প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নথি জালিয়াতির প্রধান আসামির জামিন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নথি জালিয়াতির প্রধান আসামির জামিন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

নথি জালিয়াতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বদলে দিয়েছিলেন অভিযুক্তরা। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে নথিটি গেলে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে একজনের নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশের নামে প্রতারণার অভিযোগ ছিল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে।

দুদকের করা এই প্রতারণার মামলায় সোমবার জামিন পেয়েছেন প্রধান আসামি শাহজাহান।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে তিনি আইনজীবী শাহীনুল ইসলাম অনির মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। দুদকের পক্ষ থেকে তার জামিনের বিরোধিতা করেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক ২০ হাজার টাকা মুচলেকায় ১১ নভেম্বর পর্যন্ত শাহজাহানের অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার ফয়েজ আহমেদ।

মামলাটির নথি থেকে জানা যায়, গত বছর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য তিনজনের নাম প্রস্তাব করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। যাদের নাম প্রস্তাব করা হয় তারা হলেন- ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এনামুল হক, বুয়েটের প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডোর এম আবদুস সালাম আজাদ।

সেই প্রস্তাবপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হলে তিনি অধ্যাপক ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নথিটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমার কাছে ওই প্রস্তাবপত্র। এ সময় তিনি এম আবদুস সালাম আজাদ অনুমোদন না পাওয়ার গোপনীয় তথ্য ছাত্রলীগ নেতা তরিকুলকে ফোনে জানিয়ে দেন।

পরে ২০২০ সালের ১ মার্চ নথিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কৌশলে বের করে ৪ নম্বর গেটের সামনে আসামি ফরহাদের হাতে তুলে দেন ফাতেমা। পরে এই নথিতে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ বিকৃত করেন আসামিরা। এই কাজের জন্য ফাতেমাকে তারা ১০ হাজার করে বিকাশে মোট ২০ হাজার টাকা দেন বলে অভিযোগ।

৩ মার্চ আসামিরা নথিটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠালেও এক পর্যায়ে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। জালিয়াতির ওই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৭ মোহাম্মদ রফিকুল আলম বাদি হয়ে গত ৫ মে মামলা করেন। এ মামলায় পুলিশ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

অভিযোগ দুদকের এখতিয়ারভুক্ত হওয়ায় কমিশনের উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী পরে ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বদলে দেয়ায় অভিযুক্তরা হলেন- নর্থ সাউথ ইউনির্ভাসিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি (বহিষ্কৃত) তরিকুল ইসলাম মমিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মচারী ফাতেমা খাতুন, নাজিম উদ্দীন, রুবেল, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফরহাদ হোসেন, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদ ও রবিউল আউয়াল।

আরও পড়ুন:
ভর্তি জালিয়াতি: বিচার শুরু হচ্ছে ঢাবির ৮৭ শিক্ষার্থীর
ব্যাংক হিসাবের ১৪ লাখ টাকা নিয়ে গণ্ডগোল
সই জাল করে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
জালিয়াতির মামলায় সস্ত্রীক এপিপি কারাগারে
শিক্ষা বোর্ডের সনদ জালিয়াতচক্রের সাত সদস্য রিমান্ডে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা

ফের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা

ধানমন্ডির ২৭ নম্বর সড়কে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: নিউজবাংলা

শনিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন ধানমন্ডি গভঃ বয়েজ স্কুল, মোহম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল, রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল ও সেন্ট জোসেফ স্কুলের কয়েক শ শিক্ষার্থী। বাসে হাফ পাস কার্যকর, নটর ডেমের নাঈম হাসানের নিহতের ঘটনায় বিচার চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন তারা।

সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির ধাক্কায় রাজধানীর গুলিস্তানে নটর ডেম কলেজের নাঈম হাসানের নিহতের ঘটনায় বিচার এবং বাসে হাফ পাস কার্যকরের দাবিতে ফের বিক্ষোভে নেমেছে শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক অবরোধ করেছেন তারা।

শনিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন ধানমন্ডি গভঃ বয়েজ স্কুল, মোহম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল, রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল ও সেন্ট জোসেফ স্কুলের কয়েক শ শিক্ষার্থী। বাসে হাফ পাস কার্যকর, নটর ডেমের নাঈম হাসানের নিহতের ঘটনায় বিচার চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন তারা।

তাদের অবস্থানের কারণে রাস্তায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাবে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর ও এর আশপাশের সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন ডিএমপির তেঁজগাও বিভাগের উপ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ছাত্ররা তাদের কয়েকটি দাবি নিয়ে রাস্তা অবরোধ করেছে। আমরা তাদের সাধারণদের ভোগান্তির কথা বুঝিয়ে বলেছি। তারা আর কিছুক্ষণ থেকে চলে যাবে বলেছে। কিছুক্ষণ পর আমরা তাদের আবার বোঝাব। এখানে যেন কোন অপ্রীতিকর কিছু না ঘটে সেজন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।’

আরও পড়ুন:
ভর্তি জালিয়াতি: বিচার শুরু হচ্ছে ঢাবির ৮৭ শিক্ষার্থীর
ব্যাংক হিসাবের ১৪ লাখ টাকা নিয়ে গণ্ডগোল
সই জাল করে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
জালিয়াতির মামলায় সস্ত্রীক এপিপি কারাগারে
শিক্ষা বোর্ডের সনদ জালিয়াতচক্রের সাত সদস্য রিমান্ডে

শেয়ার করুন

ওয়ারী থেকে উদ্ধার নবজাতকের মৃত্যু

ওয়ারী থেকে উদ্ধার নবজাতকের মৃত্যু

রাজধানীর ওয়ারীর নাভানা টাওয়ারের পাশের রাস্তা থেকে উদ্ধার নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এক পথচারী ওই নবজাতককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টার দিকে মারা যায় নবজাতক।

উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা পথচারী স্বামী-স্ত্রী ঝিনুক রবিদাস ও রাজেন্দ্র রবিদাস জানান, তারা দুজন ওয়ারী নাভানা টাওয়ারের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কোনো কিছু পড়ার শব্দ পান। পরে কান্নার শব্দ শুনতে পেয়ে রাস্তার পাশে গিয়ে দেখেন, কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় এক নবজাতক মেয়ে পড়ে আছে।

তারা নবজাতককে নিয়ে পাশেই নিবেদিতা নামের একটি হাসপাতালে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যালের ২১১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।

তারা জানান, রাস্তার পাশে থাকা ভবনের ৪/৫ তলা থেকে হয়তো ফেলে দেয়া হয় নবজাতককে।

ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘ওয়ারী থেকে উদ্ধার করা নবজাতক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য এখন মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ভর্তি জালিয়াতি: বিচার শুরু হচ্ছে ঢাবির ৮৭ শিক্ষার্থীর
ব্যাংক হিসাবের ১৪ লাখ টাকা নিয়ে গণ্ডগোল
সই জাল করে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
জালিয়াতির মামলায় সস্ত্রীক এপিপি কারাগারে
শিক্ষা বোর্ডের সনদ জালিয়াতচক্রের সাত সদস্য রিমান্ডে

শেয়ার করুন

মুগদায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: দগ্ধ আরেকজনের মৃত্যু

মুগদায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: দগ্ধ আরেকজনের মৃত্যু

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের হাই ডিফেন্সে ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরের দিকে ৩৬ বছর বয়সী সুধাংশু রায়ের মৃত্যু হয়। তার শরীরের ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। এর আগে মৃত্যু হয় তার স্ত্রী ও ছেলের।

রাজধানীর মুগদায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের দগ্ধ চারজনের মধ্যে আরও জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এই নিয়ে তিন জনের প্রাণ গেল। বাকি একজনের অবস্থাও গুরুতর।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের হাই ডিফেন্সে ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরের দিকে ৩৬ বছর বয়সী সুধাংশু রায়ের মৃত্যু হয়। তার শরীরের ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

একই হাসপাতালে গত মঙ্গলবার সুধাংশুর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা রানী ও তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে অরূপের মৃত্যু হয়। ওই পরিবারের মধ্যে জীবিত আছেন কেবল সুধাংশুর শাশুড়ি শেফালী। তার অবস্থাও ভালো নয়।

গত সোমবার সকালে মুগদা মাদাবর গলি এলাকায় একটি বাসার পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় রান্না করার সময় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে ওই পরিবারের চার সদস্যের সবাই দগ্ধ হন।

এর মধ্যে আরূপ ৬৭ শতাংশ, প্রিয়াঙ্কা ৭২ শতাংশ, সুধাংশু ২৫ শতাংশ ও শেফালী ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হন।

সুধাংশুর মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, মুগদা গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ ছিলেন। এর আগে মা ও ছেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আজ ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুধাংশুর মৃত্যু হয়েছে। আরেকজন চিকিৎসাধীন।

তিনি আরও বলেন, নিহতের মরদেহ বার্ন ইউনিটের মর্গে ময়না তদন্তের জন্য রাখা হয়েছে। বিষয়টি মুগদা থানাকে অবগত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ভর্তি জালিয়াতি: বিচার শুরু হচ্ছে ঢাবির ৮৭ শিক্ষার্থীর
ব্যাংক হিসাবের ১৪ লাখ টাকা নিয়ে গণ্ডগোল
সই জাল করে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
জালিয়াতির মামলায় সস্ত্রীক এপিপি কারাগারে
শিক্ষা বোর্ডের সনদ জালিয়াতচক্রের সাত সদস্য রিমান্ডে

শেয়ার করুন

হানিফ ডিএনসিসির কর্মী নন, তেল চুরিই আয়ের উৎস: র‍্যাব

হানিফ ডিএনসিসির কর্মী নন, তেল চুরিই আয়ের উৎস: র‍্যাব

উত্তর সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়ির চালক হানিফ। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, সিটি করপোরেশনের তালিকাভুক্ত কর্মচারী-চালক না হলেও হানিফকে ময়লাবাহী ভারী ডাম্প ট্রাকটি বরাদ্দ দেয়া হয়। এজন্য তাকে কোনো নির্দিষ্ট বেতন দেয়া না হলেও, গাড়ির জন্য বরাদ্দ তেল হতে অতিরিক্ত তেল বিক্রিই তার আয়ের উৎস।

রাজধানীর পান্থপথে আহসান কবির খানকে চাপা দেয়া ময়লাবাহী গাড়িটির চালক উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) থেকে কোনো বেতন পান না। সিটি করপোরেশনের গাড়ি থেকে তেল চুরি করে বিক্রিই হানিফের আয়ের উৎস বলে জানিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন- র‍্যাব।

শনিবার চাঁদপুর থেকে হানিফকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের রবাত দিয়ে এমন তথ্য জানায় র‍্যাব।

২৪ নভেম্বর দুপুর আড়াইটার উত্তর সিটি করপোরেশনের একটি ময়লাবাহী গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান আহসান কবীর খান নামে একজন সাবেক সংবাদকর্মী। দুর্ঘটনার পর চালক হানিফ পালিয়ে যান চাঁদপুরে।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, সিটি করপোরেশনের তালিকাভুক্ত কর্মচারী-চালক না হলেও হানিফকে ময়লাবাহী ভারী ডাম্প ট্রাকটি বরাদ্দ দেয়া হয়। এজন্য তাকে কোনো নির্দিষ্ট বেতন দেয়া না হলেও, গাড়ির জন্য বরাদ্দ তেল হতে অতিরিক্ত তেল বিক্রিই তার আয়ের উৎস বলে তিনি জানান।

শনিবার দুপুরে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।

গ্রেপ্তার হানিফের বরাতে খন্দকার মঈন বলেন, হানিফ প্রথমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের গাড়ি মেরামত ওয়ার্কশপে মূল মেকানিকের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। গাড়ি পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তির সঙ্গে সখ্যের সুবাদে প্রায় ৬-৭ বছর যাবৎ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ধরনের গাড়ি চালিয়ে আসছেন। তিন বছর থেকে তিনি সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ধরণের হালকা ও ভারী যানবাহন চালাতেন।

গত এক বছর থেকে তিনি ময়লাবাহী ডাম্প ট্রাক চালাচ্ছিলেন। সিটি করপোরেশনের তালিকাভুক্ত কর্মচারী বা চালক না হলেও তাকে ময়লাবাহী ভারী ডাম্প ট্রাকটি বরাদ্দ দেয়া হয়। এজন্য তাকে কোনো নির্দিষ্ট বেতন দেয়া হতো না।

ময়লাবাহী ডাম্প ট্রাক একটি ভারী যানবাহন, এটি চালানোর জন্য পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রয়োজন হলেও তার নামে হালকা যানবাহন চালানোর একটা ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে বলে জানান র‍্যাবের ওই কর্মকর্তা।

র‍্যাব জানায়, ২৫ নভেম্বর কারওয়ান বাজার থেকে গাবতলীতে ময়লা পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন হানিফ। সকালে দুইবার ময়লা নিয়ে যান। ময়লা নিয়ে তৃতীয় বার যাওয়ার সময় ময়লাবাহী ট্রাক দিয়ে মোটরসাইকেল আরোহীকে চাপা দেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন তাকে ধাওয়া করলে তিনি পালিয়ে গাবতলীতে চলে যান। গাবতলী থেকে সে দিনই সদরঘাট হয়ে লঞ্চে করে চাঁদপুরের হাইমচরে আত্মগোপন করেন।

আরও পড়ুন:
ভর্তি জালিয়াতি: বিচার শুরু হচ্ছে ঢাবির ৮৭ শিক্ষার্থীর
ব্যাংক হিসাবের ১৪ লাখ টাকা নিয়ে গণ্ডগোল
সই জাল করে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
জালিয়াতির মামলায় সস্ত্রীক এপিপি কারাগারে
শিক্ষা বোর্ডের সনদ জালিয়াতচক্রের সাত সদস্য রিমান্ডে

শেয়ার করুন

বনশ্রীতে অভিমানে স্কুলছাত্রীর ‘আত্মহত্যা’

বনশ্রীতে অভিমানে স্কুলছাত্রীর ‘আত্মহত্যা’

প্রতিবেশী উম্মে ইফাত বলেন, ‘বনশ্রীর জে ব্লকের আটতলা ভবনের ছয় তলায় কান্না শুনে ভেতরে যাই। দেখি অহনার মা কান্না করছে। পরে শুনতে পাই অহনা রুমে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছে।’

রাজধানীর রামপুরার বনশ্রীতে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় উদ্ধারের পর অহনা রহমান নামে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে ওই শিক্ষার্থী।

অহনা রাজধানীর একটি স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ত। শুক্রবার রাত সোয়া ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) জরুরি বিভাগে আনলে চিকিৎসক রাত সাড়ে ৯টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

অহনাদের প্রতিবেশী উম্মে ইফাত বলেন, ‘বনশ্রীর জে ব্লকের আটতলা ভবনের ছয় তলায় কান্না শুনে ভেতরে যাই। দেখি অহনার মা কান্না করছে। পরে শুনতে পাই অহনা রুমে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছে।’

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ভর্তি জালিয়াতি: বিচার শুরু হচ্ছে ঢাবির ৮৭ শিক্ষার্থীর
ব্যাংক হিসাবের ১৪ লাখ টাকা নিয়ে গণ্ডগোল
সই জাল করে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
জালিয়াতির মামলায় সস্ত্রীক এপিপি কারাগারে
শিক্ষা বোর্ডের সনদ জালিয়াতচক্রের সাত সদস্য রিমান্ডে

শেয়ার করুন

কবির খানকে চাপা দেয়া ময়লার গাড়ির চালক গ্রেপ্তার

কবির খানকে চাপা দেয়া ময়লার গাড়ির চালক গ্রেপ্তার

ডিএনসিসি ময়লার গাড়ির ধাক্কায় সাবেক সংবাদকর্মী আহসান কবির খান নিহতের ঘটনায় গাড়িচালক মো. হানিফকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

সিটি করপোরেশনের ময়লা বহনকারী গাড়ির চাপায় সংবাদকর্মী আহসান কবীর খানের নিহতের ঘটনায় গাড়িচালক মো. হানিফকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। কারওয়ানবাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টার শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় এ বিষয়ে মিডিয়া ব্রিফে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

রাজধানীর পান্থপথে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ময়লার গাড়ির ধাক্কায় সাবেক সংবাদকর্মী আহসান কবির খান নিহতের ঘটনায় গাড়িচালক মো. হানিফকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।

কারওয়ানবাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

সিটি করপোরেশনের ময়লা বহনকারী গাড়ির চাপায় আহসান কবীর খানের নিহতের ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার রাতে কলাবাগান থানায় মামলা করেন স্ত্রী নাদিরা পারভীন।

মামলায় ময়লার গাড়িটির চালককে আসামি করা হয়।

এ তথ্য নিশ্চিত করে কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিতোষ চন্দ্র জানান, মামলার আসামি ওই গাড়ির চালক পলাতক রয়েছেন।

এই ঘটনার একদিন আগে, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় নিহত হন নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসান। তার মৃত্যুর প্রতিবাদে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় মারা যান আহসান কবির খান। পান্থপথ বসুন্ধরা সিটির বিপরীত পাশের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি দৈনিক সংবাদ ও প্রথম আলোর সাবেক কর্মী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে কলাবাগান থানা পুলিশ জানায়, সিগন্যাল ছাড়ার পর ময়লা বহনকারী উত্তর সিটির একটি ট্রাক সামনে থাকা মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে পেছনে থাকা আহসান কবির ছিটকে রাস্তায় পড়ে গেলে তার ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যান চালক। এসময় তার মাথার ওপর দিয়ে ট্রাকের চাকা চলে যায়। চাপা দেয়ার পর গাড়িটি নিয়ে পান্থপথ সিগন্যালের দিকে পালিয়ে যান চালক। সিগন্যালের আগে সড়কের পাশে গাড়ি রেখে তিনি পালিয়ে যান।

ঘটনা তদন্তে ডিএনসিসি তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে। মেয়র আতিকুল ইসলামের নির্দেশে গঠিত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ভর্তি জালিয়াতি: বিচার শুরু হচ্ছে ঢাবির ৮৭ শিক্ষার্থীর
ব্যাংক হিসাবের ১৪ লাখ টাকা নিয়ে গণ্ডগোল
সই জাল করে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
জালিয়াতির মামলায় সস্ত্রীক এপিপি কারাগারে
শিক্ষা বোর্ডের সনদ জালিয়াতচক্রের সাত সদস্য রিমান্ডে

শেয়ার করুন

ময়লার গাড়ির কাছে পুলিশও অসহায়

ময়লার গাড়ির কাছে পুলিশও অসহায়

সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়িটি বৃহস্পতিবার থেকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকার সড়কে চালকবিহীন অবস্থায় রয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি আমার স্যারদের বলে চালককে এক ঘণ্টা বসিয়ে কাউন্সেলিং করাই। এতে আরও হিতে বিপরীত হলো। সকালে অফিসে এসে দেখি আমার অফিসের সামনে ময়লা ফেলে গেছে সিটি করপোরেশনের গাড়ি। যে ময়লা সারা দিনেও তাদের ফোনের পর ফোন দিয়ে সরানো সম্ভব হয়নি।’

সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িতে তিন দিনের মাথায় দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যে গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের মৃত্যু হয়, সেই গাড়িটি দুই হাত ঘুরে লাইসেন্সবিহীন এক চালকের কাছে ছিল।

লাইসেন্স ছাড়া সিটি করপোরেশনের চালকরা কীভাবে গাড়ি চালান, সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে ট্রাফিক পুলিশ সেগুলো চেক করে কি না, সেটি নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

রাজধানীতে সিটি করপোরেশনের গাড়ি আইন অমান্য করে চলছে। এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় কি না, এমন প্রশ্নে ট্রাফিকের কয়েকজন কর্মকর্তা নিজেদের অসহায়ত্বের কথা জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দিনের বেলা সিটি করপোরেশনের একটি ট্রাক বেপরোয়া গতিতে ইউটার্ন নিচ্ছিল, চালকের কানে ছিল মোবাইল। গাড়িটি আমি আটকাই এবং কাগজ যাচাই করি। কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি চালক। তার গাড়ি আটকানোর পর আমি বিপদে পড়ি। সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে একের পর এক কল। সঙ্গে যুক্ত হয় আমাদের কর্মকর্তাদের কল। তারাও ছেড়ে দিতে বলেন। কোনো ব্যবস্থা ছাড়াই আমাকে ছাড়তে হয়।’

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি আমার স্যারদের বলে চালককে এক ঘণ্টা বসিয়ে কাউন্সেলিং করাই। এতে আরও হিতে বিপরীত হলো। সকালে অফিসে এসে দেখি আমার অফিসের সামনে ময়লা ফেলে গেছে সিটি করপোরেশনের গাড়ি। যে ময়লা সারা দিনেও তাদের ফোনের পর ফোন দিয়ে সরানো সম্ভব হয়নি।’

ময়লার গাড়ির কাছে পুলিশও অসহায়

রাজধানীর কলাবাগান মাঠের পাশে সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আবর্জনার সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন। ছবি: নিউজবাংলা

সিটি করপোরেশনের গাড়ি বা চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ার বিষয়টা অনেকটা ‘ওপেন সিক্রেট’ বলে দাবি করেন এক ট্রাফিক কর্মকর্তা। সরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িগুলো সেভাবে চেক করা হয় না বলে জানান তিনি। চেক করা বা ব্যবস্থা নেয়া হলে ওপর থেকে প্রচুর চাপ আসার কথা স্বীকার করেন এই কর্মকর্তা।

লাইসেন্স ছিল না চালক হারুনেরও

নটর ডেম শিক্ষার্থী নাঈমকে চাপা দেয়া সিটি করপোরেশনের গাড়িটি বরাদ্দ ছিল চালক ইরান মিয়ার নামে। তিনি গাড়িটি না চালিয়ে দেন হারুন মিয়াকে। আর হারুনের হাত ঘুরে গাড়িটি ছিল রাসেলের কাছে। রাসেল চালকের আসনে থাকা অবস্থায় ময়লা বহনকারী গাড়িটির ধাক্কায় মারা যান নাঈম।

সিটি করপোরেশনের প্রকৃত চালক ইরান মিয়া বাদে বাকি দুজনের গাড়ি চালানোর কোনো ধরনের লাইসেন্স ছিল না। তারাই পালাক্রমে চালাচ্ছিলেন গাড়িটি (গাড়ি নং ১১-১২৪৪)। ইরান মিয়ার নামে বরাদ্দ করা গাড়ি কীভাবে হারুন ও রাসেল চালাচ্ছিলেন, তার কোনো জবাব দিচ্ছে না দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সারওয়ার জাহান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টা শর্ষের মধ্যে ভূতের মতো অবস্থা। যারা অঘটন ঘটান, তারা যেভাবে দায়ী, এর বাইরে যারা এসব বিষয় তদারকিতে থাকেন, তাদেরও গাফিলতি রয়েছে।

‘সিটি করপোরেশনের ত্রুটির বিষয়টা পরপর দুটি ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে। ময়লা বহনকারী গাড়ির ধাক্কায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রকৃত চালক গাড়িটি চালাচ্ছে কি না, তা যেমন সিটি করপোরেশন তদারকির কথা তেমনিভাবে রাস্তায় থাকা ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব সেগুলো চেক করা। কোনোটাই ঠিকমতো হয় না বলে প্রাণহানির মতো ঘটনাগুলো ঘটছে।’

বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজানো উচিত বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বর্জ্য আনা-নেয়ায় ব্যবহৃত গাড়িগুলো অত্যন্ত আধুনিক। জাপান সরকারের দেয়া। কোনো ধরনের কারিগরি জ্ঞান ছাড়া অদক্ষ লোক দিয়ে সেগুলো চালানো হচ্ছে। দিনে গাড়ি চলার কথা না, সেটাও চলছে। আইন না মেলে হরহামেশাই উল্টো পথে যাচ্ছে এবং দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। পুরো ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে দক্ষ জনবল দিয়ে এই ব্যবস্থাপনা করা উচিত। যাতে করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যায়।’

কলাবাগান স্টেশন থেকে ময়লা নেয়নি সিটির ট্রাক

গুলিস্তানে দক্ষিণ সিটির গাড়ির চাপায় নাঈম নিহতের পরদিন পান্থপথে উত্তর সিটির গাড়ির চাপায় মারা যান আহসান কবির খান। বৃহস্পতিবার রাতেই চালক মোহাম্মদ হানিফের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তবে চালককে শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

উত্তর সিটি করপোরেশনের গাড়ির চাপায় একজন মারা যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতে কলাবাগান সেকেন্ডারি ট্রান্সফার সেন্টার থেকে কোনো ময়লা সরানো হয়নি।

শুক্রবার বিকেলে ওই সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, ট্রান্সফার সেন্টারের ভেতরে প্রতিটি কনটেইনার ময়লায় পূর্ণ।

সেন্টারের ভেতরে থাকা শ্রমিকরা জানান, বৃহস্পতিবার সড়ক দুর্ঘটনার পর রাতে আর কোনো ট্রাক ময়লা নিতে আসেনি। চালককে নাকি পাওয়া যাচ্ছে না।

বাসা বা প্রতিষ্ঠান থেকে ভ্যানে করে ময়লা সেকেন্ডারি ট্রান্সফার সেন্টারে নিয়ে আসেন আকাশ নামে এক শ্রমিক। ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে কথা হয় তার সঙ্গে।

আকাশ বলেন, ‘কাইলকা রাইত ১২টা লাগাত বইসা রইছি। কোনো ট্রাক আয় নাই। আজকে আইব কি না জানি না।’

২৭ নম্বর সড়কের পাশে একটি ময়লা বহনকারী ট্রাককে দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘কাইলকা দুপুর থেইক্কা এই ট্রাকটা এইহানেই আছে। ড্রাইভার কই খবর নাই। শুনছি, বসুন্ধরার সামনে ঘটনার পর থেইক্কা ড্রাইবাররা পলাইছে।’

বৃহস্পতিবার রাতে কেন ময়লা নিতে কোনো ট্রাক আসেনি, এ বিষয়ে জানতে ওই সেকেন্ডারি স্টেশনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের সেখানে পাওয়া যায়নি।

সেকেন্ডারি সেন্টারটিতে দক্ষিণ সিটির ১৫ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়লা জমা করা হয়, যা রাতে ট্রাক এসে নিয়ে যায়। এই দুই ওয়ার্ডের কমিশনারদের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করে তাদের ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

কঠোর হচ্ছে পুলিশ

গুলিস্তানে নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান মৃত্যুর পর করপোরেশনের গাড়ি অন্যায় করলে কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ।

ওই নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান রমনা ট্রাফিক জোনের সহকারী কমিশনার মো. রেফাতুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘কাউকে কোনো ছাড় না দিয়ে যিনি আইন অমান্য করবেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আমাদের সে ধরনের নির্দেশনা রয়েছে। সেভাবেই আমরা কাজ করছি।’

এত সব অব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে দুই সিটি করপোরেশন বলছে, দুই মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্তে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, দায়ী ব্যক্তি চিহ্নিত করা এবং এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধের করণীয় সম্পর্কে জানা যাবে।

বুধবার গুলিস্তান হল মার্কেটসংলগ্ন সড়কে সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়ে মারা যান নাঈম হাসান। ঘটনাস্থল থেকেই গাড়িটির চালকের আসনে থাকা রাসেল মিয়াকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে পল্টন থানায় নাঈমের বাবা শাহ আলমের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে। রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ জানায়, রাসেলের কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, রাসেল মাস্টার রোলে একসময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন। তিন রিমান্ডে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, ‘রাসেল মাঝে মাঝেই বিভিন্ন রুটে ট্রিপ দিতেন। তিনি হারুনের কাছ থেকে গাড়ির চাবি নিতেন। প্রতি ট্রিপে তিনি পেতেন ১০০ টাকা।’

এদিকে হারুনকে শুক্রবার যাত্রাবাড়ী থেকে হারুনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৩। বিকেলে পল্টন থানার পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হারুনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র‌্যাব-৩-এর অপারেশনস অফিসার বীণা রানী দাস জানান, ২০২০ সাল থেকে হারুন ময়লাবাহী এই গাড়িটি নিয়মিতভাবে চালিয়ে আসছেন। ২৪ নভেম্বর তিনি অনুপস্থিত থাকার কারণে সহকারী মো. রাসেল গাড়িটি চালান। হারুন এবং রাসেল দুজনেরই কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই।

আরও পড়ুন:
ভর্তি জালিয়াতি: বিচার শুরু হচ্ছে ঢাবির ৮৭ শিক্ষার্থীর
ব্যাংক হিসাবের ১৪ লাখ টাকা নিয়ে গণ্ডগোল
সই জাল করে প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
জালিয়াতির মামলায় সস্ত্রীক এপিপি কারাগারে
শিক্ষা বোর্ডের সনদ জালিয়াতচক্রের সাত সদস্য রিমান্ডে

শেয়ার করুন