বিমানবন্দরে ছিনতাইকারীদের টার্গেটে প্রবাসীরা

বিমানবন্দরে ছিনতাইকারীদের টার্গেটে প্রবাসীরা

ডাকাতির ঘটনায় তদন্তের বিষয়ে জানাতে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে ডিএমপি। ছবি: সংগৃহীত

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, রাজধানীর উত্তরায় বিমানবন্দরে প্রবাসীদের টার্গেট করে অর্ধশতাধিক ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণের ঘটনা ঘটলেও মামলা হয়েছে মাত্র সাতটি। স্বল্প সময়ের জন্য এসে দ্রুত বিদেশ ফিরে যাওয়ার তাড়া থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা ঝামেলা মনে করে মামলা করছেন না।

রাজধানীর বিমানবন্দরকেন্দ্রিক দুটি ডাকাতির ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তর বিভাগ।

রাজধানীর হাতিরঝিল থানাধীন মীরবাগ এলাকা থেকে শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. মাসুদুল হক আপেল, আমির হোসেন হাওলাদার ও মো. শামীম।

এ সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি পাসপোর্ট, দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র, দুটি এটিএম কার্ড, একটি আইপ্যাড, একটি ওয়ার্ক পারমিট কার্ড, একটি বিএমইটি কার্ড, একটি অফিস আইডি কার্ড, একটি স্টিলের চাকু ও নগদ ৫৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগে আয়োজিত রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

তিনি বলেন, রাজধানীর উত্তরায় বিমানবন্দরে প্রবাসীদের টার্গেট করে অর্ধশতাধিক ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণের ঘটনা ঘটলেও মামলা হয়েছে মাত্র সাতটি।

স্বল্প সময়ের জন্য এসে দ্রুত বিদেশ ফিরে যাওয়ার তাড়া থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা ঝামেলা মনে করে মামলা করছেন না বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা।

সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ আক্তার জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর মো. লিটন সরকার দীর্ঘ পাঁচ বছর পর মিশর থেকে টার্কিশ এয়ারলাইনসে করে দেশে আসেন। তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে গোলচত্বরে ফুটওভার ব্রিজের নিচে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

এ সময় অপরিচিত পাঁচ থেকে ছয়জন ধারালো চাকুর ভয় দেখিয়ে তার সঙ্গে থাকা হ্যান্ডব্যাগ ও লাগেজ নিয়ে যায়। ব্যাগে তার পাসপোর্ট, ভিসা, বিমানের টিকিট, আট আনা ওজনের সোনার চেন, দুটি মোবাইল সেট, একটি স্মার্ট কার্ড, প্রয়োজনীয় কাপড়চোপড়সহ নগদ ৪০ হাজার টাকা ছিল।

পরে ডাকাত দলের সদস্যরা তাকে ঘটনাস্থল থেকে একটি বাসে তুলে নিয়ে কাউকে কিছু না জানানোর জন্য ভয়ভীতি দেখায় ও হুমকি দেয়। এই ঘটনায় গত ১৫ অক্টোবর বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা হয়।

অন্যদিকে ৫ অক্টোবর যুক্তরাজ্য থেকে ঢাকায় নামেন ওমর শরিফ। নাটোরের বড়াইগ্রাম যাওয়ারকালে বিমানবন্দর এলাকা থেকে তিনি অপহৃত হন। এরপর তাকে ঢাকার বাইরে নামিয়ে দেয়া হলেও তার পাসপার্টসহ প্রয়োজনীয় সব মালামাল লুট করা হয়।

বিমানবন্দরে ছিনতাইকারীদের টার্গেটে প্রবাসীরা
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ছুরি, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র ও টাকা উদ্ধার করা হয়।

পৃথক ঘটনায় মামলা হলে তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগ। গোয়েন্দারা তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রের ওই তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

হাফিজ আক্তার জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ডাকাতির কার্যক্রম সম্পাদনে বিভিন্ন কৌশল অনুসরণ করে। যে প্রবাসীরা একা বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করেন, তারা তাদেরকে টার্গেট করে। টার্গেট যাত্রীদের সঙ্গে কৌশলে সখ্য গড়ে পরিস্থিতি বিবেচনায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

আবার কখনও বিমানবন্দর এলাকাতেই প্রবাসীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে চক্রের দুই-একজন সদস্য। পরে চক্রের অন্য সদস্যরা টার্গেট ব্যক্তিদের চেতনানাশক দ্রব্য মেশানো চা, কফি, জুস, ডাবের পানি খাওয়ার আমন্ত্রণ জানায়।

তাদের খাবার খেয়ে যাত্রী অচেতন হলে তার মূল্যবান মালামাল নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে চক্রের সদস্যরা। কখনও আবার যাত্রীরা জিনিসপত্র দিতে বাধা দিলে অস্ত্র দেখিয়ে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

প্রবাসীরা কী কারণে ছিনতাইকারী চক্রের টার্গেট হচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে হাফিজ আক্তার বলেন, চক্রের সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক তারা গত এক বছরেই অর্ধশতাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া যায়। চক্রের মূল হোতা মাসুদুলের বিরুদ্ধেই রয়েছে সাতটি মামলা।

তিনি আরও বলেন, ১০ থেকে ১৫ দিনের জন্য বাংলাদেশে ঘুরতে আসা প্রবাসীরাও দ্রুত পাসপোর্ট তুলে ফিরে যাচ্ছেন। এ কারণে ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা কম হচ্ছে। এ সুযোগ নিয়েই সংঘবদ্ধ চক্র বিমানবন্দরকেন্দ্রিক প্রবাসী ও বিদেশিদের টার্গেট করে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটাচ্ছে। কার ভাড়া করে তারা এ অপরাধগুলো করছে।

এক প্রশ্নের জবাবে হাফিজ আক্তার বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় বিদেশ থেকে অনেক বিদেশি ও প্রবাসী বাংলাদেশে আসছেন। এসব ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। ডিবি পুলিশ পুরো চক্রটিকে ধরার চেষ্টা করছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ওমিক্রন: কোয়ারেন্টিনে সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করার চিন্তা

ওমিক্রন: কোয়ারেন্টিনে সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করার চিন্তা

ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কোয়ারেন্টিনগুলোতে অত্যন্ত শক্ত ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিতে হবে। সশস্ত্র বাহিনীকে এর সঙ্গে যুক্ত করার কথা আলোচনা হয়েছে।’

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন রোধে আফ্রিকা মহাদেশের কোনো দেশ থেকে কেউ আসলে তাকে ১৪ দিনের কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই কোয়ারেন্টিনে সশন্ত্রবাহিনীকে যুক্ত করার কথাও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

কোভিড নিয়ন্ত্রণে আন্তমন্ত্রণালয়ের জাতীয় কমিটির বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘কোয়ারেন্টিনগুলোতে অত্যন্ত শক্ত ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিতে হবে। সশস্ত্র বাহিনীকে এর সঙ্গে যুক্ত করার কথা আলোচনা হয়েছে।’

বতসোয়ানায় প্রথম শনাক্ত হওয়া এই ভ্যারিয়েন্টের শুরুতে নাম ছিল ‘বি.১.১.৫২৯’ তবে আলোচনায় সুবিধার জন্য শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর নাম দেয় ‘ওমিক্রন’।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পাইক প্রোটিনে ৩০ বারের বেশি মিউটেশনের মধ্য দিয়ে সার্স কভ টু ভাইরাসের নতুন ধরনটি তৈরি হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই ধরনটির মিউটেশন হয়েছে ৫০ বারের বেশি।

অত্যন্ত সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়েও ওমিক্রনের মিউটেশন হয়েছে চার গুণ বেশি। ফলে এটি দ্রুত মানুষকে আক্রান্ত করতে সক্ষম বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

ওমিক্রন ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আফ্রিকা অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আর দশটা দেশের মতো বাংলাদেশও সতর্ক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অন্য কোনো দেশে সংক্রমণ বাড়লে সেখান থেকে আসাদের জন্যও ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিমের কথা বলা হয়েছে। দেশে আসাদের জন্য ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনা পরীক্ষার যে নির্দেশন আছে, সেটা ৪৮ বা ২৪ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার কথাও আমরা চিন্তা করছি।’

শেয়ার করুন

ছাত্রদের হাফ ভাড়া যেসব শর্তে

ছাত্রদের হাফ ভাড়া যেসব শর্তে

বাসে হাফ পাসের দাবিতে বেশ কিছু দিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

শর্তগুলো হলো- ঢাকার বাইরে হাফ ভাড়া নেয়া হবে না। হাফ ভাড়া দেয়ার সময় অবশ্যই শিক্ষার্থীদেরকে স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছবিযুক্ত আইডি কার্ড দেখাতে হবে। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত কার্যকর এ শর্ত। ছুটির দিন কোনো হাফ পাস নাই।

টানা আন্দোলনের মুখে ছাত্রদের বাস ভাড়া অর্ধেকের দাবি মেনে নিয়েছে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। তবে জুড়ে দিয়েছে কয়েকটি শর্ত।

শিক্ষার্থীদের জন্য বাস ভাড়া অর্ধেক করার বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন সংগঠনটির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ। জানান, হাফ ভাড়া কার্যকরের শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, ‘সবদিক আলাপ-আলোচনা করে আমরা স্থির করেছি, ছাত্রদের যে দাবি, সেই দাবির প্রতি আমরা সমর্থন জানিয়ে সেই দাবি কার্যকর করার জন্য। আগামীকালকে থেকে, ১ ডিসেম্বর থেকে ছাত্রদের বাসে হাফ ভাড়া কার্যকর করা হবে।’

এ সময় কয়েকটি শর্তের কথাও উল্লেখ করেন এনায়েত উল্যাহ। শর্তগুলো হলো:

## ঢাকার বাইরে হাফ ভাড়া নেয়া হবে না।

## হাফ ভাড়া দেয়ার সময় অবশ্যই শিক্ষার্থীদেরকে স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছবিযুক্ত আইডি কার্ড দেখাতে হবে।

## সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত হাফ ভাড়া কার্যকর থাকবে।

## সরকারি ছুটির দিন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মৌসুমি ছুটিসহ অন্যান্য ছুটির সময় ছাত্রদের হাফ ভাড়া কার্যকর হবে না।

এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘আগামীকাল ১ ডিসেম্বর থেকে ছাত্রদের হাফ ভাড়া কার্যকর হবে। সকল পরিবহন মালিকদের প্রতি এবং শ্রমিকদের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, ছাত্ররা যেন হাফ ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারে, সে ব্যাপারটি নিশ্চিত করার জন্য।

‘আমরা দীর্ঘদিন আলাপ-আলোচনা করে, বিভিন্ন সভা করে, মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম। দেশবাসীকে আমরা জানাতে চাই। আমরা হাফ ভাড়া কার্যকর ছাত্রদের জন্য করে দিলাম।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পরিবহন মালিক সমিতির এই নেতা বলেন, ‘ছাত্রদের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, এরা আমাদেরই সন্তান; কোমলমতি ছাত্ররা আমাদেরই সন্তান। তারা যেন এখন থেকে তাদের পড়ালেখায় মনোযোগ দেয়। তারা যেন স্কুল-ভার্সিটিতে ফেরত যায়। রাস্তায় এইসব আন্দোলন না করে তারা যেন ফেরত যায়, এটা তাদের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে।’

এর আগে হাফ ভাড়া কার্যকরের জন্য সরকারের কাছে প্রণোদনা চেয়েছিল মালিক সমিতি। সেই অবস্থান থেকে পরিবহন মালিকরা সরে এসেছেন কি না, এমন প্রশ্নে এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘আমরা সে দাবি এখনও করতে চাই। কেউ বিশ্বাস করুক আর না করুক ঢাকা শহরের ৮০ ভাগ বাসের মালিক গরিব। অনেক মালিক রয়েছেন যার একটিমাত্র গাড়ি রয়েছে সেই আয় দিয়ে তার সংসার চলে, তার সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চলে।

‘সে টাকা দিয়ে আবার বাসের ঋণ শোধ করে। অনেকে আবার বাসের চালক থেকে মালিক হয়েছেন। এখানে বড় কোনো বিনিয়োগ নেই। এটা দাবিটি সরকার পক্ষ থেকে বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করছি। আমরা পুরোটাই সরকারের ওপর ছেড়ে দিলাম।’

ভাড়া নিয়ে বিতর্কে বাস থেকে যাত্রীদের ফেলে দেয়া হচ্ছে, চালকের বেপরোয়া আচরণে পথচারী মারা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠছে। এসব প্রসঙ্গেও কথা বলেন এনায়েত।

তিনি বলেন, ‘সারা দেশে প্রায় ১ লাখের ওপর বাস রয়েছে সবখানেই বাসগুলো নিয়ন্ত্রিতভাবে রয়েছে, ভাড়াসহ সবকিছুই ঠিক আছে। শুধু ঢাকা শহরেই কিছুটা অনিয়ন্ত্রিত। কিছু অনিয়ম রয়েছে এগুলো নিয়মে আনার জন্য মালিক সমিতির নয়টি টিমসহ বিআরটিএ কাজ করছে। কিছু কিছু গাড়ি এখনও কন্টাকে চলে, ট্রিপ ভিত্তিতে চলে। এর পরিমাণ আগের চেয়ে কমে এসেছে। বাকিগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা কাজ করছি।’

ঢাকা শহরে পরিবহন ব্যবসা লাভজনক নয় উল্লেখ করে এনায়েত বলেন, ‘এই কারণে দিনে দিনে ঢাকায় গণপরিবহনের সংখ্যা কমছে অনেকেই আগে একটা গাড়ি কিনেছিলেন, সেটার কোনো রকমে লোন শোধ করেছেন, তাই এখন সেটা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ঢাকায় রাস্তা অনুপাতে গাড়ির সংখ্যা বেশি, কিন্তু যাত্রী অনুপাত গাড়ির সংখ্যা কম।’

বাসের বিভিন্ন সার্ভিস বন্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের বিভিন্ন সিটিং সার্ভিস, গেটলক সার্ভিস, ওয়েবিল বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত আমার একার ছিল না, সবগুলো মালিককে নিয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। এটা কার্যকর করা হবে। এসব সার্ভিস অনেকাংশে কমে এসেছে।’

শেয়ার করুন

অবৈধ সম্পদ: পাপিয়া-সুমনের বিচার শুরু

অবৈধ সম্পদ: পাপিয়া-সুমনের বিচার শুরু

শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী। ফাইল ছবি

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইনের আদালতে আসামিদের পক্ষে করা মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামি ২২ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ঠিক করেন।

নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামিমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় অভিযোগ গঠন করেছে আদালত।

এর মাধ্যমে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হলো।

সোমবার দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইনের আদালতে আসামিদের পক্ষে করা অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামি ২২ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ঠিক করেন।

২০২০ সালের ৪ আগস্ট দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ সংস্থার উপপরিচালক শাহীন আরা মমতাজ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় পাপিয়ার বিরুদ্ধে মোট ৬ কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত বছর ১২ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলের ২৫টি রুমে অবস্থান করে রুম-নাইট, রেস্টুরেন্ট (খাবার), রেস্টুরেন্ট (মদ), স্পা, লন্ড্রি, মিনি বার ফুড, মিনি বার বাবদ মোট তিন কোটি ২৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৬১ টাকার বিল ক্যাশে পরিশোধ করেন পাপিয়া।

হোটেলে থাকাকালীন সময়ে তিনি প্রায় ৪০ লাখ টাকার কেনাকাটা করেন। এসব অর্থের বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হন পাপিয়া। এভাবে মোট ৬ কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার ৭১৮ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায়।

এ আয়ের উৎসের স্বপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ না পাওয়ায় পাপিয়া এবং সুমনের বিরুদ্ধে দুদক আইনে মামলা করা হয়।

চলতি বছরের মার্চ মাসে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন শাহীন আরা মমতাজ। এরপর গত ৬ অক্টোবর ঢাকা মহানগর জেষ্ঠ্য বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশ আসামিদের উপস্থিতিতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে বদলির আদেশ দেন।

শেয়ার করুন

ওমিক্রন নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ওমিক্রন নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন ঠেকাতে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বেলা সাড়ে ১১টায় আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক শুরু হয়েছে। বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত জানাবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন ঠেকাতে করণীয় ঠিক করতে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে বসেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বেলা সাড়ে ১১টায় এ বৈঠক শুরু হয়।

সভা শেষে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানায় প্রথম করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হয়। খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এ ধরনটি নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ সাউথ আফ্রিকাসহ আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়।

বাংলাদেশও সাউথ আফ্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করার কথা জানায়।

আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন আগের ডেল্টার চেয়ে অধিক সংক্রামক বলে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন। এর বিস্তার রোধে রোববার সামাজিক, রাজনৈতিকসহ সব ধরনের জনসমাগম নিরুৎসাহিত করতে সরকার ১৫ দফা নির্দেশনা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ডিজিজ কন্ট্রোল) প্রফেসর ডা. নাজমুল ইসলামের সই করা এক নোটিশে এসব নির্দেশনা দেয়া হয়।

তার আগে শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ওমিক্রন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরকারি সফর বাতিল করে মাঝপথ থেকে ঢাকায় ফেরেন।

শেয়ার করুন

বাসে বুধবার থেকে শিক্ষার্থীদের ভাড়া অর্ধেক

বাসে বুধবার থেকে শিক্ষার্থীদের ভাড়া অর্ধেক

বাসে অর্ধেক ভাড়ার দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

মালিক সমিতি থেকে জানানো হয়েছে, ১ ডিসেম্বর থেকে হাফ ভাড়া কার্যকর হবে। হাফ ভাড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের ছবিসহ আইডি কার্ড দেখাতে হবে। তবে ছুটির দিনগুলোতে হাফ ভাড়া কার্যকর করা হবে না।

শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার দাবি মেনে নিয়েছে বাস মালিক সমিতি। তবে তারা বলেছে, এ সিদ্ধান্ত কেবল কার্যকর হবে ঢাকা মহানগর এলাকায়।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

বাস মালিক সমিতির এই সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১ ডিসেম্বর থেকে হাফ ভাড়া কার্যকর হবে। হাফ ভাড়া দেয়ার সময় আইডি কার্ড দেখাতে হবে। ছুটির দিনে হাফ ভাড়া কার্যকর হবে না। হাফ ভাড়া শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ অন্যান্য জেলার জন্য নয়।

আরও বলা হয়, সকাল ৭ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হাফ ভাড়া দিতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। এই সময়ের পর বাসে উঠলে পুরো ভাড়া দিতে হবে।

সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর পরই বাড়ে বাস ভাড়াও। বাসের মালিকরা তুলে দেয়, শিক্ষার্থীদের হাফ পাস।

এরপর থেকেই বাসে হাফ ভাড়ার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশনের একটি ময়লার গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের এক শিক্ষার্থীর নিহতের পর এ দাবি আরও জোরাল হয়।

এর মধ্যে সোমবার রাতে রাজধানীর রামপুরায় অনাবিল পরিবহনের চাপায় নিহত হন এসএসসি পরীক্ষা দেয়া এক শিক্ষার্থী। এই ঘটনায় রাতেই আটটি বাসে আগুন এবং চারটি বাস ভাঙচুর করা হয়।

বাসে বুধবার থেকে শিক্ষার্থীদের ভাড়া অর্ধেক

যা বলল মালিক সমিতি

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘গতকালকে (সোমবার) রাত্রের ঘটনায় মাঈনুদ্দিন দুর্জয় নামের আমাদের যে ছাত্রটা মারা গেলেন, দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা গেলেন, তার জন্য আন্তরিকভাবে আমরা দুঃখ প্রকাশ করতেছি।

‘তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করে এবং এই ঘটনায় যারা জড়িত, প্রকৃতি দোষী যারা তাদেরকে তদন্ত সাপেক্ষে যেন সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হয়, সেটা আমরা আমাদের সংগঠন থেকে বলতে চাই।’

হাফ বাস ভাড়া কার্যকর নিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে বাস ভাড়ার ছাত্রদের যে দাবি ছিল, অর্ধেক বাস ভাড়া নেয়ার ব্যাপারে দীর্ঘদিন যাবত যে আন্দোলন ছিল, সে আন্দোলনের ব্যাপারে, সে দাবির ব্যাপারে আজকে আমাদের পক্ষ থেকে আমরা সুস্পষ্ট ঘোষণা দেবো। আপনারা জানেন এই বিষয়টি নিয়ে কিন্তু আমরা বসে নাই।

‘ছাত্রদের যে দাবি ছিল, সেটাকে কী করা যায়, সে নিয়ে আমরা দফায় দফায় গত কয়েক দিন যাবত আমরা সভা করেছি। বিআরটিএর সঙ্গেও আমরা দুইটা সভায় মিলিত হয়েছি এবং আমাদের শ্রমিক-মালিকদের নিয়ে আমরা দফায় দফায় সভা করেছি।’

সোমবারের সভা নিয়ে এনায়েত বলেন, ‘সর্বশেষ গতকালকে ২৯ নভেম্বর আমরা ঢাকার ১২০টি পরিবহন কোম্পানির এমডি-চেয়ারম্যান এবং ঢাকাস্থ পাঁচটি শ্রমিক ইউনিয়ন, তাদের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি এবং ফেডারেশনের সেক্রেটারিসহ আমরা গতকালকে এ কক্ষে দীর্ঘক্ষণ যাবত আমরা সভা করেছি।

‘সবদিক আলাপ-আলোচনা করে আমরা স্থির করেছি, ছাত্রদের যে দাবি, সেই দাবির প্রতি আমরা সমর্থন জানিয়ে সেই দাবি কার্যকর করার জন্য। আগামীকালকে থেকে, ১ ডিসেম্বর থেকে ছাত্রদের বাসে হাফ ভাড়া কার্যকর করা হবে।’

বাস মালিক সমিতির এই নেতা বলেন, ‘সে জন্য সকল পরিবহন মালিকদের প্রতি এবং শ্রমিকদের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, ছাত্ররা যেন হাফ ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারে, সে ব্যাপারটি নিশ্চিত করার জন্য।’

হাফ ভাড়ায় শর্ত

সংবাদ সম্মেলনে হাফ ভাড়া কার্যকরের ক্ষেত্রে শর্ত তুলে ধরেন পরিবহন মালিক সমিতির নেতা এনায়েত উল্যাহ।

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কয়েকটি ব্যাপার, কিছু কিছু ঘটনা এ বিষয়ে, যেটা মানা প্রয়োজন এবং আমাদের মিটিংয়েও আমরা যেটা নিয়ে আলোচনা করেছি, সেটা হলো হাফ ভাড়া প্রদানের সময় স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছবিযুক্ত আইডি কার্ড প্রদর্শন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সেকেন্ড, সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত হাফ ভাড়া কার্যকর থাকবে। তার পরে সরকারি ছুটির দিন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মৌসুমি ছুটিসহ অন্যান্য ছুটির সময় ছাত্রদের হাফ ভাড়া কার্যকর হবে না।

‘দ্যাট মিনস, ছুটির সময়, যখন স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটি ছুটি থাকবে, গর্ভমেন্টে যে ছুটিগুলো থাকবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে ছুটিগুলো থাকে, সাপ্তাহিক শুক্রবার ছুটি থাকে, এই ছুটির দিনে হাফ ভাড়া কার্যকর হবে না এবং এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ঢাকা শহরের জন্য।’ ‘ঢাকার বাহিরে কোনোভাবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর নয়। ছাত্রদের হাফ ভাড়ার বিষয়টা ‍শুধু ঢাকার মধ্যে সিদ্ধান্ত’, যোগ করেন এনায়েত।

সংবাদকর্মী প্রতি আহ্বান, শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ

সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব বলেন, ‘আমি মনে করি, আজকে হাফ ভাড়ার ব্যাপারে আমরা দীর্ঘদিন আলাপ-আলোচনা করে, বিভিন্ন সভা করে, মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম, যেটা আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে আমরা জানাতে চাই। আমরা হাফ ভাড়া কার্যকর ছাত্রদের জন্য করে দিলাম।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ছাত্রদের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, এরা আমাদেরই সন্তান; কোমলমতি ছাত্ররা আমাদেরই সন্তান। তারা যেন এখন থেকে তাদের পড়ালেখায় মনোযোগ দেয়। তারা যেন স্কুল-ভার্সিটিতে ফেরত যায়। রাস্তায় এইসব আন্দোলন না করে তারা যেন ফেরত যায়, এটা তাদের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে। ধন্যবাদ আপনাদেরকে।’

শেয়ার করুন

১২০০ টাকা দুর্নীতি মামলায় ৪৫ বছর পর নির্দোষ

১২০০ টাকা দুর্নীতি মামলায় ৪৫ বছর পর নির্দোষ

রমজান আলী ছিলেন রংপুর সাব ডিভিশনের কৃষি কর্মকর্তা। ছবি: নিউজবাংলা

রমজান আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুটি টিএ বিলে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ এনে আমার বিরুদ্ধে মামলা করে ট্রেজারি কর্মকর্তা। পরে আদালত আমাকে কারাদণ্ড দেয়। আমি তৎকালীন রংপুর হাইকোর্টের যে শাখা ছিল, সেখানে আপিল দায়ের করি, সেখান থেকে জামিন পাই। এরপর দীর্ঘ দিনেও আপিল শুনানি হয়নি। পরে আমার আইনজীবী জানিয়েছিল মামলাটি শেষ হয়ে গেছে। এরপর আর খোঁজ রাখিনি।’

১২ শ ৯০ টাকার দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ ৪৫ বছর পর দেশের সর্বোচ্চ আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের রমজান আলী। রংপুরের সাব ডিভিশনের কৃষি কর্মকর্তা থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছিল।

বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি সোহরাওয়ার্দীর হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ে তাকে শুধু খালাসই দেয়নি, ঘটনাটিকে মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছে। গত ২৪ নভেম্বর রায় হলেও তা জানা যায় সোমবার বিকেলে।

আদালতে রমজান আলীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল হাই সরকার টুকু। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন আসিফ হাসান।

মামলা থেকে জানা যায়, স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ১ হাজার ২৯০ টাকা দুর্নীতির অভিযোগে তৎকালীন রংপুর সাব ডিভিশনের কৃষি কর্মকর্তা রমজান আলীর বিরুদ্ধে ১৯৭৭ সালে একটি মামলা হয়। মামলায় দুটি টিএ বিলের মাধ্যমে ৫১৬ টাকা ৬৮ পয়সা, ৭৭৩ টাকা ৮২ পয়সা দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়।

মামলায় তখনকার রাজশাহীর বিশেষ আদালত ১৯৮৮ সালে দুর্নীতি দমন আইনে দোষী ঘোষণা করে রমজানকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেয়। পাশাপাশি ৩০০ টাকা জরিমানা করে।

এরপর এ রায়ের বিরুদ্ধে রমজান আলী তৎকালীন রংপুর হাইকোর্টে আপিল করেন। এরপর দীর্ঘ ৩৩ বছর আপিল বিভাগে মামলাটি শুনানির জন্য আসে। আপিল বিভাগ তাকে নির্দোষ ঘোষণা করেন।

রমজান আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুটি টিএ বিলে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ এনে আমার বিরুদ্ধে মামলা করে ট্রেজারি কর্মকর্তা। পরে আদালত আমাকে কারাদণ্ড দেয়। আমি তৎকালীন রংপুর হাইকোর্টের যে শাখা ছিল, সেখানে আপিল দায়ের করি, সেখান থেকে জামিন পাই। এরপর দীর্ঘ দিনেও আপিল শুনানি হয়নি। পরে আমার আইনজীবী জানিয়েছিল মামলাটি শেষ হয়ে গেছে। এরপর আর খোঁজ রাখিনি।’

‘হঠাৎ করে মাস দেড়েক আগে দুর্নীতি দমন কমিশন আমার খোঁজ করে। তারা আমাকে জানায় আদালত জানতে চেয়েছে আমি জীবিত আছি কি না। তখন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি সার্টিফিকেট নিয়ে তারা আদালতে দাখিল করে বলে আমি জীবিত। বিষয়টি জেনে আমিও ঢাকায় লোক পাঠিয়ে উকিল ঠিক করলাম। পরে সেই উকিল আমার পক্ষে শুনানি করেছেন। আদালত রায় দিয়ে আমাকে খালাস দিয়েছেন।’

রমজান আলী আরও বলেন, ‘এ রায়ে আমি খুশি, কিন্তু যে মামলার কারণে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে আমার চাকরি সংক্রান্ত সুযোগ সুবিধা না পেলে একটি ক্ষতিপূরণ মামলা করব।’

সাবেক এই কৃষি কর্মকর্তা জানান, মামলা হওয়ার পর ১৯৮১ সালে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর থেকে তিনি সে অবস্থাতেই আছেন।

রমজানের পক্ষের আইনজীবী আব্দুল হাই সরকার টুকু বলেন, ‘এ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা করা হয়নি। এ ছাড়া, যে দুটি বিল জব্দ করা হয়েছিল তারও কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়নি। আমরা আদালতে বিষয়গুলো তুলে ধরেছি আদালত সব কিছু দেখে তাকে নির্দোষ বলে রায় দিয়েছেন। এ রায়ের ফলে তার অবসরের বয়স না হলে তিনি চাকরি ফেরত পাবেন।’

শেয়ার করুন

নৌকা ডোবালেন ২৭২ আওয়ামী লীগ নেতা

নৌকা ডোবালেন ২৭২ আওয়ামী লীগ নেতা

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোলার একটি কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি। ছবি: নিউজবাংলা

রোববারের ভোটের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের সবচেয়ে বেশি ধরাশায়ী করেছেন খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের আওয়ামী লীগ নেতারা। সেখানে আওয়ামী লীগের যতজন জিতেছেন, তার প্রায় কাছাকাছি পর্যায়ে জয় পেয়েছেন মনোনয়ন না পাওয়া বিদ্রোহী নেতারা। আওয়ামী লীগের শক্তিশালী অবস্থান থাকা ঢাকা ও রংপুর বিভাগেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদ্রোহী নেতা হারিয়ে দিয়েছেন নৌকার প্রার্থীদের। অন্যদিকে রাজশাহী বিভাগে বিদ্রোহী প্রার্থীরা তুলনামূলক কম ভালো করেছেন।

রোববারের ভোটে সারা দেশে যেসব ইউনিয়নে ভোট হয়েছে, এর মধ্যে কয়েকটিতে ফলাফল স্থগিত আছে। বাকিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৩৯টি ইউনিয়নে জয় পেয়েছে নৌকা মার্কা নিয়ে লড়া আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭২টি ইউনিয়নে জয় পেয়েছেন দলের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হিসেবে লড়াই করা প্রার্থীরা।

এর আগের দুই ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও নৌকা ডুবিয়েছেন কয়েক শ আওয়ামী লীগ নেতা। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে বহিষ্কারের পদক্ষেপ, ভবিষ্যতে আর কখনও মনোনয়ন না দেয়ার সতর্কতার পরেও বিদ্রোহী নেতারা সেসব গা করেননি। বরং প্রায় ৩০০ এলাকায় তাদের জয় এটা নির্দেশ করছে যে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন আসলে ভুল মানুষের হাতে উঠেছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য আব্দুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দল থেকে যাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তাদের বিচার-বিবেচনা করেই মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। আমরা মনে করি, তাদের জয়ে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। জনগণের অংশগ্রহণে যে নির্বাচন হয়েছে এটা নির্বাচনের সৌন্দর্য।’

বিজয়ী বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে আগের সিদ্ধান্তেই অটল থাকবে আওয়ামী লীগ বলে জানান দলের এই নেতা। বলেন, ‘তাদের জন্য আগের চেয়ে কঠোর সিদ্ধান্তও আসতে পারে।’

জাতীয় নির্বাচনের দুই বছর বাকি থাকতে স্থানীয় সরকারের মনোনয়ন নিয়ে দলের মধ্যে তৃণমূলে যে বিভাজন তৈরি হয়েছে, তা আগামী নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না- এমন প্রশ্নে আবদুর রহমান বলেন, ‘এটা আমরা মনে করি না। কারণ একজন প্রার্থী স্থানীয় নির্বাচনে দলের বিরুদ্ধে গেলেও তিনি একজন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। তাই জাতীয় নির্বাচনে তিনি ঠিক দলের বিরুদ্ধে যাবেন না।’

রোববারের ভোটের ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের সবচেয়ে বেশি ধরাশায়ী করেছেন খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের আওয়ামী লীগ নেতারা। সেখানে আওয়ামী লীগের যতজন জিতেছেন, তার প্রায় কাছাকাছি পর্যায়ে জয় পেয়েছেন মনোনয়ন না পাওয়া বিদ্রোহী নেতারা।

আওয়ামী লীগের শক্তিশালী অবস্থান থাকা ঢাকা ও রংপুর বিভাগেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদ্রোহী নেতা হারিয়ে দিয়েছেন নৌকার প্রার্থীদের। অন্যদিকে রাজশাহী বিভাগে বিদ্রোহী প্রার্থীরা তুলনামূলক বিচারে কম ভালো করেছেন।

নৌকা ডোবালেন ২৭২ আওয়ামী লীগ নেতা

নৌকা-বিদ্রোহী সমানে সমান

খুলনা বিভাগে নৌকা নিয়ে ৬০ জন নেতার জয়ের মধ্যে ৫৮ জনই জিতে গেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিদ্রোহী নেতারা।

এই বিভাগের ১০ জেলার মধ্যে ভোট হয়েছে ৯টিতে। এর মধ্যে চার জেলাতেই বিদ্রোহীরা জিতেছেন দলের প্রার্থীর চেয়ে বেশি। একটিতে ‘দুই পক্ষের’ আসন সমান সমান।

এর মধ্যে নড়াইলে নৌকা নিয়ে জিতেছেন কেবল দুজন। অপরপক্ষে দলের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহীরা জিতেছেন ১০টিতে।

খুলনার রূপসা ও তেরোখাদা উপজেলার মধ্যে ভোট হয়েছে ৭টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে নৌকা নিয়ে জিতেছেন ৫ নেতা। দুজন নৌকা না পেয়ে প্রার্থী হয়ে জিতেছেন।

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ এবং দেবহাটা উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ১৭টি ইউনিয়নে।

এর মধ্যে নৌকা জিতেছে মোট ৬টিতে, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী জিতেছেন ৫টিতে।

এই বিভাগের বাগেরহাটে তৃতীয় দফায় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়নি।

যশোরের তিন উপজেলা শার্শা, বাঘারপাড়া ও মনিরামপুরের ৩৫টি ইউনিয়নের ২১টিতে জিতেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা। বাকিগুলোর মধ্যে ১১টিতে জিতেছেন আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ভোট হয়েছে মোট ১৪টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা জিতেছেন ৪টিতে। ৯টিতে জিতেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

মেহেরপুর সদর ও গাংনী মিলিয়ে ভোট হয়েছে ৬টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে নৌকা জয় পেয়েছে তিনটিতে। তিনটিতে জিতেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ভোট হয়। এদের মধ্যে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ৫ জন। বাকি ৮ স্বতন্ত্র প্রার্থী জিতেছেন। এদের মধ্যে ৭ জনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী।

মাগুরার মহম্মদপুর ও শালিখা উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ১৫ ইউনিয়নে। এর মধ্যে নৌকা জয় পেয়েছে মোট ৯টিতে। পাঁচটিতে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

নৌকা ডোবালেন ২৭২ আওয়ামী লীগ নেতা

নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে নৌকা নিয়ে জয় পেয়েছেন দুজন। বাকি ১০ জনের সবাই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হিসেবে ভোটে লড়েছেন।

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জের ১৬ ইউনিয়নের মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আগেই নির্বাচিত হন তিনজন। রোববারের ভোটে জেতেন ৫ জন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে জিতেছেন ৬ জন।

একই বিষয় দেখা গেছে ময়মনসিংহ বিভাগে। এই বিভাগে নৌকা নিয়ে ৩৮ জন পাস করেছেন। অন্যদিকে নৌকা না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে জিতেছেন ৩২ নেতা।

এই বিভাগের চার জেলার মধ্যে নেত্রকোণায় নৌকার প্রার্থীর চেয়ে বেশি জিতেছেন বিদ্রোহীরা। ময়মনসিংহ জেলায় দুই পক্ষের অবস্থান প্রায় সমান সমান।

ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল ও মুক্তাগাছা মিলিয়ে ভোট হয়েছে মোট ২৭টি ইউনিয়নে। এসব ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টিতে জিতেছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা। ১১টিতে জিতেছেন বিদ্রোহীরা।

নেত্রকোণায় ভোট হয়েছে কলমাকান্দা, দুর্গাপুর ও পূর্বধলা উপজেলার ২৪টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে ৮টিতে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। ১৩টিতে নৌকাকে হারিয়ে জিতেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

শেরপুরের নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ২১টি ইউনিয়নে।

এর মধ্যে নকলায় ৯ ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে নৌকা, ৪ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী, নালিতাবাড়ীর ১২ ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিতে আওয়ামী লীগের নৌকা জিতেছে। বাকি ৭টির দুটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জিতেছেন।

সব মিলিয়ে এই জেলায় নৌকা জিতেছে মোট ৯টি, ৬টিতে জিতেছেন বিদ্রোহী নেতারা।

জামালপুর সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টিতে আওয়ামী লীগ জয় পেয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। বাকি ১০টির মধ্যে রোববার ৭টিতে নৌকা জিতেছে। একটিতে ফলাফল স্থগিত। দুটিতে জিতেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নেতারা।

রংপুর বিভাগে নৌকা জিতেছে মোট ৫৯টি ইউনিয়নে। আর বিদ্রোহীরা জিতেছেন ৪৩টিতে। এর মধ্যে দিনাজপুরে নৌকা নিয়ে যতজন জিতেছেন, দলীয় প্রতীক না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে জিতেছেন তার চেয়ে বেশি।

এর মধ্যে রংপুরের সদর, কাউনিয়া ও তারাগঞ্জ উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ১৩ ইউনিয়নে। এর মধ্যে সদরের দুই ইউনিয়নেই জিতেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নেতারা।

কাউনিয়ায় নৌকা জিতেছে তিনটি ইউনিয়নে। নৌকা না পেয়ে বিদ্রোহী নেতারাও জয় পেয়েছেন তিনটিতে।

তারাগঞ্জ উপজেলায় নৌকা জিতেছে একটিতে, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জিতেছেন দুটিতে।

সব মিলিয়ে এই জেলায় নৌকা জিতেছে চারটিতে, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা জিতেছেন সাতটিতে।

কুড়িগ্রামের ৩টি উপজেলার ২৭টি ইউনিয়নের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয় পেয়েছে ১০টি ইউনিয়নে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহ করা নেতারা জয় পেয়েছেন ৪টিতে।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও পলাশবাড়ী উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ১৯টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে নৌকা জিতেছে ৪টিতে। দলের বিদ্রোহীরা জিতেছেন তিনটিতে।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ১৬টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে নৌকা জয় পেয়েছে ৭টিতে। বাকিগুলোর মধ্যে একটিতে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নেতা।

লালমনিরহাট সদর ও কালিগঞ্জ উপজেলার মোট ১৭টি ইউনিয়নে হয়েছে ভোট। এর মধ্যে নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ৭ ইউনিয়নে। দলের বিদ্রোহী নেতারা জয় পেয়েছেন ৪টিতে।

পঞ্চগড় সদর ও আটোয়ারী উপজেলার মোট ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জিতেছেন ছয়টি ইউনিয়নে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহীরা জিতেছেন তিনটিতে।

দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী, বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ ইউনিয়নে ভোট হয়েছে মোট ২৩টি ইউনিয়নে।

এর মধ্যে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক জিতেছে সাতটিতে। ১৪টিতে জিতেছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী নেতারা।

ঠাকুরগাওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও পীরগঞ্জ উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে নৌকা জিতেছে ১৪টিতে। একটিতে জিতেছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়েও ভোটে লড়া এক নেতা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম বিভাগের যে চিত্র

ঢাকা বিভাগে নৌকা নিয়ে ৫৯ জনের জয়ের বিপরীতে দলের বিদ্রোহী নেতারা জয় পেয়েছেন ৩৮টি ইউনিয়নে। এই বিভাগের দুই জেলা মাদারীপুর ও শরীয়তপুরে ভোট হয়েছে দলীয় প্রতীক ছাড়া।

ঢাকা বিভাগের দুই জেলা গাজীপুর ও ফরিদপুরে নৌকা নিয়ে জিতেছেন যথাক্রমে এক ও দুজন। বিপরীতে দলের বিদ্রোহীরা জিতেছেন যথাক্রমে ৬ ও ১২ জন।

ঢাকা বিভাগের মধ্যে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে নৌকা জিতেছে কেবল একটিতে। বাকি ৬টিতে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৪ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৬ প্রার্থী জয় পেয়েছেন। তাদের মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চারজন।

সোমবার ভোট হয় চারটিতে। এর মধ্যে দুটিতে জিতেছেন নৌকার প্রার্থী, একটিতে জাতীয় পার্টি এবং একটিতে কোনো দল না করা নেতা জিতেছেন।

মুন্সিগঞ্জ সদর ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ২১টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে নৌকা জিতেছে ১১টিতে। এই জেলায় কোনো বিদ্রোহী নেতা জেতেননি।

নরসিংদী সদর ও রায়পুরার মোট ২২টি ইউনিয়নে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে নৌকা জিতেছে ১৪টি ইউনিয়নে। ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা জিতেছেন ৭টি ইউনিয়নে।

টাঙ্গাইলের নাগরপুর, মধুপুর ও কালিহাতী উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ২৪টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জিতেছেন মোট ১৬টিতে। দলের মনোনয়ন না পাওয়া বিদ্রোহী নেতারা জিতেছেন চারটি ইউনিয়নে।

কিশোরগঞ্জ জেলার তিন উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ২৩টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে কুলিয়ারচর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের সবকটিতে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীরা জিতেছেন।

নিকলী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা আর একটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জিতেছেন।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে জিতেছেন আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার প্রার্থীরা, ৫টিতে জিতেছেন দলের মনোনয়ন না পাওয়া বিদ্রোহীরা।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ১০টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জিতেছেন মোট আটটিতে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করা নেতারা জিতেছেন দুটিতে।

রাজবাড়ীর কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলায় ভোট হয় মোট ১৪টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে ৯টিতে জিতেছেন নৌকা মার্কার প্রার্থীরা। পাঁচটিতে জিতেছেন নৌকা না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করা নেতারা।

ফরিদপুরের জেলার ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসনের মোট ১৫টি ইউনিয়নে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগ জিতেছে একটিতে। নৌকা না পেয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা জিতেছেন ১২টিতে।

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩টিতে জিতেছে আওয়ামী লীগের নৌকা। একটিতে জিতেছেন দলের মনোনয়ন না পেয়ে লড়াই করা ক্ষমতাসীন দলের নেতা। দুটিতে জিতেছেন কোনো দলীয় রাজনীতি না করা স্বতন্ত্র প্রার্থী।

মাদারীপুর সদর উপ‌জেলার ১৪টি ইউপিতে স্বতন্ত্র সবাই বিজয়ী হ‌য়ে‌ছেন। এই উপ‌জেলায় আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় ম‌নোনয়ন দেয়া হয়‌নি। সেখানে আওয়ামী লীগ পদটি উন্মুক্ত করে দিয়েছে।

শরীয়তপুরের সোগাইরহাট উপজেলার ৭টি উপজেলায় ভোট হয়েছে। এখানে আওয়ামী লীগ কোনো দলীয় প্রার্থী দেয়নি। যারা জিতেছেন সবাই ক্ষমতাসীন দলেরই নেতা এবং তারা স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করেছেন।

চট্টগ্রামের দুই উপজেলা হাটহাজারী ও রাঙ্গুনিয়ায় ভোট হয়েছে মোট ২৬ উপজেলায়। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ১০ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। রোববার ভোট হয়েছে ১৬টিতে। এর মধ্যে নৌকা নিয়ে জিতেছেন ১১ জন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী জিতেছেন ৪টিতে।

রাঙামা‌টির কাউখালী, কাপ্তাই ও রাজস্থলী উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নৌকা প্রতীক নিয়ে জয় পেয়েছেন মোট ৭টিতে। এদের মধ্যে তিনজন নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। রোববার ভোট হয় মোট ৫টিতে। এর মধ্যে নৌকা জিতেছে ৪টিতে। ১টিতে জেতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়া বিদ্রোহী প্রার্থী।

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি ও দীঘিনালার ৭টি ইউনিয়নে ভোট হয় রোববার। এর মধ্যে দুটিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। তিনটির ফলাফল স্থগিত। দুটিতে জয় পেয়েছে জনসংহতি সমিতির নেতারা।

বান্দরবানের রুমা ও আলীকদমের ৮ ইউনিয়নের মধ্যে নৌকা জিতেছে ৫ ইউনিয়নে। ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী নেতারা জিতেছেন দুটিতে এবং বিএনপির স্থানীয় নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী পরিচয়ে জিতেছেন একটিতে।

কক্সবাজারের চকোরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় ভোট হয়েছে মোট ১৬ ইউনিয়নে। এর মধ্যে নৌকা জিতেছে ৬টিতে, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা জিতেছেন ৫টিতে।

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে একটিতে আওয়ামী লীগের এক নেতা জয় পেয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। বাকি ৪টির মধ্যে দুটি পেয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী, দুটি পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়া বিএনপি নেতা।

ফেনীর পরশুরাম ও ছাগলনাইয়ায় ভোট হয়েছে মোট ৮টি ইউনিয়নে। এর সবগুলোতেই জয় পেয়েছেন নৌকা মার্কার প্রার্থীরা।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ ও রায়পুর উপজেলার ২০ ইউনিয়নের মধ্যে ১৪টিতে জিতেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। বাকি ছয়জন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। এদের মধ্যে তিনজন আগেই নির্বাচিত হয়েছিলেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। রোববার ভোট হয়েছে বাকি ১৭টিতে।

কুমিল্লার দাউদকান্দি, বরুড়া ও হোমনা উপজেলার ৩০টি ইউনিয়নে রোববার ভোট হয়।

এর মধ্যে ১৫ ইউনিয়নে জয় পেয়েছে নৌকা আর ১১ ইউনিয়নে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়া বিদ্রোহী নেতারা।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও দক্ষিণে ভোট হয়েছে মোট ১৮ ইউনিয়নে। এর মধ্যে একটিতে ফলাফল স্থগিত আছে। বাকি ১৭টির মধ্যে নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা জিতেছেন ১০টি ইউনিয়নে। নৌকা না পেয়ে বিদ্রোহীরা জিতেছেন ৬ ইউনিয়নে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল, নবীনগর ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ৩২ ইউনিয়নে ভোট হয়। ৮ প্রার্থী আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যান। রোববার ভোট হয় বাকি ২৪টিতে। এর মধ্যে নৌকা জেতে ৯টিতে। ১১টিতে জয় পান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়া বিদ্রোহী নেতারা।

অন্য তিন বিভাগের চিত্র

বাকি তিন বিভাগ রাজশাহী, সিলেট ও বরিশালেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদ্রোহী প্রার্থী জিতেছেন। তবে অন্য পাঁচ বিভাগের মতো সংখ্যাটি এত বেশি নয়।

রাজশাহীর পবা ও মোহনপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ১০টিতে আওয়ামী লীগ, দুটিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নেতারা জিতেছেন।

একটি ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় ১১ ইউনিয়নের মধ্যে ৬টিতে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। বাকি ৫টির একটিতে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী নেতা জিতেছেন।

চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী থাকায় দুটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ভোট অনুষ্ঠিত হয়নি। ওই দুই ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

নওগাঁর মান্দা ও বদলগাছি উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে ভোট হয়েছে।

এর মধ্যে মান্দায় ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে তিনজন জিতেছেন। সেখানে নৌকা না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করা আওয়ামী লীগের নেতারা জিতেছেন ৪ ইউনিয়নে।

বদলগাছী উপজেলার আটটির মধ্যে নৌকা জিতেছে ৫টিতে। বাকি তিনটির মধ্যে দুটিতে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতারা। একজন কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

নাটোরের লালপুর এবং বাগাতিপাড়া উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে নৌকা প্রতীকে ৫টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জিতেছেন।

নৌকার চেয়ে বেশি জিতেছেন স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করা আওয়ামী লীগ নেতারা। তারা জয় পেয়েছেন মোট ৬টি ইউনিয়নে।

পাবনার ঈশ্বরদী, চাটমোহর, সাঁথিয়া এই তিন উপজেলার ২৭টি ইউনিয়ন ও বেড়া পৌরসভায় নির্বাচন হয়েছে। বেড়া পৌরসভাসহ ২০টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক ও ৭টি ইউনিয়নে জিতেছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করা নেতারা।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও বেলকুচি উপজেলার ১৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১৬টিতে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা জিতেছেন।

এদের মধ্যে ২ জন জিতেছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। রোববার ভোট হয়েছে বাকি ১৭টিতে। এর মধ্যে ১৪টিতে জয় পান নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা। ৩টিতে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়া বিদ্রোহী নেতারা।

বগুড়ায় ভোট হয়েছে মোট ২৭টি ইউনিয়নে। এর মধ্যে নৌকা নিয়ে জিতেছেন আওয়ামী লীগের ১২ নেতা, ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহ করা নেতারা জিতেছেন চারটি ইউনিয়নে।

জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের প্রতিটিতেই জিতেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এর মধ্যে একটিতে জয় এসেছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। রোববার ভোট হয় বাকি চারটিতে।

সিলেট বিভাগে সিলেট জেলার ১৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টিতে আওয়ামী লীগ, ৩টিতে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।

সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জে ভোট হয়েছে।

সদর উপজেলার ৯ ইউনিয়নের একটিতেও জয় পায়নি নৌকা মার্কা। তবে দলের বিদ্রোহী নেতারা জয় পেয়েছেন দুটি ইউনিয়নে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৮ ইউনিয়নের মধ্যে নৌকা জিতেছে দুটিতে। নৌকা না পেয়ে বিদ্রোহী নেতারা জিতেছেন তিনটিতে।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলার ২৩টি ইউনিয়নের মধ্যে নৌকা নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জিতেছেন ১২টিতে। দলের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহীরা জিতেছেন মোট ৭টিতে।

হবিগঞ্জের ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে আটটিতে নৌকা প্রতীক জয় পেয়েছে। ছয়টিতে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা।

বরিশাল বিভাগে নৌকা জিতেছে ১১টিতে, বিদ্রোহীরা ৬টিতে।

এর মধ্যে রিশালের পাঁচটি ইউ‌নিয়‌নে চেয়ারম্যান প‌দে উ‌জিরপু‌রের বামরাইল ও মুলাদীর বাটামারায় আওয়ামী লী‌গের দুজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন।

রোববার উ‌জিরপুরের হারতা ও বাবু‌গঞ্জের রহমতপু‌রে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জেতেন। উজিরপুরের গুঠিয়ায় জেতেন দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী। সেখানে নৌকার প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

পি‌রোজপুরের দুটি ইউনিয়নেই জিতেছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপ‌জেলার ছয়টি ইউ‌নিয়‌নের মধ্যে চার‌টি‌তে নৌকা ও দুটি‌তে স্বতন্ত্র হিসেবে আওয়ামী লী‌গের বি‌দ্রোহী প্রার্থীরা জিতেছেন।

বরগুনার পাথরঘাটায় চার‌টি ইউ‌নিয়‌নের মধ্যে একটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জেতেন আওয়ামী লী‌গের প্রার্থী। বা‌কি তিন‌টি‌তেও জেতেন নৌকা মার্কার প্রার্থীরা।

ভোলার চরফ্যাশন উপ‌জেলার সাত‌টি ইউ‌নিয়‌নের মধ্যে পাঁচটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জেতেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

বা‌কি দুটির ম‌ধ্যে এক‌টি‌তে আওয়ামী লী‌গের প্রার্থী এবং অপর‌টি‌তে আওয়ামী লী‌গের বি‌দ্রোহী প্রার্থী জয়লাভ ক‌রেন। ‌

প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন নিউজবাংলার জেলা প্রতিনিধিরা

শেয়ার করুন