‘রাজাকারপুত্র’ পেলেন আ.লীগের মনোনয়ন

‘রাজাকারপুত্র’ পেলেন আ.লীগের মনোনয়ন

মশিউর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব জানান, মশিউর রহমানের বাবা সৈয়দ আলী খান মুক্তিযুদ্ধের সময় শান্তি কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। সর্বশেষ প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় তার নাম রয়েছে। মশিউর চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী পরিবারের সন্তান, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

পাবনার সুজানগরের নাজিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে রাজাকারপুত্রকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব জানান, ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া মশিউর রহমানের বাবা সৈয়দ আলী খান মুক্তিযুদ্ধের সময় শান্তি কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। সর্বশেষ প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায়ও তার নাম রয়েছে। মশিউর চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী পরিবারের সন্তান, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

১৪ অক্টোবর এই ইউনিয়নে নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আগের মনোনীত প্রার্থী পরিবর্তন করে বর্তমান চেয়ারম্যান মশিউর রহমানকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। এর আগে নাজিরগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সাত্তারকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল।

শুক্রবার রাতে মনোনয়ন পরিবর্তনের খবর এলাকায় পৌঁছালে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও স্থানীয় অনেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। মশিউরকে দুর্নীতিবাজ ও রাজাকারপুত্র দাবি করে মনোনয়ন পরিবর্তন চেয়ে শনিবার বিক্ষোভও করেছেন দলীয় নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসী।

সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, ৭ অক্টোবর উপজেলার নাজিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রার্থী হিসেবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সাত্তারকে মনোনয়ন দেয় দলের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড। সে নির্দেশনা অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন আব্দুস সাত্তার।

নেতা-কর্মীরা জানান, হঠাৎ করেই দলের মনোনয়ন পরিবর্তন করে চেয়ারম্যান পদে মশিউর রহমানকে মনোনয়ন দিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। এতে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, মশিউর রহমান স্বাধীনতাবিরোধী পরিবারের সন্তান। তিনি জনবিচ্ছিন্ন ও বিতর্কিত ব্যক্তি। চেয়ারম্যান থাকাকালে তিনি পরিষদে বসতেন না, জনগণের ভালো-মন্দের খোঁজও রাখতেন না। ইউপি সদস্যদের মতামতের তোয়াক্কা না করে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী দিয়ে পরিষদ চালিয়েছেন। দুর্নীতি, অনিয়ম, সালিশ-বাণিজ্য, অবৈধ বালু ব্যবসাসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই যে তিনি করেননি।

এলাকার লোকজন জানান, তিনি সরকারি বিধি ভঙ্গ করে গোপনে দেশের বাইরে চলে যেতেন। এসব কারণে তিনি চেয়ারম্যান পদ থেকে বরখাস্তও হয়েছিলেন। এমন বিতর্কিত ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়ায় স্থানীয়দের মাঝে হতাশা নেমে এসেছে।

‘রাজাকারপুত্র’ পেলেন আ.লীগের মনোনয়ন

সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব বলেন, মশিউর রহমানের বাবা সৈয়দ আলী খানের নাম সর্বশেষ প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় রয়েছে। এখন তার পরিবারের অনেকেই আওয়ামী লীগ করলেও তারা চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী পরিবার, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘আগে মনোনয়ন পাওয়া আব্দুস সাত্তার ছাত্রলীগ, যুবলীগ হয়ে আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা। হঠাৎ মনোনয়ন পরিবর্তনে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আমি কেন্দ্রীয় নেতাদের বিষয়টি বিবেচনার দাবি জানাই।’

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মশিউর রহমান খান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় নেতারা প্রার্থী সিলেকশনে ভুল বুঝতে পেরে মনোনয়ন পরিবর্তন করেছেন। তৃণমূল নেতা-কর্মীকে সঙ্গে নিয়েই আমি নৌকার বিজয় নিশ্চিত করব।’

তফসিল অনুযায়ী নাজিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ১১ নভেম্বর।

আরও পড়ুন:
স্বেচ্ছাসেবক লীগে ‘রাজাকারপুত্র’: সমালোচনার মুখে অব্যাহতি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শিপইয়ার্ডে শ্রমিকের মৃত্যু 

শিপইয়ার্ডে শ্রমিকের মৃত্যু 

পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাদেকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জাফারাবাদে এমবি শিপইয়ার্ডে কাজ করার সময় জাহাজ থেকে পড়ে মনির আহত হন। তাকে উদ্ধার করে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় শিপইয়ার্ডে কাজ করার সময় জাহাজ থেকে পড়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ফৌজদারহাট জাফারাবাদে এমবি শিপইয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. মনির হোসেন উপজেলার মধ্যম ছলিমপুর গ্রামের বাসিন্দা।

তথ্য নিশ্চিত করে পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাদেকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জাফারাবাদে এমবি শিপইয়ার্ডে কাজ করার সময় জাহাজ থেকে পড়ে মনির আহত হন। তাকে উদ্ধার করে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

তার মরদেহ চমেক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
স্বেচ্ছাসেবক লীগে ‘রাজাকারপুত্র’: সমালোচনার মুখে অব্যাহতি

শেয়ার করুন

মেছো বিড়াল হত্যার প্রথম দণ্ড

মেছো বিড়াল হত্যার প্রথম দণ্ড

বন বিভাগের মামলা পরিচালক জুলহাস উদ্দিন জানান, এর আগে সাপ, বানর হত্যার ঘটনায় আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাজা দেয়া হয়েছে। মেছো বিড়াল হত্যা নিয়ে কোনো মামলায় এই প্রথম জরিমানা করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারে একটি মেছো বিড়াল হত্যার মামুন মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে শাস্তি দিয়েছে আদালত।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী।

বিড়াল হত্যার এক বছর পর মামুনকে সাজা হিসেবে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার বন আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সাইফুর রহমান সোমবার মামুন মিয়াকে সাজা দেন।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, মেছো বিড়াল হত্যার ঘটনায় এই প্রথম বন আদালতে কাউকে সাজা দেয়া হলো।

২০২০ সালের নভেম্বরে বাড়ির পুকুরের মাছ খাওয়ার সময় সহযোগীদের নিয়ে মেছো বিড়ালটি হত্যার অভিযোগ ওঠে মামুনের বিরুদ্ধে। তিনি মৌলভীবাজারের রাজনগরের কাজীরহাট গ্রামের বাসিন্দা।

মেছো বিড়াল হত্যার প্রথম দণ্ড

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, মেছো বিড়াল হত্যা বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কাজীরহাটে মেছো বিড়ালটি হত্যার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেই সূত্র ধরে মামুনকে শনাক্ত করা হয়। পরে এ ঘটনায় মামলা করেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ফরেস্টার মো. আনিসুজ্জামান।

ঘটনার তদন্ত ও স্থানীয় লোকজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর বন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় রাজনগর থানা।

বন বিভাগের মামলা পরিচালক জুলহাস উদ্দিন জানান, এর আগে সাপ, বানর হত্যার ঘটনায় আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাজা দেয়া হয়েছে। মেছো বিড়াল হত্যা নিয়ে কোনো মামলায় এই প্রথম জরিমানা করা হয়েছে।

রেজাউল করিম চৌধুরী নিউজবাংলাকে জানান, ‘দেশে এই প্রথম মেছো বিড়াল হত্যায় শাস্তি হলো। ইচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকলে এসব অপরাধের সাজা নিশ্চিত করা সম্ভব। এই বিচার দেশের বন্যপ্রাণী রক্ষায় অবদান রাখবে।’

আরও পড়ুন:
স্বেচ্ছাসেবক লীগে ‘রাজাকারপুত্র’: সমালোচনার মুখে অব্যাহতি

শেয়ার করুন

সিলেবাস কমানোর দাবিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ

সিলেবাস কমানোর দাবিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ

ঢাকার সাভারে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করলে সৃষ্টি হয় যানজট। ছবি: নিউজবাংলা

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানায়, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এসএসসি-২০২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তেমন পড়াশোনার সুযোগ পায়নি। ইতিমধ্যে তাদের সিলেবাসে ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে এই সিলেবাস শেষ করা অসম্ভব। তাই সিলেবাসে ৭০ শতাংশ কমিয়ে ৩০ শতাংশ করার দাবিতে তারা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে।

সিলেবাস কমানোর দাবিতে ঢাকার সাভারে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে প্রায় আধা ঘণ্টা পর তারা সড়ক ছেড়ে দেয়।

বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ করে তারা।

কর্মসূচিতে আমিন মডেল টাউন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আমিন ক্যাডেট একাডেমি, এমএ সালাম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও মাতাব্বর মুজিব স্কুলের প্রায় তিন শতাধিক ছাত্রছাত্রী বিক্ষোভে অংশ নেয়।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানায়, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এসএসসি-২০২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তেমন পড়াশোনার সুযোগ পায়নি। ইতিমধ্যে তাদের সিলেবাসে ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে এই সিলেবাস শেষ করা অসম্ভব। তাই সিলেবাসে ৭০ শতাংশ কমিয়ে ৩০ শতাংশ করার দাবিতে তারা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে।

বিক্ষোভ চলাকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয় পাশ বন্ধ করে দেয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে থানা ও হাইওয়ে পুলিশ বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে তুলে দিলে প্রায় ৩০ মিনিট পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।

আরও পড়ুন:
স্বেচ্ছাসেবক লীগে ‘রাজাকারপুত্র’: সমালোচনার মুখে অব্যাহতি

শেয়ার করুন

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে রাবিতে ৭ দিনব্যাপী উৎসব

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে রাবিতে ৭ দিনব্যাপী উৎসব

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাস বাংলাদেশ চত্বর।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে, 'জাতির পিতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কর্মময় জীবন’ শীর্ষক আলোচনায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান। উৎসবের প্রথম দিনের দ্বিতীয় পর্বে বেলা ৩টা থেকে ‘সাবাস বাংলাদেশ’ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৪ ডিসেম্বর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে আলোচনা সভা এবং পরে সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ৫ ডিসেম্বরও থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাত দিনব্যাপী বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

শুক্রবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে উৎসবের শুরু হবে।

প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে উৎসবের উদ্বোধন করবেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর ও ১১ থেকে ১৪ ডিসেম্বর দুই ধাপে এ কর্মসূচি পালিত হবে।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক ড. আজিজুর রহমান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মাননীয় মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী-৩ আসনের এমপি মো. আয়েন উদ্দিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া ও অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মলয় ভৌমিক।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ‘জাতির পিতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কর্মময় জীবন’ শীর্ষক আলোচনায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান।

উৎসবের প্রথম দিনে দ্বিতীয় পর্বে বেলা ৩টা থেকে ‘সাবাস বাংলাদেশ’ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৪ ডিসেম্বর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে আলোচনা সভা ও পরে সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ৫ ডিসেম্বরও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।

এদিকে ১১ থেকে ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে শুরু হবে নাট্যোৎসব ও ১৪ ডিসেম্বর প্রামাণ্যচিত্র ‘বধ্যভূমিতে এক দিন’ প্রদর্শিত হবে।

আরও পড়ুন:
স্বেচ্ছাসেবক লীগে ‘রাজাকারপুত্র’: সমালোচনার মুখে অব্যাহতি

শেয়ার করুন

মেয়র আব্বাস কারাগারে, রিমান্ড শুনানি রোববার

মেয়র আব্বাস কারাগারে, রিমান্ড শুনানি রোববার

রাজশাহীর মহানগর পুলিশের আদালত পরিদর্শক হাসেম আলী জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ মেয়র আব্বাস আলীকে তোলা হয়। পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে। বিচারক শংকর কুমার রোববার রিমান্ড শুনানির দিন ঠিক করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলা রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে। আগামী রোববার রিমান্ডের শুনানি হবে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস নিউজবাংলাকে জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকায় র‌্যাবের কাছ থেকে আব্বাসকে গ্রহণ করে বোয়ালিয়া থানা পুলিশের একটি দল। রাতেই তারা রাজশাহী এসে পৌঁছান।

সকাল ৭টার দিকে পুলিশ তাকে আদালতে নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।

রাজশাহীর মহানগর পুলিশের আদালত পরিদর্শক হাসেম আলী জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ মেয়র আব্বাস আলীকে তোলা হয়। পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে।

বিচারক শংকর কুমার আগামী রোববার রিমান্ড শুনানির দিন ঠিক করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

রাজধানীর হোটেল রাজমনি ইশা খাঁ থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তাকে আটক করে র‍্যাব।

ঘরোয়া একটি আলোচনায় মেয়র আব্বাস বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের বিরোধিতা করে কথা বলেন। ২২ নভেম্বর সেই আলোচনার অডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

২৪ নভেম্বর মেয়র আব্বাসের নামে বোয়ালিয়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। মামলার বাদী নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি এবং ১৩ নম্বর কাউন্সিলর আব্দুল মোমিন।

এ ছাড়া চন্দ্রিমা থানায় নগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন এবং রাজপাড়া থানায় ১৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন একই ধরনের অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

আপত্তিকর মন্তব্যের সূত্র ধরে ২৫ নভেম্বর তাকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক পদ এবং ২৬ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

২৫ নভেম্বর কাটাখালী পৌরসভার ১২ জন কাউন্সিলরের সবাই তার প্রতি অনাস্থা জানিয়ে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। এই দাবির একটি আবেদন রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিয়েছেন।

যা বলেছিলেন মেয়র আব্বাস

১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের বক্তব্য শোনা যাচ্ছে, তিনি একজনকে বলছেন, ‘সিটি গেট আমার অংশে। ... ফার্মকে দিয়েছে তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে; ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা। কিন্তু একটু থেমে গেছি, গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর, সেটা ইসলামি শরিয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না (রাখব না), সব করব তবে শেষ মাথাতে যেটা ওটা (ম্যুরাল)।’

মেয়র আব্বাস আলী বলছেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, ম্যুরালটা ঠিক হবে না দিলে। আমার পাপ হবে; তো কেন দিব, দিব না। আমি তো কানা না, যেভাবে বুঝাইছে তাতে আমার মনে হয়েছে, ম্যুরালটা হলে আমার ভুল করা হবে।

‘এ খবরটা যদি যায় তাহলে আমার রাজনীতির বারোটা বাজবে যে এই ম্যুরাল দিছে না। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে গিয়ে আল্লাহকে নারাজ করব নাকি। এ জন্য কিছু করার নাই। মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা যাবে না।’

এই বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে গত শুক্রবার বিকেলে ফেসবুক লাইভে মেয়র আব্বাস বলেন, ‘আমি তো মানুষ। আমি তো ভুল করতেই পারি। তার জন্য ক্ষমা চাই। তারপরও না হলে বহিষ্কার করবেন, আমার নামে মামলা দিবেন, যতটুকু ভুল করেছি, তার জন্য, কিন্তু একের পর এক অত্যাচার-জুলুম। আমার অসুস্থ মা তিন-চার দিন না খেয়ে আছে...

‘... আমি কী এত বড় অন্যায় করেছি? অন্যায় করলে তো আইন আছে। এভাবে এত কিছু করা কী ঠিক?... আমাকে বলা হচ্ছে, আমি দলের অনুপ্রবেশকারী। আমি যদি আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য কোনো দল জীবনে করে থাকি, তাহলে সব শাস্তি মাথা পেত নেব... কেউ প্রমাণ করতে পারলে সুইসাইড করব।’

আরও পড়ুন:
স্বেচ্ছাসেবক লীগে ‘রাজাকারপুত্র’: সমালোচনার মুখে অব্যাহতি

শেয়ার করুন

২২ বছর পর সুনামগঞ্জের তেরা মিয়া হত্যার রায়

২২ বছর পর সুনামগঞ্জের তেরা মিয়া হত্যার রায়

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট বাদীপক্ষ। প্রতিপক্ষের গুলিতেই তেরা মিয়া মারা যান। আসামিদের একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ৩১ জনকে খালাস দিয়েছে আদালত।’

সুনামগঞ্জের ছাতকে ২২ বছর পর আলোচিত তেরা মিয়া হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন ও ৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মহিউদ্দিন মুরাদ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ২৭ জন আসামি।

রায়ে ৩১ জনকে খালাস দেয়া হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্ত ৯ জনের মধ্যে আসামি ফারুক আহমদ ওরফে মধু মিয়াকে ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এ ছাড়া তাকে ৩০৭ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। বাকি ৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয় আদালত।

এসব বিষয় নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা বলেন, 'আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট বাদীপক্ষ।’

তিনি জানান, প্রতিপক্ষের গুলিতেই তেরা মিয়া মারা যান। আসামিদের একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ৩১ জনকে খালাস দিয়েছে আদালত।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী সালেহ আহমদ বলেন, ‘রায়ে আমরা খুশি নই। আসামিপক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।’

আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ২২ নভেম্বর সকালে ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নে বলারপীরপুর গ্রামের তেতইখালী খালে সেতু নির্মাণের বিরোধকে কেন্দ্র করে আব্দুল হাই আজাদ মছকু মিয়া ও আরজু মিয়ার লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে আরজু মিয়ার বড় ভাই তেরা মিয়া নিহত হন। আহত তেরা মিয়াকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৩০ জন আহত হন।

এ ঘটনায় নিহতের ভাতিজা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই বছরের ২৪ নভেম্বর ছাতক থানায় ৪৮ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা চলাকালীন ৮ জন আসামি মারা যান। এখনও ১৩ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। ছাতক থানার তৎকালীন ওসি ২০০৪ সালের ২১ এপ্রিল আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলায় ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

আরও পড়ুন:
স্বেচ্ছাসেবক লীগে ‘রাজাকারপুত্র’: সমালোচনার মুখে অব্যাহতি

শেয়ার করুন

শ্বাসরোধে হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

শ্বাসরোধে হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ প্রিন্স জানান, ২০০৯ সালে মাইদুল ইসলামের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফুলহার গ্রামের খাদিজা বেগমের। পারিবারিক কলহের জেরে ২০১৭ সালে ঘুমন্ত খাদিজাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যান স্বামী।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাইদুল ইসলামের বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ প্রিন্স।

তিনি জানান, ২০০৯ সালে মাইদুলের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফুলহার গ্রামের আবদুল রেজ্জাকের মেয়ে খাদিজার। পরে পারিবারিক কলহের জেরে ২০১১ সালে তাদের বিয়েবিচ্ছেদ হয়।

বিচ্ছেদের দুই বছর পর ২০১৩ সালে তারা নতুন করে সংসার শুরু করেন। এর চার বছরের মাথায় আবারও কলহ দেখা দিলে ২০১৭ সালে ঘুমন্ত খাদিজাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যান মাইদুল।

এ ঘটনায় খাদিজার বাবা ১১ জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ মাইদুলকে গ্রেপ্তার করে।

তদন্তের পর পুলিশ ১০ জনের নাম বাদ দিয়ে একমাত্র মাইদুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয়।

আরও পড়ুন:
স্বেচ্ছাসেবক লীগে ‘রাজাকারপুত্র’: সমালোচনার মুখে অব্যাহতি

শেয়ার করুন