ঢাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মামলায় আসামি ৪ হাজার

player
ঢাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মামলায় আসামি ৪ হাজার

বায়তুল মোকাররম থেকে বের হয়ে স্লোগান দেয়া মুসল্লিদের সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) ফারুক হোসেন রোববার জানান, তিন মামলায় নাম উল্লেখ করা ও অজ্ঞাতনামা চার হাজারের বেশি আসামির মধ্যে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে রাজধানীর নাইটিঙ্গেল মোড়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় পল্টন, রমনা ও চকবাজার থানায় তিন মামলা হয়েছে।

এসব মামলায় নাম উল্লেখ করা ও অজ্ঞাতনামা চার হাজারের বেশি আসামির মধ্যে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (মিডিয়া) ফারুক হোসেন রোববার এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, চকবাজার থানায় অজ্ঞাতনামা ৩৫ থেকে ৪০ জনকে আসামি করে মামলা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রমনা থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ ১ হাজার ৪০০ থেকে দেড় হাজার জনকে আসামি করে মামলা হয়। এজাহারভুক্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পল্টন থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ২ থেকে আড়াই হাজার ব্যক্তির নামে মামলা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় ৬ জনকে।

ফারুক হোসেন বলেন, পুলিশের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত বাকিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গত শুক্রবার বেলা ১টা ২৫ মিনিটে মসজিদের উত্তর পাশের একটি গেট বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয় পুলিশ। ওই সময় একজন নিরাপত্তারক্ষী গেটটি বন্ধ করে দিলে নামাজ পড়তে আসা একদল মানুষ উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

ওই নিরাপত্তারক্ষীকে ধাওয়া দেন উত্তেজিত লোকজন। ইসলামী ফাউন্ডেশনের গেটের দিকে ছুটলে নিরাপত্তারক্ষীকে রক্ষা করেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। পরে বন্ধ করে দেয়া গেটের তালা ইট দিয়ে ভেঙে ফেলেন বিক্ষোভকারীরা।

নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই একটি দল মিছিল নিয়ে পল্টন মোড় হয়ে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড়ের দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিক্ষোভকারীরা নানা স্লোগান দিতে থাকেন। নাইটিঙ্গেল মোড়ে পুলিশের বাধায় পড়তে হয় তাদের।

এর পরপরই বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। জবাবে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একপর্যায়ে ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাস।

এ বিষয়ে পুলিশের রমনা জোনের সহকারী কমিশনার বায়েজিদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উত্তেজিত বিক্ষোভকারীদের একটি দল মিছিল নিয়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে পল্টন হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড়ে আসে। এ সময় তাদের পুলিশ ব্যারিকেড দেয়।’

‘পুলিশি বাধা অতিক্রম করতে তারা ইটপাটকেল ও লাঠি দিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণ চালায়। আক্রমণ প্রতিহত করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।’

তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের হামলায় অন্তত ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন।

ঘটনাস্থল থেকে তিন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। পাশাপাশি পল্টন মোড় থেকেও একজনকে আটক করা হয়।

বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে বেলা আড়াইটা থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। যান চলাচলও শুরু হয় বন্ধ থাকা সড়কটিতে।

কুমিল্লার ঘটনা ও দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমীকে কেন্দ্র করে জুমার নামাজের পর যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য সকাল থেকেই বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছিলেন পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যরা।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মামলায় আসামি ৪ হাজার
নাইটিঙ্গেলে জামায়াত-শিবির সন্দেহে গ্রেপ্তার ৯ জন রিমান্ডে
নাইটিঙ্গেলে পুলিশের ওপর হামলা: আটক ৬, মামলা হচ্ছে
নাইটিঙ্গেল মোড়-পল্টনে আহত ৫ পুলিশ, আটক ৪
জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমে স্লোগান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আজীবন বাংলাদেশের অলিখিত রাষ্ট্রদূত থাকব: মিলার

আজীবন বাংলাদেশের অলিখিত রাষ্ট্রদূত থাকব: মিলার

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলার। ফাইল ছবি

সোমবার এক বিদায়ী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতি এই ভালোবাসার কথা জানান বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলার।

স্বেচ্ছায় আনঅফিসিয়ালি আজীবন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করে যাবেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত রবার্ট আর্ল মিলার।

সোমবার এক বিদায়ী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতি এই ভালোবাসার কথা জানান রাষ্ট্রদূত মিলার। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বিদায়ী অনুষ্ঠানে মিলার সম্ভব হলে আবারও রাষ্ট্রদূত হয়ে বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি এটাও জানান, সরকারি চাকরি থেকে অবসরে চলে যাওয়ায় তা আর সম্ভব নয়।

তবে দ্বিতীয় বার এ দেশের রাষ্ট্রদূত হওয়ার সুযোগ না থাকলেও আনঅফিসিয়ালি (অলিখিতভাবে) এ দেশের রাষ্ট্রদূত হয়ে সারা জীবন কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশে তিন বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন শেষে এ মাসেই ঢাকা ছাড়ছেন আর্ল মিলার। ইতোমধ্যে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে শুরু করেছেন তিনি। ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর ঢাকায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দেন তিনি। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিষয়ক কূটনীতিক পিটার হার্স। তিনি ঢাকায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মিলার বলেন, ‘আমার চাকরি জীবনের এই শেষ অ্যাসাইনমেন্টটি ছিল সম্মানের। গত তিন বছর ধরে এ দেশে কাজ করতে পারা আমার জন্য অনেক সম্মানের। দারুণ স্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরছি।

'আমি এবং আমার পরিবারের প্রতি এ দেশের মানুষের ভালোবাসায় আমি সম্মানিত, কৃতজ্ঞ।’

ঢাকার প্রতি তার পরিবারের ভালোবাসার কথা জানিয়ে মিলার বলেন, দুই মাস আগে ঢাকায় আসা তার ছেলে আলেকজান্ডার এন্ড্রো ঢাকা ছাড়ছে না। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিতে (ডব্লিউএফপি) সে কাজ নিয়েছে। আরও এক বছর ঢাকায় থাকবে সে।

অ্যামেচেম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহম্মেদ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। সংগঠনের সাবেক সভাপতি আফতাব-উল-ইসলাম বলেন, আর্ল মিলারের দায়িত্বকালে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নত হয়েছে। বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তি করেছেন তিনি। সম্প্রতি দু’দেশের মধ্যকার রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানেও ভূমিকা রাখতে নতুন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অবশ্য এ বিষয়ে বক্তব্যে কোনো কথা বলেননি আর্ল মিলার।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে অ্যামচেমের সাবেক দুই সভাপতি নুরুল ইসলাম এবং ফরেস্ট কুকসন বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মামলায় আসামি ৪ হাজার
নাইটিঙ্গেলে জামায়াত-শিবির সন্দেহে গ্রেপ্তার ৯ জন রিমান্ডে
নাইটিঙ্গেলে পুলিশের ওপর হামলা: আটক ৬, মামলা হচ্ছে
নাইটিঙ্গেল মোড়-পল্টনে আহত ৫ পুলিশ, আটক ৪
জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমে স্লোগান

শেয়ার করুন

অভিনেত্রী শিমুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

অভিনেত্রী শিমুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার

চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমু। ফাইল ছবি

১৯৯৮ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘বর্তমান’ সিনেমা দিয়ে রুপালি পর্দায় শিমুর অভিষেক হয়। পরে সিনেমার পাশাপাশি অসংখ্য নাটকেও অভিনয় করেছেন।

কেরানীগঞ্জ থেকে চিত্রনায়িকা রাইমা ইসলাম শিমুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ৩৫ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর মরদেহ এখন ঢাকায় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে মর্গে রাখা হয়েছে।

প্রথমে অজ্ঞাত থাকলেও হাতের আঙ্গুলের ছাপ ও পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

সোমবার দিবাগত রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি আবু সালাম মিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সোমবার দুপুরের দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে স্বজনরা এসে তাকে শনাক্ত করেছেন। প্রাথমিকভাবে এটিকে হত্যাকাণ্ড মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে কিভাবে তার মৃত্যু হয়েছে।’

শিমু ছিলেন রাজধানীর গ্রিনরোডের বাসিন্দা। কলাবাগান থানা পুলিশ জানিয়েছে, রোববার অভিনেত্রী শিমুর পরিবার একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি করেন। মরদেহ উদ্ধারের পর অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়।

শিল্পী সমিতি কর্তৃক ১৮৪ জন ভোটাধিকার হারানো শিল্পীর মধ্যে শিমুও ছিলেন। ভোটাধিকার ফিরে পেতে চলমান আন্দোলনের সোচ্ছার ছিলেন তিনি।

১৯৯৮ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘বর্তমান’ সিনেমা দিয়ে রুপালি পর্দায় শিমুর অভিষেক হয়। পরে সিনেমার পাশাপাশি অসংখ্য নাটকেও অভিনয় করেছেন।

সম্প্রতি ফ্যামিলি ক্রাইসিস নামে একটি ধারাবাহিক নাটকে কাজ করেছেন তিনি।

মরদেহ উদ্ধার বিষয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান সোমবার মধ্যরাতে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাতে শিমুর ভাই আমাকে ফোন করেছিলেন। বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। শিমু চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সহযোগী সদস্য। দীর্ঘ সময় তাকে সিনেমার অভিনয়ে দেখা যায়নি।’

জায়েদ এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি করেন।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মামলায় আসামি ৪ হাজার
নাইটিঙ্গেলে জামায়াত-শিবির সন্দেহে গ্রেপ্তার ৯ জন রিমান্ডে
নাইটিঙ্গেলে পুলিশের ওপর হামলা: আটক ৬, মামলা হচ্ছে
নাইটিঙ্গেল মোড়-পল্টনে আহত ৫ পুলিশ, আটক ৪
জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমে স্লোগান

শেয়ার করুন

অরিত্রীর আত্মহত্যা: সাক্ষ্য দিলেন দুই শিক্ষিকা

অরিত্রীর আত্মহত্যা: সাক্ষ্য দিলেন দুই শিক্ষিকা

অরিত্রীর আত্মহত্যার পর বিচারের দাবিতে আন্দোলন করে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারী ২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর রাজধানীর শান্তিনগরে নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অরিত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতি শাখার প্রধান জিনাত আক্তার ও শ্রেণি-শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে আসামি করে মামলা হয়।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির দুই শিক্ষিকা।

ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলমের আদালতে সোমবার তারা সাক্ষ্য দেন। তারা হলেন প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র শিক্ষিকা লুৎফুন নাহার করিম ও প্রভাতি শাখার খণ্ডকালীন শিক্ষিকা আফসানা আমাতু রাব্বী।

আদালত তাদের সাক্ষ্য নিয়ে আগামী ৩০ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্যের জন্য দিন ঠিক করে।

মামলাটির অভিযোগপত্রে থাকা রাষ্ট্রপক্ষের ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত আটজনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে।

আদালতে সোমবার সাক্ষ্যগ্রহণের সময় মামলার দুই আসামি নাজনীন ফেরদৌস ও জিনাত আক্তার কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সাবিনা আক্তার দিপা নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

২০১৮ সালের ৩ ডিসেম্বর রাজধানীর শান্তিনগরে নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয় শিক্ষার্থী অরিত্রী। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে।

অরিত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে পরদিন রাজধানীর পল্টন থানায় তার বাবা দিলীপ অধিকারী বাদী হয়ে মামলা করেন। আসামি করা হয় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতি শাখার প্রধান জিনাত আক্তার ও শ্রেণি-শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক কাজী কামরুল ইসলাম দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় শ্রেণি-শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদনও করেন তিনি।

২০১৯ সালের ১০ জুলাই ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলম প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও শাখাপ্রধান জিনাত আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

এজাহারে অরিত্রীর আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে বলা হয়, অরিত্রীর স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। ২০১৮ সালের ২ ডিসেম্বর সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষা চলার সময় তার কাছে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। এ জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের (বাবা-মা) ডেকে পাঠায়। ৩ ডিসেম্বর স্কুলে গেলে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়, অরিত্রী মোবাইল ফোনে নকল করছিল, তাই তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এজাহারে অরিত্রীর বাবা আরও উল্লেখ করেন, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষ মেয়ের সামনে আমাকে (বাবা) অনেক অপমান করেন। এ অপমান এবং পরীক্ষা দিতে না পারার মানসিক আঘাত সইতে না পেরে সে (অরিত্রী) আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।’

অরিত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্কুল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় স্কুলের অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মামলায় আসামি ৪ হাজার
নাইটিঙ্গেলে জামায়াত-শিবির সন্দেহে গ্রেপ্তার ৯ জন রিমান্ডে
নাইটিঙ্গেলে পুলিশের ওপর হামলা: আটক ৬, মামলা হচ্ছে
নাইটিঙ্গেল মোড়-পল্টনে আহত ৫ পুলিশ, আটক ৪
জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমে স্লোগান

শেয়ার করুন

‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে প্রতারিত হয়ে নিজেই প্রতারক’

‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে প্রতারিত হয়ে নিজেই প্রতারক’

সিআইডির অভিযানে সোমবার গ্রেপ্তার করা হয় মেহেদী হাসানকে। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ জানায়, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য ফেসবুকে একটি চক্র প্রলোভন দিয়ে যাচ্ছিল। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের সাইবার টিম বিষয়টি জানতে পেরে অভিযানে নামে।

ছোট ভাইকে অবৈধ উপায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য একজনকে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়ে এখন নিজেই সেই প্রতারণার পথ বেছে নিয়েছেন মেহেদী হাসান।

সোমবার সকালে নড়াইলের লোহাগড়া থেকে এমন অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজধানীর একটি সরকারি কলেজ থেকে অনার্স মাস্টার্স শেষ করেছেন মেহেদী।

পুলিশ জানায়, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য ফেসবুকে একটি চক্র প্রলোভন দিয়ে যাচ্ছিল। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার টিম বিষয়টি জানতে পেরে অভিযানে নামে।

সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিআরইউআর চান্স ১০০% করে দিব’ নামের গ্রুপ থেকে একটি বার্তা ফেসবুকে শেয়ার করা হয়। এতে বলা হয়, যারা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাননি, তাদের চান্স পাইয়ে দেব। এতে খরচ হবে ২০ হাজার টাকা। অগ্রিম পেমেন্ট করতে হবে ৮৫০ টাকা।

‘একই গ্রুপ থেকে আরেকটি বার্তা শেয়ার করা হয়। সেখানে লেখা ছিল, যারা রেজাল্ট চেঞ্জ করার জন্য ৮৫০ টাকা দিয়েছেন তাদের রেজাল্ট চেঞ্জ হয়েছে। বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে রেজাল্ট পাবেন। বাকি টাকা ভর্তির পর দেবেন।’

বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ বলেন, ‘সিআইডি সাইবার টিম এ ব্যাপারে তৎপর হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বেশ কয়েক দিন অনুসন্ধান চালানোর পর অবশেষে প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করা হয়।

‘অনুসন্ধানে জানা যায়, এই প্রতারক চক্রটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গেও যুক্ত। চক্রটি বিভিন্ন মোবাইল নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিত। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মেহেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার মেহেদী হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ২০১৭ সালে তার ছোট ভাইকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য একজনকে তিন হাজার টাকা দিয়ে প্রতারিত হন মেহেদী। এখান থেকেই তার এই প্রতারণার শুরু। তিনি বিভিন্ন সময়ে এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেন।

গ্রেপ্তারের সময় মেহেদীর কাছ থেকে বিকাশ সিমসহ মোট ১০টি সিম, তিনটি মোবাইল ফোন এবং একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মামলায় আসামি ৪ হাজার
নাইটিঙ্গেলে জামায়াত-শিবির সন্দেহে গ্রেপ্তার ৯ জন রিমান্ডে
নাইটিঙ্গেলে পুলিশের ওপর হামলা: আটক ৬, মামলা হচ্ছে
নাইটিঙ্গেল মোড়-পল্টনে আহত ৫ পুলিশ, আটক ৪
জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমে স্লোগান

শেয়ার করুন

গ্লাস কাটা ছেড়ে রগ কাটা

গ্লাস কাটা ছেড়ে রগ কাটা

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৫ জানুয়ারি সুমন ও তার সহযোগীরা সায়মনকে পাশের নির্মাণাধীন ভবন থেকে ধরে নিয়ে আসেন মুক্তিরবাগ বালুর মাঠ এলাকায়। ভিকটিমকে চেপে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার হাত ও পায়ের রগ কেটে দেন তারা।

কেরানীগঞ্জের এক গ্লাস (কাচ) কোম্পানিতে চাকরি করতেন সুমন। ভালো গ্লাস কাটতে পারতেন এবং ভাঙা গ্লাস দিয়ে মানুষকে বিভিন্ন সময় আক্রমণ ও জখম করার কারণে নাম হয় গ্লাস সুমন। পরবর্তীতে গ্লাস কোম্পানির চাকরি ছেড়ে ‘গ্লাস কোম্পানি’ নামে একটি মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন তিনি।

কিছুদিন আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওই মাদক সিন্ডিকেটের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। সুমন ও তার সহযোগীরা সন্দেহ করেন, নূরে আলম সায়মন নামে এক তরুণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য দিয়েছেন।

এর ফলে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তারা সায়মনকে হাত ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব সদরদপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১০ রোববার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে কেরানীগঞ্জে সুমন ওরফে ‘গ্লাস সুমন’সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃত অন্য সদস্যরা হলেন: মো. সোহাগ, মো. শরীফ, মো. জনি ও মো. হারুন। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় হত্যার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান, গত ১৫ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জ এলাকায় নুরে আলম ওরফে সায়মনকে বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাত ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় সায়মনের ভাই আরস আলম কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় সাত-আটজন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। র‌্যাব ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে ও জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত সুমন একটি মাদক সিন্ডিকেটের হোতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। কেরানীগঞ্জসহ এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় তিনি ‘গ্লাস কোম্পানি’ নামে একটি মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই চক্রের সক্রিয় সদস্যসংখ্যা ১২ থেকে ১৫।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ওই মাদক সিন্ডিকেটের কয়েকজন কারবারিকে কিছুদিন আগে গ্রেপ্তার করে। সুমন ও তার সহযোগীরা এ জন্য ভিকটিম সায়মনকে সন্দেহ করেন। ফলে তারা প্রতিহিংসার বশে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

ঘটনার কয়েক দিন আগে মুক্তিরবাগ বালুর মাঠ এলাকায় সুমন ও তার সহযোগী সোহাগসহ আরও কয়েকজন হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তারকৃতরা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৫ জানুয়ারি সুমন ও তার সহযোগীরা সায়মনকে পাশের নির্মাণাধীন ভবন থেকে ধরে নিয়ে আসেন মুক্তিরবাগ বালুর মাঠ এলাকায়। ভিকটিমকে চেপে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার হাত ও পায়ের রগ কেটে দেন তারা। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সায়মনকে গুরুতর আহত করে তারা পালিয়ে যান। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন সায়মনকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সুমন হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী এবং হত্যাকাণ্ডের সময় সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিজে ভিকটিমের রগ কেটেছেন বলে স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া গ্রেপ্তারকৃত সোহাগ ও শরীফ রগ কাটায় অংশগ্রহণ করেন এবং গ্রেপ্তারকৃত জনি ও গ্লাস সুমন পরবর্তীতে ধরে রাখেন।

র‍্যাব আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সুমনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক ও ছিনতাই সংক্রান্ত পাঁচটি মামলা রয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধেও রাজধানীর বিভিন্ন থানায় রয়েছে একাধিক মামলা।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মামলায় আসামি ৪ হাজার
নাইটিঙ্গেলে জামায়াত-শিবির সন্দেহে গ্রেপ্তার ৯ জন রিমান্ডে
নাইটিঙ্গেলে পুলিশের ওপর হামলা: আটক ৬, মামলা হচ্ছে
নাইটিঙ্গেল মোড়-পল্টনে আহত ৫ পুলিশ, আটক ৪
জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমে স্লোগান

শেয়ার করুন

জামিন পেলেন সাংবাদিক শাকিল আহমেদ

জামিন পেলেন সাংবাদিক শাকিল আহমেদ

ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত জামিন দেয় সাংবাদিক শাকিলকে। ফাইল ছবি

ধর্ষণ ও ভ্রুণ হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গত বছরের ৬ ডিসেম্বর বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন শাকিল আহমেদ। শুনানি শেষে আদালত মামলার নথি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে থাকায় তা তলবের আদেশ এবং ১৭ জানুয়ারি জামিন আবেদনের ওপর শুনানির তারিখ ঠিক করে।

ধর্ষণ ও ভ্রুণ হত্যার অভিযোগে করা মামলায় জামিন পেয়েছেন বেসরকারি চ্যানেল একাত্তর টেলিভিশনের হেড অফ নিউজ শাকিল আহমেদ।

ঢাকার মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে সোমবার আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন শাকিল। শুনানি শেষে বিচারক তাকে জামিনের আদেশ দেন।

এর আগে গত বছরের ৮ নভেম্বর আসামি শাকিল হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন দেয়। এরপর তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়।

নির্দেশ অনুযায়ী ৬ ডিসেম্বর বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন শাকিল। শুনানি শেষে আদালত মামলার নথি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে থাকায় তা তলবের আদেশ এবং ১৭ জানুয়ারি জামিন আবেদনের ওপর শুনানির তারিখ ঠিক করে।

শাকিল আহমেদের পক্ষে আজ ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি কাজী নজিব উল্যাহ হিরু জামিন শুনানি করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী ঢাকা বারের সভাপতি আবদুল বাতেন জামিনের বিরোধিতা করেন। মামলার বাদীও এজলাসে উপস্থিত হয়ে জামিনের বিরোধিতা করেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত শাকিল আহমেদের জামিনের আদেশ দেয়।

শুনানিকালে শাকিল আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল নিউজবাংলাকে এসব বিষয় নিশ্চিত করেন।

গত ৪ নভেম্বর রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দীপ্ত টিভির সংবাদ পাঠক ও চিকিৎসক এক নারী বাদী হয়ে গুলশান থানায় শাকিল আহমেদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মামলায় আসামি ৪ হাজার
নাইটিঙ্গেলে জামায়াত-শিবির সন্দেহে গ্রেপ্তার ৯ জন রিমান্ডে
নাইটিঙ্গেলে পুলিশের ওপর হামলা: আটক ৬, মামলা হচ্ছে
নাইটিঙ্গেল মোড়-পল্টনে আহত ৫ পুলিশ, আটক ৪
জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমে স্লোগান

শেয়ার করুন

অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়া পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়া পুলিশ সদস্যের মৃত্যু

বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়া পুলিশ সদস্যকে রাতে মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানোর পর আজ সকালে তিনি মারা যান। তার মরদেহ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

রাজধানীতে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক পুলিশ সদস্যের।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিটফোর্ড হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে তিনি মারা যান।

মীর আব্দুল হান্নান এপিবিএন পুলিশের এএসআই হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হান্নানের স্ত্রীর বড় ভাই (সম্মন্ধি) আব্দুল মোমেন।

রোববার বিকেলে আব্দুল হান্নানের কর্মস্থল শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছুটি নিয়ে সাতক্ষীরায় বাড়িতে যেতে বাসে ওঠেন। পরে কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর এলাকায় বাসে অচেতন অবস্থায় ছিলেন।

পরে তার কাছে থাকা মোবাইল নিয়ে পথচারীরা ফোন করে স্বজনদের বিষয়টি জানান। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে পাকস্থলী পরিষ্কার করার পর মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

আব্দুল হান্নানের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার আলাইপুর গ্রামে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়া পুলিশ সদস্যকে রাতে মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানোর পর আজ সকালে তিনি মারা যান। তার মরদেহ মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

আরও পড়ুন:
ঢাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মামলায় আসামি ৪ হাজার
নাইটিঙ্গেলে জামায়াত-শিবির সন্দেহে গ্রেপ্তার ৯ জন রিমান্ডে
নাইটিঙ্গেলে পুলিশের ওপর হামলা: আটক ৬, মামলা হচ্ছে
নাইটিঙ্গেল মোড়-পল্টনে আহত ৫ পুলিশ, আটক ৪
জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমে স্লোগান

শেয়ার করুন