পিইসি পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন বার্ষিক পরীক্ষায়

পিইসি পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন বার্ষিক পরীক্ষায়

চলতি বছরের পিইসি-ইইসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, ‘পিইসি পরীক্ষা বাতিলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো প্রস্তাব অনুমোদন হয়ে ফিরে এসেছে। প্রস্তাবে স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মূল্যায়ন করে তাদের পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করার বিষয়টি উল্লেখ ছিল।’

চলতি বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (ইইসি) পরীক্ষা বাতিলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো প্রস্তাব অনুমোদন হয়ে এসেছে। তাই চলতি বছরের পিইসি-ইইসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না।

কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এখন বার্ষিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো প্রস্তাবেও উল্লেখ ছিল।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, ‘পিইসি পরীক্ষা বাতিলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো প্রস্তাব অনুমোদন হয়ে ফিরে এসেছে। প্রস্তাবে স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মূল্যায়ন করে তাদের পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করার বিষয়টি উল্লেখ ছিল।’

কোন প্রক্রিয়ায় চলতি বছরের পিইসি পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আশা করছি, এ অবস্থা থাকলে স্ব-স্ব বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা নেয়া হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হবে।’

মহাপরিচালক আরও বলেন, যদি করোনার সংক্রমণ বেড়ে যায় তাহলে পরীক্ষা না নিয়ে বিকল্প মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ফলাফল দেবে।

একই সুরে কথা বললেন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কে এম রুহুল আমীন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে চলতি বছরের ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (ইইসি) পরীক্ষার পরির্বতে স্ব-স্ব মাদ্রাসায় বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছিল করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এবং শ্রেণিকক্ষে শিখন-শেখানো কার্যক্রম বিবেচনাক্রমে ২০২১ শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা গ্রহণের পরিবর্তে স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মূল্যায়ন করে তাদের পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করা যেতে পারে।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেছিলেন, ‘শুরু থেকে আমরা পরীক্ষা নেয়ার পক্ষে ছিলাম, কিন্তু অষ্টম শ্রেণির জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণির পিইসি-ইইসি পরীক্ষা নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।’

গত ২৮ সেপ্টেম্বর গত বছরের মতো চলতি বছরও অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও মাদ্রাসার জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা হবে না বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

তিনি বলেছিলেন, ‘মনে হয় না জেএসসি নেয়ার সুযোগ পাব। সামনেই এসএসসি-এইচএসসি আছে। তবে আমাদের শ্রেণি সমাপনীটা সব ক্লাসে হবে। সেটা অষ্টম শ্রেণিরও হবে।’

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা শুরু হয় ২০০৯ সাল থেকে। পরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী (ইইসি) পরীক্ষাও চালু করা হয়। প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী এসব পরীক্ষায় অংশ নেয়।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। এর প্রায় দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু হয়। তবে প্রতিদিন সব শ্রেণিতে ক্লাস হচ্ছে না।

শুধু চলতি বছরের ও আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস নেয়া হচ্ছে। আর অন্যান্য শ্রেণির মধ্যে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম, নবম শ্রেণিতে দুই দিন এবং অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক দিন ক্লাসে আসতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
স্কুলশিক্ষার্থীদের গণটিকা শুরু ৩০ অক্টোবর
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ বর্ষের ‘বিশেষ পরীক্ষা’ ডিসেম্বরে
স্কুল-কলেজে স্বাভাবিক ক্লাস শুরু কবে?
মাধ্যমিকের ২০তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ
ক্লাসে ক্লাসে শিক্ষার্থী অনুপস্থিত, ফেরাবে কে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সূর্য সেন হলের টয়লেট, ক্যানটিনে প্রাধ্যক্ষ ‘নিখোঁজের’ বিজ্ঞপ্তি

সূর্য সেন হলের টয়লেট, ক্যানটিনে প্রাধ্যক্ষ ‘নিখোঁজের’ বিজ্ঞপ্তি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্য সেন হলের বিভিন্ন অংশে এমন বিজ্ঞপ্তি দেখা যায়। ছবি: নিউজবাংলা

বিজ্ঞপ্তিটির কয়েকটি কপি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিন, শ্যাডো ও টিএসসি এলাকায় পড়ে থাকতে দেখা যায়, তবে বিষয়টি হলের কর্মচারীদের নজরে এলে তারা বিভিন্ন দেয়ালে সাঁটানো বিজ্ঞপ্তির কপিগুলো ছিঁড়ে ফেলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্য সেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মকবুল হোসেন ভূঁইয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তি হলটির বিভিন্ন অংশে পাওয়া গেছে।

এতে প্রাধ্যক্ষ মকবুল হোসেন ভূঁইয়ার ছবি জুড়ে দিয়ে লেখা হয়েছে, ‘মিসিং’।

রোববার দুপুরের আগ পর্যন্ত হলটির টয়লেট, ক্যানটিন ও দোকানগুলোর দেয়ালে ‘মিসিং’ লেখা সংবলিত এ বিজ্ঞপ্তি দেখা যায়।

বিজ্ঞপ্তিটির কয়েকটি কপি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিন, শ্যাডো ও টিএসসি এলাকায় পড়ে থাকতেও দেখা যায়, তবে বিষয়টি হলের কর্মচারীদের নজরে এলে তারা বিভিন্ন দেয়ালে সাঁটানো বিজ্ঞপ্তির কপিগুলো ছিঁড়ে ফেলেন।

কী বলছেন শিক্ষার্থীরা

হলটির আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রাধ্যক্ষ মকবুল হোসেনের প্রতি শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। হলের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানালেও কর্ণপাত না করা, দায়িত্বে অমনোযোগিতা, নিয়মিত হলে না আসা, শিক্ষার্থীদের ফোন রিসিভ না করাসহ আরও অনেক অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, এসব কারণেই হয়তো শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিজ্ঞপ্তিটি লাগিয়েছে, তবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হলটির এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের হলের গেমস রুমে ভালো কোনো ক্যারম বা টেবিল টেনিসের বোর্ড নেই। অন্যান্য হলে ব্যাডমিন্টনের কোর্ট বসানো হলেও আমাদের হলে এখনও এসবের কিছুই বসানো হয়নি।

‘হল সংসদের পক্ষ থেকে একাধিকবার এসব বিষয় জানানো হলেও প্রাধ্যক্ষ স্যার এসব দাবির প্রতি কর্ণপাতও করেনি।’

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘হলের পানির ট্যাংকগুলো অনেক দিন ধরে পরিষ্কার করা হয় না। আমাদের মসজিদে কোনো ইমামই নেই। সম্প্রতি হলের একটি প্রোগ্রামে হল ছাত্রলীগের সাবেকদের ডাকা হলেও হল সংসদের কাউকে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। এ প্রাধ্যক্ষ মূলত দায়িত্ব সমন্বয় করতে পারেন না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রাধ্যক্ষ স্যার নিজ থেকে উদ্যোগ নিয়ে আসলে কিছুই করেন না। হলে প্রাধ্যক্ষ থাকলেও নেই নেই অবস্থা। হলের সিনিয়র অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার মোতালেবই (মো. আব্দুল মোতালেব) সব। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীরা প্রাধ্যক্ষ স্যারকে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করা তো দূরের কথা, ব্যাকও করেন না।’

এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, “একবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত মোনাজাত শেষে নাশতা দেয়া হয়নি। হল সংসদের নেতৃবৃন্দ স্যারকে ফোন দিয়ে নাশতার কথা জানালে তিনি বলেন, ‘কী বলো! অন্যান্য হলে খাবার দিচ্ছে নাকি?’ অর্থাৎ উনি এতই অমনোযোগী যে, বিভিন্ন উৎসবের দিন যে হলে খাবার দেয়া হয়, সেটিই তিনি জানেন না।”

সূর্য সেন হলের টয়লেট, ক্যানটিনে প্রাধ্যক্ষ ‘নিখোঁজের’ বিজ্ঞপ্তি

‘উনি মিটিংয়ে আছেন’

হল সংসদের সাবেক সহসভাপতি মারিয়াম জামান খান সোহান বলেন, ‘মিসিং বিজ্ঞপ্তিটা আমিও দেখেছি। দেখেই স্যারকে ফোন দিয়েছি। স্যারের সাথে আমার কথা হয়েছে।

‘উনি মিটিংয়ে আছেন; মিসিং হননি, তবে এই বিজ্ঞপ্তিটি কারা লাগিয়েছে আমার জানা নেই।’

হল প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আছে কি না জানতে চাইলে সোহান বলেন, ‘প্রতিটি হলে খেলার জন্য আলাদা জায়গা থাকলেও আমাদের হলে এসবের জন্য আলাদা কোনো জায়গাই নেই। ওয়াশরুম এবং পানির ফিল্টারে সমস্যা। খেলার জন্য ব্যাডমিন্টন কোর্ট বসানোর কথা থাকলেও এখনও বসানো হয়নি।

‘অডিটোরিয়ামে খেলাধুলার কোনো ব্যবস্থা না রাখা, মসজিদের মাইকে সমস্যাসহ আরও অনেক সমস্যা আছে। আমরা এসব দাবি অনেকবার জানিয়েছি, কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি।’

নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তিসহ সার্বিক বিষয়ে জানতে দুপুরে প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মকবুল হোসেনের হল অফিস কক্ষে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যায় তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেয়ার পাশাপাশি খুদেবার্তা পাঠালেও উত্তর পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
স্কুলশিক্ষার্থীদের গণটিকা শুরু ৩০ অক্টোবর
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ বর্ষের ‘বিশেষ পরীক্ষা’ ডিসেম্বরে
স্কুল-কলেজে স্বাভাবিক ক্লাস শুরু কবে?
মাধ্যমিকের ২০তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ
ক্লাসে ক্লাসে শিক্ষার্থী অনুপস্থিত, ফেরাবে কে

শেয়ার করুন

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা: মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা: মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

ফাইল ছবি

অনিবার্য কারণে কোন পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের পর পরীক্ষা কেন্দ্রে আসলে রেজিস্ট্রারে নাম, রোল নম্বর, প্রবেশের সময় ও দেরি হবার কারণ উল্লেখ করতে হবে। দেরিতে আসা পরীক্ষার্থীদের তালিকা প্রতিদিন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে অবহিত করবেন। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যতীত পরীক্ষা কেন্দ্রে অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা মোবাইল ফোনের সুবিধাসহ ঘড়ি, কলম বা অনুমোদিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছবি তোলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধাবিহীন একটি সাধারণ (ফিচার) ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার সময় একজনের বেশি অভিভাবক কেন্দ্রে আসতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীসহ কেন্দ্রে উপস্থিত সবার জন্য মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। শুধুমাত্র কেন্দ্র সচিব একটি সাধারণ (ফিচার) ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। সবাইকেই মানতে হবে করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি। আর পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে ঢুকে আসনে বসতে হবে পরীক্ষার্থীকে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব খালেদা আখতারের সই করা প্রজ্ঞাপনে রোববার এ তথ্য জানা যায়।

যেসব নির্দেশনা মানতে হবে

অনিবার্য কারণে কোন পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের পর পরীক্ষা কেন্দ্রে আসলে রেজিস্ট্রারে নাম, রোল নম্বর, প্রবেশের সময় ও দেরি হবার কারণ উল্লেখ করতে হবে। দেরিতে আসা পরীক্ষার্থীদের তালিকা প্রতিদিন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে অবহিত করবেন।

কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যতীত পরীক্ষা কেন্দ্রে অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা মোবাইল ফোনের সুবিধাসহ ঘড়ি, কলম বা অনুমোদিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না।

কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছবি তোলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধাবিহীন একটি সাধারণ (ফিচার) ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।

অনুমোদিত ফোন/ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ট্রেজারি/থানা/নিরাপত্তা হেফাজত হতে প্রশ্নপত্র গ্রহণ ও পরিবহন কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা, শিক্ষক, কর্মচারীরা কোন ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না এবং প্রশ্নপত্র বহন কাজে কালো কাঁচযুক্ত মাইক্রোবাস বা এরূপ কোন যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না।

প্রত্যেক কেন্দ্রের জন্য একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট/কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) নিয়োগ দিতে হবে। ট্রেজারি/থানা/নিরাপত্তা হেফাজত হতে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা তার মনোনীত উপযুক্ত প্রতিনিধি ট্যাগ অফিসারসহ প্রশ্নপত্র গ্রহণ করে পুলিশ প্রহরায় কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট/কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার)-এর উপস্থিতি ব্যতীত প্রশ্ন বের করা যাবে না বা বহন করা যাবে না।

ট্রেজারি/থানা/নিরাপত্তা হেফাজত হতে পরীক্ষার কেন্দ্রে বহুমুখী নির্বাচনী প্রশ্নসহ রচনামূলক/সৃজনশীলের সব সেট প্রশ্নই নিতে হবে।

প্রশ্নের সেট কোড পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট পূর্বে জানানো হবে। সে অনুযায়ী নির্ধারিত সেট কোডে পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে।

কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার), কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতি ও স্বাক্ষরে বিধি অনুযায়ী প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলতে হবে।

পরীক্ষা চলাকালীন এবং পরীক্ষা অনুষ্ঠানের পূর্বে বা পরে পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের প্রবেশ সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশকারী অনুমোদিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

অনিবার্য কারণবশত কোন পরীক্ষা বিলম্বে শুরু করতে হলে যত মিনিট পরে পরীক্ষা শুরু হবে পরীক্ষার্থীদের সে সময় থেকে যথারীতি প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত নির্ধারিত সময় দিতে হবে।

পরীক্ষা কেন্দ্রে ও প্রশ্ন পরিবহনে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁস কিংবা পরীক্ষার্থীদের নিকট উত্তর সরবরাহে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসন কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত গুজব কিংবা একাজে তৎপর চক্রগুলোর কার্যক্রমের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নজরদারী জোরদার করবে।

কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতে হবে।

এক জনের বেশী অভিভাবক পরীক্ষার্থীর সঙ্গে আসতে পারবে না।

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষা ২ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এ পরীক্ষা হবে শুধু নৈর্বাচনিক বিষয়ে। অন্যান্য আবশ্যিক বিষয়ে আগের পাবলিক পরীক্ষার সাবজেক্ট ম্যাপিং করে মূল্যায়নের মাধ্যমে নম্বর দেয়া হবে। এবার চতুর্থ বিষয়ের পরীক্ষা নেয়া হবে না।

নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট এবং ২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা হবে।

আরও পড়ুন:
স্কুলশিক্ষার্থীদের গণটিকা শুরু ৩০ অক্টোবর
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ বর্ষের ‘বিশেষ পরীক্ষা’ ডিসেম্বরে
স্কুল-কলেজে স্বাভাবিক ক্লাস শুরু কবে?
মাধ্যমিকের ২০তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ
ক্লাসে ক্লাসে শিক্ষার্থী অনুপস্থিত, ফেরাবে কে

শেয়ার করুন

রাবির ডাইনিং-ক্যান্টিনে কী খাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

রাবির ডাইনিং-ক্যান্টিনে কী খাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলের রান্নাঘরের চিত্র। ছবি: নিউজবাংলা

মুন্নুজান হলের শিক্ষার্থী ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘হলের খাবার খুবই বাজে। পুঁই শাক, পেঁপে আর আলু এই তিন ধরনের খাবার প্রতিদিন দিচ্ছে। বাধ্য হয়েই খাচ্ছি। দুই দিনের বেশি খাওয়া যায় না। খেলেই অসুস্থ হতে হয়। আর হলের ডাইনিং ও ক্যান্টিনের একটিও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নয়, খুবই নোংরা পরিবেশ।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলগুলোর ডাইনিং ও ক্যান্টিনে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার দেয়া হচ্ছে না। একদিকে যেমন রান্নাঘরে ধুলাবালি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, অন্যদিকে মানহীন ও একই খাবার প্রতিদিন দেয়ায় ডাইনিং-ক্যান্টিনে খাবারের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

তারা বলছেন, অপুষ্টিকর, পচা ও দুপুরের খাবার রাতের খাবারে মিশিয়ে দেয়া হচ্ছে, যা বাধ্য হয়েই খাচ্ছেন তারা। নিম্নমানের খাবার খেয়ে ক্ষুধামন্দা ও চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসকরা বলছেন, এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা আমাশয়, ডায়রিয়া, হ্যাপাটাইটিস, জন্ডিস, এলার্জিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া পেটের সমস্যা নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিতে আসছেন।

প্রশাসনের ভাষ্য, বাজারে সব কিছুর দাম ঊর্ধ্বমুখী। তবুও সব সমস্যা সমাধানের জন্য তারা চেষ্টা করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো ঘুরে দেখা গেছে, হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের খাবারের জন্য হলের ডাইনিং ও ক্যান্টিনের ওপর ভরসা করতে হয়। সে ডাইনিং-ক্যান্টিনগুলোর রান্নাঘরে ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর। যেখানে অস্বাস্থ্যকর ও ধুলাবালির মধ্যে খাবার রান্না ও পরিবেশন করতে দেখা যায়।

রাবির ডাইনিং-ক্যান্টিনে কী খাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছাত্রদের জন্য ১১টি ও ছাত্রীদের জন্য ৬টিসহ মোট ১৭টি হল রয়েছে। এসব হলে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। হলের আবাসিক শিক্ষার্থীসহ বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের অনেকেই হলের ডাইনিং-ক্যান্টিনে নিয়মিত খাবার খেয়ে থাকেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের বলেন, ‘হলের ডাইনিংয়ে একই খাবার প্রতিদিন দিচ্ছে। পেঁপে ও আলুর সঙ্গে মাছ অথবা ব্রয়লার মুরগি প্রতিদিন খেতে হচ্ছে; সাথে পানির মতো ডাল।

‘এরপর যদি ক্যান্টিনে খেতে যাই সেখানে দাম অতিরিক্ত নেয়। কিন্তু খাবারের মান তত উন্নত না। মূলত বাধ্য হয়েই খাচ্ছি। মাঝে মধ্যে পেটে সমস্যা হয়, অসুস্থ হই।’

তিনি আনও বলেন, ‘ডাইনিং ও ক্যান্টিন দুইটাতেই ধুলাবালি, ময়লা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সব সময় দেখা যায়। কয়েকদিন খাবারে মাছি ও পোকামাকড় পেয়েছি, তখন খাবার রেখে চলে আসতে হয়েছে।’

শহীদ জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আবু হানিফ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ভালো স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নিয়ে মোটেই চিন্তা করছে না। যদি তারা চিন্তা করত তাহলে হলে এই ধরনের বাজে, অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হতো না আমাদের।’

এ ছাড়া কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুপুরের খাবার রাতের খাবারে মিশিয়ে দেয়ার অভিযোগ করে মতিহার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী জুয়েল মামুন বলেন, ‘কর্মচারীরা কম করে তরকারি দিয়ে দুপুরের খাবার রাতের খাবারে মিশিয়ে দেয়। এটা করে তারা অতিরিক্ত আয়ের চেষ্টা করেন।

‘সেই সাথে হলের রান্নাঘর থাকে ময়লায় পরিপূর্ণ। খাবারে পচা আলু, চালে পাথর, রান্না করার অপরিচ্ছন্ন হাঁড়ি-পাতিল ছাড়াও প্রতিদিন একই পদের খাবারে আমরা খাই।’

মুন্নুজান হলের শিক্ষার্থী ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘হলের খাবার খুবই বাজে। পুই শাক, পেঁপে আর আলু এই তিন ধরনের খাবার প্রতিদিন দিচ্ছে। বাধ্য হয়েই খাচ্ছি। দুই দিনের বেশি খাওয়া যায় না। খেলেই অসুস্থ হতে হয়। আর হলের ডাইনিং ও ক্যান্টিনের একটিও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নয়, খুবই নোংরা।’

২০ নভেম্বর অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের খাবার নিয়ে আন্দোলন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের ছাত্রীরা।

তাদের অভিযোগ, হলের ডাইনিং ও ক্যান্টিন সব সময় অপরিষ্কার থাকে। খাবারে মশা ও মাছি থাকে; খাবার নিম্নমানের। বারবার এ নিয়ে হল প্রাধ্যক্ষকে লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো পরিবর্তন আসেনি। এর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি হল কর্তৃপক্ষ।

৫ নভেম্বর হলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ এনে তাপসী রাবেয়া হলের ছাত্রীরা আন্দোলনে নেমেছিল। সেখানেও খাবারের মান উন্নয়নের দাবি জানিয়েছে তারা।

পেটের পীড়াজনিতে অসুখে প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের সংখ্যাটাও নেহাত কম নয়।

এ বিষয়ে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসক তবিবুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এখন করোনার সিম্পটম নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন। তবে পেটের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম নয়।

‘যাদের বেশিরভাগই ডায়রিয়া, হ্যাপাটাইটিস, জন্ডিস, এলার্জি, ফুড পয়জনিং আক্রান্ত। এ সবের কারণ পঁচা, ময়লাযুক্ত, অস্বাস্থ্যকর ও অপুষ্টিকর খাবার খাওয়া। তারা অরুচি, অনীহা, ও পুষ্টিহীনতায় ভোগে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকাটা স্বাভাবিক।’

চিকিৎসক আরও বলেন, ‘ডায়রিয়া ও পেটের পীড়াজনিত সমস্যা নিয়ে আসা বেশিরভাগ রোগীকে জিজ্ঞেস করলে দেখা যায়, তারা হল ডাইনিং, ক্যান্টিন ও বাইরের খোলা দোকানে খাবার খেয়েছে। খাবারের মান ঠিক না থাকা ও প্রতিদিন একই খাবার খাওয়া এসবের জন্য দায়ী।’

হল প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ রওশন জাহিদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যকর খাবার দিতে সব প্রভোস্ট আন্তরিক। আমি চাইলেও ডাইনিং-ক্যান্টিনে খাবারের মান উন্নত করতে পারি না।

‘বাজারে চাল, ডালসহ তরিতরকারির কেজি ৪৫-৫০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। দামের এ ঊর্ধ্বগতিতে খাবারের মান বাড়ানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো ধরনের ভর্তুকি দেয়ার ব্যবস্থা নেই। প্রশাসন শুধু ডাইনিং-ক্যান্টিনের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিয়ে থাকেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘খাবারে মশা-মাছি পড়ার বিষয়টি আমি জেনেছি। এর জন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আর কর্মচারীরা রাত-দিন কষ্ট করে রান্না ও শিক্ষার্থীদের খাবার নিয়ে পরিশ্রম করছে, একটু সমস্যা তো হবেই। আমরাও হলে ছিলাম, তখনও এই ধরনের সমস্যা ছিল।’

রাবির ডাইনিং-ক্যান্টিনে কী খাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

ছাত্র-ছাত্রীদের এসব সমস্যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা তারেক নূর বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগ নিয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যেক হলের প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে প্রশাসন আলোচনায় বসব। এরপর সংশ্লিষ্ট হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়গুলো সমাধান করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘দুপুরের তরকারি রাতের তরকারির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া ও খাবারে মশা-মাছি থাকার বিষয়ে হলের কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দেয়া হবে।’

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, ‘খাবারের এই অভিযোগগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়গুলো সমাধান হবে বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন:
স্কুলশিক্ষার্থীদের গণটিকা শুরু ৩০ অক্টোবর
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ বর্ষের ‘বিশেষ পরীক্ষা’ ডিসেম্বরে
স্কুল-কলেজে স্বাভাবিক ক্লাস শুরু কবে?
মাধ্যমিকের ২০তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ
ক্লাসে ক্লাসে শিক্ষার্থী অনুপস্থিত, ফেরাবে কে

শেয়ার করুন

স্কুল-কলেজের নতুন এমপিওভুক্তি কবে?

স্কুল-কলেজের নতুন এমপিওভুক্তি কবে?

আগামী মাসে নতুন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির ঘোষণার আভাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

এমপিওভুক্তির যাচাই-বাছাই কমিটির এক সদস্য নিউজবাংলাকে জানান, আগামী মাসে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেয়া হতে পারে। তবে সব কিছু নির্ভর করছে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর। গতবারের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী নতুন এমপিওভুক্তির ঘোষণা দিতে পারেন।

নতুন অর্থবছরে বেসরকারি নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে আবেদন-প্রক্রিয়া। এখন চলছে আবেদন যাচাই-বাছাই। তবে কবে নাগাদ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার ঘোষণা দেয়া হবে, এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি সরকার।

আগামী মাসে নতুন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেয়া হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এমপিও হলো মান্থলি পে অর্ডার বা মাসিক বেতন আদেশ, যার মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন ওই প্রতিষ্ঠানের বদলে পরিশোধ করে সরকার।

জানতে চাইলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিও যাচাই-বাছাই কমিটির আহ্বায়ক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফৌজিয়া জাফরীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য যে আবেদনগুলো পেয়েছি, তা এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’

কবে নাগাদ এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেয়া হবে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কাজ চলছে। দিন-তারিখ এখনই বলা সম্ভব নয়।’

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির যাচাই-বাছাই কমিটির এক সদস্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনলাইনে আবেদন নেয়ায় কাজ অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। দ্রুতই এ বিষয়ে মিটিং অনুষ্ঠিত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আশা করছি, আগামী মাসে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেয়া হতে পারে। তবে সব কিছু নির্ভর করছে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর। কেননা গতবারের মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী নতুন এমপিওভুক্তির ঘোষণা দিতে পারেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সব মিলিয়ে এমপিওভুক্তির জন্য প্রায় ৬ হাজার আবেদন জমা হয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এবং ডিগ্রি স্তরের ৩ হাজার এবং কারিগরি, ভোকেশনাল ও মাদ্রাসা স্তরের ৩ হাজার।

এর আগে গত ৭ নভেম্বর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে এই কমিটিকে সহায়তা করতে আরও চার সদস্যের একটি উপকমিটিও গঠন করা হয়।

৯ সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) ফৌজিয়া জাফরীন। কমিটিতে আছেন শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের কলেজ শাখার যুগ্ম সচিব, বেসরকারি মাধ্যমিক (১) শাখার উপসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার পরিচালক, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বাজেট শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব, ব্যানবেইসের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট এবং বেসরকারি মাধ্যমিক-৩ শাখার উপসচিব।

এ কমিটিকে সহায়তা করবে ব্যানবেইসের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. আবু তাহের খানের নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি। এ কমিটিতে আছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক, ব্যানবেইসের প্রোগ্রামার এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রোগ্রামার।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) এমপিওভুক্ত করতে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে ১০ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করতে বলা হয়।

২০১৯ সালে ২ হাজার ৬২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার পর গত বছর আর তা করা হয়নি।

নতুন অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দের যে প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয়েছে, তাতে নতুন প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির জন্য ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য ২০০ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ৫০ কোটি টাকা।

২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে চূড়ান্ত বাছাইয়ে ২ হাজার ৬১৫টি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ছাড়পত্র পায়। এরপর আবার ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর ছয়টি এবং ১৪ নভেম্বর একটি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়।

দেশে এ পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়েছে এমন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৩৩ হাজার। আর এমপিওভুক্ত হয়নি এখনও প্রায় ৭ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার জন্য গত ২৯ মে সংশোধিত এমপিও নীতিমালা প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশোধিত নীতিমালায় এমপিওভুক্তির জন্য তিনটি শর্ত দেয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হার- এই তিন বিষয়ে মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যায় ৩০, পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় ৩০ এবং পাসের হারে ৪০ নম্বর রাখা হয়েছে। আগের নীতিমালায় প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির মেয়াদের ওপর ২৫ নম্বর ছিল, যা সংশোধিত নীতিমালায় বাদ দেয়া হয়েছে।

২০২১ সালের নীতিমালায় কোন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম কতজন শিক্ষার্থী থাকতে হবে, তা বেঁধে দেয়া হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, নিম্ন মাধ্যমিকে শহরে ১২০ ও মফস্বলে ৯০, মাধ্যমিকে শহরে ২০০ ও মফস্বলে ১৫০, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহরে ৪২০ ও মফস্বলে ৩২০, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে শহরে ২৫০ ও মফস্বলে ২২০ এবং ডিগ্রি কলেজে স্নাতকে শহরে ৪৯০ ও মফস্বলে ৪২৫ শিক্ষার্থী থাকতে হবে। পাসের হার স্তরভেদে ৪৫ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ করা হয়েছে।

গত ৩ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে যে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন, তাতে শিক্ষা খাতে ৭১ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার কথা বলা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৬৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে ৫ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
স্কুলশিক্ষার্থীদের গণটিকা শুরু ৩০ অক্টোবর
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ বর্ষের ‘বিশেষ পরীক্ষা’ ডিসেম্বরে
স্কুল-কলেজে স্বাভাবিক ক্লাস শুরু কবে?
মাধ্যমিকের ২০তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ
ক্লাসে ক্লাসে শিক্ষার্থী অনুপস্থিত, ফেরাবে কে

শেয়ার করুন

স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ‘শিল্প-শিক্ষায়তন সংযোগ উন্নয়ন’ শীর্ষক বক্তৃতা

স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ‘শিল্প-শিক্ষায়তন সংযোগ উন্নয়ন’ শীর্ষক বক্তৃতা

বৃহস্পতিবার এসইউবির সেমিনার রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথিরা।

রুপালি চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষিত তরুণকে পেশা পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগোতে হবে। চেষ্টা করতে হবে নিজের শিক্ষাগত পটভূমি ও ব্যক্তিগত আগ্রহের সঙ্গে মিলিয়ে সেটি ঠিক করা।’

স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ (এসইউবি) আয়োজিত ‘শিল্প-শীক্ষায়তন সংযোগ উন্নয়ন’ শীর্ষক বক্তৃতামালার সপ্তম কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এসইউবির সেমিনার রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুপালি চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এসইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল কবির।

অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এসইউবির স্কুল অফ হেলথ সায়েন্সের ডিন অধ্যাপক ডা. নওজিয়া ইয়াসমীন ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের (সিডিসি) পরিচালক আবু তাহের খান।

অনুষ্ঠানে রুপালি চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষিত তরুণকে পেশা পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে অবশ্যই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগোতে হবে। চেষ্টা করতে হবে নিজের শিক্ষাগত পটভূমি ও ব্যক্তিগত আগ্রহের সঙ্গে মিলিয়ে সেটি ঠিক করা।’

তিনি বলেন, ‘মানসম্পন্ন গুণগত শিক্ষাভিত্তিই হচ্ছে পেশাগত ক্ষেত্রে সফল হওয়ার মূল শর্ত। সেটি চাকরি বা উদ্যেক্তা যাই হোক না কেন। চাকরির বাজারে নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা ভাবে তুলে ধরতে পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই।’

রূপালি চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিদিনই উচিত কোনো না কোনো বই পড়া। হতে পারে তা সাহিত্য কিংবা বিশেষ কারও জীবনী। এ অভ্যাস নিয়মিত থাকলে চাকরির ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।’

অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল কবির বলেন, ‘সারা পৃথিবীজুড়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ঘটছে। এর ধারাবাহিকতায় কর্মবাজারের ধরন ও চাহিদাতেও নানামাত্রিক পরিবর্তন হচ্ছে। এসইউবি চেষ্টা করছে, অনিবার্য এসব পরিবর্তনজনিত বাজার চাহিদাকে বিবেচনায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমকে ঢেলে সাজাতে।’

তিনি বলেন, ‘শিল্পের অন্যবিধ অভিজ্ঞতাকেও এসইউবি কাজে লাগাতে আগ্রহী। সে আগ্রহ ও উপলব্ধি থেকেই ‘শিল্প-শিক্ষায়তন সংযোগ উন্নয়ন’ শীর্ষক বক্তৃতামালার আয়োজন করা হয়েছে।

ড. মো. আনোয়ারুল কবির বলেন, ‘ব্যবসার জন্য পুঁজি বড় কোনো সমস্যা নয়। মূল সমস্যা সাহসের অভাব। অতএব তোমাদেরকে অবশ্যই সাহসী ও দূরদর্শী হতে হবে।’

অনুষ্ঠানে এসইউবির বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, রেজিস্ট্রার, অনুষদ সদস্য ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় এসইউবির প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
স্কুলশিক্ষার্থীদের গণটিকা শুরু ৩০ অক্টোবর
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ বর্ষের ‘বিশেষ পরীক্ষা’ ডিসেম্বরে
স্কুল-কলেজে স্বাভাবিক ক্লাস শুরু কবে?
মাধ্যমিকের ২০তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ
ক্লাসে ক্লাসে শিক্ষার্থী অনুপস্থিত, ফেরাবে কে

শেয়ার করুন

ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলনে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান

ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলনে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান

২৮ নভেম্বর ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে পদপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত নেয়ার পরিকল্পনা ছিল না। গঠনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী পদপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত জমা নেয়ার জন্যই ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলনের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের হল সম্মেলনে হলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক হতে আগ্রহীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করা হয়েছে।

রোববার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে আগ্রহীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দপ্তর সেলের বুথে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে হবে।

প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আগ্রহীরা তাদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে পারবেন।

জীবনবৃত্তান্ত জমা নেয়া শেষে আগামী তিন ও চার ডিসেম্বর এসব জীবনবৃত্তান্ত যাচাই করা হবে।

শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম পান্থ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

২৮ নভেম্বর ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে পদপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত নেয়ার পরিকল্পনা ছিল না। গঠনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী পদপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত জমা নেয়ার জন্যই ঢাবি ছাত্রলীগের হল সম্মেলনের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে।

জীবনবৃত্তান্তের সঙ্গে যা যা সংযুক্ত করতে হবে-

# পাসপোর্ট সাইজের ৪টি ছবি

# ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র বা ছাত্রত্বের প্রমাণপত্রের কপি

# জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদের কপি

# এসএসসি বা সমমান এবং এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার সার্টিফিকেট বা মার্কশিটের কপি

# স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে সর্বশেষ পরীক্ষার সার্টিফিকেট বা মার্কশিটের কপি

# ক্রীড়া বা সামাজিক বা সাংস্কৃতিক বা অন্য কোনো দক্ষতামূলক কর্মকাণ্ডের সনদ বা স্বীকৃতির কপি।

সংযুক্তিগুলোসহ জীবনবৃত্তান্তের পাঁচটি কপি পাঁচটি A4 সাইজের খামে করে জমা দিতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হল সম্মেলন উৎসবমুখর, নান্দনিক ও সুপরিকল্পিত করতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের আনন্দমুখর পরিবেশে জীবনবৃত্তান্ত জমাদানের মাধ্যমে আগামীর নেতৃত্বকে শহীদের রক্তস্নাত, সত্য-সুন্দর-ন্যায়ের প্রতি দায়বদ্ধ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা ও বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার রূপকল্প উপযোগী হয়ে গড়ে ওঠার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
স্কুলশিক্ষার্থীদের গণটিকা শুরু ৩০ অক্টোবর
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ বর্ষের ‘বিশেষ পরীক্ষা’ ডিসেম্বরে
স্কুল-কলেজে স্বাভাবিক ক্লাস শুরু কবে?
মাধ্যমিকের ২০তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ
ক্লাসে ক্লাসে শিক্ষার্থী অনুপস্থিত, ফেরাবে কে

শেয়ার করুন

হাফ পাসের দাবিতে এবার পুরান ঢাকায় বিক্ষোভ

হাফ পাসের দাবিতে এবার পুরান ঢাকায় বিক্ষোভ

হাফ পাসের দাবিতে শনিবার সকালে পুরান ঢাকায় বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘শুধু বিআরটিসি বাসে হাফ দেয়া হয়েছে। এতে আমাদের কোনো লাভ হয় নাই। কারণ সদরঘাটে বিআরটিসির কোনো বাস আসে না। উন্নত দেশগুলোর মতো সব ধরনের বাসে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস নিশ্চিত করতে হবে।’  

গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাসের দাবিতে এবার পুরান ঢাকায় বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে মতিঝিল ও ফার্মগেটের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পুরান ঢাকার বিক্ষোভ মিছিলে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

শনিবার বেলা ১১টায় লক্ষ্মীবাজার এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাঁখারীবাজার মোড় হয়ে রায়সাহেব বাজার মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন তারা।

এ সময় প্রায় আধঘণ্টার মতো রায়সাহেব বাজার মোড় ব্লক করে স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। এতে তীব্র যানজট তৈরি হয়। বিক্ষোভ চলার সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশের গাড়ি, সদরঘাটগামী বাসগুলোর লাইসেন্স চেক করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘সরকারের কাছে দাবি আমাদের জন্য হাফ পাস নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়, নারী শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছিত করা হয়। আমাদের দেখলে বাসের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। এগুলো অতিসত্বর বন্ধ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু বিআরটিসি বাসে হাফ দেয়া হয়েছে। এতে আমাদের কোনো লাভ হয় নাই। কারণ সদরঘাটে বিআরটিসির কোনো বাস আসে না। উন্নত দেশগুলোর মতো সব ধরনের বাসে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস নিশ্চিত করতে হবে।’

শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা ও নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈমসহ সড়কে শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় দ্রুত বিচারের দাবি জানান।

আরও পড়ুন:
স্কুলশিক্ষার্থীদের গণটিকা শুরু ৩০ অক্টোবর
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ বর্ষের ‘বিশেষ পরীক্ষা’ ডিসেম্বরে
স্কুল-কলেজে স্বাভাবিক ক্লাস শুরু কবে?
মাধ্যমিকের ২০তম সপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট প্রকাশ
ক্লাসে ক্লাসে শিক্ষার্থী অনুপস্থিত, ফেরাবে কে

শেয়ার করুন