বেঁচে থাকলে আর্মি অফিসার হতো রাসেল: প্রধানমন্ত্রী

বেঁচে থাকলে আর্মি অফিসার হতো রাসেল: প্রধানমন্ত্রী

শেখ রাসেল। ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেউ যদি জিজ্ঞেস করতো তুমি (রাসেল) কি হবে? বলতো, আমি আর্মি হব। আর্মি অফিসার হবে এটাই তার জীবনের স্বপ্ন ছিল। কামালও মুক্তিযুদ্ধ করে ট্রেনিং নেয়। সেনা সদস্য ছিল, পড়ে রিজাইন করে। যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো, পড়াশোনা শেষ করতে সে চলে আসে। জামাল সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়। রাসেলেরও সেই আকাঙ্ক্ষা ছিল। তার সে স্বপ্ন কিন্তু আর পূরণ হয়নি।’

বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে রাসেলের আকাঙ্ক্ষা ছিল সেনা অফিসার হবে, কিন্তু ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে তার সেই স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। প্রথম শেখ রাসেল দিবসে ছোট ভাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হতে না পারার আক্ষেপ ঝড়ল শেখ হাসিনার কণ্ঠে।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সোমবার শেখ রাসেল দিবস ২০২১-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেউ যদি জিজ্ঞেস করতো তুমি (রাসেল) কি হবে? বলতো, আমি আর্মি হব। আর্মি অফিসার হবে এটাই তার জীবনের স্বপ্ন ছিল। কামালও মুক্তিযুদ্ধ করে ট্রেনিং নেয়। সেনা সদস্য ছিল, পড়ে রিজাইন করে। যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতো, পড়াশোনা শেষ করতে সে চলে আসে। জামাল সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়।

‘রাসেলেরও সেই আকাঙ্ক্ষা ছিল। তার সে স্বপ্ন কিন্তু আর পূরণ হয়নি। আজকে হয়তো বেঁচে থাকলে সেনাবাহিনীর একজন অফিসার হতে পারত, কিন্তু সেটা আর হতে পারল না।’

১০ বছরের রাসেলকে কেন হত্যা করা হলো তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কারো জীবনে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে। একজন শিশুকে হত্যা মানে লাখো শিশুর জীবনে আশঙ্কা এসে যায়। আমার একটাই প্রশ্ন আসে, কেন? এই শিশুটির কি অপরাধ ছিল? আমার বাবার কি অপরাধ ছিল? বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে এজন্য?

‘১৫ আগস্ট, আমার বাবাকে ক্ষমতার লোভে হত্যা করল। একই সাথে আমার মা, আমার ভাই কামাল-জামাল। তাদের স্ত্রী সুলতানা, রোজি। সবচেয়ে কষ্ট হলো রাসেল। বাবা মা ভাই সকলকে হত্যার পর সবারর শেষে রাসেলকে…। রাসেল মায়ের কাছে যাব বলে কান্নাকাটি করছিল। সেই রাসেলকে ভাই চাচা বাবা সকলের লাশ ডিঙিয়ে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।’

বক্তব্যে শেখ রাসেলকে নিয়ে নানা স্মৃতি বর্ণনা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘একটা ছোট্ট শিশু, তার জীবনে তো অনেক স্বপ্ন থাকে। জীবনটাকে সে উপভোগ করতে চায়। জন্মের সময় থেকেই রাসেল আমাদের সকলের এত আদরের ছিল।

‘আমরা চারটি ভাইবোন, রাসেল আসার পরে পাঁচ ভাইবোন। আমরা রাসেলের জন্য অধির আগ্রহে অপেক্ষা করেছিলাম। আমাদের একটি ছোট্ট সোনামণি আসবে তাকে নিয়ে আমরা খেলব, তাকে বড় করব। রাসেলের যেদিন জন্ম হলো সেদিন থেকেই সে আমাদের সকলের চোখের মনি।’

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে কষ্ট হয় যে রাসেল আসলে বাবার স্নেহ ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ৬৪ সালের অক্টোবরে রাসেলের জন্ম আমার বাবা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, বারবার তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। আমরা ছোটবেলা থেকেই বাবা কিছুদিন ঘরে তারপর জেলে। রাসেলের জন্মের পর ৬৬ সালে বাবা যখন ছয় দফা দিলেন তারপর তিনি সারা বাংলাদেশ ছুটে বেড়িয়েছেন।

‘ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ছয় দফা দিলেন অল্প সময়ের মধ্যে মে মাসে তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। সে সময় বাবাকে রাসেল খুব একটা কাছে পায়নি। তবুও যতটুকু সময় পেতেন আমার বাবা শিশুদের খুবই পছন্দ করতেন, আদর করতেন। রাসেলকে তিনি কোলেই রাখতেন, নিজের হাতে দুধ খাওয়াতেন শিশি ভরে। সেটা খুব অল্প সময়ের জন্য। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারাগারে যেদিন দেখা করে আসতো রাসেল তখন কথা বলতে পারতো না, কিন্তু তার ভেতরের যে অস্থিরতা, মনের যে কষ্ট সেটা আমরা বুঝতে পারতাম। সে যখন কান্নাকাটি করতো আমাদের সব ভাইবোনকে ডাকতো আমরা সবাই তার সঙ্গে বসতাম। এভাবেই তার কষ্টটা সে চেপে রাখতো। রাসেল এভাবেই বড় হলো।

‘১৯৬৯ সালে যখন বাবা মুক্তি পেলেন তখন রাসেল কিছুতেই তার কাছছাড়া হতো চাইতো না। কিছুক্ষণ পরপরই আব্বাকে দেখে আসতো যে তিনি আছেন কি না।’

শেখ হাসিনার কথায় উঠে আসে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় বন্দি থাকার স্মৃতি। তিনি বলেন, ‘এরপরতো আসলো ৭১ সাল। আব্বাকে যখন গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হলো এরপরেই আমার মাসহ আমাদের বন্দি করা হলো। রাসেল ছোট্ট তাকেও বন্দি করা হলো। সে বন্দিখানায় তার খেলাধুলার কোনো সুযোগ নেই। খেলার সাথী নেই।

‘আমার দুই ভাই মুক্তিযুদ্ধে চলে গেছে। রাসেলের ভেতরে যে কষ্ট সেটা কিন্তু সে কখনও প্রকাশ করতো না। তার চোখে পানি থাকতো, জিজ্ঞেস করতাম বলতো কিরে তোর চোখে পানি কেন? বলতো চোখে ময়লা পড়েছে। ওইটুকু একটা ছোট বাচ্চা তার কষ্টটাকে লুকিয়ে রাখতো।’

রাসেলের স্মৃতি তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার পর সর্বক্ষণ বাবার সঙ্গে সঙ্গেই থাকার চেষ্টা করতো। এজন্য আব্বা যখন যেখানে যেতেন তাকে নিয়ে যেতেন। তার কাপড় চোপড়ও মা সেভাবেই তৈরি করে দিত।

‘রাসেল আরেকটা কাজ করতো, আমরা যখন টুঙ্গিপাড়ায় যেতাম, গ্রামের যে গরীব ছেলে তাদের একসঙ্গে করে প্যারেড করাতো। কাঠের বন্দুক তৈরি করে দিয়ে তাদের প্যারেড শেখাতো। সেটা আবার এমনি না পুরস্কারেরও ব্যবস্থা থাকতো। সবাইকে একটি করে টাকা দিতো। আর এই ছেলেদের জন্য আমার মা কাপড় কিনে নিয়ে যেতেন। এটা রাসেলেরই একটা নির্দেশ ছিল, যে বাচ্চাদের প্যান্ট শার্ট কিনে দিতে হবে।’

ভাই রাসেলের স্মৃতি চারণায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্কুলে যেতে প্রথমে একটু বাধা ছিল, তার সঙ্গে আমাদের কাউকে যেতে হতো। বিশেষ করে রেহানা প্রায়ই গিয়ে বসে থাকতো। পরে অবশ্য ঠিক হয়ে যায়। কমিক বই পড়তে খুব পছন্দ ছিল। যখন ঠিক মতো পড়তেও পাড়তো না তখনও তাকে কমিক পড়ে শোনাতে হতো।’

আরও পড়ুন:
শেখ রাসেলকে নিয়ে সংকলিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
শেখ রাসেল দিবসে মোড়ক উন্মোচন হচ্ছে দুটি বইয়ের
সব শিশুর মাঝে রাসেলকে খুঁজে ফেরেন শেখ হাসিনা
সব প্রাথমিকে শেখ রাসেল বুক কর্নার
শেখ রাসেলের জন্মদিন পেল জাতীয় দিবসের স্বীকৃতি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাংলাদেশ আজ উপচেপড়া ঝুড়ির দেশ

বাংলাদেশ আজ উপচেপড়া ঝুড়ির দেশ

রাজধানীর হাতিরঝিলে বিজয় উৎসবে আলোর ফোয়ারা। ফাইল ছবি

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিশ্ব মানচিত্রে আয়তনের দিক দিয়ে ছোট একটি দেশ হলেও চাল, মাছ, ফল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদনে অন্যতম প্রধান দেশ। এই উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রেখে সরকার চায় দেশকে উন্নত, মানবিক, সামাজিক ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে।’

বিজয়ের ৫০ বছরে এসে বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ নয়, বরং ঝুড়ি উপচে পড়া দেশ।

রোববার এফবিসিসিআই আয়োজিত ১৬ দিনব্যাপী ‘বিজয়ের ৫০ বছর: লাল-সবুজের মহোৎসব’-এর পঞ্চম দিনের অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনরা এমন মন্তব্য করেছেন। রাজধানীর হাতিরঝিলে অ্যাম্ফিথিয়েটারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বোববার ছিলো রবীন্দ্র উৎসব।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম, বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন স্বাধীনতা লাভ করে তখন বিশ্বনেতাদের অনেকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে বিজয়ের ৫০ বছরে এসে বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ নেই; বরং ঝুড়ি উপচে পড়া দেশ। বিশ্ব মানচিত্রে আয়তনের দিক দিয়ে ছোট একটি দেশ হলেও চাল, মাছ, ফল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদনে অন্যতম প্রধান দেশ।

ভবিষ্যতে এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে সরকার চায় বাংলাদেশকে উন্নত, মানবিক, সামাজিক ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে।’

দেশে মৌলবাদের বিস্তার রুখতে সাংস্কৃতিক বিপ্লব দরকার উল্লেখ করে তরুণ জনগোষ্ঠীকে সংস্কৃতিমনা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তথ্যমন্ত্রী। বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে এফবিসিসিআই’র লাল-সবুজের মহোৎসব বাংলাদেশের আবহমান সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে সাহায্য করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ব্যবসা করার পাশাপাশি যাদের কল্যাণে দেশ স্বাধীন হয়েছে, তাদের প্রতি দায়িত্ববোধ রয়েছে ব্যবসায়ীদের। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী সব বাংলদেশির জন্য মাহেন্দ্রক্ষণ। এই বিশেষ উপলক্ষ্ উদযাপনে এফবিসিসিআই ১৬ দিনব্যাপী মহোৎসবের আয়োজন করেছে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাপানের রাষ্ট্রদ্যুত ইতো নাওকি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের প্রিয় দেশগুলোর একটি ছিল জাপান। আগামী বছর জাপান-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পালিত হবে। সে উপলক্ষে বাংলাদেশে জাপানি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হবে।’

বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে প্রথম দিকে স্বীকৃতি দেয়া দেশগুলোর মধ্যে জাপান একটি।

প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের গান, লেখা, কবিতা মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণআন্দোলনে শক্তি যুগিয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে রবীন্দ্রনাথের ‘আমার সোনার বাংলা’ গানকে বঙ্গবন্ধু আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ মাত্র ১২ বছরে সুসম্পন্ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এই উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে সাংস্কৃতিক বিপ্লব করতে হবে।’

মুজিব বর্ষে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সোনার বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকায় যারা জমি বেদখল করে রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ডিএনসিসি।’

মীর নাসির হোসেন তার বিশেষ বক্তব্যে রবীন্দ্র উৎসব উপলক্ষে কবিগুরুর নানা কবিতার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।

অতিথিদের বক্তব্য শেষে দর্শকদের রবীন্দ্র সংগীত গেয়ে শোনার জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাউকি। এরপর অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

১৬ দিনব্যাপী ‘বিজয়ের ৫০ বছর: লাল-সবুজের মহোৎসব’-এর ষষ্ঠ দিন সোমবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে নৃত্য উৎসব। এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।

আরও পড়ুন:
শেখ রাসেলকে নিয়ে সংকলিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
শেখ রাসেল দিবসে মোড়ক উন্মোচন হচ্ছে দুটি বইয়ের
সব শিশুর মাঝে রাসেলকে খুঁজে ফেরেন শেখ হাসিনা
সব প্রাথমিকে শেখ রাসেল বুক কর্নার
শেখ রাসেলের জন্মদিন পেল জাতীয় দিবসের স্বীকৃতি

শেয়ার করুন

স্বৈরাচার পতন দিবস আজ

স্বৈরাচার পতন দিবস আজ

শহীদ নূর হোসেনের বড় ভাই আলী হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বৈরাচার পতনের পর শত দুঃখের মাঝেও আমাদের পরিবার এক ধরনের প্রাপ্তি অনুভব করেছে।’

আজ ৬ ডিসেম্বর, স্বৈরাচার পতন দিবস। গণ-আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের এই দিনে পদত্যাগ করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। একই দিনে তিনি অস্থায়ী সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। এর মাধ্যমে অবসান হয় এরশাদের ৯ বছরের স্বৈরশাসনের। মুক্তি পায় গণতন্ত্র।

সামরিক আইন জারির মাধ্যমে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ ক্ষমতা দখল করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন দুই জোটসহ বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর টানা আন্দোলনের মুখে এইচ এম এরশাদ ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। বিভিন্ন দল ও সংগঠন দিনটিকে ‘স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ হিসেবে পালন করে। আর এরশাদের দল জাতীয় পার্টি পালন করে ‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ হিসেবে।

এরশাদের ক্ষমতা ছাড়ার তিন বছর আগে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর বুকে-পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগান লিখে এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিলেন নূর হোসেন। সেদিন জীবন দিতে হয় তাকে।

স্বৈরাচার পতন দিবসের স্মৃতিচারণ করেন শহীদ নূর হোসেনের বড় ভাই আলী হোসেন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘সেদিনের কথা মনে করলে আমাদের কাছে মনে হয় দেশ ভারমুক্ত হয়েছে। দেশে যে একটা কালো মেঘ ছিল সেটা চলে গেছে।’

‘ওইদিন ভাই হারানোর দুঃখের মাঝেও একদিক দিয়ে আমার মনে একটু স্বস্তিও ছিল। আমি ঢাকার রাস্তায় হেঁটে বেরিয়েছি। যেদিন স্বৈরাচারের পতন হয় সেদিন আমার পরিবার দুঃখের মধ্যেও এক ধরনের প্রাপ্তি অনুভব করেছে।’

আলী হোসেন বলেন, ‘নূর হোসেনের মৃত্যুর পর এরশাদ সরকারের আমলে ভাইয়ের লাশ খুঁজে বেরিয়েছি। বাবাকে সঙ্গে নিয়ে আমি রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতাম। এক মাস পর্যন্ত কোথাও ভাইয়ের লাশ পেলাম না। পরে খবর পাই জুরাইন কবরস্থানের কবরখোদকদের কাছ থেকে। জানতে পারি যে সেখানে আমার ভাইকে দাফন করা হয়েছে।’

স্বৈরাচার পতন দিবসে আজকের চাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি চাই, এদেশে যেন সেরকম আর কোনো স্বৈরাচার না আসে। সবাই যেন সুখ-দুঃখে একসঙ্গে থাকতে পারে। আমরা সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে পারি। আর যেন কোনো মায়ের বুক খালি না হয়।’

আলী হোসেন বলেন, ‘স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শুধু আমার ভাই একাই তো জীবন দেয়নি। আরও বহু মানুষের জীবনের বিনিময়ে স্বৈরাচার-মুক্তির এই সফলতা এসেছে। নূর হোসেন, রউফুন বসুনিয়া, বাবুল এমন অনেক যুবক সে সময় প্রাণ দিয়েছেন। এসব ঘটনার বিচার আমরা আজও চাই।’

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নূর হোসেনের বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন জানিয়ে আলী হোসেন বলেন, ‘এরশাদ জেলখানা থেকে বেরিয়ে প্রথম আমাদের বাসায় আসেন। তিনি বলেছিলেন-আপনার ছেলে মারা গেছে, আমি সেজন্য অনুতপ্ত এবং ক্ষমা চাই। আমি আপনার ছেলে হয়ে সারা জীবন বাঁচতে চাই।’

২০১৯ সালের ১৪ জুলাই সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

শহীদ নূর হোসেনের মাসহ পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে থাকেন মিরপুর মাজার রোডে। এর আগে তারা রাজধানীর নবাবপুরের বনগ্রামে থাকতেন। নূর হোসেনের বাবা মারা গেছেন ২০০৫ সালে।

আরও পড়ুন:
শেখ রাসেলকে নিয়ে সংকলিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
শেখ রাসেল দিবসে মোড়ক উন্মোচন হচ্ছে দুটি বইয়ের
সব শিশুর মাঝে রাসেলকে খুঁজে ফেরেন শেখ হাসিনা
সব প্রাথমিকে শেখ রাসেল বুক কর্নার
শেখ রাসেলের জন্মদিন পেল জাতীয় দিবসের স্বীকৃতি

শেয়ার করুন

সিলেট সেনানিবাসে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য

সিলেট সেনানিবাসে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ রোববার সিলেট সেনানিবাসের এভিনিউ-১৭ এর মুজিব চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ‘বজ্রকণ্ঠ’ উদ্বোধন করেন। ছবি: আইএসপিআর

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি স্থাপনের মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জাতির প্রতি তার অবদানকে অবিস্মরণীয় করে রাখার প্রয়াস নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভাস্কর্যটি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উজ্জীবিত করবে। এছাড়া ভাস্কর্যটি নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে ফুটিয়ে তুলবে।

সিলেট সেনানিবাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য উদ্বোধন করা হয়েছে।

রোববার বজ্রকণ্ঠ নামের ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করা হয়।

সিলেট সেনানিবাসের মূল সড়ক এভিনিউ-১৭ এর মুজিব চত্বরে ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে স্মরণীয় করে রাখতে এরিয়া সদর দপ্তর সিলেটের তত্ত্বাবধানে মুজিব চত্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। ভাস্কর্যটির উচ্চতা ১৫ ফুট এবং বেইজের উচ্চতা ছয় ফিট। দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্যটি সিলেট-তামাবিল বাইপাস সড়ক থেকে দৃশ্যমান।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি স্থাপনের মাধ্যমে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জাতির প্রতি তার অবদানকে অবিস্মরণীয় করে রাখার প্রয়াস নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভাস্কর্যটি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উজ্জীবিত করবে। এছাড়া ভাস্কর্যটি নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে ফুটিয়ে তুলবে।

অনুষ্ঠানে জিওসি ১৭ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার সিলেট এরিয়াসহ সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সিলেট এরিয়ায় কর্মরত অফিসার, জেসিও এবং অন্যান্য পদবীর সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
শেখ রাসেলকে নিয়ে সংকলিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
শেখ রাসেল দিবসে মোড়ক উন্মোচন হচ্ছে দুটি বইয়ের
সব শিশুর মাঝে রাসেলকে খুঁজে ফেরেন শেখ হাসিনা
সব প্রাথমিকে শেখ রাসেল বুক কর্নার
শেখ রাসেলের জন্মদিন পেল জাতীয় দিবসের স্বীকৃতি

শেয়ার করুন

সার্ভার জটিলতা: আড়াই লাখ টিকাগ্রহীতার তথ্য উধাও

সার্ভার জটিলতা: আড়াই লাখ টিকাগ্রহীতার তথ্য উধাও

ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিক্যাল অফিসার ডা. দেবাশিস বিশ্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই দুই দিনে টিকা নেওয়া প্রায় সবার ক্ষেত্রেই এমন সমস্যার তথ্য পাওয়া গেছে। সার্ভার জটিলতায় এমনটা হয়ে থাকতে পারে।’

নিবন্ধনের তিন মাস পর ১৩ অক্টোবর জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে করোনা টিকার প্রথম ডোজ নেন নুসরাত জাবীন বিভা। নিয়ম অনুযায়ী টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার কথা এক মাস পর। তবে দেড় মাসের বেশি সময় পার হলেও টিকাসংক্রান্ত এসএমএস পাননি তিনি। এক প্রকার নিরুপায় হয়ে দ্বিতীয় ডোজ নিতে ২ ডিসেম্বর টিকাকেন্দ্রে যোগাযোগ করেন তিনি।

কেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বলেন, ১৩ অক্টোবর যারা টিকা নিয়েছেন তাদের তথ্য সার্ভার থেকে ডিলিট হয়ে গেছে। যে কারণে ওই দিনে টিকা নেয়া কাউকেই এসএমএস দেয়া সম্ভব হয়নি। নিজ উদ্যোগে যারা টিকাকেন্দ্রে আসছেন তাদের টিকাদানের তারিখ আপডেট করে দেয়া হচ্ছে। এরপর দু-একদিনের মধ্যে তাদের এসএমএস পাঠানো হচ্ছে। এতে নতুন করে ভোগান্তিতে পড়ছেন টিকার প্রথম ডোজ গ্রহীতারা।

শুধু নুসরাত জাবীন বিভা নন, ওই দিন টিকা দেয়া আড়াই লাখের বেশি টিকাগ্রহীতার তথ্য সার্ভার উধাও হয়ে গেছে। তবে টিকা গ্রহণের তারিখ সার্ভার থেকে কেন কীভাবে উধাও হয়ে গেল, তা জানা নেই ওই কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্তকর্তা স্বীকার করেছেন, সার্ভারের জটিলতার কারণেই গত ১৩ অক্টোবর সারা দেশে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৬১ জন টিকাগ্রহীতার টিকা গ্রহণের তারিখ সুরক্ষা ওয়েবসাইটের (www.surokkha.gov.bd) সার্ভার থেকে উধাও হয়ে গেছে।

তারা বলছেন, ইতিমধ্যে এমন একাধিক অভিযোগ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আসছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। যাদের তথ্য গায়েব হয়েছে, তাদের কিছুদিন পর নতুন করে টিকা কার্ড ডাউনলোড করতে হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা রোববার নিউজবাংলাকে বলেন, সার্ভার জটিলতার কারণে ওই দিন হয়তো এমনটা হতে পারে। টিকাগ্রহীতার টিকা নেয়া তারিখ খুঁজে না পাওয়ায় ইতিমধ্যে বিষয়টি আইসিটি বিভাগকে জানানো হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সমস্যার সমাধান হলে ওই দিনের টিকাগ্রহীতারা নতুন করে টিকা কার্ড ডাউনলোড করলে ৮০ শতাংশই টিকা গ্রহণের তারিখ পেয়ে যাবেন। বাকি ২০ শতাংশের ক্ষেত্রে যে সমস্যাটা তৈরি হবে, তা সরাসরি আইসিটি বিভাগকে জানানো হবে। আশা করা যায়, এরপর তাদের সমস্যারও সমাধান হবে।

‘এমন কোনো সমস্যা দেখা দিলেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বিষয়টি আইসিটি বিভাগকে জানিয়ে দেয়া হয়। এ বিষয়টি ইতিমধ্যে আমরা জানিয়ে দিয়েছি। তারা জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে।’

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘শুধু ১৩ অক্টোবর নয়, ওই মাসের ২৮ তারিখেও দেশের কিছু কেন্দ্রে এমন সমস্যা দেখা দেয়। তা নিয়েও কাজ করছে আইসিটি বিভাগ।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিক্যাল অফিসার ডা. দেবাশিস বিশ্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই দুই দিনে টিকা নেওয়া প্রায় সবার ক্ষেত্রেই এমন সমস্যা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সার্ভার জটিলতার কারণে এমন সমস্যা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে টিকার তথ্যগুলো আছে, কিন্তু হ্যাং হয়ে গেছে। এখনো সেগুলো উদ্ধার করা যায়নি। এখন নতুন করে নিতে গেলে একই তথ্য দুবার নেয়া হয়ে যাবে। এটা নিয়ে অধিদপ্তর ও আইসিটি বিভাগ কাজ করছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমন তথ্য আমার জানা নেই। তবে এমনটা হয়ে থাকলে বিষয়টি অবশ্যই আইসিটি বিভাগে জানানো হবে।’

আরও পড়ুন:
শেখ রাসেলকে নিয়ে সংকলিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
শেখ রাসেল দিবসে মোড়ক উন্মোচন হচ্ছে দুটি বইয়ের
সব শিশুর মাঝে রাসেলকে খুঁজে ফেরেন শেখ হাসিনা
সব প্রাথমিকে শেখ রাসেল বুক কর্নার
শেখ রাসেলের জন্মদিন পেল জাতীয় দিবসের স্বীকৃতি

শেয়ার করুন

মামলা মাদারীপুরে, ঢাকায় সাংবাদিকপুত্র গ্রেপ্তারে প্রশ্ন

মামলা মাদারীপুরে, ঢাকায় সাংবাদিকপুত্র গ্রেপ্তারে প্রশ্ন

মাদারীপুরের রাজৈর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার সাংবাদিকপুত্র আহসান হাবিব নাহিদ। ছবি: নিউজবাংলা

যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই আহসান হাবিব নাহিদ কখনও মাদারীপুরে যাননি বলে দাবি করেছে তার পরিবার। সেখানে ২০২০ সালের ১৪ জুন যে মামলা হয়েছিল, তাতেও তার নাম ছিল না।

দেড় বছর আগে মাদারীপুরে সন্ত্রাস দমন আইনে এক মামলায় ঢাকা থেকে এক জনকে গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সেই তরুণের বাবা একজন গণমাধ্যমকর্মী। তার অভিযোগ, ছেলেকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি শুরুতে তাকে জানানো হয়নি। এজন্য নিখোঁজ ভেবে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই আহসান হাবিব নাহিদ কখনও মাদারীপুরে যাননি বলে দাবি করছে পরিবার। সেখানে ২০২০ সালের ১৪ জুন যে মামলা হয়েছিল, তাতেও তার নাম ছিল না। সেই মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে কয়েকজনের কথা উল্লেখ ছিল, সেই আসামিদের একজন হিসেবেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এই নাহিদকে।

নাহিদের বাবা তোফাজ্জল হোসেন কাজ করেন দৈনিক খোলা কাগজে। সম্প্রতি হয়ে যাওয়া ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন। তবে জিততে পারেননি।

তোফাজ্জল জানান, ভোটের আগের দিন ২৯ নভেম্বর সকালে আদাবরের বাসার সামনে থেকে তার ছেলে নাহিদ নিখোঁজ হন। সে দিনই মোহাম্মদপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তারা। পরদিন দুপুরে তার স্ত্রীর ফোনে র‍্যাব সদস্য পরিচয়ে একজন ফোন করে জানান, নাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি এখন মাদারীপুর কারাগারে।

কোন মামলা, কী অভিযোগ

২০২০ সালের ১৪ জুন জেএমবির দাওয়াতি শাখার সক্রিয় সদস্য হিসেবে মাদারীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় খোকন মিয়া নামে একজনকে। সন্ত্রাস দমন আইন ২০০৯, (সংশোধিত/২০১৩) ধারায় খোকন মিয়াসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১০/১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করে র‍্যাব।

সেই অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে নাহিদ ও আবু সাঈদকে ২৯ নভেম্বর মোহাম্মদপুর আদাবর সম্পা মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মাদারীপুরের রাজৈর থানায় করা মামলার এজাহারে লেখা আছে, খোকন মিয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জেএমবির সংগঠক ও দাওয়াতি শাখার সক্রিয় সদস্য। তিনি অন্য সদস্যদের নিয়ে ঢাকা, মাদারীপুর, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় দাওয়াতি কার্যক্রম চালান।

গত ২৯ নভেম্বর গ্রেপ্তারের সময় নাহিদের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও দুটি সিম কার্ড এবং সাঈদের কাছ থেকে একটা মোবাইল ফোন ও একটি সিম কার্ড জব্দ করে র‍্যাব।

আদালতে নাহিদের সম্পর্কে র‍্যাবের দেয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, আহসান হাবিব নাহিদকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, মুসলিম ভাই নামে একজন প্রথমে তাকে আহলে হাদিসে আসার দাওয়াত দেন এবং তখন থেকে নাহিদ আল আমিন মসজিদে যাতায়াত শুরু করেন।

নাহিদ ‘আল্লাহর জন্য ভালবাসা’ ও ‘দ্বীনি আলোচনা’ নামে দুটি গ্রুপ খোলেন বলেও উল্লেখ করেছে র‍্যাব।

তবে ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মানছেন না তোফাজ্জল হোসেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এগুলো সাজানো গল্প। অনার্স শেষ করে ১৫ দিন আগে ঢাকায় একটি বেসরকারি আইটি ফার্মে চাকরিতে প্রবেশ করেছে আমার ছেলে। ২৯ তারিখ সকালে অফিসের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয় সে। তখন আমার ছেলেকে র‍্যাব নিয়ে গেছে।

‘আমার ছেলে ছোট থেকে মোহাম্মদপুর এলাকায় বড় হয়েছে। কোনো দিন মাদারীপুর এলাকায় যায়নি। এমনকি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও সম্পৃক্ত নয়।’

নাহিদের মা শরিফা নাজনীন বলেন, ‘আমাদের গ্রাম গাইবান্ধায়। ছেলে কখনোই মাদারীপুরের রাজৈর যায়নি। এরপরও রাজৈর থানার মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

নাহিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানতে চাইলে তাকে গ্রেপ্তার করা র‍্যাব-৮-এর স্কোয়াড কমান্ডার (সিপিএসসি) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সহকারী উপপরিচালক) শেখ ইয়াছিন আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মামলাটি তো কোর্টে বিচারাধীন আছে। এ বিষয়ে কোর্টে খোঁজ নিলে জানতে পারবেন।’

তার বিরুদ্ধে জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, মাদারীপুর কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক রমেশ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘অনেকগুলো আসামি কোর্টে আনা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু আসামি জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে যদি ওই (আহসান হাবিব নাহিদ) থেকে থাকে তাহলে তাকেও জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। আমার জানা মতে, মামলাটি রাজৈর থানায় হলেও র‍্যাব-৮ তদন্ত করছে। কাল (সোমবার) ডকুমেন্ট দেখে বিস্তারিত বলতে পারব।’

রাজৈর থানার ওসি শেখ মো. সাদিক বলেন, ‘মামলাটি যখন করা হয়, তখন আমি রাজৈর থানায় ছিলাম না। তবে যতটুকু শুনেছি, মামলাটি র‍্যাব-৮-এর সদস্যরা করে পুলিশ হেড কোয়ার্টারস থেকে অনুমোদন নিয়ে তারাই তদন্ত করছে।

‘আসামি গ্রেপ্তারসহ যে কোনো বিষয়ে র‍্যাবই তথ্য দিতে পারবে। এর বাইরে তেমন কিছু জানা নেই।’

আরও পড়ুন:
শেখ রাসেলকে নিয়ে সংকলিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
শেখ রাসেল দিবসে মোড়ক উন্মোচন হচ্ছে দুটি বইয়ের
সব শিশুর মাঝে রাসেলকে খুঁজে ফেরেন শেখ হাসিনা
সব প্রাথমিকে শেখ রাসেল বুক কর্নার
শেখ রাসেলের জন্মদিন পেল জাতীয় দিবসের স্বীকৃতি

শেয়ার করুন

রাজারবাগ শরিফ গোপালগঞ্জ পাল্টে করেছে গোলাপগঞ্জ

রাজারবাগ শরিফ গোপালগঞ্জ পাল্টে করেছে গোলাপগঞ্জ

কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজারবাগ শরিফ গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বেশ কয়েকটি জেলা ও স্থানের নাম পরিবর্তন করে সাম্প্রদায়িক মনোভাব ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

সারা দেশে যেসব জেলার নামের সঙ্গে হিন্দু ব্যক্তিদের নামের মিল রয়েছে, সেসব জেলার নাম পাল্টে দিয়েছে রাজারবাগ পিরের দরবার শরিফ। তারা গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তন করে গোলাপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জকে নূরানীগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওকে নূরগাঁও, ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে আমানবাড়িয়া বলে প্রচার করছে।

কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনে রাজারবাগ পিরের দরবার নিয়ে এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার প্রতিবেদনটি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে দাখিল করার পর আদালত সেটি পড়ে শোনায়।

প্রতিবেদনের একটি জায়গায় বলা হয়েছে, ‘তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তন করে গোলাপগঞ্জ করে আলোচ্য পত্রিকার মাধ্যমে প্রচার করছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলার নাম পাল্টে নূরানীগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও জেলার নাম পরিবর্তন করে নূরগাঁও, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাম পরিবর্তন করে আমানবাড়িয়া- এ রকম আরও বেশ কয়েকটি জেলা ও স্থানের নাম পরিবর্তন করে তারা নিজেদের সাম্প্রদায়িক মনোভাব সারা দেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে।

‘উপরোক্ত পর্যালোচনায় দেখা যায় যে ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ধর্মান্ধ। মানুষের এই ধর্মানুভূতি কাজে লাগিয়ে এই পির ও তার দরবার শরিফ সামাজিকভাবে কুসংস্কার, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘পির দিল্লুর রহমানের দরবার থেকে প্রকাশিত আলোচিত দুটি পত্রিকা মাসিক আল বাইয়্যিনাত ও দৈনিক আল ইহসানের মাধ্যমে গুটিকয়েক ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করা হলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে নানাভাবে ধর্মীয় উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ, ধর্মীয় কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটছে।

‘তাদের এসব কার্যক্রম সরাসরি সরকারি নীতিমালা, দেশের প্রচলিত আইন, সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিবিরোধী। দেশের বিভিন্ন থানায় রাজারবাগ দরবার শরিফের পির ও তার মুরিদদের বিরুদ্ধে রুজুকৃত মামলা ও মামলাগুলো তদন্তে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।’

প্রতিবেদন পড়ে শোনানোর পর সব পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে আদালত কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়ে ২০২২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন ঠিক করে দেয়।

আরও পড়ুন:
শেখ রাসেলকে নিয়ে সংকলিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
শেখ রাসেল দিবসে মোড়ক উন্মোচন হচ্ছে দুটি বইয়ের
সব শিশুর মাঝে রাসেলকে খুঁজে ফেরেন শেখ হাসিনা
সব প্রাথমিকে শেখ রাসেল বুক কর্নার
শেখ রাসেলের জন্মদিন পেল জাতীয় দিবসের স্বীকৃতি

শেয়ার করুন

বিচারিক তদন্তের মুখে দিনাজপুরের এসপি

বিচারিক তদন্তের মুখে দিনাজপুরের এসপি

ফাইল ছবি

ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, ‘৬০ দিনের ব্যবধানে ১৮ মামলার ঘটনায় পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ মহাপরিদর্শক বরাবর আবেদন করেছিলেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টন। এ আবেদনের সাড়া না দেয়ায় পুলিশ মহাপরিদর্শকের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৫ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন তিনি। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রোববার আদেশ দেয়।’

দুই মাসে এক ব্যবসায়ীর নামে হওয়া ১৮টি মামলার ঘটনায় দিনাজপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনোয়ার হোসেনের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

আগামী তিন মাসের মধ্যে রংপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে এসপি আনোয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।

রোববার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশ মহাপরির্দশকসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

পরে ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, ‘৬০ দিনের ব্যবধানে ১৮ মামলার ঘটনায় পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ মহাপরিদর্শক বরাবর আবেদন করেছিলেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টন। এ আবেদনের সাড়া না দেয়ায় পুলিশ মহাপরিদর্শকের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৫ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন তিনি। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত রোববার আদেশ দেয়।’

‘ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দুই মাসের ব্যবধানে ১৮ মামলা, বাদী পুলিশের সোর্স’ শিরোনামে গত ২১ নভেম্বর পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, দিনাজপুরে মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা হয়েছে। ১৩টি জিআর ও ৫টি এনজিআর মিলে ১৮টি মিথ্যা মামলার বেশিরভাগের বাদী পুলিশের ‘সোর্স’।

প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে গত ২০ নভেম্বর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে করে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দেন ব্যবসায়ী মো. খলিলুল্লাহ আজাদ মিল্টন।

আরও পড়ুন:
শেখ রাসেলকে নিয়ে সংকলিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
শেখ রাসেল দিবসে মোড়ক উন্মোচন হচ্ছে দুটি বইয়ের
সব শিশুর মাঝে রাসেলকে খুঁজে ফেরেন শেখ হাসিনা
সব প্রাথমিকে শেখ রাসেল বুক কর্নার
শেখ রাসেলের জন্মদিন পেল জাতীয় দিবসের স্বীকৃতি

শেয়ার করুন