তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ চায় ইসলামী আন্দোলন

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ চায় ইসলামী আন্দোলন

তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের পদত্যাগ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে বায়তুল মোকাররমে সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়া বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বক্তব্যে বলেন, ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে, এটা মিমাংসিত বিষয়। এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না।’

ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম নয় এবং অচিরেই সংসদে বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার বিল উত্থাপন করা হবে বলে বক্তব্য দেয়ায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের পদত্যাগ ও শাস্তি দাবি করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

কুমিল্লায় কুরআন অবমাননাকারীদের বিচার এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে শনিবার বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে সমাবেশ থেকে এ দাবি জানান দলটির নেতারা।

পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও পদত্যাগ দাবি করা হয় সমাবেশ থেকে।

ঢাকা মহানগর ইসলামী আন্দোলন আয়োজিত সমাবেশে কুমিল্লার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি এবং দেশের অন্য জায়গায় সহিংসতার জন্য সরকারের বিভিন্ন মহলকে দায়ী করেন নেতারা।

ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়া বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বক্তব্যে বলেন, ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে, এটা মিমাংসিত বিষয়। এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না।’

সম্প্রতি দেয়া তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও তার পদত্যাগ দাবি করেন দলটির ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি মাওলানা আরিফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি আরও কতটা ভয়াবহ হবে তা সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। সরকার যেভাবে বক্তব্য দিচ্ছে, তাতে সরকার আরেকটা দাঙ্গা করতে চায়। আমরা মনে করছি, সরকারের বিভিন্ন মহলের উসকানিতে কুমিল্লায় এ ঘটনা ঘটেছে।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে দপ্তর সম্পাদক লোকমান বলেন, ‘আপনি সংবিধান মানেন না, আপনাকে মন্ত্রী হিসেবে মানি না। উনার বিচার করতে হবে।’

সংগঠনের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা নেছার উদ্দিন বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে না পারলে পদত্যাগ করুন। এই সরকারকে পুতুল সরকার মনে করি।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ।

তিনি বলেন, ‘বাজার করে খাওয়ার সক্ষমতা হারাচ্ছে মানুষ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বাজারে গিয়ে খোঁজ নেন।’

কুমিল্লার ঘটনা ও পরের পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দায়ি করেন ফজলে বারী মাসউদ। তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনা ও পরের ঘটনার জন্য সরকার দায়ী।’

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী।

তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা ষড়যন্ত্র করবে। ইসলামের শত্রুরা এটা করেছে। সরকার ঘোলা পানিতে মাছ শিকার না করে তদন্ত করে বের করেন এই ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে।

‘ইসলামের অবমাননা করলে প্রতিবাদ করা ঈমানি দায়িত্ব। একটা মহল আমাদের দেশে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বাধায়া দিতে এটা করেছে। হিন্দুরাও এটা করতে পারে না। হাজীগঞ্জে ৫-৬ জন মারা গেছেন। কেন গুলি করলেন।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে বয়কট করার আহ্বান জানান আল-মাদানী। তিনি বলেন, ‘মুরাদকে বয়কট করেন। ওর জানাজা হবে না, পানিতে ভাসায়া দাও। ওরা কাফেরদের থেকেও ভয়ঙ্কর।’

তিনি বলেন, ‘সব জিনিস ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। না কমাতে পারলে গদি থেকে নেমে যান।’

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি পল্টন মোড় হয়ে নাইটেঙ্গেল মোড়ে গিয়ে মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফ্লাইওভারের নিচে অজ্ঞাত মরদেহ

ফ্লাইওভারের নিচে অজ্ঞাত মরদেহ

প্রতীকী ছবি

নিহতের নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। পরিচয় জানতে সিআইডি ক্রাইম সিনকেও খবর দেয়া হয়েছে।

রাজধানীর মালিবাগ রেলগেট ফ্লাইওভারের নিচে ফুটপাত থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির আনুমানিক বয়স ৫০ বছর।

রোববার বেলা ২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ সম্পর্কে হাতিরঝিল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে মালিবাগ রেলগেট ফ্লাই ওভারব্রিজের নিচে ফুটপাত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করি। পরে আইনিপ্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নজরুল আরও বলেন, ‘স্থানীয় লোকজনের মুখে জানতে পেরেছি, ওই ব্যক্তি ওই এলাকাতেই ভবঘুরে হিসেবে জীবন যাপন করতেন। আজ (রোববার) কোনো এক সময় ওভারব্রিজের নিচে তিনি মারা যান। তার হাত-পা শক্ত হয়ে গিয়েছিল।

নজরুল জানান, নিহতের নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি। বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। পরিচয় জানতে সিআইডি ক্রাইম সিনকেও খবর দেয়া হয়েছে। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমেও মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

মরদেহের পরনে ছিল একটি ময়লা চেক লুঙ্গি ও ফুলহাতা শার্ট।

শেয়ার করুন

স্ত্রীর ‘আত্মহত্যার’ কারণ জানেন না স্বামী

স্ত্রীর ‘আত্মহত্যার’ কারণ জানেন না স্বামী

প্রতীকী ছবি

আজহারুল বলেন, ‘আমার সাথে তার কোনো কথা কাটা-কাটি বা কোনো মনোমালিন্য হয়নি। তবে কেন সে গলায় ফাঁস দিয়েছে বলতে পারি না।’

বিয়ে করেছিলেন প্রেম করে। স্বামী-স্ত্রী মিলে থাকতেন রাজধানীর রূপনগরে শিয়ালবাড়ি বস্তিতে। রোববার সন্ধ্যায় স্ত্রী শারমিন আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা ধারণা করলেও, ঠিক কী কারণে এমনটি ঘটেছে তা জানেন না বলে দাবি করেছেন স্বামী আজহারুল ইসলাম।

রোববার রাত পৌনে সাতটায় অষ্টাদশী গৃহবধূ শারমিনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শারমিনের স্বামী আজহারুল বলেন, ‘আমি একজন দিনমজুর। আধাবেলা কাজ করে দুপুরে বাসায় এসে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুম থেকে উঠে দেখি, রুমের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলছে। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যাই।’

আজহারুল আরও বলেন, ‘আমরা দুজনে একটি রুম ভাড়া করে সাত্তার মাদবরের বস্তিতে থাকি। দেড় বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেছি। আমার সাথে তার কোনো কথা কাটা-কাটি বা কোনো মনোমালিন্য হয়নি। তবে কেন সে গলায় ফাঁস দিয়েছে বলতে পারি না।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া জানান, ময়নাতদন্তের জন্য শারমিনের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকেও জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন-২০২২ এর লোগো উন্মোচন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন-২০২২ এর লোগো উন্মোচন

কুর্মিটোলা গল্ফ ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন-২০২২ এর লোগো উন্মোচন করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী। ছবি: আইএসপিআর

রোববার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন-২০২২ এর লগো উন্মোচনের মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। কুর্মিটোলা গল্ফ ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন-২০২২ এর লোগো উন্মোচন করা হয়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

রোববার লগো উন্মোচনের মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।

কুর্মিটোলা গল্ফ ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন-২০২২ এর লোগো উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন-২০২২ এর লোগো উন্মোচন করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আইএসপিআর থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য সচিব ও ডিজির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

স্বাস্থ্য সচিব ও ডিজির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

ফাইল ছবি

আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও চাকরি না দেয়ায় দুজন অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অবমাননার রুল জারি করে হাইকোর্ট।

আদালতের নির্দেশ না মানায় স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ কেন আনা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

রোববার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আবেদনের শুনানিতে এ আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. মো. ইউনুছ আলী আকন্দ।

পরে তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও চাকরি না দেয়ায় দুজন অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অবমাননার রুল জারি করে হাইকোর্ট।

জানা গেছে, সপ্তাহ দুয়েক আগে স্বাস্থ্য বিভাগে এমএলএসএস পদে শারমিন সুলতানা আঁখি ও স্বাস্থ্য সহকারী পদে আয়েশা সিদ্দিকাকে আদালতের নির্দেশে নিয়োগ না দেয়ায় আদালত অবমাননার অভিযোগে হাইকোর্টে অভিযোগ করা হয়।

শেয়ার করুন

অভিমানে ছাত্রের ‘আত্মহত্যা’, কলহে গৃহবধূর

অভিমানে ছাত্রের ‘আত্মহত্যা’, কলহে গৃহবধূর

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। ফাইল ছবি

পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাত ও রোববার সকালে তাদের মৃত্যু হয়। তারা আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবারের স্বজনরা জানিয়েছেন।

রাজধানীর সবুজবাগ ও আদাবর এলাকায় এক শিক্ষার্থী ও এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে; যারা আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

শনিবার রাত ও রোববার সকালে তাদের মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া দুজন হলেন ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী শাহরিয়ার ও ২০ বছর বয়সী গৃহবধূ মোছা. সুমি আক্তার।

সবুজবাগ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বিমল চন্দ্র পাইন বলেন, ’আমরা খবর পেয়ে মুগদা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের স্ট্রেচারের ওপর থেকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহরিয়ারের মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।'

তিনি বলেন, ‘নিহত শিক্ষার্থীর স্বজনদের কাছ থেকে জানতে পারি, সে মুগদা রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। প্রি টেস্ট পরীক্ষার কিছু সাবজেক্ট খারাপ হয় বলে সে আত্মহত্যা করেছে।’

নিহতের চাচা আজিজুল ইসলাম বলেন, ’নিজ বাসার স্টোররুমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয় শাহরিয়ার। পরে দরজায় গিয়ে ডাকাডাকি করলে দরজা খোলেনি সে। দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে দেখি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে রয়েছে শাহরিয়ার। দ্রুত মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
নিহত শাহরিয়ারের বাসা সবুজবাগের দক্ষিণ মাদারটেক কবরস্থানের পাশে, ১২৭ নম্বর বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তার বাবা মোহাম্মদ শিমুল। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়।

এদিকে রোববার সকাল ৬টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে গৃহবধূ সুমি আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

আদাবর থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে সকাল ৬টার দিকে সুমির মরদেহ উদ্ধার করি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি জানান, স্বামী-স্ত্রীর কলহের জের ধরে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন সুমি। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিয়ে এলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহতের বড় ভাই আব্দুল মালেক বলেন, ‘আরমান বাসারের সঙ্গে আমার বোনের প্রায় পাঁচ মাস আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর কলহ লেগে থাকত। সুমি অতিরিক্ত রাগী ছিল। কথায় কথায় রেগে যেত।’

তিনি বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার স্বামী বাসায় থাকা অবস্থায় বেলা দেড়টার দিকে তার নিজ কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেয় সে। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এলে রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।’

নিহত সুমি নোয়াখালী সদরের মহত্তাপুর গ্রামের মৃত নূর নবী মাস্টারের মেয়ে। আদাবরের বাইতুল আমান হাউজিংয়ে একটি বাসায় স্বামী আরমান বাসারের সঙ্গে থাকতেন তিনি। তারা চার ভাই-চার বোন।

শেয়ার করুন

গৃহকর্মী হত্যা: গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রীর স্বীকারোক্তি

গৃহকর্মী হত্যা: গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রীর স্বীকারোক্তি

গৃহকর্মী পারভীন হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার জসীমুল হক ও তার স্ত্রী সামিনা হাসান। ছবি: নিউজবাংলা

পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর কার্যালয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'গৃহকর্তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক আছে- এমন সন্দেহে পারভীনকে হত্যা করেন গৃহকর্ত্রী। পরে তার লাশ গুম করতে তুরাগের ঝাউবন এলাকায় ফেলে আসা হয়।'

গৃহকর্মী পারভীন ওরফে ফেন্সি আরা হত্যা মামলায় গৃহকর্তা সৈয়দ জসীমুল হক এবং গৃহকর্ত্রী সৈয়দা সামিনা হাসান দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম রোববার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করেন। আসামিরা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছেন উল্লেখ করে তা রেকর্ড করার জন্য আবেদন করেন তিনি।

সৈয়দ জসীমুল হকের জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করেন ঢাকা মহানগর হাকিম আশেক ইমাম এবং আরেক আসামি সামিনা হাসানের জবানবন্দি নেন মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়।

তুরাগ থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক লিয়াকত আলী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

গৃহকর্মী পারভীন হত্যা মামলা নিয়ে এর আগে রোববার বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর কার্যালয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, পারভীন গুলশানের নিকেতনে একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। গৃহকর্তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক আছে- এমন সন্দেহে তাকে হত্যা করেন গৃহকর্ত্রী। পরে তার লাশ গুম করতে তুরাগের ঝাউবন এলাকায় ফেলে আসা হয়।

পারভীনকে খুনের ঘটনায় তার স্বামী মোমিনুল ইসলাম তুরাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শনিবার নিকেতন থেকে গৃহকর্তা সৈয়দ জসীমুল হক ও গৃহকর্ত্রী সৈয়দা সামিনা হাসানকে আটক করেন পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তর জোনের সদস্যরা।

জানা যায়, ছয় বছর আগে জীবিকার সন্ধানে স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় আসেন পারভীন। স্বামী রিকশা চালানো শুরু করেন। আর পারভীন গৃহকর্মীর কাজ করতেন। এ বাসায় পারভীনকে মাসে ৭ হাজার টাকা করে পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেয়া হতো মাত্র ১ হাজার টাকা করে।

শেয়ার করুন

করোনায় ঢাবি অধ্যাপক মাহমুদ হাসানের মৃত্যু

করোনায় ঢাবি অধ্যাপক মাহমুদ হাসানের মৃত্যু

অধ্যাপক মাহমুদ হাসান। ছবি: সংগৃহীত

মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘স্যারের করোনা পজিটিভ ছিল। প্রায় সাত দিন ধরে উনি হাসাপাতালে ভর্তি ছিলেন। শেষের দিকে তিনি কথা বলতে পারছিলেন না। আজ সাড়ে ১২টায় তিনি মারা যান।’

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদ হাসান।

রাজধানীর একটি হাসপাতালে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় তার মৃত্যু হয় বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো মনিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘স্যারের করোনা পজিটিভ ছিল। প্রায় সাত দিন ধরে উনি হাসাপাতালে ভর্তি ছিলেন। শেষের দিকে তিনি কথা বলতে পারছিলেন না। আজ সাড়ে ১২টায় তিনি মারা যান।’

আসরের নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে মাহমুদ হাসানের নামাজে জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ীতে নিয়ে যাওয়া হবে।

অবিবাহিত ছিলেন মাহমুদ হাসান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডের মনিরুজ্জামান ভবনের একটি বাসায় থাকতেন তিনি।

শেয়ার করুন