ঘরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ঘরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ঢাকা মেডিক্যালে রাজধানীর সবুজবাগ থেকে উদ্ধার গৃহবধূর মরদেহ। ছবি: নিউজবাংলা

সবুজবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুবিনা আউয়াল জানান, ‘আমরা ভোরে খবর পেয়ে কদমতলার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার বাসায় দরজা ভেঙে গলায় ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করি।’

রাজধানীর সবুজবাগ কদমতলা এলাকায় শ্রাবণী জামান নিপা নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ দরজা ভেঙে রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সবুজবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুবিনা আউয়াল জানান, ‘আমরা ভোরে খবর পেয়ে কদমতলার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার বাসায় দরজা ভেঙে গলায় ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করি।’

তিনি জানান, ৩৫ বছর বয়সী ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর বিস্তারিত কারণ জানা যাবে।

নিহতের ভাই মাশুক আহমেদ বলেন, ‘আমার বোনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সে আত্মহত্যা করবে কেনো? তাকে হয়তো মেরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বোনের একমাত্র সন্তান সাত বছরের। তাদের পরিবার খুব সুখেই ছিল।’

তাদের বাড়ি বরিশালের মুলাদীর ব্রজমোহন গ্রামে।

আরও পড়ুন:
গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু
গৃহবধূকে গাছে বেঁধে ‘নির্যাতনের ভিডিও’
পুলিশের স্ত্রীর হাত-মুখ বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
হাসপাতালে গৃহবধূর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রামপুরায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, সড়কে জট

রামপুরায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, সড়কে জট

বাসচাপায় ছাত্র নিহতের ঘটনায় রামপুরা ব্রিজে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

রামপুরা থানা ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আন্দোলন করতে ছাত্ররা রামপুরা ব্রিজে অবস্থান নিয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।’

রাজধানীর রামপুরায় বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনার বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার সকালে রামপুরা ব্রিজে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে বনশ্রী আইডিয়াল স্কুলের ছাত্ররা।

তাদের সঙ্গে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জড়ো হচ্ছে। এতে রামপুরা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের তথ্য নিশ্চিত করেছেন রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম।

রামপুরায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, সড়কে জট
রামপুরায় বাসচাপায় ছাত্র নিহতের বিচার চেয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

তিনি বলেন, ‘আন্দোলন করতে ছাত্ররা রামপুরা ব্রিজে অবস্থান নিয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে।’

সোমবার রাতে রামপুরায় বাসের ধাক্কায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর অন্তত ৮টি বাস পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় ভাঙচুর করা হয়েছে আরও চারটি বাস।

রাজধানীতে বেশ কিছুদিন থেকেই হাফ ভাড়ার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

এরই মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়ির ধাক্কায় নিহত হয় নটর ডেম কলেজের ছাত্র নাঈম। তার নিহতের ঘটনার বিচার দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে আসছিলেন।

আরও পড়ুন:
গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু
গৃহবধূকে গাছে বেঁধে ‘নির্যাতনের ভিডিও’
পুলিশের স্ত্রীর হাত-মুখ বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
হাসপাতালে গৃহবধূর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী

শেয়ার করুন

‘আব্বা আমারে ভালো কলেজে ভর্তি করে দিবা’

‘আব্বা আমারে ভালো কলেজে ভর্তি করে দিবা’

নিহত মাইনুদ্দীনের বাবা ও মা। ছবি: নিউজবাংলা

রাজধানীর রামপুরায় বাসের ধাক্কায় নিহত মাইনুদ্দীন এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। স্বপ্ন ছিল, উচ্চ শিক্ষিত হয়ে বড় চাকরি করার। কিন্তু সোমবার রাতে ঘাতক বাস প্রাণ কেড়ে নিয়েছে তার।

‘মাইনুদ্দীন কই, আমার মাইনুদ্দীন। ওরে ফোন দে কেউ। আমার মাইনুদ্দী কইছে- আমারে ভালো কলেজে ভর্তি করে দিবা আব্বা। বুট খাওয়ার কথা বইলা ১০ টাকার নিয়া বাইর হইছিল আমার পোলায়।’

পূর্ব রামপুরা তিতাস রোডের বাসায় মাইনুদ্দীনের বাসার সামনে এভাবেই কান্নায় ভেঙে পড়ে কথাগুলো বলছিলেন মাইনুদ্দীনের বাবা আব্দুর রহমান ভান্ডারি। পাশেই কাঁদছিলেন মাইনুদ্দীনের মা।

কেঁদে কেঁদে মাইনুদ্দীনের বাবা বলেই যাচ্ছিলেন, ‘আমারে কইছে- আব্বা ১০টা টাকা দাও, বুট খাইতে যাবো। এই বইলা বের হইছে। এর ১০-১৫ মিনিট পরে লোকজন আমারে কইতাছে, তাড়াতাড়ি বাইর হন। মাইনুলের অবস্থা ভালো না। আমার পুতে আমার চায়ের দোকানে সাহায্য করে। সুপারি কাইটা দেয়, অন্য কামও করে। দুই ছেলে এক মেয়ে আমার। মাইনুদ্দীন সবার ছোট। মেয়েটা বোবা।’

বিলাপ করে তিনি আরও বলেন, ‘সব ছাত্রের কাছে আমার বিচার। আমি গরীব মানুষ। আমি তো কিছু করতে পারমু না।’

‘আমার পোলা তো দেরি করে না। কেউ ফোন দে আমার পুতেরে। আমার পুতেরে ফোন দিলেই চইলা আইবো’- এমন আহাজারিতে আশপাশের মানুষেরও চোখ ভিজে যাচ্ছিল। সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলেন না তারা।

‘আব্বা আমারে ভালো কলেজে ভর্তি করে দিবা’
নিহত মাইনুদ্দীন

রাজধানীর রামপুরায় বাসের ধাক্কায় নিহত মাইনুদ্দীন একরামুন্নেসা স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ায় বাবার ব্যবসায় সহযোগিতা করছিলেন। স্বপ্ন ছিল, উচ্চ শিক্ষিত হয়ে বড় চাকরি করার। কিন্তু সোমবার রাতে ঘাতক বাস প্রাণ কেড়ে নিয়েছে তার।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা বাজারে সোনালী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় ওই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে তারা বেশ কয়েকটি বাসে আগুন দেয় এবং ভাঙচুর করে।

‘আব্বা আমারে ভালো কলেজে ভর্তি করে দিবা’
বাবার এই চায়ের দোকান থেকেই বেরিয়ে গিয়েছিলেন মানুদ্দীন

আরও পড়ুন:
গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু
গৃহবধূকে গাছে বেঁধে ‘নির্যাতনের ভিডিও’
পুলিশের স্ত্রীর হাত-মুখ বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
হাসপাতালে গৃহবধূর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী

শেয়ার করুন

খালেদার মুক্তি চেয়ে ছাত্রদলের মশাল মিছিল

খালেদার মুক্তি চেয়ে ছাত্রদলের মশাল মিছিল

রাজধানীতে ছাত্রদলের মশাল মিছিল। ছবি: সংগৃহীত

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার সুযোগের দাবিতে ছাত্রদলের মিছিলটি সোমবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির মিরপুর সড়ক ধরে এগিয়ে আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার সুযোগের দাবিতে রাজধানীতে মশাল মিছিল করেছে ছাত্রদল।

সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদল নেতারা ধানমন্ডির এ আর প্লাজার সামনে এ মিছিল করেন।

ছাত্রদলের মিছিলটি সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হয়। মিরপুর সড়ক ধরে আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালের সামনে গিয়ে মিছিল শেষ হয়।

ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান সজীব, হায়াত মাহমুদ জুয়েল, সোহানুর রহমান সোহান রবিউল ইসলাম, মাহিবুর রহমান টিপু, মিল্লাদ হোসেন, গোলাম রাব্বানীসহ নেতাকমীরা মিছিলে অংশ নেন।

দলীয় সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবি নিয়ে রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে মঙ্গলবার সমাবেশ করবে বিএনপি।

আরও পড়ুন:
গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু
গৃহবধূকে গাছে বেঁধে ‘নির্যাতনের ভিডিও’
পুলিশের স্ত্রীর হাত-মুখ বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
হাসপাতালে গৃহবধূর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থী নিহত, রামপুরায় ১২ বাসে আগুন-ভাঙচুর

শিক্ষার্থী নিহত, রামপুরায় ১২ বাসে আগুন-ভাঙচুর

বাসের আগুন নেভাচ্ছে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

বিক্ষুব্ধ জনতা অনাবিল পরিবহনের একাধিক বাসসহ অন্তত ৮টি বাসে আগুন ও চারটি বাস ভাঙচুর করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ। মধ্যরাতেও রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

রাজধানীর রামপুরায় বাসের ধাক্কায় এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর অন্তত ৮টি বাস পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ সময় ভাঙচুর করা হয়েছে আরও চারটি বাস।

সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা বাজারে সোনালী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তারা বিভিন্ন বাসে আগুন দিতে শুরু করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা বাজারে সোনালী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা অনাবিল পরিবহনের একাধিক বাসসহ অন্তত আটটি বাসে আগুন ও চারটি বাস ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে রয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ। মধ্যরাতেও রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

রাসেল নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দুর্ঘটনার পর আশপাশের মানুষ অনাবিল পরিবহনের কয়েকটি বাস আটকে দেয়। শুরু হয় ভাঙচুর। একের পর এক বাসে আগুন দেয় তারা।’

রাসেল জানান, ফায়ার সার্ভিস যখন আগুন নেভাচ্ছিল, তখনও অন্যান্য বাসে আগুন দিচ্ছিলেন উত্তেজিতরা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করে।

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে অসংখ্য মানুষ জড়ো হতে দেখা গেছে। নিহতের নাম মাইনুদ্দিন বলে নিশ্চিত করেছেন একাধিক জন। তিনি রাজধানীর একরামুন্নেসা স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন সাদ্দাম। তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আছে পুলিশের একাধিক টিম।

ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার এরশাদ হোসেন বলেছেন, ‘আমরা গাড়িতে আগুনের খবর পেয়েছি। আগুন নেভাতে কাজ করছে আমাদের একাধিক ইউনিট।’

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়া বাস ও এর চালককে আটক করেছে পুলিশ।

শিক্ষার্থী নিহত, রামপুরায় ১২ বাসে আগুন-ভাঙচুর
দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত মানুষের পুড়িয়ে দেয়া একটি বাস। ছবি: নিউজবাংলা
আরও পড়ুন:
গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু
গৃহবধূকে গাছে বেঁধে ‘নির্যাতনের ভিডিও’
পুলিশের স্ত্রীর হাত-মুখ বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
হাসপাতালে গৃহবধূর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়া অনাবিল বাসের চালক আটক

শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়া অনাবিল বাসের চালক আটক

শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়া বাসটি।

শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়ার পর বাসটি দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করে পালাতে উদ্যত হয়। তবে পালানোর সময় বেশ কিছু মানুষ বাসটিকে ধাওয়া করেন এবং ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন।

রাজধানীর রামপুরায় বাসের ধাক্কায় শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত চালককে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চাপা দেয়া বাসটিকেও জব্দ করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাবার সময় বাসটিকে মালিবাগ রেলগেইট এলাকা থেকে আটক করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার্থীকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যাবার সময় অনাবিল পরিবহনের বাসটিকে ধাওয়া করে বিক্ষুব্ধ মানুষ। তারা বাসটিকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। মালিবাগ রেল গেইট এলাকায় যানবাহনের চাপে বাসটির গতি কমাতে বাধ্য হন চালক। তখন পিছু নেয়া মানুষেরা চালকসহ বাসটিকে আটক করেন।

এ সময় বিক্ষুব্ধরা বাসের চালককে মারধরও করে। এতে জ্ঞান হারান তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে মালিবাগ রেলগেইটে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা গিয়ে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে উদ্ধার এবং বাসটি জব্দ করেন।

পরে চালককে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নিয়ে যান রামপুরা থানার উপপরিদর্শক আমিন মীর। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাসের চালককে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি এখনও অজ্ঞান।’

চালকের নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তার নাম পরিচয় কিছুই জানা যায়নি।’

এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা বাজারে সোনালী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তারা বিভিন্ন বাসে আগুন দিতে শুরু করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা বাজারে সোনালী ব্যাংকের সামনের রাস্তায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা অনাবিল পরিবহনের বাসসহ অন্তত ১২টি বাসে আগুন ও ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে রয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ। মধ্যরাত পর্যন্ত রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ ছিল।

রাসেল নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দুর্ঘটনার পর আশপাশের মানুষ অনাবিল পরিবহনের কয়েকটি বাস আটকে দেয়। শুরু হয় ভাঙচুর। একের পর এক বাসে আগুন দেয় তারা।’

রাসেল জানান, ফায়ার সার্ভিস যখন আগুন নেভাচ্ছিল, তখনও অন্যান্য বাসে আগুন দিচ্ছিলেন উত্তেজিতরা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করে।

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে অসংখ্য মানুষ জড়ো হতে দেখা গেছে। নিহতের নাম মাইনুদ্দিন বলে নিশ্চিত করেছেন একাধিক জন। তিনি রাজধানীর একরামুন্নেসা স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন সাদ্দাম। তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে আছে পুলিশের একাধিক টিম।

ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার এরশাদ হোসেন বলেছেন, ‘আগুন নেভাতে কাজ করেছে আমাদের একাধিক ইউনিট।’

আরও পড়ুন:
গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু
গৃহবধূকে গাছে বেঁধে ‘নির্যাতনের ভিডিও’
পুলিশের স্ত্রীর হাত-মুখ বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
হাসপাতালে গৃহবধূর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী

শেয়ার করুন

হাইকোর্টে জামিন পাননি সেই প্রকাশ কুমার

হাইকোর্টে জামিন পাননি সেই প্রকাশ কুমার

খুলনা জেনারেল হাসপাতালের টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) প্রকাশ কুমার দাস। ছবি: নিউজবাংলা

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, প্রকাশ কুমার দাস খুলনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের করোনা পরীক্ষা ইউজার ফি নেয়ার দায়িত্বে ছিলেন ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত। তিনি এ সময় প্রায় ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা আদায় করেন। তার মধ্যে ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন।

করোনা পরীক্ষা ইউজার ফি থেকে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় পলাতক আসামি খুলনা জেনারেল হাসপাতালের টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) প্রকাশ কুমার দাসকে জামিন দেয়নি হাইকোর্ট।

আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে তাকে আত্মসমর্পনের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেয়।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রবিউল আলম বুদু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আন্না খানম কলি ও মো. সাইফুর রহমান সিদ্দিকী সাইফ। দুদকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার নওশের আলী মোল্লা।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, প্রকাশ কুমার দাস খুলনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের করোনা পরীক্ষা ইউজার ফি নেয়ার দায়িত্বে ছিলেন ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুলাই পর্যন্ত। এ সময় প্রায় ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা আদায় করেন। তার মধ্যে তিনি ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন।

আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খুলনা জেনারেল হাসপাতালের টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) প্রকাশ কুমার দাসের বিরুদ্ধে গত ১৮ নভেম্বর মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার আগে থেকেই প্রকাশ পলাতক।

আসামি প্রকাশের বাড়ি যশোরের বাঘারপাড়ায়। তবে তিনি থাকতেন মুজগুন্নি এলাকায়।

দুদক প্রকাশের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০ ধারা ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরাধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ এনেছে।

আরও পড়ুন:
গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু
গৃহবধূকে গাছে বেঁধে ‘নির্যাতনের ভিডিও’
পুলিশের স্ত্রীর হাত-মুখ বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
হাসপাতালে গৃহবধূর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী

শেয়ার করুন

নটর ডেম শিক্ষার্থীর মৃত্যু: পরিচ্ছন্নতাকর্মীর স্বীকারোক্তি

নটর ডেম শিক্ষার্থীর মৃত্যু: পরিচ্ছন্নতাকর্মীর স্বীকারোক্তি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িচাপায় নিহত নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মো. নোমানের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল খানের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িচাপায় নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের নিহতের পর এ ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল খান আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান মো. নোমানের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।

তিন দিনের রিমান্ড শেষে রাসেল খানকে সোমবার আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আনিছুর রহমান। দুর্ঘটনার সময় চালকের আসনে থাকা রাসেল খান স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

রাসেলের স্বীকারোক্তি দেয়ার তথ্য নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন আদালতে পল্টন থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. মোতালেব হোসেন।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে গুলিস্তান বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের দক্ষিণ পাশে নটর ডেম কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানকে ধাক্কা দেয় দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি ট্রাক। এ ট্রাকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো শ ১১-১২৪৪।

দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাসেল খান। পরে গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন টহল পুলিশের সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ অফিসের পূর্ব পাশ থেকে ট্রাক ও চালকের আসনে থাকা রাসেল খানকে আটক করেন।

পরে পল্টন থানায় নাঈম হাসানের বাবা শাহ আলম দেওয়ানের মামলায় রাসেলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ময়লার গাড়িচাপায় শিক্ষার্থী মৃত্যুর এ ঘটনায় বিচারের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীতে আন্দোলন করে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
সাপের কামড়ে গৃহবধূর মৃত্যু
গৃহবধূকে গাছে বেঁধে ‘নির্যাতনের ভিডিও’
পুলিশের স্ত্রীর হাত-মুখ বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
হাসপাতালে গৃহবধূর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী

শেয়ার করুন