজেট প্রকাশ হয় চলতি সপ্তাহের শুরুতে।

এই প্রবিধান অনুযায়ী, সর্বোস্তরের খাদ্যদ্রব্য উৎপাদক বা ব্যবসায়ীদের আইন মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, মোড়কাবদ্ধ খাদ্য, মোড়কবিহীন খাদ্য, সরাসরি খাওয়ার উপযোগী খাদ্য, যেকোনো তেল ও চর্বি, খাদ্য তৈরির ব্যবহৃত কাঁচামাল অথবা মানুষের খাওয়ার যোগ্য ও অনুমিত যেকোনো খাদ্য বা খাদ্য অংশের জন্য এই প্রবিধানমালা কার্যকর হবে।’

ট্রান্স ফ্যাটি এসিডের মাত্রা খাদ্যের লেভেল বা মোড়কে উল্লেখ বাধ্যতামূলকও করা হয়েছে প্রবিধানে। এছাড়া হাইড্রোজেনেটেড তেল বা পিএইচও কোন মাত্রায় রয়েছে তাও উল্লেখ করতে হবে।

এই প্রবিধিান বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। সংস্থার দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, খাদ্যে ক্ষতিকর ট্রান্স ফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ঘোষিত সর্বোত্তম নীতি হচ্ছে- কোনো খাদ্যে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ ট্রান্স ফ্যাটি এসিড (প্রতি ১১০ গ্রাম ফ্যাটে ২ গ্রাম ট্রান্স ফ্যাটি এসিড) থাকতে পারে। এর বেশি মাত্রা থাকলে পণ্যটি বাজেয়াপ্ত করতে হবে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এই নীতি বাস্তবায়নেই প্রবিধানমালাটি জারি করেছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, পূর্ব ঘোষিত সময় ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে লক্ষ্য বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন বছর থেকেই খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, বাজারজাতকারী সব শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়া হবে। নির্দিষ্ট সময়ের পর সবার জন্য প্রবিধানটি বাধ্যতামূলক হবে। কেউ আইন ও প্রবিধান লঙ্ঘন করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা স্বার্থ নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান), ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অফ বাংলাদেশ এবং কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব)।

এসব সংগঠনের দাবি, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ট্রান্স ফ্যাট ঘটিত হৃদরোগে মারা যান। ‘খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা, ২০২১’ অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বর্তমানে তরুণ ও মাঝবয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার এর অন্যতম কারণ। প্রবিধানটি বাস্তবায়িত হলে দেশে হৃদরোগ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) দক্ষিণ এশিয়া প্রোগ্রামের রিজিওনাল ডিরেক্টর বন্দনা শাহ্ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই নীতি হৃদরোগ ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশকে একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে উদ্বুদ্ধ করবে।’

বিষয়টিকে ভোক্তাস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘মাইলফলক’ হিসেবে দেখছেন ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান। প্রবিধানমালা সঠিকভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, জিএইচএআই এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রুহুল কুদ্দুস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ট্রান্স ফ্যাটমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত হলে চিকিৎসা ব্যয় কমবে, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের খাদ্যপণ্যের চাহিদা বাড়বে।’

২০১৯ সালে পরিচালিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকার শীর্ষস্থানীয় পিএইচও (পারশিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েল) ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্যের ৯২ শতাংশে ২ শতাংশের চেয়ে বেশি ট্রান্স ফ্যাট রয়েছে। ২০২০ সালে ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রান্স ফ্যাটঘটিত হৃদরোগে মৃত্যুর সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ।

প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে হৃদরোগে মৃত্যুর ৪.৪১ শতাংশের জন্য দায়ী ট্রান্স ফ্যাট। প্রবিধানমালাটি ২০৩০ সালের মধ্যে অসংক্রামক রোগজনিত অকাল মৃত্যু এক-তৃতীয়াংশে কমিয়ে আনার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৩.৪ অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

শেয়ার করুন

‘ব্যাংক অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার পেল ইবিএল

‘ব্যাংক অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার পেল ইবিএল

বুধবার ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে এক অনুষ্ঠানে ব্যাংকার সম্পাদক কিমবার্লে লং এই পুরস্কার ঘোষণা করেন।

লন্ডনভিত্তিক প্রভাবশালী পত্রিকা দি ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের ব্যাংক ও অর্থনীতি বিষয়ক ম্যাগাজিন ‘দ্য ব্যাংকার’ এর ‘ব্যাংক অব দ্য ইয়ার ২০২১’ পুরস্কারে পেয়েছে বেসরকারি খাতের ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল)। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাংক হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো এই পুরস্কার পেয়েছে ব্যাংকটি।

বুধবার ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দি ব্যাংকার সম্পাদক কিমবার্লে লং এই পুরস্কার ঘোষণা করেন বলে ইবিএলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

করোনা মহামারি বিবেচনায় বিচারকমন্ডলি এ বছর বিজয়ী ব্যাংকগুলোর দৃঢ়তা, গ্রাহকসেবা, এবং কিভাবে তারা ডিজিটাল রূপান্তর এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি নিয়ে কাজ করেছে তার ওপর বিশেষ গুরুত্বরোপ করেন। বিচারকদের মতে, বিজয়ী ব্যাংকগুলোর এ বছর ‘সত্যিকার অর্থেই স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করেছে যা তাদের প্রতিষ্ঠানিক শক্তির পরিচয় বহন করে।’

ইবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী আলী রেজা ইফতেখার বলেন, ‘এটি আমাদের ডিজিটাল রূপান্তর এবং সাসটেইনেবিলিটির বৈশ্বিক স্বীকৃতি। ২০২০ সালে করোনা অতিমারির পুরো সময়জুড়ে ইবিএল অসাধারণ দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে; তারল্য, মুনাফা এবং স্বচ্ছলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা ২০২১ সালেও চলমান ছিল।’

শেয়ার করুন

সনি-স্মার্টের নতুন মহাব্যবস্থাপক সারোয়ার জাহান

সনি-স্মার্টের নতুন মহাব্যবস্থাপক সারোয়ার জাহান

মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে সারোয়ার জাহানকে স্বাগত জানান সনি-স্মার্ট টেকনোলোজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

দেশের আইসিটি খাতের প্রতিষ্ঠান সনি-স্মার্ট টেকনোলোজির মহাব্যবস্থাপক হিসেবে যোগ দিয়েছেন সারোয়ার জাহান চৌধুরী। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ইলেকট্রনিক্স পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পরিষেবার বাজার সম্প্রসারণে কাজ করবেন।

বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে সারোয়ার জাহানকে স্বাগত জানান সনি-স্মার্ট টেকনোলোজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জাফর আহমেদ, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মহিবুল হাসান, মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ বিভাগ) একেএম শফিক উল হক এবং সহমহাব্যবস্থাপক (ইনটেল এং জেব্রা) আশরাফ হোসেন।

স্মার্ট টেকনোলজিতে যোগ দেওয়ার আগে সারোয়ার জাহান ইলেকট্রনিক্স পণ্য বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ইলেক্ট্রো মার্ট লিমিটেডে সিনিয়র ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

এর আগে তিনি বাংলাদেশে সনি’র হয়ে টানা ২০ বছর নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তার কর্মজীবনের শুরু এসিআই কনজ্যুমার ব্র্যান্ডসের মাধ্যমে।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন।

শেয়ার করুন