গোবিন্দ প্রামাণিকের অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন

গোবিন্দ প্রামাণিকের অভিযোগের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘিরপাড়ে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পূজামণ্ডপ (বাঁয়ে) ও বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিক। ছবি: নিউজবাংলা

গোবিন্দ প্রামাণিকের ওই বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লায়ও চলছে আলোচনা। এমন অভিযোগ অস্বীকার করছেন এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। আর হিন্দুনেতারা বলছেন, এ ধরনের কোনো বক্তব্য তারা গোবিন্দ প্রামাণিকের কাছে দেননি।

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘিরপাড়ে পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়া এবং এর জের ধরে সহিংসতার পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব দায়ী থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিক।

অনলাইনভিত্তিক একটি টক শোতে শনিবার রাতে তিনি বলেন, স্থানীয় লোকজন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা তাকে বলেছেন, কুমিল্লা সদর আসনের এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে।

গোবিন্দ প্রামাণিকের ওই বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লায়ও চলছে আলোচনা। এমন অভিযোগ অস্বীকার করছেন এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। আর হিন্দুনেতারা বলছেন, এ ধরনের কোনো বক্তব্য তারা গোবিন্দ প্রামাণিকের কাছে দেননি।

অনলাইন ওই টক শোতে গোবিন্দ প্রামাণিক ছাড়াও কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোল্লা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর অংশ নেন।

গোবিন্দ প্রামাণিকের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল পাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বুধবার সকালে ঘটনার পর দিনভর সহিংসতা হয়। পরদিন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন কুমিল্লায় আসেন। পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হিন্দুনেতাদের সঙ্গে কথা বলেন ডিআইজি আনোয়ার হোসেন।

‘আমরা জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় হিন্দু মহাজোটের কুমিল্লার নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। সভা চলাকালে হঠাৎ উপস্থিত হন হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিক। তবে তার সঙ্গে আমাদের কোনো কথা হয়নি।’

কুমিল্লা মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অচিন্ত্য দাশ টিটু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হিন্দু মহাজোট আলাদা সংগঠন। কেন কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে হিন্দু মহাজোটের কেন্দ্রীয় নেতারা আমাদের সঙ্গে কোনো কথাই বলেননি। তারা কথা বলেছেন হিন্দু মহাজোটের জেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে।’

হিন্দু মহাজোটের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মানিক ভৌমিকও বলছেন, এমন কোনো অভিযোগ তারা গোবিন্দ প্রামাণিককে জানাননি।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে কুমিল্লায় সহিংসতা হয়েছে, এটা আমরা কখনোই বলিনি। ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিক বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন।

‘পরে গোবিন্দ প্রামাণিককে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যাই। সেখানে ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত ডিআইজি জাকির হোসেন, পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠক হয়। সেখানে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটেছে বলে কোনো কথা হয়নি।’

টক শোতে গোবিন্দ প্রামাণিকের তোলা অভিযোগের বিষয়ে মানিক ভৌমিক বলেন, ‘যদি উনি এমন কথা বলেন তাহলে সেটা ওনার বিষয়। কারণ কুমিল্লার বাটি চালান দিয়েও একটি মানুষ পাওয়া যাবে না যে বলবে মেয়র ও এমপির দ্বন্দ্ব রয়েছে। এটা হাস্যকর কথা।

‘তবে আমাদের নেতা গোবিন্দ প্রামাণিক ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তাদের সঙ্গে কী কথা বলেছেন, সেটা আমরা জানি না।’

সংগঠনটির কুমিল্লার সহসভাপতি অ্যাডভোকেট স্বর্ণকমল নন্দীও একই মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লার ঠাকুরপাড়া এলাকার কালীগাছতলার বাসিন্দা অশোক রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের জানামতে এটা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থেকে হয়নি। এটা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তৃতীয় কোনো পক্ষ এ কাজটা করেছে।’

ছাতিপট্টি রক্ষাকালী মন্দিরের আশপাশের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনও মনে করছেন, রাজনৈতিক কারণে এমন হামলা হয়নি। মেয়র ও এমপির সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের বলেও তারা দাবি করেন।

কী বলছেন এমপি-মেয়র

ধর্মীয় সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার দাবিও করেছেন তিনি।

সাক্কু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনার সময় এমপি সাব ছিলেন হজে, আমি ছিলাম কুমিল্লায়। মানুষ মুখ দিয়া কত কথা কয়, কিন্তু কেউ প্রমাণ দিতে পারবে?’

টক শোটি দেখেননি জানিয়ে সাক্কু বলেন, ‘আমার সঙ্গে এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। আমি বিএনপির রাজনীতি করলেও আওয়ামী লীগের এমপির সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক। এ কারণে অনেকে আমাকে কটাক্ষও করেন।’

সাক্কু মনে করেন, ভালো সম্পর্ক না থাকলে এলাকায় উন্নয়নকাজ করা সম্ভব না। তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রতিটি কাজ আমি এমপির সঙ্গে পরামর্শ করেই করি। কাজেই যারা এমন বক্তব্য দেয়, সেগুলো তাদের নিজস্ব বিষয়।’

অন্যদিকে কুমিল্লা সদর আসনে আওয়ামী লীগের এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আগামীকাল সোমবার বিকেলে গণজমায়েতের আয়োজন করা হয়েছে। সেই জমায়েতেই টক শোর ওই মন্তব্যের জবাব দেয়া হবে।’

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ প্রামাণিকের মন্তব্যও জানতে চেয়েছে নিউজবাংলা। তিনি বলেন, ‘আমাকে অনেকে রোববার সকালে ফোন করে এমপির সঙ্গে মেয়রের সুসম্পর্কের কথা জানিয়েছেন। তবে আমি বলব এমপি অনেক প্রভাবশালী। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক ছিল।’

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় মন্দিরে হামলা-মামলার আসামি জামায়াতের কাউন্সিলর
সবাই স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করছে: মন্ত্রী তাজুল
সিলেটে মণ্ডপে হামলা, গ্রেপ্তার ১২
হিন্দুরা কখনও এভাবে কোরআন অবমাননা করবে না: জাপা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চুরি করা শুক্রাণু থেকেই কি সন্তান জন্মেছিল

চুরি করা শুক্রাণু থেকেই কি সন্তান জন্মেছিল

ভাইরাল সেই ফেসবুক পোস্ট।

ভ্যানগার্ড নিউজের বরাত দিয়ে ভাইরাল এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, লাস ভেগাসে জেন নামে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী কোটিপতি টেক ব্যবসায়ীর সন্তান জন্ম দিয়েছেন তার সঙ্গে কোনো যৌন সম্পর্ক স্থাপন না করেই।

ইন্টারনেট, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এমন একটি জায়গা, যেখানে যেকোনো সময় যেকোনো বিষয় ভাইরাল হয়ে যেতে পারে। আর এমনটি হতে পারে বিষয়টির সত্যাসত্য যাচাই না করেই।

বুধবার এমনই একটি ভাইরাল বিষয় নজরে এসেছে নিউজবাংলার। ফেসবুকের নারী নামের একটি পেজে দাবি করা হয়েছে, লাস ভেগাসের ৪০ বছর বয়সী এক নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মী তার সন্তানের পিতৃত্ব দাবি করে ২৮ বছর বয়সী এক টেক মিলিয়নিয়ারের নামে মামলা করে জয়ী হয়েছেন।

ভ্যানগার্ড নিউজের বরাত দিয়ে, ওই পোস্টে দাবি করা হয়- জেন নামে সেই পরিচ্ছন্নতাকর্মী কোটিপতি টেক ব্যবসায়ীর সন্তান জন্ম দিয়েছেন তার সঙ্গে কোনো যৌন সম্পর্ক স্থাপন না করেই।

বলা হয়েছে, ঘটনার সময় জেনের বয়স ছিল ৩৬ বছর। সে সময় তিনি লাস ভেগাসের একটি হোটেলে ক্লিনার হিসেবে কাজ করতেন। অনেক ধনি কোনো পুরুষের ঔরসে সন্তান জন্ম দেয়ার বাসনা ছিল তার। সেই সুযোগটি তিনি একদিন পেয়েও যান, যখন দেখলেন বেশ ধনি এক যুবক ওই হোটেলে থাকতে এসেছেন।

পরে সেই টেক মিলিয়নিয়ারের কক্ষ পরিষ্কার করতে গিয়ে ময়লার ঝুড়ি থেকে তার ব্যবহৃত একটি কনডম চুরি করেন জেন। এই কনডমের ভেতরেই ছিল সেই ধনি যুবকের শুক্রাণু। জেন বুদ্ধি করে সেই শুক্রাণু তার নিজের গর্ভে ঢুকিয়ে দেন। এভাবেই তার গর্ভে সন্তান আসে। নির্দিষ্ট সময় পর তিনি এক ছেলের জন্ম দেন। সেই ছেলের বয়স এখন চার বছর।

মামলা চলার সময় শিশুটির পিতৃত্ব পরীক্ষা করেও প্রমাণ মেলে যে, সেই টেক মিলিয়নিয়ারই তার পিতা। ফলে পিতা হিসেবে তিন বছর বয়স পর্যন্ত শিশুটির পাশে না থাকার দায়ে ওই মিলিয়নিয়ারকে ২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেয়ার রায় দেয় আদালত।

এই অর্থ পেয়ে ভাগ্য বদলে গেছে জেনের। তিনি হোটেলের কাজ ছেড়ে এখন নতুন ব্যবসা শুরু করেছেন।

ওই ফেসবুক পোস্টের শেষ লাইনে মন্তব্য করা হয়- ‘মানুষ কত নিচে নামতে পারে এটাই একটা উদাহরণ।’

কিন্তু ঘটনাটি যাচাই করতে গিয়ে এর কোনো সত্যতা খুঁজে পায়নি নিউজবাংলা। এমনকি খবরটির সূত্র হিসেবে ভ্যানগার্ড নিউজের যে উদাহরণ দেয়া হয়েছে, সেখানেও এ-সংক্রান্ত কিছু খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আরও অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, এই ঘটনাটি পাশ্চাত্যে দুই বছর আগেই ভাইরাল হয়েছিল। ওয়াপলোডেড ডটকম মিডিয়া নামে এক ফেসবুক পেজে খবরটি প্রথম শেয়ার করা হয়। পরে এটি অন্যান্য সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দাবানলের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ে।

সেই সময়ই ‘ট্রুথওরফিকশন’ নামে একটি ওয়েবসাইট ঘটনাটি যাচাই করে দেখতে পায়, এটি পুরোপুরি একটি মিথ্যা খবর।

এই খবর সম্পর্কে ট্রুথওরফিকশন জানায়, কোনো সুনির্দিষ্ট লিংক ছাড়াই এই খবরটি স্ক্রিনশট আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে ঘটলেও এ সম্পর্কিত খবরের দু-একটি লিংক পাওয়া গিয়েছিল অন্যান্য দেশের কিছু ভুঁইফোঁড় পোর্টালে।

এ ধরনের খবরে বিশ্বাস স্থাপন কিংবা প্রচার করায় আরও সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত বলে মনে করে নিউজবাংলা২৪।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় মন্দিরে হামলা-মামলার আসামি জামায়াতের কাউন্সিলর
সবাই স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করছে: মন্ত্রী তাজুল
সিলেটে মণ্ডপে হামলা, গ্রেপ্তার ১২
হিন্দুরা কখনও এভাবে কোরআন অবমাননা করবে না: জাপা

শেয়ার করুন

ভাইরাল সেই ভিক্ষু কি মৃত্যুর পরেও জীবিত!

ভাইরাল সেই ভিক্ষু কি মৃত্যুর পরেও জীবিত!

২০১৭ সালে থাইল্যান্ডে তোলা হয়েছিল এই ছবিটি। ডেইলি মেইল

ভিক্ষুর ছবি ও বর্ণনা মিলে চিত্তাকর্ষক হওয়ায় অনেকেই কপি করে নিজের ওয়ালে তা শেয়ার করেছেন। তবে এই ছবি ও বর্ণনার সূত্র অনুসন্ধান করতে গিয়ে চমকপ্রদ তথ্য পেয়েছে নিউজবাংলা। 

কিছুদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ওয়ালে ওয়ালে ঘুরছে এক বৌদ্ধ ভিক্ষুর ছবি। নির্বাণ লাভের পরও তার হাস্যোজ্জ্বল মুখের প্রতিচ্ছবি দৃষ্টি কেড়েছে নেটিজেনদের।

সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই দাবি করছেন, সম্প্রতি হিমালয়ের দুর্গম এক পাহাড়ি গুহা থেকে এই প্রাচীন বৌদ্ধ ভিক্ষুর শরীর উদ্ধার করেছে নেপালের কিছু নৃতত্ত্ববিদ ও পুলিশ। পরে একটি মেডিক্যাল টিম পরীক্ষা করে জানিয়েছে, ওই ভিক্ষুর শরীরে এখনও প্রাণ আছে। আর ফরেনসিক টিমের বক্তব্য হলো- ওই ভিক্ষুর বয়স ২৫০ থেকে ৩০০ বছর হতে পারে। বর্তমানে তিনি সজ্ঞানে নেই। ধ্যানরত অবস্থায় সমাধি লাভ করেছেন। অর্থাৎ শরীরের ভেতর প্রাণ থাকলেও জ্ঞান নেই‌।

আরও দাবি করা হয়, ধ্যানরত ওই ভিক্ষুর পাশ থেকে এক টুকরো কাগজও পাওয়া গেছে। সাংকেতিক ভাষায় ওই লেখাটির মর্মার্থ দাঁড়ায়- ‘সবাই কাঁচা বাদাম বেচলে কিনবে কে?’

ভিক্ষুর ছবি ও বর্ণনা মিলে চিত্তাকর্ষক হওয়ায় অনেকেই কপি করে নিজের ওয়ালে তা শেয়ার করেছেন। তবে এই ছবি ও বর্ণনার সূত্র অনুসন্ধান করতে গিয়ে চমকপ্রদ তথ্য পেয়েছে নিউজবাংলা।

দেখা গেছে, ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টটি সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ভিক্ষুর ছবিটির উৎস বের করতে গিয়েই মিলেছে এমন তথ্য।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাইরাল হওয়া ছবির ব্যক্তিটি আসলে বৌদ্ধ ভিক্ষু লুয়াং ফোর পিয়ানের। ২০১৭ সালে তিনি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে মারা যান।

ছবিটি দিয়ে গুগল ইমেজে সার্চ করে দেখা যায়, ২০১৮ সালেও এই ছবিসহ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম। এর মধ্যে ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর ব্যাংককের একটি হাসপাতালে অসুস্থতাজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছিল ৯২ বছর বয়সী ভিক্ষু পিয়ানের।

আরও জানানো হয়, মৃত্যুর দুই মাস পর একটি কফিনের ভেতর থেকে পিয়ানের মরদেহটি ছবি তোলার জন্য তার অনুসারীরা বের করে আনেন। সে সময় একটি ধর্মীয় আচারের অংশ হিসেবে মরদেহে নতুন পোশাক পরানো হয়।

থাইল্যান্ডে মারা গেলেও লুয়াং ফোর পিয়ানের জন্ম কম্বোডিয়ায়। পরে জীবনের বেশির ভাগ সময় তিনি থাইল্যান্ডের লবপুরিতে বৌদ্ধ গুরু হিসেবে কাটান।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম মেট্রোর এক খবরে বলা হয়, মৃত্যুর দুই মাস পরও ভিক্ষু পিয়ানের দেহ অনেকটা সজীব ছিল। সাধারণত কেউ মারা গেলে ৩৬ ঘণ্টা পর্যন্ত এমন অবস্থা থাকে।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে যেসব তথ্যসহ ভিক্ষু পিয়ানের ছবিটি ভাইরাল করা হয় সেগুলোর মূল উৎসও পাওয়া গেছে। তবে সেসব তথ্য যে ভিক্ষুকে কেন্দ্র করে তার মরদেহ ২০১৫ সালে মঙ্গোলিয়ার উলানবাটর থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রায় অবিকৃত অবস্থায় উদ্ধার করা মরদেহটি বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দাবি করেন, অন্তত ২০০ বছর আগে তার মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় মন্দিরে হামলা-মামলার আসামি জামায়াতের কাউন্সিলর
সবাই স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করছে: মন্ত্রী তাজুল
সিলেটে মণ্ডপে হামলা, গ্রেপ্তার ১২
হিন্দুরা কখনও এভাবে কোরআন অবমাননা করবে না: জাপা

শেয়ার করুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্মে দুই কিশোরী কে?

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্মে দুই কিশোরী কে?

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম পরা সোহাগী সামিয়া জান্নাতুল ফেরদৌস (বাঁয়ে) এবং সেঁজুতি খন্দকার শিক্ষার্থী নন বলে দাবি করছেন অনেকে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

বেশ কিছু ফেসবুক ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, পুলিশের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ানো দুই কিশোরী ‘শিক্ষার্থী’ নন। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম পরে আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছেন। ঘটনার সময় সবচেয়ে বেশি সোচ্চার কিশোরীটি একটি রাজনৈতিক সংগঠনে যুক্ত বলেও দাবি করা হয়েছে এসব পোস্টে।

বাসে শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়া ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মাঝে গত বৃহস্পতিবার রামপুরা এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম পরা দুই কিশোরীর সঙ্গে পুলিশের বাগ্‌বিতণ্ডার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

আরটিভির ফেসবুক পেজে ভিডিওটি আপলোডের পর পরই সেটি ছড়িয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আরটিভির পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘ইউনিফর্ম পরা থাকলেই স্টুডেন্ট নয়!’

এই ক্যাপশন কেন্দ্র করে বেশ কিছু ফেসবুক ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, পুলিশের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ানো দুই কিশোরী ‘শিক্ষার্থী’ নন। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম পরে আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছেন।

ঘটনার সময় সবচেয়ে বেশি সোচ্চার কিশোরীটি একটি রাজনৈতিক সংগঠনে যুক্ত বলেও দাবি করা হয়েছে এসব পোস্টে।

তবে নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, রামপুরার আলোচিত দুই কিশোরীই শিক্ষার্থী। তাদের একজন এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন, আরেক জন সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষা শেষ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচিত কিশোরীর নাম সোহাগী সামিয়া জান্নাতুল ফেরদৌস। খিলগাঁও মডেল ইউনিভার্সিটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহাগী এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্মে দুই কিশোরী কে?
সোহাগী সামিয়া জান্নাতুল ফেরদৌস খিলগাঁও মডেল ইউনিভার্সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন

ভিডিওতে সোহাগীর সঙ্গে থাকা শিক্ষার্থীর নাম সেঁজুতি খন্দকার। দক্ষিণ বনশ্রী মডেল স্কুল থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন সেঁজুতি।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, সোহাগী সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত, তবে সেঁজুতি কোনো ছাত্র সংগঠনে যুক্ত নন।

সোহাগীর ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দিন প্রিন্স।

তিনি বলেন, ‘সোহাগী দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্র ফ্রন্টের রাজনীতি করেন এবং বর্তমানে তিনি ঢাকা নগর কমিটির দপ্তর সম্পাদক। এবার তিনি এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন।’

সোহাগী সামিয়া জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গেও কথা বলেছে নিউজবাংলা। তিনি বলেন, ‘যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে সেটা আমারই। অনেকে বলছেন আমি শিক্ষার্থী নই, এটি আসলে আন্দোলন থামিয়ে দিতে প্রচার করা হচ্ছে। আমি খিলগাঁও মডেল ইউনিভার্সিটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়ায় আগামী ১৯ তারিখ আমার এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে।’

সোহাগী বলেন, “ভিডিওটি বৃহস্পতিবার দুপুরের ঘটনা নিয়ে। সেদিন আরটিভির ফেসবুক পেজে আমাদের ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। এর ক্যাপশনে লেখা ছিল- ‘ইউনিফর্ম থাকলেই স্টুডেন্ট নয়!’’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্মে দুই কিশোরী কে?
পুলিশের সঙ্গে সোহাগী সামিয়া জান্নাতুল ফেরদৌসের বিতণ্ডার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে

এই ক্যাপশনের বিষয়ে সোহাগী বলেন, ‘এটা আমাদের (দুই শিক্ষার্থী) উদ্দেশ করে লেখা হয়নি। ঘটনার সময় পুলিশ এ ধরনের একটি কথা বলেছিল, সেটি ক্যাপশনে আনা হয়েছে। আরটিভি কর্তৃপক্ষ আমাদের বোঝাতে এই ক্যাপশন দেয়নি।’

শনিবার আরটিভির ফেসবুক পেজে গিয়ে সেই ভিডিওটি আর পাওয়া যায়নি। সেটি সরিয়ে ফেলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা।

সোহাগী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভিডিওটি মূল পেজে এখন না থাকলেও ফেসবুক ব্যবহারকারীরা এর স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ডাউনলোড করা ভিডিওটিও ছড়ানো হচ্ছে।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্মে দুই কিশোরী কে?
সোহাগী ও সেঁজুতি শনিবারও আন্দোলনে অংশ নেন

সোহাগীর ছাত্রত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খিলগাঁও মডেল ইউনিভার্সিটি কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষক কে এম নাহিদ হাসান। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওর (সোহাগী) নামে একটা মিথ্যা পোস্ট ছড়িয়ে গেছে। আসলে ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী। মানবিক বিভাগ থেকে এবার সে পরীক্ষা দিচ্ছে, আমি ওর সরাসরি শিক্ষক।’

খিলগাঁও মডেল ইউনিভার্সিটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী জুলকার নাইন সুলতান আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সোহাগী সামিয়া জান্নাতুল ফেরদৌস আমাদের কলেজের ছাত্রী। আমাদের কলেজ থেকে সে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে।’

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, ‘কলেজের ভেতরে আগে তাকে (সোহাগী) কখনও আন্দোলন করতে দেখিনি। আজ ছবি দেখে আমি চিনেছি, আগে তাকে চিনতাম না। শুনেছি বাইরে সে পলিটিক্যালি খুব তৎপর, তবে কলেজের ভেতরে তার তৎপরতা দেখিনি।’

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় মন্দিরে হামলা-মামলার আসামি জামায়াতের কাউন্সিলর
সবাই স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করছে: মন্ত্রী তাজুল
সিলেটে মণ্ডপে হামলা, গ্রেপ্তার ১২
হিন্দুরা কখনও এভাবে কোরআন অবমাননা করবে না: জাপা

শেয়ার করুন

ফেসবুক বা মেটায় ছবি ব্যবহার নিয়ে সতর্কবার্তা কতটা সত্যি?

ফেসবুক বা মেটায় ছবি ব্যবহার নিয়ে সতর্কবার্তা কতটা সত্যি?

বিভিন্ন ফ্যাক্টচেক সাইট ঘুরে জানা গেছে, এই বার্তার কোনো ভিত্তি নেই। ফেসবুক বা মেটা এমন কোনো নীতি গ্রহণ করেনি, যেখানে ব্যবহারকারীদের ছবি নিতে অনুমতি দরকার নেই বলে উল্লেখ রয়েছে। ফেসবুকের প্রাতিষ্ঠানিক নাম বদলে ‘মেটা’ হওয়ার পর থেকেই গুজবটি ছড়াতে শুরু করে। 

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা ছবি তাদের অনুমতি ছাড়াই নিজেদের কাজে ব্যবহার করতে যাচ্ছে ফেসবুক ও মেটা- এমন একটি বার্তা ঘুরে বেড়াচ্ছে অনেকের প্রোফাইলে।

বার্তাটিতে বলা হয়েছে, ব্যক্তির ছবি নিতে যেন অনুমতির প্রয়োজন না হয়, সেজন্য নতুন একটি নীতিমালা গ্রহণ করেছে ফেসবুক ও মেটা। তবে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আগেই আপত্তি জানিয়ে রাখলে ফেসবুক-মেটা এ কাজ করতে পারবে না।

মেসেঞ্জারে ছড়ানো মূল বার্তাটি ইংরেজি। অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন ভাষায় এর অনুবাদও বার্তায় যোগ করা হয়েছে। অগোছালো ইংরেজি আর বাংলায় বার্তাটির শুরুটা করা হয়েছে এভাবে:

“The new Facebook/Meta rule starts tomorrow where they can use your photos. Don't forget the deadline is today! This could be used in lawsuits against you. Everything you've ever posted is posted today - even messages that have been deleted. It doesn't cost anything, just copy and post, better than regretting later.

আগামীকাল ফেসবুক/মেটা নতুন নিয়ম চালু করবে, যার মাধ্যমে তারা আপনার ছবি অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করতে পারবে। ভুলে যা‌বেন না, আজ শেষ দিন! তাই একটা কাজ করুন। আপনার বিরুদ্ধে মামলায় এ নিয়ম কাজে লাগানো হতে পারে। আপনি যা কিছু পোস্ট করেছেন - এমনকি মুছে ফেলা বার্তাও। এতে কোনো খরচ নেই, শুধু কপি করে পোস্ট করুন, পরে আফসোস করার চেয়ে ভালো হ‌বে।

তবে বিভিন্ন ফ্যাক্টচেক সাইট ঘুরে জানা গেছে, এই বার্তার কোনো ভিত্তি নেই। পলিফ্যাক্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্তাটি ভুয়া। ফেসবুক বা মেটা এমন কোনো নীতি গ্রহণ করেনি, যেখানে ব্যবহারকারীদের ছবি নিতে অনুমতি দরকার নেই বলে উল্লেখ রয়েছে।

ফেসবুকের প্রাতিষ্ঠানিক নাম বদলে ‘মেটা’ হওয়ার পর থেকেই গুজবটি ছড়াতে শুরু করে।

কথিত ওই সতর্কবার্তার পরের অংশে বলা হয়েছে, কীভাবে প্রোফাইলে একটি আইনি নোটিশ পোস্ট করলে ফেসবুক চাইলেও ব্যবহারকারীদের তথ্য নিতে পারবে না:

“Under UCC Law Sections 1-207, 1-308... I am imposing my Reservation of Rights...I DO NOT ALLOW Facebook/Meta or any other Facebook/Meta related person to use my photos, information, messages or messages, both in the past and in the future. This statement I inform Facebook/Meta that it is strictly prohibited to disclose, copy, distribute or take any other action against me based on this account and / or its contents. This account content is private and confidential information. Violation of my personal life may be punished by law.

ইউসিসি আইনের অধীনে ১-২০৭, ১-৩০৮... আমি আমার অধিকার সংরক্ষণ আরোপ করছি... আমি ফেসবুক/মেটা বা ফেসবুক/মেটা সম্পর্কিত কোনো ব্যক্তিকে আমার ছবি, তথ্য, বার্তা ব্যবহার করার অনুমতি দিচ্ছি না, অতীতে এবং ভবিষ্যতে কোনো সময়েই।

এই পোস্টটি কপি করে আপনার নি‌জের পে‌জে পোস্ট করে রাখুন এবং ঘোষণা দিন যে, আমি ফেসবুক/মেটাকে তাদের ওয়েবসাইটে পোস্ট করা আমার তথ্য অন্য কোথাও শেয়ার করার অনুমতি দিচ্ছি না। ছবি, বর্তমান বা অতীত, বন্ধু-বান্ধব, ফোন নম্বর, ই-‌মেইল অ্যা‌ড্রেস, ব‌্যক্তিগত কোনো তথ‌্য বা পোস্ট- এসবের কিছুই আমার লিখিত অনুমতি ছাড়া ভিন্নরূপে ব্যবহার করা যাবে না।

এ বিষয়ে একমত পোষণ করছি এবং আমার ব্যক্তিগত সমস্ত তথ্য আমার অনুমতি ছাড়া অন্যকে ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছি। কেউ আমার ছবি, তথ্য বা ফেইসবুকে প্রদত্ত পোস্ট অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগেও অসংখ্যবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নীতিমালা নিয়ে বিভিন্ন ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছিল। সেগুলোর মতোই সবশেষ এই বার্তারও কোনো ভিত্তি নেই।

ফেসবুকে ভুয়া খবর ও অপপ্রচার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি এ ধরনের পোস্টগুলো লাল চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করে থাকে।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেসবুক কোনো নীতিমালা গ্রহণ বা পরিবর্তন করলে তা আটকাতে ব্যক্তিগত কোনো পোস্ট কোনো কাজে আসে না।

অনলাইনে এ ধরনের গুজব প্রথম ছড়ায় ২০১২ সালের নভেম্বরে। সে সময় সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য মাত্র উন্মুক্ত হয় সামাজিক যোগাযোগের এ মাধ্যমটি। এবারের ভুয়া বার্তাটির ভাষা একটু বদলে গেলেও এটি অনেকটি ২০১২ সালের বার্তার মতোই। তখন লেখা হয়েছিল, কিছু একটা পোস্ট করুন, না হলে আপনার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে ফেসবুক।

বাস্তবে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ব্যবহারকারীরা গোপনীয়তা বা কপিরাইট সংক্রান্ত শর্তে সম্মতি দেন। এ কারণে পরে তারা চাইলেও পূর্বাবস্থায় ফিরতে পারেন না। একইভাবে কেবল একটি নোটিশ পোস্ট করে ফেসবুকের নীতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্তেও কোনো প্রভাব ফেলা যায় না।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় মন্দিরে হামলা-মামলার আসামি জামায়াতের কাউন্সিলর
সবাই স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করছে: মন্ত্রী তাজুল
সিলেটে মণ্ডপে হামলা, গ্রেপ্তার ১২
হিন্দুরা কখনও এভাবে কোরআন অবমাননা করবে না: জাপা

শেয়ার করুন

বেঁচে আছেন মিস্টার বিন

বেঁচে আছেন মিস্টার বিন

‘মিস্টার বিন’-খ্যাত ব্রিটিশ অভিনেতা রোয়ান অ্যাটকিনসন। ছবি: সংগৃহীত

ফক্স নিউজের নামে ভুয়া একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়, গত ২২ নভেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫৮ বছরের বিন। মুহূর্তেই সে খবর ছড়িয়ে পড়ে নেট দুনিয়ায়। বয়সের গরমিলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি যাচাই করেন ভক্তরা। ধরা পড়ে এটি গুজব।

বেঁচে আছেন ‘মিস্টার বিন’-খ্যাত ব্রিটিশ অভিনেতা রোয়ান অ্যাটকিনসন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তার মৃত্যুর খবরটি ভুয়া।

ফক্স নিউজের নামে ভুয়া একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়, গত ২২ নভেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৫৮ বছরের মিস্টার বিন। মুহূর্তেই সে খবর ছড়িয়ে পড়ে নেট দুনিয়ায়।

দ্য সানের খবরে বলা হয়েছে, টুইটে বিনের বয়স ভুল উল্লেখ করা হয়েছিল। তার বর্তমান বয়স ৬২।

বয়সের গরমিলের কারণে সন্দেহ তৈরি হয় ভক্তদের মধ্যে। এ ছাড়া আগেও কয়েকবার এই তারকার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। খোঁজখবর নিয়ে বিনের পাঁড় ভক্তরা খবরটিকে গুজব বলে নিশ্চিত করেন।

ভুয়া ওই টুইটে কমেন্টে একজন লেখেন, ‘রোয়ান অ্যাটকিনসন ওরফে মিস্টার বিন মারা যাননি। পোস্টটি ভুয়া।

‘অনলাইনে মিস্টার বিনের মৃত্যুর ভূয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে… জঘন্য।’

আরেক ভক্ত লেখেন, ‘অভিনেতা মিস্টার বিনের মৃত্যুর ভুয়া খবর আবারও ছড়ানো হচ্ছে। এটা সম্ভবত ২৩তম বার। মানুষটাকে বাঁচতে দিন।’

অন্য একজন লেখেন, ‘আবারও গুজব। তিনি অনেকবার মরেছেন।’

গুজব ছড়ানো শুরু করল কে?

নিউ ইয়র্কভিত্তিক ফক্স নিউজের ভুয়া টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে সম্প্রতি গুজবটি ছড়ানো হয়। এর আগে ২০১৭ সালের ১৮ মার্চ ফক্স নিউজের নামে একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের গুজব ছড়ানো হয়। কিছু সময়ের মধ্যে ফক্স নিউজ কর্তৃপক্ষ খবরটিকে ভুয়া বলে নিশ্চিত করে। তবে তার আগেই ৩ লাখ বার শেয়ার হয়ে যায় বিনের মৃত্যুর খবর।

কোথায় আছেন মিস্টার বিন?

জনপ্রিয় অভিনেতা বহাল তবিয়তেই আছেন। আগস্টে ‘ম্যান ভার্সেস বি’ নামের একটি কমিডি শোতে দেখা গেছে বিনকে। পরচুলায় লাল টি-শার্টে সাবলীল দেখাচ্ছিল মিস্টার বিন-খ্যাত রোয়ান অ্যাটকিনসনকে।

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় মন্দিরে হামলা-মামলার আসামি জামায়াতের কাউন্সিলর
সবাই স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করছে: মন্ত্রী তাজুল
সিলেটে মণ্ডপে হামলা, গ্রেপ্তার ১২
হিন্দুরা কখনও এভাবে কোরআন অবমাননা করবে না: জাপা

শেয়ার করুন

হাঁচি মানে ক্ষণিকের মৃত্যু নয়

হাঁচি মানে ক্ষণিকের মৃত্যু নয়

প্রতীকী ছবি।

কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির রাইনোলজির প্রধান ড. ডেভিড গুডিস বলেন, ‘হাঁচির মাধ্যমে ঘণ্টায় ১০০ মাইল গতিতে বাতাসে ভেসে বেড়ানো কণা মানবদেহ থেকে দূরে ছিটকে যায়। মানুষের পাশাপাশি ইঁদুর, কুকুর, বিড়ালসহ সব স্তন্যপায়ী প্রাণিই এ পদ্ধতি অনুসরণ করে।’

জনমনে প্রচলিত ধারণা- কেউ হাঁচি দিলেই এক সেকেন্ডের জন্য তার দেহের মৃত্যু হয়; প্রতিবার হাঁচি, মানে ক্ষণিকের মৃত্যু।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এমন দাবি সম্বলিত পোস্টের দেখা মেলে প্রায়ই। গত ১৫ নভেম্বর ফেসবুকে তিনদিনে প্রায় ১০০ লাইক কুড়ানো একটি পোস্টেও লেখা হয়- ‘আপনি কি জানতেন? যখনই আপনি হাঁচি দেন, এক সেকেন্ডের জন্য আপনার মৃত্যু হয়।’

অনেকেই পোস্টে দেয়া তথ্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও বিশ্বাসীর সংখ্যাও কিছু কম নয়।

একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘হাঁচি দেয়ার সময় হৃৎস্পন্দন এক সেকেন্ডের জন্য থেমে যায়। তাই কার্যত ওই একটি সেকেন্ডে আপনি মৃত।’

আরেক মন্তব্যকারী লিখেছেন, ‘আমি তো প্রতিদিন ১৫ বার মারা যাই!!!’

কিন্তু এটি বাস্তব নয়।

ইউএসএ টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, হাঁচি দেয়ার সময় রক্তচাপ খুব দ্রুত পরিবর্তন ও স্থিতিতে ফেরার কারণে আপনার হৃৎপিণ্ড একটি স্পন্দন অনুভব নাই করতে পারে, কিন্তু এর মানে মৃত্যু নয়।

নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ব্লাহম কার্ডিওভাস্কুলার ইনস্টিটিউটের সহযোগী পরিচালক ড. ক্লাইড ইয়ানসে বলেন, ‘এটা মিথ্যা। এ দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। হাঁচির কারণে হৃৎপিণ্ড থেমে যায় না। এটা রূপকথার গল্প হিসেবে খারিজ করে দেয়া যায়।’

নাকের মাধ্যমে ধুলা, ভাইরাস বা বাতাসে থাকা কোনো ক্ষুদ্র ময়লা শরীরে ঢোকার চেষ্টা করলে নাসিকারন্ধ্র তা প্রতিরোধ করে। এটিরই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হাঁচি।

কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির রাইনোলজির প্রধান ড. ডেভিড গুডিস বলেন, ‘হাঁচির মাধ্যমে ঘণ্টায় ১০০ মাইল গতিতে বাতাসে ভেসে বেড়ানো কণা মানবদেহ থেকে দূরে ছিটকে যায়। মানুষের পাশাপাশি ইঁদুর, কুকুর, বিড়ালসহ সব স্তন্যপায়ী প্রাণিই এ পদ্ধতি অনুসরণ করে।’

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় মন্দিরে হামলা-মামলার আসামি জামায়াতের কাউন্সিলর
সবাই স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করছে: মন্ত্রী তাজুল
সিলেটে মণ্ডপে হামলা, গ্রেপ্তার ১২
হিন্দুরা কখনও এভাবে কোরআন অবমাননা করবে না: জাপা

শেয়ার করুন

করোনার চেয়ে টিকায় শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি ৫০ গুণ বেশি?

করোনার চেয়ে টিকায় শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি ৫০ গুণ বেশি?

যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছরের কমবয়সী ৭০০ শিশু করোনাভাইরাসে মারা গেছে, টিকা নেয়ার কারণে একজনও নয়। প্রতীকী ছবি

জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্যনীতি ও ব্যবস্থাপনার অধ্যাপক ড. লিয়ানা ওয়েন ই-মেইলে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে করোনা প্রতিরোধী টিকায় একটি শিশুরও মৃত্যু হয়নি। কিন্তু করোনায় ছয় শতাধিক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। ইয়াদুনের দাবি সম্পূর্ণ অসত্য।’

প্রায় বছরখানেক অপেক্ষার পর শিশুদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকাদানে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফডিএ। কিন্তু বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে যে শিশুদের জন্য টিকার চেয়ে করোনাভাইরাস বেশি নিরাপদ।

ইনস্টাগ্রামে গত ৫ নভেম্বরের একটি পোস্টে বলা হয়, ‘শিশুদের করোনায় আক্রান্ত হলে যত না মৃত্যুঝুঁকি, সে ঝুঁকি ৫০ গুণ বেড়ে যায় তাদের করোনা প্রতিরোধী টিকা দেয়া হলে।’

এক সপ্তাহে তিন হাজার ‘লাইক’ কুড়ানো পোস্টটিতে উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে ড. মিখাইল ইয়াদুনের। তিনি করোনা প্রতিরোধী টিকা প্রস্তুতকারী অন্যতম প্রতিষ্ঠান ফাইজারের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট।

প্রায় ১৬ বছর কর্মরত থাকার পর ২০১১ সালে ফাইজার ত্যাগ করেন ড. ইয়াদুন। এর আগে তিনি ফাইজারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাবিষয়ক অপপ্রচার ও ভুল তথ্যের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছেন এই ব্যক্তি।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের একসময়ের সহযোগী ও অন্যতম বিতর্কিত চরিত্র স্টিভ ব্যাননের সঙ্গে চলতি বছরের জুনে একটি সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছিলেন ড. ইয়াদুন। ইনস্টাগ্রাম পোস্টটিতে উল্লেখিত উদ্ধৃতিটি নেয়া হয়েছে ওই সাক্ষাৎকার থেকে।

ইয়াদুন বলেছিলেন, ‘শিশুদের এ রকম একটা টিকা দেয়া স্রেফ পাগলামি। ভাইরাসের যেটুকুও বা শিশুর প্রাণ কেড়ে নেয়ার ক্ষমতা আছে, টিকা তার চেয়েও ৫০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।’

ইউএসএ টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, দাবিটি মিথ্যা।

ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, করোনা প্রতিরোধী টিকায় শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি একেবারেই নেই।

জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, টিকা গ্রহণে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি পুরোপুরি না কাটলেও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া ঠেকানো সম্ভব। টিকা গ্রহণের উপযোগিতা এর স্বাস্থ্যঝুঁকির চেয়ে অনেক বেশি বলে মত বিশেষজ্ঞদেরও।

এ বিষয়ে ড. ইয়াদুন ও তার উদ্ধৃতি পোস্ট করা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল ইউএসএ টুডে।

মৃত্যুর সঙ্গে টিকার সম্পর্ক নেই

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও সামগ্রিকভাবে মৃত্যুঝুঁকি কম। শিশুদের ক্ষেত্রে কথাটি আরও সত্য। তবে ভাইরাস থেকে পুরোপুরি তারা ঝুঁকিমুক্ত, এমন দাবি করার উপায় নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য বলছে, ১৮ বছরের কমবয়সী ৭০০ শিশু করোনাভাইরাসে মারা গেছে। এদের মধ্যে দুই শতাধিক শিশুর বয়স চার বছরের কম ছিল।

টিকার ক্ষেত্রে বিষয়টি একেবারেই তা নয়।

জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্যনীতি ও ব্যবস্থাপনার অধ্যাপক ড. লিয়ানা ওয়েন ই-মেইলে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে করোনা প্রতিরোধী টিকায় একটি শিশুরও মৃত্যু হয়নি। কিন্তু করোনায় ছয় শতাধিক শিশু প্রাণ হারিয়েছে। ইয়াদুনের দাবি সম্পূর্ণ অসত্য।’

পাঁচ বছর থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের ওপর ফাইজারের টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালেও কারো মৃত্যু হয়নি। ১২ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে ফাইজারের পৃথক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালেও কোনো প্রাণহানি হয়নি। মডার্নার প্রস্তুতকৃত টিকার পরীক্ষাতেও একই ফল মিলেছে।

গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জুলাইয়ে টিকা গ্রহণের পর ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)।

কিন্তু তাদের কারও মৃত্যুর কারণই টিকা ছিল না বলে জানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অফ ফ্লোরিডার শিশু ও মহামারিবিদ্যার অধ্যাপক ড. সোঞ্জা রাসমুসেন। ই-মেইলে তিনি লিখেছেন, ‘করোনার টিকার মাধ্যমে শিশুদের গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুঝুঁকি যতটা কমানো সম্ভব, তার কাছে টিকার অন্য ঝুঁকি একেবারেই ম্লান।’

আরও পড়ুন:
কুমিল্লায় মন্দিরে হামলা-মামলার আসামি জামায়াতের কাউন্সিলর
সবাই স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করছে: মন্ত্রী তাজুল
সিলেটে মণ্ডপে হামলা, গ্রেপ্তার ১২
হিন্দুরা কখনও এভাবে কোরআন অবমাননা করবে না: জাপা

শেয়ার করুন