রুদ্রর জন্মদিনে মোংলায় নানা আয়োজন

রুদ্রর জন্মদিনে মোংলায় নানা আয়োজন

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জন্মদিন আজ। ছবি সংগৃহীত

কবির জন্মদিন উপলক্ষে তার পৈতৃক বাড়ি মোংলার মিঠেখালীতে রুদ্র স্মৃতি সংসদ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

‘ভালো আছি, ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ গানের স্রষ্টা কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ৬৫তম জন্মদিন আজ।

তারুণ্য ও সংগ্রামের প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে রেড ক্রস হাসপাতালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

কবির জন্মদিন উপলক্ষে তার পৈতৃক বাড়ি মোংলার মিঠেখালীতে রুদ্র স্মৃতি সংসদ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

এদিন সকালে মোংলার মিঠাখালিতে শোভাযাত্রা এবং কবির সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেলে মিঠেখালি ফুটবল মাঠে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া সন্ধ্যায় মোংলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে রুদ্র স্মৃতি সংসদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট মোংলা শাখা স্মরণ সভার আয়োজন করেছে।

স্মরণসভা শেষে রুদ্রের কবিতা আবৃত্তি ও গানের আয়োজন করা হবে।

১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ।

স্বল্প আয়ুর জীবনে তিনি সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্যসহ অর্ধ শতাধিক গান লিখেছেন ও সুর করেছেন।

‘ভালো আছি, ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ গানের জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি থেকে ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন।

‘উপদ্রুত উপকুল’ ও ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’ কাব্যগ্রন্থ দুটির জন্য সাংস্কৃতিক সংসদ থেকে পরপর দুই বছর মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন রুদ্র।

এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নৌকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হামলার অভিযোগ

নৌকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হামলার অভিযোগ

চেয়ারম্যান নুরুল বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বীরা শুরু থেকেই নানা রকম টালবাহানা করছে। নিজেরা অফিস ভেঙে আমার কর্মীদের ওপর দোষারোপ করেছে। গতকাল রাতে ওল্টু নির্বাচনি বিধি লঙ্ঘন করে মোটরসাইকেল শোডাউন করেছে। নিজেরা গণ্ডগোল করে এখন আমাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।’

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছেন এক স্বতন্ত্র প্রার্থী।

আলমডাঙ্গা থানায় শনিবার সকাল ৯টার দিকে হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের লিখিত অভিযোগ করেন হারদী ইউপি নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশিকুজ্জামান ওল্টু। যদিও পুলিশ বলছে, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ওল্টু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্রবার ছিল ভোটের প্রচারের শেষ দিন। হারদী কৃষি ক্লাবে পথসভা শেষে তারা রাতে বাড়ি ফিরছিলেন। বর্তমান চেয়ারম্যান ও এবারের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী নুরুল ইসলামের বাড়ির সামনে কুদ্দুস বটতলার মোড়ে পৌঁছালে নুরুলের কর্মী-সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়।

‘হামলায় আমার ১৪ জন কর্মী আহত হয়েছে। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আমার পথসভার ৩০টি আলমসাধু, ইজিবাইক ও পাখি ভ্যান ভাঙচুর করেছে। আমি এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছি।’

এই অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান নুরুল বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা শুরু থেকেই নানা রকম টালবাহানা করছে। নিজেরা অফিস ভেঙে আমার কর্মীদের ওপর দোষারোপ করেছে। গতকাল রাতে ওল্টু নির্বাচনি বিধি লঙ্ঘন করে মোটরসাইকেল শোডাউন করেছে। নিজেরা গণ্ডগোল করে এখন আমাদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।’

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, রাতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পথসভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। তবে কোনো গাড়ি ভাঙচুর বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে রোববার আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদীসহ ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হবে। ১৩ ইউপিতে আওয়ামী লীগের ১৩ জন, বিদ্রোহী ৩০ জন, বিএনপির ছয়জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ছয়জন ও স্বতন্ত্র পরিচয়ে জামায়াতে ইসলামের পাঁচজন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ইউপিতে সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে।

শেয়ার করুন

ভাসানচর থেকে পালানোর সময় ২৩ রোহিঙ্গা আটক

ভাসানচর থেকে পালানোর সময় ২৩ রোহিঙ্গা আটক

নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মিত ঘর। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভাসানচর আশ্রয়ণ ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থানে এপিবিএন সিভিল দল ও কোস্ট গার্ডের অভিযানে ২৩ রোহিঙ্গা আটক হয়।

নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরে শুক্রবার পালানোর সময় ৫ দালালসহ ২৩ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে।

ভাসানচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

আটক ২৩ জনের মধ্যে পাঁচ দালাল, চার পুরুষ, ছয় নারী ও আট শিশু রয়েছে।

পাঁচ দালাল হলেন ভাসানচর ৬৩ নম্বর ক্লাস্টারের আবদুস শুক্কুর, মোহাম্মদ রজুমল্ল্যাহ, শামসুল আলম, ৫১ নম্বর ক্লাস্টারের কেফায়েত উল্লাহ ও ২৬ নম্বর ক্লাস্টারের এনায়েত উল্লাহ।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভাসানচর আশ্রয়ণ ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গাদের আটক করে এপিবিএন সিভিল দল ও কোস্ট গার্ড।

কোস্ট গার্ডের ভাসানচর ক্যাম্পের কমান্ডার খলিলুর রহমান জানান, আটক ৫ রোহিঙ্গা দালালকে ভাসানচর থানা এবং বাকি ১৮ জনকে ক্যাম্পের প্রশাসন ইনচার্জের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ভাসানচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আটক দালালদের বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিক আইনে মামলা করা হয়েছে। আটক অন্য রোহিঙ্গাদের পুনরায় আশ্রয়ণ কেন্দ্রে ফেরত পাঠানো হয়েছে।’

শেয়ার করুন

তিতাস-মেঘনাজুড়ে বাঁশ-জালের ঘের, ঘটছে দুর্ঘটনা

তিতাস-মেঘনাজুড়ে বাঁশ-জালের ঘের, ঘটছে দুর্ঘটনা

উপজেলার অরুয়াইল ও পাকশিমুল এলাকায় তিতাস ও মেঘনা নদীতে ছোট ছোট ঘের তৈরি করে দীর্ঘদিন মাছ ধরা হলেও প্রভাবশালী চক্রটির বিরুদ্ধে কেউই মুখ খুলতে চান না। এখন নিয়মিত দুর্ঘটনার কারণে অনেকেই এগুলো সরিয়ে নিতে অভিযানের দাবি জানিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস ও মেঘনা নদীতে বাঁশ ও জাল দিয়ে ছোট ছোট ঘের তৈরি করে মাছ শিকারের কারণে বাড়ছে নৌ দুর্ঘটনা। ঘেরের কারণে গত এক বছরেই অন্তত আটটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ঘেরে ছোট ফাঁসের জাল দিয়ে মাছ ধরায় জীববৈচিত্র্যেরও ক্ষতি হচ্ছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, নদীর মাঝখানে বাঁশ পুঁতে এবং গাছের ডালপালাসহ কচুরিপানা ও জাল দিয়ে তৈরি করা হয় এসব ঘের। এর মধ্যে দেয়া হয় প্রচুর পরিমাণে মাছের খাবার। খাবারের খোঁজে মাছ ভেতরে এলে চারদিকে জাল দিয়ে ঘের আটকানো হয়। তারপর সেই মাছ ধরা হয়।

স্থানীয় প্রভাবশালীরা দীর্ঘ ৬০ থেকে ৭০ বছর ধরে এভাবে মাছ ধরছেন। অথচ নদীতে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে মাছ ধরা অপরাধ।

উপজেলার অরুয়াইল ও পাকশিমুল এলাকায় তিতাস ও মেঘনা নদীতে এভাবে দীর্ঘদিন মাছ ধরা হলেও প্রভাবশালী চক্রটির বিরুদ্ধে কেউই মুখ খুলতে চান না। এখন নিয়মিত দুর্ঘটনার কারণে অনেকেই এগুলো সরিয়ে নিতে অভিযানের দাবি জানিয়েছেন।

তিতাস-মেঘনাজুড়ে বাঁশ-জালের ঘের, ঘটছে দুর্ঘটনা

একটি দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া আব্দুল গাফফার বলেন, ‘আল্লাহর রহমত ছিল, সেই নৌ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গিয়েছিলাম। গত বছরের অক্টোবর মাসে নদীর পানি কমতে শুরু করার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এর মূল কারণ নদীতে থাকা ঘের।

‘ঘেরের কারণে নদী ছোট হয়ে যাওয়ায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে ১০-১২ জন যাত্রীসহ আমাদের নৌকাটির সঙ্গে তিতাস নদীতে অন্য একটি নৌকার সংঘর্ষ হয়। সঙ্গে সঙ্গেই নৌকাটি ডুবতে শুরু করে। পরে পাশ দিয়ে যাওয়া আরেকটি নৌকা আমাদের উদ্ধার করে।’

তিতাস-মেঘনাজুড়ে বাঁশ-জালের ঘের, ঘটছে দুর্ঘটনা

তিতাস নদী দিয়ে প্রতিদিন অরুয়াই বাজারে যাত্রীদের আনা-নেয়া করেন বাছির মিয়া। তিনি বলেন, ‘নদীতে ভাই অনেক ঘের। এইডিরে না হরাইলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা হইব।

‘কতলা স্বার্থপর বেডাইত আছে, এইডি করে। আপনেরা মিললা এইডি সরান। বিশেষ করে রাতের বেলায় ও শীতকালে কুয়াশার কারণে নৌকা ঘেরের মধ্যে উঠে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।’

ঘেরের কারণে সাধারণ জেলেরা নদীতে আর আগের মতো মাছ পান না বলেও অভিযোগ করেছেন।

উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের জেলে হিরণ মিয়া বলেন, ‘আমরা যারা নৌকা দিয়া মাছ ধরি, তাগো অনেক সময় খালি হাতেই বাড়িত যাওন লাগে। ঘেরের কারণে নদীতে এখন আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না।

‘নদীতে ঠিকমতো নামতেও পারি না। যেখানে-সেখানে ঝোপ তৈরি করার ফলে নৌকাও চালানো যায় না। আবার ঘেরের আশপাশে মাছ ধরতেও দেয়া হয় না।’

উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, ঘেরগুলোর কারণে জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়ছে। কর্মকর্তারা জানান, ঘেরে ছোট ছিদ্রযুক্ত জাল ব্যবহার করায় মা ও পোনাসহ সব ধরনের মাছ আটকা পড়ছে। এতে জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হচ্ছে।

আবার পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় নদীগুলো নাব্যতা হারিয়ে ক্রমে মরা খালে পরিণত হচ্ছে। নদী দখল ও পলি জমে ভরাট হওয়ার পাশাপাশি অবৈধভাবে তৈরি এসব ঘের নদীর নাব্যতা সংকটের অন্যতম কারণ।

সরাইল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মায়মুন জাহান বলেন, ‘আমরা নদী থেকে ঘেরগুলো উঠানোর চেষ্টা করছি। কিছু ঘের উঠিয়েছি। যারা আমাদের কথা শুনবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

নদীতে ঘের বা ঝোপ দিয়ে মাছ শিকার নিষেধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর ফলে নদী নাব্যতা হারায় এবং মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হয়।’

শেয়ার করুন

যুবলীগ নেতা নিহতের ঘটনায় বিক্ষোভ, মামলা

যুবলীগ নেতা নিহতের ঘটনায় বিক্ষোভ, মামলা

ভোলায় যুবলীগ নেতা নিহতের ঘটনায় ১৬ জনের নামে মামলা এবং একজনকে আটক করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে ১৬ জনকে আসামি করে ভোলা থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন। তিনি বলেন, এ মামলায় আবুল বাশার নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে একটি স্পিড বোট।

ভোলায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত যুবলীগ নেতা খোরশেদ আলম টিটুর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের জানিয়ে সদর থানা ও পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।

নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন নান্নুর নেতৃত্বে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, এ হত্যার সঙ্গে জড়িত পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থী জামাল উদ্দিন চকেট ও তার সহযোগীরা। তাদের গ্রেপ্তারের দাবি তোলা হয়েছে।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে ১৬ জনকে আসামি করে ভোলা থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন। তিনি বলেন, এ মামলায় আবুল বাশার নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে একটি স্পিড বোট।

নির্বাচনের পর ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা কর্মীদের সঙ্গে শুক্রবার দুপুরে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

মদনপুর থেকে দুপুরের খাবার খেয়ে তারা ফেরার পথে ভোলা সদরের দিকে ট্রলারে করে যাওয়ার সময় মাঝ নদীতে তাদের ওপর কয়েকজন এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এ সময় ট্রলারের থাকা খোরশেদ আলম টিটু গুলিবিদ্ধ হন। তাকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই ট্রলারে নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম নাছির উদ্দিন নান্নু, ইউপি সদস্য মো. হেলাল, আব্দুল খালেক, মো. ইউসুফসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

আ.লীগের সমাবেশে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হামলার অভিযোগ

আ.লীগের সমাবেশে স্বতন্ত্র প্রার্থীর হামলার অভিযোগ

উপজেলা চেয়ারম্যান ভিক্টোরিয়া পারভীন সাথী বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের নির্দেশনায় কর্মী সমাবেশে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছিলাম। দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে বিএনপির সন্ত্রাসীরা হঠাৎ তাণ্ডব চালায়। মূলত আমাকে হত্যা ও ভোটের আগে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই এ হামলা চালানো হয়েছে।’

যশোরের বাঘারপাড়ায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনি সমাবেশে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতার সমর্থকদের হামলার অভিযোগ উঠেছে।

জামদিয়া ইউনিয়নের ভাগুড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে হামলায় ২৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জনকে রাত ১১টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ওই ১০ জন হলেন ভাগুড়া গ্রামের শাহীন রেজা, জসিম উদ্দিন বুলু, তরিকুল মোল্লা, দেলোয়ার বিশ্বাস, ইদ্রিস বিশ্বাস, মো. লিকু, মো. রনি, মিলন বিশ্বাস, মুরাদ মণ্ডল ও তৌসিফ মণ্ডল।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইদ্রিস নিউজবাংলাকে জানান, শুক্রবার রাতে জামদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আরিফুল ইসলাম তিব্বতের নির্বাচনি সভায় আসেন বাঘারপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান ভিক্টোরিয়া পারভীন সাথী।

তিনি বক্তব্য দেয়ার সময় ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ও আনারস প্রতীকের প্রার্থী আসলাম হোসেন এবং মোরগ প্রতীকের সদস্য প্রার্থী বিএনপি নেতা মো. সোলায়মানের সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালান। হামলার নেতৃত্বে ছিলেন সোলায়মান।

তারা চাপাতি, রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অফিস ভাঙচুর ও নৌকার সমর্থকদের পিটিয়ে, কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের হাসপাতালে নেয়।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জসিম উদ্দিন জানান, আহতদের মধ্যে লিপুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান ভিক্টোরিয়া পারভীন সাথী বলেন, ‘জেলা আওয়ামী লীগের নির্দেশনায় কর্মী সমাবেশে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছিলাম। দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে বিএনপির সন্ত্রাসীরা হঠাৎ তাণ্ডব চালায়। মূলত আমাকে হত্যা ও ভোটের আগে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই এ হামলা চালানো হয়েছে।’

নৌকার প্রার্থী তিব্বত বলেন, ‘নির্বাচনে নিজেদের হার নিশ্চিত জেনেই তারা হামলা চালিয়েছে।’

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আসলাম ও সোলায়মানকে একাধিকবার কল দিলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে। এখনও কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শেয়ার করুন

নিজ বাড়িতে দিনমজুরকে কুপিয়ে হত্যা

নিজ বাড়িতে দিনমজুরকে কুপিয়ে হত্যা

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বাড়িতে ঢুকে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সংগৃহীত ছবি

দিঘারপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, রেজাউল বেশ রাতে বাড়ি ফিরে একা একটি ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পাশের ঘরে তার স্ত্রী-সন্তানরা ছিলেন। রাত ৩টার দিকে কে বা কারা এসে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। 

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বাড়িতে ঢুকে এক দিনমজুরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

উপজেলার দিঘারপাড়া গ্রামে শুক্রবার রাত ৩টার দিকে রেজাউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

কালীগঞ্জের ত্বত্তিপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিজ বাড়িতে দিনমজুরকে কুপিয়ে হত্যা
স্বজনদের আহাজারি। ছবি: নিউজবাংলা

দিঘারপাড়া গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য শহিদুল ইসলাম জানান, রেজাউল বেশ রাতে বাড়ি ফিরে একা একটি ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পাশের ঘরে তার স্ত্রী-সন্তানরা ছিলেন। রাত ৩টার দিকে কে বা কারা এসে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়।

রেজাউলের চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এসআই রফিকুল বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা হবে।’

শেয়ার করুন

হারিয়ে যাচ্ছে ঈশ্বরগঞ্জের মৃৎশিল্প

হারিয়ে যাচ্ছে ঈশ্বরগঞ্জের মৃৎশিল্প

মৃৎশিল্প এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। যারা এখনও এ পেশায় আছেন তারাও দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। ছবি: নিউজবাংলা

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার অলকা রানি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক যুগ আগেও এই উপজেলায় অনেক মৃৎশিল্পী ছিল। ধীরে ধীরে মাটির তৈজসপত্রের কদর কমে যাওয়ায় তারা এ পেশা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। শুধু আমাদের পরিবারটি এখনও টিকে আছে।’

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের খালবলা গ্রামের অলকা রানি। বংশপরম্পরায় মাটির তৈজসপত্র বানানোর কাজ করেন তিনি৷

তার স্বামী কুমার স্বপন চন্দ্র পালসহ পরিবারের আরও বেশ কয়েকজন নারী এ কাজ করেই সংসার চালান। তবে কয়েক বছর ধরে মৃৎশিল্পের কাজ করে তিন বেলা খাবার জোগাতে পারছেন না তারা।

মাটির তৈজসপত্রের বাজার এখন অনেকটাই দখলে কাঁচ, মেলামাইন, প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম, স্টিল ও সিরামিকের সামগ্রীতে। টেকসই, দাম কম ও সহজলভ্য হওয়ায় ক্রেতারা মাটির তৈজসপণ্যের বদলে ওই পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন।

এতে মৃৎশিল্প এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। যারা এখনও এ পেশায় আছেন তারাও দুর্বিষহ জীবন যাপন করছেন।

মাটি দিয়ে তৈজসপত্র বানানোর সময় কথা হয় অলকা রানির সঙ্গে। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এক যুগ আগেও এই উপজেলায় অনেক মৃৎশিল্পী ছিল। ধীরে ধীরে মাটির তৈজসপত্রের কদর কমে যাওয়ায় তারা এ পেশা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন। শুধু আমাদের পরিবারটি এখনও টিকে আছে।’

হারিয়ে যাচ্ছে ঈশ্বরগঞ্জের মৃৎশিল্প

তিনি আরও বলেন, ‘একসময় আমাদের তৈরি মাটির তৈজসপত্র কিনতে বাড়িতে ভিড় জমাতেন লোকজন। কোথাও মেলা হলে এসব তৈজসপত্র বাড়ি থেকে কিনে বিক্রি করা হতো। ক্রেতারাও স্বাচ্ছন্দ্যে এসব মাটির জিনিস কিনে ব্যবহার করতেন।

‘তবে বর্তমানে মাটির জিনিস কেনার ক্রেতা নেই বললেই চলে। তাই আমরাও এ পেশা ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনা করছি।’

কুমার স্বপন চন্দ্র পাল বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় হাঁড়ি-পাতিল, ডাবর-মটকি থেকে শুরু করে মাটির ব্যাংক, শো-পিস, গয়না, কলস, ফুলের টব, ফুলদানি, ঢাকনা, পিঠা তৈরির ছাঁচ এবং নানা রকম খেলনা তৈরি করছি নিয়মিত।

‘শহরবাসীর দালান-কোঠা সাজাতে মাটির তৈরি নানা পট-পটারি, ফুলদানি ও বাহারি মাটির হাঁড়ির কদর রয়েছে এখনও। সেগুলো বিক্রি করে কোনো রকমে খেয়ে পড়ে বেঁচে আছি। এগুলোতেও প্লাস্টিকসামগ্রী ব্যবহার হলে অন্য পেশায় শ্রমিক হিসেবে যোগ দেব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পরিবার বংশপরম্পরায় মাটির তৈজসপত্র তৈরি করছে। আগ্রহ আর মাটির তৈরি তৈজসপত্র ব্যবহারের সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতেই অন্য পেশায় যাইনি।

‘তবে আমাদের ছেলে-মেয়েরা এ কাজে আগ্রহী না। তারা পড়াশোনা করে ভালো চাকরি করতে ইচ্ছুক। এতে বোঝা যায়, মাটির তৈজসপত্র বানানো ধীরে ধীরে এক দিন বন্ধ হয়ে যাবে।’

আঠারোবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুবের আলম রূপক বলেন, ‘প্লাস্টিক পণ্যের ওপর মজেছে মানুষ। ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের দৃষ্টি ক্রমেই কমে যাচ্ছে। একটা সময় মাটির তৈরি বাসন ছাড়া বাঙালি পরিবারগুলোর দিন চলত না।

‘মেজবান অনুষ্ঠানেও খাবার পরিবেশন হতো মাটির তৈরি বাসনে। এখন আর এমন চাহিদা না থাকায় এই মৃৎশিল্পটি হারিয়ে যেতে বসেছে।’

হারিয়ে যাচ্ছে ঈশ্বরগঞ্জের মৃৎশিল্প

তিনি আরও বলেন, ‘ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার শুধু আমাদের ইউনিয়নেই মাটির তৈজসপত্র বানানো হয়। আগে এই পেশার সঙ্গে অনেকে জড়িত থাকলেও এখন কয়েকজন জড়িত। এ পেশার সঙ্গে জড়িতদের যথাসম্ভব সহযোগিতা করব৷ তবে উপজেলা প্রশাসনেরও উচিত মৃৎশিল্পীদের আর্থিক সহায়তা করা।’

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজা জেসমিন বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও লোকজন কাঁধে করে মাটির তৈরি তৈজসপত্র বিক্রি করতেন। এখন আর সচরাচর তা চোখে পড়ে না।

‘মাটির তৈরি তৈজসপত্রের সঙ্গে বাঙালির ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে। এই শিল্পটা বাঁচিয়ে রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’

শেয়ার করুন