× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The last is the admission test of the bunch system of this unit
google_news print-icon

শেষ হলো ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা

শেষ-হলো-এ-ইউনিটের-গুচ্ছ-ভর্তি-পরীক্ষা
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সময় হল পরিদর্শন করেন উপাচার্য অধ্যাপক এম কামরুজ্জামান। ছবি: নিউজবাংলা
এক ঘণ্টার এই ভর্তি পরীক্ষা দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে শেষ হয় ১টায়। তবে বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারে দেখা যায় বৈচিত্র্য।

কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই একসঙ্গে ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার প্রথম দিন আজ।

রোববার দেশজুড়ে ২৬টি কেন্দ্রে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে। এই ইউনিটে আবেদন করেছিলেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০১ শিক্ষার্থী।

এক ঘণ্টার এই ভর্তি পরীক্ষা দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে শেষ হয় ১টায়। তবে বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারে দেখা যায় বৈচিত্র্য।

ব‌রিশালে অনুপ‌স্থিত ২২৪ পরীক্ষার্থী

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হলেও এদিন অনুপস্থিত ছিলেন ২২৪ পরীক্ষার্থী।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ‘এ’ ইউনিটে ৩ হাজার ৪৫৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ২৩৪ জন। উপস্থিতির হার ৯৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ছাদেকুল আরেফিন বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি গুচ্ছে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একটি পরীক্ষার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবেন। এতে শিক্ষার্থীদের আর্থিক ও মানসিক কষ্ট লাঘব হবে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষার সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি।’

শেষ হলো ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ‘এ’ ইউনিটে উপস্থিতির হার ৯৩ দশমিক ৫ শতাংশ

সব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামীতে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একটি গুচ্ছে পরীক্ষা নিলে শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘব আরও ত্বরান্বিত হবে।’

দিনাজপুরে উপস্থিতির হার ৯৮ শতাংশ

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ছিল ৯৮ শতাংশ।

হাবিপ্রবি কেন্দ্রের পরীক্ষায় অংশ নেন ৭ হাজার ২৫ শিক্ষার্থী।

পরীক্ষা শুরুর পর বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম কামরুজ্জামান।

পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আজ একটি ইতিহাস রচিত হলো। গুচ্ছ পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের পরীক্ষায় উপস্থিতির হার অনেক বেশি, ৯৮ শতাংশের মতো। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা দিয়েছেন।

এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য উপাচার্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর, প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

কুবিতে অনুপস্থিত ১১১ জন

যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) কেন্দ্রে প্রথম দিন স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের গুচ্ছ পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও অনুপস্থিত ছিলেন ১১১ পরীক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ২ হাজার ৫০৫ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণের কথা থাকলেও পরীক্ষা দিয়েছেন ২ হাজার ৩৯৪ জন। উপস্থিতির হার প্রায় ৯৬ শতাংশ।

পরীক্ষা শেষে সাকিব আল হাসান নামের এক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘পরীক্ষা আলহামদুলিল্লাহ ভালো হয়েছে। হলে কোনো সমস্যা হয়নি। স্যাররা যথেষ্ট আন্তরিক ছিলেন।’

ফারহানা হোসেন সাথী নামের আরেক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘পরীক্ষার প্রশ্ন কিছুটা কঠিন হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষা দিতে কোনো সমস্যা হয় নাই। মূল গেট থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠন, রোভার, বিএনসিসি, ছাত্রলীগের কাছ থেকে কক্ষ খুঁজে পেতে সহযোগিতা পেয়েছি।’

আব্দুস সাত্তার নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হয়ে ভালোই হয়েছে। বাড়ির কাছেই পরীক্ষা দিতে পেরেছে ছেলেমেয়েরা। আমাদের ভোগান্তি অনেকখানি কমেছে, পাশাপাশি আর্থিক দিকটাও সাশ্রয় হয়েছে। আমরা চাই সামনেও যেন এ ধারা অব্যাহত থাকে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক এবং পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র নন্দী বলেন, “সবার সার্বিক সহযোগিতায় আমরা ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে পেরেছি। সামনেও এ রকম সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।”

গুচ্ছ পদ্ধতিতে বি ও সি ইউনিটে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেবে ৪ হাজার ৫২১ পরীক্ষার্থী।

কুষ্টিয়ায় পরীক্ষার্থী উপস্থিত ৯৮ শতাংশ

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শেষ হয়েছে ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিসের উপরেজিস্ট্রার সাহেদ হাসান নিউজবাংলাকে জানান, পরীক্ষা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি ভবনের ১১৪টি কক্ষে। ৭ হাজার ৮৫ পরীক্ষার্থীর ৯৮ ভাগই উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রে।

শেষ হলো ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯৮ শতাংশ পরীক্ষার্থীই উপস্থিত ছিলেন

তিনি আরও জানান, কোনো পরীক্ষার্থীকেই মাস্ক ছাড়া কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি। পরীক্ষা উপলক্ষে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ক্যাম্পাসে টহল দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দিতে ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় ফটকে হেল্প ডেস্ক বসানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সালাম নিউজবাংলাকে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ নভেম্বর ‘ডি’ ইউনিটে ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামী শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষা হবে। দেশের অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এ অনুষদ না থাকায় স্বতন্ত্রভাবে পরীক্ষা হবে।”

ময়মনসিংহে পরীক্ষা দিয়ে খুশি শিক্ষার্থীরা

ময়মনসিংহে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি)। এ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হওয়ায় খুশি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

পরীক্ষার সময় বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফুল হাসান।

পরীক্ষা দিতে আসা নেত্রকোণা সদরের জান্নাতুল ফেরদৌস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নেত্রকোণা সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেছি। ভর্তিযুদ্ধে টিকে থাকতে গত কয়েক মাস ক্লান্তিহীন পরিশ্রম করেছি। এই কেন্দ্রে (বাকৃবি) পরীক্ষা হওয়ায় বাসা থেকে ভোরে রওনা হয়েছি। টাকা ও পরিশ্রম দুটোই কম লেগেছে এ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হওয়ায়।’

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার এক অভিভাবক নূর জাহিদ বলেন, ‘কেন্দ্র পর্যন্ত আসতে যানজটসহ কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। বিভাগীয় শহরের এই কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় নিশ্চিন্তে আসতে পেরেছি। প্রশাসনের কঠোর মনিটরিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অপেক্ষায় থাকা সব অভিভাবকই স্বাস্থ্যবিধি মেনেছেন।’

শেষ হলো ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফুল হাসান

নূর জাহিদের মেয়ে সালমা আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরীক্ষা খুব কঠিন কিংবা খুব সহজও হয়নি। তবে আমার পরীক্ষা ভালো হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে হলে পরীক্ষা দিতে পেরেছি।’

কিশোরগঞ্জ থেকে আসা তৌফিকুর রহমান ও মজিবুর রহমান নামে দুই শিক্ষার্থী পরীক্ষা শেষে নিউজবাংলাকে জানান, অন্য বিষয়ের চেয়ে গণিত প্রশ্ন কঠিন হয়েছে। কিছু উত্তর ভুল হলেও ভর্তিযুদ্ধে টিকবেন বলে আশাবাদী তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১ হাজার ৫৩৯ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণ করার কথা থাকলেও পরীক্ষা দেন ১০ হাজার ৮০১ জন। উপস্থিতির হার ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনও প্রশ্ন ফাঁসের নজির নেই। আজকেও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফুল হাসান বলেন, ‘কেন্দ্রের সব কক্ষে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা দিয়েছে।’

বশেমুরবিপ্রবিতে উপস্থিতির হার ৮৫ শতাংশ

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ৬ হাজার ৯১২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৫ হাজার ৮৯২ জন। উপস্থিতির হার ৮৫ শতাংশ।

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ২৪ অক্টোবর ‘বি’ ইউনিট এবং ১ নভেম্বর ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা হবে।

দেশের ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবারই প্রথম গুচ্ছভুক্ত হয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে। এতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ মিলিয়ে আসন রয়েছে ২২ হাজার ১৩টি। এর বিপরীতে আবেদন করেছেন ২ লাখ ৩২ হাজার ৪৫৫ শিক্ষার্থী।

এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন, ‘বি’ ইউনিটে ৬৭ হাজার ১১৭ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে ৩৩ হাজার ৪৩৭ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন বরিশালের তন্ময় তপু, দিনাজপুরের কুরবান আলী, কুষ্টিয়ার জাহিদুজ্জামান, ময়মনসিংহের কামরুজ্জামান মিন্টু এবং গোপালগঞ্জের মোজাম্মেল হোসেন মুন্না

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Board of Islami Bank cancels appointment of new administrator

ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ বাতিল, নতুন প্রশাসক নিয়োগ

ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ বাতিল, নতুন প্রশাসক নিয়োগ

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সকল পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় ও ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং ব্যাংক-কোম্পানির স্বার্থে, আমানতকারীদের স্বার্থে ও জনস্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানসহ সকল পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করেছে।

একইসঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Formation of Parliamentary Standing Committee on Ministry of Finance and Law

অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন

অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন

অর্থ এবং আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন বিজেপির চেয়ারম্যান ভোলা-১ আসনের এমপি আন্দালিব রহমান পার্থ। আর অর্থ মন্ত্রণালয়ের কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্রাক্ষণবাড়িয়া-৪ আসনের বিএনপি দলীয় এমপি মুশফিকুর রহমানকে।

রোববার (১৪ জুন) সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। দুটি কমিটিই ১০ সদস্যবিশিষ্ট। দুই ক্ষেত্রেই জামায়াত ইসলামীর দুইজন এবং এনসিপির একজন করে এমপিকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বরগুনা-২ আসনের নূরুল ইসলাম, বগুড়া-২ আসনের মীর শাহে আলম, চাঁদপুর-২ আসনের জালালউদ্দিন, মানিকগঞ্জ-১ আসন মইনুল ইসলাম খান, লক্ষ্মীপুর-১ আসনের শাহাদাত হোসেন। এতে জামায়াত থেকে সদস্য হয়েছেন ঢাকা-১২ আসনের সাইফুল আলম খান মিলন এবং ঢাকা-৪ আসনের সৈয়দ জয়নুল আবদিন। আর এনসিপি থেকে সদস্য হয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের হাসনাত আবদুল্লাহ।

অন্যদিকে, আইন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত কমিটির সদস্যরা হলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, নোয়াখালী-১ আসনের মাহবুব উদ্দিন খোকন, পঞ্চগড়-১ আসনের নওশাদ জমির, সংরক্ষিত নারী আসনের শাকিলা ফারজানা, দিনাজপুর-১ আসনের মঞ্জুরুল ইসলাম, লালমনিরহাট-১ আসনের হাসান রাজীব প্রধান। এতে জামায়াত থেকে সদস্য হয়েছেন পাবনা-১ আসনের নাজিবুর রহমান মোমেন এবং নীলফামারী-২ আসনের আল ফারুক আবদুল লতিফ। এছাড়া, এনসিপি থেকে সদস্য হয়েছেন রংপুর-৪ আসনের আখতার হোসেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Special bench of High Court on women child case started

নারী-শিশু মামলা নিয়ে হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চের কার্যক্রম শুরু

নারী-শিশু মামলা নিয়ে হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চের কার্যক্রম শুরু
*তালিকায় আছিয়া-নুসরাত হত্যা মামলা

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতির গঠন করা বিশেষায়িত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত এ বেঞ্চে প্রথম কার্যদিবসেই ২০টি ডেথ রেফারেন্স ও সংশ্লিষ্ট মামলা শুনানির জন্য কার্যতালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতনবিষয়ক মৃত্যুদণ্ডের মামলাগুলোর দ্রুত শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি বিশেষ এই বেঞ্চ গঠন করেছেন। প্রথম কার্যদিবসে তালিকাভুক্ত ২০টি মামলার মধ্যে ২০ নম্বরে রয়েছে আলোচিত মাগুরার আট বছর বয়সি শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলা।’

তিনি জানান, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রতিটি মামলার শুনানির জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং কোনো মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মুলতবি চাওয়া হবে না। আছিয়া হত্যা মামলার অগ্রাধিকারভিত্তিক শুনানির বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিচারকরা জানান, কার্যতালিকার শুরুতে থাকা ২০১৯ সালের মামলাগুলোর আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে কারাগারে রয়েছেন। সে কারণে সেসব মামলার শুনানিও গুরুত্বপূর্ণ। তবে সুযোগ থাকলে আছিয়ার মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

রোববারের কার্যতালিকায় থাকা ২০টি মামলার মধ্যে মাগুরার আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার পাশাপাশি ফেনীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এর আগে গত ১০ জুন অ্যাটর্নি জেনারেল ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি নারী ও শিশু নির্যাতনবিষয়ক মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পৃথক এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বেঞ্চে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সসহ সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পর আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার শুনানির জন্যও অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস একটি বিশেষ টিম গঠন করেছে। স্বয়ং অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের নেতৃত্বে গঠিত এ টিম বিরতিহীনভাবে মামলাটির শুনানি পরিচালনা করবে, যাতে নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত মৃত্যুদণ্ডের মামলাগুলোর ডেথ রেফারেন্স দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
India did not approve Nepals excess electricity export to Bangladesh

‘অনুমোদন’ দেয়নি ভারত, বাংলাদেশে নেপালের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রপ্তানি আটকে গেল

‘অনুমোদন’ দেয়নি ভারত, বাংলাদেশে নেপালের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রপ্তানি আটকে গেল

নেপাল থেকে বাংলাদেশে আরও ২০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা আপাতত আটকে গেছে। সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার ঘাটতির অজুহাত দেখিয়ে ভারত এই অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি স্থগিত করেছে। ফলে পূর্বনির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১৫ জুন থেকে বাংলাদেশ কেবল ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবে।

রোববার নেপালের জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (সিইএ) সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে এই অনুমোদন আটকে দিয়েছে।

তারা আরও জানান, এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আমদানির জন্য নতুন করে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সংশোধন বা স্বাক্ষর করতে হবে। একই সঙ্গে নেপাল-ভারত জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে।

সাধারণত বর্ষা মৌসুমে নেপাল তাদের উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ভারত ও বাংলাদেশে রপ্তানি করে থাকে। তবে শীতকালে তারা নিজেরাই ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে।

২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক জেএসসি বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের পাশাপাশি আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ওই বৈঠকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ) ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেডকে (এনভিভিএন) অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানায়। কিন্তু এনভিভিএন পরে জানায় যে, ভারত-বাংলাদেশ ১,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সঞ্চালন লাইনটিতে এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পরিবহনের আর কোনো সুযোগ বা সক্ষমতা নেই।

এনইএর বিদ্যুৎ বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক তর্ক বাহাদুর থাপা বলেন, এবার বাংলাদেশে কেবল ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই রপ্তানি করা হবে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের জন্য ত্রিপক্ষীয় চুক্তি চূড়ান্ত না হলেও, আগের নিয়মে আমরা ভারতের সিইএ-র কাছে এনভিভিএনের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। কিন্তু তারা জানিয়েছে যে সঞ্চালন লাইনে নতুন করে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেওয়ার ক্ষমতা নেই।

ত্রিপক্ষীয় চুক্তির জটিলতা

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই জটিলতা কাটাতে নেপাল ও ভারতের আসন্ন জেএসসি এবং যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠকে নতুন সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে। তবে এই বৈঠকগুলোর সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

এর আগে ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি জেএসসি বৈঠকে নেপাল ভারতের সঞ্চালন ব্যবস্থা ব্যবহার করে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির নীতিগত অনুমোদন পায়। পরে ওই বছরের ৩ অক্টোবর এনইএ, এনভিভিএন এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।

নেপাল থেকে প্রথম দফায় ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর মাত্র ১২ ঘণ্টার জন্য বাংলাদেশে বিদ্যুৎ এসেছিল। এই বিদ্যুৎ নেপালের ঢালকেবার-মুজাফফরপুর ৪০০ কেভি লাইন দিয়ে ভারতে এবং সেখান থেকে বহরমপুর-ভেড়ামারা ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন দিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছায়। বর্তমানে নেপালের ত্রিশূলী ও চিলিম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বাণিজ্য ও আর্থিক হিসাব

নেপাল প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বাংলাদেশের কাছে ৬ দশমিক ৪০ মার্কিন সেন্টে বিক্রি করছে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের দামও একই রাখার কথা ছিল। ভারতের সঙ্গে নেপালের বিদ্যুৎ বাণিজ্য ভারতীয় রুপিতে হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে লেনদেন হচ্ছে মার্কিন ডলারে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে নেপাল ভারত ও বাংলাদেশে মোট ২০ হাজার ৯৯৫ কোটি রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৩ হাজার ১০৩ কোটি রুপি। নেপাল এ পর্যন্ত দুই দেশে মোট ১,১৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Arrested in a new case Dr Abul Barkat was released from prison

নতুন মামলায় গ্রেপ্তার ড. আবুল বারকাত, আটকে গেল কারামুক্তি

 নতুন মামলায় গ্রেপ্তার ড. আবুল বারকাত, আটকে গেল কারামুক্তি

জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর ফলে তার কারামুক্তি আটকে গেছে।

পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম তাকে এই গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মাজহারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুলাই রাতে ধানমণ্ডির ৩ নম্বর সড়কের বাসা থেকে অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে গত ৭ জুন দুদকের মামলায় আপিল বিভাগ থেকে জামিন পান আবুল বারকাত। জামিন পেলেও কারাগার থেকে মুক্তি পাননি তিনি।

ওইদিন আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আমজাদ হোসেন তালুকদার। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির আজ রোববার দিন নির্ধারণ করেছিলেন। শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

আবুল বারকাতের পক্ষে তার আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার না দেখাতে আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

আবুল বারকাতের আরেক আইনজীবী বাবুল মিয়া বলেন, ‘কারামুক্ত হতে আবুল বারকাতকে এ মামলায় জামিন পেতে হবে। আমরা তার জামিন আবেদন করেছি। আজ সোমবার জামিন শুনানি হবে।’

ড. আবুল বারকাত ঘটনার দিন সময় অনুমান ১১-১২টার দিকে ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলাকায় স্থানীয় আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও আওয়ামী লীগ সমর্থক নেতৃবৃন্দকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জন্য আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে বলে আটক রাখার আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে নিউমার্কেটের নীলক্ষেত এলাকায় আন্দোলন চলাকালে গুলিতে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহত হন। এ ঘটনায় আব্দুল ওয়াদুদের শ্যালক আব্দুর রব নিউ মার্কেট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনকে আসামি করা হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Stuck in a limited group Advantages of renewable energy
বিএসআরইএর অভিযোগ

সীমিত গোষ্ঠীর মধ্যে আটকে গেছে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সুবিধা

সীমিত গোষ্ঠীর মধ্যে আটকে গেছে
নবায়নযোগ্য জ্বালানির সুবিধা

জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর ও শুল্ক সুবিধা ঘোষণার পর আশাবাদ তৈরি হলেও বাস্তবে এসব সুবিধা সীমিত সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)। সংগঠনটির দাবি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জারিকৃত এসআরও সংশোধন না করা হলে দেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হবে এবং ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএসআরইএর নেতারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

বিএসআরইএর সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, বাজেট-পরবর্তী এসআরও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঘোষিত সুবিধাগুলো মূলত নির্দিষ্ট কিছু সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং রেসকো মডেলে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানির জন্য প্রযোজ্য করা হয়েছে। ফলে আবাসিক, কৃষি (সোলার সেচ) ও ক্ষুদ্র বাণিজ্যিক গ্রাহকসহ বৃহৎ অংশের ব্যবহারকারী এবং খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাজারের বড় অংশ গড়ে উঠেছে আমদানিকারক, পরিবেশক, ডিলার, খুচরা ব্যবসায়ী এবং ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন) প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। কিন্তু বর্তমান প্রণোদনা কাঠামোয় তাদের জন্য কার্যকর কোনো সুবিধা রাখা হয়নি। এতে খাতসংশ্লিষ্ট হাজারো প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা ও কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বিএসআরইএ জানায়, বর্তমান এসআরও মূলত দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের ২০ থেকে ২২ শতাংশ অংশকে লক্ষ্য করছে, অথচ অধিকাংশ ব্যবহারকারী এর বাইরে রয়ে গেছেন। তাদের মতে, রেসকো মডেল বড় শিল্প গ্রাহকদের জন্য উপযোগী হলেও আবাসিক, কৃষি ও গ্রামীণ গ্রাহকদের জন্য কার্যকর নয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে যে সৌর প্যানেল ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বাজারে দাম কমেছে। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ সৌর পণ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক ও কর কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। এতে বাজারে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক চাপের মুখে পড়ছেন।

সংগঠনটি আরও অভিযোগ করে, চলতি বাজেট ও সংশ্লিষ্ট এসআরওতে সোলার ইরিগেশন, সোলার স্ট্রিট লাইট এবং ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস) খাতের জন্য কার্যকর নতুন কোনো প্রণোদনা দেয়া হয়নি। দেশে প্রায় ১৭ লাখ ডিজেলচালিত সেচ পাম্প থাকলেও সেগুলোকে সৌরচালিত ব্যবস্থায় রূপান্তরের জন্য সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা আর্থিক প্রণোদনার প্রতিফলন বাজেটে নেই।

বিএসআরইএর মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ‘ওয়েট-বেইজড অ্যাসেসমেন্ট’ পদ্ধতির পরিবর্তে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘ট্রানজ্যাকশন ভ্যালু’ ভিত্তিক মূল্যায়ন চালুর উদ্যোগও নেয়া হয়নি। ফলে প্রকৃত আমদানি মূল্যের তুলনায় অতিরিক্ত মূল্যায়নের কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

এছাড়া মাউন্টিং স্ট্রাকচার, লিথিয়াম সেল, ব্যাটারি প্যাক ও বিইএসএসের জন্য প্রদত্ত শুল্ক সুবিধা ২০২৮ সালের ৩০শে জুন পর্যন্ত সীমিত রাখার সিদ্ধান্তেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, দেশে এখনো এসব পণ্যের পর্যাপ্ত উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি। ফলে আগেভাগে সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে বিনিয়োগ ও বাজার সম্প্রসারণ ব্যাহত হতে পারে।

বিএসআরইএর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দেশের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীর ৬৩ শতাংশই আবাসিক, কৃষি ও ক্ষুদ্র বাণিজ্যিক গ্রাহক। অথচ বর্তমান প্রণোদনা কাঠামোয় তাদের জন্য কোনো প্রত্যক্ষ সুবিধা নেই। একই সঙ্গে স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন, পেমেন্ট সিকিউরিটি এবং বিনিয়োগ সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাজেটে নতুন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান এসআরও বহাল থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট পিক (এমডব্লিউপি) সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা অর্জন সম্ভব হবে না; বরং সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট পিক সক্ষমতা অর্জিত হতে পারে।

তবে সকল আমদানিকারক, ইপিসি প্রতিষ্ঠান, ডিস্ট্রিবিউটর এবং খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের জন্য শূন্য শতাংশ কাস্টমস ডিউটি ও কর সুবিধা উন্মুক্ত করা হলে ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোর মাত্র ২৫ শতাংশ ছাদ ব্যবহার করেই ২০৩০ সালের মধ্যে ৬ থেকে ৮ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব বলে দাবি করেছে বিএসআরইএ।

সংগঠনটি সোলার মডিউল, ইনভার্টার, ব্যাটারি স্টোরেজ, মাউন্টিং স্ট্রাকচার, ডিসি কেবল, কানেক্টর ও স্মার্ট মিটারসহ সব নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ক্ষেত্রে সমান শুল্ক সুবিধা কার্যকর, অন্তত ১০ বছরের ট্যাক্স হলিডে ও আয়কর অব্যাহতি এবং আবাসিক ও কৃষি গ্রাহকদের জন্য কর সুবিধা উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি সোলার ইরিগেশন, সোলার হোম সিস্টেম, রুফটপ সোলার ও বিইএসএসকে জাতীয় অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঘোষণার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিএসআরইএর সভাপতি আরও বলেন বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি কোনো নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা নয়; এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই প্রণোদনা কাঠামো অবশ্যই সবার জন্য সমভাবে উন্মুক্ত হতে হবে।

এসময়ে বিএসআরইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহিদুল আলম, সহ-সভাপতি এম এ তাহের, সাধারণ সম্পাদক মো. আতাউর রহমান সরকার রোজেল, পরিচালক (অর্থ) নিতাই পদ সাহা, তোফায়েল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
New EPZs in five districts Decision to create economic zones

পাঁচ জেলায় নতুন ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির সিদ্ধান্ত

পাঁচ জেলায় নতুন ইপিজেড ও 
অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির সিদ্ধান্ত

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বরিশাল ও লালমনিরহাটে নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এবং গাজীপুর, বরগুনা ও পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব ও সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গত মে মাসে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করণীয় সংশ্লিষ্ট আলোচনায় কয়েকজন জেলা প্রশাসক নতুন ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এসব কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিতভাবে মন্ত্রিপরিষদে প্রতিবেদন আকারে পাঠাতে হবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো চিঠিতে এসব উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানান, বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাবগুলো সরকারপ্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে উপস্থাপন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট ছয়টি সিদ্ধান্ত স্বল্প (এক বছর), মধ্য (তিন বছর) এবং দীর্ঘ (পাঁচ বছর) মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল ও লালমনিরহাটে ইপিজেড এবং গাজীপুর, বরগুনা ও পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটির (বেপজা) অধীনে দেশে আটটি সরকারি ইপিজেড রয়েছে। এগুলো হলো- ঢাকা, চট্টগ্রাম, মোংলা, কুমিল্লা, ঈশ্বরদী, কর্ণফুলী, আদমজী ও উত্তরা ইপিজেড। কর ও শুল্ক সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি এবং উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানি সহজ করাই এসব ইপিজেডের প্রধান কাজ।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখার যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতিবছরই ডিসি সম্মেলনে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রস্তাব আসে। গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এবারও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে এবং এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

ডিসি সম্মেলনে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক জেলার শিল্পকারখানাগুলো একটি নির্দিষ্ট স্থানে স্থানান্তরের লক্ষ্যে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব দেন। এতে পরিকল্পিত শিল্পায়নের মাধ্যমে বর্জ্য ও পরিবেশ দূষণ কমবে, কৃষিজমি রক্ষা পাবে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং উদ্যোক্তারা সহজে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য জায়গা পাবেন বলে উল্লেখ করা হয়।

বরিশালের জেলা প্রশাসক সেখানে একটি ইপিজেড স্থাপনের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, এখানে এটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকা বা চট্টগ্রামে যেতে হবে না। নতুন শিল্পকারখানা গড়ে ওঠায় দারিদ্র্য কমবে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। পাশাপাশি ঢাকার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ এবং পায়রা সমুদ্র বন্দরের নিকটবর্তী অবস্থান পণ্য পরিবহনে সহায়ক হবে।

বরগুনার জেলা প্রশাসক উপকূলীয় এ জেলায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব দেন। পায়রা বন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি কৌশলগত কেন্দ্র হতে পারে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে সামুদ্রিক সম্পদ প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ, মৎস্য, কৃষি, শিল্প ও পর্যটন খাতের সমন্বিত উন্নয়নেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক সদর উপজেলায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব দেন। তিনি প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি দেন, সড়কপথে ঢাকা, খুলনা ও বরিশালের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ এবং নৌপথে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সংযোগ থাকায় কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য পরিবহন সহজ হবে। কাঁচামাল ও শ্রমিকের সহজলভ্যতায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক শিল্প গড়ে ওঠার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। উৎপাদিত পণ্য দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক সেখানে একটি ইপিজেড স্থাপনের প্রস্তাব দেন। তার মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে নতুন শিল্পকারখানা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। ধান, আলু ও ভুট্টাসহ কৃষিপণ্যের প্রাচুর্যের কারণে কৃষিভিত্তিক শিল্পেরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বুড়িমারী স্থলবন্দর এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় কার্যালয় থাকায় কাঁচামাল আমদানি ও পণ্য রপ্তানি সহজ হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন অধিশাখার উপসচিব মো. মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, ডিসি সম্মেলনের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে বিজি প্রেস বই প্রকাশের কাজ করছে। বইগুলো সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের চিঠির মাধ্যমে তাদের করণীয় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি মন্ত্রিপরিষদের মাঠ প্রশাসন শাখায় পাঠাতে বলা হয়েছে।

এদিকে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের পরিকল্পনার কথা সংসদে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সম্প্রতি সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে গড়ে তুলতে হলে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মাধ্যমে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ‘রপ্তানি নীতি’ হালনাগাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ সহজ করতে ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯’ হালনাগাদের কাজ চলছে।

প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা কমাতে সরকার বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেবা প্রদানের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষকে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্র : বাসস।

মন্তব্য

p
উপরে