সহিংসতা: কুমিল্লায় ৮ মামলায় ৩ কাউন্সিলরসহ ১০৫৫ আসামি

সহিংসতা: কুমিল্লায় ৮ মামলায় ৩ কাউন্সিলরসহ ১০৫৫ আসামি

কুমিল্লায় সহিংসতার ঘটনায় আসামি করা হয়েছে কাউন্সিলর মোশাররফ হোসেন (বাঁ থেকে), ইকরাম হোসেন বাবু ও কাজী গোলাম কিবরিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

যে কাউন্সিলরদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী গোলাম কিবরিয়া, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোশাররফ হোসেন ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইকরাম হোসেন বাবু। জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এই কাউন্সিলররা বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলার আসামি।

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘিরপাড়ে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগের জেরে সহিংসতার ঘটনায় ৮টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ৩ কাউন্সিলরসহ ১০৫৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এসব মামলায় সোমবার দুপুর পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৪ জনকে।

যে কাউন্সিলরদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী গোলাম কিবরিয়া, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোশাররফ হোসেন ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইকরাম হোসেন বাবু।

জানা গেছে, জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এই কাউন্সিলররা। বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলায় তাদের আসামি করা হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের ডিআইও-ওয়ান মনির আহমেদ এই তথ্যগুলো নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় কুমিল্লা কোতোয়ালি, সদর দক্ষিণ ও দাউদকান্দি থানায় ৮টি মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোতোয়ালিতে ৪০ এবং সদর দক্ষিণে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমরা গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছি আসামিদের কারও কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা আছে কি না। তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে এখন কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

আরও পড়ুন:
সহনশীল হওয়ার দিন শেষ: সুবর্ণা
নাইটিঙ্গেলে জামায়াত-শিবির সন্দেহে গ্রেপ্তার ৯ জন রিমান্ডে
সাম্প্রদায়িক হামলায় কাদের ইন্ধন, অনুমান করুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মন্দির ও বাড়িতে হামলায় ৮৪ আসামি
কালকিনিতে পুলিশের ওপর হামলা মামলায় গ্রেপ্তার ৪    

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এবার আ.লীগ থেকে মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি

এবার আ.লীগ থেকে মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী। ছবি: সংগৃহীত

জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী কমিটির সদস্যপদ থেকে মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি দিয়ে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার মেয়র আব্বাসকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলা রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে এবার জেলা আওয়ামী লীগের সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী কমিটির সদস্যপদ থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়ে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভা শেষে এ কথা জানান সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুুদ দারা।

এর আগে গত বুধবার মেয়র আব্বাসকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

আব্বাস আলী রাজশাহীর কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে তিনি প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন।

ঘরোয়া একটি আলোচনায় মেয়র আব্বাস বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের বিরোধিতা করে কথা বলেন। গত সোমবার এই আলোচনার অডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের বক্তব্য শোনা যাচ্ছে, তিনি একজনকে বলছেন, ‘সিটি গেট আমার অংশে। … ফ্রার্মকে দিয়েছে তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে; ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা। কিন্তু একটু থেমে গেছি, গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে… যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর সেটা ইসলামি শরিয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না (রাখব না), সব করব তবে শেষ মাথাতে যেটা… ওটা (ম্যুরাল)।’

মেয়র আব্বাস আলী বলছেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, ম্যুরালটা ঠিক হবে না দিলে। আমার পাপ হবে; তো কেন দিব, দিব না। আমি তো কানা না, যেভাবে বুঝাইছে তাতে আমার মনে হয়েছে, ম্যুরালটা হলে আমার ভুল করা হবে।

‘এ খবরটা যদি যায় তাহলে আমার রাজনীতির বারোটা বাজবে যে এই ম্যুরাল দিছে না। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে গিয়ে… আল্লাহকে নারাজ করব নাকি। এ জন্য কিছু করার নাই। মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা যাবে না।’

এই বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে শুক্রবার বিকালে ফেসবুক লাইভে মেয়র আব্বাস বলেন, ‘আমি তো মানুষ। আমি তো ভুল করতেই পারি। তার জন্য ক্ষমা চাই। তারপরও মনঃপূত না হলে বহিষ্কার করবেন, আমার নামে মামলা দিবেন যতটুকু ভুল করেছি, তার জন্য, কিন্তু একের পর এক অত্যাচার জুলুম। আমার অসুস্থ মা তিন-চার দিন না খেয়ে আছে...

‘... আমি কী এত বড় অন্যায় করেছি? অন্যায় করলে তো আইন আছে। এভাবে এতকিছু করা কী ঠিক?... আমাকে বলা হচ্ছে, আমি দলের অনুপ্রবেশকারী। আমি যদি আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য কোনো দল জীবনে থাকি তাহলে সব শাস্তি মাথা পেত নেব... কেউ প্রমাণ করতে পারলে সুইসাইড করব।’

আরও পড়ুন:
সহনশীল হওয়ার দিন শেষ: সুবর্ণা
নাইটিঙ্গেলে জামায়াত-শিবির সন্দেহে গ্রেপ্তার ৯ জন রিমান্ডে
সাম্প্রদায়িক হামলায় কাদের ইন্ধন, অনুমান করুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মন্দির ও বাড়িতে হামলায় ৮৪ আসামি
কালকিনিতে পুলিশের ওপর হামলা মামলায় গ্রেপ্তার ৪    

শেয়ার করুন

নটর ডেমের ছাত্র নিহত: সেই গাড়ির মূল চালক গ্রেপ্তার

নটর ডেমের ছাত্র নিহত: সেই গাড়ির মূল চালক গ্রেপ্তার

ডিএসসিসির ময়লাবাহী গাড়ির ধাক্কায় নিহত নটর ডেম ছাত্রের কাছ থেকে পাওয়া যায় এ কার্ড। ফাইল ছবি

গুলিস্তানে নটর ডেম কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্র নাঈমকে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ধাক্কা দেয় ডিএসসিসির একটি ট্রাক। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল খান। গাড়ির মূল চালক ছিলেন হারুন মিয়া।

রাজধানীর গুলিস্তানের গোল চত্বরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ময়লাবাহী যে গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসান নিহত হয়েছিলেন, তার মূল চালক হারুন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

র‌্যাব-৩-এর অপারেশন্স অফিসার বীণা রানী দাস নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গুলিস্তানে নটর ডেম কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্র নাঈমকে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ধাক্কা দেয় ডিএসসিসির একটি ট্রাক।

দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল খান। গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ও টহল পুলিশ ট্রাক ও চালকের আসনে থাকা রাসেলকে আটক করে। পরে নাঈমের বাবার করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে তোলা হলে রাসেলকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান বিচারক।

এদিকে ময়লার গাড়ির চাপায় নাঈম হাসান নিহত হওয়ার ঘটনায় দুজনকে কর্মচ্যুত ও একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ডিএসসিসির মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত দপ্তর আদেশ পাঠান।

আরও পড়ুন:
সহনশীল হওয়ার দিন শেষ: সুবর্ণা
নাইটিঙ্গেলে জামায়াত-শিবির সন্দেহে গ্রেপ্তার ৯ জন রিমান্ডে
সাম্প্রদায়িক হামলায় কাদের ইন্ধন, অনুমান করুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মন্দির ও বাড়িতে হামলায় ৮৪ আসামি
কালকিনিতে পুলিশের ওপর হামলা মামলায় গ্রেপ্তার ৪    

শেয়ার করুন

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: লাইভে ক্ষমা চাইলেন মেয়র আব্বাস

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে আপত্তি: লাইভে ক্ষমা চাইলেন মেয়র আব্বাস

ফেসবুক লাইভে কাঁদলেন রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী। ছবি: নিউজবাংলা

মেয়র আব্বাস বলেন, ‘আমি ভুল করেছি, তার জন্য আইন আছে। আমি আজ কয়েক দিন ধরে না খেয়ে আছি। আমি অসুস্থ হয়ে গেছি। আমাকে হেল্প করুন। আমাকে বাঁচান প্লিজ।’

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলা ভুল ছিল জানিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন রাজশাহীর কাটাখালীর পৌর মেয়র আব্বাস আলী।

ফেসবুকে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে লাইভে এসে তিনি তার ভাইরাল হওয়া অডিও রেকর্ডের বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষমা চান। লাইভে তাকে কাঁদতেও দেখা গেছে।

তিনি বলেন, ‘ম্যুরাল নিয়ে ছড়ানো অডিওটা একটি ঘরোয়া আড্ডার। সেখানে আমি গল্পে কিছু কথা বলেছি, কিন্তু বাস্তবে আমি ম্যুরালের বিরোধিতা করিনি... এটি আমি ভুল করে থাকতে পারি। মানুষই তো ভুল করে। এ জন্য আমি ক্ষমা চাই, কিন্তু আমাকে এ জন্য যে শাস্তি দেয়া হচ্ছে তা অনেক বেশি।’

গত ২৩ নভেম্বর থেকে মেয়র আব্বাসের একটি অডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। তাতে আব্বাসকে বলতে শোনা যায়, ‘সিটি গেট আমার অংশে…ফ্রার্মকে দিয়েছে তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে; ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা, কিন্তু একটু থেমে গেছি, গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে…যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর, সেটা ইসলামি শরিয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না (রাখব না), সব করব, তবে শেষ মাথাতে যেটা…ওটা (ম্যুরাল)।’

এটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে শুরু হয় সমালোচনা। ২৩ নভেম্বর রাতে এক ফেসবুক পোস্টে আব্বাস দাবি করেন, ওই অডিও এডিট করা।

মেয়র আব্বাসকে বুধবার দুপুরে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার তার ওপর অনাস্থা জানান পৌরসভার সব কাউন্সিলর।

তাকে আওয়ামী লীগের পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে আজীবন বহিষ্কারের দাবিতে শুক্রবার দিনভর রাজশাহী নগরীতে চলে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ-সমাবেশ।

ওই অডিও রেকর্ডের বক্তব্যের বিষয়ে লাইভে আব্বাস বলেন, ‘ম্যুরাল নিয়ে আমার কিছু কথা এখানে বলার আছে। কাটাখালীতে দুটি গেট করার জন্য আমি ভিডিও আপলোড দিয়েছিলাম। সবার মতামত চেয়েছিলাম। এখানে যে বিচ্যুতিটা আমার ঘটেছে, যে জিনিসটা নিয়ে কথা হচ্ছে। আমি একটা মানুষ, একটা দল করি, কিন্তু আমি মুসলমান। আমাদের এখানে একটা মাদ্রাসা আছে।

‘ম্যুরালের বক্তব্যটা নিয়ে যে কথা আসছে, ওই মাদ্রাসার যে বড় হুজুর, মাঝেমধ্যেই জানাজা বা অনুষ্ঠানের কারণে আমার যাওয়া হয়...মানুষটা বড় হুজুর, জামাল উদ্দিন মাহমুদ সন্দিপি... আমি মাদ্রাসায় বসেছি, কথা তুলতে তুলতে ভিডিওটা তো দেখলাম, ম্যুরালটার বিষয়ে কোনো চেঞ্জ আনা যায় না? কী সমস্যা? উনি ব্যাখা দিলেন। বোঝালেন। আমি শুনেছি। আমি তো মানুষ, আমি তো একটা মুসলমান। আল্লার কথায় আসলে কে না দুর্বল হয়। আমিও একটু দুর্বল হলাম। আমি সেদিন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করিনি। বলেছি, আমি ম্যুরালটা করলে ইসলামে ঠিক হবে না। এটা পাপ হবে। আড্ডার মধ্যে অনেক গল্পই তো করে। আমিও হয়তো করেছি। হয়তো ভুল করেছি, কত বড় ভুল করেছি?’

আব্বাস দাবি করেন, ওই অডিও ভাইরালের জেরে দল থেকে অব্যাহতি দেয়ার পর কাউন্সিলরদের হুমকি দিয়ে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা জানাতে বাধ্য করা হয়। তার কাটাখালীর দোকানে হামলা হয়। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানাননি, কার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করছেন।

আব্বাস বলেন, ‘আমি তো মানুষ। আমি তো ভুল করতেই পারি। তার জন্য ক্ষমা চাই। তারপরও মনঃপূত না হলে বহিষ্কার করবেন, আমার নামে মামলা দিবেন যতটুকু ভুল করেছি, তার জন্য, কিন্তু একের পর এক অত্যাচার জুলুম। আমার অসুস্থ মা তিন-চার দিন না খেয়ে আছে...

‘... আমি কী এত বড় অন্যায় করেছি? অন্যায় করলে তো আইন আছে। এভাবে এত কিছু করা ক ঠিক?... আমাকে বলা হচ্ছে, আমি দলের অনুপ্রবেশকারী। আমি যদি আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য কোনো দল জীবনে থাকি তাহলে সব শাস্তি মাথা পেত নেব... কেউ প্রমাণ করতে পারলে সুইসাইড করব।’

লাইভে তিনি সবার কাছে সাহায্য চেয়ে বলেছেন, ‘... যদি আমি মনে করেন, বড় অন্যায় করেছি, আমার পাশে দাঁড়ানোর দরকার নাই। যদি অন্যায় না হয় আমার পাশে দাঁড়ান, অনেক সহযোগিতা চাই। আমার অসহায় মাকে দেখতে দিন। কয়দিন আগে চিকিৎসা করিয়ে এসেছি। চার মাসের বাচ্চার কাছে যেতে চাই। আমার পাশে একটু দাঁড়ান প্লিজ। আল্লার ওয়াস্তে দাঁড়ান।

‘আমি ভুল করেছি, তার জন্য আইন আছে। আমি আজ কয়েক দিন ধরে না খেয়ে আছি। আমি অসুস্থ হয়ে গেছি। আমাকে হেল্প করুন। আমাকে বাঁচান প্লিজ।’

ভাইরাল ওই অডিও রেকর্ডের জেরে মেয়র আব্বাসের নামে গত বৃহস্পতিবার রাতে বোয়ালিয়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়।

এর আগে দলীয় কার্যালয়ে পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের জরুরি বৈঠকে বুধবার দুপুরে আব্বাসকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে কেন দলীয় সদস্যপদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হবে না, জানতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

আব্বাস আলী রাজশাহীর কাটাখালী পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে তিনি প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন:
সহনশীল হওয়ার দিন শেষ: সুবর্ণা
নাইটিঙ্গেলে জামায়াত-শিবির সন্দেহে গ্রেপ্তার ৯ জন রিমান্ডে
সাম্প্রদায়িক হামলায় কাদের ইন্ধন, অনুমান করুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মন্দির ও বাড়িতে হামলায় ৮৪ আসামি
কালকিনিতে পুলিশের ওপর হামলা মামলায় গ্রেপ্তার ৪    

শেয়ার করুন

ফেসবুক লাইভে আসছেন মেয়র আব্বাস

ফেসবুক লাইভে আসছেন মেয়র আব্বাস

রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী। ছবি: সংগৃহীত

আব্বাস বলেন, ‘আমি রাজশাহীর বাইরে আছি। ফেসবুক লাইভে এসে কথা বলব। তখন অনেক বিষয় আপনারা ক্লিয়ার হবেন। আমি স্ট্যাটাস দিয়েছি। বিকেল সাড়ে ৪টায় লাইভে আসব, দেখেন অনেক তথ্য সেখানে পাবেন।’

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলার অডিও ফাঁসের জেরে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া রাজশাহীর কাটাখালী পৌর মেয়র আব্বাস আলী ফেসবুক লাইভে আসার কথা জানিয়েছেন।

আব্বাস নিউজবাংলাকে তার ফেসবুক আইডি থেকে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় লাইভে আসার কথা জানিয়েছেন।

এক ফেসবুক পোস্টে শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে তিনি বিষয়টি জানান।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অডিও ফাঁসের পর থেকে এ বিষয়ে সরাসরি আব্বাসের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শুক্রবার বিকেলে তিনি ফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি রাজশাহীর বাইরে আছি। ফেসবুক লাইভে এসে কথা বলব। তখন অনেক বিষয় আপনারা ক্লিয়ার হবেন। আমি স্ট্যাটাস দিয়েছি। বিকেল সাড়ে ৪টায় লাইভে আসব, দেখেন অনেক তথ্য সেখানে পাবেন।

‘দেখতে থাকেন আর ভালো লাগলে শেয়ার করতে থাকেন। দেখেন ঘটনা কোন জায়গা থেকে কোন জায়গায় যায়। আজ থেকে শুরু করছি, এখন আমি লাইভেই কথা বলব। আমি কন্টিনিউ লাইভে আসব, সেখানেই প্রশ্নের উত্তর দেব। এখন কিছু বলব না।’

ফেসবুক লাইভে আসছেন মেয়র আব্বাস
শুক্রবার দুপুরে মেয়র আব্বাসের কুশপুতুল পোড়ায় ছাত্রলীগের কর্মীরা

গত ২৩ নভেম্বর থেকে মেয়র আব্বাসের একটি অডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ফাঁস হওয়া ১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের বক্তব্যে আব্বাসকে বলতে শোনা যায়, ‘সিটি গেট আমার অংশে…ফ্রার্মকে দিয়েছে তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে; ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা, কিন্তু একটু থেমে গেছি, গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে…যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর, সেটা ইসলামি শরিয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না (রাখব না), সব করব, তবে শেষ মাথাতে যেটা…ওটা (ম্যুরাল)।’

মেয়র আরও বলেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, ম্যুরালটা ঠিক হবে না দিলে। আমার পাপ হবে; তো কেন দিব, দিব না। আমি তো কানা না। যেভাবে বুঝাইছে তাতে আমার মনে হয়েছে, ম্যুরালটা হলে আমার ভুল করা হবে।

‘এ খবরটা যদি যায় তাহলে আমার রাজনীতির ১২টা বাজবে যে এই ম্যুরাল দিছে না। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে গিয়ে…আল্লাহকে নারাজ করব নাকি। এ জন্য কিছু করার নাই। মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা যাবে না।’

এই অডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে শুরু হয় সমালোচনা। ২৩ নভেম্বর রাতে এক ফেসবুক পোস্টে আব্বাস দাবি করেন, ওই অডিও এডিট করা।

মেয়র আব্বাসকে বুধবার দুপুরে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার তার ওপর অনাস্থা জানান পৌরসভার সব কাউন্সিলর।

তাকে আওয়ামী লীগের পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে আজীবন বহিষ্কারের দাবিতে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। তারা নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে আব্বাসের কুশপুতুল পোড়ায়।

আরও পড়ুন:
সহনশীল হওয়ার দিন শেষ: সুবর্ণা
নাইটিঙ্গেলে জামায়াত-শিবির সন্দেহে গ্রেপ্তার ৯ জন রিমান্ডে
সাম্প্রদায়িক হামলায় কাদের ইন্ধন, অনুমান করুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মন্দির ও বাড়িতে হামলায় ৮৪ আসামি
কালকিনিতে পুলিশের ওপর হামলা মামলায় গ্রেপ্তার ৪    

শেয়ার করুন

এসএসসি পরীক্ষার্থী হত্যা: সংশোধনাগারে আরও ২ কিশোর

এসএসসি পরীক্ষার্থী হত্যা: সংশোধনাগারে আরও ২ কিশোর

আদালত পুলিশের পরিদর্শক কে এম জাহাঙ্গীর কবীর জানান, এসএসসি পরীক্ষার্থী তন্ময় আহমেদ তপু হত্যা মামলার দুই আসামি বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করে। আদালত তাদের আবেদন নাকচ করে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। শুক্রবার এই দুই কিশোর আসামিকে সেখানে পাঠানো হবে।

চুয়াডাঙ্গায় এসএসসি পরীক্ষার্থী হত্যা মামলার আরও দুই কিশোর আসামিকে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুসরাত জেরিন বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে এ নির্দেশ দেন।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক কে এম জাহাঙ্গীর কবীর নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, এসএসসি পরীক্ষার্থী তন্ময় আহমেদ তপু হত্যা মামলার দুই আসামি বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করে। আদালত তাদের আবেদন নাকচ করে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। শুক্রবার এই দুই কিশোর আসামিকে সেখানে পাঠানো হবে।

জাহাঙ্গীর আরও জানান, গত ২৩ নভেম্বর এই মামলার আরেক আসামি আত্মসমর্পণ করে। তার বয়সও ১৮ বছরের কম হওয়ায় বিচারক তাকে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ৭ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার গুলশানপাড়ায় আল হেলাল মাধ্যমিক ইসলামি একাডেমিতে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে তপুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

ওই দিন রাত ১২টার দিকে তার বড় ভাই মাসুদুর রহমান সাতজনের নামে ও অজ্ঞাতপরিচয় ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

এ মামলায় ৮ নভেম্বর পুলিশ মো. সুমনকে গ্রেপ্তার করে। ১১ নভেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এমদাদুল হক আকাশ। তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সহনশীল হওয়ার দিন শেষ: সুবর্ণা
নাইটিঙ্গেলে জামায়াত-শিবির সন্দেহে গ্রেপ্তার ৯ জন রিমান্ডে
সাম্প্রদায়িক হামলায় কাদের ইন্ধন, অনুমান করুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মন্দির ও বাড়িতে হামলায় ৮৪ আসামি
কালকিনিতে পুলিশের ওপর হামলা মামলায় গ্রেপ্তার ৪    

শেয়ার করুন

ঝুটের গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে

ঝুটের গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে

গাজীপুরের কোনাবাড়িতে ঝুটের গুদামে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে দুই ঘণ্টা পর। ছবি: নিউজবাংলা

ফায়ার সার্ভিস জানায়, পাঁচটি ইউনিটের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত পৌনে ৮টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে।

গাজীপুরের কোনাবাড়িতে ঝুটের গুদামে লাগা আগুন প্রায় দুই ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক আব্দুল হামিদ মিয়া এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে লায়ন কামালের ঝুটের গুদামে আগুন লাগে। পরে তা পাশের চারটি গুদামে ছড়িয়ে পড়ে।

কাশিমপুর ডিবিবিএল মিনি ফায়ার সার্ভিস ও জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ শুরু করে। পরে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি ইউনিট সেখানে যোগ দেয়।

আব্দুল হামিদ মিয়া আরও জানান, পাঁচটি ইউনিটের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত পৌনে ৮টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে।

আরও পড়ুন:
সহনশীল হওয়ার দিন শেষ: সুবর্ণা
নাইটিঙ্গেলে জামায়াত-শিবির সন্দেহে গ্রেপ্তার ৯ জন রিমান্ডে
সাম্প্রদায়িক হামলায় কাদের ইন্ধন, অনুমান করুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মন্দির ও বাড়িতে হামলায় ৮৪ আসামি
কালকিনিতে পুলিশের ওপর হামলা মামলায় গ্রেপ্তার ৪    

শেয়ার করুন

এবার মেয়র পদ হারালেন জাহাঙ্গীর

এবার মেয়র পদ হারালেন জাহাঙ্গীর

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সদ্য সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। ফাইল ছবি

সদ্য বরখাস্ত মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো কী জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ আছে। বেশ কয়েকটি অভিযোগ আছে। সেসব যেহেতু তদন্ত হবে, তখন আপনারা জানতে পারবেন।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দলীয় পদ হারানোর পর মেয়র হিসেবেও বরখাস্ত হয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়রকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

মন্ত্রী বলেন, ‘গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে দাখিল হয়েছিল। সেগুলোকে পর্যালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে।

‘যেহেতু আইন অনুযায়ী কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, বিশেষ করে মেয়রের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ আসে এবং তা যদি তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য আমলে নেয়া হয়, তাহলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার বাধ্যবাধকতা আছে। সে কারণে মেয়র জাহাঙ্গীরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’

মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো তদন্তে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘তার (জাহাঙ্গীর) বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে অপসারণ করা হবে।’

মেয়রের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো কী জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ আছে। বেশ কয়েকটি অভিযোগ আছে। সেসব যেহেতু তদন্ত হবে, তখন আপনারা জানতে পারবেন।

‘অভিযোগ, যেমন: কোথাও অবৈধভাবে জায়গা দখল করা, জনগণের স্বার্থ পরিপন্থি কাজ করা। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, সেখানে অনেক অবকাঠামো ক্ষতিপূরণ না দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। জোর জবরদস্তি করা; এ ধরনের কিছু অভিযোগ এসেছে।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তির কোনো অভিযোগ এসেছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী তাজুল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক, সে যেই হোক না কেন, কথা বলা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ। এটাকে একজন নাগরিক হিসেবে আমি ঘৃণা করি। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে, যিনি বাংলাদেশকে স্বীকার করেন, তাহলে বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা না করার কোনো কারণ নেই।

‘যারা বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা করবেন না, সে তো বাংলাদেশকেই স্বীকার করে না। সে কারণে আমরা সবাই জানি, আপনারাও জানেন। সে অভিযোগটা দলের কাছে দিয়েছে এবং দলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে; তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের আইন অনুযায়ী আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান আছে। সেই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি দায়িত্ব পালনে যদি গর্হিত কাজ করে, সেসব ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা আমাদের দেয়া আছে।

‘সেই ক্ষমতাই আমরা প্রয়োগ করছি। আইনে আমাদের যেসব অপশন দেয়া আছে, সেগুলো অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।’

তিন দিনের মধ্যে দায়িত্ব নিচ্ছেন নতুন মেয়র

মেয়র জাহাঙ্গীর সাময়িক বরখাস্ত হওয়ায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মেয়রদের প্যানেল গঠন করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘সেখানে মেয়রদের প্যানেল গঠন করা হয়েছে। যিনি জ্যেষ্ঠতার বিচারে এক নম্বরে আছেন, তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাকেই দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে।

‘আজকে আমরা বহিষ্কার আদেশ জারি করছি। পত্রপ্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে নতুন ভারপ্রাপ্ত মেয়র দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এর মধ্যেই ক্ষমতা হস্তান্তরের নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।’

মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত শেষ হতে কতদিন লাগতে পারে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমলে নিয়েছি। এখন তদন্ত শুরু হবে অনতিবিলম্বে। তদন্ত করতে মাঠ পর্যায়ে কতদিন লাগবে, সেটা এখনই বলা যাবে না। হয়তো বেশি সময় লাগতে পারে। আরও নতুন বিষয় যোগ হতে পারে।

‘তার বিরুদ্ধে যে চার্জগুলো গঠন করা হবে, আমরা তদন্ত করে যেগুলো পাব, সেগুলো বিষয়ে তাকে শোকজ করা হবে। আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিকভাবে অধিকার আছে। সে অধিকার তিনিও ভোগ করতে পারবেন।’

গত ২২ সেপ্টেম্বর মেয়র জাহাঙ্গীরের ঘরোয়া আলোচনার রেকর্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে তাকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করতে শোনা যায়। এরপর আওয়ামী লীগের একটি অংশ জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে বিক্ষোভে নামে।

ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে গত ৩ অক্টোবর জাহাঙ্গীরের ব্যাখ্যা চায় আওয়ামী লীগ। তাকে ১৫ দিন সময় দেয়া হয়। ১৮ অক্টোবর সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই মেয়র তার ব্যাখ্যা দেন বলে নিউজবাংলাকে জানান।

২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, ১৯ নভেম্বর দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে জাহাঙ্গীরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। পরে নির্ধারিত দিনের বৈঠকে জাহাঙ্গীরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

আরও পড়ুন:
সহনশীল হওয়ার দিন শেষ: সুবর্ণা
নাইটিঙ্গেলে জামায়াত-শিবির সন্দেহে গ্রেপ্তার ৯ জন রিমান্ডে
সাম্প্রদায়িক হামলায় কাদের ইন্ধন, অনুমান করুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মন্দির ও বাড়িতে হামলায় ৮৪ আসামি
কালকিনিতে পুলিশের ওপর হামলা মামলায় গ্রেপ্তার ৪    

শেয়ার করুন