রাজনৈতিক সংকট লুকাতে সাম্প্রদায়িক হামলা: বিএনপি

রাজনৈতিক সংকট লুকাতে সাম্প্রদায়িক হামলা: বিএনপি

জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে মিছিল এনে সিলেট নগরের আখালিয়ার হালদার পাড়ায় একটি পূজামণ্ডপে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

‘সভা (বিএনপির স্থায়ী কমিটি) মনে করে, বিরাজমান রাজনৈতিক সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য সরকার নিজেরাই এ ধরনের সাম্প্রদায়িক সংকট সৃষ্টি করছে। প্রত্যেকটি ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করার ফলে পরিস্থিতি জটিলতর হয়েছে।’

দেশে রাজনৈতিক সংকট রয়েছে অভিযোগ করে বিএনপি দাবি করেছে, এ সংকট লুকাতে সরকার এখন ইচ্ছা করে সাম্প্রদায়িক সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় পূজামণ্ডপ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা এর অংশ বলেই দাবি করেছে দলটি। তাদের অভিযোগ, এসবের পেছনে সরকার সমর্থকরা জড়িত।

সোমবার দুপুরে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিযোগ করা হয়।

রোববার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিটি পাঠানো হয়।

গত বুধবার দুর্গাপূজা চলাকালে কুমিল্লার একটি মণ্ডপে পবিত্র কোরআন পাওয়াকে কেন্দ্র করে মণ্ডপটি ভাঙচুর করা হয়। এরপর দেশের বিভিন্ন এলাকায় মন্দির, মণ্ডপে চলে হামলা। এর মধ্যে রংপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে আগুনও দেয়া হয়েছে।

সাম্প্রদায়িক এসব হামলার প্রতিবাদও করছেন বহুজন। এমনকি ধর্মীয় অনেক নেতাও সোচ্চার হয়েছেন। তারা বলছেন, যে মুসলমানরা এ ধরনের হামলা করছেন তারাই ইসলামের অবমাননা করছেন।

সরকারও এসব ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। কয়েক হাজার মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারও হয়েছে দুই শতাধিক। তবে এর মধ্যেই গতরাতে রংপুরের পীরগঞ্জের ঘটনাটি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে মির্জা ফখরুল দাবি করেন, কুমিল্লাসহ দেশের নানা প্রান্তে হিন্দুদের ওপর হামলায় জড়িত সরকার সমর্থকরা। তিনি বলেন, ‘স্থায়ী কমিটির সভায় সনাতন ধর্মের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার সময়ে কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন শরিফের অবমাননা এবং পরবর্তীতে শাসকশ্রেণির মদদপুষ্ট দুষ্কৃতকারীদের পূজামণ্ডপে আক্রমণ, ভাঙচুর এবং তারই ধারাবাহিকতায় চাঁদপুর, গাজীপুর, নোয়াখালীর চৌমুহনী, চট্টগ্রাম, ঢাকায় পুলিশের নির্বিচারে গুলিবর্ষণ এবং নিরীহ পথচারী, শিশুসহ কয়েকজনের মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।’

যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা বিএনপি কীভাবে দেখে, তা জানিয়ে দলের মহাসচিব বলেন, ‘সভা (স্থায়ী কমিটি) মনে করে, বিরাজমান রাজনৈতিক সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য সরকার নিজেরাই এ ধরনের সাম্প্রদায়িক সংকট সৃষ্টি করছে। প্রত্যেকটি ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করার ফলে পরিস্থিতি জটিলতর হয়েছে।’

বিএনপির অভিযোগ ইন্টারনেটসহ ডিজিটাল সকল মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে সরকার ক্ষমতার অপপ্রয়োগ চালাচ্ছে।

জনগণের মৌলিক অধিকার, স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বানও জানিয়েছে দলটি। এ বিষয়ে পরবর্তীতে কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান ফখরুল।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় ক্ষতিগ্রস্ত মণ্ডপ পরিদর্শনে ঢাবি শিক্ষক সমিতি
বেগমগঞ্জে আগে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েও ঠেকানো যায়নি হামলা
সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী: চট্টগ্রাম ডিআইজি
‘আমরা কোথাও যাব না, পালাব না’
পীরগঞ্জের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪৫

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খালেদার জন্ম মাথা নত করার জন্য হয়নি: গয়েশ্বর

খালেদার জন্ম মাথা নত করার জন্য হয়নি: গয়েশ্বর

নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা নিয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘খালেদা জিয়া লড়তে জানেন, ভাঙতে পারেন কিন্তু দেশ, জনগণ ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপোষ করতে জানেন না। মাথা নত করার জন্য খালেদা জিয়ার জন্ম হয়নি।’

গণতন্ত্র ও ন্যায় বিচারের প্রশ্নে বিএনপি চেয়ারপারসন আপোষহীন বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বলেছেন, তাদের নেত্রীর জন্ম কারো কাছে মাথা নথ করার জন্য হয়নি।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ডা. মিলন দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা নিয়ে খালেদা জিয়া এখন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিএনপি থেকে বলা হচ্ছে, তাদের নেত্রীর অবস্থা ‘ভ্যারি ক্রিটিক্যাল’। তাকে বিদেশ নিতে দাবি জানিয়ে আসছে বিএনপি।

তবে সরকার থেকে বলা হচ্ছে, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় খালেদাকে বিদেশ যেতে অনুমতি দেয়ার সুযোগ নেই। উপায় রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়া।

সরকারি দলের নেতাদের এসব যুক্তির বিষয়টি তুলে ধরে গয়েশ্বর বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা বলেন, গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে ক্ষমা চাইতে হবে। কার কাছে? ক্ষমা চাওয়ার লোকটা কে? বর্তমানে জীবিতদের মধ্যে এ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ও জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনে খালেদা জিয়ার চেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার কে করেছেন?

‘রাস্তায় দাঁড়িয়ে বলুন। খালেদা জিয়া ক্ষমা চাইবে কার কাছে? যারা নিজেরা অপরাধী, যারা বৈধ নয় এবং আইনসিদ্ধ নয় তাদের কাছে? তারা কেন আইনের কথা বলেন?’

আইনমন্ত্রীর সমালোচনা করে গয়েশ্বর বলেন, ‘আইনমন্ত্রী কী জানেন না, রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা হলে সর্বোচ্চ আদালত থেকে চূড়ান্ত রায় হতে হয়। আইনমন্ত্রী কী জানেন না পেন্ডিং মামলায় রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়া যায় না। খালেদা জিয়া লড়তে জানেন, ভাঙতে পারেন, কিন্তু দেশ, জনগণ ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপোষ করতে জানেন না। মাথা নত করার জন্য খালেদা জিয়ার জন্ম হয়নি।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা একটা আজব দেশে বাস করছি। যেখানে চিকিৎসার দাবিতেও আন্দোলন করতে হয়। সবাইকে আহ্বান জানাব, এ আন্দোলনই যেন সরকার পতন আন্দোলন হয়।’

৯০ এর দশকের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর বিএনপির ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েস্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন, ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানসহ ৯০ এর ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতারা।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় ক্ষতিগ্রস্ত মণ্ডপ পরিদর্শনে ঢাবি শিক্ষক সমিতি
বেগমগঞ্জে আগে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েও ঠেকানো যায়নি হামলা
সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী: চট্টগ্রাম ডিআইজি
‘আমরা কোথাও যাব না, পালাব না’
পীরগঞ্জের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪৫

শেয়ার করুন

খালেদার পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ হচ্ছে: ফখরুল

খালেদার পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ হচ্ছে: ফখরুল

হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, তবে কেন হচ্ছে তা অনুসন্ধানে আধুনিক প্রযুক্তি দেশে নেই। তাই দ্রুত বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ হচ্ছে জানিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।

তিনি জানান, খালেদা জিয়ার রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত প্রযুক্তি নেই বলেই দিন দিন তার অবস্থা খারাপ হচ্ছে। অতি দ্রুত তাকে বিদেশে নেয়া প্রয়োজন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) শনিবার শহীদ ডা. মিলন দিবসের আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নব্বইয়ের ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য আয়োজন করে এ আলোচনা সভার।

এতে দেয়া বক্তব্যে ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, তবে কেন হচ্ছে তা অনুসন্ধানে আধুনিক প্রযুক্তি দেশে নেই। তাই দ্রুত বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।’

শারীরিক বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন জানিয়ে তাকে দ্রুত বিদেশ নিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছেন বিএনপি নেতারা।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় ক্ষতিগ্রস্ত মণ্ডপ পরিদর্শনে ঢাবি শিক্ষক সমিতি
বেগমগঞ্জে আগে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েও ঠেকানো যায়নি হামলা
সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী: চট্টগ্রাম ডিআইজি
‘আমরা কোথাও যাব না, পালাব না’
পীরগঞ্জের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪৫

শেয়ার করুন

খালেদাকে সরানোর চেষ্টা ১/১১ থেকে: ফখরুল

খালেদাকে সরানোর চেষ্টা ১/১১ থেকে: ফখরুল

নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা নিয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকার দীর্ঘ কাল থেকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে খালেদাকে সরিয়ে ফেলার জন্য, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা করার জন্য কাজ করছে। আজকে নয় এইটা শুরু হয়েছে ১/১১ থেকে। তারই পরিণতি হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া আজকে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।’

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সরিয়ে ফেলতে বর্তমান সরকার ওয়ান এলিভেন থেকে চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মৃত্যুর দুয়ারে ঠেলে দেয়া হয়েছে।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে শনিবার স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শহীদ ডা. মিলন দিবসের এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘এই সরকার দীর্ঘ কাল থেকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে খালেদাকে সরিয়ে ফেলার জন্য, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা করার জন্য কাজ করছে। আজকে নয় এইটা শুরু হয়েছে ১/১১ থেকে। তারই পরিণতি হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া আজকে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।

১৩ নভেম্বর বিকেলে খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে এভারকেয়ারে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হওয়ায় পরের দিন ভোরে তাকে সিসিইউতে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার।

খালেদার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য তার পরিবার ও দল থেকে সরকারের প্রতি বারবার আহ্বান জানানো হলেও তাতে সাড়া মিলছে না। বিএনপি থেকে বলা হয়েছে, তাদের নেত্রীর অবস্থা ‘ভ্যারি ক্রিটিক্যাল’।

বিদেশ নিয়ে খালেদাকে চিকিৎসা করানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কেন বেগম জিয়াকে দেশের বাহিরে চিকিৎসার জন্য বলছি। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার টেকনোলজি বাংলাদেশে নেই, যেটা দিয়ে খালেদা জিয়ার রোগের সঠিক দিকটা ধরতে পারে। তাই ডাক্তারা বলছেন তাকে একটা অ্যাডভান্স সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার জন্য।’

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তারা ভুলে যায়। ১/১১ তে শেখ হাসিনা যখন গ্রেপ্তার হলেন, তখন বেগম খালেদা জিয়া বিবৃতি দিয়েছিলেন তার মুক্তির জন্য। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করা এমন এক নেত্রী। আজকে তাকে আপনারা মৃত্যুর দিকে ঠেকে দিচ্ছেন। কেন দিচ্ছেন আমরা সবাই বুঝি। আপনি ভাবছেন তাকে সরিয়ে দিলে আপনার সামনে বড় কাঁটা সরে যাবে।’

গণতন্ত্র আর বেগম খালেদা জিয়াকে আলাদা করা যাবে না মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, তার চিকিৎসা তার বেঁচে থাকা এই জাতির কাছে অত্যন্ত জরুরি। আজকে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কারণ স্বৈরাচার আর ফ্যাসিবাদ এক নয়।

‘এই ফ্যাসিবাদ আমাদের গণতন্ত্রের সব অর্জন ধ্বংস করে দিয়েছে। তাই আজকে গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য, দেশকে রক্ষা করার জন্যে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি করে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর জন্য আসুন ঐক্যবদ্ধ হই।’

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েস্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন, ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানসহ ৯০ এর ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতৃবৃন্দ।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় ক্ষতিগ্রস্ত মণ্ডপ পরিদর্শনে ঢাবি শিক্ষক সমিতি
বেগমগঞ্জে আগে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েও ঠেকানো যায়নি হামলা
সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী: চট্টগ্রাম ডিআইজি
‘আমরা কোথাও যাব না, পালাব না’
পীরগঞ্জের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪৫

শেয়ার করুন

৪ মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ আগামী বছর: সেতুমন্ত্রী

৪ মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ আগামী বছর: সেতুমন্ত্রী

কার্পেটিং চলছে পদ্মা সেতুর সড়কে, যা চালু হওয়ার কথা আগামী বছর। ফাইল ছবি

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আগামী বছর কয়েকটি মেগা প্রজেক্টের ওপেনিং হবে। দেশের চেহারা বদলে যাবে। চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের ৭৫ ভাগ কাজ শেষ। আগামী বছর এটিও শেষ হয়ে উদ্বোধন হবে।’

আগামী বছরের মধ্যে দেশে চলমান অন্তত চারটি মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

জাতীয় মহাসড়ক বিল নিয়ে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) হারুন উর রশিদ, রুমিন ফারহানা ও জাতীয় পার্টির এমপি মুজিবুল হক চুন্নুর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

কাদের বলেন, ‘আমাদের দেশে আমরা যত কথা বলি, তত কাজ করি না। যা বিশ্বাস করি, তা পালন করি না। সরকারের কি কোনো ভালো কাজ নেই? সেগুলোর প্রশংসা যখন কেউ বক্তব্য দেন, কেউ কি করেন? ২০০৯ সালের আগে সড়কব্যবস্থা কী ছিল? কী সড়ক ছিল?

‘দুই দলের (বিএনপি ও জাতীয় পার্টি) প্রধানের বাড়িই উত্তরবঙ্গে। আর ছয় লেনের কাজ করতে হচ্ছে শেখ হাসিনার সরকারকে। কাজ যেহেতু শুরু হয়েছে, শেষ হয়ে যাবে। একটু ধৈর্য ধরুন। এই সড়কে এলেঙ্গা পর্যন্ত কাজ শেষ। এখন রংপুরের দিকে ৬ লেন যাচ্ছে। রংপুর থেকে একটি অংশ যাবে বুড়িমারী এবং পঞ্চগড় পর্যন্ত যাবে আরেকটি।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা চট্টগ্রামে কী দুরাবস্থা ছিল! আজ কী সুন্দর ফোর লেন হয়েছে। পুরো পথজুড়ে ফুলের শোভা চোখ জুড়িয়ে যায়। রাস্তা দেখবেন? ঢাকা থেকে ভাঙ্গা যান। দেশের একমাত্র এক্সপ্রেসওয়ে। এটি দেখতেই মানুষ ছুটে আসে। পর্যায়ক্রমে দেশের যত রাস্তা আছে সবগুলোকে সার্ভিস লেনসহ ৪ লেনে উন্নীত করব।’

সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ‘যে সমালোচনা করলেন, বলুন, শেখ হাসিনার আগে কোথায় আন্ডারপাস ছিল? এখন ৩৫টি আন্ডারপাস সরকার নির্মাণ করেছে। আরও ৩৯টির কাজ চলছে। ঢাকার বাহিরে কোনো সরকারের আমলে কি ফ্লাইওভার ছিল? ১৫টি হয়েছে। আরও ২০টির কাজ প্রক্রিয়াধীন।

‘জাতীয় মহাসড়কে ১৫টি রেল ওভারপাস নির্মাণ পাস হয়েছে; আরও ১৩টির কাজ চলমান। কয়টা সেতু ছিল? শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর আমি পাশের মুন্সিগঞ্জের কথা বলি, সেখানে কয়টা বেইলি ব্রিজ? ১২০টি। একটি সেতু কি কোনো সরকার করেছে? ৫৭টি শেষ করেছি; ৪৮টির কয়েক মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সমালোচনা করেন, গঠনমূলক সমালোচনা হওয়া উচিত। অবশ্যই শুদ্ধ করব। আমরা স্বাগত জানাই। কিন্তু কেউ তো একবারও বললেন না, যখন বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু থেকে সরে যায়, সেটি নিজস্ব অর্থায়নে করার সাহস দেখিয়েছেন। আগামী বছর ফসল ঘরে তুলব। এটা কে করেছে?

‘আপনারা তো বলেছেন, জোড়াতালি দিয়ে কাজ হচ্ছে। কেউ উঠবেন না। এত নিষ্ঠুর সমালোচনাও এ দেশে হয়। কী সুন্দর ব্রিজ! হাজার হাজার মানুষ দেখতে আসে। আগামী বছর যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেবেন। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। এটা কি কোনো সরকার করেছে?’

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বনানী পর্যন্ত কাজ হয়েছে, চট্টগ্রাম সড়ক পর্যন্ত যাবে। সমালোচনা করেন, প্রশংসা করেন না। কে করেছে মেট্রোরেল? আগামী বছর আমরা চালু করতে পারব।

‘আগামী বছর কয়েকটি মেগা প্রজেক্টের ওপেনিং হবে। দেশের চেহারা বদলে যাবে। চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের ৭৫ ভাগ কাজ শেষ। আগামী বছর এটিও শেষ হয়ে উদ্বোধন হবে।’

গাজীপুরে নির্মাণাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট নিয়েও কথা বলেন সেতুমন্ত্রী কাদের।

তিনি বলেন, ‘দেখুন একটি প্রকল্প যখন করতে যাবেন সেখানে নির্মাণকাজের যন্ত্রণা থাকে। ভোগান্তি হয়ে গেছে বেশি। রাস্তার ড্রেনেজ ব্যবস্থা অনেক খারাপ। কিন্তু এগুলো কি অতীতে ছিল?

‘একটি কোম্পানি নিয়েছে খুব কম দামে। তারা ঘাটে ঘাটে আমাদের সমস্যায় ফেলেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও দেশটির সাথে কথা বলেছেন। ফান্ডিংয়ের সমস্যা ছিল; গতি পেয়েছে। এই বর্ষাই শেষ বর্ষা। আগামী বর্ষার পরেই আমরা এটি শেষ করতে পারব। ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব। প্রধানমন্ত্রী আগামী বছর চারটি মেগা প্রকল্প উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন।’

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে রমিজউদ্দিন স্কুলের সামনে আন্ডারপাস নির্মাণের কাজও শেষ হয়েছে বলে জানান কাদের।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এটি যেকোনো সময় উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।’

সড়ক পরিবহন বিল নিয়ে ওঠা বিতর্কের জবাব দিতে গিয়ে কাদের বলেন, ‘সড়ক পরিবহন বিল নিয়ে সত্য কথা বলতে চাই। সমস্যা আছে, যখন চেয়ারে বসবেন, অনেক কিছু মোকাবিলা করতে হয়। রুমিন যা বলেছেন, ঠিক নয়। সংশোধিত রূপ এখনও দেখেননি। আইন শাখা ভেটিং করেছে, ওয়েবসাইটে মতামত নিচ্ছি।

‘এ আইনে সাজার কঠোরতা শিথিল করা হয়নি। আইনের কঠোরতা কমানো হয়নি। যা ছিল সেটাই আছে, থাকবে। কিছু ভাষাগত ও প্রতিবেশী দেশের সাথে সামঞ্জস্য রেখে যুগোপযোগী করা হয়েছে। কাটছাঁট করে প্রতারণা আমরা করি না।’

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় ক্ষতিগ্রস্ত মণ্ডপ পরিদর্শনে ঢাবি শিক্ষক সমিতি
বেগমগঞ্জে আগে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েও ঠেকানো যায়নি হামলা
সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী: চট্টগ্রাম ডিআইজি
‘আমরা কোথাও যাব না, পালাব না’
পীরগঞ্জের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪৫

শেয়ার করুন

খালেদাকে মুক্ত করতে হাইকমান্ডের কাছে কর্মসূচি চান আমান

খালেদাকে মুক্ত করতে হাইকমান্ডের কাছে কর্মসূচি চান আমান

শহীদ ডা. মিলন দিবস উপলক্ষে তার স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানায় বিএনপি নেতা-কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘কর্মসূচি দিন, বেগম জিয়াকে মুক্তি দেয়া না হলে দেশ অচল করে দেয়া হবে; পুরো দেশকে ঢাকা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে।’

শারীরিক বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে দলের হাইকমান্ডের কাছে কর্মসূচি চেয়েছেন দলটির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান।

তিনি বলেন, ‘কর্মসূচি দিন, বেগম জিয়াকে মুক্তি দেয়া না হলে দেশ অচল করে দেয়া হবে; পুরো দেশকে ঢাকা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে।’

শনিবার শহীদ ডা. মিলন দিবস উপলক্ষে তার স্মৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দলের হাইকমান্ডের কাছে কর্মসূচি চান তিনি।

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে স্লো-পয়জন দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুরে কথা বলেন আমান।

এর আগে একই দাবি করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানো ও তার মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গত বৃহস্পতিবার এক সমাবেশে ফখরুল এ সন্দেহের কথা জানান।

আমান বলেন, ‘খাবারের মধ্যে স্লো-পয়জন দিয়ে ধীরে ধীরে বেগম জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। উন্নত চিকিৎসা না দিয়ে তাকে তিলে তিলে শেষ করার চক্রান্ত চলছে।’

তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়ার কিছু হলে সরকারপ্রধানসহ প্রত্যেককে হুকুমের আসামি করা হবে।’

এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন স্বপন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দীন আলম, মোস্তাফিজুল ইসলাম বাবুল, জাগপা একাংশের সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় ক্ষতিগ্রস্ত মণ্ডপ পরিদর্শনে ঢাবি শিক্ষক সমিতি
বেগমগঞ্জে আগে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েও ঠেকানো যায়নি হামলা
সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী: চট্টগ্রাম ডিআইজি
‘আমরা কোথাও যাব না, পালাব না’
পীরগঞ্জের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪৫

শেয়ার করুন

খালেদার অবস্থা অস্থিতিশীল: চিকিৎসক

খালেদার অবস্থা অস্থিতিশীল: চিকিৎসক

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের একজন চিকিৎসক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খালেদা জিয়া ধীরে ধীরে কথা বলার চেষ্টা করছেন। মাঝেমধ্যেই ওনার শরীর দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল। গতকাল থেকে এটা একটু কমে এসেছে। তবে শরীরের অবস্থা উন্নতির দিকে, এটা বলা যাবে না। গতকাল থেকে এ পর্যন্ত তার শরীরের অবস্থা অবনতি হয়নি। তবে অস্থিতিশীল।’

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য অস্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের একজন সদস্য।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে শনিবার সকালে ওই চিকিৎসক জানান, সকাল ৯টার মধ্যে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে আসেন মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার। তিনি প্রায় ১০ মিনিট খালেদার কেবিনে অবস্থান করেন।

তিনি বলেন, ‘এ সময় আমি স্যারের সঙ্গে গিয়েছিলাম। খালেদা জিয়া ধীরে ধীরে কথা বলার চেষ্টা করছেন। মাঝেমধ্যেই ওনার শরীর দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল। গতকাল থেকে এটা একটু কমে এসেছে। তবে শরীরের অবস্থা উন্নতির দিকে, এটা বলা যাবে না। গতকাল থেকে এ পর্যন্ত তার শরীরের অবস্থার অবনতি হয়নি। তবে অস্থিতিশীল।’

ওই চিকিৎসক জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী একাধিক জটিল রোগে ভুগছেন। স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যালোচনার জন্য একাধিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। শুক্রবারও নিউক্লিয়ার মেডিসিনে এনে তার স্বাস্থ্যের পরীক্ষা করোনা হয়। তবে এখন খালেদা জিয়ার লিভারের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়া মলে রক্ত আসাও বন্ধ হয়নি।

১৩ নভেম্বর বিকেলে খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে এভারকেয়ারে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হওয়ায় পরের দিন ভোরে তাকে সিসিইউতে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার।

খালেদার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য তার পরিবার ও দল থেকে সরকারের প্রতি বারবার আহ্বান জানানো হলেও তাতে সাড়া মিলছে না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের নেত্রীর অবস্থা ‘ভ্যারি ক্রিটিক্যাল’। তাকে অবিলম্বে বিদেশ নেয়া দরকার।

খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেয়ার অনুমতি আদায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় ক্ষতিগ্রস্ত মণ্ডপ পরিদর্শনে ঢাবি শিক্ষক সমিতি
বেগমগঞ্জে আগে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েও ঠেকানো যায়নি হামলা
সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী: চট্টগ্রাম ডিআইজি
‘আমরা কোথাও যাব না, পালাব না’
পীরগঞ্জের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪৫

শেয়ার করুন

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে মিরপুরে মশাল মিছিল

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে মিরপুরে মশাল মিছিল

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে মিরপুরে মশাল মিছিল। ছবি: নিউজবাংলা

শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে মিরপুর শেওড়াপাড়া থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ১০ নম্বর গোল চত্বরের কাছাকাছি গিয়ে শেষ হয়। এর আগে একই দাবিতে বৃহস্পতিবার রাতে নয়াপল্টন এলাকায় রিজভীর নেতৃত্বে মশাল মিছিল হয়।

বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে মশাল মিছিল করেছে বিএনপি। মিছিলের নেতৃত্ব দেন দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে মিরপুর শেওড়াপাড়া থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ১০ নম্বর গোল চত্বরের কাছাকাছি গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে বিএনপির জনা বিশেক নেতাকর্মী অংশ নেন।

এর আগে একই দাবিতে বৃহস্পতিবার রাতে নয়াপল্টন এলাকায় রিজভীর নেতৃত্বে মশাল মিছিল হয়।

এছাড়া শুক্রবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় মসজিদে দোয়ার আয়োজন করা হয় বিএনপির উদ্যোগে। হিন্দুদের মন্দিরসহ অন্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয়েও করা হয় বিশেষ প্রার্থনা।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নেতারা। ছিলেন জোটের শরিক দলের নেতারাও।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী এই মুহূর্তে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার রোগের বিস্তারিত না জানলেও বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের নেত্রী জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছেন। তাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার দাবিও করা হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে।

তবে ২০১৮ সালে দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডিত নেত্রীকে দেশের বাইরে নিয়ে যেতে এখনও অনুমতি দেয়নি সরকার। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দণ্ডবিধির ৪০১ ধারা প্রয়োগ করে সাজা স্থগিত করিয়ে পৌনে দুই বছর আগে বিএনপি নেত্রীকে বাসায় ফেরার সুযোগ করে দিয়েছেন। এই ধারা দ্বিতীয়বার প্রয়োগের সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় ক্ষতিগ্রস্ত মণ্ডপ পরিদর্শনে ঢাবি শিক্ষক সমিতি
বেগমগঞ্জে আগে প্রতিমা বিসর্জন দিয়েও ঠেকানো যায়নি হামলা
সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী: চট্টগ্রাম ডিআইজি
‘আমরা কোথাও যাব না, পালাব না’
পীরগঞ্জের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪৫

শেয়ার করুন