করোনার টিকা

চীনের কোম্পানির ৯ কোটি সিরিঞ্জ কিনছে বাংলাদেশ

চীনের কোম্পানির ৯ কোটি সিরিঞ্জ কিনছে বাংলাদেশ

প্রতীকী ছবি

ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ‘খুব দ্রুত টিকা চলে আসবে। সে জন্য সময় বাঁচাতে সরাসরি পদ্ধতিতে সিরিঞ্জ কেনা হচ্ছে। চীন ছাড়া অন্য কোনো সোর্সের এত বিপুল পরিমাণ সিরিঞ্জ দেয়ার সক্ষমতা নেই।’

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দিতে চীনের একটি কোম্পানির কাছ থেকে সরাসরি পদ্ধতিতে ৯ কোটি ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ কিনছে সরকার।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির রোববারের সভায় এ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।

সভা শেষে ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ‘খুব দ্রুত টিকা চলে আসবে। সে জন্য সময় বাঁচাতে সরাসরি পদ্ধতিতে সিরিঞ্জ কেনা হচ্ছে। চীন ছাড়া অন্য কোনো সোর্সের এত বিপুল পরিমাণ সিরিঞ্জ দেয়ার সক্ষমতা নেই।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে বলা হয়, ‘১৩ কোটি ৮২ লাখ মানুষকে টিকাদানের জন্য ২৭ কোটি ৬৪ লাখ সিরিঞ্জ প্রয়োজন। প্রতি মাসে ২ কোটি মানুষকে টিকা প্রদানের জন্য ৯ কোটি ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ জরুরি ভিত্তিতে কিনতে হবে।

‘এ অবস্থায় রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে পিপিএ ২০০৬ এর ধারা ৬৮(১) এবং পিপিআর, ২০০৮ এর বিধি ৭৬(২) অনুযায়ী সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) প্রস্তাবিত ৯ কোটি এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ চায়না ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যালস ফরেন ট্রেড করপোরেশনের কাছ থেকে কেনার নীতিগত অনুমোদন দেয়া প্রয়োজন।’

পরে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।

২০ লাখ কিট কেনা হবে

এদিকে করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্য একই বৈঠকে তিন লটে ২০ লাখ কিট কেনার অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ১১৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে এসব কিট কেনা হবে।

এগুলো হলো ঢাকা স্টারলিং মাল্টি টেকনোলজি লিমিটেড, ওএমসি প্রাইভেট লিমিটেড এবং নারায়ণগঞ্জের জিএস বায়োটেক।

আরও পড়ুন:
মিনিটে ৬ হাজার সিরিঞ্জ
টিকাদান কর্মসূচিতে সাত কোটি সিরিঞ্জ দেবে জেএমআই

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ওমিক্রন: আফ্রিকার দরজা বন্ধ করছে বাংলাদেশ

ওমিক্রন: আফ্রিকার দরজা বন্ধ করছে বাংলাদেশ

দেশে করোনাভাইরাস প্রায় নিয়ন্ত্রণে। এর মধ্যে অনেক দেশে নতুন ধরন ওমিক্রনের খবরে আগেভাগেই সতর্ক সরকার। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের বিষয়টি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা অবহিত। ভেরিয়েন্টটি অত্যন্ত এগ্রেসিভ। সাউথ আফ্রিকার সঙ্গে এখনই বিমান যোগাযোগ স্থগিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া, যেসব দেশে এই সংক্রমণ দেখা দিয়েছে সেসব দেশে বিমান যোগাযোগ বন্ধ রাখা হবে।’

কয়েকটি দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ার খবরে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বলেছেন, যেসব দেশে এই ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে সেসব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হতে পারে। এরই মধ্যে সাউথ আফ্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ স্থগিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে শনিবার পাঠানো স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একটি অডিও বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের বিষয়টি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা অবহিত। ভেরিয়েন্টটি অত্যন্ত এগ্রেসিভ। ইতোমধ্যে সাউথ আফ্রিকার সঙ্গে বিমান যোগাযোগ এখনই স্থগিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া, যেসব দেশে এই সংক্রমণ দেখা দিয়েছে সেসব দেশে বিমান যোগাযোগ বন্ধ রাখা হবে।’

নতুন ধরনটি সাউথ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হয় বলে ২৪ নভেম্বর জানায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বতসোয়ানা, বেলজিয়াম, হংকং ও ইসরায়েলেও এই ধরন শনাক্তের তথ্য পাওয়া গেছে।

শুরুতে এই ধরনটির নাম ‘বি.১.১.৫২৯’ দেয়া হলেও শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আলোচনার সুবিধার জন্য এটির নতুন নাম দিয়েছে ‘ওমিক্রন’। বলা হচ্ছে, করোনার এই ধরন খুবই উদ্বেগের।

ওমিক্রন কতটা প্রাণঘাতী ও সংক্রামক সেসব জানতে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। অথচ এর আগেই আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বসে আছে পশ্চিমা দেশগুলো।

সাউথ আফ্রিকা, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, বতসোয়ানা, লেসেথোর মতো দেশগুলোর নাগরিকের ওপর ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো।

বাংলাদেশও সে পথে বলে আভাস স্বাস্থ্যমন্ত্রীর। জাহিদ মালেক বলেন, ইতোমধ্যে বিমানবন্দরেও সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া জেলা উপজেলা ও এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি ও মাস্ক পরার তাগিদ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মিনিটে ৬ হাজার সিরিঞ্জ
টিকাদান কর্মসূচিতে সাত কোটি সিরিঞ্জ দেবে জেএমআই

শেয়ার করুন

উদ্বেগের নাম করোনার নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’

উদ্বেগের নাম করোনার নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের ভয়াবহতার খবরে আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেছেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধী যেসব টিকা আছে নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের ক্ষেত্রে সেগুলো ‘অকার্যকর’ হয়ে পড়তে পারে।

আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল থেকে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ‘বি.১.১.৫২৯’ নাম দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এখন থেকে এই ধরনটিকে ‘ওমিক্রন’ নামে ডাকা হবে। বলা হচ্ছে, করোনার এই ধরনটি খুবই উদ্বেগের ।

এই ধরন কতটা প্রাণঘাতী ও সংক্রামক সেসব জানতে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। অথচ এর আগেই আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বসে আছে পশ্চিমা দেশগুলো।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯-এর এখন পর্যন্ত যতগুলো ধরন আছে তার মধ্যে ওমিক্রন সবচেয়ে জটিল। বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়ানো ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের মতোই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাতে বিবিসি লিখেছে, ওমিক্রনের অনেকবার মিউটেশন ঘটেছে। এই ভ্যারিয়েন্টে বারংবার আক্রান্ত হওয়ারও ঝুঁকি রয়েছে।

নতুন ধরনটি সাউথ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হয় বলে ২৪ নভেম্বর জানায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বতসোয়ানা, বেলজিয়াম, হংকং ও ইসরায়েলেও এই ধরন শনাক্তের তথ্য পাওয়া গেছে।

ওমিক্রনের ভয়াবহতার শঙ্কায় আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলোর সঙ্গে এরই মধ্যে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে অনেক দেশ।

সাউথ আফ্রিকা, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, বতসোয়ানা, লেসেথোর মতো দেশগুলোর নাগরিকের ওপর ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। তবে যুক্তরাজ্য বা আয়ারল্যান্ডের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না।

আফ্রিকার এসব দেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো। এটা কার্যকর হবে সোমবার থেকে।

এক বিবৃতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, শুরুর দিকে নতুন ভ্যারিয়েন্টটির নাম দেয়া হয়েছিল বি.১.১.৫২৯। এই ধরন নিয়ে আলোচনার সুবিধার জন্য নতুন নাম দেয়া হয়েছে ওমিক্রন। এটি সাউথ আফ্রিকার প্রায় সব প্রদেশেই পাওয়া গেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই ভ্যারিয়েন্টের অনেকবার মিউটেশন ঘটেছে, এগুলোর কয়েকটির ভয়াবহতা উদ্বেগ সৃষ্টির হওয়ার মতো।’

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনার এই ধরনটির প্রভাব কেমন হতে পারে তা বুঝতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। এটি কতটা ছোঁয়াছে তা বুঝতে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা।

যুক্তরাজ্যের একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেছেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধী যেসব টিকা আছে নতুন ভ্যারিয়েন্টটির ক্ষেত্রে সেগুলো ‘অকার্যকর’ হয়ে পড়তে পারে।

তবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্রাকচারাল বায়োলজিস্ট অধ্যাপক জেমস নেইস্মিথ বলেছেন, ‘এটা খারাপ একটি খবর। তবে এখানেই পৃথিবীর শেষ নয়।’

আরও পড়ুন:
মিনিটে ৬ হাজার সিরিঞ্জ
টিকাদান কর্মসূচিতে সাত কোটি সিরিঞ্জ দেবে জেএমআই

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের ৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের ৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল

২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর হাসপাতালটিকে ২০০ শয্যায় উন্নীত করতে আরও ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় মন্ত্রণালয়। ২০১৯ সালের মধ্যে এই কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ২০০ শয্যায় উন্নীতকরণ কার্যক্রমই শুরু হয়নি। চালু হয়নি শিশু হাসপাতালের কার্যক্রমও। কাজ না হওয়ায় বরাদ্দ করা ১০০ কোটি টাকা ফেরত যায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি সিলেট সফরে এসে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের উদ্বোধন করেন। এরপর হাসপাতালটি ২০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। তবে প্রায় সাত বছর হতে চললেও এখনও এই শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফেরত গেছে বরাদ্দের টাকাও।

স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রশাসনিক অনুমোদন না পাওয়ায় ও লোকবল সংকটে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। আর গণপূর্ত বিভাগ ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতায় ২০০ শয্যায় উন্নীতকরণের কাজও শুরু হয়নি।

গত বছরের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে এখানে করোনা রোগীদের চিকিৎসা চলছে। এ কারণেও এই হাসপাতালকে শিশু হাসপাতালে উন্নীত করা যায়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের ৭ বছরেও চালু হয়নি শিশু হাসপাতাল

২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকার সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালে সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এরপর বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এই টাকায় অবকাঠামোগত কিছু সংস্কার করে গণপূর্ত বিভাগ।

২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর হাসপাতালটিকে ২০০ শয্যায় উন্নীত করতে আরও ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় মন্ত্রণালয়। ২০১৯ সালের মধ্যে এই কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ২০০ শয্যায় উন্নীতকরণ কার্যক্রমই শুরু হয়নি। চালু হয়নি শিশু হাসপাতালের কার্যক্রমও। কাজ না হওয়ায় বরাদ্দ করা ১০০ কোটি টাকা ফেরত যায়।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘২০০ শয্যার মা ও শিশু হাসপাতালের ডিজাইন রেডি ছিল, অর্থ বরাদ্দও ছিল। সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। এর জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

‘সিলেটের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী টাকা দিচ্ছেন। কিন্তু এই টাকার যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে না। এটা খুবই দুঃখজনক।’

জানা যায়, ১৯৭৮ সালে সিলেট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (বর্তমান ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল) চৌহাট্টা থেকে কাজলশাহ এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। ১৯৭৮ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৩ বছর অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকে পুরনো হাসপাতালের স্থাপনা। ১৯৯২ সালে এটি সিলেট সদর হাসপাতাল হিসেবে পুনর্জন্ম লাভ করে। পরবর্তী সময়ে ১৯৯২ সাল থেকে এটি ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতাল ছিল। ১৯৯৮ সালে সিলেট শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল নামকরণ করা হয়।

তবে তাড়াহুড়ো করে লোকবল ও যন্ত্রপাতি সংকট নিয়ে চালু হয় শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল। ১০০ শয্যার হাসপাতালটিতে ৩০ শয্যার লোকবলও নেই। আনুষঙ্গিক অন্যান্য সুবিধাও অনুপস্থিত। জরুরি বিভাগ থাকলেও চিকিৎসক না থাকায় শুরু থেকেই তা বন্ধ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল হিসেবে চালু করতে পদ সৃষ্টি করে জনবল নিয়োগের জন্য ২০১৫-১৬ সালে চার দফা চিঠি পাঠানো হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে। তবে এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এর মধ্যে গত বছরের মার্চ থেকে ‘করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল’ ঘোষণা করে সিলেট বিভাগের মধ্যে একমাত্র এই হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা শুরু হয়।

বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু না হওয়া প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করলেও বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসনিক অনুমতি হয়নি। ফলে লোকবলও নিয়োগ হয়নি।

‘কেবল অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হাসপাতাল হয় না। হাসপাতালের জন্য লোকবল, যন্ত্রপাতি ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধার প্রয়োজন হয়। এসব না থাকায় বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করা যায়নি।’

২০০ শয্যায় উন্নীত করতে বরাদ্দ অর্থ ফেরত যাওয়া প্রসঙ্গে ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘অর্থ বরাদ্দ হলেও কাজটি গণপূর্ত বিভাগ না স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ করবে তা নিয়ে ঝামেলা দেখা দেয়। শেষ সময়ে এসে সিদ্ধান্ত হয় গণপূর্ত বিভাগ কাজটি করবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তারা কাজের নকশা জমা দিতে পারেনি।

‘বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর জন্য আমি আরেকটি প্রস্তাব তৈরি করেছি। দ্রুতই তা মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। করোনার কারণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমানে কাগজে-কলমে হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হলেও জনবল নেই ৩০ শয্যা হাসপাতালেরও। করোনার সংক্রমণ বাড়ার পর ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিৎিসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়ে এসে চালানো হয় এই হাসপাতালের কার্যক্রম।

এ ব্যাপারে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের অধীক্ষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হালদার বলেন, ‘বর্তমানে এখানে করোনা রোগীদের চিকিৎসা চলছে। লোকবল সংকট রয়েছে। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। আর বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করাটা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিষয়। এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই।’

আরও পড়ুন:
মিনিটে ৬ হাজার সিরিঞ্জ
টিকাদান কর্মসূচিতে সাত কোটি সিরিঞ্জ দেবে জেএমআই

শেয়ার করুন

টিকা নেয়ার পর ১৬ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

টিকা নেয়ার পর ১৬ শিক্ষার্থী হাসপাতালে

বরগুনায় টিকা নেয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

সিভিল সার্জন মারিয়া হাসান বলেন, ‘আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দেখেছি ওদের প্রেসার-পালস সবকিছু ঠিক আছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এটাকে সাইকোজেনিক ইলনেস বলতে পারি। এটা ফিমেলদের মধ্যে বেশি হয়ে থাকে। বিষয়টি কনফার্ম হওয়ার জন্য ডব্লিউএইচও থেকে ইনভেস্টিগেশন টিম আসবে।’

বরগুনায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নেয়ার পর ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের সবাইকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বরগুনা জিলা স্কুলের কেন্দ্রে টিকা নেয়ার পরপরই এ ঘটনা ঘটে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওই শিক্ষার্থীদের ফাইজারের টিকার প্রথম ডোজ দেয়া হয়।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রিমু, লিজা, কারিমা, কলিলা, মীম, জুই, মারিয়া, ইলমাসহ ১২ জন পাথরঘাটা সরকারি হাজি জালাল উদ্দিন মহিলা কলেজের এইচএসসির শিক্ষার্থী। বাকি চারজন একই উপজেলার মাজহারুদ্দিন টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী।

মাজহারুদ্দিন টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ জানান, দুপুর ১২টার দিকে টিকা দেয়ার পর শিক্ষার্থীরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান।

তবে কেউ পদক্ষেপ না নেয়ায় বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমনকে জানান। পরে তার পরামর্শে শিক্ষার্থীদের বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অসুস্থ শিক্ষার্থীরা জানায়, টিকা নেয়ার পরপরই তাদের প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।

সরকারি হাজি জালাল উদ্দিন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন কুমার পাল বলেন, ‘শিক্ষার্থীর অসুস্থ বোধ করার পর আমরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ি। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

বেলা আড়াইটার দিকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের দেখতে আসেন সিভিল সার্জন মারিয়া হাসান। তিনি বলেন, ‘আমাদের ফাইজারের টিকা ক্যাম্প চলছে গত দুই দিন ধরে। এইচএসসি ও সমমানের শিক্ষার্থীদের এ টিকা দেয়ার কার্যক্রম চলছে।

‘আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দেখেছি ওদের প্রেসার-পালস সবকিছু ঠিক আছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এটাকে সাইকোজেনিক ইলনেস বলতে পারি। এটা ফিমেলদের মধ্যে বেশি হয়ে থাকে। বিষয়টি কনফার্ম হওয়ার জন্য ডব্লিউএইচও থেকে ইনভেস্টিগেশন টিম আসবে।’

আরও পড়ুন:
মিনিটে ৬ হাজার সিরিঞ্জ
টিকাদান কর্মসূচিতে সাত কোটি সিরিঞ্জ দেবে জেএমআই

শেয়ার করুন

করোনার নতুন ধরনে এশিয়া-ইউরোপে অস্থিরতা

করোনার নতুন ধরনে এশিয়া-ইউরোপে অস্থিরতা

ফাইল ছবি।

বৈশ্বিক মহামারির দেড় বছর পর চলতি মাসেই করোনাকালীন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ভারত। নতুন করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা না দিলেও সব রাজ্যকে সাউথ আফ্রিকা ও অন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো থেকে আগত ভ্রমণকারীদের নিবিড় স্বাস্থ্যপরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সীমান্ত নীতিমালা কঠোর করছে সিঙ্গাপুর, জাপান। তাইওয়ানে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলো থেকে আসা ব্যক্তিদের ১৪ দিন সরকার পরিচালিত কোয়ারেন্টিন সেন্টারে থাকতে হবে।

করোনাভাইরাসের রূপ পরিবর্তিত নতুন ধরনে উদ্বেগ বাড়তে থাকার মধ্যেই সীমান্ত নীতি কঠোর করেছে এশিয়ার কয়েকটি দেশ। ছোঁয়াচে ভাইরাসটির বিস্তার নিয়ন্ত্রণে শুক্রবার থেকে সীমান্তপথে আসা-যাওয়ায় বিধিনিষেধ কঠোর করেছে ভারত, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ।

সাউথ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনার নতুন ধরনটি টিকাপ্রতিরোধী- এমন শঙ্কায় আগেই আফ্রিকার ছয় দেশকে লাল তালিকাভুক্ত করেছে নতুন ভ্রমণ নীতি আরোপ করে যুক্তরাজ্য।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি সপ্তাহের শুরুতে চিহ্নিত নতুন ধরনটির বিষয়ে এখনও খুব বেশি তথ্য জানতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। কিন্তু এর খবরেই শুক্রবার বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের পুঁজিবাজারে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

বিশেষ করে তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে এশিয়ার পুঁজিবাজারগুলোতে; তেলের দামেও ধস নেমেছে তিন শতাংশের বেশি।

সাউথ আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়ার পর বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইন ভাইরাসটি বতসোয়ানা আর হংকংয়েও শনাক্ত হয়েছে।

সবশেষ শুক্রবার সুদূর ইসরায়েলেও ভাইরাসটি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মালাউই থেকে ভ্রমণ করে দেশে ফেরা এক নাগরিকের দেহে শনাক্ত হয়েছে ভাইরাসটি। বিদেশফেরত আরও দুইজনকে কোয়ারেন্টিনে রেখেছে ইসরায়েল।

যুক্তরাজ্যে ভাইরাসটি শনাক্ত না হলেও পূর্বসতর্কতা হিসেবে আগেই দেশটি সাউথ আফ্রিকা, নামিবিয়া, বতসোয়ানা, জিম্বাবুয়ে, লেসোথো ও ইসওয়াতিনিতে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে লন্ডন। নতুন করে জারি করেছে হোটেল কোয়ারেন্টিন নীতিমালা।

একই নীতি গ্রহণ করতে যাচ্ছে জার্মানি, সিঙ্গাপুর আর জাপানও। সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানিয়েছে, সাউথ আফ্রিকাসহ আশপাশের দেশগুলো থেকে সিঙ্গাপুরে ভ্রমণ স্থগিত রাখা হবে। জাপান সরকারও এমন পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

বৈশ্বিক মহামারির দেড় বছর পর চলতি মাসেই করোনাকালীন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ভারত। নতুন করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা না দিলেও সব রাজ্যকে সাউথ আফ্রিকা ও অন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো থেকে আগত ভ্রমণকারীদের নিবিড় স্বাস্থ্যপরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

তাইওয়ানে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশগুলো থেকে আসা ব্যক্তিদের ১৪ দিন সরকার পরিচালিত কোয়ারেন্টিন সেন্টারে থাকতে হবে।

নতুন ভ্যারিয়েন্ট মোকাবিলায় প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আহডার্ন।

আরও পড়ুন:
মিনিটে ৬ হাজার সিরিঞ্জ
টিকাদান কর্মসূচিতে সাত কোটি সিরিঞ্জ দেবে জেএমআই

শেয়ার করুন

করোনা: ভারত-যুক্তরাজ্যে ফের ভ্রমণ বিধিনিষেধ, কোয়ারেন্টিন

করোনা: ভারত-যুক্তরাজ্যে ফের
ভ্রমণ বিধিনিষেধ, কোয়ারেন্টিন

করোনার নতুন ধরনের কারণে আবারও ভ্রমণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ জারি করেছে ভারত ও যুক্তরাজ্য। ফাইল ছবি

ভারত-যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইন ভাইরাসটি শনাক্ত হয়নি। সাউথ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত ভাইরাসটিতে গউতেং প্রদেশে নিশ্চিত আক্রান্ত ৭৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে; চারজন বতসোয়ানায় আর হংকংয়ে একজন- যিনি সাউথ আফ্রিকা ভ্রমণ করে সম্প্রতি দেশে ফেরেন। তবে ভাইরাসটি আরও অনেক অঞ্চলে, আরও বড় পরিসরে ছড়িয়েছে বলে ইঙ্গিত পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

সাউথ আফ্রিকায় শনাক্ত করোনাভাইরাসের নতুন ধরন নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে বিভিন্ন দেশে। এরই মধ্যে সতর্ক অবস্থানে ভারত-যুক্তরাজ্য, জারি করেছে ভ্রমণবিষয়ক বিধিনিষেধ।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাউথ আফ্রিকা, বতসোয়ানা ও হংকং থেকে ভারতে প্রবেশের সময় ভ্রমণকারীদের চুলচেরা স্বাস্থ্য পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। বৃহস্পতিবারই এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

তাদের পাশাপাশি নজরদারিতে রাখা হবে তাদের সংস্পর্শে যাওয়া প্রত্যেক ব্যক্তিকেও।

মহামারিকালীন দীর্ঘ বিধিনিষেধের পর সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নীতিমালা শিথিল করে করোনায় বিপর্যস্ত বিশ্বের অন্যতম দেশ ভারত।

অন্যদিকে আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশ থেকে ইংল্যান্ডে পৌঁছানো ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিনে রাখার নির্দেশনা জারি করেছে ব্রিটিশ সরকারও।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, শুক্রবার থেকে কার্যকর নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় ছয় দেশকে লাল তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। দেশগুলোতে ফ্লাইট চলাচলও সাময়িক স্থগিত রাখা হয়েছে।

দেশগুলো হলো সাউথ আফ্রিকা, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, বতসোয়ানা, লেসোথো ও ইসওয়াতিনি।

হোটেল কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে চালু হওয়া পর্যন্ত পূর্ব সতর্কতা হিসেবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ প্রশাসন। রোববার থেকে হোটেল কোয়ারেন্টিন শুরুর কথা রয়েছে দেশটিতে।

এ ছাড়া ব্রিটিশ ও আইরিশ নাগরিকত্ব না থাকা কোনো ব্যক্তি গত ১০ দিনের মধ্যে লালতালিকাভুক্ত ছয় দেশে ভ্রমণ করে থাকলে আজ থেকে তারাও ইংল্যান্ডে ঢুকতে পারবেন না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এযাবৎকালে আবিষ্কৃত করোনার পরিবর্তিত রূপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ নতুন ধরনটি। এটিতে এত বেশিবার পরিবর্তন ঘটেছে যে একজন বিজ্ঞানী বিষয়টিকে আখ্যায়িত করেছেন ‘ভয়ংকর’ বলে। আরেক বিজ্ঞানী নতুন ধরনটিকে এখন পর্যন্ত দেখা করোনার সবচেয়ে মারাত্মক ধরন বলে উল্লেখ করেছেন।

যদিও যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইন ভাইরাসটি শনাক্ত হয়নি।

সাউথ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত ভাইরাসটিতে গউতেং প্রদেশে নিশ্চিত আক্রান্ত ৭৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে; চারজন বতসোয়ানায় আর হংকংয়ে একজন- যিনি সাউথ আফ্রিকা ভ্রমণ করে সম্প্রতি দেশে ফেরেন।

তবে ভাইরাসটি আরও অনেক অঞ্চলে, আরও বড় পরিসরে ছড়িয়েছে বলে ইঙ্গিত পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

শনাক্তকরণ পরীক্ষায় করোনার নতুন ধরনটিতে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ‘এস-জিন ড্রপআউট’ নামে পরিচিত অদ্ভুত একটি বৈশিষ্ট্যের দেখা মিলছে। জিনগত বিশ্লেষণ সম্পন্ন ছাড়াই এই ‘এস-জিন ড্রপআউট’ বৈশিষ্ট্য শনাক্তের মাধ্যমেই মানবদেহে বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইনের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব।

এই পদ্ধতিতে ধারণা মিলছে যে গউতেংয়ে সাম্প্রতিক সময়ে করোনা শনাক্তদের ৯০ শতাংশই বি.ওয়ান.ওয়ান.ফাইভটুনাইনে আক্রান্ত। সাউথ আফ্রিকার বেশির ভাগ প্রদেশে করোনার নতুন ধরনটি পৌঁছে গেছে বলেও মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
মিনিটে ৬ হাজার সিরিঞ্জ
টিকাদান কর্মসূচিতে সাত কোটি সিরিঞ্জ দেবে জেএমআই

শেয়ার করুন

দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া: ভাসানীর মেয়ে

দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া: ভাসানীর মেয়ে

হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসনকে দেখে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ভাসানীর ছোট মেয়ে মাহমুদা খানম ভাসানী। তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়া কথা বলতে পারছেন, তবে খুব ধীরে ধীরে। তিনি খুবই দুর্বল। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।’

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রোগমুক্তির জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মেয়ে মাহমুদা খানম ভাসানী।

হাসপাতালে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান মজলুম জননেতা ভাসানীর পরিবারের ৫ সদস্য। ৩০ মিনিটের মতো তারা হাসপাতালে ছিলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনকে দেখে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ভাসানীর ছোট মেয়ে মাহমুদা খানম ভাসানী।

তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়া কথা বলতে পারছেন, তবে খুব ধীরে ধীরে। তিনি খুবই দুর্বল। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

‘তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তাকে বিদেশে পাঠিয়ে সুচিকিৎসার সুযোগ দেয়ার জোর দাবি জানাই।’

দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া: ভাসানীর মেয়ে
হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখতে যান মওলানা ভাসানীর পরিবারের সদস্যরা

ভাসানীর নাতি হাবিব হাসান মনার বলেন, ‘আমরা বেগম জিয়াকে দেখতে গিয়েছিলাম। তার ডাক্তাররা বলেছেন, বেগম জিয়ার অবস্থা খারাপ। তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা দেয়ার দাবি জানাই ভাসানী পরিবারের পক্ষ থেকে।’

ভাসানীর আরেক নাতি মাহমুদুল হক শানু বলেন, ‘মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী আজীবন মজলুমের পক্ষে লড়াই করেছেন। যেখানে অন্যায়, সেখানেই তিনি ছিলেন প্রতিবাদী কণ্ঠ। পাকিস্তান সরকারের ফাঁসির দড়ি থেকে তিনি যেমনিভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্ত করেছিলেন, তেমনি দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে নিপীড়নের হাত থেকেও তিনি রক্ষা করেছিলেন।

‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দেয়ার জন্য মওলানা ভাসানীর পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি জানাচ্ছি।’

খালেদাকে দেখতে যাওয়া ভাসানী পরিবারের অন্য সদস্যরা হলেন জননেতার বড় মেয়ে রিজিয়া ভাসানী ও নাতনি সুরাইয়া সুলতানা।

ওই সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার।

গত ১৩ নভেম্বর বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে এভারকেয়ারে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হওয়ায় পরের দিন ভোরে তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছে তার।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুতই বিদেশে নেয়া দরকার।

আরও পড়ুন:
মিনিটে ৬ হাজার সিরিঞ্জ
টিকাদান কর্মসূচিতে সাত কোটি সিরিঞ্জ দেবে জেএমআই

শেয়ার করুন