খাবারের অভাব আর হবে না: প্রধানমন্ত্রী

খাবারের অভাব আর হবে না: প্রধানমন্ত্রী

খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ। ফাইল ছবি/এএফপি

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতার ভাষায় বলতে হয় এদেশের মাটি আছে, মানুষ আছে। আমরা যেন আর কখনও খাদ্যের অভাবে না ভুগি। বাংলাদেশে আর যেন কখনও দুর্ভিক্ষ না হতে পারে। কেউ যেন চক্রান্ত করেও দুর্ভিক্ষ না করতে পারে সেদিকে আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

বাংলাদেশে আর কখনই খাবারের অভাব হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে কৃষি গবেষণা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে শনিবার সকালে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন সরকারপ্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘খাবারে বাংলাদেশে আর কোনোদিন অভাব থাকবে না। তবে গবেষণাটা অব্যাহত রাখতে হবে। এ বিষয়ে সকলেকে নজর দিতে হবে।

‘জাতির পিতার ভাষায় বলতে হয় এদেশের মাটি আছে, মানুষ আছে। আমরা যেন আর কখনও খাদ্যের অভাবে না ভুগি। বাংলাদেশে আর যেন কখনও দুর্ভিক্ষ না হতে পারে। কেউ যেন চক্রান্ত করেও দুর্ভিক্ষ না করতে পারে সেদিকে আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

খাদ্য অপচয় যাতে না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করার তাগিদও দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আরেকটি বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে, খাদ্যের অপচয় কমাতে হবে। সারা বিশ্বেই কিন্তু একদিকে খাদ্যের অভাব অন্যদিকে প্রচুর খাদ্য অপচয় হয়। এই অপচয় যেন না হয়।

‘যে খাদ্যগুলো অতিরিক্ত থাকে সেটিকে পুনর্ব্যবহার করা যায় কীভাবে সে বিষয়টি আমাদের চিন্তা করতে হবে। সে ধরনের ব্যবস্থা আমাদের দিতে হবে। খেতে বসেও যে খাদ্যটা উদ্বৃত্ত থাকবে সেটা দিয়ে অন্যকোনো চাহিদা পূরণ করা যায় কি না সেটিও গবেষণায় রাখা দরকার।’

খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় জোর

খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পর এবার খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় জোর দেয়া কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে ও কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরি স্থাপনের জন্য পূর্বাচলে ৫ একর জমি দেয়া হয়েছে। দুই একর, তিন একর না পাঁচ একর বরাদ্দ দেয়া আছে। এছাড়া আটটি বিভাগে আটটি রেফারেন্স ল্যাবরেটরি স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘খাবারের সঙ্গে সঙ্গে পুষ্টিও দরকার। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমিষজাতীয় খাবার যাতে উৎপাদন হয় অর্থাৎ গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগি এমনকি কোয়েল থেকে শুরু করে সব কিছুই, এমনকি টার্কিও এখন বাংলাদেশে হচ্ছে।

‘আমরা এই আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের যা চাহিদা সেগুলো পূরণ করে উদ্বৃত্ত যাতে প্রক্রিয়াজাত করা যায়। আমরা সারা দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি সেখানে যাতে এই প্রক্রিয়াজাত করা যায় সেদিকে আমরা বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষিতে গবেষণার ফলে দেশি-বিদেশি অনেক ফল, তরি-তরকারি সবকিছু এখন উৎপাদন হচ্ছে। ফুলকপি-পাতাকপি বা গাজরজাতীয় সবজি ১২ মাস পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘অনেক বিদেশি ফল আমাদের দেশেই উৎপাদন হচ্ছে। এটা তো আমাদের কৃষিবিদদেরই অবদান। এ ক্ষেত্রে যতদূর সম্ভব সহযোগিতা দেয়ার আমরা দিচ্ছি।’

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সার ও বিদ্যুতে ভর্তুকির বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সারের দাম কমিয়ে একেবারে নূন্যতম পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। কোথায় ৮০-৯০ টাকা দাম ছিল, সেটা ১৬-২২ টাকা এ হারে আমরা কমিয়েছি।

‘তারপর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে তাদের ২০ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছি, তারপর রিবেট দিচ্ছি। পাশাপাশি সোলার সিস্টেমে যাতে সেচ চালাতে পারে সে ব্যবস্থাও আমরা করে দিচ্ছি।’

খাবারের অভাব আর হবে না: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে সোনারগাঁও হোটেলে আলোচনা অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

‘আগে চাহিদা পূরণ, পরে রপ্তানি’

দেশের আভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত খাদ্য প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমাদের অর্থনৈতিক যে কার্যক্রম আমরা সেটা সেভাবেই পরিচালনা করব। প্রথমে আমাদের দেশ, আগে নিজের খাদ্য চাহিদা পূরণ করব, সেই সঙ্গে যেটা অতিরিক্ত হবে সেটা প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করব, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

‘আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এরই মধ্যে আমরা ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা করেছি। খাদ্য শুধু উৎপাদন নয় এর মানও যেন ঠিক থাকে। এটা দেশে যারা ব্যবহার করবে তাদের জন্য যেমন প্রযোজ্য। আমরা যখন রপ্তানি করব প্রক্রিয়াজাত করে তার জন্যও প্রযোজ্য।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয়বার যখন সরকারে আসি, আমাদের গবেষণা যেগুলো আমরা শুরু করেছিলাম সেগুলো চলতে থাকে। আমি গবেষকদের ধন্যবাদ জানাই, তাদের গবেষণার ফলেই আমরা আজকে অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছি। দ্বিতীয় দফায় সরকারে এসেও আমরা কৃষিখাতে আবার নানা পদক্ষেপ নিই, যেন খাদ্য চাহিদা আমরা পূরণ করতে পারি।

‘আমরা বিনা পয়সায় খাদ্য বিতরণ করি, যারা একেবারে দুস্থ-দরিদ্র সেসব মানুষগুলোকে, বিশেষ করে বয়স্ক-বিধবা নারীদের। তাদের জন্য আমরা ভাতার ব্যবস্থা করে দেই। পরবর্তীতে ১০ টাকায় যেন চাল কিনতে পারে সে ব্যবস্থা করে দেই। আবার ওএমএস চালু রাখি। মানে খাদ্যটা যেন মানুষের কাছে পৌঁছায়। খাদ্যের অভাব যেন মানুষের না হয়।’

কৃষিখাতে সরকারের দেয়া ভর্তুকির নানা দিক তুলে ধরেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষিতে যে ভর্তুকি দেই এটা দেয়ার বিষয়েও কিন্তু অনেক বাঁধা ছিল। অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা বাধা দিত ভর্তুকি দেয়া যাবে না। আমরা তাদের কথা শুনিনি।

‘৯৬ সালে সরকারে আসার আগে থেকেই অনেকের সঙ্গেই কথা হতো। যেমন ওয়ার্ল্ড ব্যাংকই বলেছিল যে এখানে ভর্তুকি দেয়া যাবে না। আমি বললাম পৃথিবীর সব দেশ দেয় তো আমরা দেব না কেন। আমার দেশের মানুষের খাদ্যটা আগে। প্রথম চাহিদাটা হচ্ছে খাদ্য, আগে তো আমাকে খাদ্য দিতে হবে। তার জন্য আমার উৎপাদন বাড়াতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঠিক আছে আমাকে যদি এ ব্যাপারে কেউ ঋণ না দেয় তো আমরা নিজের পয়সায় দেব। তখনও কিন্তু সরকারে আমরা আসি নাই। তার আগে থেকেই এসব আলোচনা আমার সঙ্গে করত। আমার যেটা নীতি ছিল, আমি তাদের স্পষ্ট জানিয়েছে এবং আমরা সেটাই করেছি।

‘আমরা কৃষি উপকরণ কার্ড করে দিয়েছি এবং সরাসরি কৃষকদের হাতে যেন ভর্তুকি পোঁছায় সে ব্যবস্থা করেছি। প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ কৃষককে আমরা এ কার্ড দিয়েছি।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘বেসরকারি খাতে ব্যাপকভাবে আমরা ব্যাংক করতে দিয়েছি। সেখানে একটা নির্দেশনা আছে যে, এর শাখা সারা দেশে হতে হবে। কৃষকেরা যেন মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে সে ব্যবস্থা করে দিই।

‘কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে বর্গা চাষিদের বিনা জামানতে ঋণ দেয়া শুরু করি। কারণ বর্গা চাষিদের জমি নাই, তারা জামানত রাখতে পারত না। এ কারণে তারা ঋণ পেত না। আমার কথাই ছিল, ব্যাংক কৃষকের কাছে পৌঁছে যাবে। নগদ টাকা না থাকলে তারা উৎপাদন বাড়াবে কীভাবে? আমরা সেটা ৯৬ থেকে শুরু করি।’

প্রায় ১ কোটি ২ লাখ ৭০ হাজার ১৪৩ জন কৃষক ১০ টাকার অ্যাকাউন্ট খুলে সুবিধা পাচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ভ্যালু চেইন ব্যবস্থাপনায় গুরত্বারোপ করছি।

‘২০০৯ সাল থেকে ৬৫৫টি উন্নত ফলনশীল ফসলের জাত এবং ৫৯১টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন হয়েছে। জলবায়ু ও মৃত্তিকা অনুযায়ী শস্য বিন্যাস করেছি। কৃষি শিক্ষা ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছি।’

আরও পড়ুন:
ইউরোপের ৩ দেশে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
বন্যার সঙ্গে বসবাস শিখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
শান্তির জন্য ব্যবহার করব পারমাণবিক শক্তি: প্রধানমন্ত্রী
আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দক্ষিণাঞ্চলে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ডাকাত সন্দেহে ৬ ছাত্র হত্যার রায়ের অপেক্ষা

ডাকাত সন্দেহে ৬ ছাত্র হত্যার রায়ের অপেক্ষা

সাভারে ডাকাত সন্দেহে খুন হওয়া শিক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি

ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ইসমত জাহানের আদালতে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে রায় ঘোষণা হতে পারে নিউজবাংলাকে জানান সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর শাকিলা জিয়াছমিন মিতু।

নয় বছর আগে রাজধানী সংলগ্ন আমিনবাজারে ডাকাত সন্দেহে ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হবে আজ।

ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ইসমত জাহানের আদালতে বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে রায় ঘোষণা হতে পারে নিউজবাংলাকে জানান সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর শাকিলা জিয়াছমিন মিতু।

এর আগে ২২ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের এ তারিখ ঠিক করা হয়।

২০১১ সালের ১৭ জুলাই শবে বরাতের রাতে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রামের কেবলারচরে ডাকাত সন্দেহে ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

নিহতরা হলেন ধানমন্ডির ম্যাপললিফ স্কুলের ‘এ’ লেভেলের ছাত্র শামস রহিম শাম্মাম, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ইব্রাহিম খলিল, বাঙলা কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তৌহিদুর রহমান পলাশ, তেজগাঁও কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র টিপু সুলতান, মিরপুরে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সিতাব জাবীর মুনিব এবং বাঙলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র কামরুজ্জামান।

নিহতদের সঙ্গে থাকা বন্ধু আল-আমিন গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান।

ওই ঘটনার পর ডাকাতির অভিযোগে আল-আমিনসহ নিহতদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় একটি ডাকাতি মামলা করেন স্থানীয় এক বালু ব্যবসায়ী আবদুল মালেক।

এরপর ছাত্র অভিবাবক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরোধিতার মুখে ওই সময় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত গ্রামবাসীকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় আরেকটি মামলা করে।

পরে মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি র‌্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন আহমেদ ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

এ অভিযোগপত্রের পরে মামলাটি বিচারের জন্য এই আদালতে আসে।

২০১৩ সালের ৮ জুলাই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৬০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আদালত। এ ছাড়া ওই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একমাত্র ভিকটিম আল-আমিনকে একই ঘটনায় করা ডাকাতি মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

হত্যা মামলার আসামিদের মধ্যে ছয়জন পলাতক, একজন কারাগারে, ৫২ জন জামিনে ও দুই আসামি মারা যান। এ মামলায় ১৪ আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার বিচারকালে ৫৫ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর শাকিলা জিয়াছমিন মিতু। তিনি বলেন, ‘আমরা অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি ও প্রত্যাশা করছি।’

আসামি পক্ষের আইনজীবী মাহবুব আহমেদ বলেন, ‘এই মামলার এজাহার ও চার্জশিট নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। আমরা সাক্ষীদেরকে জেরা করেছি। এটা একটি দুর্ঘটনা মাত্র। আসলে প্রত্যেক আসামির বিষয় নিশ্চিত হওয়া যায় নাই যে, এরাই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাই আদালত ন্যায় বিচার করবেন এবং আসামিরা খালাস পাবেন।’

আরও পড়ুন:
ইউরোপের ৩ দেশে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
বন্যার সঙ্গে বসবাস শিখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
শান্তির জন্য ব্যবহার করব পারমাণবিক শক্তি: প্রধানমন্ত্রী
আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দক্ষিণাঞ্চলে

শেয়ার করুন

জরুরি অবতরণ করা মালয়েশীয় ফ্লাইটে ‘বোমা’ মেলেনি

জরুরি অবতরণ করা মালয়েশীয় ফ্লাইটে ‘বোমা’ মেলেনি

নিরাপত্তা তল্লাশি চলাকালে রাতে সেনাবাহিনীর একটি টিম বিমানবন্দরের ভেতরে ঢোকে। ছবি: নিউজবাংলা

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বি এম ফরমান আলী বলেন, ‘বিমানবন্দরে একটি ম্যাসেজ আসে যে ফ্লাইটটিতে বোমা থাকতে পারে। এরপর নিরাপত্তাকর্মীরা ফ্লাইটটিতে তল্লাশি চালান।’

বোমা আতঙ্কে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট জরুরি অবতরণ করেছে। সকল যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে মধ্যরাত অবধি ফ্লাইটটিতে তল্লাশির সময় সন্দেহজনক কিছু মেলেনি। রাত দেড়টার দিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বোমা থাকার সত্যতা পাওয়া যায়নি। ফ্লাইটটি নিরাপদ উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

ফ্লাইটটি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে এসে রাত ৯টা ৩৮ মিনিটে ঢাকায় জরুরি অবতরণ করে বলে জানান বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বি এম ফরমান আলী।

তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরে একটি ম্যাসেজ আসে যে ফ্লাইটটিতে বোমা থাকতে পারে। এরপর নিরাপত্তাকর্মীরা ফ্লাইটটিতে তল্লাশি চালান।’

এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক রাত সাড়ে দশটায় বলেন, ‘আমরা কাজ করছি। পরে বিস্তারিত জানাব।’

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, জরুরি অবতরণের পর কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ফ্লাইটটি থেকে যাত্রী নামাতে সব এয়ারলাইনসের বাসগুলো বিমানের পাশে নেয়া হয়। সব যাত্রীকে নিরাপদ অবস্থানে সরিয়ে নিয়ে শুরু হয় তল্লাশি।

রাত সোয়া ১১টায় সেনাবাহিনীর একটি টিম বিমানবন্দরের ভেতরে ঢোকে। নিরাপত্তা তল্লাশিসহ সার্বিক কাজে সহায়তা করছে সেনা টিম।

শেষ সংবাদ পাওয়া পর্যন্ত লাগেজ তল্লাশিসহ আশেপাশে অনুসন্ধানে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ রাত ১ টা ২০ মিনিটে ব্রিফিং করে। তাতে নিশ্চিত করা হয় ফ্লাইটটিতে বোমা থাকার তথ্য সত্য নয়। সকল কিছু তল্লাশি ও পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। ফ্লাইটটি উড্ডয়নে কোনও বাধা নেই।

এর আগে ল্যান্ডিং গিয়ারে ত্রুটি থাকায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট।

বুধবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ৪২ যাত্রী নিয়ে বিমানটি অবতরণ করে বলে নিউজবাংলাকে জানান বিমানবন্দরের বিমান বাংলাদেশের সহকারী ম্যানেজার ওমর ফারুক।

আরও পড়ুন:
ইউরোপের ৩ দেশে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
বন্যার সঙ্গে বসবাস শিখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
শান্তির জন্য ব্যবহার করব পারমাণবিক শক্তি: প্রধানমন্ত্রী
আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দক্ষিণাঞ্চলে

শেয়ার করুন

সীমান্ত হত্যা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে: দোরাইস্বামী

সীমান্ত হত্যা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে: দোরাইস্বামী

বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। ফাইল ছবি

হাইকমিশনার বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা দুঃখজনক ঘটনা। সীমান্তে ভারতের দিকেই এটা হয়ে থাকে। কেননা অপরাধীরা সীমান্ত বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায়। বর্ডারহাট, অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়িয়ে সীমান্তের সমস্যা কমানো যেতে পারে। সীমান্তে মানবপাচারও রোধ করতে হবে।

রহমান মাসুদ, ঢাকা

সীমান্ত হত্যা দুঃখজনক, এটা অবশ্যই বন্ধ হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী।

বুধবার রাজধানীর এক হোটেলে ‘বাংলাদেশ-ভারত ৫০ বছরের অংশীদারত্ব: আগামী ৫০ বছরের অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক সেমিনারে হাইকমিশনার এ কথা বলেন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম ফর ডেভেলপিং কান্ট্রিজ (রিস) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

হাইকমিশনার বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা দুঃখজনক ঘটনা। সীমান্তে ভারতের দিকেই এটা হয়ে থাকে। কেননা অপরাধীরা সীমান্ত বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায়। বর্ডারহাট, অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়িয়ে সীমান্তের সমস্যা কমানো যেতে পারে। সীমান্তে মানবপাচারও হয়। যৌথভাবে এটা রোধ করতে হবে।

‘বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বাড়ানোর আরও সুযোগ রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের প্রধান সমস্যা হলো লজিস্টিক। বাণিজ্যের বেশির ভাগই হয়ে থাকে বেনাপোল ও পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে। তবে শুধু সড়কপথে নয়, নদী এবং রেলপথেও বাণিজ্য বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।’

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ড. বীনা সিক্রি, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
ইউরোপের ৩ দেশে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
বন্যার সঙ্গে বসবাস শিখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
শান্তির জন্য ব্যবহার করব পারমাণবিক শক্তি: প্রধানমন্ত্রী
আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দক্ষিণাঞ্চলে

শেয়ার করুন

৪২ যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামে বিমানের ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ

৪২ যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামে বিমানের ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে বাংলাদেশ বিমানের এই ফ্লাইটটি। ছবি: নিউজবাংলা

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটির ল্যান্ডিং গিয়ারে সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে সেটি জরুরি অবতরণ করে। তবে প্রথমবার অবতরণের চেষ্টা সফল হয়নি।

ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী একটি উড়োজাহাজে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ার পর সেটি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে।

রাত ৯টা ৪০ মিনিটে বিমানটি অবতরণ করে বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশের সহকারী ম্যানেজার ওমর ফারুক।

তিনি জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটির ল্যান্ডিং গিয়ারে সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে সেটি জরুরি অবতরণ করে। তবে প্রথমবার অবতরণের চেষ্টা সফল হয়নি।

তিনি আরও জানান, ফ্লাইটিতে ৪২ জন যাত্রী ছিলেন । ঢাকা থেকে রাত পৌনে ৯টায় এটি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করে।

ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, ‘একটা বিমান ল্যান্ড করতে পারছে না এমন খবর পেয়ে কয়েকটি ইউনিট শাহ আমানতে পাঠানো হয়। রাত ৯টা ৪০ মিনিটে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো ফিরিয়ে আনা হয়।’

ফ্লাইটটিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফিরছিলেন সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

সংসদ সদস্যের স্ত্রী মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী রিজিয়া রেজা নদভী বলেন, ‘ফ্লাইটে সমস্যা হয়েছিল। পরে এমপি সাহেবসহ সব যাত্রী নিরাপদে নামতে পেরেছেন।’

আরও পড়ুন:
ইউরোপের ৩ দেশে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
বন্যার সঙ্গে বসবাস শিখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
শান্তির জন্য ব্যবহার করব পারমাণবিক শক্তি: প্রধানমন্ত্রী
আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দক্ষিণাঞ্চলে

শেয়ার করুন

বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নেবে ছয় দেশের সামরিক কন্টিনজেন্ট

বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে অংশ নেবে ছয় দেশের সামরিক কন্টিনজেন্ট

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বুধবার ঢাকা সেনানিবাসে আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে মহান বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ-২০২১ এর লোগো উন্মোচন করেন। ছবি: আইএসপিআর

আইএসপিআর জানায়, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ যথাযোগ্য মর্যাদা ও উদ্দীপনার সঙ্গে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে উদ্‌যাপন হতে যাচ্ছে। প্রথম বারের মতো বন্ধুপ্রতিম ছয়টি দেশের সামরিক কন্টিনজেন্ট এই কুচকাওয়াজে যোগ দেবে।

মহান বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে ছয়টি দেশের সামরিক কন্টিনজেন্ট অংশ নেবে। প্রথমবারের মতো এ বছর কুচকাওয়াজে বন্ধুপ্রতিম এসব দেশ অংশ নিতে যাচ্ছে।

বুধবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে মহান বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ-২০২১ এর লোগো উন্মোচন করা হয়েছে।

বুধবার ঢাকা সেনানিবাসে আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে লোগো উন্মোচন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

আইএসপিআর জানায়, আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ-২০২১ যথাযোগ্য মর্যাদা ও উদ্দীপনার সঙ্গে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে উদ্‌যাপন হতে যাচ্ছে। এ বছর প্রথম বারের মতো বন্ধুপ্রতিম ছয়টি দেশের সামরিক কন্টিনজেন্ট বিজয় দিবস কুচকাওয়াজে যোগদান করবে।

জাঁকজমকপূর্ণ এই কুচকাওয়াজ আয়োজনের মাধ্যমে দেশবাসীর মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও প্রেরণা জাগ্রত হবে এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুজ্জল হবে আশা করা যায়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল ও ভারপ্রাপ্ত বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এম শফিকুল আলম।

এছাড়াও আসন্ন বিজয় দিবস প্যারেডে অংশগ্রহণকারী এবং ঢাকা এরিয়ার ঊধ্বর্তন সামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন:
ইউরোপের ৩ দেশে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
বন্যার সঙ্গে বসবাস শিখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
শান্তির জন্য ব্যবহার করব পারমাণবিক শক্তি: প্রধানমন্ত্রী
আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দক্ষিণাঞ্চলে

শেয়ার করুন

চলাফেরার স্বাধীনতা একচ্ছত্র অধিকার নয়: আপিল বিভাগ

চলাফেরার স্বাধীনতা একচ্ছত্র অধিকার নয়: আপিল বিভাগ

আদালত তার রায়ে বলেছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে এবং আইন মেনে যে কাউকে চলাফেরায় বাধা দেয়া যাবে। তবে আইন ও বিধি ছাড়া কারও চলাফেরার স্বাধীনতা খর্ব করা অসাংবিধানিক।

সংবিধানের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির চলাফেরার স্বাধীনতা একচ্ছত্র কোনো অধিকার নয় বলে রায় দিয়েছে আপিল বিভাগ। আদালত তার রায়ে বলেছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে এবং আইন মেনে যে কাউকে চলাফেরায় বাধা দেয়া যাবে। তবে, আইন ও বিধি ছাড়া কারও চলাফেরার স্বাধীনতা খর্ব করা অসাংবিধানিক।

বুধবার ১৮ পৃষ্ঠার একটি পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগ এমনটি বলেছে।

দুর্নীতি মামলার আসামি বা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তির বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদন নিষ্পত্তি করে দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে প্রধান বিচারপতির আপিল বিভাগ এই পর্যবেক্ষণ দেয়।

রায়ে বলা হয়েছে, ৩৬ অনুচ্ছেদে যে স্বাধীনতা দেয়া আছে তার মূল উদ্দেশ্য সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করা। তাই ফৌজদারি অপরাধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাসপোর্ট জব্দ ও তার বিদেশযাত্রা আটকানো যাবে। তার পরও যদি কেউ আইনকে পাশ কাটিয়ে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করে, তা হলে তাকে আটকানোর পর তিন কার্যদিবসের মধ্যে আদালতকে জানাতে হবে। কিন্তু ফৌজদারি অপরাধে কারও নাম এলেই তার বিদেশযাত্রা রোধ করা যাবে না।

সুনির্দিষ্ট বিধি বা আইন প্রণয়ন না করা পর্যন্ত দুর্নীতি মামলার আসামি বা সন্দেহভাজন কোনো ব্যক্তির বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দুদকের আবেদন পর্যবেক্ষণসহ গত ২৬ সেপ্টেম্বর নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ।

দেশত্যাগে দুদকের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে পৃথক পাঁচটি রিটে হাইকোর্ট তিনটি রায় ও দুটি আদেশ দেয়। ওই সব আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে দুদক।

বিদেশ যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নরসিংদীর আতাউর রহমান ওরফে সুইডেন আতাউর রহমানের করা এক রিট আবেদনে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ১৬ মার্চ রায় দেয় হাইকোর্ট।

রায়ে বলা হয়, বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার বিষয়ে দুদকের সুনির্দিষ্ট আইন বা বিধি নেই। এ কারণে এ বিষয়ে দ্রুত সুনির্দিষ্ট আইন বা বিধিমালা করা প্রয়োজন। তাই আশা করছি, এ বিষয়ে দুদক বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় আইন বা বিধি করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে দুদক। সেই আপিলের শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত রায় দেয়। ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি বুধবার প্রকাশ হয়।

আরও পড়ুন:
ইউরোপের ৩ দেশে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
বন্যার সঙ্গে বসবাস শিখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
শান্তির জন্য ব্যবহার করব পারমাণবিক শক্তি: প্রধানমন্ত্রী
আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দক্ষিণাঞ্চলে

শেয়ার করুন

বিদেশে চিকিৎসাও খালেদার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ: এএসএলডিবি

বিদেশে চিকিৎসাও খালেদার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ: এএসএলডিবি

টিআইপিএস সাধারণ সম্পাদক ও বিএসএমএমইউ'র ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের বক্তব্যে তথ্য এসেছে যে তিনি লিভারসিরোসিসে আক্রান্ত। তার কিডনি ফেইলিওর হয়ে গেছে। হার্টের অবস্থাও খারাপ। এমন রোগীকে ট্রান্সজুগুলার ইন্ট্রাহেপাটিক পোর্টোসিস্টেমিক শান্ট (টিআইপিএস) করা হলে চিকিৎসার পর নানা জটিলতা দেখা দেবে।

লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতা রয়েছে। এমন বাস্তবতায় বিদেশে নিয়ে যে চিকিৎসা দেয়া হবে তা খালেজা জিয়ার জন্য ঝুঁকির বলে মত দিয়েছে লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব লিভার ডিজিজেস বাংলাদেশ (এএসএলডিবি)।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন আশঙ্কার কথা বলা হয়। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে পরবর্তী চিকিৎসার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের যথেষ্ট সচেষ্ট থাকারও পরামর্শ দিয়েছে এএসএলডিবি।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল) নিউজবাংলাকে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের বক্তব্যে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই আমাদের কাছে জানতে চাইছেন আসলেই এই রোগের চিকিৎসা দেশে সম্ভব কীনা। এমন পরিস্থিতিতে আমরা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি।’

ডা. মামুন আল মাহতাব বলেন, ‘মেডিক্যাল বোর্ডের বক্তব্যে তথ্য এসেছে যে খালেদা জিয়া লিভারসিরোসিসে আক্রান্ত। তার কিডনি ফেইলিওর হয়ে গেছে। হার্টের অবস্থাও খারাপ। এমন একজন রোগীকে ট্রান্সজুগুলার ইন্ট্রাহেপাটিক পোর্টোসিস্টেমিক শান্ট (টিআইপিএস) করা হলে চিকিৎসার পর নানা জটিলতা দেখা দেবে।

চিকিৎসায় ঝুঁকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘টিআইপিএসের ক্ষেত্রে চিকিৎসা-পরবর্তী জটিলতা বিশেষ করে হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি অর্থাৎ লিভার রোগজনিত অজ্ঞান হওয়ার প্রবণতা বা অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এছাড়াও টিআইপিএস করার সময় হার্টের জটিলতা দেখা দিতে পারে। শিরাপথে ডাই ব্যবহারে কিডনির জটিলতাও বহু মাত্রায় বাড়তে পারে। অর্থাৎ টিআইপিএস করার সময়ও হার্ট ডিজিজ বা কিডনি ডিজিজে আক্রান্ত রোগীদের প্রসিডিউরজনিত জটিলতার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। এসব ঝুঁকি মাথায় রেখে খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার বিষয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। সবার জন্য উন্নত চিকিৎসা আছে। তবে সব রোগীর জন্য সব চিকিৎসা নয়।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে পোর্টাল হাইপারটেনশনজনিত বিভিন্ন কারণ, যেমন ইসোফেজিয়াল ভ্যারিক্স, গ্যাস্ট্রিক ভ্যারিক্স, গ্যাস্ট্রিক এন্ট্রাল ভাসকুলার একটাশিয়া ইত্যাদি থেকে খাদ্যনালী ও পাকস্থলীতে রক্তপাত হতে পারে।

ইসোফেজিয়াল ভ্যারিক্স থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধে ইসোফেজিয়াল ভ্যারিসিয়াল লাইগেশন (ইভিএল) একটি বহুল ব্যবহৃত স্বীকৃত চিকিৎসা। বার বার রক্তক্ষরণ বন্ধের ক্ষেত্রেও ইভিএল করা যায়। এছাড়া পোর্টাল হাইপারটেনশনের কারণে বার বার রক্তক্ষরণ এবং যথাযথ মাত্রার ওষুধ প্রয়োগের পরও বার বার আসা পেটের পানির (রিফ্র্যাক্টরি এসাইটিস) চিকিৎসার ক্ষেত্রেও টিআইপিএস করা যায়।

লিভার সিরোসিসের কারণে খালেদা জিয়ার শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে জানিয়ে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানির বিশেষায়িত হাসপাতালে তার চিকিৎসার সুপারিশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, বিএনপি নেত্রীর যকৃৎ বা লিভারে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। একবার এই রক্তক্ষরণ সামাল দেয়া গেছে। তবে এখন তার যে অবস্থা সেটি আবার সামাল দেয়া কঠিন হবে।

দুই থেকে তিনবার রক্তক্ষরণ সামাল দেয়ার কারিগরি সুযোগ বাংলাদেশে নেই দাবি করে যত দ্রুত সম্ভব তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

গত রোববার সন্ধ্যায় বিএনপি নেত্রীর গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ব্রিফিং করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা। তারা দাবি করেন, খালেদা জিয়ার যে রোগ হয়েছে তার চিকিৎসা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির অল্প কয়েকটি বিশেষায়িত সেন্টারে সম্ভব। বাংলাদেশে এই চিকিৎসার কারিগরি সুযোগ-সুবিধা যেমন নেই, তেমনি ওষুধও নেই। আরও চার মাস আগে বিএনপি নেত্রীকে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে তার শরীরের ভেতরে রক্তক্ষরণ হতো না বলেও দাবি করেন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিএনপির গঠন করা মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান।

এরপর সোমবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) জানায়, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বাংলাদেশেই সম্ভব। বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাই এ রোগের বিশ্ব মানের চিকিৎসা সেবা দিতে সক্ষম। এবার লিভার বিশেষজ্ঞদের বিজ্ঞপ্তি এলো গণমাধ্যমে।

আরও পড়ুন:
ইউরোপের ৩ দেশে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
বন্যার সঙ্গে বসবাস শিখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
শান্তির জন্য ব্যবহার করব পারমাণবিক শক্তি: প্রধানমন্ত্রী
আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দক্ষিণাঞ্চলে

শেয়ার করুন