এক যুগ পর সপদে ফিরলেন অধ্যক্ষ

এক যুগ পর সপদে ফিরলেন অধ্যক্ষ

১২ বছর পাঁচ মাসের আইনি লড়াই শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী কলেজের অধ্যক্ষ পদে ফের চাকরির নির্দেশ পেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেন আখন্দ

তোফজ্জলের আইনজীবি এ এ এম আমানুল্লাহ ফরিদ জানান, ২০০৯ সালে জোর করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয় এবং কলেজ থেকে তাকে বের করে দেয় তৎকালীন পরিচালনা পরিষদ। ওই সময় কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ছিলেন তৎকালীন দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রফিকুল মোহাম্মেদ।

গাজীপুরের শ্রীপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী কলেজের অধ্যক্ষ পদে দীর্ঘ ১২ বছর ৫ মাসের আইনি লড়াই শেষে চাকরি ফেরত পেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেন আখন্দ।

২০০৯ সালে জোরপূর্বক কলেজ থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগে আদালতের স্মরণাপন্ন হন তোফাজ্জল।

গাজীপুরের পঞ্চম জ্যেষ্ঠ বিচারিক আদালতের বিচারক শাহানারা আক্তার গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদেশ দেন তোফাজ্জলের কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের।

এরপর শনিবার কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে কলেজে যোগদানের আবেদন করেন তোফাজ্জল।

তোফাজ্জলের আইনজীবী এ এ এম আমানুল্লাহ ফরিদ আদালতের আদেশের বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

তোফাজ্জল নিউজবাংলাকে জানান, ২০০৯ সালে জোর করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে কলেজ থেকে তাকে বের করে দেয় তৎকালীন পরিচালনা পরিষদ। ওই সময় কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ছিলেন তৎকালীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রফিকুল মোহাম্মেদ।

তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও পরিচালনা পরিষদকে ব্যবহার করে ওই সময় কলেজের উপাধ্যক্ষ নুরুন্নবী আকন্দ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেন।

সাবেক অধ্যক্ষ তোফাজ্জল বলেন, ‘বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে কলেজে প্রবেশ করতে না পেরে ২০১০ সালের ৩ মে গাজীপুর আদালতে দেওয়ানী মামলা করি। পরে মামলাটি বদলি হয়ে পঞ্চম সিনিয়র জজ আদালতে যায়। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত রায় দেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘২০০৫ সালে তিনি (তোফাজ্জল) অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পান। ২০০৯ সালে কলেজের পরিচালনা পরিষদের এক সভা চলাকালীন কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় যুবক সন্ত্রাসী কায়দায় জোর করে সাদা কাগজে তার স্বাক্ষর নিয়ে কলেজ থেকে বের করে দেয়। এরপর পরিচালনা পরিষদ রেজুলিউশন তৈরি করে নুরুন্নবী আকন্দকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়।’

তোফাজ্জল বলেন, ‘একজন শিক্ষক হিসেবে এ ঘটনা আমার কাছে চরম অপমানজনক ছিল। বিষয়টি মেনে নিতে পারিনি। সরকারের বিধি অনুযায়ী আমার চাকরির বয়স আছে আর সাড়ে তিন মাস। আদালতের আদেশে সত্যের জয় হয়েছে। বাকি কয়েক মাস আমি সুশৃঙ্খলভাবে সম্মানের সঙ্গে দায়িত্বপালন করতে চাই। এ জন্য সকলের সহযোগিতা চাইছি।’

কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও ইউএনও তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি (তোফাজ্জল) মামলার আদেশের কপিসহ যোগদানের অনুমতি চেয়েছেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।’

এদিকে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বিবাদী পক্ষ অর্থাৎ কলেজের পক্ষ থেকে গাজীপুর জেলা জজ আদালতে একটি আপিল করা হয়েছে। উচ্চ আদালত আপিলের বিষয়টি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত জেলা আদালতের রায়টি অকার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছেন বিবাদীপক্ষের আইনজীবী এমদাদুল হক মাসুম।

তিনি বলেন, ‘মামলার বাদী অধ্যক্ষ থাকাকালীন ২০০৯ সালের ২৮ মার্চ কলেজ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের ১৪ মাস পর ২০১০ সালের ৩ মে চাকরি ফিরে পেতে গাজীপুর আদালতে মামলা করেন তিনি।’

এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘রোববার গাজীপুর জেলা জজ আদালতে আপিল করেছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নুরুন্নবী আকন্দ। আপিলের কপি শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আদালত পরবর্তী আদেশের জন্য তা আমলে নিয়েছে।’

আরও পড়ুন:
তিনি ক্লাস না করিয়ে বেতন তুলছেন পাঁচ বছর ধরে
বাসচাপায় প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের
৩৫ বছর পর ছুটিতে সেই শিক্ষক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পৌর আ.লীগ সভাপতির বাসায় ‘ককটেল’ হামলা

পৌর আ.লীগ সভাপতির বাসায় ‘ককটেল’ হামলা

ককটেল। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগ নেতা মকবুল জানান, রাতে দুর্বৃত্তরা তার বাসা লক্ষ্য করে পরপর বেশ কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে একটি বাসার ফটক সংলগ্ন কক্ষের সামনে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এ সময় পরিবারের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনি পুলিশকে জানান।

বগুড়ার শেরপুর পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি মকবুল হোসেনের বাসায় ককটেল হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে কেউ হতাহত না হলেও বাসায় থাকা আওয়ামী লীগ নেতার পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

পৌর শহরের বারো দুয়ারীপাড়ায় মাদ্রাসা গেট সংলগ্ন বাসাটিতে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে এ হামলা চালানো হয়।

মকবুল জানান, রাতে দুর্বৃত্তরা তার বাসা লক্ষ্য করে পরপর বেশ কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে একটি বাসার ফটক সংলগ্ন কক্ষের সামনে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এ সময় পরিবারের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনি পুলিশকে জানান।

এ ঘটনায় থানায় মামলা করবেন বলেও জানান আওয়ামী লীগের এ নেতা।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মকবুল থানায় গেলে ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

টাউন ফাঁড়ির পুলিশ কর্মকর্তা সাম্মাক হোসেন বলেন, ‘আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য সম্ভবত পটকা জাতীয় কিছু ফাটানো হয়েছে। বিস্ফোরিত কিছু আলামত দেখে সেটিও মনে হয়েছে। এ ছাড়া তেমন কিছু নয়। লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
তিনি ক্লাস না করিয়ে বেতন তুলছেন পাঁচ বছর ধরে
বাসচাপায় প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের
৩৫ বছর পর ছুটিতে সেই শিক্ষক

শেয়ার করুন

ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ: ৪ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ: ৪ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

চার আসামি হলেন নগরীর স্যার ইকবাল রোডে সোনালী ব্যাংকের তৎকালীন এজিএম (বর্তমানে জিএম অফিসে সংযুক্ত) সুজিত কুমার মন্ডল, গোডাউন কিপার ব্যাংক কর্মকর্তা নূরুল আমিন, সৌরভ ট্রেডাসের মিতা ভট্টাচার্ষ ও তার স্বামী সুজিত কুমার ভট্টাচার্ষ।

খুলনা সোনালী ব্যাংকের পাচঁ কোটি ২৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ মামলায় ব্যাংকের এজিএমসহ চার জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। তাদের না পাওয়া গেলে মালামাল ক্রোকের আদেশ দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের বিচারক মো: শহিদুল ইসলাম এই আদেশ দেন।

দুদক আইনজীবী খন্দকার মুজিবর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

চার আসামি হলেন নগরীর স্যার ইকবাল রোডে সোনালী ব্যাংকের তৎকালীন এজিএম (বর্তমানে জিএম অফিসে সংযুক্ত) সুজিত কুমার মন্ডল, গোডাউন কিপার ব্যাংক কর্মকর্তা নূরুল আমিন, সৌরভ ট্রেডাসের মিতা ভট্টাচার্ষ ও তার স্বামী সুজিত কুমার ভট্টাচার্ষ।

মিতা ভট্টাচার্ষ দৌলতপুর থানা মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ সৈয়দ আলী।

তিনি জানান, সোনালী ব্যাংক সুজিত কুমার মন্ডল স্যার ইকবাল রোড শাখার এজিএম থাকাকালে সৌরভ ট্রেডার্স নামে এক পাট রপ্তানিকারককে এই টাকা ঋণ দেয়। পাটের বিপরীতে এই টাকা দেয়া হলেও দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মোশারেফ হোসেন তদন্তকালে গোডাউনে কোনো পাট পাননি।

এ ব্যাপারে তদন্ত শেষে সম্প্রতি দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। পর পর তিন দফা তারিখ পার হলেও কেউ আদালতে জামিনের আবেদন করেননি।

দুদকের আইনজীবীর শুনানির পর বিচারক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং না পাওয়া গেলে তাদের মালামাল ক্রেকের আদেশ দেন।

এ বিষয়ে মিতা ভাট্টাচার্ষ জানান, আইনজীবীকে তিনি সময়ের আবেদন করতে বলেছেন। তিনি মামলা ও অভিযোগপত্রের কথা স্বীকার করেছেন।

সোনালী ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম জানান, এজিএম সুজিত কুমার মন্ডল জেনারেল ম্যানেজার কার্যালয়ে সংযুক্ত আছেন। চার্জশিট জমার বিষয়টি তারা জানেন না। সুজিত কুমার মন্ডল দীর্ঘদিন ছুটিতে রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
তিনি ক্লাস না করিয়ে বেতন তুলছেন পাঁচ বছর ধরে
বাসচাপায় প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের
৩৫ বছর পর ছুটিতে সেই শিক্ষক

শেয়ার করুন

জামাইয়ের পর শ্বশুরের জয়

জামাইয়ের পর শ্বশুরের জয়

নাসির উদ্দিন (বাঁয়ে) ও মনসুর আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

মনসুর আহমেদ বলেন, ‘জামাই পাস করার পর পরিবারের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছিল। রোববারের নির্বাচনে আমার বিজয়ে পরিবারে আনন্দটা দ্বিগুণ হয়ে গেছে।’

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে শ্বশুর এবং নাসরিনগরে জামাই চেয়ারম্যান হলেন।

রোববার সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নে মনসুর আহমেদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর আগে ১১ নভেম্বর তার মেয়ের জামাই নাসির উদ্দিন নাসিরনগরের কুন্ডা ইউপি নির্বাচনে জয়ী হন।

জামাই-শ্বশুরের পর পর বিজয়ে দুই পরিবারে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

গত রোববার ইউপি নির্বাচনে সরাইলের ৯ ইউনিয়নের দুটিতে আওয়ামী লীগ, ছয়টিতে স্বতন্ত্র ও দুটিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী চেয়ারম্যান হন। এর মধ্যে নোয়াগাঁও ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয় পান বিএনপি নেতা মনসুর আহমেদ। তিনি চশমা প্রতীকে ৪ হাজার ২৭৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

অন্যদিকে নাসিরনগরের কুন্ডা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জয়ী হন নাসির উদ্দিন। তিনি আনারস প্রতীকে ৫ হাজার ৯৪১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

মনসুর আহমেদ বলেন, ‘জামাই পাস করার পর পরিবারের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছিল। রোববারের নির্বাচনে আমার বিজয়ে পরিবারে আনন্দটা দ্বিগুণ হয়ে গেছে।’

জামাই নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমার শ্বশুরের জয়ে আনন্দ অনেকটাই বেড়ে গেছে। চেষ্টা করব জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করার।’

আরও পড়ুন:
তিনি ক্লাস না করিয়ে বেতন তুলছেন পাঁচ বছর ধরে
বাসচাপায় প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের
৩৫ বছর পর ছুটিতে সেই শিক্ষক

শেয়ার করুন

পুলিশের ওপর হামলা মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

পুলিশের ওপর হামলা মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাওন শিকদার। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয়রা জানান, রোববার বিপ্রবগদিয়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে তিন পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৬০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে। মামলা হওয়ার পর বিকেলেই শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পুলিশে ওপর হামলার মামলায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাওন শিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঝিনাইদহ শহরের ডিসি কোর্ট এলাকা থেকে মঙ্গলবার বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তিনি গত রোববার উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের বিপ্রবগদিয়া গ্রামের পুলিশের ওপর হামলা মামলার অন্যতম আসামি। তার বাড়ি উপজেলার নলখোলা গ্রামে।

স্থানীয়রা জানান, রোববার বিপ্রবগদিয়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে তিন পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৬০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে। মামলা হওয়ার পর বিকেলেই শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয়রা আরও জানান, ছাত্রলীগ নেতা শাওনের বিরুদ্ধে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাকে মারধর ছাড়াও আওয়ামী লীগ কর্মীকে গালিগালাজ করার ভিডিও ও অডিও ভাইরাল হয়েছে। বিবাহিত এবং এক সন্তানের জনক শাওনকে কয়েকবার ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হলেও ফের পদ ফিরে পান।

আরও পড়ুন:
তিনি ক্লাস না করিয়ে বেতন তুলছেন পাঁচ বছর ধরে
বাসচাপায় প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের
৩৫ বছর পর ছুটিতে সেই শিক্ষক

শেয়ার করুন

ঈশ্বরদীতে নির্বাচনি সংঘাত, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০

ঈশ্বরদীতে নির্বাচনি সংঘাত, গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০

পুলিশ জানায়, লক্ষ্মীকুন্ডা ইউপি নির্বাচনে নৌকার বিজয়ী প্রার্থী আনিস শরীফ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আনিছুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

পাবনার ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।

ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়াতে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ২৮ নভেম্বর লক্ষ্মীকুন্ডা ইউপি নির্বাচনে নৌকার বিজয়ী প্রার্থী আনিস শরীফ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আনিছুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ তিন জনকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে মোট কতজন আহত হয়েছেন তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

স্থানীয়রা জানায়, নির্বাচনের কয়েকদিন আগে থেকেই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তারই জেরে রাতে এই ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

চেয়ারম্যান আনিস শরীফ জানান, লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পরাজিত সদস্য প্রার্থী হৃদয় ও বিজয়ী আসাদুলের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় দুই মেম্বর প্রার্থীর কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন:
তিনি ক্লাস না করিয়ে বেতন তুলছেন পাঁচ বছর ধরে
বাসচাপায় প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের
৩৫ বছর পর ছুটিতে সেই শিক্ষক

শেয়ার করুন

ধর্ষণের পর হত্যা: যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত বাবা-ছেলের আত্মসমর্পণ

ধর্ষণের পর হত্যা: যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত বাবা-ছেলের আত্মসমর্পণ

আদালতের পিপি অনুপ কুমার নন্দী জানান, মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় গত বুধবার চার আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেয় আদালত। সেদিন আদালতে দুই আসামি উপস্থিত ছিলেন। অন্য দুই আসামি মোস্তান ও রোকন মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় নারীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন পাওয়া দুই আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। তারা সম্পর্কে বাবা-ছেলে।

কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক মো. তাজুল ইসলাম তাদের কারাগারে পাঠান।

আত্মসমর্পণকারী দুজন হলেন ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম এলাকার মোস্তান ও তার ছেলে গোলাম রেজা রোকন।

আদালতের পিপি অনুপ কুমার নন্দী জানান, মামলায় দোষী প্রমাণিত হওয়ায় গত বুধবার চার আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেয় আদালত। সেদিন আদালতে দুই আসামি উপস্থিত ছিলেন। অন্য দুই আসামি মোস্তান ও রোকন মঙ্গলবার আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

আদালত থেকে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার শালিমপুর গ্রামের বাসিন্দা ওই নারী ভেড়ামারায় একটি ডালের মিলে কাজ করতেন। ২০০১ সালের ১২ আগস্ট বিকেলের দিকে বাসা থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর তিনি আর ফেরেননি।

পরদিন উপজেলার বামনপাড়া এলাকার একটি বাঁশঝাড়ে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ওই ঘটনার পর নিহতের মা সাতজনকে আসামি করে থানার ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। পরে ২০০৯ সালে জামিনে গিয়ে পলাতক ছিলেন তারা।

আরও পড়ুন:
তিনি ক্লাস না করিয়ে বেতন তুলছেন পাঁচ বছর ধরে
বাসচাপায় প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের
৩৫ বছর পর ছুটিতে সেই শিক্ষক

শেয়ার করুন

ভোট নিয়ে বিবাদে বাড়িঘরে আগুন গুলি

ভোট নিয়ে বিবাদে বাড়িঘরে আগুন গুলি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কায়েতপাড়ায় মঙ্গলবার রাতে পাঁচটি ঘরে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ছবি: নিউজবাংলা

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, কায়েতপাড়া ইউনিয়নে বিজয়ী ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন এবং পরাজিত প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ ২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

এ সময় আওয়ামী লীগের এক নেতার বাড়িসহ পাঁচটি ঘরে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাউরা এলাকায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন মো. ইউসুফ ও রেনু বেগম। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এসপি জানান, কায়েতপাড়া ইউনিয়নে বিজয়ী ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন এবং পরাজিত প্রার্থী মোশাররফ হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের খবর দিয়ে আগুনও নেভানো হয়েছে।

ভোট নিয়ে বিবাদে বাড়িঘরে আগুন গুলি
রূপগঞ্জে নির্বাচনি সহিংসতায় আহত একজন

তিনি আরও জানান, পুলিশ এরই মধ্যে অভিযান শুরু করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউপি নির্বাচনে জয়-পরাজয় নিয়ে মোশাররফের লোকজনের সঙ্গে জসিমের লোকজন দুদিন ধরেই ছোটখাট বিবাদে জড়াচ্ছিলেন। এর জেরে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই সময় মোশাররফসহ তার পাঁচ সমর্থকের বাড়িঘরে আগুন দেয়া হয়।

ভোট নিয়ে বিবাদে বাড়িঘরে আগুন গুলি

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নুর জাহান আরা খান জানান, রাত ১০টার দিকে গুলিবিদ্ধ একজনকে হাসপাতালে আনা হলে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ছাড়া আহত অবস্থায় হাসপাতালে এসেছেন অন্তত ১০ জন। তাদেরকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
তিনি ক্লাস না করিয়ে বেতন তুলছেন পাঁচ বছর ধরে
বাসচাপায় প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের
৩৫ বছর পর ছুটিতে সেই শিক্ষক

শেয়ার করুন