সারা দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাউশি

সারা দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাউশি

দেশে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা করোনা টিকার আওতায় আসবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে জানা যায়, ঢাকা মহানগরীর ৭৮৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ লাখ ১৫ হাজার। আর সারা দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী আছে ১ কোটি ২৫ লাখ ২ হাজার ১২৬ জন।

করোনার টিকা দিতে ঢাকা মহানগর ব্যতীত সারা দেশের মাধ্যমিক স্কুলে অধ্যয়নরত ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

টিকা নিতে ২৭ অক্টোবরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের তথ্য মাউশির ই-মেইলে পাঠাতে হবে।

রোববার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, টিকা দেয়ার জন্য মাউশির আওতাধীন ঢাকা মহানগর ব্যতীত সব প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের তথ্য ছক আকারে আগামী ২৩ অক্টোবরের মধ্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ই-মেইলে পাঠাতে হবে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ২৫ অক্টোবরের মধ্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ই-মেইল পাঠাবেন। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আগামী ২৭ অক্টোবরের মধ্যে মাউশির ই-মেইলে [email protected] পাঠাবেন।

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর এক নির্দেশনায় ঢাকা মহানগরের শিক্ষার্থীদের তথ্য চায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। ১৯ অক্টোবরের মধ্যে তাদের তথ্য মাউশির ই-মেইলে [email protected] পাঠাতে বলা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ১৭ ডিজিটের জন্মনিবন্ধন নম্বর, নাম, লৈঙ্গিক পরিচয়, প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন, প্রতিষ্ঠানের নাম, জন্মতারিখ এবং অভিভাবকের ফোন নম্বর দিয়ে ইংরেজিতে এক্সেল শিট পূরণ করে ই-মেইলে তথ্য পাঠাতে হবে।

গত ১৪ অক্টোবর মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১০০ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষামূলকভাবে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের দেশে ১ কোটির বেশি ছেলেমেয়ে আছে, যাদের আমরা টিকা দেব। প্রথম পর্যায়ে ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে টিকা দেব এবং পর্যায়ক্রমে বাকিদের দেয়া হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফাইজারের টিকা ভালো ও নিরাপদ। এই টিকা আমেরিকা, ইউরোপসহ অন্যান্য দেশে দেয়া হচ্ছে। এ কারণে এই টিকা আমরা ছাত্রছাত্রীদের দিচ্ছি। আমরা চাই আমাদের শিশুরা নিরাপদে থাকুক।’

১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কত

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, ঢাকা মহানগরীর ৭৮৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ লাখ ১৫ হাজার। আর সারা দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী আছে ১ কোটি ২৫ লাখ ২ হাজার ১২৬ জন।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। এর প্রায় দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু হয়। তবে প্রতিদিন সব শ্রেণিতে ক্লাস হচ্ছে না।

শুধু চলতি বছর ও আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস নেয়া হচ্ছে। বাকি শ্রেণিগুলোর মধ্যে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দুই দিন এবং অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক দিন ক্লাসে আসতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
আগামী সপ্তাহে শুরু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকাদান
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে প্রজন্ম মূর্খ হবে’
টিকা দিয়েই খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

গ্যালারিতে পাকিস্তানের পতাকা: সংসদে তোপের মুখে হারুন

গ্যালারিতে পাকিস্তানের পতাকা: সংসদে তোপের মুখে হারুন

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেন বিএনপির এমপি হারুনুর রশীদ। ফাইল ছবি

হারুন বলেন, ‘পাকিস্তান ক্রিকেট টিম আমাদের সাথে খেলছে। বাংলাদেশ যেমনই হোক খেলছে। তাদের সমর্থকরা পতাকা উড়াচ্ছে। এটা নিয়ে বিব্রতকর অবস্থা তৈরি হচ্ছে। আমি মনে করি, সংসদ নেতা আছেন। তাদের তো আসার দরকার ছিল না, কেন তাহলে আসার অনুমতি দিলেন। এটা ঠিক নয়। একটি দেশের প্রতি বিদ্বেষ ঠিক নয়। এটা গৌরবের নয়।’

মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তান দলের সমর্থকদের দেশটির পতাকা উড়ানোর সমালোচনা করে সরকার সমর্থক সংসদ সদস্যদের তোপের মুখে পড়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ।

জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলাকালে হারুন বিষয়টি নিয়ে আলোচনার অবতারণা করেন।

এ সময় হারুন বলেন, ‘পাকিস্তান ক্রিকেট টিম আমাদের সাথে খেলছে। বাংলাদেশ যেমনই হোক খেলছে। তাদের সমর্থকরা পতাকা উড়াচ্ছে। এটা নিয়ে বিব্রতকর অবস্থা তৈরি হচ্ছে।

‘আমি মনে করি, সংসদ নেতা আছেন। তাদের তো আসার দরকার ছিল না, কেন তাহলে আসার অনুমতি দিলেন। এটা ঠিক নয়। একটি দেশের প্রতি বিদ্বেষ ঠিক নয়। এটা গৌরবের নয়।’

এ সময় জাতিসংঘ অধিবেশনে ১৯৭৪ সালে দেয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাষণের উদ্ধৃতিও দেন তিনি। হারুন বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধ করতে তিনি (বঙ্গবন্ধু) যে ভূমিকা নিয়েছিলেন এটি তার দলিল।’

সঙ্গে সঙ্গে আশপাশে থাকা সরকার দলীয় সংসদ সংস্যরা তার কথার প্রতিবাদ করেন। তখন তিনি স্পিকার শিরীন শারমিনের কাছে প্রটেকশন চান।

হারুন বলেন, ‘আমি তো এমন কিছু বলিনি। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ পড়ে শুনিয়েছি।’

পরে নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘যখন আমাদের স্বাধীনতার চেতনায় আঘাত করা হয়, আমরা আহত হই। পাকিস্তানের পক্ষে যেভাবে কথা বললেন, তাতে তাদের প্রকৃত চরিত্র বেরিয়ে এসেছে। তারা যে বাংলাদেশের সেন্টিমেন্ট ধারণ করেন না, সেটিই বেরিয়ে এসেছে।

‘বঙ্গবন্ধু শান্তকামী নেতা ছিলেন বলেই এত কিছুর পরেও বন্ধুত্বের কথা বলেছিলেন। তার বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আছে বলেই এই নয় যে, অমিমাংশিত বিষয় থেকে বাংলাদেশ সরে গেছে।’

পকিস্তানের সঙ্গে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে দর্শক গ্যালারিতে অসংখ্য বাংলাদেশিকে পাকিস্তানের সমর্থন করে পতাকা উড়ানো ও জার্সি গায়ে উল্লাস করতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে তখন সমালোচনার ঝড় ওঠে।

প্রথম ম্যাচে এর ব্যাপকতা থাকলেও প্রতিহতের ডাক দেয়ার পর থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচে খুব একটা চোখে পড়েনি।

আরও পড়ুন:
আগামী সপ্তাহে শুরু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকাদান
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে প্রজন্ম মূর্খ হবে’
টিকা দিয়েই খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিয়ে টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব

শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিয়ে টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব

শিক্ষার্থীদের হাফ পাস বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বিআরটিএ ও বাস মালিক-শ্রমিক নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাসে হাফ ভাড়া বাস্তবায়নে পরিবহন নেতারা আন্তরিক। কিন্তু তাদের যে ক্ষতি হবে তা কীভাবে পূরণ করা হবে, কত ভর্তুকি দেবে সেসব বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য সরকার ও পরিবহনে সম্পৃক্তদের নিয়ে টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব এসেছে। সরকারকে টাস্কফোর্সের বিষয়ে জানাব।’

বাসে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও বৈঠকে পরিবহন নেতাদের পক্ষ থেকে টাস্কফোর্স গঠনসহ কয়েকটি প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

টাস্কফোর্স গঠনের পর যে সিদ্ধান্ত আসবে সে অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করার দাবি করা হয়।

শনিবার বৈঠক শেষে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার এনায়েত উল্যাহ এ তথ্য জানান।

বাসে হাফ ভাড়ার সিদ্ধান্ত আসার আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিআরটিএ চেয়ারম্যান এবং পরিবহন নেতারা।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, ‘পরিবহন নেতাদের পক্ষ থেকে কনসেশন দেয়ার প্রস্তাব এসেছে। কত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কত ছাত্র, কতজন বাস ব্যবহার করে তার একটা পরিসংখ্যান চেয়েছেন নেতারা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেই তথ্য দেবে।’

টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাসে হাফ ভাড়া বাস্তবায়নে পরিবহন নেতারা আন্তরিক। কিন্তু তাদের যে ক্ষতি হবে তা কীভাবে পূরণ করা হবে, কত ভর্তুকি দেবে সেসব বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য সরকার ও পরিবহনে সম্পৃক্তদের নিয়ে টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব এসেছে। সরকারকে টাস্কফোর্সের বিষয়ে জানাব।’

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘সরকার ছাত্রদের দাবি যৌক্তিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করছে। ঢাকার ৮০ ভাগ মালিক গরিব। হাফ ভাড়া নিলে মালিকদের যে ক্ষতি হবে, তা সরকার কীভাবে পূরণ করবে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা কিছু প্রস্তাব দিয়েছি। সবার সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি।’

ছাত্রদের অনুরোধ জানিয়ে এই পরিবহন নেতা বলেন, ‘হাফ ভাড়ার দাবিতে বাস ভাঙচুর, শ্রমিকদের মারধর অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, তারা যেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যান।’

টাস্কফোর্স কবে গঠন করা হবে এই প্রশ্নে বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘এটা নতুন প্রস্তাব। টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত হবে।’

শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার বিষয়টি সুরাহা করতে শনিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিআরটিএ কার্যালয়ে বাসমালিক সমিতি, শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের সঙ্গে বিআরটিএসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় বসেন।

সেখান থেকে বিষয়টি নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত আসার কথা ছিল।

বৈঠকে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল বাতেন বাবু, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, বিআরটির চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী কমিশনার মো. আশফাকসহ বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বাসমালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারাও বৈঠকে অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
আগামী সপ্তাহে শুরু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকাদান
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে প্রজন্ম মূর্খ হবে’
টিকা দিয়েই খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছাত্রলীগ হামলা করেনি: কাদের

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছাত্রলীগ হামলা করেনি: কাদের

সংসদে বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি: সংসদ টিভি

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনি পত্রপত্রিকা নিশ্চই পড়েন। ছাত্রলীগ কিন্তু একই দাবিতে সমাবেশ করেছে, স্টেটমেন্টও দিয়েছে। তারা হামলা করবে, এটা সত্য নয়। ছাত্রলীগ নামধারীরা করতে পারে। আপনি কি কারও নাম বলতে পারেন? এটাই যদি করতো তাহলে তারা কেন এ দাবিতে প্রকাশ্যে সমর্থন করছে?’

হাফ ভাড়ার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ছাত্রলীগ হামলা করেনি বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

অধিবেশনে মহাসড়ক বিল নিয়ে আলোচনা শুরু হলে ছাত্রলীগের হামলার বিষয়ে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা সেতুমন্ত্রীর কাছে জানতে চান বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনি পত্রপত্রিকা নিশ্চই পড়েন। ছাত্রলীগ কিন্তু একই দাবিতে সমাবেশ করেছে, স্টেটমেন্টও দিয়েছে। তারা হামলা করবে, এটা সত্য নয়। ছাত্রলীগ নামধারীরা করতে পারে।

‘আপনি কি কারও নাম বলতে পারেন? এটাই যদি করতো তাহলে তারা কেন এ দাবিতে প্রকাশ্যে সমর্থন করছে?’

তিনি বলেন, ‘সরকারি মালিকানার বাস বিআরটিসির গাড়ি। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে প্রথমে ভেবেছিলাম ৩০ পারসেন্ট দেবো, ঢাকা ও আশে পাশের এলাকায়। কিন্তু যখন প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি চাইলাম, তিনি বললেন, হাফ ভাড়া যখন তারা দাবি করেছে সেটিই দাও। তিনি বলেছেন সারা দেশেই দিতে হবে।

‘তার নির্দেশনায় সারা দেশে বিআরটিসির প্রজ্ঞাপন দিয়েছি। ১ তারিখ থেকে এটি কার্যকর হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বেসরকারি মালিকদের উপর আমরা জোর করতে পারি না। তবে জনস্বার্থ বিবেচনায় তাদেরকে অনুরোধ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীও অনুরোধ করেছেন। আজ বিআরটিএতে মালিক-শ্রমিকরা বসছেন।

‘আশা করি, ইতিবাচক ভাবেই তারা দাবি মেনে নেবেন। আমরা আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা থেকে এ দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে রেজুলেশন দিয়েছি।’

২৩ নভেম্বর দুপুরে হাফ পাসের দাবিতে ঢাকার কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করলে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সদস্যরা হামলা করে বলে অভিযোগ ওঠে।

আরও পড়ুন:
আগামী সপ্তাহে শুরু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকাদান
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে প্রজন্ম মূর্খ হবে’
টিকা দিয়েই খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন

পঞ্চম ধাপে ৭০৭ ইউপিতে ভোট ৫ জানুয়ারি

পঞ্চম ধাপে ৭০৭ ইউপিতে ভোট ৫ জানুয়ারি

ইউপি নির্বাচনের একটি কেন্দ্রে ভোটারদের সারি। ফাইল ছবি

ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, ‘৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ ৯ ডিসেম্বর। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৫ ডিসেম্বর এবং ভোট অনুষ্ঠিত হবে ৫ জানুয়ারি।’

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের পঞ্চম ধাপে ভোট হবে আগামী ৫ জানুয়ারি। ওই দিন ভোট হবে ৭০৭ ইউপিতে।

নির্বাচন কমিশনের ৯০তম কমিশন সভা শেষে শনিবার তফসিল ঘোষণা করেন ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার।

তিনি বলেন, ‘৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ ৯ ডিসেম্বর। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৫ ডিসেম্বর এবং ভোট অনুষ্ঠিত হবে ৫ জানুয়ারি।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, এ সিটির নির্বাচনের বিষয়ে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত কমিশনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, তবে আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

মেয়াদ শেষের আগেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলো শেষ করার পরিকল্পনা করেছে ইসি। গত জুন থেকে ধাপে ধাপে এসব নির্বাচন হচ্ছে।

প্রথম ধাপে গত ২১ জুন ২০৪ ইউপি ও ২০ সেপ্টেম্বর ১৬০ ইউপির ভোট হয়। দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৬ ইউপির ভোট হয় ১১ নভেম্বর। তৃতীয় ধাপে ১০০০ ইউপির ভোট হবে আগামীকাল ২৮ নভেম্বর। চতুর্থ ধাপে ৮৪০ ইউপিতে ভোট হবে ২৬ ডিসেম্বর।

আরও পড়ুন:
আগামী সপ্তাহে শুরু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকাদান
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে প্রজন্ম মূর্খ হবে’
টিকা দিয়েই খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন

সাবেক ডিসির দণ্ড মওকুফ: হতাশ সাংবাদিক আরিফুল

সাবেক ডিসির দণ্ড মওকুফ: হতাশ সাংবাদিক আরিফুল

বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগান। ছবি: সংগৃহীত

আরিফুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি হতাশ। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবক। তিনি আমার বিষয়টিও দেখতে পারতেন। আইন সবার জন্য। সরকারি চাকরিজীবীর আইনটি বাতিল করা প্রয়োজন।’

নির্যাতনের ঘটনায় আলোচিত কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনের দণ্ড মওকুফে হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগান।

মধ্যরাতে আরিফুলকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় সুলতানার ‘লঘুদণ্ড’ মওকুফ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

সাবেক ডিসির আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে দেয়া ‘দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা’র দণ্ডাদেশ বাতিল করে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ২৩ নভেম্বরের প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর রয়েছে সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজমের।

এ নিয়ে শনিবার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আরিফুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি হতাশ। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবক। তিনি আমার বিষয়টিও দেখতে পারতেন। আইন সবার জন্য।

‘সরকারি চাকরিজীবীর আইনটি বাতিল করা প্রয়োজন। জনগণ রাষ্ট্রের মালিক হলেও এই আইনের সাথে সাংঘর্ষিক। যেহেতু আমার মামলাটি হাইকোর্টে আছে, সেখানে আমি ন্যায়বিচার পাব বলে আশাবাদী।’

কী হয়েছিল আরিফুলের সঙ্গে

২০২০ সালের ১৩ মার্চ মধ্যরাতে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের বাসায় হানা দিয়ে তাকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে ক্রসফায়ারের হুমকিসহ ডিসি অফিসে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।

এরপর অধূমপায়ী আরিফের বিরুদ্ধে আধা বোতল মদ ও দেড় শ গ্রাম গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ এনে ওই রাতেই এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ১৫ মার্চ আরিফ জামিনে মুক্তি পান।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে কুড়িগ্রামের তখনকার ডিসি সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দীন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। একই সঙ্গে এ ঘটনায় বিভাগীয় অভিযোগ করা হয়। ঘটনা তদন্তে কমিটি করে মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন:
আগামী সপ্তাহে শুরু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকাদান
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে প্রজন্ম মূর্খ হবে’
টিকা দিয়েই খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের হাফ পাস বিষয়ে বৈঠক শুরু

শিক্ষার্থীদের হাফ পাস বিষয়ে বৈঠক শুরু

শিক্ষার্থীদের হাফ পাস বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বিআরটিএ ও বাস মালিক-শ্রমিক নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

আলোচনায় ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল বাতেন বাবু, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, বিআরটির চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী কমিশনার মো. আশফাকসহ বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন।

শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার বিষয়টি সুরাহা করতে বাস মালিক সমিতি, শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের সঙ্গে বিআরটিএসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় বসেছেন।

শনিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ের সেমিনার কক্ষে এই বৈঠক শুরু হয়।

আলোচনায় ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল বাতেন বাবু, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, বিআরটির চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী কমিশনার মো. আশফাকসহ বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন।

এ ছাড়া বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা উপস্থিত রয়েছেন।

বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমে জানানো হবে।

আরও পড়ুন:
আগামী সপ্তাহে শুরু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকাদান
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে প্রজন্ম মূর্খ হবে’
টিকা দিয়েই খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন

কুড়িগ্রামের সাবেক সেই ডিসির দণ্ড মওকুফ

কুড়িগ্রামের সাবেক সেই ডিসির দণ্ড মওকুফ

সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে নির্যাতনের ঘটনায় ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীন। ফাইল ছবি

সুলতানার আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে দেয়া ‘দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা’র দণ্ডাদেশ বাতিল করে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউনের জেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগানকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় আলোচিত কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনের ‘লঘুদণ্ড’ মওকুফ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

সুলতানার আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে দেয়া ‘দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা’র দণ্ডাদেশ বাতিল করে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ২৩ নভেম্বরের প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর রয়েছে সিনিয়র সচিব কে এম আলী আজমের।

কী আছে প্রজ্ঞাপনে

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, “কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক ও বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুলতানা পারভীন কুড়িগ্রামে কর্মরত থাকার সময় বাংলা ট্রিবিউনের সাংবাদিক জনাব আরিফুল ইসলামকে মধ্যরাতে ধরে নিয়ে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা প্রদানের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে রুজুকৃত বিভাগীয় মামলায় গত বছরের ১৮ মার্চ ৯৭ নম্বর স্মারকের মাধ্যমে তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করা হয়।

'অভিযুক্ত কর্মকর্তা সুলতানা পারভীন গত বছরের ২৫ জুন লিখিত জবাব দাখিলপূর্বক ব্যক্তিগত শুনানির প্রার্থনা করলে গত বছরের ৯ আগস্ট ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ করা হয়। তার লিখিত জবাব ও ব্যক্তিগত শুনানিতে প্রদত্ত মৌখিক বক্তব্য সন্তোষজনক বিবেচিত না হওয়ায় ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিভাগীয় মামলাটি তদন্ত করার জন্য তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়।'

এতে বলা হয়, “তদন্ত বোর্ডের আহ্বায়ক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আলী কদরের গত ২ মে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী আনীত ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে মর্মে উল্লেখ করেন।

“তদন্ত বোর্ডের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা শেষে অভিযুক্ত কর্মকর্তা সুলতানা পারভীনকে গুরুদণ্ড প্রদানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৭(৯) মোতাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ৮ জুন ৮৩ নম্বর স্মারকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়।”

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ‘সুলতানা পারভীন গত ২২ জুন লিখিতভাবে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর জবাব দাখিল করলে দাখিলকৃত জবাব ও তদন্ত প্রতিবেদনসহ অভিযোগের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিক প্রশাসনিক বিষয়াদি বিবেচনা করে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৪(২)(খ) বিধি অনুসারে তাকে দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখা নামীয় লঘুদণ্ড প্রদান করা হয়।

‘সুলতানা পারভীন তার উপর আরোপিত লঘুদণ্ডাদেশ মওকুফের জন্য গত ৬ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির কাছে আপিল আবেদন পেশ করলে রাষ্ট্রপতি সদয় হয়ে সুলতানা পারভীনের আপিল আবেদন বিবেচনা করে দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার দণ্ডাদেশ বাতিল করে তাঁকে অভিযোগের দায় হতে অব্যাহতি প্রদান করেছেন।’

সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে করা বিভাগীয় মামলায় দুই বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার লঘুদণ্ড দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ১০ আগস্ট প্রজ্ঞাপন জারি করে। সবশেষ প্রজ্ঞাপনে আগেরটি বাতিল করে সুলতানাকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

দণ্ড মওকুফে হতাশ আরিফুল

কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসির দণ্ডাদেশ মওকুফের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগান বলেন, ‘আমি হতাশ। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবক। তিনি আমার বিষয়টিও দেখতে পারতেন। আইন সবার জন্য।

‘সরকারি চাকরিজীবীর আইনটি বাতিল করা প্রয়োজন। জনগণ রাষ্ট্রের মালিক হলেও এই আইনের সাথে সাংঘর্ষিক। যেহেতু আমার মামলাটি হাইকোর্টে আছে, সেখানে আমি ন্যায়বিচার পাব বলে আশাবাদী।’

কী হয়েছিল আরিফুলের সঙ্গে

২০২০ সালের ১৩ মার্চ মধ্যরাতে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের বাসায় হানা দিয়ে তাকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে ক্রসফায়ারের হুমকিসহ ডিসি অফিসে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।

এরপর অধূমপায়ী আরিফের বিরুদ্ধে আধা বোতল মদ ও দেড় শ গ্রাম গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ এনে ওই রাতেই এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ১৫ মার্চ আরিফ জামিনে মুক্তি পান।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে কুড়িগ্রামের তখনকার জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দীন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। একই সঙ্গে এ ঘটনায় বিভাগীয় অভিযোগ হয়। ঘটনা তদন্তে কমিটি করে মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন:
আগামী সপ্তাহে শুরু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের টিকাদান
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে প্রজন্ম মূর্খ হবে’
টিকা দিয়েই খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শেয়ার করুন