অ-ব্যাংকিং সম্পদের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

অ-ব্যাংকিং সম্পদের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

সার্কুলারের সঙ্গে অ-ব্যাংকিং সম্পদের তথ্য পাঠানোর জন্য একটি ছক দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত ছকে সম্পদের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফ সাইট সুপারিভশন বিভাগে পাঠাতে হবে।

এখন থেকে জুন ও ডিসেম্বর মাস শেষ হওয়ায় পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সাধারণ ব্যাংকগুলোকে অ-ব্যাংকিং সম্পদের ষান্মাসিক তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে।

রোববার সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, ‘ঋণের বিপরীতে বন্ধকী সম্পদের মালিকানা ব্যাংকের অনুকূলে পাওয়ার পর দ্রুত তা ব্যাংকের নামে রেজিস্ট্রেশন ও মিউটেশন করে দখলী স্বত্ব নিশ্চিত করতে হবে।’

‘প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে ঋণ সমন্বয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। কোনোভাবেই এ ধরনের সম্পদ বেশি দিন নিজ অধিকারে রাখা যাবে না। সম্পদ অর্জনের পর যত দ্রুত সম্ভব বিক্রি করে ঋণ সমন্বয় করতে হবে। তবে প্রয়োজন হলে ওই সম্পদ সম্পূর্ণ বা আংশিক নিজস্ব কাজে ব্যবহার করা যাবে।’

সার্কুলারের সঙ্গে অ-ব্যাংকিং সম্পদের তথ্য পাঠানোর জন্য একটি ছক দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত ছকে সম্পদের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফ সাইট সুপারিভশন বিভাগে পাঠাতে হবে।

এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে ‌অ-ব্যাংকিং সম্পদ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।

ওই নির্দেশনায় বলা হয়, ব্যাংকের খেলাপি ঋণের বিপরীতে জামানত বা বন্ধকী সম্পদে মালিকানা পেলে তা দ্রুত বিক্রির ব্যবস্থা নিতে হবে। বন্ধকী সম্পদমূল্য মোট পাওনার চেয়ে বেশি হলে গ্রাহককে খেলাপিমুক্ত করে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) রিপোর্ট করতে হবে। আর যদি সম্পদমূল্য পাওনা ঋণের চেয়ে কম হয় তাহলে অনাদায়ী অর্থ আদায়ের জন্য আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

আরও পড়ুন:
‘একচেটিয়া আধিপত্যেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ে খরচ বেশি’
করোনায় বাড়ছে এজেন্ট ব্যাংকিং
মোবাইল ব্যাংকিং ও ই-ওয়ালেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নীতিমালা
নির্দেশনা মানেনি বিকাশ, টাকা পাঠাতে এখনও চার্জ
মোবাইল ব্যাংকিং: লকডাউনে বাড়ল সেন্ডমানির সীমা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চার মাসে ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার এলসি

চার মাসে ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার এলসি

আমদানি ও রপ্তানি কাজে ব্যস্ত চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: নিউজবাংলা

ইউরোপ-আমেরিকা করোনার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে শুরু করায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-শিল্পোদ্যোক্তারা নতুন উদ্যমে উৎপাদন কর্মকাণ্ডে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। সে কারণে শিল্পের কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য, মূলধনি যন্ত্রপাতিসহ (ক্যাপিটাল মেশিনারি) সব ধরনের পণ্য আমদানিই বেড়ে গিয়েছে, বেড়েছে এলসি খোলার পরিমাণ।

পণ্য আমদানির ঋণপত্র বা এলসি খোলার পরিমাণ বাড়ছেই। প্রতি মাসে রেকর্ড হচ্ছে। সর্বশেষ অক্টোবর মাসে প্রায় সাড়ে ৭ বিলিয়ন (৭৪২ কোটি ১৬ লাখ) ডলারের এলসি খুলেছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা।

বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা) টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ৬৩ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই এক মাসে পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুলতে এত বিপুল অঙ্কের বিদেশি মুদ্রা খরচ দেখা যায়নি।

সব মিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ২৭ দশমিক ৩২ বিলিয়ন (২ হাজার ৭৩২ কোটি) ডলারের এলসি খুলেছেন ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ ২ লাখ ৩৪ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ে ১৭ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই চার মাসে দেশে এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে ৫২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এই চার মাসে প্রতি মাসে গড়ে ৬ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছে দেশে।

আর এলসি খোলার এই হিড়িকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভেও টান পড়েছে, নেমে এসেছে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসতে শুরু করায় সেসব দেশের মানুষ আগের মতো পণ্য কেনা শুরু করেছিল। দেশের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে এসেছিল। সব মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সব ধরনের পণ্যের চাহিদা ব্যাপক বেড়ে গিয়েছিল।

সে চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখেই বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-শিল্পোদ্যোক্তারা নতুন উদ্যমে উৎপাদন কর্মকাণ্ডে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। সে কারণেই শিল্পের কাঁচামাল, মধ্যবর্তী পণ্য, মূলধনি যন্ত্রপাতিসহ (ক্যাপিটাল মেশিনারি) সব ধরনের পণ্য আমদানিই বেড়ে গিয়েছিল, বেড়েছিল এলসি খোলার পরিমাণ।

এ ছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্যসহ অন্য সব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় এলসি খুলতে বেশি অর্থ খরচ হয়েছে বলে জানান তারা।

তবে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের ধাক্কায় ফের বেসামাল বিশ্ব অর্থনীতি; আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাংলাদেশেও। জ্বালানি তেলের দাম বেশ কমে গেছে। এ অবস্থায় আগামী দিনগুলোতে বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুলবেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেও গত ২০২০-২১ অর্থবছরে পণ্য আমদানির জন্য ৬ হাজার ৭০৪ কোটি (৬৭.০৪ বিলিয়ন) ডলারের ঋণপত্র (এলসি) খুলেছিলেন ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা। ওই অঙ্ক ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার এলসি খোলার সর্বশেষ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে জুলাই-অক্টোবর সময়ে এলসি খুলতে সবচেয়ে বেশি বিদেশি মুদ্রা খরচ হয়েছে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে; সেটা ৯৭০ কোটি ২৭ লাখ (৯.৭০ বিলিয়ন) ডলার, গত বছরের একই সময়ের চেয়ে যা ৪৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি।

মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ১৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের এলসি খোলা হয়েছে, বেড়েছে ২১ দশমিক ২১ শতাংশ। শিল্পের মধ্যবর্তী পণ্যের জন্য এলসি খোলা হয়েছে ২৩৮ কোটি ২০ লাখ ডলার; প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬০ দশমিক ২৮ শতাংশ। অন্যান্য শিল্প যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি খোলা হয়েছে ৭৬৭ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের; বেড়েছে ৫০ দশমিক ১০ শতাংশ। এ ছাড়া জ্বালানি তেল আমদানির জন্য ২৩৫ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ; ৯০ দশমিক ৪০ শতাংশ। খাদ্যপণ্য (চাল ও গম) আমদানির এলসি খোলা হয়েছে ২৮৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার। বেড়েছে ৬০ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

চার মাসের পণ্য আমদানির এলসি খোলার এই তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেশ ভালোই চলছিল; করোনার ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশের অর্থনীতি। আমদানি-রপ্তানি বাড়ছিল। রাজস্ব আদায়ে গতি এসেছিল। রেমিট্যান্স ছাড়া অর্থনীতির প্রায় সূচকই ইতিবাচক ধারায় চলে এসেছিল। পণ্য আমদানি যেটা বাড়ছিল, তার প্রভাব বিনিয়োগে পড়তে শুরু করেছিল। অর্থনীতি প্রাণ ফিরে পেতে শুরু করেছিল।

‘কিন্তু এখন অবস্থা বেশ খারাপ মনে হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে আরেকটি বড় ধাক্কা আসছে মনে হচ্ছে। আর সেটা নিয়ে আসছে ওমিক্রন। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়বে। ওমিক্রনের ধাক্কা কতটা মারাত্মক হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।’

বিশ্ব পরিস্থিতি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে আমদানি-রপ্তানিসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দেশের ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দেন আহসান মনসুর।

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘আমরা খুবই চিন্তিত। প্রতিটি মুহূর্ত উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে কাটছে আমাদের।’

তিনি বলেন, ‘মাত্রই আমরা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করছিলাম। রপ্তানি বেশ ভালোই বাড়ছিল; প্রচুর অর্ডার আসছিল। কিন্তু ওমিক্রনের ধাক্কা আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে, কে জানে!’
২০১৯-২০ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য মোট ৫৬ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছিল, যা ছিল আগের (২০১৮-১৯) অর্থবছরের চেয়ে ১০ দশমিক ২১ শতাংশ কম।

রিজার্ভে টান
আমদানি বাড়ায় বাংলাদেশের বিদেশি রিজার্ভও কমছে, নেমে এসেছে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে। রোববার দিন শেষে রিজার্ভ ছিল ৪৪ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার। প্রতি মাসে ৭ বিলিয়ন ডলার হিসেবে বর্তমানের এই রিজার্ভ দিয়ে ছয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুত থাকতে হয়।

গত ৪ নভেম্বর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৪ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে, যা ছিল গত সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। এরপর আর তা ৪৫ বিলিয়ন ডলারের নিচেই অবস্থান করছে।

বেশ কয়েক বছর ধরে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে। একের পর এক রেকর্ড হয়। করোনাকালে আমদানিতে ধীরগতি আর রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে গত ২৪ আগস্ট বাংলাদেশের অর্থনীতির এই সূচক ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে, যা ছিল অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

আরও পড়ুন:
‘একচেটিয়া আধিপত্যেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ে খরচ বেশি’
করোনায় বাড়ছে এজেন্ট ব্যাংকিং
মোবাইল ব্যাংকিং ও ই-ওয়ালেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নীতিমালা
নির্দেশনা মানেনি বিকাশ, টাকা পাঠাতে এখনও চার্জ
মোবাইল ব্যাংকিং: লকডাউনে বাড়ল সেন্ডমানির সীমা

শেয়ার করুন

বিএফআইইউর প্রধান হলেন মাসুদ বিশ্বাস

বিএফআইইউর প্রধান হলেন মাসুদ বিশ্বাস

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ মঙ্গলবার তাকে এই পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। মঙ্গলবারই তিনি নির্বাহী পরিচালক পদ থেকে অবসর নিয়ে বিএফআইইউর প্রধান হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

আর্থিক খাতের গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মাসুদ বিশ্বাস। তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বিএফআইইউ উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগমঙ্গলবার তাকে এই পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। মঙ্গলবারই তিনি নির্বাহী পরিচালক পদ থেকে আগাম অবসর নিয়ে বিএফআইইউর প্রধান হিসেবে যোগ দিয়েছেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মাসুদ বিশ্বাসের মেয়াদ হবে দুই বছর। তার পদমর্যাদা হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের সমমান।

বিএফআইইউর কার্যালয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হলেও এটি একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান। যদিও শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা এটি পরিচালনা করে আসছেন। অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে সমন্বয়কের ভূমিকা রাখে বিএফআইইউ। বিএফআইইউ বিভিন্ন সময়ে ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট বা গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করে বিভিন্ন সংস্থার কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাঠায়। আবার বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেও কাজ করে।

বিএফআইইউর সদ্য বিদায়ী প্রধান ছিলেন আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান। তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হওয়ার পর বিএফআইইউর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান।

গত ১০ সেপ্টেম্বর আবু হেনার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব পান করছিলেন মাসুদ বিশ্বাস। ১৯৮৮ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে ২০১৭ সালের আগস্টে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পান।

দীর্ঘ ৩৩ বছরের কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম ও বগুড়া অফিস ছাড়াও প্রধান কার্যালয়ের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগ, ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিস, ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিকেশন, বৈদেশিক মুদ্রা পরিদর্শন, এফএসএসএসপি প্রকল্প, গভর্নর সচিবালয় ও পরিচালনা পর্ষদের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন:
‘একচেটিয়া আধিপত্যেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ে খরচ বেশি’
করোনায় বাড়ছে এজেন্ট ব্যাংকিং
মোবাইল ব্যাংকিং ও ই-ওয়ালেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নীতিমালা
নির্দেশনা মানেনি বিকাশ, টাকা পাঠাতে এখনও চার্জ
মোবাইল ব্যাংকিং: লকডাউনে বাড়ল সেন্ডমানির সীমা

শেয়ার করুন

ওমিক্রন আরও কমাল জ্বালানি তেলের দাম

ওমিক্রন আরও কমাল জ্বালানি তেলের দাম

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও কমে যেতে পারে। ছবি: এএফপি

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্ত হওয়ার পরই হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের বড় দরপতন হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রভাবে তেলের দাম আরও কমে যেতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ওমিক্রনের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে সংকট দেখা দিতে পারে। কমে যেতে পারে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার। তার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদাও কমে যেতে পারে। আর এ কারণেই তেলের দাম কমছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও কমেছে। করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর গত ২৭ নভেম্বর তেলের দরে বড় দরপতন হয়। ওই দিন এক দিনের ব্যবধানে দাম ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলার ২২ সেন্ট কমে ৬৮ ডলারে নেমে এসেছিল। শতাংশের হিসাবে দরপতন হয়েছে ১৩-এর বেশি।

গত দুই দিনে তা কিছুটা বেড়ে ফের ৭০ ডলারের ওপরে উঠে গিয়েছিল। মঙ্গলবার প্রতি ব্যারেলে ২ ডলার ০৭ সেন্ট বা ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ কমে ৬৭ ডলার ৮৮ সেন্টে নেমে এসেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের এই দর ২০২০ সালের এপ্রিলের পর সবচেয়ে কম। কোভিড-১৯ নতুন ধরনের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমে যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ঢাকার সময় রাত সাড়ে ৭টায় প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেল ৬৭ ডলার ০৭ সেন্টে বিক্রি হয়েছে। এই দর আগের দিনের চেয়ে ২ ডলার ০৭ সেন্ট বা ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ কম।

ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ ডলার ৩৭ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ৭১ ডলার ০৭ সেন্টে বিক্রি হয়েছে।

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্ত হওয়ার পরই হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের এই বড় দরপতন হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, কোভিড-১৯-এর এই নতুন ধরনের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমে যেতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে সংকট দেখা দিতে পারে। কমে যেতে পারে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার। তার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদাও কমে যেতে পারে। আর এই কারণেই তেলের দাম কমছে।

গত ২৩ নভেম্বর জ্বালানি তেলের দাম কমাতে নিজ দেশের পেট্রোলিয়াম ভাণ্ডার থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এর পরই বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় দরপতন হয়।

২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। করোনা মহামারির মধ্যেও টানা বেড়েছে তেলের দাম। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় তা আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়।

গত ২৭ অক্টোবর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে ৮৫ দশমিক ০৭ ডলারে ওঠে। এর পর থেকেই তা কমতে থাকে। ৮ নভেম্বর এর দর ছিল ৮২ দশমিক ৫ ডলার। এক মাস আগে ১৬ অক্টোবর দাম ছিল ৮০ ডলার। আর এক বছর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ৪২ ডলার।

আন্তর্জাতিক বাজারে এ বছরের জানুয়ারি মাসে জ্বালানি তেলের দাম ছিল গড়ে প্রতি ব্যারেল ৪৯ ডলার। এর পর থেকে গড়ে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ফেব্রুয়ারিতে ৫৩ ডলার, মার্চে ৬০, এপ্রিলে ৬৫, মে মাসে ৬৪, জুনে ৬৬, জুলাইয়ে ৭৩ এবং আগস্টে ৭৪ ডলার। অক্টোবরে এই দাম ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছিল, শিগগিরই তা ১০০ ডলার হয়ে যেতে পারে।

তবে চলতি নভেম্বর থেকে দাম নিম্নমুখী হয়। তার পরও দামটা নিয়ন্ত্রণে আসছিল না। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে আনতে নিজ দেশের পেট্রোলিয়াম ভাণ্ডার থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

গত ২৩ নভেম্বর টুইট বার্তায় বাইডেন ঘোষণা দেন, ‘আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য তেল ও গ্যাসের দাম কমাতে পদক্ষেপের কথা আজ ঘোষণা করছি। আমেরিকাবাসীর জন্য স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ব আমরা, যাতে তেল ও গ্যাসের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসে।’

দেশে তেল ও গ্যাসের মতো জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি রুখতে এই পদক্ষেপ নেন জো বাইডেন। এর জেরে সে দেশে জ্বালানির দাম কমবে বলে মনে করা হচ্ছিল। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছিলেন অনেকে।

তবে বাইডেনের এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম খুব একটা কমেনি।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর অজুহাতে গত ৪ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ সরকারও ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে এক লাফে ১৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ৮০ টাকা নির্ধারণ করে।

আরও পড়ুন:
‘একচেটিয়া আধিপত্যেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ে খরচ বেশি’
করোনায় বাড়ছে এজেন্ট ব্যাংকিং
মোবাইল ব্যাংকিং ও ই-ওয়ালেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নীতিমালা
নির্দেশনা মানেনি বিকাশ, টাকা পাঠাতে এখনও চার্জ
মোবাইল ব্যাংকিং: লকডাউনে বাড়ল সেন্ডমানির সীমা

শেয়ার করুন

আয়কর রিটার্ন জমার সময় বাড়ল এক মাস

আয়কর রিটার্ন জমার সময় বাড়ল এক মাস

এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে এনবিআর বলেছে, ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট অসুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার ২০২১-২২ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ৩০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো।’

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের বার্ষিক আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআরের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক সৈয়দ এ মুমেন নিউজবাংলাকে বলেন, সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে আয়কর রিটার্ন জমার সময় এক মাস বাড়ানো হয়েছে। এখন ডিসেম্বরজুড়ে করদাতারা তাদের রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

মঙ্গলবার রাতে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে এনবিআর বলেছে, ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট অসুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার ২০২১-২২ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ৩০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো।’

এর আগে চট্টগ্রাম চেম্বারসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজন বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সময় বাড়ানোর দাবি জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়ানো হয়েছে বলে জানান এনবিআরের কর্মকর্তারা।

রিটার্ন জমার সময় বারবার বাড়ানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে ২০১৬ সালে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে ৩০ নভেম্বর আয়কর দিবসে রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন নির্দিষ্ট করা হয়। এ নিয়ে সে বছরই সংসদে আইন পাস হয়।

এনবিআর বলেছে, দেশে কোনো মহামারি কিংবা দুর্যোগ পরিস্থিতি হলে বিশেষ ব্যবস্থায় যে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা রয়েছে সরকারের। এর অংশ হিসেবে করোনা সংক্রমণের মধ্যে আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ১৮৪ জি ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আয়কর রিটার্ন জমার সময় বাড়ানো হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানা দিতে হয়। তবে জরিমানা এড়াতে সময় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে আবেদন করলে তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় দেয়া হয়।

গত করবর্ষে মোট ২৪ লাখ ৩১ হাজার রিটার্ন জমা পড়ে। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে ২৯ লাখ রিটার্ন জমা পড়েছে। বর্তমানে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ৭০ লাখের বেশি।

জমা পড়া রিটার্নের বড় অংশ চাকরিজীবী ও পেশাজীবী। গত বছর করোনায় ব্যবসা-বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব পড়ায় রিটার্নের সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। করোনা নিয়ন্ত্রণে আসায় দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ফলে এবার ব্যবসায়ীদের পক্ষে উল্লেখযোগ্য রিটার্ন দাখিল হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

আরও পড়ুন:
‘একচেটিয়া আধিপত্যেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ে খরচ বেশি’
করোনায় বাড়ছে এজেন্ট ব্যাংকিং
মোবাইল ব্যাংকিং ও ই-ওয়ালেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নীতিমালা
নির্দেশনা মানেনি বিকাশ, টাকা পাঠাতে এখনও চার্জ
মোবাইল ব্যাংকিং: লকডাউনে বাড়ল সেন্ডমানির সীমা

শেয়ার করুন

এশিয়ার অন্যতম দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী বাংলাদেশ

এশিয়ার অন্যতম দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী বাংলাদেশ

প্রতীকী ছবি

শিল্পমন্ত্রী বলেন, “বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন, টেকসই শিল্পায়ন, হাইটেক পার্ক স্থাপন, রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন সাধন করছে বাংলাদেশ। আমরা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি, যা জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুতগতি লাভ করেছে।”

স্বাধীনতার ৫০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের অন্যতম দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থার (ইউনিডো) ১৯তম সাধারণ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘গত এক দশক ধরে প্রতি বছর প্রায় ৭ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে (বাংলাদেশ)। এমনকি বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কঠিন সময়ও বাংলাদেশ ২০২০ সালে ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

‘২০২১-২০২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৪ শতাংশ হবে বলে বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের জিডিপির ৩০ শতাংশেরও অধিক আসছে শিল্প খাত থেকে।’

ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি শিল্পমন্ত্রী এ সম্মেলনে যোগ দেন। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আয়োজিত এ সম্মেলনে অস্ট্রিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনিডোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মুহাম্মদ আবদুল মুহিত উপস্থিত ছিলেন।

প্রায় ১৭০টি সদস্য দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা সরাসরি ও ভার্চুয়ালি অংশ নেন সম্মেলনে। ওই সময় ইউনিডোর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় তিউনিসিয়ার মোহামেদ মাজঘানিকে অভিনন্দন জানান শিল্পমন্ত্রী।

অন্তর্ভূক্তিমূলক ও টেকসই শিল্পায়নে ইউনিডোর কার্যক্রমের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, ‘কোভিড-১৯ জনিত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। করোনাভাইরাসের নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্টের কারণে বিশেষত স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উন্নয়নের গতিশীলতা কমে গেছে। এ বিষয়গুলো থেকে উত্তরণে ইউনিডোর সহযোগিতা বেশি করে প্রয়োজন।’

এশিয়ার অন্যতম দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী বাংলাদেশ

মন্ত্রী আরও বলেন, “বিভিন্ন মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন, টেকসই শিল্পায়ন, হাইটেক পার্ক স্থাপন, রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন সাধন করছে বাংলাদেশ। আমরা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি, যা জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুতগতি লাভ করেছে।

“জাতি হিসেবে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশনারি নেতৃত্বে আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হওয়ার সঠিক পথেই এগোচ্ছি।”

এই উন্নয়নে মন্ত্রী ডি-২০সহ ইউনিডোর সহযোগিতা কামনা করেন।

আরও পড়ুন:
‘একচেটিয়া আধিপত্যেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ে খরচ বেশি’
করোনায় বাড়ছে এজেন্ট ব্যাংকিং
মোবাইল ব্যাংকিং ও ই-ওয়ালেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নীতিমালা
নির্দেশনা মানেনি বিকাশ, টাকা পাঠাতে এখনও চার্জ
মোবাইল ব্যাংকিং: লকডাউনে বাড়ল সেন্ডমানির সীমা

শেয়ার করুন

পাকিস্তান থেকে ছাড়া পেল বাংলার অগ্রদূত

পাকিস্তান থেকে ছাড়া পেল বাংলার অগ্রদূত

পাকিস্তানে আটক বিএসসির জাহাজ বাংলার অগ্রদূত ছাড়া পেয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

বিএসসি জানায়, ২০২০ সালে বাংলার অর্জুনের সঙ্গে পাকিস্তানি শিপিং কোম্পানির ব্যবসায়ীক চুক্তি হয়, যার লেনদেন বাবদ প্রায় সাড়ে ২০ হাজার ডলার তাদের পাওনা দাবি করে আদালতে অভিযোগ করা হয়। ওই মামলায় বাংলার অর্জুনকে আটক করে পাওনা আদায়ের আবেদন করা হয়। বাংলার অর্জুনকে না পেয়ে তারা বাংলার অগ্রদূত জাহাজকে আটক করে।

পাকিস্তানে আটক বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ বাংলার অগ্রদূত ছাড়া পেয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএসসির নির্বাহী পরিচালক পীযুষ দত্ত।

তিনি জানান, পাকিস্তানের শিপিং প্রতিষ্ঠান বাল্ক শিপিং এজেন্সিসের সঙ্গে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ বাংলার অর্জুনের ব্যবসায়িক লেনদেনে জটিলতা ছিল। তাদের পাওনা আদায়ে পাকিস্তানের আদালতে ওই শিপিং প্রতিষ্ঠান মামলা করে। পাকিস্তানের কাসিম বন্দরে বাংলার অগ্রদূত নোঙরের তথ্য পেয়ে তারা জাহাজটি আটক করে। গত রোববার জাহাজটি আটক করা হয়।

তিনি আরও জানান, ২০২০ সালে বাংলার অর্জুনের সঙ্গে পাকিস্তানি শিপিং কোম্পানির ব্যবসায়ীক চুক্তি হয়, যার লেনদেন বাবদ প্রায় সাড়ে ২০ হাজার ডলার তাদের পাওনা দাবি করে আদালতে অভিযোগ করা হয়। ওই মামলায় বাংলার অর্জুনকে আটক করে পাওনা আদায়ের আবেদন করা হয়। পরে বাংলার অর্জুনকে না পেয়ে তারা বাংলার অগ্রদূত জাহাজকে আটক করে।

পীযুষ দত্ত বলেন, বাংলার অগ্রদূত জাহাজ আটকের খবর পেয়ে ওই দেশের শিপিং কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি মিটিয়ে নেয়া হয়েছে। সোমবার রাতে জাহাজটি ছাড়া পেয়েছে।

আশির দশকের প্রথমদিকে বিএসসির বহরে ২৮টি জাহাজ ছিল। পরে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সে সংখ্যা বাড়িয়ে বিএসসিতে মোট ৪৪টি জাহাজ যুক্ত করা হয়।

বয়সজনিত কারণে এবং বাণিজ্যিকভাবে অলাভজনক বিবেচিত হওয়ায় বিভিন্ন পর্যায়ে ৩৬টি জাহাজ বিক্রির পর বর্তমানে করপোরেশনে জাহাজের সংখ্যা আটটি।

এর মধ্যে তিনটি বাল্ক ক্যারিয়ার যুক্ত হয় ২০১৮ সালে। এ ছাড়া তিনটি প্রোডাক্ট ওয়েল ট্যাংকার যুক্ত হয় ২০১৯ সালে।

আরও পড়ুন:
‘একচেটিয়া আধিপত্যেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ে খরচ বেশি’
করোনায় বাড়ছে এজেন্ট ব্যাংকিং
মোবাইল ব্যাংকিং ও ই-ওয়ালেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নীতিমালা
নির্দেশনা মানেনি বিকাশ, টাকা পাঠাতে এখনও চার্জ
মোবাইল ব্যাংকিং: লকডাউনে বাড়ল সেন্ডমানির সীমা

শেয়ার করুন

মুরিং লাইন ছিড়ে এলএনজি সরবরাহ বিঘ্ন

মুরিং লাইন ছিড়ে এলএনজি সরবরাহ বিঘ্ন

মুরিং লাইন ছিড়ে যাওয়ায় এলএনজি সরবরাহ বিঘ্ন ঘটার কথা জানায় জ্বালানি মন্ত্রণালয়। ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালযয়ের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন জানান, এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রি-গ্যাসিফিকেশন ইউনিট)-দুইটির মধ্যে একটির একটি মুরিং লাইন ছিড়ে যাওয়ায় জাহাজ থেকে জাহাজে গ্যাস ট্রান্সফার কাজ করা সম্ভব হবে না।

মুরিং লাইন ছিড়ে যাওয়ায় এলএনজি সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় দুঃখ প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালযয়ের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন জানান, এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রি-গ্যাসিফিকেশন ইউনিট)-দুইটির মধ্যে একটির একটি মুরিং লাইন ছিড়ে যাওয়ায় জাহাজ থেকে জাহাজে গ্যাস ট্রান্সফার কাজ করা সম্ভব হবে না।

এজন্য এলএনজি সরবরাহ সাময়িকভাবে সমস্যায় পড়বে।

আগমী বছরের ১৫ জানুয়ারি মধ্যে ত্রুটিটি মেরামত বা পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হবে বলে আশা করেন তিনি।

এটা করা হলে আবার স্বাভাবিকভাবে এলএনজি সরবরাহ করা যাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন:
‘একচেটিয়া আধিপত্যেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ে খরচ বেশি’
করোনায় বাড়ছে এজেন্ট ব্যাংকিং
মোবাইল ব্যাংকিং ও ই-ওয়ালেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নীতিমালা
নির্দেশনা মানেনি বিকাশ, টাকা পাঠাতে এখনও চার্জ
মোবাইল ব্যাংকিং: লকডাউনে বাড়ল সেন্ডমানির সীমা

শেয়ার করুন