আয় আরও বেড়েছে কন্টিনেন্টালের

আয় আরও বেড়েছে কন্টিনেন্টালের

তিন প্রান্তিক মিলিয়ে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৭০ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ১ টাকা ৩২ পয়সা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের কোম্পানি কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স গত বছরের তুলনায় আরও বেশি আয় করার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছে।

চলতি বছর জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনটি প্রান্তিকেই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি আয় করেছে কোম্পানিটি।

সোমবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রকাশ করেছে।

এতে দেখা যায়, এই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৫৩ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৩৩ পয়সা।

তিন প্রান্তিক মিলিয়ে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৭০ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ১ টাকা ৩২ পয়সা।

এর আগের দুই প্রান্তিকেও কোম্পানিটি আগের বছরের তুলনায় বেশি আয় করতে পেরেছিল।

গত জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ১ টাকা ১৭ পয়সা। ২০২০ সালে একই সময়ে এই আয় ছিল ৯৯ পয়সা।

এর মধ্যে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে আয় ছিল ৭০ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৫৬ পয়সা।

এর আগে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করে ৪৯ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ৪৫ পয়সা।

সেপ্টেম্বর শেষে কন্টিনেন্টালে শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ৫১ পয়সা, যা জুন শেষে ছিল ১৯ টাকা ৮০ পয়সা।

২০২০ সালে শেয়ার প্রতি ১ টাকা ২৯ পয়সা আয় করে ৬০ পয়সা করে নগদ ও প্রতি ১০০ শেয়ারে ৪টি বোনাস শেয়ার দেয়া কোম্পানিটির শেয়ারে বিনিয়োগ করে শেয়ারধারীরা শুরুতে বেশ মুনাফা করলেও সাম্প্রতিক সময়ে হতাশ হয়েছেন।

২০২০ সালের মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এক দফায় এবং চলতি বছরের মার্চের শেষ প্রান্তিক থেকে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে দ্বিতীয় দফায় শেয়ার মূল্যে ঊর্ধ্বগতি থাকলেও গত চার মাস ধরে দাম কমছে।

গত বছরের মে মাসে শেয়ার মূল্য ২০ টাকার নিচে থাকলেও অক্টোবরে তা ৬০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। পরে তা কমতে কমতে এক পর্যায়ে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ৩০ টাকায় নেমে আসে। এরপর আরেক দফা উত্থানে মে মাস নাগাদ আবার ৬০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া দর সংশোধনে দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকা ২০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
আয় কমেছে সিঙ্গারের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিটের বাইরে থাকতে পারে বন্ড

ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিটের বাইরে থাকতে পারে বন্ড

বিএসইসি কমিশনার অধ্যাপক শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের খুবই ভালো মিটিং হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে কিছু জিজ্ঞাসা ছিল, আমরা সেগুলোর উত্তর দিয়েছি। একইভাবে আমাদের কিছু বিষয় জানার ছিল, সেগুলোও আমরা জানার চেষ্টা করেছি।’

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট গণনার যে সূত্র প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা পাল্টানোর সম্ভাবনা কম। তবে বন্ডে বিনিয়োগ এই সীমার বাইরে রাখার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রাজি করানোর নানা চেষ্টা করছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। দুই সংস্থার মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আগেই যে আলোচনা হয়েছে, তাতে বিএসইসি ধারণা করছে, তাদের এই উদ্যোগ ফলপ্রসূ হতে যাচ্ছে।

পুঁজিবাজারে ক্রমাগত দরপতনের মধ্যে মঙ্গলবার দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকের দুই দিন আগে বিএসইসির কর্মকর্তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ে গিয়েও তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। বন্ডে বিনিয়োগ সারা বিশ্বেই ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিটের বাইরে থাকে- এই বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে এসেছে বিএসইসি।

এ ছাড়া এক্সপোজার লিমিট গণনা ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রাজি করাতে মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়ে এসেছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদসহ আরও কয়েকজন।

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ চৌধুরী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সেলিম উল্লাহ।

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেয়া হয় বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

প্রায় এক যুগের মন্দাভাব কাটিয়ে গত বছরের মে মাস থেকে পুঁজিবাজারে উত্থান শুরু হয়। গত সেপ্টেম্বরে সূচক ৭ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়ে যাওয়ার পর তৈরি হয় নতুন আশাবাদ।

কিন্তু এই পর্যায়ে এসে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কিছু পদক্ষেপ পুঁজিবাজারে অর্থপ্রবাহ কমিয়ে দেয়। আইন অনুযায়ী, একটি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তার মোট মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবে না। আর শেয়ারের ধারণকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হয় বাজারমূল্যের ভিত্তিতে। আর এখানেই বিপত্তি।

ব্যাংক তার বিনিয়োগসীমার মধ্যেই শেয়ার কিনলেও তার দাম বেড়ে গেলে বাজারমূল্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগ গণনার কারণে বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে আগেভাগেই। এতে পুঁজিবাজারে বিক্রয় চাপ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বাজারে হচ্ছে দরপতন।

এর মধ্যে আবার বন্ডের বিনিয়োগও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই বিনিয়োগসীমার মধ্যে ধরছে। অথচ বিএসইসি এই বিনিয়োগকে ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখার পক্ষে। তারা বলছে, সারা বিশ্বেই এই বন্ডে বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বাইরে থাকে।

সরকার পুঁজিবাজারে বন্ড মার্কেটকে জনপ্রিয় করতে চাইছে। এর অংশ হিসেবে সুকুক বন্ড ছেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা তুলতে অনুমতি দিয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডকে। আকর্ষণীয় মুনাফার এই বন্ডে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করেছে। আর বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করে যায় বলে ব্যাংকগুলো হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছে।

এই দুটি বিষয় ছাড়াও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসির মধ্যে আরও বেশ কিছু বিষয়ে মতভিন্নতা আছে। এর মধ্যে সম্প্রতি মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনা করা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির কাছে প্রতিদিনের শেয়ার কেনাবেচার তথ্য চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিএসইসি মনে করছে, এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের এখতিয়ারবহির্ভূত কাজ।

এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বৈঠক ডাকার পর রোববার পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার যে আশা করা হচ্ছিল, সেটি হয়নি। আগের পাঁচ কর্মদিবসের মতোই পতন হয়েছে সূচকের। লেনদেন নেমে এসেছে সাত মাসের আগের অবস্থানে। সূচক নেমেছে তিন মাসের আগের অবস্থানে।

বাজারে দরপতনের পর বিকেলে বিএসইসির প্রতিনিধিদল যায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। সরকারের কাছে তুলে ধরে তাদের বক্তব্য।

বিএসইসি কমিশনার অধ্যাপক শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের খুবই ভালো মিটিং হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে কিছু জিজ্ঞাসা ছিল, আমরা সেগুলোর উত্তর দিয়েছি। একইভাবে আমাদের কিছু বিষয় জানার ছিল, সেগুলোও আমরা জানার চেষ্টা করেছি।’

বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘পুঁজিবাজারে বন্ডের বিনিয়োগ যাতে ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিটের বাইরে থাকে, সে বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। এর আগেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসি এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে।’

জানতে চাইলে বিএসইসির কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করব। আশা করি, তারা পুঁজিবাজারের স্বার্থে বিষয়টি বিবেচনা করবে।’

তিনি জানান, আগামী মঙ্গলবার বহুল প্রতীক্ষিত বৈঠকটি হবে বেলা ৩টায়।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক দেবব্রত কুমার সরকার এ বিষয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক্সপোজার লিমিটের কারণেই পুঁজিবাজারে ব্যাংকের মতো বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগে আসতে পারছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বিএসইসির আলোচনায় এ বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত।’

তবে তিনি কিছু বিধিনিষেধের পক্ষেও। বলেন, ‘ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর যেহেতু প্রচুর বিনিয়োগ সক্ষমতা আছে, তাই তাদের ইচ্ছামতো বিনিয়োগ করতে দেয়া উচিত হবে না। তারা বিনিয়োগ করবে মুনাফার জন্য। বড় বিনিয়োগে বড় মুনাফা হবে। সাধারণ বিনিয়োগকারী যাতে এমন বিনিয়োগে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
আয় কমেছে সিঙ্গারের

শেয়ার করুন

শেয়ারে দেড় টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা বিকনের

শেয়ারে দেড় টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা বিকনের

বিকন ফার্মার কারখানায় কাজ করছেন এক কর্মী। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত বিকনের শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৩ টাকা ৭৪ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৬৫ পয়সা। ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এবারও সবচেয়ে বেশি আয় করে সবচেয়ে বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।

আগের বছরের তুলনায় বেশি আয় করে লভ্যাংশও বাড়িয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ অর্থাৎ শেয়ার প্রতি দেড় টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। আগের বছর লভ্যাংশ ছিল ৬ শতাংশ নগদ বা শেয়ার প্রতি ৬০ পয়সা।

রোববার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত বিকনের শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৩ টাকা ৭৪ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৬৫ পয়সা।

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এবারও সবচেয়ে বেশি আয় করে সবচেয়ে বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।

তবে গত দুই বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর যত বেড়েছে, সে তুলনায় আয় ততটা বেড়েছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে।

গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৬৬ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২৪৯ টাকায় উঠেছিল। পরে কিছুটা কমলেও এখনও তা ২২৭ টাকা ৭০ পয়সা।

শেয়ারে দেড় টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা বিকনের
বিকন ফার্মার আয় ও লভ্যাংশ সংক্রান্ত ঘোষণা

শেয়ারদর এভাবে বাড়ার বিষয়টি স্বাভাবিক ঠেকেনি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কাছে। গত আগস্টে যে ৯টি কোম্পানির অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি নিয়ে তদন্তের আদেশ এসেছিল, তার একটি ছিল বিকন ফার্মা। তদন্তে কী জানা গিয়েছে, তা অবশ্য প্রকাশ হয়নি।

বিকনের শেয়ারদর কেবল গত এক বছর ধরে বাড়ছে এমন নয়, ২০১৯ সালের শুরুর দিকে শেয়ারদর ছিল ২০ টাকার ঘরে। আর গত দুই বছরে সর্বনিম্ন দর ছিল ৩৪ টাকা ৯০ পয়সা।

কোম্পানিটির আয় শতকরা হিসেবে দ্বিগুণ হলেও সম্পদমূল্য সেভাবে বাড়েনি। গত ৩০ জুন একেকটি শেয়ারের বিপরীতে সম্পদ ছিল ২৩ টাকা ১৮ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে শেয়ারপ্রতি সম্পদ ছিল ২০ টাকা ৪ পয়সার।

কোম্পানিটির লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ঠিক করা হয়েছে আগামী ২০ ডিসেম্বর। অর্থাৎ, যারা লভ্যাংশ নিতে চান, তাদেরকে সেদিন শেয়ার ধরে রাখতে হবে। লভ্যাংশ চূড়ান্ত করতে বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম ডাকা হয়েছে আগামী ২৯ ডিসেম্বর।

আরও পড়ুন:
আয় কমেছে সিঙ্গারের

শেয়ার করুন

ফ্যামিলি টেক্সকে টেনে তুলতে আরেক সিদ্ধান্ত

ফ্যামিলি টেক্সকে টেনে তুলতে আরেক সিদ্ধান্ত

চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলে ফ্যামিলি টেক্সের কারখানায় নতুন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে কারখানার এমডির বৈঠক। গত সেপ্টেম্বরে হয় এই বৈঠক।

কোম্পানিটিতে দুজনকে শেয়ারধারী ও একজনকে স্বাধীন পরিচালক করা হয়েছে। পুনর্গঠিত বোর্ডের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সমীর কুমার শীল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ সিদ্ধান্ত কোম্পানিটির জন্য ভালো হয়েছে। কারণ, কোম্পানিটি কীভাবে চালালে ভালো হবে, তা নতুন দুই শেয়ারহোল্ডার পরিচালক ভালো বলতে পারবেন। কোম্পানিটি পুরোদমে চালুর ব্যাপারে আমরা তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে আন্তরিক।’

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি ফ্যামিলি টেক্সের পুনগঠিত পরিচালনা পর্ষদে নতুন করে তিন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজন শেয়ারধারী পরিচালক ও একজন স্বাধীন পরিচালক।

নতুন পরিচালনা পর্ষদের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ-ই মোস্তফা ও তাবাসুম করিমকে শেয়ারধারী পরিচালক হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। শামসুজ্জামান নামে একজনকে স্বাধীন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি নতুন পরিচালনা পর্ষদ ও কোম্পানির কাছে পাঠানো হয়েছে গত ২৪ নভেম্বর।

যে দুজনকে শেয়ারধারী পরিচালক করা হয়েছে, তাদের কাছে কোম্পানির মোট শেয়ারের ৪ শতাংশের বেশি রয়েছে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

ফ্যামিলি টেক্সের পুনর্গঠন করা পর্ষদের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সমীর কুমার শীল মনে করেন, বিএসইসির এই সিদ্ধান্ত কোম্পানিটিতে প্রাণের সঞ্চার করবে এবং সেটি আবার মুনাফায় ফিরবে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এ সিদ্ধান্ত কোম্পানিটির জন্য ভালো হয়েছে। কারণ, কোম্পানিটি কীভাবে চালালে ভালো হবে তা নতুন দুই শেয়ারহোল্ডার পরিচালক ভালো বলতে পারবেন। কোম্পানিটি পুরোদমে চালুর ব্যাপারে আমরা তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে আন্তরিক।’

তিনি বলেন, ‘বিএসইসি যখন মিরাজ-ই মোস্তফার চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে নতুন বোর্ড করে দিয়েছিল, তখন তাদের কার্যক্রমে কিছুটা বাধা এসেছিল। ব্যাংকের লেনদেনে বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু আমাদের বোর্ড কোম্পানিতে গিয়ে সব সমস্যার সমাধান করে দিয়ে এসেছিলাম। এখন তারাই যেহেতু বোর্ডে আছে, সেহেতু তাদের দায়িত্ব এখন বেড়ে গেছে। আশা করি, তাদের সহযোগিতায় আমরা কোম্পানিটিকে আবারও মুনাফায় নিয়ে আসতে পারব।’

গত ফেব্রুয়ারিতে ফ্যামিলি টেক্সের বোর্ড পুর্নগঠন করে দেয় বিএসইসি। তারপরও অনেকবার আলোচনায় আসে কোম্পানিটি আর চালু করা সম্ভব হবে না। বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম এমনও বলেন যে, তারা কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন। পরে কারখানা বিক্রি করে দেয়ার পরিকল্পনার কথা বলেন।

কিন্তু সেপ্টেম্বরের শুরুতে পুনর্গঠন করা বোর্ডের সদস্যরা পরিদর্শন করেন ফ্যামিলি টেক্সের কারখানা। সেখান থেকে ফিরে তারা জানালেন, কোম্পানির সক্ষমতার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ উৎপাদনে। সবশেষ খবর আসে, কোম্পানিটির উৎপাদন বাড়তে কাজ করছে উদ্যোক্তারা।

তার আগেই মালিকানায় থাকা মিরাজ-ই মোস্তফা কোম্পানিটির তার তত্ত্বাবধানে চালু রাখতে চান বলে জানান নতুন বোর্ড সদস্যদের। কোম্পানি চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় চলতি মূলধনের ব্যবস্থা করে দিলে তিনি আগের মতোই উৎপাদন শুরু করতে পারবেন বলে জানানো হয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি)।

নতুন পর্ষদ এ বিষয়ে বিএসইসিকে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে একটি প্রতিবেদনও দেয় গত সেপ্টেম্বরে। দুই মাস পর্যবেক্ষণের পর এই সিদ্ধান্ত নিল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এরই মধ্যে কোম্পানিটি তার উৎপাদনক্ষমতার ৫০ শতাংশ কাজে লাগাচ্ছে এবং তা আরও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিচালক মিরাজ-ই-মোস্তফা।

ফ্যামিলি টেক্সকে টেনে তুলতে আরেক সিদ্ধান্ত
গত সেপ্টেম্বরে চিটাগং ইপিজেডে ফ্যামিলে টেক্সের কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে সেটি চালু থাকতে দেখেন বিএসইসির পুনর্গঠিত বোর্ডের সদস্যরা

৯ বছর আগে তালিকাভুক্ত হওয়ার এক বছর পর ১০০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়ে চমক দেখালেও পরে হতাশ করে বিনিয়োগকারীদের। টানা লোকসানের পাশাপাশি উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ঘোষণা না দিয়ে শেয়ার বিক্রি করে করে দেয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন বিনিয়োগকারীরা।

এই অভিযোগ ওঠার পর বিএসইসি তদন্ত কমিটি গঠন করে পরিচালকদের জরিমানাও করে, কিন্তু জরিমানা পরিশোধ করা হয়নি। বরং সে সময় জানা গিয়েছিল, মালিকপক্ষ কারখানা বন্ধ করে লাপাত্তা।

বিএসইসি বন্ধ ও লোকসানি ১৬টির বেশি কোম্পানিতে প্রাণ ফেরাতে যে উদ্যোগ নিয়েছে, তার মধ্যে একটি এই ফ্যামিলিটেক্স।

ফ্যামিলি টেক্সের জন্য বিএসইসির মনোনীত পরিচালক হলেন কাজী আমিনুল ইসলাম, ড. সমীর কুমার শীল, ড. গাজী মোহাম্মদ হাসান জামিল, ড. মো. জামিল শরিফ, শরিফ এহসান এবং ড. মো. ফরজ আলী।

ছয়জন পরিচালকের মধ্যে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ফরজ আলী।

ফ্যামিলিটেক্সের আদ্যোপান্ত

২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় কোম্পানিটি। ১০ টাকা মূল্যমানের সাড়ে তিন কোটি শেয়ার ছেড়ে তারা সংগ্রহ করে ৩৫ কোটি টাকা।

তালিকাভুক্তির পর ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক হিসাব পর্যালোচনা করে কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। তবে ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১০০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।

ওই বছর কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় দেখানো হয় ৭ টাকা ২৬ পয়সা আর শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য হয় ২১ টাকা ৭২ পয়সা। এই লভ্যাংশ ঘোষণার পরদিন ১ এপ্রিল কোম্পানিটির শেয়ার দর দাঁড়ায় ৬২ টাকা, যদিও একপর্যায়ে দাম ৭৪ টাকা ৮০ পয়সায় দাঁড়িয়েছিল।

বিপুল পরিমাণ বোনাস শেয়ার দেয়ার পর থেকেই ফ্যামিলি টেক্সের আয় কমতে থাকে। ২০১৫ থেকে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত সমাপ্ত অর্থবছরে তারা সবশেষ মুনাফা করেছিল। তখন শেয়ারপ্রতি আয় হয় ৮২ পয়সা। এর পরের চার বছর ধরে লোকসান দিচ্ছে তারা।

২০১৭ সালে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয় সাড়ে ৪ পয়সার মতো। পরের বছর লোকসান হয় ৭ পয়সা, ২০১৯ সালে লোকসান হয় ৮ পয়সা। আর ২০২০ সালে লোকসান হয় ১৫ পয়সা।

২০১৩ সালে ১০০ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ হিসেবে দেয়ার পরের বছর তারা দেয় আরও ১০ শতাংশ বোনাস। এর পরের তিন বছর দেয় ৫ শতাংশ করে। কিন্তু গত দুই বছর কোনো লভ্যাংশই দেয়া হয়নি।

অথচ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে কোম্পানির আয় ক্রমেই বাড়ছিল। তালিকাভুক্তির আগে তিন বছরের আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে হয় বিএসইসিতে।

সেখানে দেখা গিয়েছিল ২০১১ ও ২০১২ সালে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছিল চার গুণের বেশি। আর তালিকাভুক্ত হওয়ার বছরে মুনাফা বাড়ে আরও ৭৬ শতাংশ।

গত বছর কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ১৫ পয়সা করে লোকসান দেয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই প্রান্তিক অর্থাৎ ছয় মাসে লোকসান দিয়েছে ১৩ পয়সার কিছু বেশি।

এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকরা আরেকটি আইনবিরুদ্ধ কাজ করেন। পুঁজিবাজারে ঘোষণা না দিয়েই উদ্যোক্তা-পরিচালকরা তাদের হাতে থাকা সিংহভাগ শেয়ার বিক্রি করে দেন।

এই বিষয়টি তদন্তে ডিসেম্বরের শেষে একটি কমিটি করে বিএসইসি। তারা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছে কি না, সেটি এখনও জানা যায়নি। আর এ জন্য পরিচালকদের তেমন কোনো শাস্তিও পেতে হয়নি।

কোম্পানিটির ৩৫ কোটি ৪০ লাখ শেয়ারের মধ্যে এখন মাত্র ৪.০২ শতাংশের মালিক কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকরা। অথচ বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী অন্তত ৩০ শতাংশ শেয়ার ধরে রাখতে হবে মালিকপক্ষ।

এই কোম্পানির ৭৭.৫৭ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। ক্রমাগত লোকসান দিতে থাকা কোম্পানির শেয়ার দরও একেবারে তলানিতে। একপর্যায়ে দাম ২ টাকা ৪০ পয়সায় নেমে আসে। তবে বোর্ড পুনর্গঠনের পর গত আগস্টে দাম বেড়ে একপর্যায়ে ৬ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত পৌঁছে। তবে গত এক মাস ধরে আবার কমছে। রোববার দাম দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৪০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
আয় কমেছে সিঙ্গারের

শেয়ার করুন

বৈঠকের খবরেও বড় পতনে আতঙ্ক

বৈঠকের খবরেও বড় পতনে আতঙ্ক

টানা দরপতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফাইল ছবি

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা হতাশাজনক। যে পতন হয়েছে, সেটা প্রত্যাশিত ছিল না। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বেড়েছে। আমরা যে ফান্ডামেন্টাল শেয়ার কেনার জন্য বিনিয়োগকারীদের বলে থাকি, সেসব শেয়ারের দরও কমেছে। এ ছাড়া যেসব কোম্পানির শেয়ার বর্তমান দরে কিনলে ৬ থেকে ৭ পয়েন্ট ইল্ড পাওয়া যেত, সেগুলোতে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীরা লোকসান করছেন।’

আর্থিক ও পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা যথাক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির মধ্যকার মতদ্বৈধতা নিয়ে বৈঠক ডাকার খবরেও পতনের বৃত্ত থেকে বের হতে পারল না পুঁজিবাজার। টানা ষষ্ঠ দিনের দরপতনে সূচক নেমেছে সোয়া তিন মাসের আগের অবস্থানে, আর লেনদেন নেমেছে ৭ মাসের আগের অবস্থানে।

দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে মতভিন্নতা, সেই সঙ্গে পৃথিবীতে করোনার নতুন ধরনজনিত কারণে নানা দেশে বিধেনিষেধ দেয়া হচ্ছে। দুইয়ে মিলে পুঁজিবাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা থেকে বিনিয়োগকারীরা বের হতে পারছেন না।

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক পড়ল ৭৮ পয়েন্ট। দিন শেষে অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৭৭৩ পয়েন্ট, যা গত ১৮ আগস্টের পর সর্বনিম্ন। সেদিন সূচক ছিল ৬ হাজার ৭৭১ পয়েন্ট।

গত সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস ২১ নভেম্বর থেকে শুরু হয় সূচকের টানা পতন। এ নিয়ে ছয় দিনেই সূচক পড়ল ৩১৮ পয়েন্ট।

গত দুই বছরে এর চেয়ে বেশি পতন চলতি বছরের ১০ থেকে ১৯ অক্টোবর দেখা দিয়েছিল। সে সময় টানা সাত কর্মদিবস সূচক পড়ে ৩৪৭ পয়েন্ট।

এর আগে গত ১৬ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ছয় দিন পতন হয় ৬ কর্মদিবস।

দরপতনের দিন লেনদেন কমে সাড়ে আট শ কোটি টাকার নিচে নেমেছে। এর চেয়ে কম লেনদেন ছিল গত ২৭ এপ্রিল। সেদিন হাতবদল হয় ৮২৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬৯ হাজার টাকা।

বৈঠকের খবরেও বড় পতনে আতঙ্ক
রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

সপ্তাহের শুরুর এই পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চিড় ধরা আস্থায় আরও একটু পতন ঘটাবে সন্দেহ নেই। এর কারণ, পুরো সপ্তাহ পতন শেষে বৃহস্পতিবার খবর আসে পুঁজিবাজার নিয়ে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসি। সেই খবরে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে কিছুটা হলেও ধারণা জন্মে। কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি আর পুঁজিবাজারকেন্দ্রিক বিভিন্ন ফেসবুক পেজে বহুজন জানাচ্ছেন, তারা সব শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া দর সংশোধনের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ কিছু পদক্ষেপ বাজারে অর্থপ্রবাহ কমিয়ে দিয়েছে। ব্যাংকগুলোতে তাদের বিনিয়োগের তথ্য প্রতিদিন জানানোর নির্দেশ দেয়া ছাড়াও শেয়ার মূল্য বেড়ে যাওয়ার পর বিনিয়োগসীমা এক দিনের জন্য অতিক্রম করে যাওয়ার পর বেশ কিছু ব্যাংককে জরিমানা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংক বন্ডে যে বিনিয়োগ করবে, তা তার বিনিয়োগসীমার মধ্যে হবে।

এর মধ্যে মিউচ্যুয়াল ফান্ড পরিচালনা করা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির লেনদেনের তথ্যও প্রতিদিন জানানোর আদেশ এসেছে, যে আদেশ আসার পর বিএসইসি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দিয়ে বলেছে, এটা তারা পারে না।

ওয়ান ব্যাংকের লভ্যাংশ ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে মতভিন্নতা ছিল আগে থেকেই। সেই সঙ্গে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা ক্রয়মূল্য নাকি বাজারমূল্যে হবে- এ নিয়ে মতপার্থক্য প্রায় এক দশক ধরেই। বাজারমূল্য বিনিয়োগসীমা নির্ধারণ করায় পুঁজিবাজারে অযাচিত ক্রয়চাপ তৈরি হয় আর গত মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে দুই পক্ষের বৈঠক শেষে বিএসইসি জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্রয়মূল্যে বিনিয়োগসীমা নির্ধারণে রাজি হয়েছে। কিন্তু আট মাসেও সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা হতাশাজনক। যে পতন হয়েছে, সেটা প্রত্যাশিত ছিল না। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বেড়েছে।

‘আমরা যে ফান্ডামেন্টাল শেয়ার কেনার জন্য বিনিয়োগকারীদের বলে থাকি, সেসব শেয়ারের দরও কমেছে। এ ছাড়া যেসব কোম্পানির শেয়ার বর্তমান দরে কিনলে ৬ থেকে ৭ পয়েন্ট ইল্ড পাওয়া যেত, সেগুলোতে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীরা লোকসান করছেন।’

আবু আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হলে হয়তো বাজার ঘুরে দাঁড়াবে। শেয়ারের চাহিদা ও জোগানের ওপর ভিত্তি করে একটি পর্যায়ে যাবে। এখন সে পর্যায়টি কত নিচে নামবে দেখার বিষয়।’

পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে এই বিশ্লেষক বলেন, ‘সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পক্ষে নতুন বিনিয়োগ করে এই বাজার ওঠানো সম্ভব না। গত এক সপ্তাহে যারাই যে শেয়ারে বিনিয়োগ করে, সেখানেই লোকসান করেছে। এ জন্য এখন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বাজারে সক্রিয় হতে হবে।’

সূচক পতনে প্রধান ভূমিকায় যেসব কোম্পানি

দিন শেষে দর হারিয়েছে ২৯১টি কোম্পানি। এর মধ্যে কেবল ১০টি কোম্পানি দর হারানোর কারণে সূচক থেকে হারিয়ে গেছে ৩৯.৪৫ পয়েন্ট।

বৈঠকের খবরেও বড় পতনে আতঙ্ক
সূচক পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে এই ১০টি কোম্পানি

সূচকের এই পতনে প্রধান ভূমিকায় ছিল গত দেড় বছরে শেয়ার দর সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়া বেক্সিমকো লিমিটেড। ৬ টাকা ৯০ পয়সা শেয়ার দর হারানোয় সূচক পড়েছে ১০.৬৮ শতাংশ। এ নিয়ে টানা তিন কর্মদিবস পড়ল শেয়ারটির দর।

একই গ্রুপের আরেক কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মার দর ৩.৬৫ শতাংশ কমার কারণে সূচক পড়েছে আরও ৬.১৫ পয়েন্ট।

রাষ্ট্রায়াত্ত আইসিবি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ইউনাইটেড পাওয়ার, গ্রামীণফোন, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, এনআরবিসি, রবি, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও স্কয়ার ফার্মার দরপতনও সূচকের বড় পতনে রেখেছে প্রধান ভূমিকা।

পতনের আরও একটি দিনে দর বেড়েছে ৬৬টি কোম্পানির। এর মধ্যে যে ১০টি কোম্পানির কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ১২.৩৬ পয়েন্ট।

এর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার দর ২.৬৭ শতাংশ বাড়ার কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ৩.৪৪ পয়েন্ট। এই কোম্পানিটির কারণেই সূচক বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।

এ ছাড়া বিকন ফার্মা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ওয়ালটন, বাংলাদেশ সাবমেরিক কোম্পানি, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, একমি প্যাস্ট্রিসাইডস, সাইফ পাওয়ারটেক ও ইউনিক হোটেলের দর কিছুটা বাড়ায় সূচকে কিছু পয়েন্ট যোগ হয়েছে।

বৈঠকের খবরেও বড় পতনে আতঙ্ক
এই ১০টি কোম্পানির দর বৃদ্ধিতে সূচকে কিছু পয়েন্ট যোগ হয়েছে

দর বৃদ্ধির সেরা দশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পুরোনো কোনো কোম্পানি রোববার দর বৃদ্ধির শীর্ষ দশের প্রথম দুটিতে স্থান নিতে পারেনি। বরং সদ্য তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানি, যাদের শেয়ার শেয়ারধারীরা বিক্রি করতে আগ্রহী নন সেগুলোই ছিল ওপরের দিকে।

এর মধ্যে বিমা খাতের সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্স দর বেড়েছে ৯.৭৮ শতাংশ। শেয়ার দর ৪০ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৪ টাকা ৯০ পয়সা। হাতবদল হয়েছে ১৫ হাজার ৩৯৮টি শেয়ার। লেনদেন হয়েছে ৬ লাখ ৯১ হাজার টাকা।

তারপরেই ছিল একমি পেস্টিসাইড, যার দর বেড়েছে ৯.৭৬ শতাংশ। শেয়ার দর ২৫ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৮ টাকা ১০ পয়সা। তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এই প্রথম কোম্পানিটির উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শেয়ার হাতবদল হয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭১৬টি শেয়ার, যার বাজারমূল্য ছিল ৬৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

দর বৃদ্ধিতে এদিন তৃতীয় স্থানে ছিল খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের এমারেল্ড অয়েল। কোম্পানিটি উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। শেয়ার দর বেড়েছে ৮.১০ শতাংশ। হাতবদল হয়েছে ৪ লাখ ৮১ হাজার ৫৫৩টি শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা আজিজ পাইপের শেয়ার দর বেড়েছে ৭.০৫ শতাংশ। মোট ৭৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা লেনদেন হওয়া এই কোম্পানির হাতবদল হয়েছে ৮১ হাজার ৯৭০টি শেয়ার।

অলটেক্স ও আনোয়ার গ্যালভালাইজিংয়ের শেয়ার দর বেড়েছে যথাক্রমে ৬.৬২ ও ৬.২৪ শতাংশ। অলটেক্সের ১২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ৮৫ হাজার ৮৭টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। আনোয়ার গ্যালভালাইজিংয়ের ৫ লাখ ১৫ হাজার ৪৬২টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে ১৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকায়।

বৈঠকের খবরেও বড় পতনে আতঙ্ক
দরপতনের দিন সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া ৬ খাত

৪.৩৪ শতাংশ দর বেড়েছে শীর্ষ দশের ৭ নম্বরে ছিল রহিম টেক্সটাইল। বস্ত্র খাতের এই কোম্পানিটির শেয়ার দর ২৩৯ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৫০ টাকা। ৫ লাখ টাকায় লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৪৭টি শেয়ার।

বিবিধি খাতের কোম্পানি আমান ফিড ছিল দর বৃদ্ধির ৮ নম্বরে। কোম্পানিটির ৪.০৬ শতাংশ দর বেড়েছে। হাতবদল হয়েছে ১২ লাখ ৬৩ হাজার ৪৯টি শেয়ার, যার বাজারমূল্য ছিল ৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

এ ছাড়া বস্ত্র খাতের শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৩.৭৫ শতাংশ, সমতা লেদারের দর ৩.৬৬ শতাংশ, জিলবাংলা সুগারের দর ৩.৬৩ শতাংশ এবং বিচ হ্যাচারির দর বেড়েছে ৩.৪৮ শতাংশ।

দর পতনের ১০ কোম্পানি

দর পতনের তালিকায় এগিয়ে ছিল তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ। বস্ত্র খাতের এই কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে ৯.৮০ শতাংশ। শেয়ার দর ২০ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৮ টাকা ৪০ পয়সা। হাতবদল হয়েছে মোট ৬ কোটি ৫ লাখ ১৪৯টি শেয়ার, যার বাজারমূল্য ছিল ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

বস্ত্র খাতের আরেক কোম্পানি কুইনসাউথের দর ৯.৭৩ শতাংশ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের অ্যাসোসিয়েট অক্সিজেনের দর ৯.৪৭ শতাংশ, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি বা বিআইএফসির দর কমেছে ৯.৪৭ শতাংশ।

এ ছাড়া এস আলম কোল্ডরোল স্টিলের শেয়ার দর কমেছে ৮.৭২ শতাংশ। শেয়ার দর ২৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২৫ টাকা ১০ পয়সা। হাতবদল হয়েছে মোট ৫৯ হাজার ৩৬৫টি শেয়ার।

হাওয়েল টেক্সটাইলের শেয়ার দর ৬.১১ শতাংশ। শেয়ার দর ৪৫ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৪৩ টাকা। লেনদেন হয়েছে মোট ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। হাতবদল হয়েছে ৬ হাজার ৫০৫টি শেয়ার।

বৈঠকের খবরেও বড় পতনে আতঙ্ক
এই ৬টি খাতের দরপতনের পাশাপাশি লেনদেনও কমেছে

এপেক্স ট্যানারির শেয়ার দর কমেছে ৫.৯০ শতাংশ। হাতবদল হয়েছে ৫৭০টি শেয়ার।

দরপতনে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে আছে গ্লোবাল হ্যাভি ক্যামিক্যাল, জুট স্পিনার্স, দ্য পেনিনসুলা চট্টগ্রাম।

এদিন ৩ শতাংশের বেশি শেয়ার দর কমেছে ২৯টি কোম্পানির। ২ শতাংশের বেশি শেয়ার দর কমেছে ৬০টি কোম্পানির। ১ শতাংশের বেশি শেয়ার দর কমেছে ৮৪টির।

লেনদেনে ১০ কোম্পানি

রোববার লেনদেনের শীর্ষে ছিল বিবিধ খাতের কোম্পানি বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৪.০৪ শতাংশ কমলেও লেনদেন হয়েছে ৯১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ৫৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৩২টি শেয়ার। শেয়ার দর ১৭০ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৬৩ টাকা ৩০ পয়সা।

ব্যাংক খাতের ওয়ান ব্যাংক গত সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় থেকে লেনদেনে এগিয়ে থাকা কোম্পানির তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। রোববারও দ্বিতীয় স্থানে কোম্পানিটি। মোট লেনদেন হয়েছে ৫৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ২ কোটি ৯৬ লাখ ৪৫ হাজার ৩২৯টি শেয়ার।

ব্যাংক খাতের আরেক কোম্পানি আইএফআইসি ব্যাংকের মোট লেনদেন হয়েছে ৪৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ২ কোটি ৫৩ লাখ ৭৮ হাজার ৯০৩টি শেয়ার।

প্যারামাউন্ড টেক্সটাইলের শেয়ার দর বেড়েছে ২.৭৭ শতাংশ। শেয়ার দর ৯৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০০ টাকা ২০ পয়সা। হাতবদল হয়েছে মোট ৪৩ লাখ ২৮ হাজার ১৬৮টি শেয়ার, যার বাজারমূল্য ছিল ৪৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৮৫ লাখ টাকার। হাতবদল হয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯৪ হাজার ৫৩৫টি শেয়ার। ডেল্টা লাইফের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

আনোয়ার গ্যালভালাইজিং, ওরিয়ন ফার্মা, সাইফ পাওয়ার, এনআরবিসি ব্যাংক, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, ফরচুন, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ছিল লেনদেনের শীর্ষ তালিকায়।

আরও পড়ুন:
আয় কমেছে সিঙ্গারের

শেয়ার করুন

কেপিসিএল নিয়ে ধোঁয়াশা, ক্ষতিতে বিনিয়োগকারীরা

কেপিসিএল নিয়ে ধোঁয়াশা, ক্ষতিতে বিনিয়োগকারীরা

খুলনার খালিশপুরে কেপিসিএলের বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: নিউজবাংলা

মেয়াদ বাড়ানোর চু্ক্তির অগ্রগতি কী, জানতে চাইলে কেপিসিএলের কোম্পানিটির সচিব মোজাম্মেল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে যেমন ছিল এখনও তেমনি আছে। বিশেষ কোনো খবর আসলে তা অবশ্যই বিনিয়োগকারীদের জানানো হবে।’

আলোচনার পর আলোচনা। তারপরও কোনো সমাধান নেই। বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত মে মাসে। ছয় মাস অতিবাহিত হলেও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আবার চালু হবে কি হবে না এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে টাকা হারিয়ে শেয়ারধারীরা হতাশ।

খুলনা পাওয়া কোম্পানি বা কেপিসিএল নামে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর সৃষ্ট জটিলতার এখনও অবসান হয়নি।

এই অবস্থায় গত দুই মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে প্রায় ৩৭ শতাংশ এবং এই দর ক্রমেই নিম্নমুখী। বিনিয়োগকারীরা তাদের প্রশ্নের জবাব না পেয়ে পুঁজিবাজারকেন্দ্রিক বিভিন্ন ফেসবুক পেজে প্রায়ই কোম্পানির মেয়াদ বাড়ানোর অগ্রগতির খবর আছে কি না, এই প্রশ্ন রাখছেন।

যে আইনের অধীনে ভাড়াভিত্তিক বা কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে অনুমোদন দেয়া হয়, সেগুলোর মেয়াদ বাড়ানোর বিলে জাতীয় সংসদ সায় দিয়েছে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে। কিন্তু এর পরে দুই মাসেও কেপিসিএলসহ চার কোম্পানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর আলোচনা চুক্তিতে আসতে পারেনি।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণ কবে হবে, সে জন্য তারা প্রশ্ন করে যাচ্ছেন, কিন্তু কোম্পানি বা সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য আসছে না।

কেপিসিএল নিয়ে ধোঁয়াশা, ক্ষতিতে বিনিয়োগকারীরা
খুলনায় কেপিসিএলের মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত

এর মধ্যে সামিট পাওয়ারের পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারে দুইবার মূল্য সংবেদনশীল তথ্য দিয়ে জানানো হয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানানো হয়েছে। তবে কেপিসিএলের পক্ষ থেকে কোনো বার্তাই দেয়া হচ্ছে না।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক হিসাব প্রকাশের সময় কেপিসিএলের আয় নিয়ে প্রশ্ন আছে। কোম্পানিটি মার্চ শেষে তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি আয় করেছিল শেয়ারে ২ টাকা ৬২ পয়সা। এরপর আরও দুই মাস চলেছে দুই বিদ্যুৎকেন্দ্র। পাশাপাশি সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পায়রার ৩৫ শতাংশের মালিকানার বিপরীতে লভ্যাংশও যোগ হয়েছে।

কোম্পানিটি গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ইউনাইটেড পায়রা শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ১০ পয়সা করে লভ্যাংশ ঘোষণা করায় কেপিএসএলের আয় হয়েছে ১৫ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা।

অথচ কোম্পানিটি চূড়ান্ত আয় দেখিয়েছে শেয়ারপ্রতি ৮৭ পয়সা। অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে শেয়ারপ্রতি লোকসান দেখানো হয়েছে ১ টাকা ৭৫ পয়সা।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্তও শেয়ারপ্রতি ১০ পয়সা লোকসান দেখিয়েছে কোম্পানিটি। গত বছর একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৯১ পয়সা।

মেয়াদ বাড়ানোর চু্ক্তির অগ্রগতি কী, জানতে চাইলে কেপিসিএলের কোম্পানিটির সচিব মোজাম্মেল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে যেমন ছিল এখনও তেমনি আছে। বিশেষ কোনো খবর আসলে তা অবশ্যই বিনিয়োগকারীদের জানানো হবে।’

গত ২১ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ ভবনে কেপিসিএল, সামিট ছাড়াও ওরিয়ন ও ডাচ্-বাংলা পাওয়ারের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের বৈঠক হয় কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর আলোচনা নিয়ে।

সরকার এই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মেয়াদ দুই বছর বাড়াতে রাজি। তবে আগের মতো বিদ্যুৎ না কিনলে কেন্দ্রের ভাড়া বা ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে চাইছে না। তবে কোম্পানিগুলো ন্যূনতম চার্জ চাইছে। সেটি না দিলে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ কেনার গ্যারান্টি চাইছে তারা। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেয়াদ বাড়ানোর যে ফাইলে সই করেছেন, তাতে কোনো ধরনের শর্ত ছাড়া অনুমোদন দেয়ার কথা বলা আছে।

তবে বৈঠকে কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে এ ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ কেনার জন্য গ্যারান্টি চাওয়া হয়। তারা বলেছে, ক্যাপাসিটি চার্জ না থাকলে এই বিষয়ে আগে থেকে সিদ্ধান্ত না হলে তাদের পক্ষে কোম্পানি চালানো কঠিন।

দুই পক্ষের মধ্যে এই মতভিন্নতা মেটাতে আবার বৈঠকের কথা বলা হয় দুই মাসের সেই আলোচনা শেষে। কিন্তু এরপর অনানুষ্ঠানিকভাবে কথাবার্তা হলেও আনুষ্ঠানিক আলোচনার তারিখ এখনও পড়েনি।

কেপিসিএল নিয়ে ধোঁয়াশা, ক্ষতিতে বিনিয়োগকারীরা
গত ২১ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে চুক্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ার পর কেপিসিএলের শেয়ারদর কমার চিত্র

বিদ্যুতের দামসহ আরও বেশ কিছু বিষয়েও সমঝোতায় আসা যায়নি। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিদ্যুতের দাম কমাতে চাইছে। তাদের যুক্তি হলো, কেন্দ্রগুলো গত ১০ বছরে যে ব্যবসা করেছে, তাতে তাদের কেন্দ্র স্থাপনের ব্যয় উঠে এসেছে। এখন ইউনিটপ্রতি দাম কমাতে হবে।

এরপর চারটি কোম্পানির পক্ষ থেকে সরকারকে একটি রেট দেয়া হয়েছে, তবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সেই রেট মানতে চাইছে না। তারা দাম আরও কম দিতে চায়।

বিদ্যুৎকেন্দ্র নবায়ন নিয়ে এমন অনিশ্চয়তায় প্রতিনিয়ত দর হারাচ্ছে কেপিসিএল ও সামিট পাওয়ারের দর। এর মধ্যে সামিটের আরও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ পেরিয়ে গেছে। এটির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনও করা হয়েছে। কিন্তু সেটিও আটকে আছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমঝোতা প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত একজন নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলেছেন, এখন শীতকাল। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা কম। এই অবস্থায় সরকারেরও খুব একটা তাড়া নেই। তারা চেষ্টা করেছিলেন এই মাসের মধ্যে একটি সমঝোতায় আসতে। কিন্তু সেটি হচ্ছে না, এ বিষয়টি এখন নিশ্চিত প্রায়। এখন ডিসেম্বরে বৈঠকে বসার চেষ্টা করছেন তারা।

দর কমছে ক্রমাগত

গত ২১ সেপ্টেম্বর কেপিসিএলের শেয়ার দর একপর্যায়ে ওঠে ৫২ টাকা ৫০ পয়সা। তবে চুক্তি হচ্ছে না, এই বিষয়টি কোনোভাবে জানাজানি হয়ে যাওয়ার পরেই দাম কমে যায়। এরপর থেকে ক্রমাগত কমছে। পুঁজিবাজারে সাধারণত কোনো কোম্পানির শেয়ার দর প্রতিদিনই বাড়ে না বা প্রতিদিনই কমে না।

কেপিসিএলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। সেদিনের পর মোট ৪৫ কর্মদিবস লেনদেন হয়েছে এখন পর্যন্ত। এর মধ্যে ৩২ কর্মদিবসই শেয়ার দর কমেছে, বেড়েছে ১১ কর্মদিবস আর দুই কর্মদিবস দাম ধরে রাখতে পেরেছে।

এই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে কোম্পানিটির শেয়ার দর হারিয়েছে ১৯ টাকা ৪০ পয়সা বা ৩৬.৯৫ শতাংশ।

গত সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা ১০ পয়সা।

এই দরই কেপিসিএলের সর্বনিম্ন দর নয়। চলতি বছর সব শেয়ারের বেঁধে দেয়া সর্বনিম্ন দর বা ফ্লোর প্রাইস তুলে দেয়ার পর একপর্যায়ে শেয়ার দর ৩১ টাকা ৩০ পয়সায় নেমে আসে। সেটি গত ২৮ এপ্রিলের কথা।

সে সময় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি কেপিসিএলের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনে ইতিবাচক সাড়া দিতে অনুরোধ করে সরকারকে বার্তা পাঠানোর খবরে শেয়ার দরে দেখা দেয় উত্থান।

তবে তখনও ৪৩ টাকায় ওঠার পর দাম আবার ৩৫ টাকার ঘরে নেমে আসে। এরপর সেপ্টেম্বরে কুইকরেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর বিলে সংসদ সায় দেয়াকে কেন্দ্র করে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শেয়ার দর আবার ৫০ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

কেপিসিএলের মতোই আরেক বিদ্যুৎ কোম্পানি সামিট পাওয়ারের শেয়ারও দর হারাচ্ছে। গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি ৫ টাকা ২৫ পয়সা আয় করে সাড়ে ৩ টাকা লভ্যাংশ ঘোষণার পরও শেয়ার দর ধরে রাখতে পারেনি।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় কমে গেছে। এই তিন মাসে শেয়ারে আয় হয়েছে ১ টাকা ২ পয়সা। গত বছর একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ২৯ পয়সা।

আয় কমার এই ব্যাখ্যায় সামিট জানিয়েছে, তাদের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় আয় কমেছে।

গত তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৪৯ টাকা ৭০ পয়সা থেকে নেমে এসেছে ৩৯ টাকা ২০ পয়সায়। এই সময়ে সর্বনিম্ন দর ছিল ৩৮ টাকা ৩০ পয়সা। তবে গত ২২ থেকে ২৪ নভেম্বর দর কিছুটা বাড়ে।

কেপিসিএল নিয়ে ধোঁয়াশা, ক্ষতিতে বিনিয়োগকারীরা
কেপিসিএলের দুই বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ না বাড়লে এই ইউনাইটেড পায়রার ৩৫ শতাংশের মালিকানা ওপর নির্ভর করতে হবে কেপিসিএলকে

কেপিসিএলের আদ্যোপান্ত

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির শেয়ার বিক্রি হয় গড়ে ২১১ টাকায়। এটি যে মেয়াদি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর তা বন্ধ হয়ে যাবে, সে বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের কোনো ধারণা ছিল না।

কোম্পানিটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল মোট তিনটি। এর মধ্যে ২০১৮ সালে একটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ বিষয়টি নিয়ে জানতে পারে।

এরপর থেকে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের আয়ে লভ্যাংশ পেয়ে আসছে বিনিয়োগকারীরা। এই দুটির মধ্যে ১১৫ মেগাওয়াটের কেপিসিএল-১-এর মেয়াদ শেষ হয় গত ৩১ মে। আর ৪০ মেগাওয়াটের নওয়াপাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হয় ২৮ মে।

গত ২০ মে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়াতে আমাদের চেষ্টা-তদবির অব্যাহত রয়েছে।’

মেয়াদ শেষে কেন্দ্র দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই চেষ্টা তদবিরের কতটা এগোল, সে বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে এখনও বিনিয়োগকারীদের অস্পষ্টতায় রাখা হয়েছে।

গত ৩১ অক্টোবর তথ্য অনুযায়ী কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৯.৩৬ শতাংশ শেয়ার ছিল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে। আর ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের কাছে ছিল ২০.৪৭ শতাংশ শেয়ার। আর দশমিক ১৮ শতাংশ আছে বিদেশিদের হাতে। কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে আছে মোট শেয়ারের ৬৯.৯৯ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
আয় কমেছে সিঙ্গারের

শেয়ার করুন

দরপতন: পুঁজিবাজার নিয়ে বসছে বাংলাদেশ ব্যাংক-বিএসইসি

দরপতন: পুঁজিবাজার নিয়ে বসছে বাংলাদেশ ব্যাংক-বিএসইসি

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসি ভবন। ছবি: নিউজবাংলা

দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে মতভিন্নতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাজার সংশোধনের মধ্যে দুই সংস্থার মতভিন্নতার কারণে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও পারছে না। গত সপ্তাহে সংশোধন কাটিয়ে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিলেও চলতি সপ্তাহে পাঁচ কর্মদিবসই সূচকের পতন ঘটল। সেই সঙ্গে কমে গেছে লেনদেন। বড় বিনিয়োগকারী বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা হাত গুটিয়ে বসে আছে বলেই ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

পুঁজিবাজারে টানা দরপতনের মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা গণনা নিয়ে মতভিন্নতা, শেয়ারের দর বেড়ে গেলেও এক্সপোজার লিমিট অতিক্রম করে গেলে জরিমানা, বন্ডে বিনিয়োগ পুঁজিবাজারের বিনিয়োগসীমার মধ্যে থাকবে কি না, এই নিয়ে বিতর্কের মধ্যে গত পাঁচ কর্মদিবস ধরে পুঁজিবাজারে টানা দরপতন হচ্ছে।

এর মধ্যে এই বৈঠকটি ডাকার কথা নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘আগামী মঙ্গলবার এই বৈঠক হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি চিঠি ইস্যু করেছে বলে জেনেছি। তবে বিস্তারিত কিছু জানি না।’

বৈঠকের আলোচ্য বিষয় নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, তারা এক্সপোজার লিমিট, বন্ডে বিনিয়োগসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করবেন।

কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেছেন, বৈঠকে পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা, পুঁজিবাজারের জন্য গঠিত বিশেষ তহবিলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ জমা, পুঞ্জীভূত লোকসান থাকলে শুধু সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেয়া ও বন্ডের বিনিয়োগসংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনা করা হবে।

পুঁজিবাজার নিয়ে বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে সমন্বয় সভা প্রতিবছরই হয়। গত ১৮ মার্চ শেষবার দুই পক্ষ একসঙ্গে বসেছিল। সেই বৈঠকের পর বিএসইসির পক্ষ থেকে যে বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে দেয়া হয়, তার অনেকগুলোই পরে বাস্তবায়ন হয়নি।

সেই বিষয়গুলো ছাড়াও গত ৯ মাসে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে বেশ কিছু বিষয়ে মতভিন্নতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাজার সংশোধনের মধ্যে দুই সংস্থার মতভিন্নতার কারণে পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেও পারছে না। গত সপ্তাহে সংশোধন কাটিয়ে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিলেও চলতি সপ্তাহে পাঁচ কর্মদিবসই সূচকের পতন ঘটল। সেই সঙ্গে কমে গেছে লেনদেন।

বড় বিনিয়োগকারী বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা হাত গুটিয়ে বসে আছে বলেই ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। এ অবস্থায় দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই বৈঠকের খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফেরাতে পারে।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমা নিয়ে উভয়সংকটে পড়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। একদিকে বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ তহবিলের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে বিশেষ পদ্ধতিতে গণনার কারণে শেয়ার দর বেড়ে গিয়ে বিনিয়োগসীমা পেরিয়ে যাওয়ার কারণে গুনতে হচ্ছে জরিমানা।

আইন অনুযায়ী, একটি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তার মোট মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারবে না। আর শেয়ারের ধারণকৃত মূল্য নির্ধারণ করা হয় বাজারমূল্যের ভিত্তিতে। আর এখানেই বিপত্তি।

ব্যাংক তার বিনিয়োগসীমার মধ্যেই শেয়ার কিনলেও তার দাম বেড়ে গেলে বাজারমূল্যের ভিত্তিকে বিনিয়োগ গণনার কারণে বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে আগেভাগেই। এতে পুঁজিবাজারে বিক্রয় চাপ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে বাজারে হচ্ছে দরপতন।

এমনিতেই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের অভাবে ভুগতে থাকা পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলো নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় গেছে, সেটি বাজারে দরপতনকে ত্বরান্বিত করতে পারে, যেটি দেখা যাচ্ছে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে। গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে পুঁজিবাজারে উত্থানে সূচক বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। এতে বিনিয়োগকারীরা হাতের হারিয়ে ফেলা টাকা ফিরে পেতে শুরু করে।

তবে এক দশক পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মূল্যসূচক ৭ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করার পর গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে মূলত ব্যাংকের শেয়ারের বিক্রয় চাপে সূচকের নিম্নগতি দেখা দেয়।

এই সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোকে হাতের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য করেছে। এর ফলে দরপতনের বৃত্ত থেকে বের হতেই পারছে না পুঁজিবাজার। শেয়ার দর কমে আসায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

এর মধ্যে আবার বন্ডের বিনিয়োগও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই বিনিয়োগসীমার মধ্যে ধরছে। অথচ বিএসইসি এই বিনিয়োগকে ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখার পক্ষে। তারা বলছে, সারা বিশ্বেই এই বন্ডে বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বাইরে থাকে।

সরকার পুঁজিবাজারে বন্ড মার্কেটকে জনপ্রিয় করতে চাইছে। এর অংশ হিসেবে সুকুক বন্ড ছেড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা তুলতে অনুমতি দিয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডকে। আকর্ষণীয় মুনাফার এই বন্ডে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করেছে। আর বিনিয়োগসীমা অতিক্রম করে যায় বলে ব্যাংকগুলো হাতের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছে। যারা করেনি, তাদের জরিমানার শিকার হতে হয়েছে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম সরাসরি বলেছেন, বন্ডে বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সীমার বাইরে থাকা উচিত, সারা বিশ্বেই এই রীতি রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই বিষয়টি গুলিয়ে ফেলেছে বলেই তিনি মনে করেন।

এক্সপোজার লিমিট গণনার ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্যে এটি বিবেচনার কথা তিনি কয়েক মাস ধরেই বলে আসছেন। গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে পরবর্তী সমন্বয় বৈঠকে বিষয়টি তোলা হবে। তবে এই বৈঠক আহ্বান করা হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে। কিন্তু সেই উদ্যোগ এখনও নেয়া হয়নি।

এই দুটি বিষয় ছাড়াও আরও দুটি বিষয় নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির মধ্যে মতভিন্নতার তথ্য এসেছে গণমাধ্যমে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অবণ্টিত লভ্যাংশ নিয়ে যে তহবিল গঠন করা হয়েছে, তাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবণ্টিত লভ্যাংশ জমা দিতে রাজি ছিল না বাংলাদেশ ব্যাংক। তাদের যুক্তি, এটি আমানতকারীদের টাকা। তবে বিএসইসি বলছে, লভ্যাংশ আমানতকারীদের টাকা নয়।

আবার ওয়ান ব্যাংকের লভ্যাংশ ইস্যুতেও আছে মতপার্থক্য। গত অর্থবছরে কোম্পানিটি যে লভ্যাংশ দিয়েছে, তা বার্ষিক সাধারণ সভায় পরিবর্তন করতে বলেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে বিএসইসি বলছে, লভ্যাংশ কী হবে, সেটি শেয়ারধারীদের সিদ্ধান্তের বিষয়। এটা বাংলাদেশ ব্যাংক পরিবর্তন করার নির্দেশ দিতে পারে না।

আরও পড়ুন:
আয় কমেছে সিঙ্গারের

শেয়ার করুন

পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে

পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে

পুঁজিবাজারে ক্রমাগত পতনের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইপিএলের সাবেক গবেষণাপ্রধান দেবব্রত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লেনদেন একটি পর্যায় পর্যন্ত ঠিক ছিল। সূচকের বড় পতন হলেও লেনদেন হাজার কোটি টাকার ওপরে ছিল। কিন্তু এখন তা এর অনেক নিচে নেমে আসায় কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

ব্যাংকের বিনিয়োগ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়াকড়ির ঘটনায় পড়তে থাকা পুঁজিবাজারে পতন থামছে না। টানা পাঁচ দিন কমল সূচক। আর ৭ মাস পর লেনদেন নামল এক হাজার কোটি টাকার নিচে।

আগের কর্মদিবসে ৯৫ পয়েন্ট সূচক পতনের স্মৃতি নিয়ে বৃহস্পতিবার লেনদেনের আগেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ছিল চিড় ধরা। বেলা ১১টা পর্যন্ত সূচক তার অবস্থান ধরে রাখতে পারলেও এরপর শেয়ারগুলো দর হারাতে থাকায় শেষ পর্যন্ত ৬৫ পয়েন্ট পতন দিয়ে শেষ হয়েছে লেনদেন।

সূচকের এই অবস্থান গত ৮ নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন। সেদিন সূচক ছিল ৬ হাজার ৭৯৯ পয়েন্ট। সেদিনের পর থেকে সূচক বেড়ে ১৮ নভেম্বর দাঁড়ায় ৭ হাজার ৯১ পয়েন্ট। কিন্তু এরপর সেখান থেকে আবার শুরু হয় পতন।

সূচকের পতনের পাশাপাশি লেনদেনও কমে আসছিল গত কয়েক দিনে। এবার সেটি গত ২৮ এপ্রিলের পর প্রথমবারের মতো নেমে গেল এক হাজার কোটি টাকার নিচে।

১৩৬ কর্মদিবস আগে সেদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে হাতবদল হয়েছিল ৯৪০ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। আজ লেনদেন হয়েছে ৮৪৯ কোটি ৯৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।

গত ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া বাজার সংশোধনে যে পর্যন্ত লেনদেন সেভাবে কমেনি, সে পর্যন্ত পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা সেভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। তবে লেনদেন হাজার কোটি টাকার নিচে নামার পর তারাও এখন আর আশার কথা বলছেন না।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইপিএলের সাবেক গবেষণাপ্রধান দেবব্রত কুমার সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘লেনদেন একটি পর্যায় পর্যন্ত ঠিক ছিল। সূচকের বড় পতন হলেও লেনদেন হাজার কোটি টাকার ওপরে ছিল। কিন্ত এখন তা এর অনেক নিচে নেমে আসায় কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী মশিউর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে পতনে বিনিয়োগকারীরা এখন আতঙ্কিত। গত কয়েক সপ্তাহ আগে যে শেয়ার ৫০ টাকায় কেনা হয়েছে, সেটির দাম এখন ৩০ টাকার ঘরে। ফলে কেনা দামে আবার শেয়ার বিক্রি করা যাবে কি না, সেটি নিয়েও সংশয় আছে।’

তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজার যখনই ভালো হতে থাকে, তখনই বাংলাদেশ ব্যাংকের নজর আসে এদিকে। সম্প্রতি এক্সপ্লোজার লিমিটের কারণে কয়েকটি ব্যাংককে জরিমানা করায় অন্য ব্যাংকগুলো এখন হাত গুটিয়ে নিয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো যেভাবে বিনিয়োগে আসছিল সেখান থেকে ফিরে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘এক্সপ্লোজার লিমিট অবশ্যই কেনা দাম বিবেচনা করা উচিত। মার্কেট প্রাইসের ভিত্তিতে বিবেচনা করলে যখনই বাজার ভালো হবে তখনই স্বাভাবিকভাবে ব্যাংকের ওপর শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়বে। পুঁজিবাজারে গতিশীলতা আনার জন্য দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।’

আগের দিনের মতো এদিনও প্রায় আড়াই শ কোম্পানির দরপতন হলো এক দিনে। দিন শেষে বেড়েছে কেবল ৮৯টি কোম্পানির দর, কমেছে ২৪১টির। ৩২টি কোম্পানি দর ধরে রাখতে পারে।

পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে
বেলা ১১টা পর্যন্ত সূচক অবস্থান ধরে রাখতে পারলেও পরে সূচক টানা কমেছে

লেনদেন শুরুর এক ঘণ্টা পর বেলা ১১টায় সূচক দিনের সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৯২২ পয়েন্টে ছিল। সেখান থেকে বেলা ১১টা ৫৪ মিনিটে শেয়ার বিক্রির চাপে সূচক টানা নেমে আসে ৬ হাজার ৮৬০ পয়েন্টে।

সেখান থেকে কিছুটা উত্থান হলেও দেড়টাই সূচক দিনের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে ৬ হাজার ৮৫০ পয়েন্টে।

সূচক পতনে প্রধান ভূমিকায় যারা

এদিন সূচক পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের। কোম্পানির শেয়ার দর দশমিক ৯৩ শতাংশ কমায় সূচক কমেছে ৬.২৭ শতাংশ।

গত এক বছরে শেয়ার দর সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়া বেক্সিমকো লিমিটেড আরও ২.০৭ শতাংশ দর হারানোয় সূচক কমেছে ৬.২৭ শতাংশ। কোম্পানিটির মালিকপক্ষ তিন কোটি শেয়ার কেনার ঘোষণা দেয়ার পরও দাম কমে যাওয়ার এই বিষয়টি বাজারের প্রতি অনাস্থার প্রমাণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ইউনাইটেড পাওয়ার অ্যান্ড জেনারেশনের শেয়ার দর কমেছে আরও ১.৯৫ শতাংশ। এতে সূচক কমেছে ৫.৭১ শতাংশ।

পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে
সূচক কমায় সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা ১০ কোম্পানি

কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ১৭ টাকা লভ্যাংশ ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত ৫০ টাকারও বেশি দর হারিয়েছে। যারা এই লভ্যাংশ নিয়েছেন, লাভ হয়নি তাদের। যত টাকা লভ্যাংশ পেয়েছেন, রেকর্ড ডেটের পর দাম কমেছে এর চেয়ে বেশি।

সূচক পতনে ভূমিকা রেখেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ১.৭ শতাংশ দরপতনও। এর ফলে সূচক থেকে কমেছে আরও ৩.১১ পয়েন্ট। দরপতন হয়েছে স্কয়ার ফার্মাও।

ব্যাংক খাতের পাঁচটি কোম্পানিও সূচক ফেলে দিয়েছে অনেকখানি। এগুলো হলো হলো ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, আইএফআইসি, সিটি ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক।

এই ১০টি কোম্পানির কারণেই সূচক পড়েছে ৩৪.৩ পয়েন্ট।

এর বিপরীতে আগের তিন দিন টানা পতন হওয়া এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের শেয়ার দর কিছুটা বাড়ায় সূচকে একক কোম্পানি হিসেবে সবচেয়ে বেশি ১.৪৫ পয়েন্ট যোগ করেছে।

ওরিয়ন ফার্মা, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, জেনেক্স ইনফোসিস, গ্রামীণফোন, আমান ফিড, ওয়ান ব্যাংক, বাংলাদেশ সাবমেরিন কোম্পানি লিমিটেড, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট ও আমান ফিডের শেয়ার দর কিছুটা বাড়ায় সূচকে অল্প কিছু পয়েন্ট যোগ করেছে।

তবে শেয়ার দর অল্প বাড়ার কারণে সূচকে খুব বেশি পয়েন্ট যোগ হয়নি। ১০টি কোম্পানি মিলিয়ে যোগ হয়েছে ৮.৭৩ পয়েন্ট।

পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে
এই ১০টি কোম্পানি অল্পবিস্তর পয়েন্ট যোগ করেছে সূচকে

আগের দিনের মতোই ঢালাও দরপতন হয়েছে ব্যাংক খাতে। তবে আগের দিনের মতো সব ব্যাংকের শেয়ার দর কমেনি। ৪টির দর অল্প বেড়েছে।

বিমা খাতেও দেখা গেছে একই চিত্র। এই খাতের ৫২টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ৪৩টি। একটির দর ছিল অপরিবর্তিত। বেড়েছে কেবল ৭টির দর।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডে দর বৃদ্ধির হারও বেশি নয়, কমার হারও বেশি নয়। ১০ থেকে ২০ পয়সা পর্যন্ত পার্থক্য ছিল ইউনিটপ্রতি। সেখানেও ৩টির ইউনিট দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ১৫টির।

কেবল তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর বাড়তে দেখা গেছে। এই খাতের ১১টি কোম্পানির মধ্যে বেড়েছে ৬টির দর, কমেছে ৪টির। একটির লেনদেন ছিল স্থগিত।

দর বৃদ্ধিতে ১০ কোম্পানি

দর বৃদ্ধিতে থাকা সেরা ১০ কোম্পানির মধ্যে দুটি ছিল সদ্য তালিকাভুক্ত। তবে আগের মতোই দিনের সর্বোচ্চ দরেও শেয়ার বিক্রিতে আগ্রহী হয়নি বিনিয়োগকারীরা।

সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর বেড়েছে ৯.৯৪ শতাংশ আর একমি পেস্টিসাইডসের দর বেড়েছে ৯.৮১ শতাংশ।

দর বৃদ্ধিতে বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতের আধিক্য ছিল বেশি। বস্ত্র খাতের নিউ লাইনের শেয়ার দর বেড়েছে ৬.০৪ শতাংশ। আর দেশ গার্মেন্টসের শেয়ার দর বেড়েছে ৫.৮৬ শতাংশ।

পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে
৭ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম লেনদেনের দিন কেবল দুটি খাতেই লেনদেন হয়েছে এক শ কোটি টাকার বেশি

প্রকৌশল খাতের সুহৃদের দর বেড়েছে ৯.৬৭ শতাংশ। কোম্পানিটির লেনদেন হয়েছে ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। হাতবদল হয়েছে ২১ লাখ ৫ হাজার ৯৪৫টি শেয়ার। একই খাতের আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের দর বেড়েছে ৬.৬৯ শতাংশ।

দর বৃদ্ধির সেরা দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমতা লেদারের শেয়ার দর ৫.৪৫ শতাংশ, আমান ফিডের দর ৪.৬৫ শতাংশ, হেমিনি সি ফুডের দর ৪.৯৫ শতাংশ, আরামিট সিমেন্টের দর বেড়েছে ৪.৬৫ শতাংশ।

সেরা দশের পর ৩ শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে ৫টি কোম্পানির। দুই শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে ১৭টি কোম্পানির। আর ১ শতাংশের বেশি শেয়ার দর বেড়েছে ৩৩টি কোম্পানির।

দর পতনের সেরা ১০

সবচেয়ে বেশি দর পতন হওয়া কোম্পানির তালিকায় ছিল এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান, যার ইউনিটপ্রতি দর কমেছে ৯.৮৭ শতাংশ। আগের দিন বুধবারও একই হারে দর কমেছিল এই ফান্ডটির।

ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৫১ পয়সা লভ্যাংশ যারা নিয়েছেন, রেকর্ড ডেট শেষে দ্বিতীয় দিনেই তারা লোকসানে পড়ে গেছেন। দুই দিনে ইউনিট দর কমেছে ১ টাকা ৭০ পয়সা।

দ্বিতীয় স্থানে ছিল ন্যাশনাল টি কোম্পানি, যার শেয়ারপ্রতি দর কমেছে ৬.০৩ শতাংশ।

শ্যামপুর সুগার মিলের শেয়ার দর কমেছে ৫.৮৫ শতাংশ। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৭৮ টাকা ৬০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৭৪ টাকা। ২৩ লাখ টাকা লেনদেন হাতবদল হয়েছে ৩২ হাজার ১০২টি শেয়ার।

এ ছাড়া কেডিএস একসেসোরিজের দর কমেছে ৫.৭৪ শতাংশ। ৬৭ টাকা ৯০ পয়সার শেয়ার কমে হয়েছে ৬৪ টাকায়।

পেনিনসুলার দর কমেছে ৫.৬০ শতাংশ। ৩৫ টাকা ৭০ পয়সার শেয়ার কমে হয়েছে ৩৩ টাকা ৭০ পয়সা।

এ ছাড়া ঢাকা ডাইংয়ের দর ৫.২৪ শতাংশ, বারাকা পাওয়ারের দর ৫.১১ শতাংশ, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের দর কমেছে ৪.৬৬ শতাংশ, জনতা ইন্স্যুরেন্সের দর ৪.৫৬ শতাংশ আর ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণার পর এসএস স্টিলের দর কমেছে ৪.৪৪ শতাংশ।

লেনদেনে সেরা ১০ কোম্পানি

লেনদেনে সেরার অবস্থান এক দিন পরই ফিরে পেয়ছে বেক্সিমকো লিমিটেড, যার মোট ১১৮ কোটি ৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। হাতবদল হয়েছে ৬৮ লাখ ১৯ হাজার ২১৪টি শেয়ার।

কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি দর কমেছে ৩ টাকা ৬০ পয়সা। ১৭৩ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৭০ টাকা ২০ পয়সা।

আগের দুই দিন লেনদেনে শীর্ষে থাকা ওয়ান ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬০ কোটি ২৭ লাখ টাকার। আগের দিন ৫ কোটির বেশি শেয়ার হাতবদল হলেও বৃহস্পতিবার হাতবদল হয়েছে ৩ কোটি ১৮ লাখ ৬ হাজার ১৭৩টি শেয়ার।

পতন টানা পঞ্চম দিনে, ৭ মাস পর লেনদেন হাজার কোটির নিচে
এই খাতগুলোর প্রতিটিতেই লেনদেন একসময় এক শ কোটি টাকার বেশি হতো

প্যারামাউন্ড টেক্সটাইলের ৪৬ লাখ ৪৫ হাজার ৩৪২টি শেয়ার ৪৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় হাতবদল হয়েছে। এই কোম্পানিটি সবচেয়ে বেশি লেনদেনের তালিকায় তৃতীয় স্থানে ছিল।

চতুর্থ স্থানে থাকা ব্যাংক খাতের আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ার দর হারিয়েছে ৫০ পয়সা। আগের দিন দাম ছিল ১৯ টাকা ২০ পয়সা, সেটি কমে হয়েছে ১৮ টাকা ৭০ পয়সা। লেনদেন হয়েছে ৩৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংক ছিল লেনদেনে সেরা ১০ কোম্পানির ৬ নম্বরে। ব্যাংকটির ১ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার ২৬৯টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে ২৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকায়।

জেনেক্স ইনফোসিসের লেনদেন হয়েছে ৩৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকায়। হাতবদল হয়েছে ২১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৮৩টি শেয়ার।

এ ছাড়া ফরচুন সুজের ২৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, এনআরবিসির ২১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, সাইফ পাওয়ারটেকের ১৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, ওরিয়ন ফার্মার ১৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

ব্যাংক খাতের আরও কিছু প্রতিষ্ঠান লেনদেনে এগিয়ে থাকলেও কমেছে শেয়ার দর। এর মধ্যে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে ৪০ পয়সা। ব্যাংকটির লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। প্রিমিয়ার ব্যাংকের দর কমেছে ৫০ পয়সা। লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
আয় কমেছে সিঙ্গারের

শেয়ার করুন